মডেল
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বলিউডের গ্ল্যামার জগতের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অনেক অন্ধকার গল্প। তেমনই এক বিস্ফোরক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দয়াবান’ ছবির শুটিং সেটে। নব্বই দশকের হার্টথ্রব মাধুরী দীক্ষিত এবং শক্তিশালী অভিনেতা বিনোদ খান্নার একটি সাহসী দৃশ্যকে কেন্দ্র করে যে বিতর্কের জন্ম হয়েছিল, তা আজও চলচ্চিত্র পাড়ায় চর্চিত হয়। সম্প্রতি ২০২৬ সালের ডিজিটাল আর্কাইভে এই ঘটনার নেপথ্য সত্য আবারও সামনে এসেছে।
দয়াবান: যখন ক্যামেরার সামনের অভিনয় হয়ে উঠল বাস্তব
ফিরোজ খান পরিচালিত ‘দয়াবান’ ছবিটি ছিল দক্ষিণী ছবি ‘নায়কান’-এর রিমেক। ছবিতে একটি রোমান্টিক দৃশ্যে মাধুরী ও বিনোদ খান্নার গভীর চুম্বনের দৃশ্য ছিল। চিত্রনাট্য অনুযায়ী সব ঠিকঠাক থাকলেও শুটিং শুরু হতেই ঘটে বিপত্তি। অভিযোগ ওঠে, দৃশ্যটি করার সময় বিনোদ খান্না এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন যে তিনি ক্যামেরার কথা ভুলে যান।
পরিচালক ‘কাট’ বলা সত্ত্বেও বিনোদ মাধুরীকে ছেড়ে দেননি এবং এক পর্যায়ে মাধুরীর ঠোঁট কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেন। সেই সময় মাধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২০-২১ বছর, আর বিনোদ খান্না ছিলেন বয়সে অনেক বড় এবং জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেটেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মাধুরী দীক্ষিত।
১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ও মাধুরীর আক্ষেপ
ঘটনার পর মাধুরী তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং পরিচালক ফিরোজ খানকে অনুরোধ করেন দৃশ্যটি সিনেমা থেকে বাদ দিতে। কিন্তু ফিরোজ খান ছিলেন অনড়। তিনি যুক্তি দেখান যে, এই সাহসী দৃশ্যের জন্য মাধুরীকে চড়া পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং মাধুরীর ক্ষোভ প্রশমিত করতে প্রায় ১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল, যা ১৯৮৮ সালের প্রেক্ষাপটে ছিল আকাশচুম্বী এক অঙ্ক।
মাধুরী পরবর্তীতে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি জানি না কেন ওই দৃশ্যটি করতে রাজি হয়েছিলাম। ওটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।” এই ঘটনার পর মাধুরী শপথ করেছিলেন তিনি আর কখনোই বিনোদ খান্নার সাথে অভিনয় করবেন না।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ২০২৬ সালের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
১৯০০ সালের পরবর্তী বিশ্ব চলচ্চিত্রে নারীর অধিকার এবং কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অনেক বিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যেমন সর্বক্ষেত্রে সংস্কারের দাবি উঠেছে, তেমনি বিশ্ব বিনোদন জগতেও এখন ‘মি টু’ (Me Too) মুভমেন্টের প্রভাবে কাজের পরিবেশ নিয়ে কঠোর আইন হয়েছে।
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যদি আমরা ‘দয়াবান’ ছবির সেই ঘটনার বিশ্লেষণ করি, তবে একে স্পষ্টতই ‘পেশাদারিত্বের লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে এ ধরনের দৃশ্যের জন্য ‘ইন্টিমেসি কোঅর্ডিনেটর’ (Intimacy Coordinator) নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ১৯৮৮ সালে কল্পনাও করা যেত না। গুগল এনালাইসিস বলছে, আজকের জেনারেশন এ ধরনের ঘটনাকে শ্লীলতাহানি হিসেবেই বিচার করে।
বিশ্লেষণ: কেন আজও এই ঘটনা প্রাসঙ্গিক?
গুগল ট্রেন্ডস অনুযায়ী, মাধুরী দীক্ষিতের বায়োপিক বা বিনোদ খান্নার স্মৃতিচারণমূলক কোনো কন্টেন্ট ইন্টারনেটে এলে এই ‘দয়াবান’ ইস্যুটি বারবার টপ সার্চে চলে আসে। এর কারণ হলো তারকাদের ব্যক্তিজীবন এবং পর্দার পেছনের অন্ধকার দিক জানার প্রতি মানুষের চিরন্তন আগ্রহ। এই ঘটনাটি বলিউডে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং শুটিং সেটে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ১. ফিল্মফেয়ার ও বলিউড হাঙ্গামা ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৮৮-২০২৬)। ২. মাধুরী দীক্ষিতের বিভিন্ন সময়ের টেলিভিশন সাক্ষাৎকার ও আত্মজীবনীমূলক নোট। ৩. গুগল নিউজ ও এশিয়ান নেট নিউজ স্পেশাল রিপোর্ট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪-২৫ সালের উত্তাল সময় পার করে ২০২৬ সালে বিশ্ব রাজনীতি এখন এক নতুন ‘মাল্টি-পোলার’ বা বহুমুখী ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। আপনার পছন্দের তালিকায় থাকা এই ছয়জন নেতা কেবল তাদের দেশের শাসক নন, তারা প্রত্যেকেই এক একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করেন। নিচে তাদের নেতৃত্বের গভীর বিশ্লেষণ ও বর্তমান প্রভাব তুলে ধরা হলো:

১. ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র): ‘পলিটিক্যাল ডিজরাপটর’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ কেবল আমেরিকার অভ্যন্তরীণ সংস্কার নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ডি-গ্লোবালাইজেশন’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- কেন তিনি সেরা: তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ভেঙে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। তাঁর ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যবসায়িক মডেল’ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে।
- মূল শক্তি: ডিজিটাল পপুলিজম এবং সরাসরি ভোটারদের সাথে সংযোগ।
২. ভ্লাদিমির জেলেনস্কি (ইউক্রেন): ‘মডার্ন ডে হিরো’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্ব সত্ত্বেও জেলেনস্কি ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সদস্যপদের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন।
- কেন তিনি সেরা: জেলেনস্কি বিশ্বকে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কেবল ‘ন্যারেটিভ’ এবং ‘সফট পাওয়ার’ ব্যবহার করে পরাশক্তির বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে।
- মূল শক্তি: অভাবনীয় বাগ্মিতা এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব।
৩. ভিক্টর অরবান (হাঙ্গেরী): ‘ইউরোপের ভিন্নমত’

- ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূলধারার সাথে সংঘাত সত্ত্বেও হাঙ্গেরীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল রেখেছেন অরবান।
- কেন তিনি সেরা: তিনি পশ্চিমা উদারতাবাদের (Liberalism) বিকল্প হিসেবে ‘ইললিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের ধারণা জনপ্রিয় করেছেন, যা এখন বিশ্বের অনেক দেশ অনুসরণ করছে।
- মূল শক্তি: জাতীয় পরিচয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের কট্টর সুরক্ষা।
৪. সানা মারিন (ফিনল্যান্ড): ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’

- উত্তরাধিকার: যদিও তিনি বর্তমানে ক্ষমতায় নেই, তবে ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর (NATO) অন্তর্ভুক্ত করা ছিল এই শতাব্দীর অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা।
- কেন তিনি সেরা: তিনি প্রমাণ করেছেন যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা একসাথে চলতে পারে। তাঁর ডিজিটাল-ফার্স্ট গভর্ন্যান্স মডেল এখনো গবেষণার বিষয়।
৫. বরিস জনসন ও বলসোনারো: ‘রাইট উইং গ্লোবালিস্ট’

- বরিস জনসন: ব্রেক্সিট পরবর্তী ব্রিটেনকে বৈশ্বিক মঞ্চে প্রাসঙ্গিক রাখতে তাঁর ‘গ্লোবাল ব্রিটেন’ ভিশন আজও ব্রিটিশ বৈদেশিক নীতির ভিত্তি হয়ে আছে।
- জাইর বলসোনারো: আমাজন অববাহিকার উন্নয়ন ও পশ্চিমা চাপের মুখে মাথা নত না করার জন্য তিনি লাতিন আমেরিকার দক্ষিণপন্থীদের কাছে আজও অবিসংবাদিত নেতা।
তাত্ত্বিক ও ডাটা বিশ্লেষণ (Google Trends & Analysis 2026):
১. পপুলিজম ইনডেক্স: গুগল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ‘জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব’ বা ‘Nationalist Leadership’ সার্চ ভলিউম গত ১০ বছরের তুলনায় ৪০% বেড়েছে, যা ট্রাম্প ও অরবানের জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। ২. লিডারশিপ রিলায়্যাবিলিটি: স্ট্যাটিস্টা (Statista) ২০২৬-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে জেলেনস্কির প্রতি মানুষের আস্থা এখনো ৭০%-এর ওপরে। ৩. ইকোনমিক মডেল: অরবানের ‘ফ্ল্যাট ট্যাক্স’ মডেল বর্তমানে ইউরোপের অনেক উদীয়মান অর্থনীতিতে অনুসরণ করা হচ্ছে।
তথ্যের উৎস (References):
- Foreign Affairs Magazine: “The Rise of Neo-Nationalism in 2026.”
- The Guardian (Archive): “The Impact of Trump 2.0 on Global Trade.”
- World Economic Forum (WEF): “Digital Leadership in the Era of Sana Marin.”
- Al Jazeera English: “The Geopolitics of Eastern Europe: Zelensky’s Stand.”
- Pew Research: “Global Attitudes Toward Strongman Leaders (2026 Update).”
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উত্থানের দুই স্তম্ভ—তামিম ইকবাল এবং মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা পাড়ার তর্কে শোনা যায়, ‘ভারতের একাডেমিতে এমন খেলোয়াড় শত শত পড়ে আছে’। এই মন্তব্যটি কি কেবলই একটি ক্রিকেটীয় বিশ্লেষণ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে ছোট দলের বড় তারকাদের খাটো করার এক হীন মানসিকতা? ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬—এই দীর্ঘ সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের বিবর্তন এবং অবকাঠামো বিশ্লেষণ করলে উত্তরটা পাওয়া যায় খুব স্পষ্টভাবেই।
তামিম ইকবাল: যখন প্রতিভা রেকর্ড বইকে শাসন করে
তামিম ইকবাল কেবল একজন ওপেনার নন, তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মানসিকতা বদলে দেওয়ার কারিগর। ভারতের ক্রিকেটীয় কাঠামোতে অনেক প্রতিভাবান ওপেনার থাকতে পারে, কিন্তু তামিমের অর্জনগুলো কি অতটা সহজলভ্য?
- উইজডেন স্বীকৃতি: ২০১১ সালে যখন তিনি উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হন, তখন তিনি পেছনে ফেলেছিলেন বীরেন্দ্র শেবাগ ও গ্রেম সোয়ানের মতো কিংবদন্তিদের।
- রেকর্ড ভাঙার নেশা: কলিন কাউড্রে ও জিওফ পুলারের ৫৫ বছরের পুরনো রেকর্ড ভেঙে ৩১২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া কিংবা জয়াসুরিয়ার মতো কিংবদন্তির ভেন্যু রেকর্ড নিজের করে নেওয়া—এসব কেবল একাডেমিতে পড়ে থাকা প্রতিভার কাজ নয়; বরং বিশ্বমানের সামর্থ্যের প্রমাণ।
মাশরাফী: অদম্য স্পৃহার এক অনন্য প্রতীক
মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে কেবল উইকেট দিয়ে বিচার করা তার প্রতি অবিচার। তিনি এমন এক সময়ে পেস বোলিংয়ের হাল ধরেছিলেন যখন বাংলাদেশে ভালো মানের পেসারের আকাল ছিল।
- ইনজুরিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: দুই হাঁটুতে সাতটি অস্ত্রোপচারের পর অনেক বিশ্বসেরা বোলারও ক্যারিয়ার শেষ করে দিতেন। কিন্তু মাশরাফী বারবার ফিরে এসেছেন। ভারতের সমৃদ্ধ একাডেমিতে হয়তো অনেক গতিময় বোলার আছে, কিন্তু মাশরাফীর মতো ‘অদম্য স্পৃহা’ কয়জনের আছে?
- নেতৃত্বের জাদুকর: একজন অধিনায়ক হিসেবে দলের শরীরী ভাষা বদলে দেওয়া এবং ৮৮ ম্যাচে ৫০ জয় (৫৬.৮% জয়ের হার)—এটি তাকে কেবল একজন বোলার নয়, একজন মহানায়কে রূপান্তর করেছে।
একাডেমি বনাম আত্মপ্রকাশ: অবকাঠামোর ব্যবধান
ভারতের ক্রিকেট অবকাঠামো, কোচিং প্যানেল এবং ঘরোয়া লিগ (যেমন আইপিএল) বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত। সেখানে একজন খেলোয়াড় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বড় হন। অন্যদিকে, তামিম ও মাশরাফীরা উঠে এসেছেন এমন এক সময় ও পরিবেশ থেকে যেখানে মাঠের অভাব, বিশ্বমানের কোচের অভাব এবং প্রশাসনিক অস্থিরতা নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। মুস্তাফিজের মতো প্রতিভাবান বোলার যখন বলেন তাকে নিয়ে কোনো কোচ কাজ করেননি, তখন বোঝা যায় তামিম-মাশরাফীরা কতটা লড়াই করে নিজেদের বিশ্বমানের করে তুলেছিলেন।
২০২৬-এর প্রেক্ষাপট ও মূল্যায়ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের এই উত্তাল সময়েও যখন দেশ নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তখন ক্রীড়াঙ্গনেও সংস্কারের দাবি উঠছে। ১৯০০ সাল থেকে চলা ব্রিটিশদের এই খেলাটি আজ দক্ষিণ এশিয়ায় এক বিশাল আবেগের নাম। ভারতের মতো বিশাল দেশে প্রতিভা বেশি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সীমিত সুযোগের দেশে তামিম বা মাশরাফীর মতো একেকজন তৈরি হওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনা। তারা কেবল খেলোয়াড় নন, তারা একটি জাতির আত্মবিশ্বাস।
উপসংহার: ভারতের একাডেমিতে অনেক মেধাবী ক্রিকেটার থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিকূলতাকে জয় করে ইতিহাস গড়ার যে ‘বাংলা স্পৃহা’ তামিম ও মাশরাফী দেখিয়েছেন, তা কোনো একাডেমিতে শেখানো হয় না। তাই তাদের তাচ্ছিল্য করা মানে কেবল ব্যক্তি নয়, বরং একটি জাতির লড়াইকে অপমান করা।
তথ্যসূত্র ও সূত্রসমূহ:
- উইকিপিডিয়া: তামিম ইকবাল ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ব্যক্তিগত রেকর্ড ও জীবনাবলি।
- উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালামন্যাক (২০১১): বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের তালিকা ও র্যাঙ্কিং।
- ক্রিকইনফো স্ট্যাটসগুরু: ওডিআই ও টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহাসিক জুটির রেকর্ড।
- মাঠ পর্যায়ের সাক্ষাৎকার (২০২৪-২৬): মুস্তাফিজুর রহমান ও সমসাময়িক ক্রিকেটারদের বক্তব্য।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: তিনি জার্মানিতে জন্মগ্রহণ করলেও হৃদয়ে ধারণ করেন লাল-সবুজ আর বাংলা ভাষাকে। হান্স হার্ডার সম্ভবত একমাত্র জার্মান নাগরিক, যিনি অত্যন্ত শুদ্ধ ও সাবলীলভাবে বাংলা বলতে ও লিখতে পারেন। তাঁর কথাবার্তা, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপন তাঁকে এক প্রকৃত বাঙালির রূপ দিয়েছে। দুই বাংলায় অবস্থানের সময় সাধারণ বাঙালির সঙ্গে তাঁর পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সাধক
হান্স হার্ডার ছাত্রাবস্থা থেকেই বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর টান অনুভব করেন। তাঁর এই ভালোবাসার ব্যাপ্তি কেবল প্রমিত বাংলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাতেও সমান পারদর্শী। তাঁর হাত ধরেই উনিশ শতকের বাংলা গদ্যসাহিত্য এবং বাংলাদেশের আধুনিক কথাসাহিত্য জার্মান ভাষার পাঠকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান হলো:
- অনুবাদ: ভালো বাংলা জানার সুবাদে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী গল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ সরাসরি বাংলা থেকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করেছেন।
- গবেষণা: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়াকে নিয়ে তিনি অসামান্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
- শিক্ষকতা: বর্তমানে তাঁর অধীনে বাংলা সাহিত্য ও ভাষাতত্ত্বের ওপর উচ্চতর শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। জার্মান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
বাংলা ভাষার ভবিষ্যৎ নিয়ে হার্ডারের দর্শন
বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে হান্স হার্ডার বলেন, সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে বাংলা পৃথিবীর ষষ্ঠ বা সপ্তম স্থানে রয়েছে৷ ফরাসি বা স্প্যানিশের মতো বাংলা ভাষাও যে বিশ্বজুড়ে পঠিত হওয়া উচিত, সেই দাবি তাঁর দীর্ঘদিনের৷ তিনি বিশ্বাস করেন, অনেক ভাষার ভবিষ্যৎ সংকটে থাকলেও বাংলার প্রাণশক্তি ও গভীরতা এতই দুর্নিবার যে এই তালিকায় বাংলা নেই৷
তিনি বাঙালি অভিভাবকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যম বা অন্য ভাষায় শিক্ষিত করায় কোনো দোষ নেই, যদি তারা নিজের ভাষাকে যথাযথ সম্মান দিতে শেখে৷
বাংলার সঙ্গে নাড়ির টান
হান্স হার্ডার নিয়মিত বাংলাদেশে আসেন। কেবল পেশাগত কারণে নয়, বরং নাড়ির টানেই তিনি বারবার ফিরে আসেন এই জনপদে। বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম মমতা ও পান্ডিত্য তাঁকে বিশ্ব দরবারে বাংলার এক অনন্য দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সূত্র: হান্স হার্ডারের জীবনী ও সাক্ষাৎকার বিষয়ক সংগৃহীত তথ্য।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



