টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
Written by BDS Bulbul Ahmed
Senior SEO & Local Search Specialist)
যুক্তরাজ্যে (UK) গাড়ি চালানোর স্বপ্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো DVSA (Driver and Vehicle Standards Agency) Driving Theory Test। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মের স্পষ্ট ধারণার অভাবে প্রতি বছর প্রথমবার পরীক্ষা দেওয়া প্রার্থীদের একটি বড় অংশই অকৃতকার্য হন। ২০২৬ সালের আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং নতুন ডিভিএসএ সিলেবাস চালুর পর থেকে এই পরীক্ষায় শুধু মুখস্থ নির্ভরতা দিয়ে পাস করা প্রায় অসম্ভব।

আপনি যদি যুক্তরাজ্যে একজন নতুন শিক্ষার্থী হন বা আপনার প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পেয়ে থাকেন, তবে প্রথম চেষ্টাতেই থিওরি টেস্ট পাস করার জন্য এই বিস্তারিত গাইডটি আপনাকে সাহায্য করবে।
ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্টের মূল গঠন ও নিয়মাবলি

পরীক্ষাটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত এবং আপনাকে একই সাথে একটি বসাতেই দুটি অংশে পাস করতে হবে:
১. মাল্টিপল চয়েস কোশ্চেন (Multiple-Choice Questions):
- মোট প্রশ্ন: ৫০টি।
- পাস মার্ক: ৫০-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৩ পেতে হবে।
- সময়সীমা: ৫৭ মিনিট।
- মূল বিষয়বস্তু: হাইওয়ে কোড (Highway Code), রোড সাইন, ট্রাফিক নিয়মাবলি, গাড়ির নিরাপত্তা এবং যুক্তরাজ্যের সড়ক আইন।
২. হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্ট (Hazard Perception Test):
- ভিডিও ক্লিপ: ১৪টি এইচডি ভিডিও ক্লিপ (যার মধ্যে ড্রাইভিংয়ের দৈনন্দিন বিপদজনক পরিস্থিতি দেখানো হয়)।
- হ্যাজার্ড সংখ্যা: ১৩টি ক্লিপে ১টি করে এবং ১টি ক্লিপে ২টি ‘Developing Hazard’ বা সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করতে হয়।
- পাস মার্ক: ৭৫-এর মধ্যে কমপক্ষে ৪৪ পেতে হবে।
প্রথমবারেই পাসের ৪টি পরীক্ষিত ও কার্যকরী কৌশল
১. মুখস্থ না করে লজিক বুঝুন (Highway Code Mastery)
পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সরাসরি কোনো বই থেকে হুবহু তুলে দেওয়া হয় না, বরং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। তাই DVSA Highway Code-এর প্রতিটি রুলস ও ট্রাফিক আইনের পেছনের মূল কারণ বুঝে পড়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে রাউন্ডঅ্যাবাউট (Roundabout), প্যাডেস্ট্রিয়ান ক্রসিং এবং স্মুথ স্পিড লিমিট জোনগুলোর অগ্রাধিকারের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে নিন।
২. হ্যাজার্ড পারসেপশনে সঠিক সময়ে ক্লিকিং মেথড
হ্যাজার্ড পারসেপশন টেস্টে অনেকেই ভুলবশত একটানা অনেকবার ক্লিক করে জিরো (0) মার্কস পান। বিপদ চিহ্নিত করার সঠিক উপায় হলো—রাস্তায় কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি দেখামাত্র (যেমন: ফুটপাত থেকে পথচারীর রাস্তায় নামা বা পার্কিং থেকে গাড়ি বের হওয়া) সতর্কতার সাথে ২-৩ বার নির্দিষ্ট ব্যবধানে ক্লিক করা।
৩. ভাষার বাধা দূর করে মাতৃভাষায় কনসেপ্ট বুঝুন
জটিল ইংরেজি ট্রাফিক টার্মগুলো ঠিকমতো না বুঝে মুখস্থ করলে পরীক্ষার হলে কনফিউশন তৈরি হতে পারে। তাই যেকোনো কঠিন নিয়ম আগে নিজের বোঝার সুবিধার্থে বাংলা ভাষায় বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। এই বিষয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে ও নিখুঁতভাবে কনসেপ্ট ক্লিয়ার করতে সহজ বাংলায় ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট গাইড-এর মতো বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।
৪. আসল পরীক্ষার সফটওয়্যারে মক টেস্ট দিন
শুধু বই পড়ার চেয়ে কম্পিউটারে বা মোবাইল অ্যাপে আসল পরীক্ষার টাইমার ও ইন্টারফেসের সাথে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। প্রতি সপ্তাহে ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্র্যাকটিস করার পর পুরো সিলেবাসের ওপর ৫-১০টি আনলিমিটেড মক টেস্ট দিন এবং প্রতিবার ৯০%-এর বেশি মার্কস অর্জন নিশ্চিত করার পর ফাইনাল টেস্টের তারিখ বুক করুন।
পরীক্ষার দিন যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
- দেরিতে পৌঁছানো: পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১৫ মিনিট আগে নির্ধারিত টেস্ট সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে। দেড়ি করলে সেন্টারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং ফি বাজেয়াপ্ত হয়।
- মূল নথি ভুলে যাওয়া: আপনার ভ্যালিড ফটোকার্ড প্রভিশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (Provisional Driving License) অবশ্যই সাথে নিতে হবে। এটি ছাড়া পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
- তাড়াহুড়ো করে উত্তর দেওয়া: প্রতিটি প্রশ্নের জন্য প্রায় ১ মিনিট সময় পাওয়া যায়। তাই তাড়াহুড়ো না করে প্রশ্ন ও অপশনগুলো ঠান্ডা মাথায় পড়ে উত্তর চিহ্নিত করুন।
শেষ কথা
ইউকে ড্রাইভিং থিওরি টেস্ট মোটেও কোনো জটিল পরীক্ষা নয়, যদি আপনার কাছে সঠিক রোডম্যাপ এবং কনসেপ্ট ক্লিয়ার থাকে। সঠিক নিয়মে অনুশীলন করুন, ২০২৬ সালের আপডেটেড নিয়মগুলো অনুসরণ করুন এবং আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স অর্জনের স্বপ্ন পূরণ করুন।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / জীবনযাপন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:৩০ (বিএসটি)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান প্রতিবেদন: “ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল”—কিংবদন্তি সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের এই চরণটি কাল্পনিক সাহিত্যেই মানায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমাদের হাতের স্মার্টফোনের সাদা কিংবা স্বচ্ছ কভারটির ক্ষেত্রে ঠিক এই ঘটনাটিই ঘটে চলেছে প্রতিদিন। নতুন কেনা একটি ধবধবে সাদা বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কভার কিছুদিন ব্যবহার করলেই গিরগিটির মতো রং বদলে লালচে, হলদেটে কিংবা বাদামী বর্ণ ধারণ করে।
অধিকাংশ মানুষ এটিকে কেবল বাইরের ধুলোবালি বা ময়লা মনে করলেও, রসায়নবিদরা বলছেন ভিন্ন কথা। এটি কোনো সাধারণ ময়লা নয়, বরং প্লাস্টিকের ভেতরের রাসায়নিক কাঠামোর এক স্থায়ী অবক্ষয়।

১. কভারের রং বদলানোর নেপথ্যে ৪টি মূল বৈজ্ঞানিক কারণ

স্মার্টফোনের অধিকাংশ কভার তৈরি হয় থার্মোপ্লাস্টিক পলিইউরিথেন (TPU) বা বিশেষ সিলিকন পলিমার দিয়ে। এই পলিমারটি প্রাকৃতিকভাবে বর্ণহীন বা সাদা দেখালেও ব্যবহারের সাথে সাথে চারটি প্রক্রিয়ায় এর অবক্ষয় ঘটে:
[ পলিমার অবক্ষয়ের কারণসমূহ ]
│
┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ সূর্যালোক ও ফটো-অক্সিডেশন ] [ থার্মাল ডিগ্রেডেশন (তাপ) ] [ স্কিন তেল ও রাসায়নিক বিক্রিয়া ]
• সূর্যের UV Rays অ্যারোমেটিক রিং ভেঙে • প্রসেসর ও ব্যাটারির তাপে • ত্বকের সিবাম, ফ্যাটি অ্যাসিড ও
কার্বনিল গ্রুপের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। পলিমারের আণবিক বন্ধন দুর্বল হয়। ঘাম কভারের রন্ধ্রে শোষিত হয়।
- ফটো-অক্সিডেশন (Photo-Oxidation): বাতাসের অক্সিজেন এবং সূর্যালোকের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির উপস্থিতিতে TPU-এর ভেতরের অ্যারোমেটিক রিং ফোটো-অক্সিডেশনের শিকার হয়। ফলে কভারে কার্বনিল গ্রুপের ঘনত্ব বেড়ে হালকা লালচে বা হলদেটে ভাব ফুটে ওঠে।
- থার্মাল ডিগ্রেডেশন (তাপের প্রভাব): ফোন অতিরিক্ত চার্জে রাখা বা টানা গেম খেলার সময় প্রসেসর ও ব্যাটারি যে তাপ উৎপন্ন করে, তা প্লাস্টিকের আণবিক চেইনকে দুর্বল করে দেয়।
- হাইড্রোলাইসিস ও আর্দ্রতা: পরিবেশের জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার সংস্পর্শে এলে পলিমারের গঠনে স্থায়ী পরিবর্তন আসে।
- ত্বকের ক্ষতিকর লিপিড: হাতের তালুর ঘাম, ত্বকের প্রাকৃতিক তেল (Sebum), প্রসাধনী এবং পারফিউমের বিভিন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক সহজে শুষে নেয়।
২. এটি কি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

বিজ্ঞানীদের মতে, প্লাস্টিকের এই রং পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি একটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাবর্তনীয় প্রক্রিয়া (Irreversible Process)।
যেহেতু এটি কোনো বাহ্যিক আস্তরণ নয়, বরং পলিমার চেইনের ভেতরের অবক্ষয়, তাই ব্যবহৃত কভারকে কখনোই ১০০% আগের মতো নতুন বা ধবধবে সাদা করা সম্ভব নয়। তবে কভারের উপরিভাগের তেল-ময়লা এবং প্রাথমিক অক্সিডেশনের স্তর আলগা করে এর লালচে ভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
৩. লালচে ভাব কমানোর ঘরোয়া বৈজ্ঞানিক প্রতিকার
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কভারের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে নিচের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে:
| উপাদান | কাজ করার বৈজ্ঞানিক নীতি | ব্যবহার প্রণালী |
| হাইড্রোজেন পারক্সাইড (H₂O₂) | ব্লিচিং প্রক্রিয়া: এটি প্লাস্টিকের বিকৃত হয়ে যাওয়া ‘ক্রোমফোরস’-এর সাথে বিক্রিয়া করে সেটিকে বর্ণহীন করে। | কভারটি পারক্সাইড দ্রবণে ডুবিয়ে কয়েক ঘণ্টা কড়া রোদে রেখে দিতে হবে। |
| বেকিং সোডা ও লেবুর রস | অ্যাব্রেসিভ ও সাইট্রিক অ্যাসিড: এটি উপরিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত অক্সিডাইজড স্তর আলগা করে। | সোডা ছিটিয়ে লেবুর টুকরো দিয়ে ১০-১৫ মিনিট আলতোভাবে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। |
| আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল | সলভেন্ট (দ্রাবক): কভারে জমে থাকা কঠিন তৈলাক্ত লিপিড ও সিবামের বন্ধন সহজে ভেঙে দেয়। | একটি নরম তুলোয় অ্যালকোহল নিয়ে আঠালো ও লালচে অংশ ভালো করে মুছে নিতে হবে। |
সম্পাদকীয় সতর্কতা: কভার পরিষ্কার করার সময় ভুলভূলেও অতিরিক্ত ফুটন্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না। এতে প্লাস্টিক বা সিলিকনের পলিমার স্ট্রাকচার ঢিলে হয়ে কভারটির আকৃতি স্থায়ীভাবে বিকৃত হয়ে যেতে পারে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ |
বিশেষ প্রযুক্তি প্রতিনিধি প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে বিশ্বব্যাপী এআই আধিপত্যের দৌড়ে টিকে থাকতে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (Alphabet Inc.) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বীয় গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে এআই মডেলের বাণিজ্যিকীকরণ, জেমিনির বিকাশ এবং দ্রুত প্রোডাক্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

একদিকে ডিপমাইন্ডের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও তিন দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শীর্ষ চার বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ, অন্যদিকে গুগলের ফ্ল্যাগশিপ এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’ (Gemini)-এর ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিশ্বে এক বিশাল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
১. শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন: বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে ক্ষমতা স্থানান্তর

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক ঘোষণায় ডিপমাইন্ড এবং জেমিনি ডেভেলপমেন্টের নতুন নেতৃত্ব কাঠামো প্রকাশ করেন:
- ডেমিস হাসাবিস (Demis Hassabis): নোবেলজয়ী এই খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও পদ এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে ডিপমাইন্ডের চেয়ারপারসন এবং অ্যালফাবেটের ‘চিফ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ফ্রন্টিয়ার এআই এবং এজিআই (AGI) স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করবেন।
- কোরাই কাভুকচুওগ্লু (Koray Kavukcuoglu): ডিপমাইন্ডের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং বাণিজ্যিকীকরণে সফল কাভুকচুওগ্লুকে ডিপমাইন্ডের নতুন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (SVP) করা হয়েছে। জেমিনি মডেল ডেভেলপমেন্ট ও এআই অ্যাপের সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
- সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিনের উপস্থিতি: গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন সক্রিয়ভাবে ডেভেলপমেন্ট টিমের পাশে বসে সরাসরি নজরদারি বাড়িয়েছেন এবং জেমিনি মডেলের দ্রুত আপডেটে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
২. জেফ ডিনের গুগল ত্যাগ এবং নতুন স্টার্টআপ ‘ডিসকভারি লুপ’

গুগলের প্রায় ২৭ বছরের পুরনো মূল প্রযুক্তি কাঠামোর প্রধান স্থপতি ও চিফ সায়েন্টিস্ট জেফ ডিন (Jeff Dean)-এর আকস্মিক বিদায় পুরো টেক বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ডিনের সাথে একযোগে গুগল ছেড়েছেন সিনিয়র ফেলো সঞ্জয় ঘেমাওয়াত, ভিপি ওরিওল ভিনিয়ালস এবং কোয়াক লে।
[ চার শীর্ষ বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ ]
│
▼
[ নতুন স্টার্টআপ: 'Discovery Loop' (PBC) ]
│
┌─────────────────────────┴─────────────────────────┐
▼ ▼
[ উদ্দেশ্য: বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে এআই-এর প্রয়োগ ] [ অ্যালফাবেট: প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী ও ক্লাউড পার্টনার ]
কেন এই বিদায়?
গুগল যখন চ্যাটবটের বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাজস্ব বাড়ানোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছিল, তখন এই বিজ্ঞানীরা এআই-এর মাধ্যমে মেডিসিন, সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার কাজে পূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তারা সবাই মিলে গঠন করেছেন পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন ‘ডিসকভারি লুপ’ (Discovery Loop)।
তবে এই বিচ্ছেদ কোনো দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। অ্যালফাবেট নিজেই এই নতুন স্টার্টআপের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এবং গুগল ক্লাউড কম্পিউটিং সাপোর্ট দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করেছে।
৩. বিশ্বরেকর্ড: জেমিনির ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) সক্রিয় ব্যবহারকারী

অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত রদবদলের মধ্যেই ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুন্দর পিচাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, গুগল জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (MAU) বিশ্বরেকর্ড অতিক্রম করেছে। এটি গুগলের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া এবং জিমেইল, ইউটিউব বা অ্যানড্রয়েডের পর ১৪তম বিলিয়ন-ইউজার প্রোডাক্ট।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের এক নজরে:
- আইওএস (iOS) ব্যাকবোন: অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের বাইরে কেবল অ্যাপল (iOS) ডিভাইসেই জেমিনির ব্যবহারকারী ১০ কোটির বেশি।
- গুগল সার্চ ও এআই ওভারভিউ: গুগলের ‘AI Overviews’ ফিচারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিশ্বের প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে জেমিনির এআই সুবিধা পাচ্ছেন।
- বাণিজ্যিক সফলতা: বিশ্বের ২,৮০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে জেমিনি এন্টারপ্রাইজের ৮০ লাখের বেশি পেইড সিট বিক্রি হয়েছে।
৪. ব্যবহারকারীরা যেভাবে জেমিনি ব্যবহার করছেন

গুগল কিওয়ার্ড ব্লগে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে:
- ভয়েস কমান্ডের প্রাধান্য: প্রায় ৬৩% ব্যবহারকারী এখন সরাসরি টাইপ না করে জেমিনি লাইভের মাধ্যমে কথা বলে কাজ সারছেন।
- ইমেজ জেনারেশন: জেমিনি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বে প্রতিদিন ১৫ কোটিরও বেশি ছবি তৈরি হচ্ছে।
- লাইভ ক্যামেরা সমাধান: প্রতি ৫টি ইন্টারঅ্যাকশনের ১টিতে ব্যবহারকারীরা সরাসরি মোবাইল ক্যামেরা বা স্ক্রিন শেয়ার করে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও সাইটেশন তালিকা:
- **** অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ ও ডিপমাইন্ড লিডারশিপ স্টেটমেন্ট (প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬)।
- **** দ্য ভার্জ ও টেকক্রাঞ্চ রিপোর্ট: জেফ ডিন ও সিনিয়র ফেলোদের নতুন এআই ইনিশিয়েটিভ ‘ডিসকভারি লুপ’ (প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬)।
- **** গুগল কিওয়ার্ড ব্লগ ও সিইও সুন্দর পিচাইয়ের বিবৃতি: জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মাইলফলক (প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬)।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাক
“বিদ্রোহী” কিংবা “সাম্যবাদী” পরিচয়ের বাইরে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এতটাই বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় যে, সাধারণ কোনো ফ্রেমে তাঁকে বন্দি করা অসম্ভব। আমরা তাঁকে চিনি আমাদের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে, অনুধাবন করি তাঁর অগ্নিঝরা কবিতার শক্তি। কিন্তু পর্দার নেপথ্যে নারদমুনির বেশে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়, ফুটবল মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের হয়ে উল্লাস কিংবা সপ্তাহের নির্দিষ্ট একদিনের নীরব মৌনব্রতের কথা কজনই বা জানেন?
ইতিহাসের পাতা ও নজরুল গবেষকদের অনুসন্ধানে বিদ্রোহী কবির জীবনের এমন কিছু চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে, যা সাধারণ পাঠকের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে।
১. আইনি জটিলতার অবসান: এখন তিনি দাপ্তরিকভাবেও ‘জাতীয় কবি’
দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে গণমানুষের হৃদয়ে ও পাঠ্যপুস্তকে ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে পরিচিত থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট ছিল না। অবশেষে ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি ঐতিহাসিক গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের ‘জাতীয় কবি’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
উক্ত গেজেটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের ২৪ মে (কবির সপরিবারে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে আগমনের দিন) থেকেই এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাটি ভূতাপেক্ষভাবে (Retroactively) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে নজরুলের জাতীয় কবির খেতাব সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের দাপ্তরিক অস্পষ্টতার চিরসংগ্রাম শেষ হয়।
২. রূপালি পর্দায় অল-রাউন্ডার নজরুল: পরিচালক, অভিনেতা ও ‘সুর ভাণ্ডারি’

১৯৩১ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত কলকাতার চলচ্চিত্রে নজরুল একাধারে সফল অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন:
[ নজরুল: টকি সিনেমার স্বর্ণযুগ (১৯৩১-১৯৪২) ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ অভিনয় ] [ পরিচালনা ] [ সংগীত ]
• 'ধ্রুব' (১৯৩৪): নারদ চরিত্র • সত্যেন্দ্রনাথের সাথে যৌথভাবে • 'জামাই ষষ্ঠী'-তে সুর ভাণ্ডারি
• 'পাতালপুরী': খনি শ্রমিক 'ধ্রুব' চলচ্চিত্র পরিচালনা • 'গোরা', 'বিদ্যাপতি', 'সাপুড়ে'
• 'হাল বাংলা': রসাত্মক চরিত্র • 'বেঙ্গল টাইগার পিকচার্স'-এর প্রধান ছবিতে বিখ্যাত কালজয়ী সুর
- দেবর্ষি নারদ চরিত্রে আত্মপ্রকাশ: ১৯৩৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধ্রুব’ চলচ্চিত্রে নজরুল স্বয়ং ‘নারদ’ চরিত্রে অভিনয় করেন। কেবল অভিনয়ই নয়, এই ছবির ১৮টির মধ্যে ১৭টি গান তাঁর লেখা ছিল এবং তিনি নিজে ৪টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন।
- সুর ভাণ্ডারি: ১৯৩১ সালে নির্মিত প্রথম বাংলা সবাক ছবি ‘জামাই ষষ্ঠী’-তে সুরকার ও গায়কদের উচ্চারণ শুধরে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করায় তাঁকে সেসময় চলচ্চিত্র পাড়ায় ‘সুর ভাণ্ডারি’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘গোরা’ (১৯৩৮) সিনেমার সংগীতেও তাঁর সুরের জাদুকরী ছোঁয়া ছিল।
৩. লাল-হলুদ ব্রিগেডের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক
আজকের ফুটবল উন্মাদনার বহু আগেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর অন্ধ ভক্ত। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার পাশাপাশি ১৯৩৪ সালে ইস্টবেঙ্গল দল যখন আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ওঠে, তখন প্রিয় ক্লাবের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উৎসাহ দিতে তিনি একটি উদ্দীপনামূলক গানও রচনা করেছিলেন।
৪. সুস্থ অবস্থাতেও বৃহস্পতিবারের ‘মৌনব্রত’
জীবনের শেষ ৩৪টি বছর নজরুল ‘পিকস ডিজিজ’ (Pick’s Disease) নামের স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে নির্বাক কাটিয়েছেন। তবে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী ও কবি পরিবারের স্মৃতি থেকে জানা যায়—নজরুল যখন শতভাগ সুস্থ ও চঞ্চল ছিলেন, তখনও তিনি আধ্যাত্মিক চর্চার অংশ হিসেবে সপ্তাহে একদিন (বৃহস্পতিবার) সম্পূর্ণ নীরব বা মৌনব্রত পালন করতেন। এই দিনটিতে তিনি কারো সাথে কথা বলতেন না।
৫. আসানসোলের রুটির দোকান থেকে ময়মনসিংহের স্কুল

আমাদের জাতীয় কবির প্রতিভা বিকাশের নেপথ্যে অন্যতম অবদান ছিল এক পুলিশ অফিসারের। আসানসোলের রুটির দোকানে কাজ করা কিশোর নজরুলের অসাধারণ মেধা লক্ষ্য করে দারোগা কাজী রফিজ উদ্দিন তাঁকে নিজ দায়িত্বে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে এনে ভর্তি করিয়ে দেন।
পরবর্তীতে ১৯১৭ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নজরুল ‘৪৯তম বাঙালি ব্যাটালিয়ন’-এর সৈনিক হিসেবে করাচি সেনানিবাসে যোগ দেন এবং পদোন্নতি পেয়ে ‘হাবিলেদার’ পদে উন্নীত হন।
৬. রবীন্দ্রনাথের সেই ঐতিহাসিক অনশন ভাঙার বার্তা
১৯২৩ সালে রাজনৈতিক কারণে হুগলি জেলে বন্দী থাকাকালীন ব্রিটিশদের অন্যায়ের প্রতিবাদে নজরুল টানা ৩৯ দিন আমরণ অনশন করেন। কবির সংকটাপন্ন অবস্থা দেখে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং থেকে টেলিগ্রাম পাঠিয়েছিলেন:
“GIVE UP HUNGER STRIKE. OUR LITERATURE CLAIMS YOU.”
ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ চরম হীনম্মন্যতার পরিচয় দিয়ে টেলিগ্রামটির গায়ে “Addressee not found” লিখে ফেরত পাঠায়। পরবর্তীতে মাতৃসম বিরজাসুন্দরী দেবী জেলে গিয়ে লেবুর রস খাইয়ে কবির অনশন ভাঙান।
৭. অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক
১৯২৮ সালে রচিত তাঁর ‘চল চল চল’ গানটি স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর অফিশিয়াল রণসঙ্গীত (National Marching Song) হিসেবে সংরক্ষিত। তিনি একদিকে যেমন লিখেছিলেন ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে’, তেমনি অন্য হাতে সৃষ্টি করেছিলেন ৫০০-র বেশি কালজয়ী ‘শ্যামাসঙ্গীত’ ও ভজন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার লালন করতেই তিনি নিজের সন্তানদের নাম রেখেছিলেন দুই ধর্মের সংস্কৃতির সমন্বয়ে—’কাজী কৃষ্ণ মোহাম্মদ’ এবং ‘কাজী অনিরুদ্ধ’।
সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
- সরকারি প্রজ্ঞাপন দাপ্তরিক কপি: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় গেজেট (২৪ ডিসেম্বর ২০২৪)।
- জাতীয় আর্কাইভ ও নজরুল ইনস্টিটিউট: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মসংকলন।
- চলচ্চিত্র ইতিহাস গ্রন্থ: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিবৃত্ত ও কাজী নজরুল ইসলাম (বাংলা একাডেমি প্রকাশনা)।
- স্মৃতিগ্রন্থ: মোস্তফা জামান আব্বাসী লিখিত নজরুলের স্মৃতিকথা।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



