নির্বাচনী খবর
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করল তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র পর এই প্রথম একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংস্কারমুখী মন্ত্রিসভা পেল দেশ।
১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক

বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের প্রথম দিকে এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান লড়াই ছিল স্বাধিকারের। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও গত ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থাকে অনেকেই ‘পারিবারিক ও দলীয়করণ’-এর চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের জয়লাভ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথের পরেই নজিরবিহীন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা ১৯০০ সালের সেই নির্ভীক বিপ্লবীদের আদর্শের প্রতিফলন।
নতুন মন্ত্রিসভা ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ তালিকা (এক্সেল ফরম্যাট)

নিচে নতুন সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা এক্সেল শিটের আদলে প্রদান করা হলো:
| ক্রম | নাম | পদমর্যাদা | দপ্তর/মন্ত্রণালয় |
| ১ | তারেক রহমান | প্রধানমন্ত্রী | মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ |
| ২ | মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | মন্ত্রী | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় |
| ৩ | আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | মন্ত্রী | অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় |
| ৪ | সালাহউদ্দিন আহমদ | মন্ত্রী | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| ৫ | ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | মন্ত্রী | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ৬ | হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) | মন্ত্রী | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৭ | আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন | মন্ত্রী | মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ৮ | ডা. খলিলুর রহমান | মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| ৯ | আবদুল আউয়াল মিন্টু | মন্ত্রী | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় |
| ১০ | কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ | মন্ত্রী | ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ১১ | মিজানুর রহমান মিনু | মন্ত্রী | ভূমি মন্ত্রণালয় |
| ১২ | নিতাই রায় চৌধুরী | মন্ত্রী | সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ১৩ | খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির | মন্ত্রী | বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় |
| ১৪ | আরিফুল হক চৌধুরী | মন্ত্রী | শ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ১৫ | জহির উদ্দিন স্বপন | মন্ত্রী | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
| ১৬ | মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ | মন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) | কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় |
| ১৭ | আফরোজা খানম রিতা | মন্ত্রী | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
| ১৮ | মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি | মন্ত্রী | পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ১৯ | আসাদুল হাবিব দুলু | মন্ত্রী | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় |
| ২০ | মো. আসাদুজ্জামান | মন্ত্রী | আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ২১ | জাকারিয়া তাহের | মন্ত্রী | গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| ২২ | দীপেন দেওয়ান | মন্ত্রী | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ২৩ | আ ন ম এহসানুল হক মিলন | মন্ত্রী | শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| ২৪ | সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল | মন্ত্রী | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ২৫ | ফকির মাহবুব আনাম | মন্ত্রী | ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় |
| ২৬ | শেখ রবিউল আলম | মন্ত্রী | সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন |
| ২৭ | এম রশিদুজজামান মিল্লাত | প্রতিমন্ত্রী | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
| ২৮ | অনিন্দ্য ইসলাম অমিত | প্রতিমন্ত্রী | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ২৯ | মো. শরীফুল আলম | প্রতিমন্ত্রী | বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় |
| ৩০ | শামা ওবায়েদ ইসলাম | প্রতিমন্ত্রী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| ৩১ | সুলতান সালাউদ্দিন টুকু | প্রতিমন্ত্রী | কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় |
| ৩২ | ব্যারিস্টার কায়সার কামাল | প্রতিমন্ত্রী | ভূমি মন্ত্রণালয় |
| ৩৩ | ফরহাদ হোসেন আজাদ | প্রতিমন্ত্রী | পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় |
| ৩৪ | মো. আমিনুল হক | প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) | যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় |
| ৩৫ | মো. নুরুল হক নুর | প্রতিমন্ত্রী | শ্রম, কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ৩৬ | ইয়াসের খান চৌধুরী | প্রতিমন্ত্রী | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
| ৩৭ | এম ইকবাল হোসেইন | প্রতিমন্ত্রী | দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় |
| ৩৮ | এম এ মুহিত | প্রতিমন্ত্রী | স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ৩৯ | আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুর | প্রতিমন্ত্রী | গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় |
| ৪০ | ববি হাজ্জাজ | প্রতিমন্ত্রী | শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| ৪১ | আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম | প্রতিমন্ত্রী | সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৪২ | মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন | প্রতিমন্ত্রী | পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৪৩ | মো. রাজিব আহসান | প্রতিমন্ত্রী | সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন |
| ৪৪ | হাবিবুর রশিদ | প্রতিমন্ত্রী | সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন |
| ৪৫ | মো. আব্দুল বারী | প্রতিমন্ত্রী | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় |
| ৪৬ | মীর শাহ আলম | প্রতিমন্ত্রী | স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় |
| ৪৭ | মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি | প্রতিমন্ত্রী | অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় |
| ৪৮ | ইশরাক হোসেন | প্রতিমন্ত্রী | মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
| ৪৯ | ফারজানা শারমীন | প্রতিমন্ত্রী | মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় |
| ৫০ | শেখ ফরিদুল ইসলাম | প্রতিমন্ত্রী | পরিবেশ, বন, ধর্ম এবং আইন ও সংসদ বিষয়ক |
সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (Cabinet Division) প্রজ্ঞাপন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশ গেজেট ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তন দলিল। ৪. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও গুডল এনালাইসিস।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়েছেন। বিশেষ করে ডা. খলিলুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ কূটনীতিক এবং ভিপি নুর ও জোনায়েদ সাকির মতো নতুন ধারার রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, সরকার সব মতাদর্শকে সাথে নিয়ে চলতে চায়। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী বাঙালির স্বপ্ন আজ ২০২৬ সালে এসে আধুনিক ও স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের পথে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।
২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।
৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।
৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।
৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:
| চ্যালেঞ্জ | বর্তমান অবস্থা |
| সামাজিক | ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব। |
| রাজনৈতিক | মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি। |
| সাংস্কৃতিক | মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা। |
| শিক্ষাগত | আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা। |
তথ্যসূত্র (Source):
- আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
- আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
- বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed
বিভাগ: ইতিহাস ও নারী জাগরণ
উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে যখন বাঙালি নারীদের পরিচয় কেবল অন্তঃপুরের আড়ালে সীমাবদ্ধ ছিল, তখন এক নির্ভীক নারী নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তৈরি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র ইতিহাস। তিনি সরলা দেবী চৌধুরাণী—যিনি একাধারে সাহিত্যিক, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ এবং ভারতের প্রথম দিককার নারী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

১. জন্ম ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির প্রভাব

সরলা দেবীর জন্ম ১৮৭২ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তাঁর পিতা জানকীনাথ ঘোষাল ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং মাতা স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ প্রখ্যাত সাহিত্যিক। সম্পর্কে কবিগুরু ছিলেন সরলা দেবীর ছোট মামা। ঠাকুরবাড়ির মুক্ত সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক আবহে বড় হওয়া সরলা দেবীর জীবনে ‘রবি মামা’র প্রভাব ছিল অপরিসীম।
২. শিক্ষার আলোকবর্তিকা ও ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’

অদম্য মেধাবী সরলা দেবী ১৮৮৬ সালে এন্ট্রান্স পাস করে বেথুন কলেজে ভর্তি হন। ১৮৯০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বি.এ. পাস করেন। সেই সময় মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় তিনি লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’। সে আমলের নারীদের জন্য এটি ছিল এক অভাবনীয় মাইলফলক।
৩. স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই ও ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’

তৎকালীন উচ্চবিত্ত সমাজের নারীরা জীবিকা অর্জনের কথা চিন্তা না করলেও সরলা দেবী ছিলেন ব্যতিক্রম। পরিবারের অমত সত্ত্বেও তিনি মহীশূরের মহারাণী গার্লস কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। স্বদেশী পণ্য প্রসারের লক্ষ্যে ১৯০৪ সালে তিনি বৌবাজারে স্থাপন করেন ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’। এটি কেবল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং স্বদেশী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্তম্ভ ছিল।
৪. বন্দেমাতরমের সুরকার ও বিপ্লবী চেতনা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম স্তবকের সুর দিয়েছিলেন সরলা দেবী চৌধুরাণী। এটি তাঁর দেশপ্রেমের এক অনন্য স্বাক্ষর। এছাড়াও যুবকদের আত্মরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’ ও ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ পালনের সূচনা করেন। তরবারি চালনা ও লাঠি খেলার প্রচলনের মাধ্যমে তিনি বাঙালি যুবকদের মধ্যে বীরত্ব জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন।
৫. ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল ও নারী আন্দোলন

১৯১০ সালে এলাহাবাদে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল’। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এটিই ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় নারী সংগঠন। দিল্লি, কানপুর, ইলাহাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর শাখা ছড়িয়ে ছিল, যার মাধ্যমে নারীদের হাতের কাজ ও শিক্ষা বিস্তারের কাজ চলত।
৬. মহাত্মা গান্ধী ও ব্যক্তিগত জীবন

১৯০৫ সালে তিনি বিপ্লবী ও সাংবাদিক রামভুজ দত্ত চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পাঞ্জাবে চলে যান। সেখানে তিনি তাঁর স্বামীর সাথে ‘হিন্দুস্তান’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর কাছে দীক্ষা নিয়ে আধ্যাত্মিক পথে চলে যান।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: সরলা দেবী কেবল ঠাকুরবাড়ির একজন নক্ষত্র ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন নারীবাদ ও স্বনির্ভরতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনের ঝরাপাতা’ আজও গবেষকদের কাছে সেই সময়ের ইতিহাসের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
এক নজরে সরলা দেবী চৌধুরাণী:
| বিষয় | তথ্য |
| জন্ম | ৯ সেপ্টেম্বর ১৮৭২। |
| প্রধান পরিচয় | সাহিত্যিক, সুরকার ও সমাজ সংস্কারক। |
| সুরারোপিত গান | বন্দেমাতরম (প্রথম স্তবক)। |
| সংগঠন | লক্ষ্মী ভাণ্ডার, ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল। |
| বিখ্যাত বই | জীবনের ঝরাপাতা (আত্মজীবনী), নববর্ষের স্বপ্ন। |
| মৃত্যু | ১৮ আগস্ট ১৯৪৫। |
তথ্যসূত্র (Source):
- উইকিপিডিয়া: সরলা দেবী চৌধুরাণী – জীবনী।
- বাংলাপিডিয়া: চৌধুরানী, সরলাদেবী – জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- অনুশীলন: সরলা দেবী ও ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
বিভাগ: অপরাধ ও রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত নাম লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। ১৯৭৫ সালে রক্ষীবাহিনীতে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা এই ব্যক্তি ক্ষমতার পালাবদলে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে টিকে ছিলেন। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বেরিয়ে আসছে তার অন্ধকার জগতের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।


মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল রক্ষীবাহিনীর সদস্য হিসেবে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’র সময় তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। তৎকালীন টাস্ক ফোর্সের প্রধান হিসেবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতন এবং ‘ট্রুথ কমিশন’-এর নামে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেকের কাছে তিনি ‘ইন্ডিয়ান পাপেট’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
২. আওয়ামী লীগের ‘ছায়া’ ও রাজনৈতিক সুবিধা

ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি ছিলেন সবচাইতে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের একজন। এর পুরস্কারস্বরূপ:
- কূটনৈতিক পদ: নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- সংসদ সদস্য: জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ফেনী-৩ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা মূলত আওয়ামী লীগের সাথে সমঝোতারই অংশ ছিল।
৩. ২৪ হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট ও মানবপাচার

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে সবচাইতে বড় অভিযোগ হলো মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির নামে গড়ে তোলা বিশাল সিন্ডিকেট। দরিদ্র শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এছাড়া ১০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলাও চলছে।
৪. জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যার অভিযোগ ও গ্রেপ্তার

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে ফেনীতে নিজাম হাজারীর সাথে যোগসাজশে ১১ জন নিরীহ শিক্ষার্থীকে হত্যার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বর্তমানে তার নামে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ২৩ মার্চ ২০২৬ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আদালত তাকে দুই দফায় মোট ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও নোংরা পানি নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ক্ষমতার দাপটে যারা সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করে এবং রক্তের হোলি খেলায় মেতে ওঠে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে তাদের করুণ পরিণতি অনিবার্য। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর এই পতন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বর্তমান মামলাসমূহ:
| মামলার ধরণ | সংখ্যা/বিবরণ |
| হত্যা মামলা | জুলাই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩টি। |
| মানি লন্ডারিং | ১০০ কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। |
| মানবপাচার | মালয়েশিয়া সিন্ডিকেট ও ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ। |
| অন্যান্য | দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা (মোট ১১টি)। |
তথ্যসূত্র (Source):
- প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার: মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
- বিডিনিউজ২৪: এক-এগারোর ভূমিকা ও ট্রুথ কমিশন নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
- ফেনী জেলা প্রতিনিধি: জুলাই হত্যাকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলার বিবরণী।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



