সেলিব্রিটি

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করতেন?
মহানবী মুহাম্মদ (সা.)

নিউজ ডেস্ক

August 18, 2025

শেয়ার করুন

শৈশবে রাখাল, যৌবনে ব্যবসায়ী, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ছিলেন। শৈশবে ছাগল-ভেড়া চরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা থেকে শুরু করে যৌবনে ব্যবসায়ী এবং পরে মদীনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা—সব ভূমিকাতেই সততা ও ন্যায়ের অনন্য উদাহরণ রেখেছেন তিনি।

শৈশব ও কৈশোরে রাখাল জীবন

দারিদ্র্যের কারণে ছোটবেলায় নবীজি ছাগল ও ভেড়া চরাতেন। আরব সমাজে এটি ছিল একটি প্রচলিত পেশা। প্রায় প্রতিটি নবী-রাসূলই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে রাখাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যৌবনে ব্যবসা ও আল-আমিন উপাধি

যৌবনে এসে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। চাচা আবু তালিব (রা.) এর সঙ্গে সিরিয়া পর্যন্ত ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফরে যেতেন। সততা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিত্বের কারণে মানুষ তাকে “আল-আমিন” (অত্যন্ত বিশ্বস্ত) উপাধি দেয়।

ব্যবসায় তার মূল ভরসা ছিল মুদারাবা পদ্ধতি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারী মূলধন দিত, আর তিনি ব্যবসা পরিচালনা করতেন। লাভ হলে তা নির্দিষ্ট হারে বণ্টন করা হতো। ব্যবসার অংশীদার হিসেবে আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) নবীজি সম্পর্কে বলেছেন, “আপনি ছিলেন আমার সর্বোত্তম ব্যবসার সঙ্গী—কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করতেন না, কোনো বিষয়ে ঝগড়াও করতেন না।”

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর দায়িত্ব

নবুওয়াত প্রাপ্তির পর মুহাম্মদ (সা.) রাষ্ট্র পরিচালনায় এগিয়ে আসেন। মদিনায় “মদীনা সনদ” প্রণয়ন করে তিনি বহুজাতি ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এটি মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে ধরা হয়।

এই রাষ্ট্রে তিনি একাধিক ভূমিকা পালন করেছেন:

  • রাষ্ট্রপ্রধান
  • সর্বোচ্চ বিচারপতি
  • সেনাপতি

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে পারিশ্রমিক

রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার পর তিনি ব্যক্তিগত বাণিজ্যে যুক্ত থাকেননি। বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ—যেমন যাকাত, ট্যাক্স, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে তার দায়িত্ব পালনের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারিত ছিল।

তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সবসময় সরল ছিলেন। সংসারে কোনো বিলাসিতা ছিল না। যা পেতেন তা সমাজের গরিব ও অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিতেন।

আধুনিক রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তুলনা

আজকের রাষ্ট্রপ্রধানরা যেমন দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে বেতন পান, তেমনি মুহাম্মদ (সা.)-ও তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতেন। উদাহরণ হিসেবে:

  • বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বেতন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
  • ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাসে প্রায় ২.৮ লাখ রুপি বেতন পান।
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বার্ষিক আয় ৪ কোটি টাকার বেশি।

তবে পার্থক্য হলো—আধুনিক রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্পদ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে, কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সরলতা বজায় রেখেছেন।

উপসংহার

সংবাদমাধ্যমে আলোচিত রাজনীতিবিদদের সম্পদ বাড়ার খবর প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, নবী মুহাম্মদ (সা.) রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও কখনো সম্পদ সঞ্চয় করেননি। শৈশবে রাখাল, যৌবনে ব্যবসায়ী, পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধান—প্রতিটি ভূমিকাতেই তার সততা, ন্যায়বিচার ও সরল জীবনধারা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং যুগে যুগে করবে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খালেদ মহিউদ্দিন

নিউজ ডেস্ক

May 12, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন | ১২ মে ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন টক শোর দুনিয়ায় গত দুই দশকে যে ক’জন ব্যক্তিত্ব নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে খালেদ মহিউদ্দিন অন্যতম। প্রখর মেধা, সাহসিকতা এবং সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করার বিশেষ শৈলী তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। বর্তমানে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।

১. জন্ম ও শিক্ষা জীবন

খালেদ মহিউদ্দিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ও সাফল্যের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে:

  • উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • বিদেশি ডিগ্রি: উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং ওয়েস্টমিনিস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম’ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।

২. পেশাদার জীবনের পথচলা ও উত্থান

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়:

  • সংবাদপত্র: তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে কাজ করেছেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
  • টেলিভিশন ও টক শো: পরবর্তীতে তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’-এ যোগ দেন। এখানে তাঁর সঞ্চালিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ তাঁকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক প্রশ্ন করছি…” আজও দর্শকদের কাছে তাঁর সিগনেচার স্টাইল হিসেবে পরিচিত।
  • আন্তর্জাতিক পর্যায়: বর্তমানে তিনি জার্মানির বন শহরে ডয়চে ভেলে (DW) বাংলায় কর্মরত। তাঁর সঞ্চালিত জনপ্রিয় ডিজিটাল শো ‘খালেদ মহিউদ্দিন জানতে চায়’ সমসাময়িক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠান।

৩. উল্লেখযোগ্য কাজ ও সাফল্য

খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ:

  • সাহসী সাংবাদিকতা: ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মুখের ওপর সরাসরি ও যৌক্তিক প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
  • সাফল্য ও লেখালেখি: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সুপরিচিত লেখক। তাঁর লেখা ‘নিয়ন্ত্রণরেখা’ এবং ‘মুখোমুখি’ বইগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য বেশ সমাদৃত।
  • মেন্টরশিপ: তিনি অসংখ্য তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে আধুনিক টক শো ফরম্যাট চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

৪. সমালোচনা ও বিতর্ক

যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মতো খালেদ মহিউদ্দিনকেও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে:

  • পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে তাঁর কড়া প্রশ্নের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি মাঝেমধ্যেই সমালোচিত হন।
  • সঞ্চালনার শৈলী: অনেক সমালোচক মনে করেন, তিনি অনেক সময় অতিথিকে পর্যাপ্ত কথা বলতে না দিয়ে নিজেই বেশি সময় নেন। তবে তাঁর ভক্তদের মতে, সত্য বের করে আনার জন্য এটি তাঁর একটি বিশেষ কৌশল।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রোলিং: কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে, যদিও তিনি সেগুলোকে তাঁর পেশাদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখেন।

৫. বর্তমান অবস্থান

খালেদ মহিউদ্দিন এখন কেবল একজন সাংবাদিক নন, বরং ডিজিটাল মিডিয়ার একজন অন্যতম ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতা মানেই হলো জনগণের পক্ষে ক্ষমতাবানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।


  • রেফারেন্স: ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা আর্কাইভ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

লতা মঙ্গেশকর

নিউজ ডেস্ক

May 11, 2026

শেয়ার করুন


সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ১১ মে ২০২৬

ঢাকা: সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কেবল ভারতের নন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা এ দেশের মানুষ আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১১ মে ২০২৬-এর এই বিশেষ দিনে আমরা ফিরে দেখব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিতে এই কিংবদন্তির অসামান্য অবদান।

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লতার কণ্ঠের লড়াই

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রক্তাক্ত, তখন লতা মঙ্গেশকর ভারতে বসে বিশ্ববাসীর বিবেক জাগাতে গান গেয়েছিলেন। তিনি সেই সময় ‘জয় বাংলাদেশ’ নামক হিন্দি ছবিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। ভারতের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ঠিক পরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালে লতা মঙ্গেশকর নিজেই টুইটারে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

২. বাংলাদেশের ছবিতে লতার একমাত্র গান: ‘ও দাদা ভাই’

লতা মঙ্গেশকর অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি গান গেয়েছেন যা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মমতাজ আলীর ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ ছবিতে প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ অভিনীত দৃশ্যে “ও দাদা ভাই, মূর্তি বানাও” গানটি গেয়েছিলেন তিনি। এই গানটি আজও সংগীত প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।

৩. কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা: সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশের সংগীতের নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন লতা মঙ্গেশকরকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। মুম্বাইয়ে লতার বাড়িতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। লতার প্রয়াণে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “সুর হারিয়ে গেল, পৃথিবীটা আজ নিস্তব্ধ।” শুধু শিল্পী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও লতাকে মনে রাখবে তাঁর সেই অসামান্য অবদানের জন্য।

গুগল অ্যানালাইসিস ও রিডার রিটেনশন টিপস:

গুগল সার্চ ট্রেন্ড (২০২৬) অনুযায়ী, লতা মঙ্গেশকরের “Rare photos of 1971 visit” এবং “Lata Mangeshkar’s only Bangladeshi song” এই টপিকগুলো প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসে। তাই এই আর্টিকেলটিতে ইউটিউব ভিডিওর এমবেড কোড যোগ করলে পাঠকরা আরও বেশি সময় আপনার সাইটে থাকবে।

তথ্যসূত্র (References):

  • লতা মঙ্গেশকর অফিশিয়াল টুইটার আর্কাইভ (২০১৯): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ ও ছবি।
  • বিএফডিসি (BFDC) আর্কাইভ: ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের সংগীত বিভাগ।
  • প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিশেষ শোকগাথা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাক্ষাৎকার।
  • ইউটিউব: ‘জয় বাংলাদেশ’ ও ‘র রক্তাক্ত বাংলা’র গানসমূহ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

থালাপ্যাথি বিজয়

নিউজ ডেস্ক

May 6, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চেন্নাই/ঢাকা: ভারতীয় বিনোদন জগতে ‘বিগ স্টার’ বিতর্কটি সাধারণত শাহরুখ খান, সালমান খান বা প্রভাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থালাপ্যাথি বিজয়কে (Vijay) এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাঁড়িয়ে এটি আর কেবল চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে বিজয়ের প্রভাব এখন একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য।

১. লয়াল ফ্যানবেস ও ‘বিজয় ফ্যাক্টর’

কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে যখন সালমান খানের মতো তারকারা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছিলেন, তখন বিজয় তার ‘মাস্টার’ (Master) সিনেমার জন্য বড় ওটিটি অফার প্রত্যাখ্যান করে থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।

  • বক্স অফিস আধিপত্য: বিজয়ের সিনেমা যেমন—Beast, Varisu কিংবা সাম্প্রতিক The GOAT সমালোচকদের দৃষ্টিতে গড়পড়তা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ৪০০ কোটিরও বেশি আয় করেছে।
  • অডিয়েন্স পুল: যেখানে বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে বিশাল মার্কেটিংয়ের ওপর, সেখানে বিজয়ের কেবল নামই তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের মার্কেট রিকভার করার জন্য যথেষ্ট।

২. রাজনীতির নতুন সূর্য: ভোটব্যাংকে রূপান্তর

বিজয় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘জনতার নেতা’র যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-কে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে।

  • ভোট শেয়ার: প্রাথমিক ফলাফল ও বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নতুন প্রজন্মের (Gen Z) ভোটারদের সিংহভাগেরই প্রথম পছন্দ ছিল বিজয়।
  • আঞ্চলিক প্রভাব: ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলোর ভিড়ে বিজয় ১০৬টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

৩. বিতর্ক ও টিকে থাকার লড়াই

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অসংখ্য ঝড় তাকে দমাতে পারেনি।

  • দুর্ঘটনা ও তদন্ত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে কারুর জেলায় তার রাজনৈতিক র‍্যালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ৪১ জন ভক্তের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় সিবিআই (CBI) জিজ্ঞাসাবাদ তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছিল।
  • ব্যক্তিগত সংকট: স্ত্রী সঙ্গীতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জনকে ছাপিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অটল ছিলেন।

৪. বিশ্লেষণ: শাহরুখ-প্রভাস বনাম বিজয়

বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ খান বা প্রভাসের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট হয়তো অনেক বড়, কিন্তু লোকাল লেভেলে বিজয়ের মতো ‘অডিয়েন্স পুল’ এবং রাজনৈতিক ভোটব্যাংক আর কারো নেই। উত্তর ভারতীয় কোনো তারকার ক্ষেত্রে এমন বিতর্ক ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হতে পারত, কিন্তু বিজয়ের লয়াল ফ্যানবেস তাকে প্রতিবারই সুরক্ষা দিয়েছে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল রেকর্ড ২. বক্স অফিস ইন্ডিয়া ও রয়টার্স বিনোদন ডেস্ক এনালাইসিস – ২০২৬ ৩. অ্যাক্সিওস (Axios) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পলিটিক্যাল ডেস্ক রিসার্চ ৪. তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ