টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

যুক্তরাজ্যে (UK) ড্রাইভিং থিওরি টেস্টে প্রথমবারেই পাস করার উপায়: ২০২৬ সালের নতুন ডিভিএসএ (DVSA) গাইডলাইন
ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট পাস করার সেরা উপায়

নিউজ ডেস্ক

August 15, 2026

শেয়ার করুন

Written by BDS Bulbul Ahmed

Senior SEO & Local Search Specialist)

যুক্তরাজ্যে (UK) গাড়ি চালানোর স্বপ্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো DVSA (Driver and Vehicle Standards Agency) Driving Theory Test। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মের স্পষ্ট ধারণার অভাবে প্রতি বছর প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হন। ২০২৬ সালের আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ডিভিএসএ সিলেবাস চালুর পর থেকে এই পরীক্ষায় শুধু মুখস্থ নির্ভরতা দিয়ে পাস করা প্রায় অসম্ভব।

আপনি যদি যুক্তরাজ্যে একজন নতুন শিক্ষার্থী হন বা আপনার প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়ে থাকেন, তবে প্রথম চেষ্টাতেই থিওরি টেস্ট পাস করার জন্য এই বিস্তারিত গাইডটি আপনাকে সাহায্য করবে।

ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্টের মূল গঠন ও নিয়মাবলি

পরীক্ষাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত এবং আপনাকে একই সাথে একটি বসাতেই দুটি অংশে পাস করতে হবে:

১. মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন (Multiple-Choice Questions):

  • মোট প্রশ্ন: ৫০টি।
  • পাস মার্ক: ৫০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ পেতে হবে।
  • সময়সীমা: ৫৭ মিনিট।
  • মূল বিষয়বস্তু: হাইওয়ে কোড (Highway Code), রোড সাইন, ট্রাফিক নিয়মাবলি, গাড়ির নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের সড়ক আইন।

২. হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্ট (Hazard Perception Test):

  • ভিডিও ক্লিপ: ১৪টি এইচডি ভিডিও ক্লিপ (যার মধ্যে ড্রাইভিংয়ের দৈনন্দিন বিপদজনক পরিস্থিতি দেখানো হয়)।
  • হ্যাজার্ড সংখ্যা: ১৩টি ক্লিপে ১টি করে এবং ১টি ক্লিপে ২টি ‘Developing Hazard’ বা সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করতে হয়।
  • পাস মার্ক: ৭৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৪ পেতে হবে।

প্রথমবারেই পাসের ৪টি পরীক্ষিত ও কার্যকরী কৌশল

১. মুখস্থ না করে লজিক বুঝুন (Highway Code Mastery)

পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সরাসরি কোনো বই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয় না, বরং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। তাই DVSA Highway Code-এর প্রতিটি রুলস ও ট্রাফিক আইনের পেছনের মূল কারণ বুঝে পড়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাউন্ডঅ্যাবাউট (Roundabout), প্যাডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং এবং স্মুথ স্পিড লিমিট জোনগুলোর অগ্রাধিকারের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নিন।

২. হ্যাজার্ড পারসেপশনে সঠিক সময়ে ক্লিকিং মেথড

হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্টে অনেকেই ভুলবশত একটানা অনেকবার ক্লিক করে জিরো (0) মার্কস পান। বিপদ চিহ্নিত করার সঠিক উপায় হলো—রাস্তায় কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি দেখামাত্র (যেমন: ফুটপাত থেকে পথচারীর রাস্তায় নামা বা পার্কিং থেকে গাড়ি বের হওয়া) সতর্কতার সাথে ২-৩ বার নির্দিষ্ট ব্যবধানে ক্লিক করা।

৩. ভাষার বাধা দূর করে মাতৃভাষায় কনসেপ্ট বুঝুন

জটিল ইংরেজি ট্রাফিক টার্মগুলো ঠিকমতো না বুঝে মুখস্থ করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো কঠিন নিয়ম আগে নিজের বোঝার সুবিধার্থে বাংলা ভাষায় বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিষয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে ও নিখুঁতভাবে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সহজ বাংলায় ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট গাইড-এর মতো বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

৪. আসল পরীক্ষার সফটওয়্যারে মক টেস্ট দিন

শুধু বই পড়ার চেয়ে কম্পিউটারে বা মোবাইল অ্যাপে আসল পরীক্ষার টাইমার ও ইন্টারফেসের সাথে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। প্রতি সপ্তাহে ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্র্যাকটিস করার পর পুরো সিলেবাসের ওপর ৫-১০টি আনলিমিটেড মক টেস্ট দিন এবং প্রতিবার ৯০%-এর বেশি মার্কস অর্জন নিশ্চিত করার পর ফাইনাল টেস্টের তারিখ বুক করুন।

পরীক্ষার দিন যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • দেরিতে পৌঁছানো: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে নির্ধারিত টেস্ট সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে। দেড়ি করলে সেন্টারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং ফি বাজেয়াপ্ত হয়।
  • মূল নথি ভুলে যাওয়া: আপনার ভ্যালিড ফটোকার্ড প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (Provisional Driving License) অবশ্যই সাথে নিতে হবে। এটি ছাড়া পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
  • তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়া: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য প্রায় ১ মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রশ্ন ও অপশনগুলো ঠান্ডা মাথায় পড়ে উত্তর চিহ্নিত করুন।

শেষ কথা

ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট মোটেও কোনো জটিল পরীক্ষা নয়, যদি আপনার কাছে সঠিক রোডম্যাপ এবং কনসেপ্ট ক্লিয়ার থাকে। সঠিক নিয়মে অনুশীলন করুন, ২০২৬ সালের আপডেটেড নিয়মগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের স্বপ্ন পূরণ করুন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

মধ্যপ্রাচ্যে কাজের ভিসা

নিউজ ডেস্ক

October 20, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): বৈদেশিক কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও অর্থনীতি
  • প্রকাশের তারিখ: ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (যেমন: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন) কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং প্রতারকদের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) নির্ধারিত বৈধ প্রক্রিয়া, প্রতারণা চেনার উপায় এবং সরকারি খরচের নির্দেশিকা নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার বৈধ প্রক্রিয়া (Step-by-Step)

একটি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের জন্য আপনাকে অবশ্যই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:

  • পাসপোর্ট তৈরি: সর্বনিম্ন ১ বছর মেয়াদসম্পন্ন একটি আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট তৈরি করুন।
  • বিএমইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপের মাধ্যমে বা নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে (DEMO) গিয়ে BMET রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন। এর মাধ্যমে আপনি একটি ইউনিক বায়োমেট্রিক আইডি পাবেন।
  • বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন: শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির (RL) মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া করুন। বৈধ এজেন্সির তালিকা BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
  • ভিসা যাচাইকরণ (Visa Verification): এজেন্সি আপনাকে ভিসার কপি দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস (Embassy) বা বিএমইটি-এর মাধ্যমে ভিসার সত্যতা শতভাগ যাচাই করে নিন।
  • মেডিকেল টেস্ট: সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার (যেমন: GAMCA বা GCC অনুমোদিত কেন্দ্র) থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং ‘Fit’ সার্টিফিকেট নিন।
  • প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং: বিএমইটি-এর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (TTC) ৩ দিনের বাধ্যতামূলক পিডিও ট্রেনিংয়ে অংশ নিন। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়মকানুন ও ভাষা শেখানো হয়।
  • স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স: সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বিএমইটি থেকে বাধ্যতামূলক Emigration Clearance (স্মার্ট কার্ড) সংগ্রহ করুন। এটি ছাড়া বিমানবোর্ড করা বা ইমিগ্রেশন পার হওয়া অসম্ভব।

ভিসা প্রতারণা চেনার উপায়

দালাল বা ভুয়ো এজেন্সিগুলো সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে। নিচের লক্ষণগুলো দেখলে সতর্ক হোন:

  • অস্বাভাবিক কম সময়ে ভিসা: “১ সপ্তাহে বা ৩ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের নিশ্চিত ভিসা” — এমন লোভনীয় ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দিলে বুঝবেন এটি প্রতারণা।
  • ভিসার ক্যাটাগরি গোপন করা: ফ্রি ভিসা (Free Visa) বা সাপ্লাই ভিসা (Supply Visa)-র কথা বললে সতর্ক হোন। মনে রাখবেন, মধ্যপ্রাচ্যে আইনিভাবে ‘ফ্রি ভিসা’ বলতে কিছু নেই। সবসময় সুনির্দিষ্ট কোম্পানি এবং পদের (যেমন: ড্রাইভার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কার) ভিসা দেখে নেবেন।
  • অফিশিয়াল রসিদ না দেওয়া: টাকা লেনদেনের সময় যদি এজেন্সি কোনো অফিশিয়াল প্যাডে লিখিত রসিদ (Receipt) দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেখানে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
  • চুক্তিপত্র ছাড়া টাকা দাবি: কোনো কাজের অফার লেটার (Offer Letter) বা কর্মসংস্থান চুক্তিপত্র (Employment Contract) দেখানোর আগেই বড় অঙ্কের অগ্রিম টাকা দাবি করা প্রতারণার প্রধান লক্ষণ।
  • ভিসা কপিতে ভুল বা অসংগতি: ভিসার কপিতে স্পনসর বা কোম্পানির নাম, আরবী লেখার ভুল বা দূতাবাসের সিল জেনুইন কি না তা যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।

সরকারি খরচ ও আর্থিক সহায়তার নির্দেশিকা

সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জন্য অভিবাসন ব্যয় (Migration Cost) নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবে দেশ ও কাজের ক্যাটাগরি ভেদে এজেন্সির সার্ভিস চার্জসহ খরচে কিছুটা তারতম্য হয়।

বাধ্যতামূলক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক ফি (আনুমানিক):

  • BMET রেজিস্ট্রেশন ফি: ৩০০-৪০০ টাকা।
  • PDO ট্রেনিং ফি: ৪০০-৫০০ টাকা।
  • স্মার্ট কার্ড/ইমিগ্রেশন ফি: ৩,৫০০-৩,৮৫ টাকা।
  • প্রবাসী কল্যাণ তহবিল ফি: ৩,৫০০ টাকা (স্মার্ট কার্ডের সাথেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)।
  • মেডিকেল ফি: দেশভেদে ৮,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা।
  • ইনস্যুরেন্স (বাধ্যতামূলক প্রিমিয়াম): ১,০০০ টাকা।

আর্থিক সহায়তা ও ঋণ সুবিধা:
আপনার যদি বিদেশে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত টাকা না থাকে, তবে সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) থেকে খুব স্বল্প সুদে এবং সহজ শর্তে “বৈদেশিক কর্মসংস্থান ঋণ” নিতে পারেন। এর জন্য আপনার বৈধ ভিসা, স্মার্ট কার্ডের অনুমোদন এবং কাজের চুক্তিপত্র প্রদর্শন করতে হবে।

২০২৭ এ ইটালি যাবার প্রসেস কি কি তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল

ইতালির ২০২৬-২০২৮ সালের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) বা স্পন্সর আইনের অধীনে ২০২৭ সালের কোটায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশী কর্মী নিয়োগের অফিশিয়াল সময়সূচি ও নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই তিন বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশিরাও ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ভিসায় যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বর্তমানে ২০২৭ সালের কোটার জন্য প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation) প্রক্রিয়া শুরুর একদম দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। নিচে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল সর্বশেষ নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

২০২৭ সালের আবেদন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (Timeline)

ইতালির স্পন্সর বা কাজের ভিসার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালে ইতালিতে অবস্থানরত মালিক বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

  • প্রাক-আবেদন বা প্রি-কম্পাইলেশন (Pre-compilation): ২৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘Ali Portal’-এ মালিকরা কর্মীদের তথ্য আগে থেকে পূরণ করে ড্রাফট আকারে সাজিয়ে রাখতে পারবেন।
  • ক্লিক ডে (Click Days) ২০২৭: আগে আসলে আগে পাবেন (First-come, first-served) ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফরম সাবমিট করার নির্দিষ্ট দিনগুলোকে ক্লিক ডে বলে। ২০২৭ সালের অফিশিয়াল ক্লিক ডে-সমূহ:
    • ১২ জানুয়ারি ২০২৭: কৃষি বা এগ্রিকালচারাল সিজনাল (Seasonal) কাজের আবেদন।
    • ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: পর্যটন বা ট্যুরিজম খাতের সিজনাল কাজের আবেদন।
    • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: অমৌসুমি বা নন-সিজনাল (Non-seasonal) দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন টেকনিক্যাল কাজের আবেদন।
    • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭: ডোমেস্টিক বা ফ্যামিলি কেয়ার (কেয়ারগিভার ও গৃহকর্মী) কাজের আবেদন।

প্রধান কাজের খাত ও ভিসা ক্যাটাগরি

২০২৭ সালের মোট কোটাকে প্রধানত তিনটি ধারায় ভাগ করা হয়েছে:

  • নন-সিজনাল বা দীর্ঘমেয়াদী কাজ (৭৬,২০০টি কোটা): এর মধ্যে লজিস্টিকস, পণ্য পরিবহন (ড্রাইভিং), কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণ খাত, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ১৪,০০০টি কোটা কেয়ারগিভার ও ফ্যামিলি কেয়ার খাতের জন্য সংরক্ষিত।
  • সিজনাল বা মৌসুমি কাজ (৮৯,০০০টি কোটা): কৃষি এবং নির্দিষ্ট কিছু পর্যটন খাতের জন্য সাধারণত এই ভিসা সর্বোচ্চ ৯ মাসের হয়ে থাকে। পরবর্তীতে এটি দীর্ঘমেয়াদী ভিসায় রূপান্তর করার সুযোগ থাকে।

৩. বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার অফিশিয়াল আইনি ধাপসমূহ

  • ধাপ ১ (মালিকের আবেদন): ইতালির মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পোর্টালে আপলোড করে নির্দিষ্ট ক্লিক ডে-তে সফলভাবে সাবমিট করবেন। [
  • ধাপ ২ (নুলা ওস্তা বা ওয়ার্ক পারমিট): তথ্য যাচাইয়ের পর ইতালির ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে কর্মীর নামে একটি ই-ওয়ার্ক পারমিট বা ‘Nulla Osta’ (নুলা ওস্তা) ইস্যু করা হবে।
  • ধাপ ৩ (ভিসা আবেদন): মালিকের পাঠানো জেনুইন নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর, বাংলাদেশে ইতালির অফিশিয়াল আউটসোর্সিং পার্টনার VFS Global Portal এর মাধ্যমে পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিসহ সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করে ভিসা আবেদন জমা দিতে হবে।
  • ধাপ ৪ (প্রশিক্ষণ উদ্যোগ): বাংলাদেশ সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশেই ইতালীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি দক্ষতার ওপর বিশেষ সরকারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে, যা দক্ষ কর্মীদের সহজে বৈধ উপায়ে ভিসা পেতে বড় ভূমিকা রাখবে।

৪. ভিসা প্রতারণা থেকে বাঁচার বিশেষ সতর্কবার্তা

ইতালি যাওয়ার নামে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দালাল চক্রের প্রতারণা লক্ষ্য করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বহু মানুষ অবৈধ পথে লাটভিয়া বা অন্যান্য দেশের জঙ্গল ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে করুণ মৃত্যুর শিকার হয়েছেন।

  • ভুয়া কোটার গুজব: বাজারে “ইতালি মাত্র ১% বাংলাদেশি নেবে, আজই টাকা দিন” — এমন যেকোনো গুজবে কান দেবেন না। ২০২৭ কোটায় বাংলাদেশের জন্য আলাদা কোনো বৈষম্যমূলক ১% লিমিট অফিশিয়ালি দেওয়া হয়নি।
  • অগ্রিম টাকা লেনদেন বন্ধ রাখুন: কোনো দালাল বা সংস্থাকে নুলা ওস্তা (Nulla Osta) ছাড়া এবং নুলা ওস্তাটি ইতালির অফিশিয়াল পোর্টাল বা দূতাবাসের মাধ্যমে শতভাগ যাচাই না করে কোনো প্রকার অগ্রিম অর্থ বা পাসপোর্ট জমা দেবেন না।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

নিরাপদ ও সুসংগঠিত অভিবাসন দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার এই সময়ে না বুঝে অবৈধ পথে বা ভুয়া ভিসায় গিয়ে বিপদে পড়ার চেয়ে বিএমইটির সরকারি নির্দেশিকা মেনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই করে বিদেশে যাওয়া আবশ্যক।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আয়কর রিটার্ন

নিউজ ডেস্ক

October 18, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): জাতীয় অর্থনীতি, আয়কর ও অর্থ বিষয়ক পরামর্শ
  • প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ সংক্রান্ত জাতীয় আইন ও অনলাইন পোর্টাল নোটিশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া ও নীতিমালায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আইনি সময়সীমা, করমুক্ত আয়ের সীমা এবং অনলাইন ই-রিটার্ন (e-Return) দাখিলের ধাপসমূহ নিচে বিশদভাবে তুলে ধরা হলো।

১. রিটার্ন দাখিলের আইনি সময়সীমা ও করবর্ষ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সর্বশেষ আয়কর অধ্যাদেশ ও নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষের (যা ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত) আয়কর রিটার্ন দাখিলের আইনি সময়সীমা ও কাঠামো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

করবর্ষ ও আয়বর্ষের স্পষ্ট সংজ্ঞা

  • আয়বর্ষ (Income Year): ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। (এই ১২ মাসে আপনি যা আয় করেছেন, তার হিসাব করতে হবে)।
  • করবর্ষ (Assessment Year): ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। (এটি হলো আয়বর্ষের অর্জিত আয়ের ওপর কর নির্ধারণ ও রিটার্ন জমা দেওয়ার আইনি বছর)।

রিটার্ন দাখিলের আইনি সময়সীমা ও সময়রেখা (Timeframes)

করদাতার ধরনজরিমানা ছাড়া আইনি সময়সীমাবিলম্ব ফি ও জরিমানাসহ বর্ধিত সময়সীমা
সাধারণ ও নিয়মিত করদাতা৩১ ডিসেম্বর ২০২৬১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত (জরিমানা প্রযোজ্য)
প্রথমবারের করদাতা (New Taxpayer)৩০ জুন ২০২৭৩০ জুন ২০২৭ এর পর কোনো সুযোগ নেই (e-TIN সচল রাখতে হবে)

সময়মতো রিটার্ন না দিলে আইনি জরিমানা ও আর্থিক ক্ষতি

১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কোনো করদাতা রিটার্ন দাখিল করলে আয়কর আইন অনুযায়ী তাকে ধাপে ধাপে আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে:

  • জানুয়ারি – মার্চ ২০২৭ (প্রাথমিক বিলম্ব):
    • মূল প্রদেয় করের ওপর ২% অতিরিক্ত কর যুক্ত হবে।
    • করের পরিমাণ কম হলেও নূন্যতম ৩,০০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
  • এপ্রিল – জুন ২০২৭ (দীর্ঘ বিলম্ব):
    • মূল প্রদেয় করের ওপর ৫% অতিরিক্ত কর ধার্য হবে।
    • এক্ষেত্রে নূন্যতম ৫,০০০ টাকা বিলম্ব ফি বা জরিমানা বাধ্যতামূলক।
  • সরকারি সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা:
    • সময়মতো রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) না থাকলে ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড নবায়ন, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয় এবং গাড়ির ফিটনেস নবায়নের মতো ৪৩টি সরকারি-বেসরকারি সেবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ বা স্থগিত হয়ে যাবে।

২. বাজেট ২০২৬-২৭ অনুযায়ী করমুক্ত আয়ের সীমা (Tax-Free Income Limit)

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অনুসারে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ক্যাটাগরিভিত্তিক করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে:

করদাতার ক্যাটাগরিকরমুক্ত আয়ের সীমা (২০২৬-২৭)
সাধারণ পুরুষ করদাতা৩,৭৫,০০০ টাকা
নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা৪,২৫,০০০ টাকা
তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি৫,২৫,০০০ টাকা
গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ/আহত৫,২৫,০০০ টাকা
প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা-মা/অভিভাবকপ্রতি সন্তানের জন্য অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা

মনে রাখা জরুরি: বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও যদি কারও ১২ ডিজিটের টিআইএন (TIN) থাকে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তার জন্য শূন্য করের রিটার্ন (Zero Return) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

৩. ই-রিটার্ন (e-Return) দাখিলের সহজ ৬টি ধাপ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে ঘরে বসেই ই-রিটার্ন দাখিল করা যায়:

[etaxnbr.gov.bd পোর্টালে প্রবেশ] ➔ [TIN ও বায়োমেট্রিক সিম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন/লগইন] ➔ [আয়ের বিবরণী ও রেয়াত তথ্য ইনপুট] ➔ [কর হিসাব যাচাই] ➔ [অনলাইন পেমেন্ট (যদি থাকে)] ➔ [একনলেজমেন্ট স্লিপ ও সার্টিফিকেট ডাউনলোড]
  1. পোর্টালে প্রবেশ ও রেজিস্ট্রেশন: এনবিআরের নির্দিষ্ট ই-ট্যাক্স ওয়েবসাইটে (etaxnbr.gov.bd) গিয়ে নিজের ১২ ডিজিটের TIN এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন/লগইন করুন।
  2. ব্যক্তিগত তথ্য ও আয়ের উৎসের তথ্য নির্বাচন: বেতন, বাড়ি ভাড়া, ব্যবসা, কৃষি বা মূলধনী লাভ—আয়ের যে যে উৎস রয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
  3. আয়ের বিবরণী ইনপুট: ব্যাংক বিবরণী, বেতন সনদ (Salary Certificate), ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী আয়ের অঙ্ক পোর্টালে ইনপুট দিন।
  4. কর রেয়াত ও বিনিয়োগের তথ্য (Tax Rebate): জীবন বীমা, সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ থাকলে তা উল্লেখ করে কর রেয়াতের সুবিধা গ্রহণ করুন।
  5. ট্যাক্স হিসাব ও পেমেন্ট: সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার দেয় কর (Net Payable Tax) হিসাব করে দেখাবে। দেয় কর থাকলে তা মোবাইল ব্যাংকিং, কার্ড বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
  6. সাবমিট ও একনলেজমেন্ট সার্টিফিকেট ডাউনলোড: সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে ফাইলটি ফাইনাল সাবমিট করুন এবং তাৎক্ষণিকভাবে একনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Slip) ও ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে রাখুন।

৪. বিলম্ব ও জরিমানা সংক্রান্ত নিয়মাবলী

আইনি সময়সীমা বা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে নির্দিষ্ট কিছু আর্থিক ও আইনি মাশুল গুনতে হতে পারে:

  • বিলম্ব সুদ ও পেনাল্টি: নির্দিষ্ট মেয়াদের পর রিটার্ন দাখিল করলে দেয় করের ওপর অতিরিক্ত বিলম্বে দাখিলের জরিমানা ও মাসিক হারে বিলম্ব সুদ যুক্ত হয়।
  • সর্বনিম্ন কর (Minimum Tax): নির্দিষ্ট এলাকার ওপর ভিত্তি করে প্রযোজ্য সর্বনিম্ন কর (যেমন: ঢাকা/চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা) প্রদান বাধ্যতামূলক থাকে।
  • সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে জটিলতা: রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSN/একনলেজমেন্ট স্লিপ) না থাকলে ব্যাংক লোন, ক্রেডিট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নসহ ৪০টিরও বেশি সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

স্মার্ট বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় আয়কর ব্যবস্থা সহজ করতে ই-রিটার্ন সিস্টেম অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। ৩০ নভেম্বর সময়সীমা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে সময়মতো তথ্য যাচাই করে নিজের ই-রিটার্ন দাখিল করা প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

এসএসসি ২০২৭ রুটিন

নিউজ ডেস্ক

October 18, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): শিক্ষা, শিক্ষা বোর্ড নোটিশ ও অ্যাকাডেমিক আপডেট
  • প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ (নিয়মিত আপডেটযোগ্য)
  • তথ্যসূত্র (Sources): মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় আপডেট, সময়সূচি এবং দিকনির্দেশনা প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে পরীক্ষার চূড়ান্ত তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর সমন্বিত তথ্য অনুসারে, তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ ২০২৭ থেকে শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

১. এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি (Revised Schedule)

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা ১৪ মার্চ ২০২৭ তারিখ থেকে শুরু হবে এবং লিখিত বা তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৫ এপ্রিল ২০২৭ তারিখে শেষ হবে।

Change block type or style

Move Image block from position 6 up to position 5

Move Image block from position 6 down to position 7

Change alignmentReplace

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে আগের প্রস্তাবিত সময়সূচি পরিবর্তন করে এই নতুন সংশোধিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল) এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (এসএসসি ভোকেশনাল) অধীনে অনুষ্ঠিত সকল পরীক্ষা একই তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার মূল সময়সূচি:

  • তত্ত্বীয়/লিখিত পরীক্ষা শুরু: ১৪ মার্চ ২০২৭ (রবিবার)
  • তত্ত্বীয়/লিখিত পরীক্ষা শেষ: ১৫ এপ্রিল ২০২৭
  • পরীক্ষা শুরুর সময়: প্রতিদিন সকাল ১০:০০ টা
  • ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন ও জমা: লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এবং ২২ এপ্রিল ২০২৭ তারিখের মধ্যে নম্বর অনলাইন এন্ট্রি ও জমা সম্পন্ন করতে হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাবলী:

১. উপস্থিতির সময়: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার আসনে আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. পরীক্ষার ধরন: তত্ত্বীয় পরীক্ষায় প্রথমে বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং পরবর্তীতে সৃজনশীল/রচনামূলক (CQ) পরীক্ষা বিরতিহীনভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: পরীক্ষার্থীদের মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অবশ্যই সাথে আনতে হবে।
৪. ক্যালকুলেটর ব্যবহার: পরীক্ষায় শুধুমাত্র সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

(দ্রষ্টব্য: শিক্ষা বোর্ডগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ বিষয়ভিত্তিক পিডিএফ (PDF) রুটিনটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আপনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা আপনার সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে নজর রাখতে পারেন।)

২. ফরম পূরণ (Form Fill-up) সংক্রান্ত নির্দেশনা

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার অফিসিয়াল সময়সূচি ও নীতিমালা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশ করা হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৬ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ থেকে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন ফরম পূরণ শুরু হবে।

পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত সময়সূচি, ফি এবং বোর্ড নির্দেশিত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো:

ফরম পূরণের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও সময়সূচি

  • সম্ভাব্য তালিকা (Probable List) প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৬
  • বিলম্ব ফি ছাড়া ফরম পূরণ: ১৬ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
  • বিলম্ব ফি ছাড়া ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ২৪ নভেম্বর ২০২৬
  • বিলম্ব ফিসহ (১০০ টাকা জরিমানা) ফরম পূরণ: ২৪ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত
  • বিলম্ব ফিসহ ফি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ: ৩০ নভেম্বর ২০২৬

বোর্ড নির্ধারিত বিভাগভিত্তিক ফি

বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মোট ফি (বোর্ড ফি + কেন্দ্র ফি) নিচে দেওয়া হলো:

  • বিজ্ঞান বিভাগ: ২,৪৩৫ টাকা
  • মানবিক বিভাগ: ২,৩১৫ টাকা
  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ২,৩১৫ টাকা

ফরম পূরণের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ম বাধ্যতামূলক করেছে, যা ফরম পূরণের আগে জেনে রাখা জরুরি:

১. নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা: জিপিএ উন্নয়ন ও অনুত্তীর্ণ (ফেল করা) পরীক্ষার্থী ছাড়া বাকি সব নিয়মিত পরীক্ষার্থীর জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
২. জিপিএ উন্নয়ন (GPA Improvement) পরীক্ষার্থী: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে পাস করেছে কিন্তু জিপিএ-৫ এর কম পেয়েছে, তারা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় জিপিএ উন্নয়নের সুযোগ পাবে। এ জন্য তাদের পূর্ণাঙ্গ ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী সব বিষয়ে

পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জিপিএ উন্নত হলে তা গ্রহণ করা হবে, অন্যথায় আগেরটি বহাল থাকবে। আবেদনের সাথে পূর্বের পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে।
৩. বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের নিয়ম: যেসব পরীক্ষার্থীর বহিষ্কারের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, তারা নিবন্ধনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে সব বিষয়ে অংশ নিতে পারবে।
৪. চতুর্থ বিষয়ের (4th Subject) সুবিধা: ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের যেসব নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ২০২৫ বা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তারা অনিয়মিত হিসেবে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। আর যারা আগে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে পাস করেছিল কিন্তু ১ থেকে ৪টি আবশ্যিক বিষয়ে ফেল করেছে, তারা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় সেই ফেল করা বিষয়গুলোতে পাস করলে আগের চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা বহাল থাকবে।
৫. সিলেবাস ও মূল্যায়ন:

  • নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে হবে।
  • অনিয়মিত এবং জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্ন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
    ৬. ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment): শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এনসিটিবি (NCTB) গাইডলাইন অনুযায়ী অনলাইন এন্ট্রির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে। [1]

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য পরীক্ষার্থীদের নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বিস্তারিত ফি-এর বিবরণ ও নোটিশ দেখতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।)

৩. সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি (Syllabus & Exam Pattern)

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সিলেবাস এবং পরীক্ষা পদ্ধতি (Exam Pattern) জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের সমন্বয়ে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নিচে ২০২৭ সালের নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস এবং পরীক্ষা পদ্ধতির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

সিলেবাসের রূপরেখা

  • নিয়মিত পরীক্ষার্থী (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ): নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ২০২৭ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস বা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের (বোর্ডের সর্বশেষ নোটিশ অনুযায়ী) ওপর ভিত্তি করে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
  • অনিয়মিত ও জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী: যারা ২০২৫ বা ২০২৬ সালে অকৃতকার্য (ফেল) হয়েছেন কিংবা জিপিএ উন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০২৫ বা ২০২৬ সালের পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রশ্ন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টন (Exam Pattern)

এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষা পূর্ববর্তী সনাতন ও সৃজনশীল নিয়মের সমন্বয়ে পূর্ণ ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে (যেসব বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে, সেগুলোতে লিখিত ৭৫ নম্বর ও ব্যবহারিক ২৫ নম্বর)।

পরীক্ষায় মূলত দুটি অংশ থাকবে:

১. বহুনির্বাচনি বা নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) অংশ:

  • নম্বর: ৩০ নম্বর (ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়ে ২৫ নম্বর)।
  • সময়: ৩০ মিনিট।
  • পদ্ধতি: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর থাকবে। ওএমআর (OMR) শিটে সঠিক বৃত্তটি ভরাট করতে হবে। কোনো নেগেটিভ মার্কিং থাকবে না।

২. সৃজনশীল বা রচনামূলক (CQ) অংশ:

  • নম্বর: ৭০ নম্বর (ব্যবহারিক যুক্ত বিষয়ে ৫০ নম্বর)।
  • সময়: ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।
  • পদ্ধতি: উদ্দীপক বা সিনারিও দেখে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সাধারণত ১১টি প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে ৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৫টি)।

বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিভাজন টেবিল

বিভাগের নামবিষয়ের ধরনসৃজনশীল (CQ)বহুনির্বাচনি (MCQ)ব্যবহারিক (Practical)মোট নম্বর
সব বিভাগআবশ্যিক বিষয় (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, গণিত ইত্যাদি)৭০৩০—১০০
বিজ্ঞান বিভাগব্যবহারিক যুক্ত বিষয় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান)৫০২৫২৫১০০
মানবিক ও ব্যবসায়ব্যবহারিক ছাড়া অন্যান্য নৈর্বাচনিক বিষয়৭০৩০—১০০
কৃষি/গার্হস্থ্যচতুর্থ বিষয় (ব্যবহারিক যুক্ত)৫০২৫২৫১০০

পাস নম্বর ও মূল্যায়ন নীতি:

  • আলাদা পাসের নিয়ম: পরীক্ষার্থীদের সৃজনশীল (CQ), বহুনির্বাচনি (MCQ) এবং ব্যবহারিক (Practical) অংশে আলাদা আলাদাভাবে পাস করতে হবে। কোনো একটি অংশে ফেল করলে সামগ্রিকভাবে সেই বিষয়ে অকৃতকার্য বলে গণ্য হবে।
  • পাস মার্ক: প্রতিটি অংশে নূন্যতম ৩৩% নম্বর পেয়ে পাস করতে হবে। (যেমন: ৭০ নম্বরের সৃজনশীলে পাস ২৩, ৩০ নম্বরের MCQ-তে পাস ১০)।
  • ধারাবাহিক মূল্যায়ন: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর কোনো লিখিত পরীক্ষা বোর্ডে হবে না। এগুলোর নম্বর বিদ্যালয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের (Continuous Assessment) মাধ্যমে সরাসরি বোর্ডে পাঠানো হবে।

৪. কেন্দ্রে মানতে হবে যেসব জরুরি নিয়মাবলি

২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্দেশিত কিছু জরুরি নিয়মাবলী অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মানতে হবে এমন প্রধান প্রধান নিয়মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:


সময় সংক্রান্ত নিয়মাবলী

• কেন্দ্রে প্রবেশের সময়: পরীক্ষা শুরুর নূন্যতম ৩০ মিনিট পূর্বে (অর্থাৎ সকাল ০৯:৩০ মিনিটের মধ্যে) পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে আসন গ্রহণ করতে হবে।
• দেরিতে প্রবেশ: কোনো পরীক্ষার্থী যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে উপস্থিত হলে, তার নাম, রোল নম্বর এবং দেরিতে আসার কারণ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। তবে পরীক্ষা শুরুর পর অতিরিক্ত কোনো সময় দেওয়া হবে না।
• প্রশ্নপত্র বিতরণ: পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১০ মিনিট আগে ওএমআর (OMR) শিট এবং সকাল ১০:০০ টায় বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

ওএমআর (OMR) শিট পূরণের নিয়ম

• সঠিক বৃত্ত ভরাট: পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটে তার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড এবং প্রশ্নপত্রের সেট কোড সতর্কতার সাথে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
• ভুল সংশোধনের নিয়ম: ওএমআর শিট কোনোভাবেই ভাঁজ করা, কাটাকাটি করা বা ফ্লুইড ব্যবহার করা যাবে না। কোনো ভুল হলে তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ পরিদর্শকের (Invigilator) সাহায্য নিতে হবে।

নিষিদ্ধ সামগ্রী (যা কেন্দ্রে আনা সম্পূর্ণ নিষেধ)

• মোবাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস: পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ ডিভাইস, ডিজিটাল ডায়েরি বা ইন্টারনেট সংযোগযুক্ত অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
• অননুমোদিত কাগজ: পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধরনের অতিরিক্ত কাগজ, বই বা নোটবুক পরীক্ষার হলে রাখা যাবে না।

ক্যালকুলেটর ও জ্যামিতি বক্স ব্যবহারের নিয়ম

• ক্যালকুলেটর: পরীক্ষায় শুধুমাত্র সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর (Non-programmable Calculator) ব্যবহার করা যাবে। কোনো ধরনের প্রোগ্রামিং বা মেমোরি চিপযুক্ত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে না।
• জ্যামিতি বক্স ও কলম: স্বচ্ছ বা পরিষ্কার জ্যামিতি বক্স ও ক্লিপবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। ওএমআর এবং উত্তরপত্রে লেখার জন্য শুধুমাত্র কালো বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

• প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড: প্রতিদিন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড অবশ্যই সাথে আনতে হবে। এই নথিপত্রগুলো ছাড়া কোনোভাবেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।

সংক্ষেপিত পর্যালোচনা

এসএসসি ২০২৭ পরীক্ষার্থীদের জন্য সময় সূচির এই পরিবর্তন প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় এনে দিয়েছে। ৭ জানুয়ারির বদলে ১৪ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা সিলেবাস ভালোভাবে শেষ করার সুযোগ পাবে। নিয়মিত আপডেট এবং বিষ ভিত্তিক সম্পূর্ণ রুটিন পেতে আমাদের এই লিংকটি বুকমার্ক করে রাখুন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ