খেলাধুলা

বাদুড় অশুভ নয়, তারা আমাদের নীরব রক্ষাকর্তা: পরাগমিলন ও জিনবৈচিত্র্য রক্ষায় যে প্রাণীটির ওপর নির্ভর করে দেড়শো প্রজাতির গাছ
বাদুড়

নিউজ ডেস্ক

December 7, 2025

শেয়ার করুন

লেখক: নীলাঞ্জন মিশ্র (প্রকাশের তারিখ: ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)


প্রকৃতির নীরব নায়ক: মা বাদুড় ও তার সন্তানের গল্প

বাদুড় মা বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। যতক্ষণ উড়বে ততক্ষণ বাচ্চাটা ওভাবেই মাকে জড়িয়ে থাকবে। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে আর কেউ এভাবে উড়তে পারে কিনা, জানা নেই। এই ফলবাদুড়দের ঘাড়ের কাছে ঘন লোম দেখা যায়। যখন রাতে তারা ফুলে ফুলে ঘোরে, তখন ওই লোমে ফুলের পরাগ লেগে যায়। ফলে ক্রমাগত যাতায়াত ও ওড়াউড়িতে পরাগ এক ফুল থেকে অন্য ফুলে চলে যায়— এভাবেই সম্পন্ন হয় গুরুত্বপূর্ণ পরাগমিলন

তারা ফল খায়, ফুলের রস খায় এবং ডালে ডালে চলাফেরা করে অনেকটা বাঁদরের মতোন। আপনারা অনেকে আমার তোলা ভিডিওতে দেখেছেন, ঢাকুরিয়া স্টেশনে শাদা শিমূল (সেইবা পেন্টান্ড্রা) গাছে এই বাদুড়েরা ডালে ডালে, ফুলে ফুলে চলাফেরা করছে।

বিপন্ন বাদুড়: যে কারণে আমাদের খাদ্য ও জীবন বিপন্ন

বাদুড়ের ওপর অন্তত দেড়শো প্রজাতির গাছের জীবন ও বিস্তার নির্ভর করে। পরাগমিলনে মৌমাছি দিয়ে যাদের কাজ চলবে না, বাদুড় তাদের দায়িত্ব নেয়। বাদুড় না থাকলে জিনবৈচিত্র‍্য কমতে কমতে ওইসব প্রজাতি বিপন্ন হয়ে যাবে।

  • পরাগমিলন ও বীজ বিস্তার: বাদুড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরাগমিলনকারী প্রাণী। শুধু তাই না, বীজ ছড়িয়ে গাছের বিস্তারেও তারা বিরাট সাহায্য করে।
  • পোকা নিয়ন্ত্রণ: বাদুড় প্রচুর ক্ষতিকারক পোকা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।
  • মিথ্যা কুসংস্কার: বাদুড় অশুভ কিচ্ছু নয়। ওসব ভুল ধারণা, কুসংস্কার। বাদুড় মানুষের রক্ত খায়, ভ্যাম্পায়ার— এসব সিনেম্যাটিক গুজব।

অসহায়ত্ব: জল না পেলে মরছে বাদুড়ের ছানারা

বাদুড়দের একটি সুন্দর সমাজ আছে। রাতে ফুলে ফলে যাওয়ার সময় তাদের বাচ্চাদের বাকিরা কেউ কেউ দেখভাল করে। আবার অনেকসময় মা বাচ্চাকে নিয়েই উড়ে যায়।

এই গরমের দিনে বাদুড় বাচ্চাদের বড় কষ্ট হয়। মা তখন ডানা জলে ভিজিয়ে বাচ্চাকে জড়িয়ে ঠান্ডা করে। বাঁচতে হলে তাদের প্রয়োজন:

  1. জলাশয় ও পুকুর: নির্দিষ্ট কিছু গাছ এবং জলাশয়ের কাছাকাছি স্থান তারা বেছে নেয়। জলাশয়ের অভাবে এই গরমে তারা মরে যায়।
  2. বাসস্থানের গাছ: বড় বড় আম, জাম, কাঁঠাল, ডুমুর, মহুয়া, বট, অশ্বত্থ— তাদের প্রিয় আশ্রয়। এই গাছগুলো কেটে দিলে তারা উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।

মৌমাছি নিয়ে সারা পৃথিবীতে কথা হলেও বাদুড় নিয়ে কথা নেই বললেই চলে। মরতে মরতে বাদুড় এখন বিপন্ন

আমাদের দায়বদ্ধতা: আসুন, ওদের জন্য লড়াই করি

বাদুড়দের নিয়ে ভাবার দায় শুধু বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের নয়। আমাদের সবার। আমরা তো মানুষ। একটা সুন্দর মন আছে আমাদের এখনও।

  • সঠিক বৃক্ষরোপণ: এলোমেলো বৃক্ষরোপণ না করে আম, জাম, কাঁঠাল, বট, অশ্বত্থ, মহুয়া, ডুমুর সহ ওদের পছন্দের গাছ লাগান।
  • জল সংরক্ষণ: নীরবে পুকুর বোজানো দেখে নেবেন না। পুকুর না থাকলে তো আমরাও ওদের মতো জল না পেয়ে গরমে মরবো।
  • সচেতনতা বৃদ্ধি: স্কুল-কলেজ, বন্ধুদের আড্ডায় বাদুড়ের পরিবেশগত গুরুত্ব ছড়িয়ে দিন।

বাদুড়কে একেবারে ভয় পাবেন না। ওরা বড় নিরীহ আর গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। বাদুড় থাকে মানে আরও অনেকে সেই গাছকে আশ্রয় করে। নিজেদের ভালো কীসে তা বোঝাতে আর কাকে লাগবে? আসুন, এই কাজগুলো আরও বেশি করে করি।


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. লেখক নীলাঞ্জন মিশ্রের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ (২/৫/২৫ তারিখের লেখা)। ২. পরিবেশ বিজ্ঞান ও ইকোসিস্টেম পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য। ৩. বাদুড়ের পরাগমিলনের ওপর নির্ভরশীল উদ্ভিদের পরিসংখ্যান।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস এনভায়রনমেন্ট ডেস্ক

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিশ্লেষণ: এই নিবন্ধটি বাদুড়ের পরিবেশগত গুরুত্বের ওপর একটি জরুরি আলোকপাত। বাদুড় যে কেবল বীজ বিস্তার বা পোকা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, বরং দেড় শতাধিক উদ্ভিদের পরাগমিলন প্রক্রিয়ার একটি অপরিহার্য অংশ—এই তথ্যটি সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কলামটি স্পষ্ট করে যে, জলাশয় সংরক্ষণ এবং তাদের পছন্দের আশ্রয় গাছ লাগানো (আম, বট, অশ্বত্থ) এই বিপন্ন প্রাণীটিকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Inhumane manual scavenging in Dhaka's sewers

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ নর্দমা পরিষ্কারের দৃশ্যটি যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ১.৪ কোটি মানুষের বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানির মধ্যে কোনো প্রকার সুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE) ছাড়াই ডুব দিয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করার ছবিটি যেন আমাদের নগরায়ণের এক চরম ব্যর্থতার দলিল। অথচ ২১ শতকে এসেও মানুষ কেন নর্দমায় নামতে বাধ্য হচ্ছে, তা আজ এক বড় প্রশ্ন।

১. ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং: এক অমানবিক বাস্তব

ঢাকায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বড় একটি অংশ এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিষ্কার করা হয়। শ্রমিকরা তাদের নাক, মুখ বা চোখ রক্ষা করার সামান্য সরঞ্জাম ছাড়াই বিষাক্ত নর্দমায় নেমে পড়েন।

  • স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়: নর্দমার ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড, অ্যামোনিয়া এবং মিথেন গ্যাসের মতো মরণঘাতী উপাদানের উপস্থিতিতে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে তারা চর্মরোগ, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং এইচআইভি বা হেপাটাইটিসের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন।
  • মৃত্যুর ঝুঁকি: প্রতি বছরই নর্দমায় কাজ করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে বা ধসে পড়া নর্দমার নিচে চাপা পড়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

. প্রযুক্তির অভাব নাকি সদিচ্ছার অভাব?

বর্তমান যুগে ভ্যাকুয়াম ট্রাক, জেটিং মেশিন এবং আধুনিক ড্রেনেজ ক্লিনিং রোবটের মতো প্রযুক্তি হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও কেন ম্যানুয়াল পদ্ধতি অব্যাহত?

  • পরিকল্পনার ঘাটতি: ঢাকা শহরের অনেক নর্দমা অত্যন্ত সরু এবং আঁকাবাঁকা, যেখানে বড় যন্ত্র পৌঁছাতে পারে না।
  • নির্ভরযোগ্যতা: যান্ত্রিক পদ্ধতির চেয়ে অনেক সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অল্প খরচে দ্রুত কাজ পাওয়া যায় বলে প্রভাবশালী ঠিকাদাররা অমানবিক এই পথই বেছে নেন।
  • সামাজিক প্রান্তিকীকরণ: এই পেশায় যারা যুক্ত, তাদের একটি বড় অংশ সমাজের অবহেলিত গোষ্ঠী থেকে আসা। তাদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে কাজের দ্রুততাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, যা অগ্রহণযোগ্য।

৩. আন্তর্জাতিক মান ও আইনি কাঠামো

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই একজন কর্মীকে সরাসরি বর্জ্যের সংস্পর্শে আনা যাবে না। বাংলাদেশের শ্রম আইনেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর প্রয়োগ অনুপস্থিত।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত বিশ্লেষণ:

ঢাকাকে একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘আধুনিক’ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার এই অন্ধকার দিকটির দ্রুত অবসান প্রয়োজন। আমাদের নগর পরিকল্পনা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। ১. অবিলম্বে ম্যানুয়াল স্ক্যাভেঞ্জিং নিষিদ্ধ ঘোষণা ও কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। ২. প্রত্যেক ওয়ার্ডে ছোট আকারের যান্ত্রিক পরিষ্কারক যন্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ৩. পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সম্মানজনক জীবন যাপন ও আধুনিক সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মানুষগুলো আমাদের শহরের নীরব নায়ক। তাদের জীবনের বিনিময়ে শহর পরিষ্কার রাখার চিন্তাটিই আমাদের নগরায়ণের জন্য কলঙ্ক। সময় এসেছে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের, যেন আর কোনো মানুষ নর্দমার অন্ধকারের মৃত্যুফাঁদে হারিয়ে না যায়।


তথ্যসূত্র:

  • আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) রিপোর্ট – ‘নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ’।
  • বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) – কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা।
  • নগর উন্নয়ন ও স্যানিটেশন বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদন (২০২৪-২৫)।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার নিয়ে বিস্তারিত আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ  ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

হার্ডওয়ার্ক বনাম স্মার্টওয়ার্ক

নিউজ ডেস্ক

February 28, 2026

শেয়ার করুন

লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

অর্থনৈতিক মুক্তি—এই শব্দটি শুনলে আমাদের মনে ভেসে ওঠে অঢেল সম্পদ আর নিশ্চিন্ত জীবনের ছবি। কিন্তু এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ কোনটি? কঠোর পরিশ্রম (Hard Work) নাকি বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রম (Smart Work)? চলুন, গুগল এনালিটিক্স এবং সফল ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার আলোকে এই বিষয়টির একটি গভীর বিশ্লেষণ করা যাক।

হার্ডওয়ার্ক: সীমাবদ্ধতার বৃত্ত

হার্ডওয়ার্ক হলো নিজের সময় এবং শারীরিক শক্তি সরাসরি কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করা। আপনি যত বেশি সময় দেবেন, তত বেশি উপার্জন হবে।

  • সীমাবদ্ধতা: আপনার সময় এবং শক্তি সীমিত। তাই, হার্ডওয়ার্কের মাধ্যমে উপার্জনের একটি সর্বোচ্চ সীমা (Ceiling) থাকে। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কারের উদাহরণটি এখানে সবচেয়ে প্রযোজ্য। তিনি সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি আয় করতে পারেন না, কারণ তার শারীরিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

স্মার্টওয়ার্ক: অসীম আয়ের পথ

স্মার্টওয়ার্ক হলো এমন একটি পদ্ধতি বা সিস্টেম তৈরি করা, যেখানে আপনার অনুপস্থিতিতেও অর্থ উপার্জন অব্যাহত থাকে। এটি হলো টাকাকে আপনার জন্য কাজ করানো।

  • বৈশিষ্ট্য: স্মার্টওয়ার্কের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রচুর বুদ্ধিমত্তা, পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একবার সিস্টেমটি দাঁড়িয়ে গেলে, এটি প্যাসিভ ইনকাম বা পরোক্ষ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বিশ্লেষণের চূড়ান্ত রায়: স্মার্ট হার্ডওয়ার্ক

যদি কঠোর পরিশ্রমই অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র পথ হতো, তবে বিশ্বের বড় বড় শিল্পপতিরা নন, বরং কনস্ট্রাকশন ওয়ার্কাররাই হতেন ধনী।

অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য আমাদের প্রয়োজন “স্মার্ট হার্ডওয়ার্ক”: ১. প্রাথমিক হার্ডওয়ার্ক: সিস্টেম তৈরি করতে বা নতুন দক্ষতা অর্জনে প্রচুর পরিশ্রম করুন। ২. পরবর্তী স্মার্টওয়ার্ক: সেই সিস্টেম বা দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে টাকাকে দিয়ে কাজ করান।

উপসংহার

পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। তবে সেই পরিশ্রম যদি সঠিক পদ্ধতি বা স্মার্ট কৌশলের সাথে না হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি পাওয়া কঠিন।


তথ্যসূত্র: ১. গুগল সার্চ ট্রেন্ডস ও সফল উদ্যোক্তাদের ইন্টারভিউ বিশ্লেষণ (২০২৬)। ২. ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা রিপোর্ট।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ফুটবল

নিউজ ডেস্ক

February 25, 2026

শেয়ার করুন

স্পোর্টস এনালাইসিস (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সারা পৃথিবীতে বর্তমানে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে ফুটবল। যেখানে ক্রিকেটের দর্শক মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে ফুটবল পৌঁছে গেছে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে। কেন ফুটবল ক্রিকেটের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়? এর পেছনে বেশ কিছু অকাট্য কারণ রয়েছে:

১. দেশ ও ভূখণ্ডের বিশাল ব্যাপ্তি (Global Participation)

আপনার পয়েন্টটি সঠিক; ক্রিকেটে হাতেগোনা ১০-১৫টি দেশ উচ্চপর্যায়ে লড়াই করলেও ফুটবলে ফিফার সদস্য সংখ্যা ২০০-এর বেশি।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন রূপ: আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। এতে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার অনেক নতুন দেশ সুযোগ পাওয়ায় ফুটবলের জোয়ার আরও বাড়বে।
  • অন্যদিকে ক্রিকেটে আইসিসি সদস্য দেশ অনেক থাকলেও মূল প্রতিযোগিতায় ১০-১৪টি দেশের বেশি দেখা যায় না।

২. সময়ের সংক্ষিপ্ততা ও তীব্র উত্তেজনা (Time Efficiency)

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সময়ের মূল্য অনেক বেশি।

  • ফুটবল: ৯০ মিনিট, আর ইনজুরি টাইম মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যায়। এই অল্প সময়ে টানটান উত্তেজনা দর্শকদের ধরে রাখে।
  • ক্রিকেট: টি-টোয়েন্টি আসার পর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এটি শেষ হতে অন্তত ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। আর টেস্ট ক্রিকেটের ৫ দিন বা ওয়ানডে-র ৮ ঘণ্টা সময় দেওয়ার মতো ধৈর্য অনেক অঞ্চলের মানুষের নেই।

৩. সাধারণ নিয়ম ও প্রবেশযোগ্যতা (Simplicity & Accessibility)

ফুটবল জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর অতি সাধারণ নিয়ম।

  • উপকরণ: একটি ফুটবল থাকলেই যে কেউ যেকোনো জায়গায় (রাস্তায়, মাঠে, এমনকি গ্যারেজেও) খেলতে পারে। ক্রিকেটের মতো দামী ব্যাট, প্যাড, হেলমেট বা পিচের প্রয়োজন হয় না।
  • বোঝার সহজ নিয়ম: গোল দেওয়াই একমাত্র লক্ষ্য—এই সহজ সমীকরণটি যে কেউ ৫ মিনিটে বুঝে নিতে পারে। ক্রিকেটের এলবিডব্লিউ (LBW), ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি বা ফিল্ডিং পজিশন বোঝা সাধারণ দর্শকের জন্য অনেক সময় জটিল হয়ে দাঁড়ায়।

৪. শারীরিক শক্তি ও শৈল্পিক লড়াই (Physicality & Skill)

ফুটবল মূলত উচ্চ গতির লড়াই। খেলোয়াড়দের গতি, স্ট্যামিনা এবং পায়ের জাদু দর্শকদের সরাসরি বিনোদন দেয়। ৯ চারে কোনো গোল না হওয়া ম্যাচেও যে উত্তেজনা থাকে, তা ক্রিকেটের অনেক ম্যাড়মেড়ে ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায় না।


একনজরে ফুটবল বনাম ক্রিকেট

ফিচারের ধরণফুটবলক্রিকেট
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ৪৮টি দেশ (২০২৬ থেকে)১০-১৪টি দেশ
খেলার গড় সময়৯০ – ১২০ মিনিট৪ ঘণ্টা থেকে ৫ দিন
প্রধান আকর্ষণফিফা বিশ্বকাপআইসিসি ওডিআই/টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
বিনিয়োগ ও সরঞ্জামঅত্যন্ত কম ও সহজলভ্যদামী ও জটিল সরঞ্জাম প্রয়োজন

মাঠ পর্যায়ের বিশ্লেষণ: বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর এনালাইসিস অনুযায়ী

বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ক্রীড়া এনালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেটে বিশ্বমঞ্চে লড়াই করছে, কিন্তু মেসি-রোনালদোর উন্মাদনা এদেশের পাড়া-মহল্লায় আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ২০২৬ বিশ্বকাপের বর্ধিত অংশগ্রহণ যদি বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি করে, তবে ফুটবলের জোয়ার ক্রিকেটকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

বিডিএস ডিজিটাল স্পোর্টস-এর মন্তব্য: ক্রিকেটের সৌন্দর্য তার কৌশলে, আর ফুটবলের সৌন্দর্য তার গতিতে। তবে গ্লোবাল রিচ বা বৈশ্বিক বিস্তারের দৌড়ে ফুটবলই চিরকাল বিশ্বসেরা হয়ে থাকবে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ