ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
জন্ম ও পরিবার
- জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৭, বগুড়া, বাংলাদেশ।
- পিতা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি ১৯৭৫–১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন।
- মাতা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (১৯৯১–১৯৯৬, ২০০১–২০০৬)।
- ভাই: আরাফাত রহমান কোকো (১৯৭১–২০১৫), ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী।
শিক্ষাজীবন
- প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকায়।
- নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও স্নাতক সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
- শিক্ষাজীবনে সরাসরি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
ব্যক্তিগত জীবন
- বিবাহ: ১৯৯৩ সালে ডা. জোবাইদা রহমানের সাথে।
- স্ত্রী: জোবাইদা রহমান—চিকিৎসক, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
- সন্তান: এক কন্যা—জাইমা রহমান, যিনি লন্ডনে বেড়ে উঠেছেন এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।
রাজনৈতিক উত্থান
- বিএনপির উত্তরসূরি হিসেবে ধীরে ধীরে সামনে আসেন।
- ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে দলের “ক্রাউন প্রিন্স” বলা হয়।
- ঢাকার গুলশানে হাওয়া ভবন থেকে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে পরিণত হন।
- যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোতে তাঁর প্রভাব ছিল ব্যাপক।
- দলের পদ: বর্তমানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান ও কার্যত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
বিতর্কিত অধ্যায়
১. দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার
- ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত, টেন্ডারবাজি ও কমিশন বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে তাঁর নাম ওঠে।
- তাঁকে “কিংমেকার” বা “হাওয়া ভবনের গডফাদার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন সমালোচকরা।
২. অর্থপাচার মামলা
- ২০০৯ সালে অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়।
- ২০১৩ সালে ঢাকার আদালত তাঁকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
৩. ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা
- আওয়ামী লীগের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন।
- তদন্তে উঠে আসে, হামলার পরিকল্পনায় তিনি মূল ভূমিকায় ছিলেন।
- এ মামলায় আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
৪. ২০০৪ সালের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা
- ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার কাছে পাঠানোর জন্য চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে।
- সাক্ষ্যে তাঁর নাম উঠে আসে।
- এ মামলায়ও তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৫. ব্যবসায় ব্যর্থতা
- যুক্তরাজ্যে তিনি White and Blue Consultants Limited নামে একটি পিআর কোম্পানির পরিচালক।
- ২০১৯ সাল থেকে কোম্পানিটি লোকসানে চলছে এবং প্রায় এক লক্ষ ব্রিটিশ পাউন্ড ঋণগ্রস্ত।
ইতিবাচক দিক
- বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক লবিং চালাচ্ছেন।
- বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে তিনি পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে আশা জাগান।
- তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতা ও প্রচারণা বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এখনও জনপ্রিয়।
নির্বাসিত জীবন
- ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসার জন্য মাকে নিয়ে লন্ডনে যান।
- এরপর থেকে সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করছেন।
- স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে লন্ডনের শহরতলিতে থাকেন।
- রাজনৈতিক কার্যক্রম মূলত ভিডিও কনফারেন্স ও অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করেন।
সমর্থন ও সমালোচনা
- সমর্থকরা বলেন: তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার উত্তরসূরি, বিএনপির ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী।
- সমালোচকরা বলেন: তিনি দুর্নীতি, অর্থপাচার, গ্রেনেড হামলা ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
- তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিতি বিএনপিকে মাঠের রাজনীতিতে দুর্বল করে তুলেছে।
বর্তমান অবস্থা (২০২৫)
- লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটালেও বিএনপির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব তাঁর হাতে।
- দলের অনেক নেতা মনে করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর দেশে ফেরা জরুরি।
- তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনি বাধা ও ব্যক্তিগত আরামের কারণে তিনি এখনো ফেরেননি।
- বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও টিকে থাকা অনেকাংশে তাঁর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
উপসংহার
তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বিতর্কিত কিন্তু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। জন্মগতভাবে তিনি রাজনীতির উত্তরসূরি হলেও তাঁর রাজনৈতিক উত্থান এসেছে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে। একইসঙ্গে তিনি বিএনপির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি কি দেশে ফিরে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব নেবেন, নাকি লন্ডনেই নির্বাসিত জীবন চালিয়ে যাবেন—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র
- BBC, Profile: Tarique Rahman
- Al Jazeera, Bangladesh Opposition Politics
- The Daily Star, Arafat Rahman Koko dies in Malaysia
- Prothom Alo, Education background of Tarique Rahman
- Dhaka Tribune, Who is Tarique Rahman?
- The Independent UK, BNP leader Tarique Rahman’s personal life
- BDNews24, Doctor Zubaida Rahman’s profile
- Al Jazeera, BNP and its leadership crisis
- BBC, Crown prince of BNP politics
- The Guardian, Bangladesh’s Hawa Bhaban controversy
- World Bank Report on Padma Bridge Corruption
- The Daily Star, Court verdict on money laundering case
- Reuters, Bangladesh grenade attack verdict
- The Hindu, 10-truck arms haul verdict
- UK Companies House, White and Blue Consultants Ltd accounts
- BDNews24, BNP’s lobbying abroad
- Prothom Alo, BNP leadership vacuum
- The Daily Star, BNP activities from London
- Al Jazeera, Support base of Tarique Rahman
- The Guardian, Corruption allegations against BNP heir
- BBC, Exiled BNP leader may return?
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
মূল কন্টেন্ট (সরাসরি কপি-পেস্ট করার উপযোগী):

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। মানুষ এখন আর শুধু ‘বাপ-মায়ের পরিচয়’ দিয়ে নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান কেন বড় সংকটের মুখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। চলুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ দিক।
১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্ব
আধুনিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতার যে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্যমতে, তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এমন কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গত ১৭ বছরে তাঁকে কোনো সেমিনার বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় দেখা যায়নি, যা একজন বৈশ্বিক নেতার জন্য অপরিহার্য ছিল।
২. লন্ডনের ১৭ বছর: নীরবতা না ইমেজ সংকট?
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রবাসী ছাত্র বা বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তিনি নিজের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, একজন নেতা হয়েও কেন তিনি আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হলেন?
৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা
লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কী ব্যবসা বা চাকরি করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে নেই। একজন পাবলিক লিডারের আয়ের উৎস স্বচ্ছ না থাকাটা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
৪. ৯০-এর আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপস্থিতি
১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তারেক রহমান ছিলেন পর্দার আড়ালে। তাঁর জীবনে রাজপথের লড়াইয়ের চেয়ে ‘ক্ষমতায় বসে রাজনীতি’ করার ইতিহাসই বেশি স্পষ্ট, যা ২০০১ সালের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রমাণিত হয়েছে।
৫. নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বনাম উত্তরাধিকার
জুলাই বিপ্লবের পর আজকের তরুণ সমাজ মেধা এবং কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেখতে চায়। ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষ এখন আর বংশপরম্পরার রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ইমেজও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
গুগল অ্যানালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources):
১. উইকিপিডিয়া ও বায়োগ্রাফি রেকর্ড: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক রাজনৈতিক জীবন। ২. আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর্কাইভ (বিবিসি, আল-জাজিরা): গত ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যের রেকর্ড। ৩. নির্বাচন কমিশন ও হলফনামা রেকর্ড (২০০১, ২০০৮): তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতৃত্বের সম্পদ ও আয়ের বিবরণের তুলনা। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ সোশ্যাল অ্যানালিটিকস: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জেনারেশন জেড (Gen-Z) এর রাজনৈতিক পছন্দ ও নেতৃত্বের প্যারামিটার বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।
তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।
১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।
২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?
- তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
- ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
- অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।
৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।
৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার
রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?
সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।
গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):
- বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
- মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
- সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
- বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।
১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত
প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব
ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।
৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?
রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।



