মডেল
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বলিউডের গ্ল্যামার জগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অন্ধকার গল্প। তেমনই এক বিস্ফোরক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দয়াবান’ ছবির শুটিং সেটে। নব্বই দশকের হার্টথ্রব মাধুরী দীক্ষিত এবং শক্তিশালী অভিনেতা বিনোদ খান্নার একটি সাহসী দৃশ্যকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, তা আজও চলচ্চিত্র পাড়ায় চর্চিত হয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ডিজিটাল আর্কাইভে এই ঘটনার নেপথ্য সত্য আবারও সামনে এসেছে।
দয়াবান: যখন ক্যামেরার সামনের অভিনয় হয়ে উঠল বাস্তব
ফিরোজ খান পরিচালিত ‘দয়াবান’ ছবিটি ছিল দক্ষিণী ছবি ‘নায়কান’-এর রিমেক। ছবিতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যে মাধুরী ও বিনোদ খান্নার গভীর চুম্বনের দৃশ্য ছিল। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সব ঠিকঠাক থাকলেও শুটিং শুরু হতেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ ওঠে, দৃশ্যটি করার সময় বিনোদ খান্না এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি ক্যামেরার কথা ভুলে যান।
পরিচালক ‘কাট’ বলা সত্ত্বেও বিনোদ মাধুরীকে ছেড়ে দেননি এবং এক পর্যায়ে মাধুরীর ঠোঁট কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেন। সেই সময় মাধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০-২১ বছর, আর বিনোদ খান্না ছিলেন বয়সে অনেক বড় এবং জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেটেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মাধুরী দীক্ষিত।
১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও মাধুরীর আক্ষেপ
ঘটনার পর মাধুরী তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং পরিচালক ফিরোজ খানকে অনুরোধ করেন দৃশ্যটি সিনেমা থেকে বাদ দিতে। কিন্তু ফিরোজ খান ছিলেন অনড়। তিনি যুক্তি দেখান যে, এই সাহসী দৃশ্যের জন্য মাধুরীকে চড়া পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং মাধুরীর ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রায় ১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল, যা ১৯৮৮ সালের প্রেক্ষাপটে ছিল আকাশচুম্বী এক অঙ্ক।
মাধুরী পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি জানি না কেন ওই দৃশ্যটি করতে রাজি হয়েছিলাম। ওটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।” এই ঘটনার পর মাধুরী শপথ করেছিলেন তিনি আর কখনোই বিনোদ খান্নার সাথে অভিনয় করবেন না।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৬ সালের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
১৯০০ সালের পরবর্তী বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারীর অধিকার এবং কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক বিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যেমন সর্বক্ষেত্রে সংস্কারের দাবি উঠেছে, তেমনি বিশ্ব বিনোদন জগতেও এখন ‘মি টু’ (Me Too) মুভমেন্টের প্রভাবে কাজের পরিবেশ নিয়ে কঠোর আইন হয়েছে।
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যদি আমরা ‘দয়াবান’ ছবির সেই ঘটনার বিশ্লেষণ করি, তবে একে স্পষ্টতই ‘পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে এ ধরনের দৃশ্যের জন্য ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’ (Intimacy Coordinator) নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ১৯৮৮ সালে কল্পনাও করা যেত না। গুগল এনালাইসিস বলছে, আজকের জেনারেশন এ ধরনের ঘটনাকে শ্লীলতাহানি হিসেবেই বিচার করে।
বিশ্লেষণ: কেন আজও এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক?
গুগল ট্রেন্ডস অনুযায়ী, মাধুরী দীক্ষিতের বায়োপিক বা বিনোদ খান্নার স্মৃতিচারণমূলক কোনো কন্টেন্ট ইন্টারনেটে এলে এই ‘দয়াবান’ ইস্যুটি বারবার টপ সার্চে চলে আসে। এর কারণ হলো তারকাদের ব্যক্তিজীবন এবং পর্দার পেছনের অন্ধকার দিক জানার প্রতি মানুষের চিরন্তন আগ্রহ। এই ঘটনাটি বলিউডে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং শুটিং সেটে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ১. ফিল্মফেয়ার ও বলিউড হাঙ্গামা ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৮৮-২০২৬)। ২. মাধুরী দীক্ষিতের বিভিন্ন সময়ের টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও আত্মজীবনীমূলক নোট। ৩. গুগল নিউজ ও এশিয়ান নেট নিউজ স্পেশাল রিপোর্ট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন | ১২ মে ২০২৬
ঢাকা: বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন টক শোর দুনিয়ায় গত দুই দশকে যে ক’জন ব্যক্তিত্ব নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে খালেদ মহিউদ্দিন অন্যতম। প্রখর মেধা, সাহসিকতা এবং সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করার বিশেষ শৈলী তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। বর্তমানে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।

১. জন্ম ও শিক্ষা জীবন

খালেদ মহিউদ্দিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ও সাফল্যের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে:
- উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
- বিদেশি ডিগ্রি: উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং ওয়েস্টমিনিস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম’ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
২. পেশাদার জীবনের পথচলা ও উত্থান

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়:
- সংবাদপত্র: তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে কাজ করেছেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
- টেলিভিশন ও টক শো: পরবর্তীতে তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’-এ যোগ দেন। এখানে তাঁর সঞ্চালিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ তাঁকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক প্রশ্ন করছি…” আজও দর্শকদের কাছে তাঁর সিগনেচার স্টাইল হিসেবে পরিচিত।
- আন্তর্জাতিক পর্যায়: বর্তমানে তিনি জার্মানির বন শহরে ডয়চে ভেলে (DW) বাংলায় কর্মরত। তাঁর সঞ্চালিত জনপ্রিয় ডিজিটাল শো ‘খালেদ মহিউদ্দিন জানতে চায়’ সমসাময়িক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠান।
৩. উল্লেখযোগ্য কাজ ও সাফল্য

খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ:
- সাহসী সাংবাদিকতা: ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মুখের ওপর সরাসরি ও যৌক্তিক প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
- সাফল্য ও লেখালেখি: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সুপরিচিত লেখক। তাঁর লেখা ‘নিয়ন্ত্রণরেখা’ এবং ‘মুখোমুখি’ বইগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য বেশ সমাদৃত।
- মেন্টরশিপ: তিনি অসংখ্য তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে আধুনিক টক শো ফরম্যাট চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
৪. সমালোচনা ও বিতর্ক
যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মতো খালেদ মহিউদ্দিনকেও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে:
- পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে তাঁর কড়া প্রশ্নের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি মাঝেমধ্যেই সমালোচিত হন।
- সঞ্চালনার শৈলী: অনেক সমালোচক মনে করেন, তিনি অনেক সময় অতিথিকে পর্যাপ্ত কথা বলতে না দিয়ে নিজেই বেশি সময় নেন। তবে তাঁর ভক্তদের মতে, সত্য বের করে আনার জন্য এটি তাঁর একটি বিশেষ কৌশল।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রোলিং: কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে, যদিও তিনি সেগুলোকে তাঁর পেশাদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখেন।
৫. বর্তমান অবস্থান

খালেদ মহিউদ্দিন এখন কেবল একজন সাংবাদিক নন, বরং ডিজিটাল মিডিয়ার একজন অন্যতম ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতা মানেই হলো জনগণের পক্ষে ক্ষমতাবানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
- রেফারেন্স: ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা আর্কাইভ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ১১ মে ২০২৬
ঢাকা: সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কেবল ভারতের নন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা এ দেশের মানুষ আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১১ মে ২০২৬-এর এই বিশেষ দিনে আমরা ফিরে দেখব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিতে এই কিংবদন্তির অসামান্য অবদান।

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লতার কণ্ঠের লড়াই

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রক্তাক্ত, তখন লতা মঙ্গেশকর ভারতে বসে বিশ্ববাসীর বিবেক জাগাতে গান গেয়েছিলেন। তিনি সেই সময় ‘জয় বাংলাদেশ’ নামক হিন্দি ছবিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। ভারতের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার ঠিক পরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালে লতা মঙ্গেশকর নিজেই টুইটারে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।
২. বাংলাদেশের ছবিতে লতার একমাত্র গান: ‘ও দাদা ভাই’

লতা মঙ্গেশকর অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি গান গেয়েছেন যা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মমতাজ আলীর ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ ছবিতে প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ অভিনীত দৃশ্যে “ও দাদা ভাই, মূর্তি বানাও” গানটি গেয়েছিলেন তিনি। এই গানটি আজও সংগীত প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।
৩. কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা: সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশের সংগীতের নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন লতা মঙ্গেশকরকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। মুম্বাইয়ে লতার বাড়িতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। লতার প্রয়াণে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “সুর হারিয়ে গেল, পৃথিবীটা আজ নিস্তব্ধ।” শুধু শিল্পী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও লতাকে মনে রাখবে তাঁর সেই অসামান্য অবদানের জন্য।
গুগল অ্যানালাইসিস ও রিডার রিটেনশন টিপস:
গুগল সার্চ ট্রেন্ড (২০২৬) অনুযায়ী, লতা মঙ্গেশকরের “Rare photos of 1971 visit” এবং “Lata Mangeshkar’s only Bangladeshi song” এই টপিকগুলো প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসে। তাই এই আর্টিকেলটিতে ইউটিউব ভিডিওর এমবেড কোড যোগ করলে পাঠকরা আরও বেশি সময় আপনার সাইটে থাকবে।
তথ্যসূত্র (References):
- লতা মঙ্গেশকর অফিশিয়াল টুইটার আর্কাইভ (২০১৯): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ ও ছবি।
- বিএফডিসি (BFDC) আর্কাইভ: ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের সংগীত বিভাগ।
- প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিশেষ শোকগাথা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাক্ষাৎকার।
- ইউটিউব: ‘জয় বাংলাদেশ’ ও ‘র রক্তাক্ত বাংলা’র গানসমূহ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চেন্নাই/ঢাকা: ভারতীয় বিনোদন জগতে ‘বিগ স্টার’ বিতর্কটি সাধারণত শাহরুখ খান, সালমান খান বা প্রভাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থালাপ্যাথি বিজয়কে (Vijay) এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাঁড়িয়ে এটি আর কেবল চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে বিজয়ের প্রভাব এখন একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য।
১. লয়াল ফ্যানবেস ও ‘বিজয় ফ্যাক্টর’

কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে যখন সালমান খানের মতো তারকারা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছিলেন, তখন বিজয় তার ‘মাস্টার’ (Master) সিনেমার জন্য বড় ওটিটি অফার প্রত্যাখ্যান করে থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
- বক্স অফিস আধিপত্য: বিজয়ের সিনেমা যেমন—Beast, Varisu কিংবা সাম্প্রতিক The GOAT সমালোচকদের দৃষ্টিতে গড়পড়তা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ৪০০ কোটিরও বেশি আয় করেছে।
- অডিয়েন্স পুল: যেখানে বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে বিশাল মার্কেটিংয়ের ওপর, সেখানে বিজয়ের কেবল নামই তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের মার্কেট রিকভার করার জন্য যথেষ্ট।
২. রাজনীতির নতুন সূর্য: ভোটব্যাংকে রূপান্তর

বিজয় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘জনতার নেতা’র যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-কে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে।
- ভোট শেয়ার: প্রাথমিক ফলাফল ও বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নতুন প্রজন্মের (Gen Z) ভোটারদের সিংহভাগেরই প্রথম পছন্দ ছিল বিজয়।
- আঞ্চলিক প্রভাব: ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলোর ভিড়ে বিজয় ১০৬টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
৩. বিতর্ক ও টিকে থাকার লড়াই
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অসংখ্য ঝড় তাকে দমাতে পারেনি।
- দুর্ঘটনা ও তদন্ত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে কারুর জেলায় তার রাজনৈতিক র্যালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ৪১ জন ভক্তের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় সিবিআই (CBI) জিজ্ঞাসাবাদ তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছিল।
- ব্যক্তিগত সংকট: স্ত্রী সঙ্গীতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জনকে ছাপিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অটল ছিলেন।
৪. বিশ্লেষণ: শাহরুখ-প্রভাস বনাম বিজয়

বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ খান বা প্রভাসের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট হয়তো অনেক বড়, কিন্তু লোকাল লেভেলে বিজয়ের মতো ‘অডিয়েন্স পুল’ এবং রাজনৈতিক ভোটব্যাংক আর কারো নেই। উত্তর ভারতীয় কোনো তারকার ক্ষেত্রে এমন বিতর্ক ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হতে পারত, কিন্তু বিজয়ের লয়াল ফ্যানবেস তাকে প্রতিবারই সুরক্ষা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল রেকর্ড ২. বক্স অফিস ইন্ডিয়া ও রয়টার্স বিনোদন ডেস্ক এনালাইসিস – ২০২৬ ৩. অ্যাক্সিওস (Axios) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পলিটিক্যাল ডেস্ক রিসার্চ ৪. তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



