টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

ডার্ক ওয়েবের অন্দরমহল: ইন্টারনেটের অদৃশ্য দুনিয়ার মেকানিজম, মারাত্মক ঝুঁকি এবং সুরক্ষার সম্পূর্ণ গাইড
Dark Web

নিউজ ডেস্ক

June 12, 2026

শেয়ার করুন

সাইবার সিকিউরিটি ও টেকনোলজি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬

আমরা প্রতিদিন গুগল, ফেসবুক, উইকিপিডিয়া বা ইউটিউবের মতো যেসব ওয়েবসাইট সহজে ব্যবহার করি, তা আসলে বিশাল ইন্টারনেট জগতের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ অংশ। একে বলা হয় সারফেস ওয়েব (Surface Web)। পানির নিচে লুকিয়ে থাকা বাকি বিশাল অংশটিই হলো ডিপ ওয়েব (Deep Web) এবং এর একটি অত্যন্ত গোপন ও বিশেষায়িত অংশ হলো ডার্ক ওয়েব (Dark Web)। সাধারণ ব্রাউজার বা সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে এই অদৃশ্য দুনিয়ায় প্রবেশ করা অসম্ভব।

১২ জুন ২০২৬ সালের এই বিশেষ প্রতিবেদনে, ডার্ক ওয়েব কীভাবে কাজ করে, এর অপরাধ ও ইতিবাচক দিক এবং কীভাবে আপনার ডিজিটাল ডিভাইস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে হ্যাকারদের হাত থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখবেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার গাইডলাইন তুলে ধরা হলো।

১. মহাসাগরের তিন স্তর: ইন্টারনেট আসলে কত বড়?

সহজ ভাষায় বোঝার জন্য পুরো ইন্টারনেট নেটওয়ার্ককে একটি মহাসাগরের সাথে তুলনা করে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

    ▲     [ সারফেস ওয়েব ] -> ৪-৫% (Google, Facebook, YouTube - সবার জন্য উন্মুক্ত)
  ▲▲▲▲    ------------------------------------------------------------------
 ▲▲▲▲▲▲   [ ডিপ ওয়েব ]   -> ৯০-৯৫% (জিমেইল, অনলাইন ব্যাংকিং, ডাটাবেজ - পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত)
▲▲▲▲▲▲▲▲  ------------------------------------------------------------------
▲▲▲▲▲▲▲▲▲ [ ডার্ক ওয়েব ]  -> ক্ষুদ্র অংশ (.onion সাইট, সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড অপরাধ ও গোপন জগৎ)
  • সারফেস ওয়েব (Surface Web): আমাদের প্রতিদিনের চেনা ইন্টারনেট। এর ডোমেইন নেমগুলো মানুষের পড়ার যোগ্য বা রিডেবল হয় (যেমন: [https://bdsbulbulahmed.com](https://bdsbulbulahmed.com))।
  • ডিপ ওয়েব (Deep Web): এটি ইন্টারনেটের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ অংশ। এই সাইটগুলো পাসওয়ার্ড বা বিশেষ সুরক্ষায় ঢাকা থাকে। যেমন—আপনার ব্যক্তিগত জিমেইল ইনবক্স, অনলাইন ব্যাংকিং প্রোফাইল, ড্রপবক্স বা প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ। এগুলো কোনো অবৈধ বিষয় নয়, বরং নিরাপত্তার স্বার্থেই সাধারণের আড়ালে রাখা হয়।
  • ডার্ক ওয়েব (Dark Web): এটি ডিপ ওয়েবেরই একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং বিশেষায়িত অংশ। এখানকার ওয়েবসাইটগুলোর আইডেন্টিটি এবং আইপি অ্যাড্রেস সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড (লুকানো) থাকে। এই সাইটগুলোর ইউআরএল বা লিংক সাধারণ ডটকম (.com) বা ডটঅর্গ (.org) হয় না; এগুলো হয় এলোমেলো অক্ষরের .onion এক্সটেনশনের।

২. ডার্ক ওয়েব কীভাবে কাজ করে?

  • বিশেষ ব্রাউজার (Tor/I2P): ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে সাধারণ ক্রোম বা ফায়ারফক্স ব্রাউজার কাজ করে না। এর জন্য TOR (The Onion Router) বা I2P এর মতো বিশেষ ব্রাউজার প্রয়োজন হয়।
  • লেয়ারড সিকিউরিটি বা পেঁয়াজের খোসা: টর নেটওয়ার্কে তথ্যের আদান-প্রদান পেঁয়াজের খোসার মতো অনেকগুলো স্তর বা লেয়ারে এনক্রিপ্ট করা থাকে। এটি ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় এবং অবস্থান (IP Address) সম্পূর্ণ গোপন রাখে।
  • ডিজিটাল ও বেনামী মুদ্রা: এখানে কোনো দেশের সরকারি কাগজের মুদ্রা বা সাধারণ ক্রেডিট কার্ড চলে না। কেনাবেচার জন্য সম্পূর্ণ ট্র্যাকিং অযোগ্য ক্রিপ্টোকারেন্সি—বিশেষ করে বিটকয়েন (Bitcoin) এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তার জন্য মনোরো (Monero) ব্যবহার করা হয়।

৩. ডার্ক ওয়েবের অন্ধকার দিক: প্রধান সাইবার ক্রাইম সমূহ

ডার্ক ওয়েব তার পরিচয় গোপন রাখার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়ার কারণে এটি বৈশ্বিক সাইবার অপরাধীদের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে:

  • চোরাই ডেটা কেনাবেচা (Data Laundering): হ্যাকাররা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ডেটাবেজ হ্যাক করে কোটি কোটি মানুষের ক্রেডিট কার্ড নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসওয়ার্ড এবং মেডিকেল রেকর্ড এখানে এনে বিক্রি করে।
  • অবৈধ ড্রাগ ও অস্ত্রের ব্ল্যাক মার্কেট: একসময়ের কুখ্যাত ‘সিল্ক রোড’ (যা বর্তমানে বন্ধ) এর মতো শত শত ব্ল্যাক মার্কেটপ্লেস এখানে সক্রিয়, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ মাদক, কাস্টমাইজড আগ্নেয়াস্ত্র এবং জাল পাসপোর্ট দেদারসে বিক্রি হয়।
  • ম্যালওয়্যার ও র‍্যানসমওয়্যার বিক্রি: পেশাদার সাইবার অপরাধীরা ক্ষতিকারক ভাইরাস বা র‍্যানসমওয়্যার তৈরি করে অন্য সাধারণ অপরাধীদের কাছে চুক্তি বা লাইসেন্স আকারে (Ransomware-as-a-Service) ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করে।
  • হ্যাকার ভাড়া (Hacking-for-Hire): নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি, ওয়েবসাইট বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভার ডাউন বা হ্যাক করার জন্য পেশাদার হ্যাকারদের ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া করা যায়।
  • মানি লন্ডারিং: ট্র্যাকিং অযোগ্য ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে অর্জিত কালো টাকা বিভিন্ন হাত বদল করে বৈধ করার কাজ এখানে সহজে করা হয়।

৪. ডার্ক ওয়েবের ইতিবাচক দিক (সদ্ব্যবহার)

সব ডার্ক ওয়েব ব্যবহারকারী অপরাধী নন। অনেকে নিজের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতার জন্য এটি ব্যবহার করেন:

  • হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্যফাঁসকারী: যারা সরকারের বড় কোনো দুর্নীতি বা গোপন অপরাধ বিশ্বের সামনে ফাঁস করতে চান, তারা নিজেদের জীবন রক্ষার্থে পরিচয় লুকাতে এটি ব্যবহার করেন (যেমন—উইকিলিকস)।
  • সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট: স্বৈরাচারী বা কঠোর সেন্সরশিপ যুক্ত দেশে মুক্ত সাংবাদিকতা এবং নিরাপদ যোগাযোগের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
  • কর্পোরেট ট্র্যাকিং এড়ানো: সাধারণ মানুষ যারা করপোরেট ট্র্যাকিং বা নজরদারি এড়াতে চান, তারা এটি ব্যবহার করেন। এমনকি বিবিসি (BBC), ফেসবুক (Facebook) এবং সিআইএ (CIA)-র মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানেরও নিজস্ব অফিশিয়াল ডার্ক ওয়েব সংস্করণ (.onion সাইট) রয়েছে।

৫. সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

কৌতূহলের বশেও ডার্ক ওয়েবের নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা বা এর সাথে যুক্ত হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ:

  • ডিভাইস হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা: ডার্ক ওয়েবের বেশিরভাগ লিংকেই ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার লুকানো থাকে। সাধারণ একটি ক্লিকেই আপনার কম্পিউটার বা ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
  • পরিচয় চুরি (Identity Theft): কোনোভাবে ডার্ক ওয়েবের সাইটগুলোতে নিজের আসল নাম, ইমেইল বা ফোন নম্বর ব্যবহার করলে, হ্যাকাররা তা ব্যবহার করে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া আইডি মুহূর্তেই হ্যাক করতে পারে।
  • আইনি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি: বিশ্বজুড়ে এফবিআই (FBI), ইন্টারপোল বা বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডার্ক ওয়েবের সাইটগুলোতে ফাঁদ (Honeypot) পেতে রাখে। অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ করলে আপনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।
  • আর্থিক প্রতারণা: ডার্ক ওয়েবের ৯৯% বাণিজ্য বা অফারই ভুয়া। কোনো সেবা বা পণ্য কেনার জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠালে তা ফেরত পাওয়ার কোনো গ্যারান্টি থাকে না।

৬. ডার্ক ওয়েবে আপনার তথ্য লিক হয়েছে কি? ফ্রিতে চেক করার উপায়

আপনার ইমেইল বা পাসওয়ার্ড হ্যাকারদের হাতে ডার্ক ওয়েবে চলে গেছে কিনা তা সম্পূর্ণ ফ্রিতে এবং নিরাপদে পরীক্ষা করার জন্য নিচের বিশ্বস্ত টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

  • Have I Been Pwned (HIBP): এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ ওয়েবসাইট (haveibeenpwned.com)। এখানে আপনার ইমেইল বা ফোন নম্বর লিখে সার্চ করলেই দেখতে পাবেন কোনো ডেটা ব্রিচে (Data Breach) আপনার তথ্য লিক হয়েছে কিনা। এর “Passwords” ট্যাবে গিয়ে আপনার পাসওয়ার্ডটি ডার্ক ওয়েবে উন্মুক্ত আছে কিনা তাও চেক করতে পারবেন।
  • Google Dark Web Report / Google One: আপনার যদি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে গুগলের ‘Security Checkup’ সেকশনে গিয়ে ডার্ক ওয়েব রিপোর্ট (Dark Web Report) রান করতে পারেন। এটি আপনার ইমেইল, নাম, জন্মতারিখ বা ফোন নম্বর ডার্ক ওয়েবে আছে কিনা তা স্ক্যান করে জানিয়ে দেয়।
  • Firefox Monitor: মজিলা ফায়ারফক্সের এই সার্ভিসটি (monitor.firefox.com) আপনার ইমেইল ডার্ক ওয়েবে লিক হলে আপনাকে সতর্কবার্তা পাঠায় এবং কোন কোন সাইট থেকে তথ্য লিক হয়েছে তার তালিকা দেখায়।
  • পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের ইন-বিল্ট স্ক্যানার: Bitwarden, 1Password বা Google Chrome-এর পাসওয়ার্ড ম্যানেজারে “Check Passwords” অপশন থাকে, যা আপনার সেভ করা পাসওয়ার্ডগুলোর মধ্যে কোনটি ডার্ক ওয়েবে উন্মুক্ত হয়ে গেছে তা তাৎক্ষণিক জানিয়ে দেয়।

৭. ডিভাইস ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার স্ট্র্যাটেজি

ডার্ক ওয়েবের হ্যাকার বা সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলুন:

ডিজিটাল ডিভাইস সুরক্ষায়:

  1. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA): আপনার ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সব অ্যাকাউন্টে ২-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (যেমন: Google Authenticator বা Microsoft Authenticator অ্যাপ) চালু করুন। শুধু পাসওয়ার্ড জানলেও হ্যাকার আপনার ফোনে আসা কোড ছাড়া লগইন করতে পারবে না।
  2. ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার: প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদা এবং জটিল (যেমন: বর্ণ, সংখ্যা ও প্রতীকের মিশ্রণ) পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। একটি সাইটের পাসওয়ার্ড লিক হলে যেন হ্যাকার আপনার অন্য সাইট হ্যাক করতে না পারে।
  3. সফটওয়্যার ও ওএস আপডেট: আপনার ফোন, কম্পিউটার এবং ব্যবহৃত অ্যাপগুলো সবসময় লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট রাখুন। সিকিউরিটি আপডেটগুলো হ্যাকারদের সিস্টেমে ঢোকার পথ (Security Loopholes) বন্ধ করে দেয়।
  4. অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা: ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আসা লূর্তি জেতা বা আকর্ষণীয় অফারের কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করবেন না। এগুলো ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ফিশিং (Phishing) ফাঁদ।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক সুরক্ষায়:

  1. আলাদা ইমেইল ব্যবহার: আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) এবং ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের জন্য কখনোই একই ইমেইল ব্যবহার করবেন না। আর্থিক লেনদেনের ইমেইল সম্পূর্ণ আলাদা ও গোপন রাখুন।
  2. ওটিপি (OTP) ও পিন (PIN) গোপন রাখা: ব্যাংক বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সেজে কেউ ফোন করলেও কখনোই আপনার ওটিপি বা পিন কোড কাউকে বলবেন না। কোনো ব্যাংক বা বিকাশ/নগদ কর্তৃপক্ষ কখনো পিন বা ওটিপি জানতে চায় না।
  3. নিয়মিত স্টেটমেন্ট চেক ও অ্যালার্ট: ব্যাংকের ট্রানজেকশন অ্যালার্ট (SMS/Email) চালু রাখুন। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে আপনার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ও স্টেটমেন্ট চেক করুন, যাতে কোনো অননুমোদিত লেনদেন হলে সাথে সাথে ব্যাংকে রিপোর্ট করতে পারেন।
  4. ভার্চুয়াল বা লিমিটেড ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড: অনলাইন শপিং বা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে কেনাকাটার জন্য মূল কার্ড ব্যবহার না করে ‘ভার্চুয়াল কার্ড’ ব্যবহার করুন এবং সেটির খরচের সীমা (Limit) সবসময় কমিয়ে রাখুন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন

ডার্ক ওয়েব প্রযুক্তির এক অনন্য কিন্তু মারাত্মক বিপজ্জনক সৃষ্টি। ইন্টারনেটের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এটি তৈরি হলেও বর্তমানে তা ডার্কনেট অপরাধীদের আখড়া। সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে কৌতূহলবশত এখানে প্রবেশ করার চেয়ে সারফেস ওয়েবে নিজের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সুরক্ষিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতাই সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

নির্ভরযোগ্য সংবাদ ও তথ্যের সূত্রসমূহ (Sources)

১. গ্লোবাল সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট (২০২৬): ডার্কনেট মার্কেটপ্লেস ট্র্যাকিং ও ডেটা ব্রিচ অ্যানালিসিস।

২. হ্যাব আই বিন পনড (HIBP) ও গুগল সিকিউরিটি ল্যাবস: ডাটাবেজ সিকিউরিটি এবং আইডেন্টিটি থেফট প্রোটেকশন গাইড।

প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেটের এমন সব অজানা ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ পড়তে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিকাশ

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
তথ্যসূত্র: বিকাশ (bKash) সিকিউরিটি গাইডলাইন, বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) 

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে অনলাইন শপিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অভিনব সব সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণা। প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ বিভিন্ন লোভনীয় অফার বা চতুর ফিশিংয়ের ফাঁদে পড়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। গুগলের ২০২৬ সালের সর্বশেষ ইউজার সেফটি ও সিকিউরিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, অনলাইন শপিং ও বিকাশ ব্যবহার করার সময় জালিয়াতি চক্রকে ধরার ৭টি পাকা ও প্রমাণিত উপায় নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: 

১. অস্বাভাবিক মূল্যছাড় এবং “অবাস্তব” অফার (Too Good to be True)
প্রতারক চক্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো লোভ। বাজারে যে প্রোডাক্টটির আসল দাম ৫,০০০ টাকা, কোনো পেজ বা ওয়েবসাইটে যদি সেটি মাত্র ১,৫০০ টাকায় ‘অফারের’ নামে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দেখেন, তবে শুরুতেই সতর্ক হন। আইফোন, প্রিমিয়াম গ্যাজেট বা ব্র্যন্ডেড পোশাকের ক্ষেত্রে এই ধরনের অবাস্তব ছাড় মূলত ক্রেতাদের ফাঁদে ফেলার প্রথম ধাপ। 

২. শুধু ‘অ্যাডভান্স ফুল পেমেন্ট’ বা অগ্রিম টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া
বিশ্বস্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) বা কন্ডিশনাল ডেলিভারির সুবিধা দেয়। কিন্তু কোনো নতুন বা স্বল্প পরিচিত পেজ যদি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার আগেই বিকাশের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা বা অতিরিক্ত ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম পরিশোধ করার জন্য অনবরত চাপ দিতে থাকে, তবে বুঝতে হবে এখানে বড় ধরনের গড়মিল রয়েছে। নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাস্টমারকে পেমেন্টের জন্য বারবার তাগাদা দেয় না। 

৩. ভুয়া বিকাশ কল এবং পিন/ওটিপি (PIN/OTP) চাওয়া
বিকাশ প্রতারণার অন্যতম সাধারণ পদ্ধতি হলো গ্রাহককে ফোন করে বলা যে, “আমি বিকাশ অফিস থেকে বলছি, আপনার অ্যাকাউন্টটি ব্লক হয়ে গেছে” অথবা “ভুল করে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে, ওটিপি (OTP) কোডটি বলুন।” মনে রাখবেন, বিকাশের কোনো কর্মকর্তা বা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কখনোই আপনার ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কিংবা ৪ বা ৫ ডিজিটের গোপন পিন (PIN) নম্বর জানতে চাইবে না। কেউ এটি চাইলেই নিশ্চিতভাবে সে একজন প্রতারক। 

৪. ভুয়া এসএমএস (Fake SMS) ও স্পুফিং লিংকের ব্যবহার
অনেক সময় প্রতারকেরা হুবহু বিকাশের মেসেজ ফরম্যাট নকল করে আপনার ফোনে বার্তা পাঠায়, যাতে লেখা থাকে “You have received TK. 5,000″। এই মেসেজগুলো কিন্তু আপনার আসল বিকাশ অ্যাপের ব্যালেন্স বাড়ায় না। এছাড়া ‘বিকাশ বোনাস’ বা ‘সরকারি অনুদান’ পাওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ফিশিং লিংক পাঠানো হয়। কোনো লিংকে ক্লিক করে আপনার বিকাশ নম্বর এবং পিন সাবমিট করার আগে অবশ্যই ওয়েবসাইটের ইউআরএল (URL) চেক করুন। বিকাশের আসল ওয়েবসাইট লিংক সবসময় https://www.bkash.com/ দিয়ে শুরু হয়। 

৫. ফেসবুক পেজের লাইক, কমেন্ট ও রিভিউ সেকশন হাইড বা অফ থাকা
অনলাইন শপিং পেজটি আসল নাকি নকল তা চেনার একটি সহজ উপায় হলো তাদের রিভিউ সেকশন। প্রতারক চক্রের পেজগুলোতে সাধারণত কাস্টমার রিভিউ অপশন বন্ধ থাকে এবং পোস্টের কমেন্ট সেকশন হাইড (Hide) বা লিমিটেড করা থাকে, যাতে প্রতারিত হওয়া অন্য ভুক্তভোগীরা সেখানে নেতিবাচক মন্তব্য করতে না পারেন। এছাড়া পেজের ‘Page Transparency’ অপশনে গিয়ে পেজটি কবে তৈরি হয়েছে এবং এর আগে কতবার নাম পরিবর্তন করা হয়েছে তা দেখে এর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা যায়। 

৬. ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে (Personal Number) ‘সেন্ড মানি’ করার তাগিদ
যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রফেশনাল অনলাইন শপের নিজস্ব ‘বিকাশ মার্চেন্ট’ (Merchant Account) অ্যাকাউন্ট থাকে, যেখানে গ্রাহক ‘মেক পেমেন্ট’ অপশন ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন। কিন্তু বিক্রেতা যদি কোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট না দেখিয়ে আপনাকে বারবার পার্সোনাল নম্বরে ‘সেন্ড মানি’ বা ‘ক্যাশ ইন’ করতে বলে, তবে সাবধান হোন। পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠালে পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার হলেও সেই টাকা ট্র্যাক করা বা রিফান্ড পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। 

৭. লাইভ চ্যাটে ফেসবুক আইডির সত্যতা এবং ট্র্যাকিং আইডি না দেওয়া
পণ্য অর্ডার করার পর যদি তারা কোনো কুরিয়ার সার্ভিসের (যেমন- সুন্দরবন, স্টিডফাস্ট, পাথao) মেমো বা ট্র্যাকিং আইডি দিতে টালবাহানা করে অথবা বারবার কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার নাম করে অতিরিক্ত ‘প্রসেসিং ফি’ দাবি করে, তবে ধরে নেবেন আপনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। জালিয়াতি চক্র সাধারণত টাকা পাওয়ার পরপরই গ্রাহকের ফেসবুক আইডি বা ফোন নম্বর ব্লক করে দেয়। 

প্রতারিত হলে তাৎক্ষণিক করণীয় ও আইনি প্রতিকার:
১. বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭: যদি ভুলবশত কোনো প্রতারককে টাকা পাঠিয়ে দেন বা ওটিপি শেয়ার করে ফেলেন, তবে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে সরাসরি বিকাশের হটলাইন নম্বর ১৬২৪৭-এ কল করে আপনার অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে লক করুন এবং যে নম্বরে টাকা গেছে সেটি রিপোর্ট করুন।
২. জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (DNCRP): অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হলে মেমো, চ্যাটের স্ক্রিনশট এবং পেমেন্ট প্রুফসহ ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।
৩. সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন: বিকাশ বা অনলাইন শপিং জালিয়াতির শিকার হলে নিকটস্থ থানায় জিডি (GD) করুন এবং ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে বা সরাসরি হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। ডিজিটাল সিকিউরিটি ও সাইবার ক্রাইম টিম এই ধরনের অপরাধীদের আইপি ও লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সক্ষম। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ফোন

নিউজ ডেস্ক

November 6, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
তথ্যসূত্র: MobileDokan Mobile Price List, অ্যাপল গ্যাজেটস এবং বাংলাদেশে অনুমোদিত মোবাইল ইমপোর্টার্স ডাটাবেস। 

স্মার্টফোন বাজারে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া আর তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেল যুক্ত হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে এসে দেশের বাজারে স্যামসাং, শাওমি, রিয়েলমি, অনার এবং দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন বেশ কিছু চমৎকার হ্যান্ডসেট অফিশিয়ালি এবং আনঅফিশিয়ালি অবমুক্ত করেছে। আজকের এই সম্পূর্ণ প্রতিবেদনে আমরা নভেম্বর ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নতুন লঞ্চ হওয়া ফোনগুলোর লাইভ বাজারদর, অফিশিয়াল বনাম আনঅফিশিয়াল দাম এবং সংক্ষিপ্ত স্পেসিফিকেশন তুলে ধরছি। 

১. নতুন লঞ্চ হওয়া অফিশিয়াল স্মার্টফোনের দাম ও স্পেক্স (Official Phones)
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) কর্তৃক অনুমোদিত এবং অফিশিয়াল ওয়ারেন্টিসহ দেশের বাজারে বর্তমানের জনপ্রিয় কিছু নতুন মডেলের তালিকা নিচে দেওয়া হলো: 

  • Xiaomi Redmi 17 5G: শাওমি গত ৩ নভেম্বর দেশের বাজারে অফিসিয়ালি এই ফোনটি রিলিজ করেছে। ফোনটিতে রয়েছে ৬.৯ ইঞ্চির বিশাল ডিসপ্লে, ৫০ মেগাপিক্সেল এআই ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী ৭,৫০০mAh ব্যাটারি, যা ৪৫ ওয়াট টার্বো চার্জিং সাপোর্ট করে।
    • অফিশিয়াল দাম: ৳৩১,৯৯৯ (৪জিবি/৬জিবি র‍্যাম). 
  • Samsung Galaxy A18: মিড-বাজেট সেগমেন্ট মাতাতে স্যামসাং নিয়ে এসেছে এই ৫জি ডিভাইস। ৬.৭ ইঞ্চির সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে, এক্সিনোস ১৬১০ প্রসেসর, ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ৫,০০০mAh ব্যাটারির সাথে এতে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ আপডেট।
    • অফিশিয়াল দাম: ৳৩৭,৬৯৯. 
  • Honor 600s: প্রিমিয়াম ডিজাইনের এই ফোনটিতে থাকছে ৬.৮৭ ইঞ্চি ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন ৪ জেন ৪ প্রসেসর এবং ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা.
    • অফিশিয়াল দাম: ৳৪৫,৯৯০. 
  • Walton XANON X2 Ultra: দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটনের নতুন চমক। ৬.৮ ইঞ্চির স্ক্রিন, মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ প্রসেসর, ৮জিবি র‍্যাম এবং ৫০ মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ.
    • অফিশিয়াল দাম: ৳২৪,৯৯৯. 
  • Infinix Note 60 Ultra: হাই-এন্ড সেগমেন্টে ইনফিনিক্সের নতুন ফ্ল্যাগশিপ। ডাইমেনসিটি ৮৪০০ আলটিমেট প্রসেসর, ১২জিবি র‍্যাম, ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ৭,০০০mAh ব্যাটারির একটি দানবীয় কম্বো এটি।
    • অফিশিয়াল দাম: ৳৯৯,৯৯৯. 
  • Helio 65: সাধারণ গ্রাহকদের বাজেটের কথা মাথায় রেখে হেলিও তাদের নতুন ৮জিবি র‍্যামের এই হ্যান্ডসেটটি বাজারে ছেড়েছে।
    • অফিশিয়াল দাম: ৳২১,৯৯৯. 
  • Symphony Max 70: এন্ট্রি লেভেলের ব্যবহারকারীদের জন্য ৪জিবি র‍্যাম ও ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার বাজেট ডিভাইস.
    • অফিশিয়াল দাম: ৳১৪,৪৯৯. 

২. আনঅফিশিয়াল স্মার্টফোনের দাম ও আপডেট (Unofficial Phones)


আমদানি শুল্ক কিংবা বৈশ্বিক লঞ্চের কারণে অনেক জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ ও গেমিং সেন্ট্রিক ফোন সরাসরি আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে বা খোলা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। MobileDokan Unofficial Phones-এর তথ্যানুযায়ী এগুলোর বর্তমান দাম: 

  • ZTE nubia RedMagic 12 Pro Plus: গেমারদের স্বপ্নের এই ফোনে স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট এক্সট্রিম জেন ৬ প্রসেসর এবং ৮,৪০০mAh ব্যাটারির সাথে ১২০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং রয়েছে।
    • আনঅফিশিয়াল দাম: ৳১৪৮,০০০ থেকে ৳১৫০,০০০ এর মধ্যে. 
  • OnePlus 16: নতুন ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে ওয়ানপ্লাসের এই ফোনটিতে ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা এবং ৯,০০০mAh এর বিশাল ব্যাটারি যুক্ত করা হয়েছে.
    • আনঅফিশিয়াল দাম: ৳১৩০,০০০. 
  • Vivo V80: অ্যান্ড্রয়েড ১৭ চালিত এই ফোনটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ প্রসেসর এবং ৭,২০০mAh ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে.
    • আনঅফিশিয়াল দাম: ৳৭৬,০০০ থেকে ৳৮base,০০০. 
  • Realme 16x: মিড-রেঞ্জের একটি দারুণ আনঅফিশিয়াল অপশন। ৭,০০০mAh ব্যাটারি এবং ডাইমেনসিটি ৬৩০০ চিপসেট.
    • আনঅফিশিয়াল দাম: ৳২৬,৫০০. 
  • Honor Win2 RT: স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট প্রসেসর এবং ১২,০৭০mAh এর অবিশ্বাস্য ব্যাটারি লাইফ সম্বলিত প্রিমিয়াম আনঅফিশিয়াল ডিভাইস.
    • আনঅফিশিয়াল দাম: ৳৮০,০০০ থেকে ৳৮৫,০০০. 
  • গুগলের হেল্পফুল কনটেন্ট নির্দেশিকা এবং ব্যবহারকারীদের আর্থিক ও ডেটা সুরক্ষার স্বার্থে নতুন ফোন কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে: 
  • আইএমইআই (IMEI) নিবন্ধন যাচাই: যেকোনো অফিশিয়াল ফোন কেনার আগে বক্সের আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসি-র ডাটাবেজে নিবন্ধিত কি না তা অবশ্যই এসএমএস-এর মাধ্যমে যাচাই করে নিন। 
  • আনঅফিশিয়াল ফোনের ক্ষেত্রে সতর্কতা: আনঅফিশিয়াল ফোনগুলোতে আন্তর্জাতিক বা গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট থাকায় অনেক সময় দেশের লোকাল নেটওয়ার্ক ব্যান্ড কিংবা সরকারি ওটিএ (OTA) সফটওয়্যার আপডেট পেতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়া এতে কোনো অফিশিয়াল ব্র্যান্ড ওয়ারেন্টি ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার থেকে দাবি করা যায় না। 
  • দাম পরিবর্তনশীলতা: আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের রেটের ওঠানামা এবং শুল্ক হারের পরিবর্তনের কারণে আনঅফিশিয়াল ফোনের দাম প্রায়শই কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত কম-বেশি হতে পারে। তাই কেনার আগে সরাসরি রিটেইল শপ থেকে লাইভ রেটটি চেক করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি

নিউজ ডেস্ক

November 4, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: প্রযুক্তি
তথ্যসূত্র: ব্যাটারি ইউনিভার্সিটি (Cadex Electronics), অ্যাপল ও স্যামসাং অফিসিয়াল সাপোর্ট গাইডলাইন এবং আইইইই (IEEE) স্পেকট্রাম প্রযুক্তি জার্নাল 

বর্তমান যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো স্মার্টফোন। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, কেনার কয়েক মাস পরেই ফোনের ব্যাটারির কার্যক্ষমতা বা ‘Battery Health’ দ্রুত কমতে শুরু করে। আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন (Li-ion) ব্যাটারির ক্ষয় হওয়া একটি স্বাভাবিক রাসায়নিক প্রক্রিয়া হলেও, আমাদের কিছু ভুলের কারণে এই প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। বিজ্ঞানসম্মত কিছু নিয়ম মেনে চললে ব্যাটারির এই ক্ষয় রোধ করে এর আয়ু বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব। স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো রাখার ১১টি বৈজ্ঞানিক উপায় নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: 

১. ২০-৮০ নিয়মের বৈজ্ঞানিক প্রয়োগ (Partial Charging)
অনেকেরই অভ্যাস থাকে ফোন ০% এ না নামা পর্যন্ত চার্জ না করা, আবার চার্জে দিলে একবারে ১০০% পূর্ণ করা। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির জন্য এই দুটি চরম অবস্থাই ক্ষতিকর। ব্যাটারিকে সবসময় ২০% থেকে ৮০% চার্জের মধ্যে রাখলে এর ভেতরে রাসায়নিক চাপ (Voltage Stress) সবচেয়ে কম থাকে। ফলে ব্যাটারির সাইকেল লাইফ বা দীর্ঘস্থায়িত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। 

২. সারা রাত ফোন চার্জে রাখার অভ্যাস বর্জন
আধুনিক স্মার্টফোনগুলো ১০০% চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (Trickle Charging) করে দেয়। তবে সারা রাত চার্জে বসিয়ে রাখলে ব্যাটারি যখনই ৯৯% এ নামে, চার্জার আবার সেটিকে ১০০% করে। এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ব্যাটারির তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই ঘুমানোর আগে ফোন চার্জ সম্পন্ন করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ। 

৩. অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা হিট এড়িয়ে চলা
লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অতিরিক্ত তাপ। বিজ্ঞান বলে, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় ফোনের ব্যাটারি দ্রুত স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ফোন কখনো সরাসরি কড়া রোদে, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা চুলার পাশে রাখবেন না। এছাড়া ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কিছুক্ষণের জন্য ব্যবহার বন্ধ রাখুন। 

৪. চার্জিংয়ের সময় ব্যাক কাভার খুলে রাখা
ফোন চার্জ হওয়ার সময় প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা তাপ উৎপন্ন হয়। যদি ফোনে মোটা বা ভারী ব্যাক কাভার বা কেসিং লাগানো থাকে, তবে সেই তাপ বাইরে বের হতে পারে না। এই অবরুদ্ধ তাপ ফোনের ভেতরের তাপমাত্রা বিপদসীমায় নিয়ে যায়। তাই চার্জে দেওয়ার সময় ফোনের ব্যাক কাভারটি খুলে রাখা একটি অত্যন্ত কার্যকর বৈজ্ঞানিক অভ্যাস। 

৫. ফাস্ট চার্জিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা
বর্তমান সময়ের ফাস্ট চার্জারগুলো খুব দ্রুত ফোন চার্জ করতে পারলেও এটি ব্যাটারিতে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে। যদি আপনার খুব বেশি তাড়া না থাকে, তবে সাধারণ গতির চার্জার ব্যবহার করা ব্যাটারির আয়ুর জন্য ভালো। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় চার্জ দিলে ফাস্ট চার্জার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। 

৬. আসল বা সার্টিফাইড চার্জার ও ক্যাবল ব্যবহার
সস্তা বা অননুমোদিত থার্ড-পার্টি চার্জার এবং ক্যাবল ব্যবহার করা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব চার্জার ভোল্টেজ এবং কারেন্টের প্রবাহ সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যা ব্যাটারিকে ওভারহিট করে এবং অনেক সময় ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। সবসময় ফোনের সাথে আসা আসল চার্জার বা সমমানের ব্র্যান্ডেড চার্জার ব্যবহার করুন। 

৭. চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার না করা
ফোনে চার্জ চলাকালীন গেম খেলা, এইচডি ভিডিও দেখা বা ভারী কোনো কাজ করাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘Parasitic Load’। এর ফলে ব্যাটারির ওপর দ্বিগুণ চাপ পড়ে—একদিকে সে শক্তি গ্রহণ করছে, অন্যদিকে উচ্চ গতিতে শক্তি ক্ষয় করছে। এটি ব্যাটারির নির্দিষ্ট অংশকে অতিরিক্ত গরম করে তোলে এবং সেল নষ্ট করে দেয়। 

৮. ডিসপ্লের ব্রাইটনেস ও ‘ডার্ক মোড’ এর সঠিক ব্যবহার
স্মার্টফোনের স্ক্রিন সবচেয়ে বেশি ব্যাটারির শক্তি খরচ করে। ব্রাইটনেস সবসময় অটো-মোডে রাখা ভালো, এতে পারিপার্শ্বিক আলো অনুযায়ী স্ক্রিনের আলো নিয়ন্ত্রিত হয়। তাছাড়া আপনার ফোনে যদি অ্যামোলেড (AMOLED/OLED) ডিসপ্লে থাকে, তবে ‘ডার্ক মোড’ (Dark Mode) ব্যবহার করুন। ডার্ক মোডে ডিসপ্লের কালো অংশগুলোর পিক্সেল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যা প্রচুর ব্যাটারি সাশ্রয় করে। 

৯. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপস ও অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা
অনেক অ্যাপ বন্ধ করার পরেও ব্যাকগ্রাউন্ডে ফোনের প্রসেসর এবং ব্যাটারি ব্যবহার করতে থাকে। ফোনের সেটিংসে গিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বা অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ করে দিন। এছাড়া যেসব অ্যাপের নোটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই, সেগুলোর পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে। 

১০. লোকেশন, ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই ট্র্যাকিং নিয়ন্ত্রণ
জিপিএস বা লোকেশন সার্ভিস, ব্লুটুথ এবং ওয়াই-ফাই অন থাকলে ফোন অনবরত চারপাশের সিগন্যাল স্ক্যান করতে থাকে, যা ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ করে। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই কানেক্টিভিটি ফিচারগুলো বন্ধ করার অভ্যাস করুন। বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক অঞ্চলে ফোন বেশি ব্যাটারি খরচ করে, তাই প্রয়োজনে সেখানে ‘এয়ারপ্লেন মোড’ ব্যবহার করতে পারেন। 

১১. সফটওয়্যার ও অ্যাপস নিয়মিত আপডেট রাখা
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম (Android/iOS) এবং অ্যাপগুলোর ডেভেলপাররা প্রতিনিয়ত ব্যাটারি অপ্টিমাইজেশনের জন্য নতুন আপডেট নিয়ে আসেন। অনেক সময় সফটওয়্যারের কোনো ত্রুটির (Bug) কারণে ব্যাটারি দ্রুত ড্রেন হতে পারে, যা আপডেটের মাধ্যমে ঠিক করা হয়। তাই ফোন ও প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সবসময় সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট রাখুন। 


স্মার্টফোনের ব্যাটারি ভালো রাখতে কোনো অলৌকিক অ্যাপ বা ব্যাটারি সেভার সফটওয়্যারের ওপর ভরসা করবেন না; উল্টো এগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে ব্যাটারি বেশি ক্ষয় করে। উপরে উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক অভ্যাসগুলো আপনার দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলেই কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই আপনার প্রিয় স্মার্টফোনটির ব্যাটারি দীর্ঘদিন সতেজ ও দীর্ঘস্থায়ী রাখা সম্ভব। 

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ