ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদনকারীর নাম:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রারম্ভিকা
বাংলা ভাষায় “চেয়ার” শব্দটি যে কতটা পরিচিত এবং জরুরি, তা আমরা সবাই জানি। তবে, আমরা অনেকেই জানি না যে, শব্দটির আদি রূপ ছিল কেদারা, যা পর্তুগিজ ভাষা থেকে বাংলায় এসেছে। আজ, এই প্রতিবেদনে আমরা বিস্তারিতভাবে জানব কিভাবে কেদারা থেকে চেয়ার রূপান্তরিত হয়েছে, এবং এর প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষায় ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষার কী প্রভাব পড়েছে। এছাড়াও, আমরা জানব কিভাবে বিদেশি ভাষাগুলির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে।
কেদারা থেকে চেয়ার: ইতিহাসের পাতায়
কেদারা শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রথম আসে পর্তুগিজ ভাষা থেকে। পর্তুগিজ ভাষার cadeira (চেয়ার) শব্দটি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে, বিশেষত যখন তারা ১৫শ-১৬শ শতকে উপমহাদেশে বাণিজ্য করতে আসতে শুরু করে। পর্তুগিজদের প্রথমে “কেদারা” শব্দটি ব্যবহার করা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে বাংলা ভাষায় প্রচলিত হয়।
কিন্তু, পরবর্তী সময়ে, ইংরেজরা উপমহাদেশে শাসন প্রতিষ্ঠার পর “চেয়ার” শব্দটি সাধারণ হয়ে ওঠে। ইংরেজদের শাসনকাল (১৭৫৭-১৯৪৭) ছিল বাংলায় ভাষাগত পরিবর্তনের অন্যতম যুগ। ইংরেজি ভাষার প্রচলন এবং ইংরেজদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সংযোগের কারণে “চেয়ার” শব্দটি বাংলায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতে শুরু করে, এবং কেদারা শব্দটি ধীরে ধীরে পিছনে চলে যায়। তবে, কেদারা শব্দটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, এবং এখনও “আরাম কেদারা” (ইজি চেয়ার) হিসেবে এটি ব্যবহার হচ্ছে।
ভাষাগত পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে যে নানা ভাষার প্রভাব রয়েছে, তা বিশেষভাবে পর্তুগিজ, ফার্সি, আরবি, এবং তুর্কি ভাষার মাধ্যমে এসেছে। চেয়ার বা কেদারা এর মতো আরো অনেক শব্দ পর্তুগিজ থেকে বাংলায় প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে আনারস, পাউরুটি, জিনিস, কামিজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এগুলি বাংলা ভাষার একটি অমূল্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেগুলি আজও আমরা প্রতিদিন ব্যবহার করি।
ইংরেজদের আগমনের পর, তারা ভারতের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও প্রভাব ফেলেছিল। চেয়ার শব্দটির ব্যবহার আমাদের আধুনিক জীবনে এমনভাবে ঢুকে গিয়েছে, যে এটি এখন ঘরের প্রতিটি কোণায় একটি অপরিহার্য বসার আসন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আর, পর্তুগিজদের দ্বারা প্রথম আনা কেদারা শব্দটি আজও বাংলা ভাষার ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের একটি অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে।
কেদারা ও চেয়ারের পরিবর্তন: একটি ভাষাগত বিবর্তন
বিভিন্ন ভাষার প্রভাবে যেমন ইংরেজি, ফার্সি, তুর্কি এবং আরবি, বাংলায় বিভিন্ন শব্দের সংমিশ্রণ ঘটেছে। কেদারা থেকে চেয়ার এ পরিবর্তন একটি ভাষাগত প্রক্রিয়া যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষা সংমিশ্রণের একটি দৃষ্টান্ত।
এটি দেখায় যে, ভাষাগত পরিবর্তনগুলি কেবল শব্দের পরিবর্তন নয়, বরং একটি দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। একসময় যেখানে কেদারা শব্দটি ব্যবহৃত ছিল, সেখানে এখন চেয়ার শব্দটি গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে, কিন্তু সেই পুরনো ঐতিহ্যও এখনও জীবিত রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আরাম কেদারা (ইজি চেয়ার) এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রাচীন কেদারা শব্দের আধুনিক রূপ।
বিদেশি ভাষার প্রভাব: বাংলা ভাষায় নতুন শব্দ সংযোজন
বাংলা ভাষার সাথে অন্যান্য ভাষার সংমিশ্রণের একটি বড় দৃষ্টান্ত হচ্ছে চেয়ার এবং কেদারা শব্দের রূপান্তর। এই প্রভাব শুধু ভাষাগত নয়, বরং সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলেছে।
প্রাচীন কালে, ফার্সি ভাষার মাধ্যমে চেয়ারের জন্য সান্ডালি শব্দটি বাংলায় এসেছে, এবং আরবি ভাষায় চেয়ারকে কুরসি বলা হয়। আজও এই শব্দগুলি বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ব্যবহার করা হয়। একইভাবে, বাংলা ভাষায় সান্ডালি, কুরসি, এবং চেয়ার শব্দগুলির মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে, যা বিভিন্ন ভাষার সংমিশ্রণের ফলস্বরূপ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেদারা ও চেয়ারের ব্যবহার
আজকের দিনেও কেদারা শব্দটি সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যায়নি। বিশেষ করে “আরাম কেদারা” বা “ইজি চেয়ার” শব্দটি এখনও অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হয়, যা ইঙ্গিত করে যে, কেদারা শব্দটির সংস্কৃতিগত মূল্য এখনো বজায় রয়েছে। এটি বাংলাদেশের আসবাবপত্র বাজারে একটি জনপ্রিয় আইটেম হিসেবে রয়ে গেছে, এবং এর মাধ্যমে বাংলা ভাষার ইতিহাসের অংশ হিসেবে কেদারার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
উপসংহার
ইসকন বা পর্তুগিজদের আগমন থেকে শুরু করে ইংরেজদের শাসন পর্যন্ত, কেদারা থেকে চেয়ার এর পরিবর্তন একটি দীর্ঘ ভাষাগত যাত্রা। ভাষাগত পরিবর্তন শুধুমাত্র শব্দের পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্পর্কের চিত্রও। আজ, কেদারা শব্দটি সম্ভবত একদম সাধারণ ভাষা থেকে উঠে গিয়ে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু চেয়ার শব্দটি বাংলা ভাষায় সর্বজনীন এবং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সূত্র
১. “The Influence of Portuguese on Bengali Language.” Encyclopedia Britannica
২. “Chair and its Origins in Different Languages.” History.com
৩. “Linguistic Evolution in Bengali.” The Daily Star
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্কের সমীকরণটি আধুনিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়। ১৯৫০-এর দশকে যে ইরান ছিল ইসরায়েলের কৌশলগত মিত্র, আজ সেই ইরান ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈরিতার মূল কারণ কি কেবল ধর্মীয় আদর্শ, নাকি এর পেছনে রয়েছে টিকে থাকার গভীর রাজনৈতিক প্রকৌশল?
১. ঐতিহাসিক বাঁকবদল: মিত্র থেকে শত্রু
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইরান ছিল ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র। তৎকালীন শাহের শাসনামলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর জন্য তারা গোপন সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখত। এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল থেকে গোপনে অস্ত্র কেনার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। তবে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সম্পর্কের খোলনলচে বদলে যায়। তেহরানে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসকে প্যালেস্টাইনের দূতাবাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দেয় তাদের নতুন রাজনৈতিক এজেন্ডা।
২. দ্বন্দ্বে আদর্শ বনাম বাস্তব রাজনীতি

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনো সাধারণ সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন এই চরম শত্রুতা?
- পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ইসরায়েলের মূল ভয় হলো ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা। নেতানিয়াহুর ভাষায় ইরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা নিয়মিত ইরানি বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে।
- অস্তিত্বের সংকট: ইরান ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ এবং আমেরিকাকে ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই বয়ানটি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ‘অ্যান্টি-জায়নিস্ট’ আবেগ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. ছায়াযুদ্ধ (Proxy War): টিকে থাকার কৌশল
সরাসরি যুদ্ধের সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা—দুইয়ের অভাবেই ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।
- ইরানের প্রক্সি: লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করা ইরানের কৌশল।
- ইসরায়েলের মোসাদ: মোসাদের নিখুঁত গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জেনারেল ও বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
৪. মৌলবাদ ও ক্ষমতার টিকে থাকা
রাজনীতিবিদদের জন্য ‘কাল্পনিক শত্রু’ তৈরি করা একটি চিরাচরিত কৌশল। যেমনটা বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী দলগুলো করে থাকে, ইরানও তেমনি ইসরায়েল বিরোধিতাকে পুঁজি করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপকে আড়াল করছে। অন্যদিকে, উগ্রপন্থী ইহুদিদের জন্য ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ বা নিরাপত্তার ইস্যুটি তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব কেবল দুটি রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়, এটি ক্ষমতার টিকে থাকার লড়াই। ইরান জানে সরাসরি যুদ্ধ করলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও মার্কিন সমর্থিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে পারবে না। একইভাবে ইসরায়েলও জানে, ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ই যেন উভয় রাষ্ট্রের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’। যতদিন পর্যন্ত এই শত্রুতা তাদের নিজ নিজ দেশে জনমত গঠন ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, ততদিন সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে এই উত্তেজনাকর শীতল যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক রেকর্ডসমূহ। ২. আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও প্রক্সি যুদ্ধের কৌশল বিষয়ক গবেষণাপত্র। ৩. ইরান-কনট্রা চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
“শিশু সাহিত্যিক” সুকুমার রায় সম্পর্কে নয়, আমি বরং চিত্রকার সুকুমার রায় সম্পর্কে কিছু বলি, থুড়ি লিখি।

পুত্র সত্যজিতের মতই সুকুমার রায়ের আঁকার হাতও বেশ চালু ছিল। তবে সুকুমার তেমন ডিটেল ছবিটবি এঁকেছেন বলে শুনি নি। তিনি বরং নিজের লেখার সাথে অলঙ্করণ হিসেবে কার্টুন ধাঁচের ছবি এঁকেছেন। আসুন এর কয়েকটা দেখে যাক ।
হাতুড়ে কবিতার ডাক্তার
গুড় গুড় গুড় গুড়িয়ে হামা খাপ পেতেছেন গোষ্টমামা
চোর ধরা কবিতার ‘ঢাল নিয়ে খাড়া আছি আড়ালে’ পাহারাদার
আরও রয়েছে, ক্রমশঃ প্রকাশ্য। কিন্তু এই ছবিগুলোর মধ্যে একটা বিচিত্র ব্যাপার খেয়াল করেছেন কি? কাঁচিধারী ডাক্তার, তীরন্দাজ ও পাহারাদার সকলেই ন্যাটা অথবা বাঁ-হাতি!
সুকুমার রায়ের আঁকা ছবিতে বাঁহাতি মানুষের ছড়াছড়ি! বিশ্বাস না হয় খুঁজে দেখুন!! এরকম আরও হিন্ট রয়েছে, যেমন –
লড়াই খ্যাপার ছাতা …
… পালোয়ানের হাতের গদা, এ সবই বাঁ হাঁতে ধরা। এগুলো একলা একলা হয়তো অতটা অর্থপূর্ণ নয়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে একটা প্যাটার্ণ তৈরি করে।
সুকুমারের আঁকা অনেক ছবিতেই এমন মানুষ আছেন যিনি ডানহাতি না বাঁ-হাতি তা পরিস্ফুট নয়, কিন্তু নিশ্চিতভাবে ডানহাতি এমন একজনকেই মনে করতে পারছি। বোম্বাগড়ের রাজার ক্রিকেটার পিসী যদি সুইচ-হিটে পটু না হয়ে থাকেন তবে তিনি নিয্যস ডানহাতি!
…যদিও ফুটওয়র্কটা ন্যাটা ব্যাটসম্যানের মতো।
কেন এই প্যাটার্ন গুরুত্বপূর্ণ?
সুকুমার রায়ের সমসাময়িক শিল্পীদের কাজে বাঁ-হাতের এমন ব্যাপক ব্যবহার খুব একটা দেখা যায় না। সেদিক থেকে বিচার করলে, সুকুমার ছিলেন একাধারে শিল্পী ও একজন ‘পর্যবেক্ষক’। তিনি হয়তো তাঁর আঁকা ছবিগুলোর মাধ্যমে পাঠকদের ধাঁধায় ফেলতে চাইতেন—”ছবিতে কী ঘটছে লক্ষ্য করেছ?”
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
সুকুমার রায়ের শিল্পসত্তার এই বাঁ-হাতি রহস্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি তাঁর সৃজনশীল মেধার একটি সূক্ষ্ম স্বাক্ষর। তিনি যে প্রচলিত ধাঁচের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন, তাঁর আঁকা ছবিগুলো তারই প্রমাণ। আজকের পাঠকদের কাছে সুকুমারের এই শিল্পকর্মগুলো কেবলই অলঙ্করণ নয়, বরং এক নতুন গবেষণার খোরাক।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাহিত্য, শিল্প ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র
আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পুবালী ব্যাংক
- উত্তরা ব্যাংক
ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব
ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



