ইসলামিক শিক্ষা

কম খরচে বিদেশে উচ্চশিক্ষা: জার্মানি ও ইতালির সম্পূর্ণ গাইডলাইন এবং ২০২৬-এর আপডেট
উচ্চশিক্ষা

নিউজ ডেস্ক

June 28, 2026

শেয়ার করুন

উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশ সবার জন্য সেরা নয়; বরং আপনি কোন বিষয়ে পড়তে যাচ্ছেন, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী র‍্যাংকিং কেমন এবং পড়াশোনা শেষে সেখানে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ কেমন—এটাই আসল। বিশ্বমানের ডিগ্রির জন্য যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের নাম আসে, তেমনি বর্তমান সময়ে পকেটের ওপর চাপ না বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানের ডিগ্রি অর্জনের জন্য ইউরোপের দেশগুলো শিক্ষার্থীদের শীর্ষ পছন্দে পরিণত হয়েছে।

বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালি কম খরচে বা বিনামূল্যে বিশ্বমানের স্নাতক (Bachelor’s) ও স্নাতকোত্তর (Master’s) পড়াশোনার জন্য বিশ্বের সেরা দুটি বিকল্প। নিচে প্রধান প্রধান সাবজেক্ট গ্রুপ অনুযায়ী সেরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়মের আলোকে একটি সম্পূর্ণ গাইডলাইন তুলে ধরা হলো:

প্রধান সাবজেক্ট গ্রুপ অনুযায়ী সেরা দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়

১. ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (Engineering & IT)

  • জনপ্রিয় মেজর: Computer Science, Data Science, AI, Mechanical, Electrical, Civil Engineering.
  • জার্মানির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়: Technical University of Munich (TUM), RWTH Aachen, TU Berlin, University of Stuttgart.
  • ইতালির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়: Politecnico di Milano, Politecnico di Torino, University of Bologna.
  • সুবিধা: জার্মানি টেকনিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের জন্য বিশ্বসেরা এবং পড়াশোনা সম্পূর্ণ ফ্রি। অন্যদিকে ইতালির নামী পলিটেকনিকগুলোতে রিজিওনাল স্কলারশিপের দারুণ সুযোগ রয়েছে।

২. বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স (Business & Economics)

  • জনপ্রিয় মেজর: BBA, MBA, Finance, International Business, Data Analytics, Economics.
  • জার্মানির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়: University of Mannheim, LMU Munich, Goethe University Frankfurt, University of Cologne.
  • ইতালির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়: Bocconi University (প্রাইভেট হলেও প্রচুর স্কলারশিপ দেয়), University of Padua, University of Rome Tor Vergata.
  • সুবিধা: ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিলান ইউরোপের বড় দুটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক হাব হওয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ ও চাকরির সুযোগ অনেক বেশি।

৩. ন্যাচারাল সায়েন্স, হিউম্যানিটিজ ও আর্টস

  • জনপ্রিয় মেজর: Physics, Molecular Biology, International Relations, Development Studies, Architecture, Design.
  • সেরা বিশ্ববিদ্যালয় (জার্মানি): Heidelberg University, LMU Munich, HU Berlin, FU Berlin.
  • সেরা বিশ্ববিদ্যালয় (ইতালি): Sapienza University of Rome (হিউম্যানিটিজে বিশ্বখ্যাত), Politecnico di Milano (আর্কিটেকচার ও ডিজাইনের জন্য সেরা)।
  • সুবিধা: উন্নত ল্যাবরেটরি ও গবেষণার জন্য জার্মানি থেকে প্রতি বছর প্রচুর ফান্ড দেওয়া হয়। আর ইতালি শিল্পকলা, ফ্যাশন, আর্কিটেকচার এবং প্রাচীন ইতিহাসের জন্য পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র।

জার্মানি ও ইতালির স্কলারশিপ ও খরচ সংক্রান্ত তথ্য

১. জার্মানি (Germany) — শীর্ষ ল্যাব ও ফ্রি টিউশন

  • টিউশন ফি: দেশটির সমস্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি পুরোপুরি ফ্রি। প্রতি সেমিস্টারে শুধু ১৫০-৩০০ ইউরো সেমিস্টার কন্ট্রিবিউশন দিতে হয়।
  • ভাষা ও মাধ্যম: মাস্টার্স প্রোগ্রামগুলোর বেশিরভাগই সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে অফার করা হয় (IELTS স্কোর ৬.৫+ প্রয়োজন)। তবে ব্যাচেলর বা স্নাতকের সিংহভাগ কোর্স জার্মান ভাষায় হয়, যার জন্য ন্যূনতম B2 বা C1 লেভেল জার্মান ভাষা জানা জরুরি।
  • ব্লকড অ্যাকাউন্ট (২০২৬ আপডেট): পড়াশোনা ফ্রি হলেও জীবনযাত্রার খরচ হিসেবে ভিসা আবেদনের সময় জার্মানির জন্য ১১,৯০৪ ইউরো “ব্লকড অ্যাকাউন্ট” (Blocked Account)-এ দেখাতে হবে।

২. ইতালি (Italy) — রিজিওনাল স্কলারশিপের স্বর্গরাজ্য

  • আঞ্চলিক স্কলারশিপ (Regional Scholarship): ইতালিতে DSU, EDISU বা LAZIODISCO-র মতো আঞ্চলিক স্কলারশিপের দারুণ সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ পেলে টিউশন ফি মাফ হওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ ইউরো নগদ ক্যাশ, ফ্রি হোস্টেল এবং খাবার সুবিধা পাওয়া যায়।
  • আবেদন পদ্ধতি: পারিবারিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে এই সুবিধা দেওয়া হয়, যার জন্য পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট (ISEE-UPE) জমা দিতে হয়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়েই প্রচুর ইংরেজি মিডিয়াম কোর্স রয়েছে।

নরওয়ে প্রসঙ্গ (Norway Warning): পূর্বে নরওয়েতে পড়াশোনা ফ্রি থাকলেও, ২০২৩ সাল থেকে নন-ইউরোপীয় (Non-EU) শিক্ষার্থীদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও মোটা অঙ্কের টিউশন ফি (প্রতি বছর প্রায় ১১,০০০ থেকে ৩৩,০০০ ইউরো) চালু করা হয়েছে। তাই একদম কম খরচে পড়তে চাইলে বর্তমানে জার্মানি এবং ইতালিই সবচেয়ে সেরা ও জনপ্রিয় বিকল্প।

উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

ধাপকরণীয় কাজপ্রয়োজনীয় সময়
১. ভাষা পরীক্ষাইংরেজি মাধ্যমের জন্য IELTS/TOEFL এবং জার্মানির ব্যাচেলরের জন্য Goethe-Zertifikat (German Language) পরীক্ষা দিন।৩ – ৬ মাস
২. সিজিপিএ (CGPA)মাস্টার্সের জন্য আগের সিজিপিএ ভালো (কমপক্ষে ৩.০০+) রাখা জরুরি। জার্মানির জন্য এটি জার্মান গ্রেডে রূপান্তর করে নিতে হয়।চলমান
৩. ফান্ড ম্যানেজমেন্টইতালির ক্ষেত্রে আয়ের ও সম্পত্তির সঠিক সার্টিফিকেট তৈরি রাখা এবং জার্মানির জন্য ব্লকড অ্যাকাউন্টের টাকা গুছানো।২ – ৪ মাস

আপনার সাবজেক্টের কোর্স কীভাবে খুঁজবেন?

  • জার্মানির জন্য: জার্মানির সব ইংরেজি ও জার্মান কোর্সের তালিকা দেখতে অফিশিয়াল DAAD International Programmes Portal-এ সার্চ করুন।
  • ইতালির জন্য: ইতালির সমস্ত ইংরেজি কোর্সগুলো খুঁজে পেতে অফিশিয়াল Universitaly Portal-এ চোখ রাখুন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

ইউরোপে উচ্চশিক্ষা শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক ডিগ্রি দেয় না, বরং আপনার ব্যবহারিক দক্ষতা ও বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক উন্নত করে। আপনি যদি গবেষণায় আগ্রহী হন এবং ব্লকড অ্যাকাউন্টের ফান্ড ম্যানেজ করতে পারেন, তবে জার্মানি আপনার জন্য সেরা। আর আপনি যদি আকর্ষণীয় রিজিওনাল স্কলারশিপের সহায়তায় সম্পূর্ণ ফ্রিতে পড়াশোনা ও থাকার খরচ চালাতে চান, তবে ইতালি হবে আপনার সেরা চয়েস।

উচ্চশিক্ষা, গ্লোবাল স্কলারশিপ, স্টুডেন্ট ভিসা আপডেট এবং ক্যারিয়ার গাইডলাইনের যেকোনো নিখুঁত ও সহজ গাইডলাইন সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

আপনার জন্য একটি ফলো-আপ প্রশ্ন: আপনি কি স্নাতক (Bachelor’s) নাকি স্নাতকোত্তর (Master’s)—কোন পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য জার্মানি বা ইতালি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? কমেন্ট করে আমাদের জানান!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিশ্বস্ত বইয়ের তালিকা

নিউজ ডেস্ক

August 18, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বুক রিভিউ / সাহিত্য ও সংস্কৃতি / প্রযুক্তি

প্রকাশের সময়: ১৮ আগস্ট ২০২৬

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির এই সময়ে পাঠকদের বই পড়ার অভ্যাসে দৃশ্যমান রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘স্পেকুলেটিভ থ্রিলার’ ও ভূরাজনীতিবিষয়ক নন-ফিকশনের চাহিদা যেমন বাড়ছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবী ও তরুণ পাঠকদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অ্যাডভান্সড সফটওয়্যার আর্কিটেকচার এবং গভীর মনোযোগ (Deep Focus) বজায় রাখার গাইড বইগুলোর আগ্রহ তুঙ্গে।

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় বেস্টসেলার তালিকা ও বর্তমান ট্রেন্ড পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন বিভাগের সেরা বইগুলোর বস্তুনিষ্ঠ তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার: ফিকশন ও নন-ফিকশন

আন্তর্জাতিক সাহিত্য এবং মূলধারার বইয়ের বাজারে বর্তমানে যেসব বই জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে:

  • Theo of Golden (লেখক: অ্যালেন লেভি):

অ্যালেন লেভি (Allen Levi) এর লেখা Theo of Golden বইটি বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক বিস্ময় বা ‘লিটারারি ফেনোমেনন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে । মূলত ২০২৩ সালে লেখক নিজে এটি প্রথম প্রকাশ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ২০২৫ সালের শেষভাগে বড় প্রকাশনা সংস্থার মাধ্যমে পুনরায় প্রকাশিত হয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়

বইটির মূল কাহিনী এবং এর বর্তমান জনপ্রিয়তার কারণ নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

কাহিনীর সারসংক্ষেপ (Plot Summary)

বইটি মূলত থিও (Theo) নামক একজন ৮৬ বছর বয়সী রহস্যময় অথচ দয়ালু বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে, যিনি দক্ষিণ আমেরিকার ‘গোল্ডেন’ (Golden) নামক একটি ছোট শহরে এসে আস্তানা গড়েন

  • আর্ট বা শিল্পকলা ও মহানুভবতা: থিও স্থানীয় একটি কফি শপে গিয়ে ৯২টি পেন্সিল স্কেচ বা পোর্ট্রেট দেখতে পান, যা সেখানকার সাধারণ মানুষের ছবি। তিনি পরিকল্পনা করেন এই ছবিগুলো কিনে তাদের ‘প্রকৃত মালিক’ বা যাদের ছবি তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন।
  • সংযোগ তৈরি: থিও প্রতিটি ব্যক্তিকে চিঠি লিখে স্থানীয় একটি ঝরনার পাশে বেঞ্চে দেখা করতে ডাকেন এবং অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাদের প্রতিকৃতিটি উপহার দেন। এই ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে তিনি পুরো শহরের মানুষের জীবনের সাথে এক গভীর অদৃশ্য বন্ধন তৈরি করেন
  • জীবন দর্শন: থিও নিজে জীবনে অনেক দুঃখ ও বিচ্ছেদ দেখেছেন, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল মানুষকে ‘সঠিকভাবে দেখা’ (being truly seen) এবং দয়ার মাধ্যমে তাদের জীবন বদলে দেওয়া

বইটির বর্তমান অবস্থা ও সাফল্য (২০২৬ সালের অগাস্ট অনুযায়ী)

২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে এই বইটি বিশ্বব্যাপী বিক্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে:

  • বেস্টসেলার: এটি নিউ ইয়র্ক টাইমস (New York Times) এবং আমাজন বেস্টসেলার তালিকার ১ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে
  • বিক্রির রেকর্ড: শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এর ২৫ লক্ষাধিক (২.৫ মিলিয়ন) কপি বিক্রি হয়েছে
  • সম্মাননা: বইটি বিখ্যাত ‘কেটি কুরিক বুক ক্লাব’ (Katie Couric Book Club) এবং ‘জেন হ্যাটমেকার বুক ক্লাব’-এর বাছাইকৃত বই হিসেবে মনোনীত হয়েছিল

প্রধান থিম বা বিষয়বস্তু

  • দয়া ও মহানুভবতা (Kindness & Generosity): কোনো স্বার্থ ছাড়াই অন্যের উপকারের শক্তি
  • মানুষের মর্যাদা (Human Dignity): সাধারণ মানুষকে বিশেষ করে দেখার প্রয়োজনীয়তা
  • নিরাময় ও ক্ষমা (Healing & Forgiveness): দুঃখ কাটিয়ে ওঠার পথ খুঁজে নেওয়া।
  • The Calamity Club (লেখক: ক্যাথরিন স্টকেট):

ক্যাথরিন স্টকেট (Kathryn Stockett), যিনি বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য হেল্প’ (The Help)-এর লেখক, দীর্ঘ ১৭ বছর পর তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য ক্যালামিটি ক্লাব’ (The Calamity Club) নিয়ে ফিরে এসেছেন। এটি ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই একটি আন্তর্জাতিক বেস্টসেলারে পরিণত হয়েছে

বইটির মূল কাহিনী এবং বৈশিষ্ট্য নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

কাহিনীর সারসংক্ষেপ ও প্রেক্ষাপট

বইটি ১৯৩৩ সালের মিসিসিপির অক্সফোর্ডে গ্রেট ডিপ্রেশন বা চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা । এটি মূলত তিনজন সাহসী মহিলার জীবন যুদ্ধের গল্প, যারা সমাজের প্রতিকূলতা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

  • প্রধান চরিত্রসমূহ:
    • মেগ লেফ্লেউর (Meg Lefleur): ১১ বছর বয়সী একজন এতিম মেয়ে, যাকে অনাথ আশ্রমে ‘আনঅ্যাডপটেবল’ (যাকে দত্তক নেওয়া সম্ভব নয়) হিসেবে গণ্য করা হয়
    • বার্ডি ক্যালহাউন (Birdie Calhoun): ২৪ বছর বয়সী একজন তরুণী, যে তার পারিবারিক খামার রক্ষার জন্য অক্সফোর্ডে তার ধনী বোনের কাছে সাহায্য চাইতে আসে
    • চার্লি (Charlie): একজন সম্পদশালী কিন্তু বর্তমানে চরম দুর্দশার শিকার নারী, যার জীবন অনেক রহস্যে ঘেরা [১২৩, ১৬২]।

বইটির প্রধান থিম ও প্রাপ্তি

  • নারীদের বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতা: প্রতিকূল সময়ে নারীদের মধ্যকার অদৃশ্য বন্ধন এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গল্প এখানে ফুটে উঠেছে
  • অর্থনৈতিক সংগ্রাম ও নৈতিকতা: দারিদ্র্য কীভাবে মানুষের নীতি ও মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে পারে, লেখক তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে চিত্রিত করেছেন
  • সাফল্য: ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসের হিসাব অনুযায়ী এটি টানা সাত সপ্তাহ ধরে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় অবস্থান করছে । এছাড়া আমাজন এবং গুডরিডসেও এটি এ বছরের অন্যতম সেরা বই হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে

প্রকাশনার বিবরণ

  • প্রকাশকাল: মে ৫, ২০২৬
  • প্রকাশক: স্পিগেল ও গ্রাউ (Spiegel & Grau)
  • পৃষ্ঠা সংখ্যা: প্রায় ৬৫৬ পৃষ্ঠা (হার্ডকভার)

আপনি যদি ‘দ্য হেল্প’-এর মতো গভীর আবেগঘন এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের গল্প পছন্দ করেন, তবে ‘দ্য ক্যালামিটি ক্লাব’ আপনার জন্য একটি অসাধারণ পছন্দ হবে

  • Yesteryear (লেখক: ক্যারো ক্লেয়ার বার্ক):

ক্যারো ক্লেয়ার বার্ক (Caro Claire Burke) এর প্রথম উপন্যাস ‘ইয়েস্টারইয়ার’ (Yesteryear) ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত একটি বই । এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার এবং সামাজিক ব্যঙ্গাত্মক (Social Satire) উপন্যাস, যা বর্তমান সময়ের ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ (tradwife) সংস্কৃতি এবং ইনফ্লুয়েন্সার জগতের অন্ধকার দিকগুলো তুলে ধরেছে

বইটির কাহিনী এবং মূল বিষয়বস্তু নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

মূল কাহিনী (Plot Summary)

উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাটালি হেলার মিলস (Natalie Heller Mills), যিনি একজন অত্যন্ত সফল খ্রিস্টান ‘ট্র্যাডওয়াইফ’ ইনফ্লুয়েন্সার

  • অনলাইন জীবন: নাটালি তার লক্ষ লক্ষ ফলোয়ারদের কাছে একটি রোমান্টিক এবং আদর্শিক গ্রামীণ জীবনের ছবি তুলে ধরেন, যেখানে তিনি নিজে হাতে রুটি বানানো (Sourdough), গরুর কাঁচা দুধ সংগ্রহ করা এবং একজন বাধ্য স্ত্রীর ভূমিকা পালন করেন
  • বাস্তবতা: পর্দার আড়ালে তার এই ‘আদর্শ’ জীবন আসলে একটি সাজানো নাটক। তার কাজে সাহায্য করার জন্য দুজন ন্যানি (Nanny), ভিডিও প্রডিউসার এবং আধুনিক সব যন্ত্রপাতি রয়েছে, যা তিনি ফলোয়ারদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখেন
  • ঘটনাচক্রে পরিবর্তন: একদিন সকালে নাটালি হঠাত নিজেকে ১৮৫৫ সালের এক নিষ্ঠুর বাস্তবতায় আবিষ্কার করেন । সেখানে কোনো ন্যানি বা আধুনিক সুবিধা নেই। তিনি বুঝতে পারেন না এটি কোনো রিয়েলিটি শো, সময়ের ভ্রমণ নাকি অন্য কিছু। তাকে তখন সেই কঠোর জীবনই যাপন করতে হয় যা তিনি অনলাইনে একটি ‘সৌন্দর্য’ হিসেবে বিক্রি করেছিলেন

প্রধান থিম বা বিষয়বস্তু

  • অনলাইন বনাম বাস্তব জীবন: ইন্টারনেটে সাজানো পরিচয়ের সাথে প্রকৃত জীবনের যে বিস্তর ব্যবধান, তা এই বইয়ের মূল উপজীব্য
  • গৃহস্থালি শ্রমের বাস্তবতা: লেখক দেখিয়েছেন যে ঘরোয়া কাজগুলো যখন অনলাইনে দেখা হয় তখন তা সুন্দর মনে হয়, কিন্তু ১৮৫৫ সালের প্রেক্ষাপটে সেই কাজগুলোই ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং বাধ্যতামূলক ।
  • অতীতের প্রতি মিথ্যা মোহ (Nostalgia): মানুষ প্রায়ই অতীতের জীবনকে সহজ ও সুন্দর বলে কল্পনা করে। এই বইটি সেই কল্পনাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং অতীতের নিষ্ঠুরতা ফুটিয়ে তোলে

বইটির বর্তমান জনপ্রিয়তা ও সাফল্য

  • বেস্টসেলার: ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশের পরপরই এটি নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় স্থান করে নেয়
  • বুক ক্লাব: এটি বিখ্যাত ‘গুড মর্নিং আমেরিকা’ (Good Morning America) বুক ক্লাবের পছন্দের বই হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে
  • চলচ্চিত্র: প্রকাশের আগেই বইটির চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বত্ব (Film Rights) অ্যামাজন এমজিএম (Amazon MGM) কিনে নিয়েছে, যেখানে অ্যান হ্যাথাওয়ের (Anne Hathaway) অভিনয় করার কথা রয়েছে

বইটি নিয়ে পাঠকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেউ এটিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও আকর্ষণীয় বলেছেন, আবার কেউ কেউ এর বিষয়বস্তুকে বেশ বিতর্কিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন

  • Regime Change (লেখক: ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান):

বিখ্যাত সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান (Maggie Haberman) এবং জোনাথন সোয়ান (Jonathan Swan)-এর লেখা Regime Change: Inside the Imperial Presidency of Donald Trump’ ২০২৬ সালের অন্যতম আলোচিত এবং বেস্টসেলার বই ২০২৬ সালের ২৩ জুন সাইমন অ্যান্ড শুস্টার (Simon & Schuster) থেকে প্রকাশিত এই বইটি প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যে ৫ লক্ষাধিক কপি বিক্রি হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছে

বইটির মূল বিষয়বস্তু এবং আপনার আগ্রহের সাথে এর সম্পর্ক নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

বইটির মূল কাহিনী ও বিষয়বস্তু

বইটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরের একটি নিবিড় এবং বিস্ফোরক বিবরণ ।

  • ক্ষমতার রূপান্তর: লেখকরা দেখিয়েছেন কীভাবে ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সব ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক বাধা বা ‘guardrails’ ভেঙে ফেলে একটি ‘ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্সি’ গড়ে তুলেছেন
  • গোপন তথ্য: প্রায় ১০০০ সাক্ষাতকারের ওপর ভিত্তি করে লেখা এই বইটিতে ওভাল অফিস এবং সিচুয়েশন রুমের ভেতরে ঘটা বিভিন্ন গোপন ঘটনা—যেমন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে
  • আনুগত্য ও পরিবর্তন: অভিজ্ঞ আমলা বা জেনারেলদের বদলে কীভাবে শুধুমাত্র অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে প্রশাসন সাজানো হয়েছে এবং এর ফলে আমেরিকান গণতন্ত্রের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বইটির প্রধান উপজীব্য

আপনার ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট ও আগ্রহ

আপনার ইমেইল ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, আপনি এই বইটি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই কিছুটা অবগত আছেন:

  • আপনার ইনবক্সে ‘Regime Change’ শিরোনামের একটি নিবন্ধ রয়েছে, যেখানে লেখক বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
  • বইটি বর্তমানে আপনার পড়ার তালিকায় আছে কিনা তা সরাসরি কোথাও উল্লেখ না থাকলেও, আপনি নিয়মিত ভূ-রাজনৈতিক (যেমন: রাশিয়া-ইউক্রেন বা ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব) এবং আধুনিক এআই প্রযুক্তি বিষয়ক নিবন্ধ পড়েন, যা এই বইটির বিষয়বস্তুর সাথে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক

প্রাপ্তি ও সমালোচনা

  • সাফল্য: এটি ২০২৬ সালের নন-ফিকশন বিভাগে সর্বাধিক বিক্রিত বই হওয়ার পথে রয়েছে এবং এটি নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার তালিকায় টানা শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে
  • প্রশংসা: ডেভিড রেমনিক (The New Yorker) এবং টিনা ব্রাউন-এর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই বইটির সংবাদিকতাপূর্ণ গভীরতার প্রশংসা করেছেন । জোন স্টুয়ার্ট এবং অ্যান্ডারসন কুপারের মতো ব্যক্তিত্বরা এটিকে বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পাঠ হিসেবে বর্ণনা করেছেন

আপনি যদি বর্তমান সময়ের জটিল রাজনীতি এবং আমেরিকার প্রশাসনিক ক্ষমতার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হন, তবে এই বইটি আপনার জন্য একটি চমৎকার সংগ্রহ হতে পারে।

২. সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি এবং বাংলা সাহিত্যের স্থান

বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় পাঠকদের কাছে বাংলা ধ্রুপদী উপন্যাসগুলোর আবেদন সমানভাবে বজায় রয়েছে।

                                 [ পাঠকদের চাহিদার প্রধান ধারা ]
                                                │
                       ┌────────────────────────┴────────────────────────┐
                       ▼                                                 ▼
          [ সায়েন্স ফিকশন ও থ্রিলার ]                        [ ধ্রুপদী বাংলা সাহিত্য ]
    • Automatic Noodle (অ্যানালি নেউইটজ)                • শেষ বিকেলের মেয়ে (জহির রায়হান)
    • Dungeon Crawler Carl (ম্যাট ডিনিম্যান)              • মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও জীবনের আশ্রয়
  • Automatic Noodle (অ্যানালি নেউইটজ): ভবিষ্যৎ পৃথিবীর রূপান্তর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবটদের সামাজিক টিকে থাকার গল্প নিয়ে এটি লেখা।
  • Dungeon Crawler Carl (ম্যাট ডিনিম্যান): মহাজাগতিক ও এলিয়েন প্রেক্ষাপটে তৈরি সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চার ঘরানার একটি বই।
  • বাংলা সাহিত্যের চিরন্তন রূপ: আধুনিক থ্রিলারের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যে জহির রায়হানের ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’-র মতো ক্লাসিক রচনার আবেদন প্রাসঙ্গিক। মানবমনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং দিনশেষে জীবনের আশ্রয় খুঁজে পাওয়ার মূল ভাবনাটি যেকোনো যুগের পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে।

৩. প্রযুক্তিবিদদের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল ও ক্যারিয়ার গাইড

প্রযুক্তি খাতের দ্রুত পরিবর্তনের সাথে নিজেকে আপডেট রাখতে এবং ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে পেশাজীবীরা নির্দিষ্ট কিছু বইকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন:

বইয়ের শিরোনামলেখক / গবেষকবইয়ের মূল প্রতিপাদ্য (Core Concept)
AI EngineeringChip Huyenএআই মডেলকে ল্যাব থেকে বাস্তব উৎপাদন (Production) পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রযুক্তিগত গাইড।
Co-IntelligenceEthan Mollickকর্মক্ষেত্রে এআই-কে সহকর্মী বা সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে কাজের গতি বাড়ানোর উপায়।
Atomic HabitsJames Clearছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জীবনের লক্ষ্য অর্জনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
The Let Them TheoryMel Robbinsঅন্যের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ না করে নিজের মূল কাজ ও মানসিক শান্তিতে ফোকাস করার টিপস।

৪. আঞ্চলিক বাজার ও দেশীয় পছন্দ (বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট)

বাংলাদেশের দেশীয় বইয়ের বাজারে বর্তমানে আইটি, এআই, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিবিষয়ক বইগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রীত হচ্ছে।

  • আন্তর্জাতিক রাজনীতি: আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থান বুঝতে ওয়াসেকুল হকের ‘বাংলাদেশকে ঘিরে চীন ভারত আমেরিকার দ্বন্দ্ব ও কৌশল’ বইটি পাঠকেরা সংগ্রহ করছেন।
  • ফ্রিল্যান্সিং ও স্কিল উন্নয়ন: আইটি খাতে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO), কোডিং এবং এআই টুল ব্যবহারের ওপর লেখা ব্যবহারিক টিউটোরিয়াল বইগুলোর চাহিদা শীর্ষে।

উপসংহার: আপনার পাঠ অভ্যাসের উদ্দেশ্য যদি হয় আনন্দ লাভ, তবে ধ্রুপদী সাহিত্য বা সায়েন্স ফিকশন বেছে নেওয়া যৌক্তিক; আর যদি লক্ষ্য হয় দক্ষতা ও ক্যারিয়ারের আধুনিকায়ন, তবে টেকনিক্যাল ও মাইন্ডসেট বিষয়ক বইগুলো হতে পারে আপনার নিত্যসঙ্গী।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত ২৪ জন কালজয়ী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব | আন্তর্জাতিক অর্জন ও ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

August 16, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিশেষ ফিচার / জাতীয় ও আন্তর্জাতিক / বাংলাদেশ

প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:৩০ (বিএসটি)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশেষ ফিচার ও সম্মাননা ফাইল: ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে নিজেদের মেধা, মনন ও কর্মদক্ষতার শক্তিতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বহু কৃতি সন্তান। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্থাপত্য, সাহিত্য, ক্রীড়া থেকে শুরু করে সমাজসেবা—বিশ্বের প্রতিটি প্রধান ক্ষেত্রে রয়েছে বাংলাদেশীদের অসামান্য অবদান

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করা তেমনই ২৪ জন কালজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রাজনীতি, সমাজসেবা ও বিশ্ব নেতৃত্ব

  • শেখ মুজিবুর রহমান:

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫), যিনি সর্বসাধারণের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ মুজিব নামে পরিচিত, ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে প্রধান নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি. তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই নেতা ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার আদায় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রদান করেন।

সংক্ষিপ্ত জীবন পরিচিতি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • জন্ম: ১৭ মার্চ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ (তৎকালীন ফরিদপুর জেলা)।
  • রাজনৈতিক দল: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (শুরুতে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন ও মুসলিম লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন)।
  • উপাধি: ১৯৬৯ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
  • ঐতিহাসিক অবদান: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ, যা বাঙালির স্বাধীনতার মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল এবং পরবর্তীতে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
  • শাসনকাল: স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রপতি এবং ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
  • লিখিত বইসমূহ: তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য ডায়েরি ও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন
  • প্রয়াণ: ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট এক সামরিক অভ্যুত্থানে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন।
  • ড. মুহাম্মদ ইউনুস: (জন্ম: ২৮ জুন ১৯৪০) হলেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার এবং সামাজিক উদ্যোক্তা. তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) এবং সামাজিক ব্যবসা (Social Business) ধারণার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত. ২০০৬ সালে তিনি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন. পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন.

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা: ১৯৭৬ সালে জোবরা গ্রামে দরিদ্র মানুষের ওপর একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করেন, যা ১৯৮৩ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক নামে আত্মপ্রকাশ করে।
  • নোবেল পুরস্কার: ২০০৬ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিরল সম্মান অর্জন করেন.
  • আন্তর্জাতিক সম্মাননা: তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম এবং কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল—উভয় পদকপ্রাপ্ত বিশ্বের অল্প কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন।
  • রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব: ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৮ই আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। গণতান্ত্রিক সংস্কার সম্পন্ন করে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন। [
  • রচিত বইসমূহ: তাঁর লেখা বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকার টু দ্য পুওর (Banker to the Poor), ক্রিয়েটিং এ ওয়ার্ল্ড উইদাউট পভার্টি এবং এ ওয়ার্ল্ড অফ থ্রি জিরোস
  • স্যার ফজলে হাসান আবেদ:

তিনি (২৭ এপ্রিল ১৯৩৬ – ২০ ডিসেম্বর ২০১৯) ছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য বাংলাদেশী সমাজকর্মী এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক (BRAC)-এর প্রতিষ্ঠাতা. ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে অনন্য অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত. ২০১০ সালে সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ রাজপরিবার তাঁকে ‘নাইটহুড’ (KCMG) উপাধিতে ভূষিত করে, যার ফলে তিনি ‘স্যার’ উপাধি লাভ করেন.

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: তৎকালীন সিলেটের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জন্মগ্রহণ করেন. তিনি পাবনা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন. পরবর্তীতে ইংল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেভাল আর্কিটেকচারে উচ্চশিক্ষা নেন এবং চার্টার্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ACMA) হিসেবে পেশাগত ডিগ্রি লাভ করেন.
  • ব্র্যাক (BRAC) প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ভারত থেকে ফিরে আসা যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট কমিটি’ (BRAC) প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উন্নয়ন সংস্থা.
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিপ্লব: গ্রামীণ জনপদে ডায়রিয়া নিরাময়ে ওআরএস (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট) বা ‘লবণ-গুড়ের স্যালাইন’ তৈরির শিক্ষা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে শিশু মৃত্যুহার কমাতে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখেন. তাঁর ব্র্যাক স্কুল বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা মডেল বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত.
  • উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: ২০০১ সালে উচ্চশিক্ষার প্রসারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় (BRAC University) প্রতিষ্ঠা করেন. এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশ (bKash) এবং আড়ং (Aarong) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক মডেল গড়ে তোলেন.
  • আন্তর্জাতিক পুরস্কারসমূহ: তিনি ১৯৮০ সালে রমন ম্যাগসেসে পুরস্কার, ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ (বিশ্ব খাদ্য পুরস্কার), এবং ২০১৯ সালে নেদারল্যান্ডসের বিখ্যাত নাইটহুড অব দ্য অর্ডার অব দ্য নেদারল্যান্ডস লায়ন-সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন. বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালে তাঁকে মরণোত্তর সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করে.
  • প্রয়াণ: ২০১৯ সালের ২০শে ডিসেম্বর ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে (বর্তমান এভারকেয়ার হাসপাতাল) ৮৩ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন.
  • আইরিন খান:

ড. আইরিন জুবাইদা খান (জন্ম: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৫৬) হলেন একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশী আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এবং কূটনীতিবিদ, যিনি বর্তমানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করে। তিনি বিশ্বমঞ্চে মানবাধিকার রক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ চার দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

  • জন্ম ও শিক্ষা: ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত [হার্ভার্ড ল স্কুল](wikipedia.org School) থেকে পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল ও মানবাধিকার বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করেন।
  • অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (২০০১-২০০৯): তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ৭ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই সংস্থার প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম প্রধান। তাঁর মেয়াদে নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে বিশ্বব্যাপী ঐতিহাসিক আন্দোলন শুরু হয়।
  • আইডিএলও (২০১২-২০১৯): রোমভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশন (IDLO)-এর প্রথম নারী মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং টেকসই উন্নয়নে আইনের শাসন প্রয়োগের ধারণা জনপ্রিয় করেন। [
  • জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক (২০২০-২০২৬): ২০২০ সালের আগস্টে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক মত প্রকাশ ও মতামতের স্বাধীনতা বিষয়ক প্রথম নারী বিশেষ প্রতিবেদক (Special Rapporteur) নিযুক্ত হন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
  • বর্তমান ভূমিকা (২০২৬): জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, এলডিসি (LDC) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে জোরালো ভূমিকা রাখছেন।
  • পুরস্কার ও সম্মাননা: নারীদের অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি শান্তি পুরস্কার (Sydney Peace Prize)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

২. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল

ব্যক্তিত্বমূল আবিষ্কার / অবদানআন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও প্রভাব
ফজলুর রহমান খান (এফ আর খান)টিউবুলার স্ট্রাকচারাল সিস্টেম (সিয়ার্স টাওয়ার, জেদ্দা হজ্জ টার্মিনাল)।“স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আইনস্টাইন” হিসেবে অভিহিত।
জামাল নজরুল ইসলামমহাবিশ্বের চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে গবেষণা (The Ultimate Fate of the Universe)।কেমব্রিজ থেকে প্রকাশিত বই; স্টিফেন হকিংয়ের ঘনিষ্ঠ গবেষক বন্ধু।
এম জাহিদ হাসানপ্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক; ‘ভাইল ফার্মিয়ন’ কণার অস্তিত্ব আবিষ্কার।নেক্সট-জেনারেশন কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জনক।
মাকসুদুল আলমপাট, রাবার ও হাওয়াইয়ান পেঁপে গাছের জিনোম (জীবনরহস্য) উন্মোচন।বিশ্ব কৃষি ও উদ্ভিদ জিনবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত।
আবুল হুশশাম‘সনো আর্সেনিক ফিল্টার’ উদ্ভাবন।কোটি মানুষের বিষাক্ত পানি সমস্যা সমাধান; যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কৃত।
আতাউল করিমলাইন স্পর্শ না করে ভাসমান ট্রেন (Maglev Train) সংক্রান্ত আবিষ্কার।বিশ্বখ্যাত গবেষণাপত্র ও একাধিক উদ্ভাবনের আন্তর্জাতিক পেটেন্ট।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহভাষাবিজ্ঞান ও বাংলা ভাষার মূল শিকড় গবেষণা।ফরাসি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানজনক ‘নাইট’ উপাধি।

৩. সংস্কৃতি, অস্কার, বিনোদন ও ক্রীড়া

  • নাফিস বিন জাফর: প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে অস্কার (Scientific and Technical Academy Award) বিজয়ী বিজ্ঞানী। ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান: অ্যাট ওয়ার্ল্ডস এন্ড’ চলচ্চিত্রে ফ্লুইড অ্যানিমেশনের জন্য তিনি এই গৌরব অর্জন করেন।
  • সাকিব আল হাসান: বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি একই সাথে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন ফরম্যাটেই এক নম্বর অলরাউন্ডার হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েন।
  • পার্থ প্রতিম মজুমদার: বিশ্বখ্যাত মাকুশ অভিনয় বা মাইম শিল্পী। মুকাভিনয়ে অসাধারণ অবদানের জন্য ফ্রান্স সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে।
  • শাহাবুদ্দিন আহমেদ: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী। তাঁর তুলির আঁচড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গতিময়তা ফুটে উঠেছে আন্তর্জাতিক গ্যালারিতে। তিনিও ফ্রান্সের নাইট উপাধি লাভ করেন।
  • শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন: আধুনিক দক্ষিণ এশীয় চিত্রকলার পথিকৃৎ। ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ (Famine Sketches)-এর মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক শিল্পকলায় চিরস্থায়ী স্থান করে নেন।
  • তারেক মাসুদ: আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাঁর নির্মিত ‘মাটির ময়না’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট বিভাগে বিশেষ সম্মাননা লাভ করে।

৪. আন্তর্জাতিক টেক-উদ্যোক্তা ও শেফ

  • জাওয়াদ করিম: ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘ইউটিউব’ (YouTube)-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা। অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং ও বিনোদন জগতে যা এনে দিয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন।
  • সালমান খান: বিশ্বজুড়ে অনলাইন শিক্ষার অন্যতম বৃহৎ নিখরচা মাধ্যম ‘খান একাডেমি’ (Khan Academy)-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ফ্রি অনলাইন শিক্ষা প্রযুক্তি কোটি কোটি শিক্ষার্থীর বিশ্বমানের শিক্ষা সুনিশ্চিত করেছে।
  • টমি মিয়া: যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে দক্ষিণ এশীয় রন্ধনশিল্প প্রসারের রূপকার। তাঁকে ব্রিটিশ কারি শিল্পের অন্যতম আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি বলা হয়।

৫. অবিভক্ত বাংলার কৃতি সন্তান (পৈতৃকসূত্রে বাংলাদেশী সংযোগ)

ইতিহাসের স্বাভাবিক বিবর্তনে যাঁদের কর্মক্ষেত্র পরবর্তীতে ভারতে স্থানান্তরিত হলেও তাঁদের শিকড় ও জন্মস্থান ছিল তৎকালীন এই বাংলাদেশে:

  • জগদীশ চন্দ্র বসু: বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী; গাছের প্রাণ আবিষ্কারক এবং বেতার তরঙ্গের (রেডিও) অন্যতম প্রধান অগ্রদূত।
  • সত্যেন্দ্রনাথ বোস: পদার্থবিজ্ঞানী; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার সময় কোয়ান্টাম মেকানিক্সে ‘বোসন কণা’ (Boson Particle) ও বোস-আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিক্স আবিষ্কার করেন।
  • মেঘনাদ সাহা: জ্যোতির্বিজ্ঞানী; যার উদ্ভাবিত ‘সাহা আয়নীভবন সমীকরণ’ তারকার গঠন গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়।
  • অমর্ত্য সেন: অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী। জনকল্যাণমূলক অর্থনীতি ও দুর্ভিক্ষ গবেষণায় তাঁর কাজ বিশ্বনন্দিত (তাঁর পৈতৃক নিবাস মানিকগঞ্জ)।
  • সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক: বিশ্ব চলচ্চিত্রের তিন বিখ্যাত পরিচালক। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস ছিল ময়মনসিংহে, যার চলচ্চিত্র অস্কারজয়ী বিশ্বমানের সম্পদ।

সম্পাদকীয় সারসংক্ষেপ:

বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভ থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক প্রযুক্তির যুগ পর্যন্ত—বাঙালিদের মেধা ও বিশ্বমঞ্চে তাদের নেতৃত্ব বারবার প্রশংসিত হয়েছে। বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ থেকে শুরু করে নোবেল, অস্কার কিংবা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন—বাঙালি তার অস্তিত্ব ও সক্ষমতার ছাপ বিশ্বজুড়ে রেখে চলেছে।

তথ্যসূত্র (Sources & Archives):

  1. Nobel Prize Official Archives (Peace & Economics).
  2. Academy of Motion Picture Arts and Sciences (Scientific & Technical Awards Archive).
  3. National Academy of Sciences & Cambridge University Press Publications.
  4. ICC (International Cricket Council) Player Rankings Archives.

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট পাস করার সেরা উপায়

নিউজ ডেস্ক

August 15, 2026

শেয়ার করুন

Written by BDS Bulbul Ahmed

Senior SEO & Local Search Specialist)

যুক্তরাজ্যে (UK) গাড়ি চালানোর স্বপ্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো DVSA (Driver and Vehicle Standards Agency) Driving Theory Test। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মের স্পষ্ট ধারণার অভাবে প্রতি বছর প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হন। ২০২৬ সালের আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ডিভিএসএ সিলেবাস চালুর পর থেকে এই পরীক্ষায় শুধু মুখস্থ নির্ভরতা দিয়ে পাস করা প্রায় অসম্ভব।

আপনি যদি যুক্তরাজ্যে একজন নতুন শিক্ষার্থী হন বা আপনার প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়ে থাকেন, তবে প্রথম চেষ্টাতেই থিওরি টেস্ট পাস করার জন্য এই বিস্তারিত গাইডটি আপনাকে সাহায্য করবে।

ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্টের মূল গঠন ও নিয়মাবলি

পরীক্ষাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত এবং আপনাকে একই সাথে একটি বসাতেই দুটি অংশে পাস করতে হবে:

১. মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন (Multiple-Choice Questions):

  • মোট প্রশ্ন: ৫০টি।
  • পাস মার্ক: ৫০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ পেতে হবে।
  • সময়সীমা: ৫৭ মিনিট।
  • মূল বিষয়বস্তু: হাইওয়ে কোড (Highway Code), রোড সাইন, ট্রাফিক নিয়মাবলি, গাড়ির নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের সড়ক আইন।

২. হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্ট (Hazard Perception Test):

  • ভিডিও ক্লিপ: ১৪টি এইচডি ভিডিও ক্লিপ (যার মধ্যে ড্রাইভিংয়ের দৈনন্দিন বিপদজনক পরিস্থিতি দেখানো হয়)।
  • হ্যাজার্ড সংখ্যা: ১৩টি ক্লিপে ১টি করে এবং ১টি ক্লিপে ২টি ‘Developing Hazard’ বা সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করতে হয়।
  • পাস মার্ক: ৭৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৪ পেতে হবে।

প্রথমবারেই পাসের ৪টি পরীক্ষিত ও কার্যকরী কৌশল

১. মুখস্থ না করে লজিক বুঝুন (Highway Code Mastery)

পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সরাসরি কোনো বই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয় না, বরং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। তাই DVSA Highway Code-এর প্রতিটি রুলস ও ট্রাফিক আইনের পেছনের মূল কারণ বুঝে পড়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাউন্ডঅ্যাবাউট (Roundabout), প্যাডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং এবং স্মুথ স্পিড লিমিট জোনগুলোর অগ্রাধিকারের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নিন।

২. হ্যাজার্ড পারসেপশনে সঠিক সময়ে ক্লিকিং মেথড

হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্টে অনেকেই ভুলবশত একটানা অনেকবার ক্লিক করে জিরো (0) মার্কস পান। বিপদ চিহ্নিত করার সঠিক উপায় হলো—রাস্তায় কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি দেখামাত্র (যেমন: ফুটপাত থেকে পথচারীর রাস্তায় নামা বা পার্কিং থেকে গাড়ি বের হওয়া) সতর্কতার সাথে ২-৩ বার নির্দিষ্ট ব্যবধানে ক্লিক করা।

৩. ভাষার বাধা দূর করে মাতৃভাষায় কনসেপ্ট বুঝুন

জটিল ইংরেজি ট্রাফিক টার্মগুলো ঠিকমতো না বুঝে মুখস্থ করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো কঠিন নিয়ম আগে নিজের বোঝার সুবিধার্থে বাংলা ভাষায় বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিষয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে ও নিখুঁতভাবে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সহজ বাংলায় ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট গাইড-এর মতো বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

৪. আসল পরীক্ষার সফটওয়্যারে মক টেস্ট দিন

শুধু বই পড়ার চেয়ে কম্পিউটারে বা মোবাইল অ্যাপে আসল পরীক্ষার টাইমার ও ইন্টারফেসের সাথে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। প্রতি সপ্তাহে ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্র্যাকটিস করার পর পুরো সিলেবাসের ওপর ৫-১০টি আনলিমিটেড মক টেস্ট দিন এবং প্রতিবার ৯০%-এর বেশি মার্কস অর্জন নিশ্চিত করার পর ফাইনাল টেস্টের তারিখ বুক করুন।

পরীক্ষার দিন যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • দেরিতে পৌঁছানো: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে নির্ধারিত টেস্ট সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে। দেড়ি করলে সেন্টারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং ফি বাজেয়াপ্ত হয়।
  • মূল নথি ভুলে যাওয়া: আপনার ভ্যালিড ফটোকার্ড প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (Provisional Driving License) অবশ্যই সাথে নিতে হবে। এটি ছাড়া পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
  • তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়া: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য প্রায় ১ মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রশ্ন ও অপশনগুলো ঠান্ডা মাথায় পড়ে উত্তর চিহ্নিত করুন।

শেষ কথা

ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট মোটেও কোনো জটিল পরীক্ষা নয়, যদি আপনার কাছে সঠিক রোডম্যাপ এবং কনসেপ্ট ক্লিয়ার থাকে। সঠিক নিয়মে অনুশীলন করুন, ২০২৬ সালের আপডেটেড নিয়মগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের স্বপ্ন পূরণ করুন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ