মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক: শেখ মুজিব নাকি জিয়া?
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক

নিউজ ডেস্ক

October 25, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক: শেখ মুজিব নাকি জিয়া?

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ইতিহাসে একাধিক বিতর্ক ও আলোচনা রয়েছে। সাধারণত, অনেকেই শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে চিহ্নিত করেন, তবে ১৯৭১ সালের মার্চে জিয়া উর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি অত্যন্ত বিতর্কিত। এ বিষয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিমত রয়েছে, যা বিষয়টির জটিলতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে।

১. শেখ মুজিবুর রহমান এবং ৭ই মার্চের ভাষণ

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তখনকার রেসকোর্স ময়দান) লাখ লাখ জনতার সামনে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যেখানে তিনি বলেন, “এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।” কিন্তু তাঁর ভাষণ শেষে “জয় পাকিস্তান” বলার মাধ্যমে তিনি পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন এবং আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলেন। এই ভাষণটি সাধারণত স্বাধীনতার প্রেরণা হিসেবে চিহ্নিত হলেও, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না।

এই সময় শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাইছিলেন, এবং তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের সাথে আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। যদিও এই ভাষণটি জাতিকে উজ্জীবিত করেছে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বেশি ধরা হয়, যেখানে তিনি পাকিস্তান ভাঙার জন্য সরাসরি ঘোষণা দেননি।

২. জিয়া উর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা

১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়া উর রহমান তার বিখ্যাত “স্বাধীনতার ঘোষণা” পাঠ করেন। এই ঘোষণা অনেকের কাছে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত, তবে এটা ছিল মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বিদ্রোহের ঘোষণা। এর পর, ২৫ মার্চের পর পাকিস্তান বাহিনী ঢাকায় আক্রমণ শুরু করলে, পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়।

এটি ছিল একটি “বিদ্রোহ” বা “অস্থায়ী স্বাধীনতার ঘোষণা”, কারণ তখনই বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার কাজ শুরু হয়, তবে যেহেতু যুদ্ধের পরিস্থিতি এখনও চলছিল, এটি চূড়ান্ত স্বাধীনতা ঘোষণা ছিল না।

৩. মুজিবনগর সরকার এবং তাজুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্ব

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর, শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান সরকারের হাতে বন্দী হয়ে যান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তাজুদ্দীন আহমেদ এবং অন্যান্য মুজিবনগর সরকারের নেতারা। মুজিবনগর সরকারের অধীনে ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাথমিক সরকার গঠন হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাকে বাস্তবায়ন করার জন্য একটি সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়।

তাজুদ্দীন আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, কামরুজ্জামান, এবং অন্যান্য নেতারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে কাজ শুরু করেন। তাদের এই উদ্যোগে, একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়ক হয়েছিল।

৪. মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের ভূমিকা

মুক্তিযুদ্ধের সময় সেক্টর কমান্ডারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা বাংলাদেশ স্বাধীনতার লক্ষ্যে ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করেছেন এবং পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করেন। সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যে কুমিল্লা, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, এবং অন্যান্য অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নেতারা স্বাধীনতা সংগ্রামের চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেন।

অপরদিকে, যারা জানতেন না বা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল না, তাদের জন্য এটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জ, কিন্তু তারা স্থানীয় জনগণের সহায়তায় নিজেদের ঘাঁটি প্রস্তুত করে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

৫. জিয়া এবং মুজিব: স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোদ্ধা

যদিও ইতিহাসে শেখ মুজিব এবং জিয়া উর রহমানের মধ্যে রাজনৈতিক পার্থক্য ছিল, তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল কাঠামোতে তারা একে অপরের সহযোদ্ধা ছিলেন। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হলেও, জিয়া উর রহমানের সাহসিকতা এবং যুদ্ধের কৌশলও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

১৯৭৫ সালে, মুক্তিযুদ্ধের পর, জিয়া উর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন এবং তিনি নতুন সরকারের অগ্রগতি এবং দেশের উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, কিন্তু ১৯৭৫ সালের পর থেকে তার রাজনৈতিক সত্তা আরো বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে এককভাবে একজন নেতার নাম চিহ্নিত করা কঠিন। তবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির পিতা এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, কারণ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বড় প্রেরণা দিয়েছেন এবং যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে, জিয়া উর রহমান তার সাহসিকতা এবং বীরত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, বিশেষত তার ২৭ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং যুদ্ধের নেতৃত্বের মাধ্যমে। তবে, ইতিহাসের মধ্যে তাদের অবদান এবং ভূমিকা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত।

সূত্র:

  1. BBC News – Bangladesh Liberation History
  2. The Daily Star – Liberation War History
  3. Al Jazeera – Bangladesh Liberation War

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ফাতেমা জিন্নাহ

নিউজ ডেস্ক

May 16, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ উপযোগি ইতিহাস কলাম | ১৬ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

চট্টগ্রাম/ঢাকা: বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এক দিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দশকের পর দশক ধরে চলা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের এক দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়। তেমনই একটি ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় ঘোরানো অধ্যায় ছিল ১৯৬৪ সাল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুব খানের সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের (তৎকালীন চিটাগাং) পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সম্মিলিত বিরোধী দল (COP)-এর প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে এক অবিস্মরণীয় নির্বাচনী জনসভা। আর এই ঐতিহাসিক গণজোয়ারের নেপথ্যের মূল কারিগর, দূরদর্শী সংগঠক ও চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিলেন তরুণ ও তেজস্বী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১. আইয়ুবের ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ বনাম ‘মাদার-ই-মিল্লাত’

১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল আইয়ুব খান নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ বা মৌলিক গণতন্ত্র নামের এক ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করেন। এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়তে ১৯৬৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পাকিস্তানের সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে ‘কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি’ (সিওপি) গঠন করে। তারা আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে প্রার্থী করেন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বোন এবং আপসহীন নেত্রী ফাতেমা জিন্নাহকে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন করা ছিল মূলত আইয়ুবের সামরিক স্বৈরাচারের পতন ঘটানো এবং বাঙালির আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকার আদায়ের কৌশলের একটি বড় অংশ। আর এই প্রচারণাকে সফল করতে ফাতেমা জিন্নাহর প্রধান সহযাত্রী ও অভিভাবক হিসেবে পুরো পূর্ব পাকিস্তান চষে বেড়ান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

২. চট্টগ্রামের পল্টন ময়দান: জনসমুদ্র ও শেখ মুজিবের বজ্রকণ্ঠ

১৯৬৪ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ফাতেমা জিন্নাহর পূর্ব পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম অভূতপূর্ব এক রাজনৈতিক জোয়ারের সাক্ষী হয়। ফাতেমা জিন্নাহ যখন ট্রেনে করে চট্টগ্রামে পৌঁছান, তখন স্টেশনে লাখো মানুষের ঢল নামে।

  • যৌথ নেতৃত্বের অটুট বন্ধন: শেখ মুজিবুর রহমান নিজে সার্বক্ষণিকভাবে ফাতেমা জিন্নাহর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের স্থানীয় সিংহহৃদয় নেতা এম এ আজিজ, জহুর আহমদ চৌধুরী এবং এম এ হান্নানকে সাথে নিয়ে এই সফরের সার্বিক আয়োজন, জনসভার মাঠের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।
  • মঞ্চের মূল চালিকাশক্তি: পল্টন ময়দানের সেই বিশাল জনসভায় প্রধান আকর্ষণ ফাতেমা জিন্নাহ হলেও, উপস্থিত জনতাকে উদ্বেলিত করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ বজ্রকণ্ঠে আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরাচার এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানিদের চরম অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। তিনি ফাতেমা জিন্নাহকে “মাদার-ই-মিল্লাত” (জাতির মা) হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রতিটি বাঙালিকে স্বৈরাচারের প্রতীক ‘ফুলের’ বিরুদ্ধে বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘লণ্ঠন’ মার্কায় ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

৩. আইয়ুবপন্থী মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা ও বাঙালির প্রতিরোধ

ফাতেমা জিন্নাহ ও শেখ মুজিবের এই অভূতপূর্ব যৌথ জনপ্রিয়তা দেখে আইয়ুব খানের অনুগত কনভেনশন মুসলিম লীগ এবং সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, তৎকালীন সরকারি তোষামোদকারী গণমাধ্যমগুলো (যেমন দৈনিক পাকিস্তান ও বিভিন্ন পাক্ষিক সাময়িকী) এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চরম নোংরা ও নেতিবাচক প্রচারণায় মেতে ওঠে।

আইয়ুবপন্থী গণমাধ্যম ও সরকারি চামচামিরা ফাতেমা জিন্নাহকে “ভারতের দালাল” এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর “অন্ধ অনুসারী ও সহচর” হিসেবে ব্যঙ্গচিত্র (কার্টুন) ও কলামের মাধ্যমে অপপ্রচার করত। বিরোধী দলকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ও কুৎসিত শব্দচয়ন ব্যবহার করত। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা, ভয়ভীতি এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে চট্টগ্রামের আপামর জনতা নিজেদের বুকে দিয়ে ফাতেমা জিন্নাহ ও শেখ মুজিবের কাফেলাকে পাহারা দিয়ে জনসভাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল, যা আইয়ুবের ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

৪. ৬-দফার ভিত্তিভূমি: এই নির্বাচনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব

১৯৬৪ সালের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন ও নির্বাচনী সফরটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল:

  • এটি বাঙালি জাতিকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো সরাসরি রাজপথে বুক চিতিয়ে নামার সাহস ও সুযোগ করে দেয়।
  • এই সফল সফরের পরই শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে একক, অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং স্বাধিকার আন্দোলনের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজের অবস্থানকে আকাশচুম্বী করে তোলেন।
  • ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯৬৪ সালের এই মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং গণসংযোগের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ খ্যাত ৬-দফা আন্দোলন ঘোষণা করেছিলেন।

তথ্যসূত্র ও ঐতিহাসিক আর্কাইভ (Sources):

১. জাতীয় আর্কাইভ ও ইতিহাস গ্রন্থাবলি: ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: জীবন ও রাজনীতি’ এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ডায়েরি (১৯৬৪-৬৫)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: ১৯৬৪ সালের কনভেনশন মুসলিম লীগ বনাম সিওপি (COP) নির্বাচনী ইশতেহার ও ফলাফল বিবরণী। ৩. চট্টগ্রাম স্থানীয় ইতিহাস উইং: মরহুম এম এ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরীর রাজনৈতিক স্মৃতিচারণমূলক সংকলন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিজয় দিবস

নিউজ ডেস্ক

May 13, 2026

শেয়ার করুন

বিজয় দিবস কী?
১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ২৪ বছরের শোষণ, নিপীড়ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ‘বাংলাদেশ’-এর অভ্যুদয় ঘটায়। এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিন নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয় ও মুক্তি অর্জনের চূড়ান্ত দলিল।

ঐতিহাসিক পটভূমি: কেন এই যুদ্ধ ও বিজয়?

১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য চাপিয়ে দেয়।

  • ভাষা আন্দোলন (১৯৫২): বাঙালি সংস্কৃতির ওপর প্রথম আঘাত এলে বুকের রক্ত দিয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠা করা হয়।
  • রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত সিংহভাগ রাজস্ব পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হতো। কিন্তু দেশের নীতিনির্ধারণী ও সামরিক বাহিনীতে বাঙালিদের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য।
  • ১৯৭০-এর নির্বাচন ও বিশ্বাসঘাতকতা: ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি জান্তা সরকার বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
  • ২৫শে মার্চের গণহত্যা ও স্বাধীনতা ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে নিরীহ বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু করে। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

চূড়ান্ত বিজয়: ১৬ই ডিসেম্বরের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বাংলাদেশের গেরিলা বাহিনী (মুক্তিযোদ্ধা) এবং নিয়মিত সামরিক বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ডিসেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমান্ড ‘মিত্রবাহিনী’ গঠিত হলে যুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নেয়।

  • ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ: ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি তার অধীনস্থ ৯৩,০০০ সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
  • দলিল স্বাক্ষর: যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

বিজয় দিবস কেন পালন করা হয়? (তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য)

১. সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি: এই বিজয়ের নেপথ্যে রয়েছে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রাণ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের চরম আত্মত্যাগ। তাদের এই ঋণ ও বীরত্বকে চিরকাল স্মরণ রাখতে প্রতি বছর বিজয় দিবস উদ্‌যাপিত হয়।
২. জাতীয় বীরদের সম্মান প্রদর্শন: বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকসহ সকল সাধারণ বীর মুক্তিযোদ্ধা, যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
৩. চেতনার নবায়ন: নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের উদ্রেক করা, বিজয়ের সঠিক ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে এটি পালন করা হয়।
৪. শোষণমুক্ত সমাজের অঙ্গীকার: একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, প্রতি বছর বিজয় দিবসে সেই লক্ষ্য পূরণের শপথ পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রধান কর্মসূচি

  • তোপধ্বনি ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা: ১৬ই ডিসেম্বর প্রত্যূষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা ঘটে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
  • জাতীয় পতাকা উত্তোলন: দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
  • কুচকাওয়াজ ও এয়ার শো: ঢাকার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে বিশেষ মহড়া বা ‘এয়ার শো’ প্রদর্শন করে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মেজর জিয়া

নিউজ ডেস্ক

May 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা
প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এর সামরিক বিন্যাস নিয়ে সোশাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন বা বিতর্ক দেখা যায়— “মেজর জিয়াউর রহমানকে কেন ১নং সেক্টর কমান্ডারের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল?” বিভিন্ন রাজনৈতিক টকশো এবং সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক আলোচনাগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ডালপালা মেলেছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের দালিলিক ইতিহাস, মুজিবনগর সরকারের গ্যাজেট এবং সামরিক রণকৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মেজর জিয়াউর রহমানকে কোনো ‘শাস্তিমূলক’ বা ‘প্রশাসনিক’ কারণে ১নং সেক্টর থেকে অপসারণ করা হয়নি; বরং যুদ্ধের কৌশলগত প্রয়োজনে তাকে আরও বড় বড় দায়িত্ব দিয়ে পদোন্নতি ও বদলি করা হয়েছিল।

রণকৌশল পরিবর্তন ও সেক্টর বিন্যাস (এপ্রিল-জুন ১৯৭১)
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের হারিণায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১নং সেক্টর। চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং ফেনী নদী সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সেক্টরের প্রথম কমান্ডার নিযুক্ত হন মেজর জিয়াউর রহমান। ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করার কারণে এই অঞ্চলে তার তুমুল গ্রহণযোগ্যতা ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ ছিল।

পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের জুন মাসের ১০ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত কলকাতার থিয়েটার রোডের ৮ নম্বর সদর দপ্তরে প্রধান সেনাপতি কর্নেল (পরবর্তীতে জেনারেল) এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে ঐতিহাসিক ‘সেক্টর কমান্ডারস কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং গুগল এনালিটিক্যাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক আর্কাইভ অনুযায়ী, জুন মাসের শেষ সপ্তাহে পুরো যুদ্ধকে গেরিলা মোড থেকে নিয়মিত ও প্রথাগত যুদ্ধ বা ‘কনভেনশনাল ওয়ারফেয়ারে’ (Conventional Warfare) রূপান্তরের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়।

‘জেড ফোর্স’ গঠন ও বৃহত্তর সামরিক পদোন্নতি
যুদ্ধক্ষেত্রের এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নের জন্য মুক্তিবাহিনীর নিয়মিত প্রথম ৩টি ব্যাটালিয়নকে (১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট) একীভূত করে প্রথম পদাতিক ব্রিগেড (Regular Infantry Brigade) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব: ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গ্যাজেট অনুযায়ী এই প্রথম সামরিক ব্রিগেড গঠিত হয়। জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এবং জিয়াউর রহমানের নামের প্রথম আদ্যক্ষর (Z) অনুসারে এই ব্রিগেডের নামকরণ করা হয় ‘জেড ফোর্স’ (Z Force) এবং মেজর জিয়াকে এর ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
  • পদমর্যাদার পরিবর্তন: ব্রিগেড কমান্ডের গুরুদায়িত্ব পাওয়ার পর মেজর জিয়াউর রহমানকে মেজর পদবি থেকে পদোন্নতি দিয়ে তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ‘লেফটেন্যান্ট কর্নেল’ (Lieutenant Colonel) করা হয়।

একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেডের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ১নং সেক্টরের আঞ্চলিক অপারেশন পরিচালনা করা একজন অফিসারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই রণকৌশলগত কারণেই তাকে ১নং সেক্টরের আঞ্চলিক কমান্ডের দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে ভারতের মেঘালয়ের তুরা (Tura) এবং তেলডালা হেডকোয়ার্টারে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন ১নং সেক্টরের সাব-ক্যাপ্টেন এবং তৎকালীন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (পরবর্তীতে মেজর ও বীর উত্তম)

১১নং সেক্টরের অতিরিক্ত গুরুদায়িত্ব


১নং সেক্টর ছাড়ার পরপরই মেজর জিয়াকে কেবল জেড ফোর্সের দায়িত্বেই রাখা হয়নি, বরং ১৯৭১ সালের জুন মাসের শেষ সপ্তাহে (২৬ জুন) বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইল অঞ্চল নিয়ে গঠিত নবগঠিত ১১নং সেক্টরের কমান্ডারের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। অর্থাৎ, ১নং সেক্টর থেকে তাকে সরানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাকে যুদ্ধের কেন্দ্রীয় ফ্রন্টলাইনে নিয়ে আসা এবং ঢাকা দখলের মূল রুটের (কামালপুর-জামালপুর-টাঙ্গাইল) সামরিক নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছেড়ে দেওয়া।

টকশো ও ঐতিহাসিকদের বিশ্লেষণ
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে এই বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে প্রখ্যাত যুদ্ধ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কমান্ড বদল একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এস ফোর্সের কমান্ডার শফিউল্লাহ বা কে ফোর্সের খালেদ মোশাররফকেও তাদের প্রাথমিক সেক্টর থেকে সরিয়ে ব্রিগেডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটিকে অপবাদ বা অপসারণ হিসেবে প্রচার করা ঐতিহাসিক অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়।”

গুগল বুকস এবং সমকালীন সংবাদপত্রের আর্কাইভ ঘেঁটে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী তার ডায়েরি ও পরবর্তী বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে মেজর জিয়ার এই বদলিকে ‘যুদ্ধের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী সামরিক পুনর্বিন্যাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন。

উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, দালিলিক প্রমাণ স্পষ্ট করে যে, মেজর জিয়াউর রহমানকে ১নং সেক্টর থেকে ‘অপসারণ’ বা বরখাস্ত করা হয়নি। বরং, সেক্টর কমান্ডারের চেয়ে বহুগুণ উচ্চতর এবং সম্মানজনক ‘ব্রিগেড কমান্ডার’ পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে জেড ফোর্সের অধিনায়কত্ব এবং সাময়িকভাবে ১১নং সেক্টরের নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছিল।


তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:
১. উইকিপিডিয়া ও মুক্ত বিশ্বকোষ:Z Force (Bangladesh) – Wikipedia
২. জাতীয় তথ্যকোষ:War of Liberation, The – Banglapedia
৩. বিবিসি বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন:মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কেন ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল? – BBC
৪. মিলিটারি ইতিহাস ও গ্যাজেট:Major Zia’s war – Bangla Outlook
৫. সরকারি তথ্যচিত্র ও দালিলিক ইতিহাস:সংগ্রামের নোটবুক আর্কাইভ ১৯৭১

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ