ডিজিটাল ও সাইবার জগৎ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইন্টারনেটের আদি যুগে যারা বিচরণ করেছেন, তাদের কাছে ‘Yahoo!’ কেবল একটি নাম নয়, বরং একটি আবেগের নাম। আজকে আমরা তথ্য খোঁজার জন্য যেমন ‘গুগল’ (Google) করি, ২০ বছর আগে মানুষ ঠিক একইভাবে ‘ইয়াহু’ করত। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য আজ প্রযুক্তির ইতিহাসের এক দীর্ঘশ্বাসে পরিণত হয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে যখন প্রথম কম্পিউটার প্রযুক্তির ভ্রূণ বিকশিত হচ্ছিল, কেউ কল্পনাও করেনি যে ২০২৫ সালে এসে আমরা এমন এক ডিজিটাল রোলার কোস্টার রাইডের সাক্ষী হব, যেখানে ইয়াহুর মতো দানবীয় কোম্পানিও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
গৌরবোজ্জ্বল শুরুর দিনগুলো
১৯৯৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রকৌশলী ডেভিড ফিলো এবং জেরি ইয়াং যখন তাদের ওয়েবসাইট শুরু করেন, তখন নাম ছিল “David and Jerry’s guide to the World Wide Web”। পরবর্তীতে নাম বদলে রাখা হয় ‘Yahoo!’। নব্বইয়ের দশকের ইন্টারনেটে যখন তথ্যের কোনো শৃঙ্খলা ছিল না, তখন ইয়াহু একটি টেলিফোন ডিরেক্টরির মতো কাজ করে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯৬ সালে আইপিও ছাড়ার সময় কোম্পানিটির মূল্য ছিল ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০০০ সালে এসে দাঁড়ায় ১২৫ বিলিয়ন ডলারে। সেই সময় ইয়াহু মানেই ছিল ইন্টারনেট।
কেন তলিয়ে গেল ইয়াহুর তরী? (গুগল এনালাইসিস ও ইতিহাস পর্যালোচনা)
গুগল এনালাইসিস এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইয়াহুর পতনের পেছনে কোনো দৈব কারণ ছিল না, বরং ছিল ধারাবাহিক ভুল সিদ্ধান্তের পাহাড়।
১. গুগলকে চিনতে ভুল: ১৯৯৮ সালে ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন যখন তাদের ‘পেজর্যাঙ্ক’ অ্যালগরিদম মাত্র ১ মিলিয়ন ডলারে ইয়াহুর কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন, ইয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করে। পরবর্তীতে ২০০২ সালে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়েও গুগলকে কিনতে রাজি হননি ইয়াহুর তৎকালীন সিইও টেরি সেমেল। আজ সেই গুগলের বাজারমূল্য ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
২. জাকারবার্গকে ফেরানো: ২০০৬ সালে ইয়াহু ১ বিলিয়ন ডলারে ফেসবুককে কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু ডিলের ঠিক আগ মুহূর্তে ইয়াহু দাম কমিয়ে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব করলে ২২ বছর বয়সী মার্ক জাকারবার্গ তা নাকচ করে দেন। আজ ফেসবুক (মেটা) বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগের নিয়ন্ত্রক।
৩. মাইক্রোসফটকে ‘না’ বলা: ২০০৮ সালে যখন ইয়াহু ধুঁকছিল, তখন মাইক্রোসফট ৪৪.৬ বিলিয়ন ডলারে কোম্পানিটি কিনতে চেয়েছিল। ইয়াহু ভেবেছিল তাদের দাম আরও বেশি, তাই তারা এই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয়। ২০১৬ সালে শেষ পর্যন্ত ভেরাইজনের কাছে মাত্র ৪.৪৮ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি হতে হয় তাদের।
ভুল বিনিয়োগ ও সিইও-দের অদূরদর্শিতা
ইয়াহু ১১০টিরও বেশি কোম্পানি অধিগ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে ব্রডকাস্ট এবং জিওসিটিস (Geocities) ছিল সবচেয়ে আলোচিত। ৫.৭ বিলিয়ন ডলারে ব্রডকাস্ট কেনা ছিল প্রযুক্তির ইতিহাসের অন্যতম বাজে বিনিয়োগ। এছাড়া ফ্লিকার (Flickr)-এর মতো দারুণ প্ল্যাটফর্ম কিনেও তারা তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়। ২০২৫ সালের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াহু আসলে জানত না তারা কী হতে চায়—একটি টেক কোম্পানি নাকি একটি মিডিয়া কোম্পানি? এই দোটানাই তাদের শেষ করে দিয়েছে।
১৯৫০ থেকে ২০২৫: প্রযুক্তির শিক্ষা
১৯৫০-এর দশকে যখন মেইনফ্রেম কম্পিউটার তৈরি হতো, তখন উদ্ভাবনই ছিল সব। কিন্তু ২০২৫ সালের এই এআই (AI) চালিত যুগে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ‘সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত’। ইয়াহু তাদের মেইল, মেসেঞ্জার এবং সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যে সাম্রাজ্য গড়েছিল, তা আধুনিকীকরণ করতে না পারার খেসারত দিয়েছে তারা। ২০১২ সালে সাবেক গুগল কর্মী মেলিসা মেয়ারকে সিইও হিসেবে নিয়োগ দিলেও ততক্ষণে ইয়াহুর কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছিল গুগল এবং ফেসবুক।
উপসংহার
ইয়াহুর পতন আমাদের শেখায় যে, প্রযুক্তির স্রোতের সাথে যে তাল মেলাতে পারবে না, সে যত বড়ই হোক না কেন, অস্তিত্ব বিলীন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইয়াহু আজ কেবল একটি অ্যাল্টাবা (Altaba Inc) হিসেবে টিকে আছে, যা তাদের অতীত গৌরবের ছায়ামাত্র।
সূত্র: ১. ফোর্বস (Forbes) – ব্রায়ান সলোমনের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন। ২. গুগল টেক নিউজ ও বিজনেস ইনসাইডার আর্কাইভ (১৯৯৪-২০২৫)। ৩. স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি হিস্ট্রি প্রজেক্ট।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান: যানজটমুক্ত ঢাকার নতুন লিগ্যাসি শুরু
বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | পালস বাংলাদেশ ১২ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান আজ বাংলাদেশের যাতায়াত ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরের সূচনা করল। রাজধানীর তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পেতে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম পাতাল রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল বা ট্রায়াল রান আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর এক অনন্য মাইলফলক।
ঢাকার পাতাল পথে নতুন দিগন্ত
আজকের এই আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান কেবল একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এমআরটি লাইন-১ (MRT Line-1) প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই পাতাল রেলটি মাটির প্রায় ৩০ মিটার গভীর দিয়ে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাত্র ২৪ মিনিটে যাত্রী পৌঁছে দেবে।
প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- গতি ও সময়: ট্রায়াল রানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১০০ কিমি গতিতে চলেছে।
- যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতে পারবেন।
- পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: মাটির নিচে শব্দহীন এবং উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পন্ন আধুনিক এই কোচগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত।
কেন এই পাতাল রেল গেম-চেঞ্জার?
আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঢাকার যানজট সমস্যাকে অন্তত ৪০% কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ভোগান্তি এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে। পালস বাংলাদেশ-এর গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ কমলাপুর স্টেশনে ট্রায়াল রানের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
“আমরা এমন এক সময়ের স্বপ্ন দেখতাম যখন মাটির নিচ দিয়ে জটমুক্তভাবে যাতায়াত করব। আজ সেই স্বপ্নের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হলো।” — কড়াইল থেকে আসা এক দর্শনার্থীর মন্তব্য।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
এই প্রকল্পের ফলে কেবল সময় বাঁচবে না, বরং জ্বালানি খরচ এবং যানজটজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, এই পাতাল রেল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে।
বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।
এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি
চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”
সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ইন্টারনেটের দাম ২০২৬: বাংলাদেশে মোবাইল ডাটার দাম কমলো ৫০ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬
স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকরণ ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কর্মসূচির আওতায় মোবাইল ইন্টারনেটের দাম এক লাফে ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার থেকে দেশের সকল মোবাইল অপারেটরের জন্য এই নতুন রেট চার্ট কার্যকর হচ্ছে। বিটিআরসি (BTRC) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন থেকে গ্রাহকরা অর্ধেক খরচে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য তরুণ প্রজন্মের ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন শিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। সেই বাধা দূর করতেই ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানোর এই সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্যাকেজ ও মেয়াদের নতুন নিয়ম
নতুন এই নির্দেশনায় কেবল দামই কমানো হয়নি, বরং প্যাকেজের মেয়াদ নিয়েও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এখন থেকে: ১. সকল মেয়াদী প্যাকেজের (৩ দিন, ৭ দিন, ৩০ দিন) দাম আগের তুলনায় সরাসরি অর্ধেক হবে। ২. ডাটা শেষ হওয়ার আগে পুনরায় প্যাক কিনলে অব্যবহৃত ডাটা পরবর্তী মেয়াদে যোগ (Carry forward) হবে। ৩. আনলিমিটেড ইন্টারনেটের গতি এবং দামও সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও নামমাত্র মূল্যে উচ্চগতির ফোর-জি (4G) এবং ফাইভ-জি (5G) ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।
ডিজিটাল ইকোনমিতে প্রভাব
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানোর ফলে ই-কমার্স, অনলাইন বিজনেস এবং আউটসোর্সিং খাতে বিপ্লব ঘটবে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা গ্রাম ও শহরের ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বিশাল বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানো কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মানবাধিকার ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার একটি অংশ। সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পাওয়া বর্তমান যুগে সামাজিক সমতার অন্যতম পূর্বশর্ত। এর ফলে তৃণমূলের মেধাবী তরুণরা বৈশ্বিক বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের শ্রমের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।”
সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



