আন্তর্জাতিক

৭০০ বছর পুরনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন: প্রতিশোধের শিকার এক পুরোহিত
মধ্যযুগীয় ঠান্ডা মামলার রহস্য

নিউজ ডেস্ক

November 7, 2025

শেয়ার করুন

ভূমিকা:
মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রায় ৭০০ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যানুয়েল আইজনার সম্প্রতি জন ফোর্ড নামক এক পুরোহিতের হত্যাকাণ্ডের নতুন প্রমাণ উন্মোচন করেছেন। এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল একটি প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড, যা এক সম্ভ্রান্ত মহিলার দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। পুরোহিত জন ফোর্ডকে ১৩৩৭ সালে লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল

ঘটনার পটভূমি:
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ ক্রিমিনোলজি, যা মধ্যযুগীয় খুনের মানচিত্র প্রকল্প পরিচালনা করছে, সে অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল এক নারীর প্রতিশোধের অংশ। এলা ফিটজপেইন, যিনি ইংল্যান্ডের এক অভিজাত পরিবারের সদস্য, তার প্রেমিকের প্রতি অগণিত অপমানের প্রতিশোধ নিতে ছিলেন প্রস্তুত। ৫ বছর আগে ক্যান্টারবেরির আর্চবিশপ এক পত্রের মাধ্যমে এলা ফিটজপেইনকে ব্যভিচারের অভিযোগ তুলেছিলেন, এবং তার শাস্তি হিসেবে তাকে সালিসবারি ক্যাথেড্রালের চারপাশে খালি পায়ে হাঁটতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ছিলেন জন ফোর্ড, যিনি পরবর্তীতে হত্যার শিকার হন।

এলা ফিটজপেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড:
এলা ফিটজপেইন তার স্বামী ও জন ফোর্ড এর সঙ্গে মিলে এক চক্রের নেতৃত্ব দেন, যারা গির্জায় হামলা চালিয়ে গবাদি পশু লুট করে এবং মুক্তিপণ দাবি করত। এর মাধ্যমে, তার পিতৃতান্ত্রিক আভিজাত্য এবং ক্ষমতার প্রতি এক ধরণের প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠেছিল এলা। যদিও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে আইজনারের নতুন আবিষ্কারের ফলে প্রমাণিত হয় যে, তারই নির্দেশে হত্যাটি করা হয়েছিল।

অপরাধীদের সংযোগ:
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো যে, এলা ফিটজপেইনের ভাই এবং তার দাসরা হত্যাকারীদের মধ্যে ছিলেন। জন ফোর্ড সম্ভবত এলা ফিটজপেইনের অপরাধী দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার পরিণতিতে তাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডটি ছিল নৃশংস প্রতিশোধ, যা কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে উদ্ভূত ছিল, তবে এর পেছনে ছিল এক বৃহত্তর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ

ঘটনার প্রভাব:
ফোর্ডের হত্যাকাণ্ড, যা সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালের কাছে ঘটে, ছিল ইংল্যান্ডের অভিজাত শ্রেণির মধ্যে ক্ষমতার এক তীব্র প্রদর্শন। এই হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটেছিল যখন গির্জা, সমাজের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত করতে পুরোহিতদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে শুরু করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এলা ফিটজপেইন তার অভিজাত ক্ষমতার শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং তাকে কখনোই ক্ষমা করা হয়নি, যার ফলশ্রুতিতে ফোর্ড খুন হন

গবেষণার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি:
অধ্যাপক আইজনার তাঁর গবেষণায় এই নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন, যা মধ্যযুগীয় খুনের মানচিত্র প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকল্পে লন্ডন, অক্সফোর্ড এবং ইয়র্ক এর মতো শহরগুলোর খুনের ঘটনা বিস্তারিতভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, যা পূর্বের অপরাধের সঠিক চিত্র তুলে ধরে। এতে, করোনার’স রোলস ও বিভিন্ন ধর্মীয় নথি ব্যবহার করে খুনের স্থানের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য লিঙ্ক:
এছাড়া, গবেষণার বিস্তারিত তথ্য এবং ফোর্ড হত্যাকাণ্ডের নথি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। এই নথি গবেষকদের জন্য মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করেছে এবং নতুন করে ইতিহাসের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে সহায়ক হয়েছে।

📄 Medieval murder: Records suggest vengeful noblewoman had priest assassinated in 688-year-old cold case

উপসংহার:
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রমাণ করে যে, মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে ক্ষমতা, প্রতিশোধ ও নৈতিকতা প্রায়শই একে অপরকে ছিন্ন করে দেয়। এলা ফিটজপেইন তার অভিজাত শক্তির সঠিক প্রদর্শন করার জন্য এক যাজককে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছিলেন, যা মধ্যযুগীয় সমাজে ধর্মীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৩৩৭ সালের এ হত্যাকাণ্ড, যা প্রায় ৭০০ বছর ধরে অজানা ছিল, তার মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ইতিহাসে এক অদ্ভুত ও ভিন্নধর্মী অধ্যায় খোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

একটি রেসপন্স

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ মিশন - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।

এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়লাভের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তার ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাঠানো বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অভিনন্দন বার্তা দুটি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

১. শেখ হাসিনার চিঠির তাৎপর্য ও বিতর্ক

আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত চিঠিতে শেখ হাসিনা নিজেকে এখনো ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি কেবল একটি কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা:

  • ‘প্রধানমন্ত্রী’ দাবি: ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার এই দাবিটি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
  • ট্রাম্পের প্রশংসায় হাসিনা: ট্রাম্পের ‘অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলী’র প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এটি মূলত তার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এবং মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন আদায়ের একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।

২. ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অভিনন্দন ও বাস্তববাদিতা

অন্যদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চিঠিটি ছিল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় মোড়ানো এবং অত্যন্ত পরিমিত।

  • সহযোগিতার ইতিহাস: তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ভবিষ্যতে অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
  • পার্থক্য: ইউনূসের বার্তাটি বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবেই ট্রাম্পের সাথে কাজ করতে আগ্রহী।

৩. ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

তারেক রহমানের সরকার এবং শেখ হাসিনার প্রশাসনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সমীকরণ অতীতে ভিন্ন ছিল।

  • হাসিনার অভিযোগ: হাসিনা অতীতে অভিযোগ করেছিলেন যে, জো বাইডেন প্রশাসন তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর নেপথ্যে কাজ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা অস্বীকার করেছে।
  • ইউনূস ও বাইডেন: জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় জো বাইডেনের সাথে ইউনূসের বৈঠক প্রমাণ করে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি মার্কিন প্রশাসনের একটি পরোক্ষ স্বীকৃতি ও সমর্থন রয়েছে।

৪. ভারত ও বাংলাদেশের ত্রিভুজ সম্পর্ক

যেহেতু শেখ হাসিনা বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন, তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে—তা এখন সবচেয়ে বড় কৌতুহলের বিষয়। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাব এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর কী প্রভাব ফেলে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

শেখ হাসিনার চিঠিতে নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উপস্থাপন করাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন কোনো প্রভাব ফেলবে কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষ, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক বাস্তবতাকে সামনে রেখেই কাজ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে কীভাবে গ্রহণ করে, সেটাই হবে আগামী দিনের রাজনীতির মূল ফোকাস। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন নতুন করে পুনর্মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।


তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট, আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এবং কূটনৈতিক সূত্র।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ  ওয়েবসাইটে।

মোজতবা খামেনি

নিউজ ডেস্ক

March 9, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সূত্র: জটাংক)

“তিনি এমন একজন হবেন, যাকে আমেরিকা ঘৃণা করবে।” — দুই দিন আগে ইরানের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার করা এই মন্তব্যটি আজ এক অমোঘ সত্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে মোজতবা খামেনিকে। পশ্চিমা বিশ্বের অস্বস্তি আর ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির তোয়াক্কা না করে ইরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইকে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

কেন মোজতবা খামেনিকে নিয়ে এত ভয়?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ইরান কেন এই পথেই হাঁটল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের চারটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর:

  1. বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC): যাদের সাথে মোজতবার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
  2. বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক: যা নেপথ্যে থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত।
  3. ধর্মীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: বিশেষ করে ‘কুম’-এর প্রভাবশালী আলেমদের সমর্থন।
  4. বাসিজ মিলিশিয়া: যারা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের অগ্রসেনানী।

ছায়া থেকে আলোর পথে: মোজতবার শক্তির উৎস

মোজতবা খামেনির শক্তি কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকৃত শক্তি ছড়িয়ে আছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ:

  • লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি এবং সিরিয়ার মিত্র শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভালো করেই জানে, মোজতবা খামেনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার চেয়ে পর্দার আড়াল থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ইরানের জনগণের মনস্তত্ত্ব ও চ্যালেঞ্জ

মোজতবা খামেনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা। ইরানের সমাজ বর্তমানে তিনটি ধারায় বিভক্ত:

  • বিপ্লবী সমর্থক: যারা এই নেতৃত্বকে আদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
  • বাস্তববাদী গোষ্ঠী: যাদের কাছে নেতার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • সংস্কারপন্থী: যারা এই উত্তরাধিকার কেন্দ্রিক নেতৃত্বকে সহজে মেনে নিতে নাও পারে।

আগামীর লড়াই: প্রক্সি বনাম সরাসরি যুদ্ধ

ইরানের ইতিহাস বলছে, তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ‘প্রক্সি কৌশল’ বেশি পছন্দ করে। অর্থাৎ আগুনের শিখা জ্বলবে চারদিকে, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থাকবে ছায়ার আড়ালে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের দুর্বলতা।

উপসংহার: বাস্তবতা হলো, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি হারাতে পারবে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রও সহজে ইরানকে ভাঙতে পারবে না। মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব কি ইরানকে আরও কঠোর পথে নিয়ে যাবে, নাকি তিনি নতুন কোনো কৌশল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার খেলাকেই বদলে দেবেন? এর উত্তর হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকায়িত।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ