বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি

নিলামে উঠেছিল জুহুর বাড়ি, হেসেছিল বলিউড: অমিতাভকে নিয়ে রজনীকান্তের ‘হৃদয়ছোঁয়া’ বয়ান
অমিতাভ বচ্চন

নিউজ ডেস্ক

January 17, 2026

শেয়ার করুন

বিনোদন ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ভারতীয় চলচ্চিত্রের দুই মহীরুহ রজনীকান্ত এবং অমিতাভ বচ্চন। দীর্ঘ ৩০ বছর পর ‘ভেট্টইয়ান’ সিনেমার মাধ্যমে তারা আবারও এক পর্দায় ফিরছেন। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে সিনেমাটির অডিও লঞ্চ অনুষ্ঠানে রজনীকান্ত শুনিয়েছেন অমিতাভ বচ্চনের জীবনের এমন এক অন্ধকার অধ্যায়ের কথা, যা শুনলে যেকোনো মানুষের গায়ের লোম খাড়া হয়ে যাবে।

যখন চৌকিদারের বেতন দেওয়ার টাকা ছিল না বিগ বি-র কাছে

রজনীকান্ত জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে যখন অমিতাভ বচ্চন প্রযোজনা সংস্থা (ABCL) শুরু করেন, তখন তিনি নজিরবিহীন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। রজনীকান্তের ভাষায়:

“এমন দিন ছিল যখন অমিত জির চৌকিদারকে দেওয়ার মতো টাকা ছিল না। জুহুর বিখ্যাত আবাসনটিও নিলামে উঠেছিল। পুরো বলিউড তখন তাঁর দিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করেছিল। বিশ্ববাসী সব সময় মানুষের পতনের অপেক্ষায় থাকে।”

ফিনিক্স পাখির মতো প্রত্যাবর্তন

কিন্তু অমিতাভ বচ্চন হার মানেননি। রজনীকান্ত জানান, পরের মাত্র তিন বছরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি পুরো দৃশ্যপট বদলে দেন। অজস্র বিজ্ঞাপন এবং ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ (KBC)-র মাধ্যমে তিনি কেবল তাঁর পুরনো বাড়িই ফিরে পাননি, বরং একই রাস্তায় তিনটি বাড়ি কিনেছিলেন। ৮২ বছর বয়সেও দিনে ১০ ঘণ্টা কাজ করে অমিতাভ বচ্চন আজও পৃথিবীর অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।

রাজীব গান্ধী ও ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সেই গোপন সম্পর্ক

রজনীকান্ত আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন। অমিতাভ বচ্চনের সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিদেশের কনফারেন্স বাতিল করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরে এসেছিলেন। তখনই বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পেরেছিল যে, রাজীব গান্ধী ও অমিতাভ বচ্চন একসাথে পড়াশোনা করেছিলেন। পারিবারিক প্রভাবশালী সংযোগ থাকা সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চন নিজের ক্যারিয়ার নিজের যোগ্যতায় গড়েছেন।

‘ভেট্টইয়ান’ ও অমিতাভের তেলুগু ডেব্যু

আগামী ১০ অক্টোবর মুক্তি পেতে যাওয়া ‘ভেট্টইয়ান’ রজনীকান্তের ১৭০তম ছবি। এই ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ‘সত্যদেব’ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা একই সাথে তাঁর প্রথম তেলুগু ছবি হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ছবিতে আরও আছেন রানা ডগ্গুবতি, ফাহাদ ফাসিল এবং মঞ্জু ওয়ারিয়রের মতো তারকা অভিনেতা।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

১৯০০ থেকে ২০২৬—চলচ্চিত্রের ইতিহাসে বহু উত্থান-পতন ঘটেছে। কিন্তু অমিতাভ বচ্চনের এই ফিরে আসা প্রমাণ করে যে, বুদ্ধিমান মানুষ জানেন কী কাজ করতে হয়, আর জ্ঞানী মানুষ জানেন কেন লড়তে হয়। রজনীকান্তের এই বক্তব্য কেবল অমিতাভের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং পৃথিবীর সকল ব্যর্থ মানুষের জন্য এক শক্তিশালী বার্তা।


তথ্যসূত্র: ১. ইন্ডিয়া টুডে প্রতিবেদন: অমিতাভ-রজনীকান্ত ইভেন্ট কভারেজ। ২. ফিল্মফেয়ার ২০২৬ ডাটাবেজ: মুভি রিলিজ এবং কাস্টিং ডিটেইলস। ৩. বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর বিনোদন বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

March 5, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর সূচনা (১৯০০ পরবর্তী) থেকে মধ্যপ্রাচ্য ছিল মূলত ব্রিটিশ এবং পরবর্তীতে আমেরিকানদের নিয়ন্ত্রিত একটি তেলের খনি। ১৯০৫ সালের সাংবিধানিক বিপ্লব থেকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব—ইতিহাসের প্রতিটি মোড়ে ইরান নিজেকে একটি স্বাধীন সত্তা হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই ৪ঠা মার্চ, আমরা দেখছি এক অভূতপূর্ব দৃশ্য: যেখানে বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি এবং তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছে, কিন্তু ফলাফল হচ্ছে হিতে বিপরীত।

এই সংকটের পাঁচটি গভীরতর ও অ্যাডভান্স লেভেল বিশ্লেষণ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:


১. ‘শক অ্যান্ড অউ’ কৌশলের অপমৃত্যু এবং ‘সহনশীলতার যুদ্ধ’

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা ছিল ‘Decapitation Strike’ বা শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল করে তেহরানের কমান্ড চেইন ধ্বংস করা। তারা ভেবেছিল, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে জনরোষ তৈরি হবে এবং শাসনব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

  • বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) তাদের বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো (Decentralized Command) ব্যবহার করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় সংগঠিত হয়েছে। ১৯০০-এর দশকের প্রথাগত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বদলে ইরান এখন ‘হাইড্রা মডেল’ অনুসরণ করছে—যেখানে একটি মাথা কাটা পড়লে আরও দশটি মাথা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ট্রাম্প প্রশাসন যে “দ্রুত বিজয়” আশা করেছিল, তা এখন একটি “অন্তহীন যুদ্ধে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

২. ভূ-রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেল ও মার্কিন মিত্রজোটের ফাটল

ইরানের নতুন কৌশলটি ছিল অত্যন্ত ধূর্ত। তারা সরাসরি ইসরায়েলে সব শক্তি ব্যয় না করে বরং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যে নিরাপত্তা বলয় বা ‘Security Umbrella’ রয়েছে, সেটির ওপর আঘাত হেনেছে।

  • প্রভাব: কাতার, বাহরাইন এবং আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে ইরান প্রমাণ করেছে যে, আমেরিকা তার মিত্রদের রক্ষা করতে অক্ষম। পুতিনের মাধ্যমে আমিরাত ও কাতারের “ক্ষোভ” ওয়াশিংটনে পাঠানো মূলত একটি বড় কূটনৈতিক পরাজয়। ২০২৬ সালের এই পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, জর্ডান বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এখন নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিতে ভয় পাচ্ছে। এটি আমেরিকার শতাব্দী প্রাচীন ‘এলায়েন্স ডিনায়াল’ কৌশলের একটি বড় জয়।

৩. জ্বালানি তেলের ‘অ্যাসমিতিক’ যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতির জিম্মিদশা

ইরান জানে যে তাদের সামরিক শক্তি আমেরিকার সমকক্ষ নয়, কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান অজেয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া বা কেবল হুমকি দেওয়ার মাধ্যমেই তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংস করতে পারে।

  • অর্থনৈতিক প্রভাব: ২০২৬ সালের ৪ মার্চ নাগাদ তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে যে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা আমেরিকান ভোটারদের পকেটে সরাসরি আঘাত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি এক মরণফাঁদ—যুদ্ধ চালিয়ে গেলে তেলের দাম বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনপ্রিয়তা হারাবেন; আর যুদ্ধ থামিয়ে দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকার “সুপারপাওয়ার” ইমেজ ধূলিসাৎ হবে।

৪. প্রক্সি যুদ্ধ বনাম সরাসরি স্থল অভিযানের ঝুঁকি

ইসরায়েল দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছে যে, আকাশপথের হামলায় ইরানকে হারানো অসম্ভব, এর জন্য প্রয়োজন ‘Boot on the Ground’ বা স্থল অভিযান। মার্কো রুবিও যখন বলেন যে “প্রেসিডেন্টের হাতে বিকল্প রয়েছে”, তখন তিনি আসলে ইরানের ভেতরে থাকা জাতিগত সংখ্যালঘু (কুর্দি, আজেরি, সুন্নি) গোষ্ঠীকে বিদ্রোহী হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

  • ঝুঁকি বিশ্লেষণ: ১৯০০-এর দশকের শুরুতে টি.ই. লরেন্স (লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া) যেভাবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভেতরে আরবদের লেলিয়ে দিয়েছিলেন, আমেরিকা ২০২৬ সালে ঠিক সেই ‘ইনসারজেন্সি’ মডেল ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইরান গত ৪০ বছর ধরে এই ধরণের প্রক্সি যুদ্ধ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ইরাকের কুর্দি ক্যাম্পে আগাম হামলা চালিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই চালটি আগেই ধরে ফেলেছে।

৫. গ্লোবাল শ্যাডো ওয়ার: চীনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রশ্নটি হলো—এই যুদ্ধে কি কেবল ইরান লড়ছে? ২০২৬ সালের এই সংকটে পর্দার আড়ালে থাকা চীনের ভূমিকা লক্ষণীয়। ইরান যদি আমেরিকার ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জাম (যেমন: ড্রোন, মিসাইল ইন্টারসেপ্টর) ফুরিয়ে দিতে পারে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (তাইওয়ান ইস্যুতে) আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে।


বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের প্রথাগত ঔপনিবেশিক লড়াই থেকে ২০২৬ সালের এই বহুমুখী হাইব্রিড যুদ্ধ—ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে যে, পারস্যের মানুষ সবসময়ই সময়ক্ষেপণের কৌশলে (Strategic Patience) পারদর্শী। ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত এমন এক দাবার বোর্ডে বসেছেন যেখানে চাল তিনি দিলেও ঘুঁটিগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ইরান সংকটের এই স্থায়ী প্রতিরোধ প্রমাণ করছে যে, ২০২৬ সালের বিশ্ব এখন আর একক পরাশক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী চলে না।

এই যুদ্ধের শেষ হাসি কে হাসবে তা নির্ভর করবে—কে কত দ্রুত নিজের ভুল স্বীকার করে বের হয়ে আসতে পারে তার ওপর। আমেরিকা যদি এই ফাঁদ থেকে না বেরোয়, তবে ২০২৬ সাল হতে পারে মার্কিন সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা।


তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই ইনসাইডার রিপোর্ট, পেন্টাগন ব্রিফিং (৪ মার্চ ২০২৬), এবং রয়টার্স গ্লোবাল এনার্জি ডায়েরি।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও গভীর আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কৌশলগত সংস্কারের বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

নিউজ ডেস্ক

March 3, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) পারস্য উপসাগরের রাজনীতি ছিল তেল আর সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দাবার ঘুঁটি। ১৯০৫ সালের সাংবিধানিক বিপ্লব থেকে শুরু করে ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র মদতে মোসাদ্দেক সরকারকে হটিয়ে শাহ পাহলবিকে ক্ষমতায় বসানো—প্রতিটি ঘটনাই ইরানকে পশ্চিমামুখী করার চেষ্টা ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ শাসনকালের দিকে তাকাই, তখন সেখানে কেবল ধর্মতন্ত্র নয়, বরং এক সুদূরপ্রসারী ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ দৃশ্যমান হয়।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) আমেরিকার হামলায় তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের এক দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।

১. ধর্মতাত্ত্বিক পোশাকে এক সমরকুশলী প্রেসিডেন্ট

ইরান বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর যেমনটি বলেছেন, খামেনি কেবল একজন ধর্মীয় গুরু ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন বাস্তববাদী বা ‘প্রাগমেটিক’ নেতা।

  • যুদ্ধে পোড়খাওয়া নেতৃত্ব: ১৯৮০-৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যখন বিশ্ব সাদ্দাম হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তখন খামেনি বুঝেছিলেন ইরানকে টিকে থাকতে হলে সামরিক শক্তিতে এককভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।
  • আইআরজিসি-র উত্থান: ১৯৮৯ সালে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-কে একটি বিশ্বমানের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেন। আজ ইরান যে ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর তিনিই স্থাপন করেছিলেন।

২. ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘অক্ষশক্তির’ বিস্তার

খামেনির অধীনে ইরান তার সীমানা ছাড়িয়ে আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়। তিনি পশ্চিম এশিয়ায় একটি ‘প্রতিরোধ বলয়’ তৈরি করেন।

  • প্রক্সি যুদ্ধ: লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং গাজার হামাসের মতো গ্রুপগুলোকে সামরিক ও রাজনৈতিক মদত দিয়ে তিনি ইরানের চারপাশ নিরাপদ রাখতে চেয়েছিলেন।
  • সংঘাত ও সমঝোতা: তিনি একদিকে যেমন ‘আমেরিকার সাথে কোনো আপস নয়’ নীতিতে অটল ছিলেন, তেমনি কৌশলগত প্রয়োজনে পরমাণু চুক্তির মতো সমঝোতাতেও রাজি হয়েছিলেন।

৩. অভ্যন্তরীণ সংকট ও প্রজন্মের ব্যবধান

খামেনির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ইরানের তরুণ প্রজন্ম। তাঁর স্বপ্ন ছিল দীর্ঘমেয়াদী ‘ইসলামী সার্বভৌমত্ব’, কিন্তু আধুনিক তরুণরা চেয়েছিল নগদ অর্থনৈতিক মুক্তি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

  • বিক্ষোভের ইতিহাস: ২০০৯-এর ‘সবুজ আন্দোলন’, ২০২২-এর নারী অধিকার আন্দোলন এবং ২০২৩-এর অর্থনৈতিক সংকট তাঁকে বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
  • অর্থনীতি বনাম প্রতিরক্ষা: সামরিক খাতে অকল্পনীয় বিনিয়োগের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা তাঁর শাসনের একটি বড় সমালোচনার দিক।

৪. ঐতিহাসিক শিকড়: ১৯৫৩ থেকে ২০২৬

খামেনির আমেরিকার প্রতি বিদ্বেষ কেবল ধর্মীয় ছিল না, বরং তা ছিল ঐতিহাসিক। ১৯৫৩ সালে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোহাম্মদ মোসাদ্দেক যখন তেল সম্পদ জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন, তখন আমেরিকা ও ব্রিটেন তাকে হটিয়ে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। খামেনি ছিলেন সেই রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, নির্বাসন এবং অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও তিনি তাঁর লক্ষ্যে অটল ছিলেন।

উপসংহার

১৯৩৯ সালে জন্ম নেওয়া আলী খামেনি যখন বিদায় নিলেন, তখন তিনি এক বিভক্ত কিন্তু সামরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ইরান রেখে গেলেন। ৮৬ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু কেবল ইরানের জন্য নয়, বরং গোটা বিশ্বের তেল রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্যে এক ভয়াবহ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ইরানকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যায় নাকি নতুন কোনো বিপ্লবের জন্ম দেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


তথ্যসূত্র: ভালি নাসর (Iran’s Grand Strategy: A Political History), আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আর্কাইভ (৩ মার্চ ২০২৬)।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

খামেনির মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

March 1, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন [cite: 1]। এই হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা, শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিও প্রাণ হারান [cite: 1]।

যেভাবে হলো এই ভয়াবহ হামলা

সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে থাকা সত্ত্বেও খামেনি যেভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলেন, তার পেছনের কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  • গোয়েন্দা নজরদারি ও দুর্বলতা শনাক্তকরণ: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের মোসাদ মাসের পর মাস খামেনির ওপর নজরদারি চালিয়ে তাঁর দৈনন্দিন রুটিন নিশ্চিত করে [cite: 1]। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় তেহরানের একটি সুরক্ষিত ভবনে খামেনির উপস্থিতিতে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার খবরটি গোয়েন্দারা জেনে ফেলে [cite: 1]।
  • দুর্ভেদ্য ভবনে হামলা: ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ভবনটি লক্ষ্য করে বাঙ্কার বাস্টার বোমা নিক্ষেপ করে [cite: 1]। ওই একটি ভবনের ওপর অন্তত ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যার ফলে ভবনটি ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা কারো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল না [cite: 1]।

নিরাপত্তার কড়াকড়ি কেন ব্যর্থ হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি প্রধান কারণে খামেনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে:

  1. প্রযুক্তিগত দুর্বলতা: নজরদারি বিমান ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইসরায়েল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খামেনির নিরাপত্তার প্রতিটি নড়াচড়া ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়েছিল [cite: 1]।
  2. গোপন সূত্রের বিশ্বাসঘাতকতা: ধারণা করা হচ্ছে, খামেনির একেবারে কাছের কেউ তাঁর অবস্থানের খবর পাচার করে দিয়েছিল, যা এত নিখুঁত হামলার সুযোগ তৈরি করে [cite: 1]।
  3. কৌশলগত বিস্ময়: ইরান আশা করেনি যে রমজান মাসের ভোরে এবং ইহুদিদের বিশ্রামবারে এমন হামলা হতে পারে [cite: 1]।

অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া ও দ্বিধা

খামেনির শাসনামলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন [cite: 1]। তাঁর মৃত্যুর পর সাধারণ ইরানিদের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ তারা চেয়েছিল খামেনির বিচার তাদের নিজস্ব আদালতে হোক, কিন্তু বাইরের শত্রু (ইসরায়েল ও আমেরিকা) সেই বিচার কেড়ে নিয়েছে [cite: 1]।


সূত্র: প্রদানকৃত তথ্যসূত্র [cite: 1]।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ