অনলাইনে আয়
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার গুগল ক্রোমের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক নতুন একটি ব্রাউজার উন্মোচন করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেন-এআই। গত সপ্তাহেই বাজারে আসা এই ব্রাউজারটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাটলাস’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়ানো এবং দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আরও বেশি লাভ তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
অ্যাটলাসের মূল বৈশিষ্ট্য: চ্যাটজিপিটি কেন্দ্রে
অ্যাটলাসের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্রাউজিং অভিজ্ঞতায় এআইকে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত করা। ওপেন-এআইয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের ভাষ্যে, প্রচলিত অ্যাড্রেস বার সরিয়ে এই ব্রাউজারটি ‘চ্যাটজিপিটিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে’।
- সাইড বার ফিচার: ব্যবহারকারীরা যেকোনো ওয়েব পেজে চ্যাটজিপিটির সাইড বার খুলতে পারবেন। এর মাধ্যমে তারা বিষয়বস্তু সংক্ষিপ্ত করতে, বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে তুলনা করতে বা দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন।
- এজেন্ট মোড (অর্থের বিনিময়ে): অর্থের বিনিময়ে ‘এজেন্ট মোড’ কেনার সুযোগ রয়েছে। এই মোড চ্যাটজিপিটিকে ব্যবহারকারীর হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে। যেমন, এটি ওয়েবসাইট অনুসন্ধান, তথ্য আদান-প্রদান, এমনকি ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি বা অনলাইনে কেনাকাটার মতো জটিল কাজগুলোও পরিচালনা করে দেবে।
- স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পন্ন করা: গত মঙ্গলবার ওপেন-এআইয়ের ডেভেলপাররা দেখিয়েছেন, অ্যাটলাস কীভাবে একটি রান্নার রেসিপি খুঁজে নিয়ে ইন্সটাকার্টের মাধ্যমে সেই রেসিপির প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনে নিতে পারে।
ওপেন-এআই ইতোমধ্যে এটসি, শপিফাইয়ের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং এক্সপেডিয়া, বুকিং ডটকমের মতো ভ্রমণ সেবাদানকারী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্ব ঘোষণা করেছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের ইন্সটিটিউট অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রধান অধ্যাপক এলেনা সিমপার্ল অ্যাটলাসকে ‘সুবিধাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। কারণ এতে বিভিন্ন লিংকে না গিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্তসার পাওয়া যায়।
ডেটা সংগ্রহ, ঝুঁকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
অ্যাটলাসকে কাজে লাগিয়ে ওপেন-এআই ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবে, যা ব্যবহারকারীর অনলাইন জীবনের আরও গভীরে প্রবেশ করার সুযোগ করে দেবে। কিন্তু এই গভীরতা ডেটা সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
- নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রশ্ন: অধ্যাপক সিমপার্ল সতর্ক করে বলেছেন, অ্যাটলাসের তৈরি করা সংক্ষিপ্তসারের নির্ভুলতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক চ্যাটবটে যে সমস্যাটি আছে তা হল—নতুন ধরনের এআই ব্রাউজারটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইটের নির্দেশনা আর অনির্ভরযোগ্য সূত্রের লেখার মধ্যে আসলে পার্থক্য করতে পারে না।”
- গোপনীয়তার উদ্বেগ: অধ্যাপক সিমপার্ল সরাসরি বলেন, “আমরা অনেক ব্যক্তিগত তথ্য প্রম্পট হিসেবে দিচ্ছি যা ব্রাউজিং হিস্ট্রিতে থাকছে, সেটি এমন একটি কোম্পানির হাতে যাচ্ছে যে কোম্পানিটির মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা এবং আমাদের ডেটা সুরক্ষিত রাখার প্রমাণিত কোনো রেকর্ড নেই।” তিনি ব্যবহারকারীদের এটি ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
- সুরক্ষা ব্যবস্থা: ওপেন-এআই জানিয়েছে, অ্যাটলাসে সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে ব্রাউজারটি কোড চালাতে, ফাইল ডাউনলোড করতে বা অন্যান্য অ্যাপে যেতে পারবে না এবং ব্যাংকের মতো সংবেদনশীল সাইটে থেমে যাবে।
- ঝুঁকি স্বীকার: ওপেন-এআই স্বীকার করেছে যে, এজেন্ট ফিচারটি ব্যবহারকারীর হয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে, যা এখনও ঝুঁকির কারণ। ভুল বা ক্ষতিকর নির্দেশনা ওয়েবপেজ বা ইমেইলে লুকিয়ে থাকতে পারে, যা অনিচ্ছাকৃত পদক্ষেপ বা ডেটা চুরি ঘটাতে পারে।
- ব্রাউজার মেমোরি: অ্যাটলাসে একটি ঐচ্ছিক ‘ব্রাউজার মেমোরি’ ফিচার রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং ইতিহাস মনে রাখে এবং সার্চের বিবরণ সংক্রান্ত প্রম্পট দেওয়া হলে তা হাজির করে দেয়।
গুগল ক্রোমের আধিপত্যের ওপর চ্যালেঞ্জ
গবেষণা প্রতিষ্ঠান দাতোস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ডেস্কটপ ব্রাউজারে প্রায় ৫.৯৯% অনুসন্ধান এলএলএম-এর মাধ্যমে হয়েছে, যা এক বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ব্যবহারকারীরা এখন কি-ওয়ার্ডভিত্তিক ফলাফলের চেয়ে আলাপচারিতার টুলগুলোর দিকে বেশি ঝুঁকছেন, যা তথ্যকে সমন্বিতভাবে হাজির করে।
যদিও গুগলও এআইতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এবং গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য তাদের জেমিনি এআই মডেলকে ক্রোমের সাথে সমন্বয় করেছে।
- বাজার দখল: স্ট্যাট কাউন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক ব্রাউজিং মার্কেটের ৭১.৯% এখনও গুগলের ক্রোমের দখলে।
- বিশ্লেষকদের মত: মুর ইনসাইট ও স্ট্র্যাটেজির সিইও প্যাট মুরহেড মনে করেন, অ্যাটলাস প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে যাচাই হবে, কিন্তু ক্রোম বা মাইক্রোসফট এজের মতো বড় ব্রাউজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা তার জন্য কঠিন হবে।
- বিজ্ঞাপনের প্রতিযোগিতা: আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি ডি. এ. ডেভিডসনের বিশ্লেষক গিল লুরিয়া মনে করেন, ব্রাউজারে চ্যাট ফিচার সংযুক্ত করা বিজ্ঞাপন বিক্রি শুরুর পূর্ববর্তী ধাপ। যদি ওপেন-এআই একবার বিজ্ঞাপন বিক্রি করা শুরু করে, তবে তা গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনের (যেখানে গুগলের দখলে ৯০%) বড় অংশ দখল করতে পারে।
ওপেন-এআইয়ের এই নতুন ব্রাউজারটি গুগলকে অনলাইন সার্চ বা অনুসন্ধানে অবৈধ একচেটিয়া একাধিপত্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার এক বছর পর চালু হলো।
কখন ও কোথায় পাওয়া যাবে?
চ্যাটজিপিটি অ্যাটলাস বর্তমানে অ্যাপলের ম্যাক (কম্পিউটার) অপারেটিং সিস্টেমের ফ্রি, প্লাস, প্রো ও গো ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন। এটি বিজনেসের জন্য বেটা সংস্করণেও পাওয়া যাচ্ছে। ওপেন-এআই জানিয়েছে, উইন্ডোজ, অ্যাপল অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যান্ড্রয়েডের জন্য এটি পরে চালু করা হবে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): বিজ্ঞান, আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
প্রকাশের তারিখ: ১০ অক্টোবর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): CERN Physics Research, Special Relativity Archives, এবং জার্নাল অব পার্টিকেল ফিজিক্স।
হ্যাঁ, আইনস্টাইনের \(E=mc^2\) সমীকরণ অনুযায়ী শক্তি থেকে ভর তৈরি করা সম্পূর্ণ সম্ভব। ভর এবং শক্তি মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ; একটিকে অন্যটিতে রূপান্তর করা যায়।
কীভাবে শক্তি থেকে ভর তৈরি হয়?
- জোড় উৎপাদন (Pair Production): পর্যাপ্ত শক্তিযুক্ত কোনো উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) যখন কোনো ভারী নিউক্লিয়াসের পাশ দিয়ে যায়, তখন সেই ফোটনের শক্তি সরাসরি রূপান্তরিত হয়ে একটি ইলেকট্রন এবং একটি পজিট্রন (ইলেকট্রনের প্রতিকণা বা অ্যান্টি-পার্টিকেল) তৈরি করে। অর্থাৎ, বিশুদ্ধ শক্তি থেকে এখানে ভরবিশিষ্ট কণার জন্ম হয়।
- কণা ত্বরক যন্ত্র (Particle Accelerators): লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের (LHC) মতো যন্ত্রে দুটি প্রোটনকে আলোর কাছাকাছি গতিতে মুখোমুখি ধাক্কা লাগালে বিপুল গতিশক্তি উৎপন্ন হয়। এই গতিশক্তির একটা অংশ তখন ভরসম্পন্ন নতুন কণা (যেমন: হিগস বোসন) তৈরিতে ব্যয় হয়।
- মহাবিশ্বের সৃষ্টি (Big Bang): বিগ ব্যাংয়ের ঠিক পরপর মহাবিশ্ব জুড়ে কেবল প্রচণ্ড শক্তির একটি আধার ছিল। সেই বিশুদ্ধ শক্তি থেকেই ধীরে ধীরে আজকের পরিচিত সমস্ত ভর বা পদার্থ (কোয়ার্ক, ইলেকট্রন, প্রোটন ইত্যাদি) তৈরি হয়েছে।
১. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া ও পারমাণবিক বোমার ক্রিয়াকৌশল

১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন প্রজেক্টে বিজ্ঞানী জে. রবার্ট ওপেনহাইমারের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ট্রিনিটি টেস্ট’ থেকে শুরু করে হিরোশিমা ও নাগাসাকির ট্র্যাজেডি—সবকিছুর নেপথ্যে ছিল ভরকে নিয়ন্ত্রিত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে শক্তিতে রূপান্তর করার মেকানিজম।
- ইউরেনিয়াম-২৩৫ ও গান থিওরি (Gun Method): হিরোশিমাতে ফেলা ‘লিটল বয়’ বোমায় ইউরেনিয়াম-২৩৫ ব্যবহার করা হয়। নিউক্লিয়ার চেইন রিয়্যাকশন বা শিকল বিক্রিয়া শুরু করতে একটি নির্দিষ্ট ভরের প্রয়োজন হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ক্রিটিক্যাল মাস (Critical Mass) বলে। গান পদ্ধতিতে ইউরেনিয়ামের দুটি বিচ্ছিন্ন অংশকে তীব্র গতিতে আঘাত করিয়ে ক্রিটিক্যাল মাস অর্জনের মাধ্যমে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল।
- প্লুটোনিয়াম-২৩৯ ও ইমপ্লোশন মেকানিজম: নাগাসাকিতে ব্যবহৃত ‘ফ্যাট ম্যান’ বোমায় প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করা হয়। এটি অতিমাত্রায় সক্রিয় হওয়ায় বন্দুকের মতো আঘাত করার আগেই বিক্রিয়া শুরুর আশঙ্কা ছিল। তাই একে চারপাশ থেকে বিস্ফোরক দিয়ে ঘিরে ভেতরে চাপ সৃষ্টি করে (Implosive Compression) অতি দ্রুত চেইন রিয়্যাকশন তৈরি করা হয়।
২. এমন কোনো শক্তি আছে কি, যা $E=mc^2$ মেনে চলে না?

পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বে এমন কোনো শক্তি বা বস্তু নেই যা আইনস্টাইনের এই সূত্র অমান্য করে।
আলোর কণা বা ফোটনের নিজস্ব কোনো স্থির ভর (Rest Mass, $m=0$) না থাকলেও আপেক্ষিকতার সমন্বিত সমীকরণ $E^2 = (pc)^2 + (mc^2)^2$ অনুযায়ী ফোটনের ভরবেগ ($p$) এবং গতিশক্তি থাকে। অর্থাৎ আলো বা ফোটনও আইনস্টাইনের ভরের সমতুল্যতা মেনে চলে।
৩. শক্তি থেকে ভর উৎপাদন: বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত

সাধারণ মানুষের কাছে ভর থেকে শক্তি তৈরির ধারণাটি পরিচিত হলেও, প্রশ্ন ওঠে—বিশুদ্ধ শক্তি থেকে কি আবার কঠিন ভর বা কণা তৈরি করা সম্ভব?
গবেষণা বলছে, উত্তর হলো হ্যাঁ, এবং এটি ল্যাবরেটরিতে ইতিমধ্যেই প্রমাণিত!
[বিশুদ্ধ গামা রশ্মি / আলো] ➔ [ভারী নিউক্লিয়াসের সান্নিধ্য] ➔ [জোড় উৎপাদন (Pair Production)] ➔ [ইলেকট্রন ও পজিট্রন (ভর/পদার্থ)]
- জোড় উৎপাদন (Pair Production): কোয়ান্টাম ফিজিক্সে উচ্চ শক্তির গামা রশ্মি (যা মূলত শক্তি) যখন কোনো নিউক্লিয়াসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন তা বিলুপ্ত হয়ে একটি ইলেকট্রন এবং একটি পজিট্রন (কঠিন ভর বিশিষ্ট কণা) তৈরি করে।
- সার্ন (CERN)-এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার: সুইজারল্যান্ডের সার্নে প্রোটন কণাগুলোকে আলোর কাছাকাছি গতিতে আছড়ে ফেলে উৎপন্ন গতিশক্তিকে ঘনীভূত করে হিগস বোসনের মতো নতুন ভর ও কণিকায় রূপান্তরিত করা হয়।
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
আইনস্টাইনের $E=mc^2$ হলো ভর ও শক্তির মধ্যকার রূপান্তরের সর্বজনীন নিয়ম। পারমাণবিক বোমার মাধ্যমে ভরকে শক্তিতে পরিণত করার পাশাপাশি আধুনিক কণা পদার্থবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে মহাবিশ্বে শক্তিকেও আবার কঠিন ভরের কণিকায় রূপান্তর করা সম্ভব।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঢাকা, ৮ অক্টোবর ২০২৬:
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
তথ্যসূত্র (Sources): Cyber Security Awareness Guide, Interpol Privacy Guidelines, ও স্মার্টফোন সেন্সর অ্যানালিসিস।
প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ এবং ইন্টারনেট সংযোগের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমান যুগে উপার্জনের ধারণা আমূল বদলে গেছে। এক সময় ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন আয়ের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো দামি ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ কম্পিউটার। তবে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সেই ধারণা ভেঙে দিচ্ছে হাতের মুঠোয় থাকা একটি স্মার্টফোন। সঠিক কাজের দক্ষতা এবং কৌশল জানা থাকলে শুধুমাত্র একটি মোবাইল ব্যবহার করেই ঘরে বসে প্রতি মাসে ভালো অংকের টাকা আয় করা সম্ভব।
আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আলোচনা করা হলো এমন কিছু বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেশা সম্পর্কে, যা একজন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী অনায়াসেই শুরু করতে পারেন।

১. কন্টেন্ট রাইটিং ও ডিজিটাল সাংবাদিকতা
যোগাযোগের এই যুগে ভালো লেখার চাহিদার গ্রাফ সবসময় ঊর্ধ্বমুখী। যেকোনো ব্লগ, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যম কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের জন্য এখন প্রচুর পরিমাণে কন্টেন্ট রাইটারের প্রয়োজন হয়। স্মার্টফোনে Google Docs বা Microsoft Word-এর মতো অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রফেশনাল মান বজায় রেখেই যেকোনো আর্টিকেল, রিভিউ কিংবা স্ক্রিপ্ট লেখা সম্ভব। বিশেষ করে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ফেসবুক গ্রুপ বা ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
২. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও মডারেশন
ডিজিটাল যুগে ছোট-বড় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এখন অনলাইন নির্ভর। এসব প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম কিংবা টিকটক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার জন্য সার্বক্ষণিক লোক প্রয়োজন হয়। পেজের মেসেজের দ্রুত উত্তর দেওয়া, কাস্টমারদের সাথে পেশাদার উপায়ে কথা বলা, কমেন্ট মডারেট করা এবং নিয়মিত পোস্ট সিডিউল করার মতো কাজগুলো সম্পূর্ণ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই সুচারুভাবে করা সম্ভব। এটি বর্তমানে তরুণদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় একটি পার্ট-টাইম পেশা হিসেবে রূপ নিয়েছে।
৩. ক্যানভা (Canva) দিয়ে প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন
কম্পিউটার ছাড়া প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইন করা অসম্ভব—এই ধারণা ক্যানভা (Canva)-এর মতো শক্তিশালী মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অ্যাপটির রেডিমেড টেমপ্লেট ও টুলস ব্যবহার করে খুব সহজেই আকর্ষণীয় ফেসবুক পোস্ট, ব্যানার, ইউটিউব থাম্বনেইল, লোগো কিংবা ডিজিটাল ফ্লায়ার ডিজাইন করা যায়। স্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা অনলাইন শপের জন্য কাজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
৪. মোবাইল ভিডিও এডিটিং ও কন্টেন্ট ক্রিয়েশন (Shorts & Reels)
বর্তমানে ফেসবুক রিলস এবং ইউটিউব শর্টসের মতো ছোট ভিডিও কন্টেন্টের রিচ এবং ভিউ অনেক বেশি। আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে শিক্ষণীয়, তথ্যবহুল কিংবা বিনোদনমূলক কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন। আর এই ভিডিওগুলো এডিটিং করার জন্য কোনো ভারী সফটওয়্যারের প্রয়োজন নেই; ক্যাপকাট (CapCut) বা ইনশট (InShot)-এর মতো মোবাইল অ্যাপ দিয়েই প্রফেশনাল মানের ভিডিও এডিটিং করা যায়। চ্যানেল বা পেজের ফলোয়ার বাড়লে মনিটাইজেশন এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।
৫. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রিসেলিং ব্যবসা
বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং রিসেলিং। দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন দারাজ (Daraz) কিংবা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে পণ্যের লিংক নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে আয় করা যায়। এছাড়া বিভিন্ন হোলসেল প্ল্যাটফর্ম থেকে পণ্যের ছবি নিয়ে নিজস্ব ফেসবুক পেজে অর্ডার সংগ্রহ করে বাড়তি লাভে পণ্য বিক্রি করা (রিসেলিং) সম্ভব, যেখানে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ঝামেলা মূল কোম্পানির থাকে।
প্রতারণা থেকে সাবধান: বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
অনলাইন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল দিয়ে আয়ের সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রতারণার ফাঁদও। “বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে ইনকাম”, “টাকা ইনভেস্ট করে দৈনিক আয়ের গ্যারান্টি” কিংবা “ভিডিও দেখলেই ক্যাশব্যাক”—এই ধরনের লোভনীয় বিজ্ঞাপনগুলো শতভাগ ভুয়া এবং প্রতারণামূলক। কাজ শুরু করার আগে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ বা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ দাবি করে, তবে সেখান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিশেষে বলা যায়,শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোনকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে সঠিক কৌশল ও ধৈর্য্যের সাথে কাজে লাগালে এটি একটি চমৎকার আয়ের উৎস হতে পারে [০.৬.১২]। ডিজিটাল যুগে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার না থাকলেও শুধুমাত্র মেধা ও স্মার্টফোন দিয়ে ক্যারিয়ার গড়া এখন আর অবাস্তব কিছু নয়।
তবে মনে রাখতে হবে, অনলাইন জগতে সফলতার কোনো “শর্টকাট” বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার রাস্তা নেই।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
- প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
- বিভাগ (Category): ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার সিকিউরিটি ও ভ্রমণ সচেতনতা
- প্রকাশের তারিখ: ৬ অক্টোবর, ২০২৬
- তথ্যসূত্র (Sources): Cyber Security Awareness Guide, Interpol Privacy Guidelines, ও স্মার্টফোন সেন্সর অ্যানালিসিস।
অপরিচিত হোটেল রুম, ট্রাভেল রিসোর্ট কিংবা এয়ারবিএনবি (Airbnb)-তে থাকার সময় গোপন বা হিডেন ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগ থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে সামান্য সচেতনতা এবং নিজের সাথে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করেই গোপন ক্যামেরার মতো প্রযুক্তিগত হুমকি শনাক্ত করা সম্ভব।
১. খালি চোখে ও ম্যানুয়াল চেকের মাধ্যমে শনাক্তকরণ
রুমে প্রবেশ করেই প্রথম কাজ হলো সম্ভাব্য জায়গাগুলো ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা:
- সন্দেহজনক বস্তু পর্যবেক্ষণ: ঘরের স্মোক ডিটেক্টর, নাইটস্ট্যান্ড, আলোর বাল্ব, এসি বা টিভির রিমোট সেন্সর, দেয়াল ঘড়ি, টিভির ফ্রেমে থাকা ছোট ছিদ্র এবং সাউন্ড বক্সের গ্রিল ভালো করে দেখুন।
- বাথরুমের গোপন কোণ: শাওয়ার হেড, আয়নার ফ্রেম, তোয়ালে রাখার র্যাক এবং শাওয়ারের ড্রেন বা সিঙ্কের আশপাশ সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করুন।
- দ্বিমুখী আয়না (Two-Way Mirror) পরীক্ষা: বাথরুম বা ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় আঙুলের মাথা ঠেকান। যদি আপনার আঙুল এবং প্রতিচ্ছায়ার মধ্যে সামান্য ফাঁক থাকে, তবে তা সাধারণ আয়না। কিন্তু যদি ফাঁক না থেকে আঙুল সরাসরি প্রতিচ্ছায়া স্পর্শ করে, তবে এটি দ্বিমুখী গোপন আয়না হতে পারে।
২. স্মার্টফোনের সাহায্যে শনাক্ত করার কৌশল

আপনার হাতের স্মার্টফোনটি গোপন ক্যামেরা খুঁজে বের করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে:
[ঘরের লাইট সম্পূর্ণ বন্ধ করুন] ➔ [ফোন ক্যামেরা চালু করুন] ➔ [সন্দেহজনক স্থানে ইনফ্রারেড রেডিয়েশন চেক করুন]
- ইনফ্রারেড (Infrared) ক্যামেরা চেক:
- ঘরের সব লাইট বন্ধ করে দিন এবং পর্দা টেনে ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার করুন।
- ফোনের ফ্রন্ট বা রিয়ার ক্যামেরা চালু করে ঘরের চারপাশে ধীরে ধীরে ঘোরান।
- ক্যামেরার লেন্স অন্ধকার ঘরে ইনফ্রারেড আলো নির্গত করে, যা খালি চোখে দেখা না গেলেও ফোনের স্ক্রিনে বেগুনি বা সাদা উজ্জ্বল আলো হিসেবে দেখা যাবে।
- মোবাইল ফ্ল্যাশলাইটের ব্যবহার: ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সন্দেহজনক স্থানে আলো ফেলুন। ক্যামেরা লেন্সে গ্লাস থাকে বলে তা থেকে আলো প্রতিফলিত (Reflection) হয়ে চকচক করে উঠবে।
- ফোনের কল নেটওয়ার্ক পরীক্ষা: একটি ফোন কল চালু রেখে সন্দেহজনক সকেট বা অ্যাপ্লায়েন্সের কাছে ফোনটি ধরুন। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) ইন্টারফেয়ারেন্সের কারণে কলে খসখস শব্দ হলে সেখানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস থাকার সম্ভাবনা থাকে।
- হিডেন ক্যামেরা ডিটেক্টর অ্যাপস: Google Play Store বা App Store থেকে ‘Hidden Camera Detector’ অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারেন। এসব অ্যাপ ফোনের ম্যাগনেটোমিটার সেন্সর ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় ক্ষেত্র (EMF) পরিমাপ করে শব্দ সৃষ্টি করে।
৩. ক্যামেরা বা সন্দেহজনক কিছু পেলে করণীয়

| পদক্ষেপ | কী করবেন |
| ১. লেন্স ঢেকে দেওয়া | ক্যামেরা সরাতে না পারলে তোয়ালে, কাপড় বা টেপ দিয়ে লেন্স ও সেন্সর ঢেকে দিন। |
| ২. প্রমাণ সংগ্রহ | নিজের নিরাপত্তার জন্য পাওয়া ক্যামেরাটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখুন। |
| ৩. কর্তৃপক্ষকে জানানো | স্থানীয় হোটেল ডেস্কে অভিযোগ করুন এবং প্রয়োজনে ট্রাভেল পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিন। |
সংক্ষেপিত পর্যালোচনা
ভ্রমণে সচেতনতা ও সতর্কতা কেবল ভয় দূর করে না, বরং আপনার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখে। প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সামান্য চোখ-কান খোলা রাখলেই যেকোনো হিডেন ক্যামেরার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



