আন্তর্জাতিক

অখণ্ড ভারত বনাম খণ্ডিত ইতিহাস: ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র ও বাস্তবতা
অখণ্ড ভারত

নিউজ ডেস্ক

April 24, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে যেমন ব্লু-ইকোনমি এবং অর্থনৈতিক জোটের কথা উঠছে, অন্যদিকে ঐতিহাসিকভাবে অমীমাংসিত ‘অখণ্ড ভারত’ তত্ত্ব এবং ১৯৪৭-এর দেশভাগের ক্ষতগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে—অখণ্ড ভারত কি কেবল একটি মানচিত্র, না কি হারিয়ে যাওয়া কোনো সত্তার দীর্ঘশ্বাস?

১. অখণ্ড ভারত: ম্যুরাল থেকে ভূ-রাজনীতি

ভারতের বিভিন্ন স্থাপনা ও মন্দিরে ‘অখণ্ড ভারতের’ যে ম্যুরাল দেখা যায়, সেখানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এমনকি আফগানিস্তানকেও একীভূত দেখানো হয়েছে। এই মানচিত্র মূলত একটি সাংস্কৃতিক অখণ্ডতার প্রতীক। ঐতিহাসিক সত্য এই যে, ব্রিটিশ আগমনের পূর্বে এই পুরো অঞ্চলটি—যা আজ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—ভৌগোলিক ও মানচিত্রের ভাষায় ‘ইন্ডিয়া’ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ’ কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল না, বরং এটি ছিল অখণ্ড ভারতের পূর্ব বাংলা ও আসামের অংশ।

২. ‘অল ইন্ডিয়া’ লীগ ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ১৯০৬ সালে গঠিত ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ’। ঢাকার আহসান মঞ্জিলে এই সংগঠনের জন্ম হলেও এর নামের সাথে ‘অল ইন্ডিয়া’ যুক্ত থাকা প্রমাণ করে যে তৎকালীন মুসলমানরা নিজেদেরকে অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবেই দেখতেন। তবে ১৯৪০-এর দশকের দিকে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে।

অনেকের মতে, ইসলাম ধর্মে ‘মুশরিক’ বা মূর্তিপূজারীদের সাথে সহাবস্থানের যে ধর্মীয় জটিলতা, তা তৎকালীন মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশের মাঝে বিভাজনের দেয়াল তুলে দিয়েছিল। উগ্রবাদের উন্মেষ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এই দূরত্বকে স্থায়ী রূপ দেয়।

৩. ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে এবং সোহরাওয়ার্দীর ‘বিতর্কিত’ ভূমিকা

১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট কলকাতায় ঘটে যাওয়া ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’ ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং জিন্নাহর আহ্বানে পালিত ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ মুহূর্তেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়। সোহরাওয়ার্দীর সেই সময়ের ভাষণ, যেখানে তিনি জিহাদ এবং বদর যুদ্ধের উদাহরণ টেনে মুসলিমদের উৎসাহিত করেছিলেন, তা আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৬ সালে এসে অনেক ইতিহাস গবেষক প্রশ্ন তুলছেন—যাঁর উস্কানিতে একদিন কলকাতার রাজপথ হিন্দুদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, স্বাধীন বাংলাদেশের হৃদয়ে তাঁর নামে স্থাপনা (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মেডিকেল কলেজ) থাকা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এটি ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাস হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

৪. ১৯৭১: আত্মার অখণ্ডতা বনাম সার্বভৌমত্ব

১৯৭১ সালে ভারত যদি চাইত, তবে তারা পূর্ব বাংলাকে অংগরাজ্য হিসেবে যুক্ত করতে পারত। কিন্তু তৎকালীন বৈশ্বিক রাজনীতি এবং বাংলাদেশিদের স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষা ভারতকে বাধ্য করেছিল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করতে। এর মাধ্যমে ‘অখণ্ড ভারত’ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হলেও আত্মিকভাবে এক বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।


বিশ্লেষণমূলক তথ্যসূত্র (Sources for Analysis):

  • উইকিপিডিয়া ও ঐতিহাসিক নথি: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং ১৯৪৬-এর দাঙ্গা সংক্রান্ত নথিপত্র (Huseyn Shaheed Suhrawardy – Wikipedia)।
  • অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ হিস্ট্রি: ১৯০৬ সালের ঢাকা কনফারেন্সের কার্যবিবরণী।
  • ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী (রামচন্দ্র গুহ): দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিশদ বিশ্লেষণ।
  • গুগল এনালাইটিক্স ও ট্রেন্ডস (২০২৬): দক্ষিণ এশিয়ায় ‘অখণ্ড ভারত’ এবং ‘দেশভাগ বিতর্ক’ নিয়ে ক্রমবর্ধমান কি-ওয়ার্ড সার্চ ভলিউম বিশ্লেষণ।

বিডিএস সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ: অখণ্ডতা কেবল মানচিত্রের রেখায় থাকে না, তা থাকে মানুষের মনস্তত্বে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি—পতাকা আলাদা হলেও সংস্কৃতি, ভাষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। অখণ্ড ভারত আজ হয়তো রাজনৈতিকভাবে সম্ভব নয়, কিন্তু যুদ্ধের বদলে শান্তির মাধ্যমে ‘আত্মার অখণ্ডতা’ বজায় রাখাই হোক আধুনিক বাংলাদেশের লক্ষ্য।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

২০২৬ সালের রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক

April 24, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোর পর আজ আমরা ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’ বা সন্ধিক্ষণ। যে তাজা রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছিল, দুই বছর পর সেই বিপ্লবের সুফল এবং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

১. জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল ছাত্র-জনতার রক্তে। সেই আন্দোলনে কোনো একক দলের লেবেল ছিল না; ছিল সাধারণ শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ এবং দলমত নির্বিশেষে বৈষম্যবিরোধী চেতনা। ২০২৬ সালে এসে যখন দেখা যাচ্ছে সেই ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলো (বিশেষ করে বিএনপি) তাদের অবস্থান সুসংহত করছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে—বিপ্লব কি তবে কেবল ক্ষমতার হাতবদলের হাতিয়ার ছিল?

২. ‘গুপ্ত’ ও ‘সুপ্ত’ শক্তির প্রভাব

আন্দোলনের সময় বিভিন্ন শক্তির কৌশলগত অবস্থান ছিল। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবির বা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ বা সুপ্ত তৎপরতা আন্দোলনের গতি প্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন দমন-পীড়নের মুখে অনেক শক্তিই পরিচয় গোপন রেখে (গুপ্তভাবে) আন্দোলনকে সংগঠিত করেছিল। ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, সেই সুসংগঠিত শক্তির আন্দোলনের ফসল এখন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ঘরে যাচ্ছে, যা ক্ষমতার এক বিচিত্র রসায়ন তৈরি করেছে।

৩. ক্ষমতার মসনদে বিএনপি: কৌশল না কি গণরায়?

২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দীর্ঘ পথচলা শেষে ২০২৬-এর এই সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক আধিপত্য স্পষ্ট। অনেকের মতে, আওয়ামী লীগ পরবর্তী শূন্যস্থানে বিএনপি একটি সুসংগঠিত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, জুলাইয়ের যোদ্ধারা যে ‘সিস্টেম চেঞ্জ’ বা রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন দেখেছিল, তা দলীয় রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পড়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

৪. দেশটা কি কারোর বাপের?

জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি আজ সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিপ্লবের মূল স্লোগানই ছিল—রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। ২০২৬ সালে এসেও যদি সাধারণ মানুষকে দেখতে হয় যে রাজনৈতিক দলগুলো দেশকে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছে, তবে সেই ক্ষোভ আবারও আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে। জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত কোনো নির্দিষ্ট দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হতে পারে না।


বিশ্লেষণমূলক তথ্যসূত্র (Sources for Analysis):

  • বিপ্লব পরবর্তী জরিপ (২০২৫-২৬): বিভিন্ন থিংক-ট্যাংক ও সংবাদমাধ্যমের জরিপে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ প্রথাগত দলীয় রাজনীতির চেয়ে রাষ্ট্র সংস্কারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
  • নির্বাচনী রোডম্যাপ: ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে চলমান বিতর্ক।
  • জুলাই ফাউন্ডেশনের ডাটা: শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রকাশ করা ক্ষোভ, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক মিডিয়া (আল জাজিরা ও বিবিসি): দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব এবং পরবর্তী দলীয় আধিপত্য নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনসমূহ।

বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো—বিপ্লব করে এক পক্ষ, আর তার ফল ভোগ করে অন্য পক্ষ। ২০২৬ সালের এই জনপদ আজ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। যদি জুলাই যোদ্ধাদের সেই ‘তাজা রক্তের’ প্রতি ন্যূনতম সম্মান প্রদর্শন করতে হয়, তবে দেশ পরিচালনা করতে হবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য দিয়ে নয়। কারণ দিনশেষে, এই মাটি এবং এই সার্বভৌমত্ব এদেশের মানুষের, অন্য কারো নয়।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বর্তমানে বাংলাদেশের আয়তন কত?

নিউজ ডেস্ক

April 24, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বহু যুগ ধরে পাঠ্যবই থেকে শুরু করে সাধারণ জ্ঞান—সবখানেই আমরা বাংলাদেশের আয়তন পড়ে আসছি ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। এই তথ্যটি আমাদের মনে এমনভাবে গেঁথে গেছে যে, আয়তন সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নে এই সংখ্যাটিই সবার আগে মুখে আসে। কিন্তু সময়ের আবর্তে, ভৌগোলিক পরিবর্তন এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানচিত্র এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশাল ও সমৃদ্ধ।

১. দাপ্তরিক পরিবর্তন: ছিটমহল বিনিময়

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দীর্ঘ সময় আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার থাকলেও ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ইতিহাস বদলে যায়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নিট ১০,০৪২ একর (প্রায় ৪০.৬৪ বর্গকিলোমিটার) জমি যুক্ত হয়। ২০২১ সালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের দাপ্তরিক আয়তন দাঁড়িয়েছে ১,৪৭,৬১০ বর্গকিলোমিটার

২. জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ড ও উপকূলীয় দ্বীপ

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে নোয়াখালী, ভোলা ও চট্টগ্রাম সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৫০টিরও বেশি নতুন দ্বীপ বা চর জেগে উঠেছে। বিভিন্ন জরিপ ও স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ভূখণ্ডের সম্ভাব্য আয়তন প্রায় ১,৬০০ বর্গকিলোমিটার। উইকিপিডিয়া ও আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার (যেমন সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক) মতে, অভ্যন্তরীণ জলভাগ ও এই চরাঞ্চলসহ বাংলাদেশের মোট আয়তন প্রায় ১,৪৮,৪৬০ বর্গকিলোমিটার

৩. বিশাল সমুদ্রসীমা: এক ‘নীল মানচিত্র’

স্থলভাগের চেয়েও বড় চমক রয়েছে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে এক বিশাল এলাকা জয় করেছে:

  • মায়ানমারের কাছ থেকে প্রাপ্ত: প্রায় ৭০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
  • ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্ত: প্রায় ২৮,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার।বর্তমানে বাংলাদেশের মোট সমুদ্রসীমা প্রায় ১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটার। যদি আমরা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড এবং এই বিশাল সমুদ্রসীমাকে একত্রে হিসাব করি, তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণাধীন মোট এলাকার আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ২,৬৬,৪২৩ বর্গকিলোমিটার। যা আমাদের পূর্বের পরিচিত ভূখণ্ডের চেয়ে প্রায় ১ লক্ষ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি!

সারসংক্ষেপ: একনজরে বাংলাদেশের আয়তন

আয়তনের ধরনবর্তমান পরিমাণ (বর্গকিলোমিটার)
সরকারি দাপ্তরিক আয়তন১,৪৭,৬১০
চর ও দ্বীপসহ সম্ভাব্য আয়তন১,৪৮,৪৬০
সমুদ্রসীমা (Exclusive Economic Zone)১,১৮,৮১৩
স্থল ও সমুদ্রের মোট আয়তন২,৬৬,৪২৩+

বিডিএস সম্পাদকীয় মন্তব্য: যদিও দাপ্তরিকভাবে এখনো ১,৪৭,৬১০ বর্গকিলোমিটারকেই ভিত্তি ধরা হয়, তবে ক্রমবর্ধমান চর এবং বিশাল সমুদ্রসীমার ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আমাদের মানচিত্র এখন কেবল কাগজের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিস্তৃত হয়েছে অতল সমুদ্রের নীল জলরাশি পর্যন্ত।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Jet fuel crisis

নিউজ ডেস্ক

April 24, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]

তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬

উৎস: পালসবাংলাদেশ

ইউরোপের রানওয়েগুলোতে এখন নিস্তব্ধতার হাতছানি। আধুনিক সভ্যতার ধমনী হিসেবে পরিচিত ‘জেট ফুয়েল’ বা বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে আসছে মহাদেশটিতে। গোয়েন্দা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের হাতে আর মাত্র ৬ সপ্তাহের জ্বালানি অবশিষ্ট আছে। এই সংকট কেবল সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি নয়, বরং এটি বিশ্বজুড়ে চলা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ বা ক্রুড অয়েলের এক বিশাল আধিপত্যবাদী লড়াইয়ের ফলাফল।

১. ক্রুড অয়েল কেন সভ্যতার মেরুদণ্ড? ক্রুড অয়েল থেকে কেবল তেল নয়, বরং আধুনিক জীবনের প্রায় প্রতিটি উপাদান পাওয়া যায়। ফ্রাকশনাল ডিস্টিলেশন বা আংশিক পাতন প্রক্রিয়ায় ক্রুড অয়েলের প্রতিটি হাইড্রোকার্বন শৃঙ্খলকে আলাদা করা হয়। ১ লিটার ক্রুড অয়েল থেকে প্রায় ৪০০ গ্রাম পেট্রোল, ৩০০ গ্রাম ডিজেল, ২০০ গ্রাম জেট ফুয়েল ও কেরোসিন এবং বাকি অংশ থেকে বিটুমিন, এলপিজি গ্যাস এমনকি প্লাস্টিক ও ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল তৈরি হয়।crude oil distillation process diagram, AI generated

২. রিফাইনারি প্যারাডক্স: আমেরিকার কৌশলগত ফাঁদ আমেরিকার তেল শোধনাগারগুলো মূলত ‘লাইট সুইট ক্রুড’ শোধনের জন্য তৈরি। তবে জেট ফুয়েল এবং উন্নত মানের ডিজেল তৈরির জন্য ‘হেভি ক্রুড’ বা ভারী তেলের প্রয়োজন বেশি। ভেনেজুয়েলার ‘অরিনোকো বেল্ট’-এ বিশ্বের বৃহত্তম ভারী তেলের মজুদ রয়েছে। আমেরিকার রিফাইনারিগুলো সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার তেল তাদের জন্য অনিবার্য। এই কারণেই ডেমোক্রেসির দোহাই দিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মতো ঘটনাগুলো সরাসরি জ্বালানি দখলের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ।

৩. ইরান কেন প্রধান টার্গেট? ইরান কেবল তেল সমৃদ্ধ দেশই নয়, তারা তাদের নিজস্ব রিফাইনারি প্রযুক্তিতেও বেশ উন্নত। ইরান যদি স্বাধীনভাবে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তবে বৈশ্বিক বাজারে ডলারের আধিপত্য (Petrodollar) হুমকির মুখে পড়বে। আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে তাদের তেল উৎপাদন কেন্দ্র এবং সরবরাহ লাইন (যেমন হরমুজ প্রণালি) পঙ্গু করে দিয়ে মূলত বিশ্ববাজারের ‘সাপ্লাই চেইন’ নিজেদের মুঠোয় রাখতে চাইছে।

বিডিএস সম্পাদকীয় মন্তব্য: তেলের সম্পদ সীমিত কিন্তু চাহিদা অসীম। আমেরিকা যখনই জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখন তারা কখনো ‘গণতন্ত্র’ আবার কখনো ‘মৌলবাদ দমনের’ দোহাই দিয়ে সম্পদশালী দেশগুলোর ওপর চড়াও হয়। ইউরোপের বর্তমান হাহাকার প্রমাণ করে যে, অতি-নির্ভরশীলতা যেকোনো উন্নত মহাদেশকে সংকটে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ