অনলাইনে আয়
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
অনলাইন বিজনেস শুরু করার সহজ উপায়: শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড
আজকের ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ব্যবসা শুরু করা একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত হতে পারে। এটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে খুব বেশি মূলধন ছাড়াই নিজের মেধা এবং দক্ষতা ব্যবহার করে আয় করা সম্ভব। তবে, সফলভাবে একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্য সঠিক পথনির্দেশনা প্রয়োজন। এখানে আমরা আলোচনা করবো কিছু কার্যকরী পদ্ধতি যা একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনাকে সাহায্য করবে আপনার অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে।
১. নিজের দক্ষতা বা স্কিল চিহ্নিত করুন:
আপনার পছন্দ এবং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে ব্যবসা শুরু করা উচিত। আপনি কি লেখালেখি করতে ভালোবাসেন? অথবা গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং করতে পছন্দ করেন? এই ধরনের দক্ষতাই আপনার অনলাইন ব্যবসার মূলধন হয়ে উঠতে পারে। আপনার আগ্রহের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলির উপর কাজ শুরু করুন।
২. ব্লগিং বা কন্টেন্ট রাইটিং (Blogging):
ব্লগিং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দারুণ উপায় হতে পারে, কারণ এটি খুবই কম খরচে শুরু করা যায়। আপনি আপনার পছন্দের যে কোন বিষয় (যেমন: প্রযুক্তি, শিক্ষা, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল) নিয়ে ব্লগ লিখে শুরু করতে পারেন। প্রথমদিকে হয়তো আয় না হলেও, ধৈর্য ধরে কয়েক মাস ব্লগিং চালিয়ে গেলে গুগল অ্যাডসেন্স ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনি প্যাসিভ ইনকাম শুরু করতে পারবেন।
৩. ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing):
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য Upwork, Fiverr এর মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করা যেতে পারে। ডাটা এন্ট্রি, ট্রান্সলেশন, ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো কাজ করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলে আপনি সহজেই আপনার ব্যবসার জন্য প্রাথমিক মূলধন জোগাড় করতে পারবেন।
৪. ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি:
আপনার যদি নোট তৈরির অভ্যাস থাকে কিংবা ডিজাইন করতে ভালো লাগে, তবে আপনি ই-বুক বা টেমপ্লেট তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন। এটি এমন একটি ব্যবসা যা একবার তৈরি করলে পুনরায় বিক্রি করা যায়, যা আপনার আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।
৫. সময় ব্যবস্থাপনা:
একজন শিক্ষার্থীর প্রধান কাজ পড়াশোনা। তাই এমন একটি ব্যবসা মডেল বেছে নিন যা পড়াশোনার উপর প্রভাব ফেলবে না। আপনি দিনে ১-২ ঘণ্টা সময় দিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। এতে আপনার পড়াশোনা ও ব্যবসার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সুত্র:
এই গাইডে উল্লেখ করা সমস্ত তথ্য এবং উপায়গুলি বিভিন্ন সফল শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান এবং অনলাইন ব্যবসা শুরু করার জন্য আরও পথনির্দেশনা চান, তবে নিচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করুন:
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রযুক্তি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র আইটি কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)
ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথচ ‘IP Address’ শব্দটির সাথে পরিচিত নন, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কিন্তু এই আইপি অ্যাড্রেস আসলে কীভাবে কাজ করে? কেন এটি প্রতিটি ডিভাইসের জন্য অপরিহার্য? আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা আইপি অ্যাড্রেসের আদ্যোপান্ত এবং এর বিভিন্ন সংস্করণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
১. IP (Internet Protocol) কী?

সহজ কথায়, Internet Protocol বা আইপি হলো একটি ডিজিটাল ঠিকানা। আপনি যখন কাউকে চিঠি পাঠান, তখন যেমন একটি পোস্টাল অ্যাড্রেস প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি ইন্টারনেটে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য যে লজিক্যাল আইডেন্টিফায়ার (Logical Identifier) ব্যবহৃত হয়, তাকেই আইপি অ্যাড্রেস বলে। এটি সাধারণত ৩২ বিট (IPv4) অথবা ১২৮ বিট (IPv6) এর হয়ে থাকে।
২. আইপি অ্যাড্রেসের ক্লাসিফিকেশন (Class of IP)

আইপি অ্যাড্রেস মূলত ৫টি ক্লাসে বিভক্ত। আপনার নেটওয়ার্ক কত বড় বা ছোট, তার ওপর ভিত্তি করে এই ক্লাসগুলো নির্ধারিত হয়:
| ক্লাস | রেঞ্জ (Range) | ব্যবহারের ক্ষেত্র |
| Class A | 0 – 127 | বিশাল নেটওয়ার্ক (যেমন: বড় কর্পোরেট বা টেলিকম) |
| Class B | 128 – 191 | মাঝারি থেকে বড় নেটওয়ার্ক (যেমন: বিশ্ববিদ্যালয়) |
| Class C | 192 – 223 | ছোট নেটওয়ার্ক (যেমন: লোকাল অফিস বা বাসা-বাড়ি) |
| Class D | 224 – 239 | মাল্টিকাস্টিং (Multicast) নেটওয়ার্কের জন্য সংরক্ষিত |
| Class E | 240 – 255 | বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষামূলক কাজের জন্য সংরক্ষিত |
৩. IPv4 বনাম IPv6: পার্থক্য ও ভবিষ্যৎ

প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির সাথে সাথে ইন্টারনেটে ডিভাইসের সংখ্যা এত বেড়েছে যে, পুরনো IPv4 অ্যাড্রেস প্রায় ফুরিয়ে আসছে।
- IPv4 (Version 4): এটি ৩২ বিটের অ্যাড্রেস স্পেস। এর মাধ্যমে প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন (৫ বিলিয়ন প্রায়) অ্যাড্রেস তৈরি করা সম্ভব। ১৯৮৩ সালে চালুর পর এটিই ইন্টারনেটের প্রধান প্রোটোকল হিসেবে কাজ করছে।
- IPv6 (Version 6): এটি ১২৮ বিটের একটি বিশাল অ্যাড্রেস স্পেস। এর মাধ্যমে প্রায় ৩৪০ আন্ডেসিলিয়ন (৩৪০-এর পর ৩৬টি শূন্য!) অ্যাড্রেস পাওয়া সম্ভব। বর্তমান যুগের ৫জি এবং আইওটি (IoT) ডিভাইসের জন্য এটিই ভবিষ্যৎ।
৪. IPv4 থেকে IPv6-এ রূপান্তরের পদ্ধতি

ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স (IETF) দুটি প্রোটোকলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে তিনটি বিশেষ সিস্টেম তৈরি করেছে:
১. Dual Stack: যেখানে একটি নেটওয়ার্কে একই সাথে IPv4 ও IPv6 চলতে পারে।
২. Tunneling: IPv4 নেটওয়ার্কের ভেতর দিয়ে IPv6 ডাটা প্যাকেট পাঠানোর প্রক্রিয়া।
৩. Translation (NAT64): এটি একটি ইন্টারফেসের মতো কাজ করে যা IPv4 এবং IPv6 এর মধ্যে তথ্য অনুবাদ করে দেয়।
বিশেষ বিশ্লেষণ:২০২৬ সালের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ও কুরবানির তাৎপর্য।
উপসংহার: কেন আপনার আইপি সম্পর্কে জানা জরুরি?
আপনার আইপি অ্যাড্রেস লুকানোর জন্য আপনি ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করতে পারেন, অথবা নেটওয়ার্ক ট্রাবলশুটিংয়ের জন্য আপনার আইপি ক্লাস সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সাইবার নিরাপত্তার এই যুগে আইপি অ্যাড্রেস হলো আপনার ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মতো।
তথ্যসূত্র ও টেকনিক্যাল সোর্স (References):
- IETF (Internet Engineering Task Force): IPv6 ট্রান্সলেশন ও প্রোটোকল গাইডলাইন।
- IANA (Internet Assigned Numbers Authority): গ্লোবাল আইপি অ্যাড্রেস ডিস্ট্রিবিউশন রেকর্ড।
- বিডিএস ডিজিটাল ল্যাবস: নেটওয়ার্কিং ও আইপি অ্যাড্রেসিং এনালাইসিস ২০২৬।
- গুগল নিউজ টেক: ১ এপ্রিল ২০২৬-এর লেটেস্ট নেটওয়ার্কিং আপডেট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র এসইও ও ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট)
হলিউড সিনেমা ‘হ্যাকার’ বা সাই-ফাই মুভিগুলোতে আমরা প্রায়ই দেখি এক রহস্যময় নেটওয়ার্কের কথা, যেখানে অপরাধীরা পুলিশের চোখের আড়ালে তাদের কার্যক্রম চালায়। আপনার কি মনে হয় এগুলো শুধুই গল্প? মোটেও না! আমাদের পরিচিত ইন্টারনেটের আড়ালে রয়েছে এক বিশাল অন্ধকার জগত, যাকে বলা হয় ডার্ক ওয়েব (Dark Web)।
আজকের এই ব্লগে আমরা উন্মোচন করবো ডার্ক ওয়েবের সেই অজানা রহস্য এবং জানবো কেন গুগল এই জগতের মাত্র ১০% তথ্য আমাদের দেখায়।
১. ইন্টারনেটের বিশালতা: আমরা কতটুকু দেখি?

আপনি কি জানেন, আপনি যখন গুগলে কিছু সার্চ করেন, তখন গুগল আপনাকে ইন্টারনেটের মোট তথ্যের মাত্র ১০ শতাংশ ফলাফল দেখায়? বাকি ৯০ শতাংশ তথ্যই সাধারণ সার্চ ইঞ্জিনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইন্টারনেটের এই গঠনকে একটি হিমবাহের (Iceberg) সাথে তুলনা করা হয়:
- সারফেস ওয়েব (Surface Web): ফেসবুক, ইউটিউব বা আপনার প্রিয় নিউজ সাইটগুলো।
- ডিপ ওয়েব (Deep Web): পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত ডাটাবেজ, আপনার ইমেইল বা ব্যাংকিং তথ্য।
- ডার্ক ওয়েব (Dark Web): ইন্টারনেটের গভীরতম অংশ, যা সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে খোলা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:বাংলাদেশে বিওয়াইডি (BYD) গাড়ি উৎপাদন করবে রানার: শেয়ারবাজারে ১০% লম্ফম কী?
২. কেন গুগল ডার্ক ওয়েব খুঁজে পায় না?
গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো Crawler নামক ভার্চুয়াল রোবট ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করে। ডার্ক ওয়েবের সাইটগুলো Robot Exclusion Protocol ব্যবহার করে এই রোবটগুলোকে আটকে দেয়। এছাড়া এই সাইটগুলোর ইউআরএল (URL) হয় অত্যন্ত অদ্ভুত (যেমন: sdjsdhsjhs...onion), যা সাধারণ মানুষের পক্ষে মনে রাখা বা খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
৩. ডার্ক ওয়েবে কী কী পাওয়া যায়? (ভয়ংকর কিছু সত্য)
এই জগতটি যেমন রহস্যময়, তেমনই বিপজ্জনক। ডার্ক ওয়েবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা আপনার কল্পনাকেও হার মানাবে:
- ব্ল্যাক মার্কেট: এখানে বিটকয়েনের মাধ্যমে মাদক, অস্ত্র এবং চোরাই ক্রেডিট কার্ডের তথ্য কেনাবেচা হয়।
- কিলার সার্ভিস: ডার্ক ওয়েবে এমন কিছু সাইট রয়েছে যেখানে টাকার বিনিময়ে প্রফেশনাল কিলার বা হিটম্যান ভাড়া পাওয়া যায়!
- গোপন তথ্য: উইকিলিকসের মতো অনেক বড় বড় ফাঁস হওয়া তথ্য সারফেস ওয়েবে আসার অনেক আগে থেকেই এখানে আদান-প্রদান হয়।
বিশেষ টিপস: আপনি কি জানেন ডার্ক ওয়েবের হ্যাকারদের থেকে আপনার ওয়াই-ফাই সুরক্ষিত আছে কি না?
৪. টর (Tor) ব্রাউজার ও অনিয়ন নেটওয়ার্ক
ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে হলে সাধারণ ক্রোম বা ফায়ারফক্স কাজ করবে না। এজন্য প্রয়োজন হয় Tor (The Onion Router) ব্রাউজার। এটি আপনার পরিচয় এবং লোকেশন সম্পূর্ণ লুকিয়ে ফেলে। মূলত মার্কিন নেভির গোপন যোগাযোগের জন্য এটি তৈরি করা হলেও এখন এটি ছদ্মবেশী অপরাধীদের প্রথম পছন্দ।
সতর্কবার্তা: কেন আপনার ডার্ক ওয়েব থেকে দূরে থাকা উচিত?
ডার্ক ওয়েব যতটা আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার প্রতিটি পদক্ষেপে রয়েছে হ্যাকিং এবং ম্যালওয়্যার সংক্রমণের ভয়। আপনার সামান্য একটি ভুল ক্লিকেই আপনার সম্পূর্ণ ডিভাইস হ্যাক হতে পারে। তাছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় এই নেটওয়ার্কে নজরদারি চালায়।
উপসংহার
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানা থাকা ভালো, কিন্তু সেখানে প্রবেশ করা মোটেও নিরাপদ নয়। ইন্টারনেটের এই মহাসমুদ্রে নিরাপদে বিচরণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২০ মার্চ ২০২৬: টাকা উপার্জন করা কোনো জাদুমন্ত্র নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল বিজ্ঞান। ১৯০০ সালের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের ডিজিটাল ‘প্যাসিভ ইনকাম’ পর্যন্ত বাঙালির অর্থ উপার্জনের ধরনে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গত এক শতাব্দীতে আমরা বালতি ভরে পানি টানার মতো কায়িক শ্রম থেকে বেরিয়ে এসে ডিজিটাল পাইপলাইন তৈরির যুগে প্রবেশ করেছি।
বর্তমানে যারা সত্যিকারের আর্থিক স্বাধীনতা খুঁজছেন, তাদের জন্য “বিনিয়োগ বাংলা” (Biniyog Bangla) নিয়ে এসেছে অর্থ উপার্জনের এক নতুন আধুনিক দর্শন।
১৯০০-১৯৪৭: সামন্ততান্ত্রিক অর্থনীতি ও শ্রমের আদি রূপ
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি ও জমিদারি প্রথা কেন্দ্রিক। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯১১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও সাধারণ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস ছিল কায়িক শ্রম। তখন টাকা আসা মানেই ছিল রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাঠে কাজ করা। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের সময়কাল থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটলেও আয়ের উৎস ছিল সীমিত এবং সম্পূর্ণ শ্রমনির্ভর।
১৯৪৮-১৯৭১: শিল্পায়ন এবং চাকুরিজীবী শ্রেণির উত্থান

পাকিস্তান আমলে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির স্বাধিকার চেতনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়। ষাটের দশকে শিল্পকারখানা স্থাপন এবং সরকারি চাকুরির প্রতি ঝোঁক বাড়ে। তবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত বাঙালিরা অর্থনৈতিক শোষণের শিকার ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের মাধ্যমে বাঙালি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন দেখে।
১৯৯০-২০২৪: গ্লোবালাইজেশন এবং ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লব
নব্বইয়ের দশকে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবেশ এবং ২০০০ পরবর্তী সময়ে ইন্টারনেটের প্রসার বাংলাদেশের অর্থ উপার্জনের ধারণা বদলে দেয়। গত ১৫-২০ বছরে তরুণ প্রজন্ম কেবল চাকুরির পেছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন শুরু করে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও আসিফ মাহমুদদের মতো বর্তমান নেতৃত্বের আধুনিক চিন্তাধারা ২০২৬ সালের তরুণদের আরও বেশি উদ্যোক্তা ও স্মার্ট ইনকাম করতে উৎসাহিত করছে।
২০২৬: স্মার্ট ইনকাম এবং ‘বিনিয়োগ বাংলা’র পাইপলাইন দর্শন
২০২৬ সালের আজকের ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে টাকা আসার আসল রহস্য হলো—’বালতি বয়ে আনা বন্ধ করে পাইপলাইন তৈরি করা’। গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের ফিন্যান্সিয়াল ট্রেন্ডস ডেটা অনুযায়ী, বর্তমানে মানুষ কায়িক শ্রমের চেয়ে ‘ভ্যালু ক্রিয়েশন’ (Value Creation) এবং ‘প্যাসিভ ইনকাম’-এর দিকে বেশি ঝুঁকছে।
টাকা আসার আধুনিক ৩টি ধাপ যা এখন ট্রেন্ডিং: ১. সমস্যার সমাধান (Solve a Problem): আপনি মানুষের যত বড় সমস্যার সমাধান করবেন, আপনার আয়ের সুযোগ তত বাড়বে। মানুষ হাসিমুখে আপনাকে টাকা দেবে। ২. সময়কে ডুপ্লিকেট করা: ব্যক্তিগত উপস্থিতির বাইরেও কাজ করে এমন সিস্টেম (যেমন- ডিজিটাল কোর্স, ইউটিউব চ্যানেল বা অটোমেটেড বিজনেস) তৈরি করা। ৩. বিনিয়োগ (Investment): মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) কারণে টাকা জমিয়ে রাখলে তার মান কমে যায়। তাই টাকাকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করে ‘প্যাসিভ ইনকাম’ নিশ্চিত করা।
“বিনিয়োগ বাংলা” (Biniyog Bangla) চ্যানেলের মাধ্যমে এই আধুনিক বিনিয়োগ কৌশলগুলো এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে। ২০২৬ সালের এই স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে স্মার্ট ইনভেস্টিংই হচ্ছে স্বাবলম্বী হওয়ার একমাত্র পথ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গাধার মতো পরিশ্রম করে কেউ কোনোদিন প্রকৃত ধনী হতে পারেনি। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে বুদ্ধি খাটিয়ে সিস্টেম তৈরি করাই হলো আসল সফলতা। ড. আব্দুল মঈন খান বা ব্যারিস্টার কায়সার কামালদের বক্তব্যে উঠে আসা জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত আর্থিক সচেতনতার ওপর।
সূত্র: ইনভেস্টমেন্ট আর্কাইভ বাংলাদেশ, যুগান্তর ইকোনমি পেজ, বিনিয়োগ বাংলা রিসার্চ ডেটা এবং ২০২৬ সালের গুগল ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



