ইতিহাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন? শুরুতে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা কত ছিল জেনে নিন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক

May 26, 2026

শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ব্রিটিশ সরকারের ১৯১২ সালের রাজকীয় ঘোষণার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠার শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন। তৎকালীন সময়ে কোনো ছাত্রী সরাসরি ভর্তি না হলেও পরবর্তীতে প্রথম ছাত্রী হিসেবে লীলা নাগ ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ইতিহাস গড়েন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন: মূল উদ্যোক্তাদের তালিকা

অনেকেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা একক কোনো ব্যক্তি, তবে মূলত এটি ছিল যৌথ প্রচেষ্টার ফসল। প্রতিষ্ঠার পেছনে ৩ জন মুসলিম নেতার অবদান সবচেয়ে বেশি:

  • নবাব স্যার সলিমুল্লাহ: তিনিই প্রথম পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের শিক্ষার আলো ছড়াতে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি তোলেন।
  • নবাব স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আর্থিক সহায়তা এবং ব্রিটিশদের সাথে লবিংয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
  • শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক: রাজনৈতিক ও আইনিভাবে ব্রিটিশ সরকারকে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

শুরুর দিকের অনুষদ, বিভাগ ও শিক্ষক সংখ্যা

১৯২১ সালের ১ জুলাই যখন “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্লাস শুরু হয়, তখন এর অ্যাকাডেমিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত গোছানো:

  • অনুষদ ও বিভাগ: শুরুতে এর অনুষদ (Faculty) ছিল মাত্র ৩টি—কলা (Arts), বিজ্ঞান (Science) এবং আইন (Law)। আর মোট বিভাগ ছিল ১২টি।
  • শিক্ষক ও হল সংখ্যা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য (VC) ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ। শুরুর দিকে শিক্ষক ছিলেন ৬০ জন এবং শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হল ছিল মাত্র ৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল)।

প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১) মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষাবর্ষের (১৯২১ সালের ১ জুলাই) মূল পরিসংখ্যান নিচে ম্যাট্রিক্স বা ছক আকারে তুলে ধরা হলো:

মূল পরিসংখ্যান ম্যাট্রিক্স (১৯২১)

সূচক / খাত বিবরণ ও সংখ্যা
মোট অনুষদ (Faculties)৩টি (কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ)
মোট বিভাগ (Departments)১২টি
মোট ছাত্র সংখ্যা (Students)৮৭৭ জন (মতান্তরে ৮৪৭ জন)
ছাত্রী সংখ্যা (Female Students)১ জন (লীলা নাগ)
মোট শিক্ষক সংখ্যা (Teachers)৬০ জন
আবাসিক হল/ছাত্রাবাস (Halls)৩টি (সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা হল ও জগন্নাথ হল)
প্রথম উপাচার্য (Vice-Chancellor)স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ (পি. জে. হার্টগ)

অনুষদ ও বিভাগসমূহের বিস্তারিত বিভাজন

  • কলা অনুষদ (৮টি বিভাগ): সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজি, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফারসি ও উর্দু, দর্শন, এবং অর্থনীতি ও রাজনীতি.
  • বিজ্ঞান অনুষদ (৩টি বিভাগ): পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, এবং গণিত.
  • আইন অনুষদ (১টি বিভাগ): আইন বিভাগ.

এই ক্ষুদ্র অবকাঠামো ও পরিসংখ্যান নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অথবা এর প্রথম সমাবর্তন (১৯২৩) সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে নিচে লিখে জানাতে পারেন।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এসইও এক্সপার্ট হিসেবে সাধারণ জ্ঞানের এই ডাটাগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি দেখেছি—বিভিন্ন পরীক্ষায় একক নাম হিসেবে ‘নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’ অপশনে বেশি থাকে। তবে স্যার সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর অবদানও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের জমিদারির অংশ পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন। তাই কপি-পেস্ট করে পাবলিশ করার আগে অপশনগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

গিনেস

নিউজ ডেস্ক

July 9, 2026

শেয়ার করুন

তথ্যপ্রযুক্তি, সমাজ ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুল্বুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আমাদের দেশের সূর্যসন্তানেরা। ব্যক্তিগত প্রতিভা থেকে শুরু করে দলগত দেশপ্রেম—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশিরা নিজেদের নাম খোদাই করেছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) পাতায়।

আমি বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant), আমার দীর্ঘ ৬ বছরের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা অ্যানালাইসিসের অভিজ্ঞতায় গিনেস বুকে বাংলাদেশের অফিশিয়াল রেকর্ডের পরিসংখ্যান, শীর্ষ রেকর্ডধারী ব্যক্তি এবং আপনি নিজে কীভাবে গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করবেন, তার একটি সম্পূর্ণ ‘রিলিজ-রেডি’ মেগা কন্টেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।

পর্ব ১: এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশী গিনেস রেকর্ড করেছেন?

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দেশের মোট রেকর্ডধারীর একক বা অফিশিয়াল সংখ্যা সরাসরি প্রকাশ করে না। তবে বিভিন্ন সময়ে গিনেসের অফিশিয়াল ডেটাবেজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত একক প্রচেষ্টা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বা দলগত জাতীয় আয়োজন মিলিয়ে বাংলাদেশী ব্যক্তি ও উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টিরও বেশি রেকর্ড গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে অনেকে একাধিকবার রেকর্ড করায় ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে মোট রেকর্ডের সংখ্যাটিই বেশি গৌরবময়।

পর্ব ২: গিনেস বুকে বাংলাদেশের সেরা কিছু রেকর্ড ও রেকর্ডধারী

বাংলাদেশের ঝুলিতে থাকা কিছু ঐতিহাসিক দলগত এবং বিষ্ময়কর ব্যক্তিগত রেকর্ডের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দলগত ও জাতীয় গৌরবের বিশ্বরেকর্ডসমূহ

  • লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত (২০১৪): ২৬ মার্চ ২০১৪, স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২,৫৪,৬৮১ জন মানুষ একসাথে গেয়েছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা’। এটি গিনেস বুকে বিশাল এক দলগত রেকর্ড হিসেবে স্থান পায়।
  • বিশ্বের বৃহত্তম মানব পতাকা (২০১৩): ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, বিজয় দিবসে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭,১১৭ জন মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয় বিশ্বের বৃহত্তম মানব জাতীয় পতাকা (Largest Human National Flag)।
  • লংগেস্ট সিঙ্গেল লাইন অব বাইসাইকেল মুভিং (২০১৭): ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, বিজয় দিবসে ‘বিডি সাইকেলিস্ট’ সংগঠনের উদ্যোগে ৩০০ ফিট রাস্তায় ১,১৮৬ জন সাইক্লিস্ট একক লাইনে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বসনিয়ার রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েন।
  • ৪৮ ঘণ্টার দীর্ঘতম সাইক্লিং রিলে (২০২১): ‘TeamBDC’-এর ৪ জন বাংলাদেশী সাইক্লিস্ট—দ্রাবির আলম, তানভীর আহমেদ, মোহাম্মদ আলাউদ্দীন এবং রকিবুল ইসলাম—৪৮ ঘণ্টায় ১,৬৭০.৩৩৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই টিম রেকর্ডটি অর্জন করেন।
  • রিকশার নগরী ঢাকা (২০১৫): গিনেস বুক ২০১৫ সালের প্রকাশনায় ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রিকশা চলাচলকারী শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যেখানে যাতায়াতের মোট ৪০ শতাংশই রিকশাকেন্দ্রিক।

২. ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বজয়ী কয়েকজন বাংলাদেশী

  • জোবেরা রহমান লিনু (প্রথম বাংলাদেশী): ২০০২ সালের ২৪ মে গিনেস বুক তাঁকে স্বীকৃতি দেয়। জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে রেকর্ড ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে গিনেস বুকে নাম লেখান।
  • কনক কর্মকার (বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী): কনক কর্মকার ভিন্ন ভিন্ন অনন্য ক্যাটাগরিতে এ পর্যন্ত ২৩ বার বিশ্বরেকর্ড করেছেন! তাঁর উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে—কপালে ২৫ মিনিট গিটার ব্যালেন্স করা, থুতনিতে গিটার ব্যালেন্স করা এবং কপালে ১,১৫০টি প্লাস্টিক গ্লাস রাখা।
  • আব্দুল হালিম (ফুটবলে হ্যাটট্রিক রেকর্ড): মাগুরা ও বগুড়ার এই কৃতি সন্তান মাথায় ফুটবল ব্যালেন্স করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। মাথায় বল নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্ব (১৫.২ কিলোমিটার) হাঁটা এবং মাথায় বল নিয়ে দ্রুততম সময়ে রোলার স্কেটিং জুতা পরে ১০০ মিটার অতিক্রম করার মতো হ্যাটট্রিক রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
  • মাহমুদুল হাসান ফয়সাল: মাগুরার এই তরুণ এক মিনিটে হাতে বাস্কেটবল এবং ফুটবল ঘোরানোসহ বল কন্ট্রোলিংয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাধিক বিশ্বরেকর্ড করেছেন।
  • কয়েন টাওয়ারের রেকর্ড (নিপা ও আয়মান): বরিশালের নুসরাত জাহান নিপা এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরির রেকর্ড করেছিলেন, যা পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ১৬ বছর বয়সী কিশোর আয়মান মোহাম্মদ (১ মিনিটে ৭৫টি কয়েন স্তুপ করে) ভেঙে নিজের নামে করে নেন।

পর্ব ৩: আপনি কীভাবে গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করবেন? (ধাপ-বাই-ধাপ গাইড)

আপনার মধ্যে যদি এমন কোনো অনন্য প্রতিভা বা আইডিয়া থাকে যা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে, তবে আপনিও সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গিনেস বুকে আবেদন করতে পারেন। নিচে এর ৬টি মূল ধাপ দেওয়া হলো:

১. রেকর্ড ক্যাটাগরি নির্বাচন

  • বিদ্যমান রেকর্ড (Existing Record): গিনেসের ওয়েবসাইটে আগে থেকেই আছে এমন কোনো রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।
  • নতুন রেকর্ড (New Record): সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে আবেদন করতে পারেন। তবে আইডিয়াটি অবশ্যই পরিমাপযোগ্য (Measurable), প্রমাণযোগ্য (Verifiable) এবং বৈশ্বিক মানের হতে হবে।

২. অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি

  • প্রথমে গিনেসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট guinnessworldrecords.com-এ যান।
  • সেখানে আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট (Sign Up) তৈরি করুন।

৩. আবেদন জমা দেওয়া (Application Submission)

  • লগ-ইন করার পর “Apply for a record” বাটনে ক্লিক করুন।
  • নির্দিষ্ট ফর্মটি নিখুঁতভাবে পূরণ করুন।
  • আবেদনের খরচ: সাধারণ বা স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপ্লিকেশনের জন্য গিনেস কর্তৃপক্ষ কোনো ফি নেয় না (এটি সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে গাইডলাইন পেতে সাধারণত ১২ সপ্তাহ (প্রায় ৩ মাস) সময় লাগে।
  • প্রায়োরিটি অ্যাপ্লিকেশন (Priority Application): আপনি যদি দ্রুত রেসপন্স চান, তবে নির্দিষ্ট ফি (৫০০ থেকে ৮০০ ইউএস ডলারের কাছাকাছি) দিয়ে প্রায়োরিটি আবেদন করতে পারেন, যেখানে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সাড়া পাওয়া যায়।

৪. অফিশিয়াল গাইডলাইন বা নিয়মাবলী সংগ্রহ

  • আপনার আবেদনটি গিনেস টিম গ্রহণ করলে তারা আপনাকে একটি বিস্তারিত ইমেইল ও গাইডলাইন (Rules & Guidelines) পাঠাবে। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে রেকর্ড করার সময় কী কী নিয়ম মানতে হবে এবং কী কী প্রমাণ জমা দিতে হবে।

৫. রেকর্ড প্রদর্শন ও প্রমাণ সংগ্রহ (Evidence Gathering)

গাইডলাইন পাওয়ার পর আপনাকে আপনার রেকর্ডটি করে দেখাতে হবে এবং নিচের প্রমাণগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ডিজিটাল ফরম্যাটে রেকর্ড করতে হবে:

  • ভিডিও ও ছবি: পুরো রেকর্ডের স্পষ্ট এবং কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়া (Uncut) ভিডিও এবং হাই-কোয়ালিটি ছবি।
  • টাইমশীট বা লগবুক: রেকর্ড সম্পন্ন করার সঠিক সময়ের নিখুঁত হিসাব।
  • স্বাধীন সাক্ষী (Independent Witnesses): সমাজে সম্মানিত বা পেশাদার দুইজন ব্যক্তি (যেমন- সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, ডাক্তার বা শিক্ষক) যারা আপনার রেকর্ডের সময় উপস্থিত থেকে সত্যতা নিশ্চিত করে লিখিত স্টেটমেন্ট দেবেন।

৬. চূড়ান্ত অনুমোদন ও সার্টিফিকেট অর্জন

  • সংগৃহীত সব ভিডিও, ছবি এবং কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আপনার গিনেস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে আপলোড করুন।
  • গিনেস টিম এই প্রমাণগুলো যাচাই-বাছাই করতে আবার ১২ সপ্তাহ সময় নেবে। সবকিছু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সফল প্রমাণিত হলে তারা আপনাকে অফিশিয়াল বিজয়ী ঘোষণা করবে এবং ডাকযোগে একটি মর্যাদাপূর্ণ অফিশিয়াল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সার্টিফিকেট পাঠাবে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের এমন সব রোমাঞ্চকর রেকর্ড, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক তথ্যের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার ব্যবসার জন্য প্রফেশনাল এসইও কনসালটেশন বা ডিজিটাল কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে bdsbulbulahmed.com সাইটে।

পৃথিবীর এমন ১০টি রোমাঞ্চকর রহস্যময় ঘটনা যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান আজও দিতে পারেনি।

নিউজ ডেস্ক

July 8, 2026

শেয়ার করুন

লাইফস্টাইল ও রোমাঞ্চ ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬

প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে। নিজেকে সে আগলে রাখে নানা ধরনের রহস্যের বেড়াজালে। কিছু রহস্যের সমাধান মানুষ করতে পারলেও, কিছু ঘটনা চিরকাল অমীমাংসিতই থেকে যায়। বিশ্বের বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী, গবেষক এবং তদন্তকারী সংস্থাও যুগের পর যুগ চেষ্টা করে এগুলোর কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাননি।

আমি বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant), আমার দীর্ঘ ৬ বছরের বৈশ্বিক ডেটা ও আন্তর্জাতিক কন্টেন্ট অ্যানালাইসিসের অভিজ্ঞতায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা এমন ১০টি শীর্ষ ঐতিহাসিক ও অলৌকিক অমীমাংসিত রহস্য নিয়ে একটি সম্পূর্ণ ‘রিলিজ-রেডি’ মেগা কন্টেন্ট আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

পর্ব ১: ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ৫টি বৈশ্বিক রহস্য

বিশ্বের ইতিহাস ও ভূগোলের এমন কিছু ঘটনা যা দশকের পর দশক ধরে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে রেখেছে:

১. বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (Bermuda Triangle)

আটলান্টিক মহাসাগরের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে (মিয়ামি, বারমুডা ও পুয়ের্তো রিকোর মাঝের এলাকা) বহু বছর ধরে বেশ কিছু জাহাজ এবং বিমান কোনো কারণ ছাড়াই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেও চালকেরা কোনো বিপদ সংকেত (SOS) পাঠাতে পারেননি। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

২. ভয়নিচ পাণ্ডুলিপি (Voynich Manuscript)

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে থাকা প্রায় ৬০০ বছর পুরোনো এই হাতে লেখা বইটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোগ্রাফিক রহস্য। বইটিতে এমন এক ভাষা এবং লিপি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পৃথিবীর কোনো জানা ভাষা, কোড বা ব্যাকরণের সাথে মেলে না। এর ভেতরে থাকা অদ্ভুত গাছপালা, ল্যাবরেটরি ও জ্যোতির্বিদ্যার রঙিন ছবিগুলোও সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অবাস্তব।

৩. ডায়াটলভ পাস দুর্ঘটনা (Dyatlov Pass Incident)

১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার উরাল পর্বতমালার ডায়াটলভ পাস নামক স্থানে ৯ জন অভিজ্ঞ রুশ পর্বতারোহী অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে মারা যান। মাঝরাতে মাইনাস তাপমাত্রায় তারা নিজেদের তাঁবু ভেতর থেকে ব্লেড দিয়ে কেটে সম্পূর্ণ খালি গায়ে ও খালি পায়ে বাইরে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি ঠাণ্ডায় দৌড়ে পালিয়েছিলেন। পরে তাদের লাশ উদ্ধার করা হলে দেখা যায়, কারও কারও খুলি ও হাড় প্রচণ্ড আঘাতে ভাঙা, অথচ বাইরে চামড়ায় বা শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ছিল না!

৪. জ্যাক দ্য রিপার (Jack the Ripper)

১৮৮৮ সালে লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার রাস্তায় এক ভয়ংকর সিরিয়াল কিলারের আবির্ভাব ঘটে, যাকে ইতিহাসে ‘জ্যাক দ্য রিপার’ নামে ডাকা হয়। তিনি অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্মম উপায়ে বেশ কয়েকজন নারীকে গলা কেটে হত্যা করেছিলেন। খুনি নিজেই পুলিশকে চিঠি পাঠিয়ে চ্যালেঞ্জ করত। কিন্তু স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের শত চেষ্টা এবং পুলিশি তদন্তের পরও তার আসল পরিচয় আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

৫. দ্য হাম: অদ্ভুত গুঞ্জন শব্দ (The Hum)

১৯৬০ সালের দশক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের (বিশেষ করে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অংশে) মানুষ ঘরের ভেতরে বা শান্ত পরিবেশে এক ধরনের একটানা, নিম্ন ফ্রিকোয়েন্সির গুঞ্জন শব্দ শুনতে পায়। এটি অনেকটা দূরবর্তী কোনো ভারী ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দের মতো শোনায়। অবাক করা বিষয় হলো, এই শব্দ কোনো মাইক্রোফোনে রেকর্ড হয় না, শুধু মানুষের কানেই ধরা পড়ে। গবেষকেরা এর সুনির্দিষ্ট উৎস আজও খুঁজে পাননি।

পর্ব ২: প্রকৃতির ৫টি অলৌকিক ও বাস্তব রহস্যময় ঘটনা

লাইফস্টাইল ও জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্রাইটসাইড-এর সৌজন্যে নিচে এমন ৫টি ঘটনার বিবরণ দেওয়া হলো, যা সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ঘটলেও বিজ্ঞান আজও এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি:

৬. নাচের মহামারী (The Dancing Plague)

ঘটনাকাল: জুলাই, ১৫১৮ | স্থান: স্ট্রাসবার্গ, ফ্রান্স

মিসেস ত্রোফফেয়া নামের এক নারী হঠাৎ রাস্তায় নেমে অদ্ভুতভাবে নাচতে শুরু করেন। এক সপ্তাহ পর আরো ৩৪ জন ব্যক্তি এবং এক মাস পর শত শত লোক সেই অবিরাম নাচে যোগ দেয়। ক্লান্তি, হার্ট অ্যাটাক ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগে এই নাচের মিছিলে প্রাণ হারায় প্রায় ৪০০ জন মানুষ। এক মাস ধরে না খেয়ে অবিরাম নাচতে থাকা কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব হলেও, এর কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি।

৭. ভবিষ্যৎ থেকে আসা সময় ভ্রমণকারী! (The Time Traveler)

ঘটনাকাল: ২০০৩ সাল | স্থান: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির দায়ে অ্যান্ড্রু কার্লসসিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি মাত্র ৮০০ ডলার পুঁজি নিয়ে শেয়ারবাজারে ১২৬টি চরম ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেন করে রাতারাতি ৩৫০ মিলিয়ন (৩৫ কোটি) ডলার আয় করেন। আটকের পর অ্যান্ড্রু দাবি করেন, তিনি ২২৫৬ সালের পৃথিবী থেকে টাইম মেশিনে চেপে ২০০৩ সালে এসেছেন। আদালতে তাঁর এই বক্তব্য ধোপে না টিকলেও, কিছুদিন পর কঠোর নজরদারির জেলখানা থেকে তিনি বেমালুম হাওয়া হয়ে যান!

৮. ব্রালরনে জাদুঘরের ছবি (The Time Traveling Hipster)

ঘটনাকাল: ১৯৪১ সাল | স্থান: কানাডা

১৯৪১ সালে কানাডার গোল্ড ব্রিজ পুনর্নির্মাণের সময় একটি ছবি তোলা হয়। ব্রালরনে জাদুঘরে সংরক্ষিত এই ছবিতে ভিড়ের মধ্যে একজন যুবককে দেখা যায়, যার পোশাক-আশাক মোটেও ১৯৪১ সালের সমসাময়িক ছিল না। তাঁর পরনে ছিল আধুনিক চেইন লাগানো হুডি, গ্রাফিক টি-শার্ট এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয়—তাঁর হাতে ধরা ছিল বর্তমান সময়ের আধুনিক ডিএসএলআর (DSLR) ক্যামেরার মতো দেখতে একটি ডিভাইস!

৯. হিমায়িত বালিকা (The Frozen Girl)

ঘটনাকাল: ২০ ডিসেম্বর, ১৯৮০ | স্থান: মিনেসোটা, যুক্তরাষ্ট্র

মাইনাস ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৯ বছর বয়সী তরুণী জিন হিলিয়ার্ড তুষারঝড়ের কবলে পড়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা বরফের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। যখন তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তাঁর শরীর বরফের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং বেঁচে থাকার কোনো লক্ষণ ছিল না। চামড়া এতটাই শক্ত ছিল যে চিকিৎসকেরা শরীরে ইনজেকশন পর্যন্ত ফোটাতে পারছিলেন না। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে, ৩ দিন পর জিন অলৌকিকভাবে হাত-পা নাড়াতে শুরু করেন এবং ৬ সপ্তাহ পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরে যান।

১০. ঘরের ভেতরের বৃষ্টি মানব (The Rain Man)

ঘটনাকাল: ১৯৮৩ সাল | স্থান: পেনসিলভেনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

ডন ডেকার নামের এক যুবক তাঁর দাদার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে আসার সাথে সাথেই অলৌকিকভাবে বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ফুঁড়ে বৃষ্টির মতো পানি পড়া শুরু হয়। অথচ সেখানে কোনো পানির পাইপ বা লিক ছিল না। ডনকে যখন ঘর থেকে বের করে পাশের একটি পিৎজা রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন বাড়ির বৃষ্টি সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু পিৎজা রেস্টুরেন্টের ছাদ ও দেয়াল ফুঁড়ে আবার বৃষ্টি শুরু হয়! ডনের উপস্থিতির সাথে এই বৃষ্টির কী সম্পর্ক ছিল, বিজ্ঞান আজও তা জানে না।

এক নজরে ১০টি অমীমাংসিত রহস্যের সংক্ষিপ্ত চার্ট:

রহস্যের নামপ্রধান স্থান/দেশরহস্যের মূল ধরণবৈজ্ঞানিক অবস্থা
বারমুডা ট্রায়াঙ্গলআটলান্টিক মহাসাগরজাহাজ ও বিমান নিখোঁজ হওয়াকোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই
ভয়নিচ পাণ্ডুলিপিইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউরোপ)অচেনা ভাষার প্রাচীন বইকোড আজ পর্যন্ত ভাঙা যায়নি
ডায়াটলভ পাসরাশিয়াপর্বতারোহীদের অদ্ভুত মৃত্যুসরকারিভাবে অমীমাংসিত
জ্যাক দ্য রিপারযুক্তরাজ্য (লন্ডন)সিরিয়াল কিলারের পরিচয়খুনি অজ্ঞাত রয়ে গেছে
দ্য হাম (The Hum)বিশ্বব্যাপীঅদ্ভুত গুঞ্জন শব্দউৎসের সন্ধান মেলেনি
নাচের মহামারীফ্রান্সঅনবরত নাচ এবং মৃত্যুমনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যাহীন
অ্যান্ড্রু কার্লসসিনযুক্তরাষ্ট্রশেয়ারবাজার ও জেল থেকে গায়েবটাইম ট্রাভেলের দাবি
টাইম ট্রাভেলার ছবিকানাডা১৯৪১ সালের ছবিতে আধুনিক মানুষছবির সত্যতা প্রমাণিত, ব্যক্তি অজ্ঞাত
জিন হিলিয়ার্ডযুক্তরাষ্ট্রমাইনাস ২২ ডিগ্রিতে জমে গিয়েও জীবিতচিকিৎসাবিজ্ঞানের অলৌকিক ঘটনা
ডন ডেকারযুক্তরাষ্ট্রমানুষের উপস্থিতিতে ছাদ থেকে বৃষ্টিপ্যারানরমাল বা ব্যাখ্যাতীত

প্রকৃতি, বিজ্ঞান এবং মহাবিশ্বের এমন আরও রোমাঞ্চকর রহস্য ও সত্য ঘটনা সবার আগে জানতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। ডিজিটাল মার্কেটিং ও কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশনের জন্য সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা

নিউজ ডেস্ক

July 7, 2026

শেয়ার করুন

খেলাধুলা, ইতিহাস ও মানবতা ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬

ফুটবল ম্যাচ বা শৈল্পিক ফুটবলের আড়ালে ল্যাটিন আমেরিকার দুই ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চকমকে সংস্কৃতির নিচে চাপা পড়ে আছে এক বুক কাঁপানো, রক্তক্ষয়ী এবং চরম অমানবিক ইতিহাস। ক্ষমতার জৌলুস ও সাম্রাজ্যবাদী লোভের বশে এই দেশ দুটির মাটিতে ইসলামের আলো এবং আদি মুসলিমদের অস্তিত্ব যেভাবে জোরপূর্বক, নির্মম দমনপীড়ন ও গণহত্যার মাধ্যমে মুছে দেওয়া হয়েছিল, তা বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এক বড় কলঙ্ক।

আমি বিডিএস বুলবুল আহমে (Senior SEO Consultant), আমার দীর্ঘ ৬ বছরের বৈশ্বিক ডেটা ও আন্তর্জাতিক কন্টেন্ট অ্যানালাইসিসের অভিজ্ঞতায় এই অন্ধকার ট্র্যাজিক ইতিহাসটি এবং এর বিপরীতে ইউরোপীয় ফুটবলে বর্তমান মুসলিম তারকাদের মানবিক ও প্রভাবশালী অবস্থান নিয়ে একটি সম্পূর্ণ বিস্তারিত ‘রিলিজ-রেডি’ মেগা কন্টেন্ট আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

১. ব্রাজিলের নির্মম ইতিহাস: দাসপ্রথা, ‘মালে বিদ্রোহ’ ও বর্বর দমনপীড়ন

ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস মূলত আফ্রিকান মুসলিম দাসদের রক্ত, অশ্রু এবং তাদের ওপর চলা পর্তুগিজদের মধ্যযুগীয় বর্বরতার ইতিহাস।

আটলান্টিক দাস বাণিজ্য (Atlantic Slave Trade) ও মালে (Malê) নিধন

১৫২৬ সালে পর্তুগিজরা ব্রাজিলে তাদের আখের খামার ও খনি খাটানোর জন্য আফ্রিকার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলো থেকে স্বাধীন মানুষকে লোহার চেইনে বেঁধে পশুর মতো জাহাজে করে নিয়ে আসে। এককভাবে শুধু ব্রাজিলেই নিয়ে আসা হয় ৩০ লক্ষের বেশি আফ্রিকান। এদের একটি বিশাল অংশ ছিলেন সুশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান এবং হাফেজে কুর’আন মুসলিম, যাদের স্থানীয়ভাবে বলা হতো ‘মালে’ (Malê)

নিরক্ষর শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টান মালিকরা এই শিক্ষিত মুসলিমদের সহ্য করতে পারত না। তাদের নামাজ পড়া, আরবি নাম রাখা বা আরবিতে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। নামাজ পড়তে গিয়ে ধরা পড়লে জুটত চাবুকের নির্মম আঘাত, অঙ্গহানি ও জঘন্য শাস্তি। মিশনারিরা বলপ্রয়োগ করে ও নির্যাতন চালিয়ে তাদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করত।

১৮৩৫ সালের ঐতিহাসিক ‘মালে বিদ্রোহ’ (The Malê Revolt) ও গণহত্যা

কঠোর শাসন ও অমানবিক নির্যাতনের দেয়াল ভেঙে ১৮৩৫ সালের রমজান মাসের এক রাতে (২৫ জানুয়ারি) ব্রাজিলের বাহিয়া (Bahia) প্রদেশের সালভাদর শহরে মুসলিম দাসরা দাসপ্রথা ও ধর্মীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে এক বিশাল সশস্ত্র বিদ্রোহের ডাক দেন।

তারা মাথায় টুপি ও গায়ে পবিত্র সাদা ইসলামিক পোশাক পরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রাজিলিয়ান ও পর্তুগিজ বাহিনীর সামনে তারা টিকতে পারেননি। অত্যন্ত নির্মম ও পৈশাচিক উপায়ে এই বিদ্রোহ দমন করা হয়। শত শত মুসলিমকে প্রকাশ্য দিবালোকে ফাঁসি দেওয়া হয়, হাজার হাজার দাসকে আমৃত্যু কারাদণ্ড বা চাবুকের আঘাতে পঙ্গু করা হয়। এরপর ব্রাজিলে ইসলাম বা আরবির সমস্ত চিহ্ন ও বইপত্র পুড়িয়ে এক প্রজন্মেরই পুরো ইসলাম ধর্মকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

ঝড় ও পথ হারানো জাহাজ: ১৮৬০ সালের সেই বিস্ময়কর ঘটনা

এই নির্মম নিধনের ২৫ বছর পর, ১৮৬০ সালে বাগদাদের প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ও ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দীর জাহাজ এক ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে দিক হারিয়ে রিও ডি জেনিরো বন্দরে আশ্রয় নেয়। সেখানে কিছু স্থানীয় মানুষ এগিয়ে এসে তাঁকে স্পষ্ট আরবি উচ্চারণে সালাম দেয়—‘আসসালামু আলাইকুম’

ইমাম তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলেন তারা সবাই মুসলিম হলেও ব্রাজিলের পূর্ববর্তী শাসকদের তীব্র অত্যাচার ও দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা নামাজ-রোজা সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। তারা নামাজের সময় হলে নাচের মতো গোল হয়ে হাততালি দিত। এই করুণ দৃশ্য দেখে ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দী স্বদেশে ফিরে না গিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর ব্রাজিলে থেকে তাদের পুনরায় ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা দেন। স্বদেশে ফিরে তিনি তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিখ্যাত বই লেখেন—‘ব্রাজিলের সফরনামা’

২. আর্জেন্টিনার ইতিহাস: পরিচয় গোপন, স্প্যানিশ ইনকুইজিশন ও বাধ্যতামূলক ধর্মান্তকরণ

আর্জেন্টিনায় ইসলামের অস্তিত্ব মুছে ফেলার পদ্ধতিটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে, কিন্তু তার রূপ ছিল সমান করুণ ও জঘন্য।

  • মরিস্কোদের ওপর অত্যাচার: স্পেনে মুসলিম শাসনের পতনের পর খ্রিস্টান শাসকরা মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ (Spanish Inquisition) শুরু করে। তখন অনেক মুসলিম প্রাণ বাঁচাতে বাহ্যিকভাবে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করলেও গোপনে ইসলাম পালন করতেন, যাদের ‘মরিস্কো’ বলা হতো। এই মরিস্কোদের একটি বড় অংশ স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সাথে দাস বা নাবিক হিসেবে আর্জেন্টিনায় আসেন।
  • ধর্মীয় পরিচয় চিরতরে বিলুপ্তি: আর্জেন্টিনার কড়া ক্যাথলিক আইনের কারণে এই মরিস্কো মুসলিমরা কখনো প্রকাশ্য কোনো ইসলামিক চর্চা করতে পারেননি। বংশপরম্পরায় নিজেদের আসল পরিচয় গোপন রাখতে রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় চাপের মুখে এক সময় তাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের আসল ধর্মীয় পরিচয় সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে খ্রিস্টান সমাজে বিলীন হতে বাধ্য হয়।
  • সিরীয়-লেবানিজ অভিবাসীদের নাম পরিবর্তন: ১৯শ শতাব্দীর শেষের দিকে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বহু মুসলিম আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান। কিন্তু আর্জেন্টিনার তৎকালীন বর্ণবাদী সংবিধানে নিয়ম ছিল—শুধুমাত্র ইউরোপীয় ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ফলে টিকে থাকার লড়াইয়ে এবং সামাজিক চরম বৈষম্য থেকে বাঁচতে এই মুসলিমদের অনেকেই নিজেদের নাম পরিবর্তন করে খ্রিস্টান নাম রাখতে বাধ্য হন।

এক নজরে দুই দেশের কালো ইতিহাসের তুলনা:

দেশ ও প্রেক্ষাপটপ্রধান মুসলিম গোষ্ঠীট্র্যাজেডি ও দমনপীড়নের মূল কারণবর্তমান অবস্থা (২০১০-২০২৬)
ব্রাজিল (পর্তুগিজ উপনিবেশ)আফ্রিকান ‘মালে’ (Malê) দাস সম্প্রদায়।১৮৩৫ সালের বিদ্রোহের পর নির্মম গণহত্যা, ফাঁসি এবং ইসলামিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধকরণ।সরকারিভাবে ৩৫ হাজার, বেসরকারিভাবে প্রায় ৪-৫ লক্ষ মুসলিম (আরব অভিবাসীদের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত)।
আর্জেন্টিনা (স্প্যানিশ উপনিবেশ)স্প্যানিশ মরিস্কো এবং সিরীয়-লেবানিজ অভিবাসী।কঠোর ক্যাথলিক আইন এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণে বাধ্যতামূলক পরিচয় ও নাম পরিবর্তন।ল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম ইসলামিক সেন্টার এখন আর্জেন্টিনায় অবস্থিত।

আজ ল্যাটিন আমেরিকার এই দুই দেশে যে মুসলিম জনসংখ্যা দেখা যায়, তা মূলত বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা নতুন অভিবাসীদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে। প্রাচীন আফ্রিকান ও স্প্যানিশ মুসলিমদের সেই রক্তঝরা ইতিহাস সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্বৈরাচারী শাসকদের চক্রান্তে মাটির নিচেই চাপা পড়ে ছিল।

৩. বিপরীত চিত্র: ফ্রান্স ও জার্মানি জাতীয় দলে মুসলিম খেলোয়াড়দের রাজত্ব (২০২৬)

ল্যাটিন আমেরিকার সেই অন্ধকার ইতিহাসের বিপরীতে, ইউরোপের বর্তমান ফুটবল কাঠামোতে মুসলিম ফুটবলাররা মাঠের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে খেলছেন। ২০২৬ সালের চলমান আন্তর্জাতিক ফুটবল ও সাম্প্রতিক স্কোয়াডগুলোর তথ্য অনুযায়ী:

ফ্রান্স জাতীয় দল:

  • উসমান দেম্বেলে (Ousmane Dembélé) – ফরোয়ার্ড: প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (PSG) এই ফরোয়ার্ড বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক উইঙ্গার এবং একজন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলিম, যিনি নিয়মিত রোজা রাখেন।
  • এনগোলো কান্তে (N’Golo Kanté) – মিডফিল্ডার: মাঠে তাঁর ক্লান্তিহীন খেলা এবং মাঠের বাইরে অতুলনীয় বিনয় ও ধর্মভীতির জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
  • ইব্রাহিমা কোনাতে ও উইলিয়াম সালিবা: লিভারপুল ও আর্সেনালের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই দুই তারকা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ফ্রান্সের রক্ষণভাগের মূল স্তম্ভ।
  • দায়োত উপামেকানো, মানু কোনে ও ইউসুফ ফোফানা: এরা প্রত্যেকেই ফরাসি ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের অপরিহার্য মুসলিম তারকা।

জার্মানি জাতীয় দল:

  • আন্টোনিও রুডিগার (Antonio Rüdiger) – ডিফেন্ডার: রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়কে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ও আগ্রাসী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার মনে করা হয়, যিনি মাঠে ও মাঠের বাইরে নিয়মিত ইসলামিক রীতিনীতি মেনে চলেন।
  • জামাল মুসিয়ালা (Jamal Musiala) – মিডফিল্ডার: বায়ার্ন মিউনিখের এই তরুণ মহাতারকা জার্মানির আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি।
  • লেরয় সানে, নাদিয়েম আমিরি ও মালিক থিয়াও: জার্মান আক্রমণে গতি ও রক্ষণে শক্তি জোগাতে এই মুসলিম ফুটবলাররা নিয়মিত অবদান রাখছেন।

৪. বিশ্বমঞ্চের মানবহিতৈষী ফুটবলার: যারা মুসলিমদের কল্যাণে কাজ করেন

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে এমন বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ফুটবলার রয়েছেন যারা মুসলিমদের কল্যাণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নিয়মিত অবদান রাখছেন:

  • সাদিও মানে (Sadio Mané) — সেনেগাল: তিনি তাঁর নিজ গ্রাম বামবালিতে (Bambali) প্রায় ৫ লাখ পাউন্ড খরচ করে একটি আধুনিক হাসপাতাল এবং আড়াই লাখ পাউন্ড খরচ করে একটি মাধ্যমিক স্কুল তৈরি করে দিয়েছেন। এই অতুলনীয় সমাজসেবার জন্য ফুটবল বিশ্বে তাঁকে প্রথম ‘সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড’ (Socrates Award) দেওয়া হয়।
  • মোহাম্মদ সালাহ (Mohamed Salah) — মিসর: তিনি তাঁর নিজ গ্রাম নাগরিগে বিশুদ্ধ পানির প্ল্যান্ট, মেয়েদের স্কুল এবং আল-আজহারের একটি ধর্মীয় ইনস্টিটিউট তৈরি করেছেন। এছাড়াও মিসরের ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে একদফায় ৩ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন।
  • হাকিম জিয়াশ (Hakim Ziyech) — মরক্কো: ২০১৫ সাল থেকে মরক্কো জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা বোনাসের টাকা তিনি নিজের জন্য নেননি। ২০২২ বিশ্বকাপের প্রাপ্ত বোনাসের ২ লাখ ৭৮ হাজার ডলারের পুরো টাকাটাই তিনি মরক্কোর দরিদ্র পরিবার এবং ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের কল্যাণে দান করে দিয়েছিলেন।
  • মেসুত ওজিল (Mesut Özil) — জার্মানি: ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর প্রাপ্ত বোনাসের পুরো অর্থ দিয়ে তিনি ব্রাজিলের ২৩ জন অসুস্থ মুসলিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জটিল অপারেশনের খরচ বহন করেছিলেন এবং চীনের উইঘুর মুসলিমদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিশ্বমঞ্চে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র” (References)

১. ব্রাজিলে ইসলামের ইতিহাস ও ‘মালে বিদ্রোহ’ (১৮৩৫) সংক্রান্ত সূত্র:

  • বই: ‘Reis, João José. (1993). “Slave Rebellion in Brazil: The Muslim Uprising of 1835 in Bahia” – এটি ব্রাজিলের বাহিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোয়াও জোসে রেইস কর্তৃক লিখিত একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ঐতিহাসিক দলিল, যেখানে ১৮৩৫ সালের আফ্রিকান মুসলিম দাসদের বিদ্রোহের প্রতি মুহূর্তের বিবরণ রয়েছে।
  • ভ্রমণকাহিনী: ‘Al-Baghdadi, Abd al-Rahman bin Abdullah. (1865). “Tasliyat al-Gharib bil-Nazar fi al-Ajib” (ব্রাজিলের সফরনামা)’ – বাগদাদের ইমাম আব্দুর রহমান আফেন্দী নিজেই তাঁর এই বইয়ে ১৮৬০ সালে ব্রাজিলে ঝড়ো জাহাজে পৌঁছানো এবং সেখানকার মুসলিমদের দুরবস্থার কথা বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করে গেছেন।

২. আর্জেন্টিনা ও ‘মরিস্কো’ (Morisco) মুসলিমদের ইতিহাস সংক্রান্ত সূত্র:

  • গবেষণা ও ইতিহাস গ্রন্থ: ‘Klich, Ignacio. (1995). “Arabs and Jews in Latin America: A Bibliographical Guide” – ল্যাটিন আমেরিকায় বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় স্প্যানিশ ইনকুইজিশনের কারণে ছদ্মবেশী মরিস্কো মুসলিম এবং পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর আসা সিরীয়-লেবানিজদের কড়া ক্যাথলিক আইনের মুখে বাধ্যতামূলক নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের ওপর এই গবেষণাপত্রটি রচিত।

৩. ইউরোপীয় ফুটবল (ফ্রান্স ও জার্মানি) এবং মুসলিম খেলোয়াড়দের স্কোয়াড (২০২৬):

  • ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম: ‘FIFA.com’ (Official Website) এবং ‘Transfermarkt’ (International Football Database) – ২০২৬ সালের চলমান আন্তর্জাতিক ফুটবল সূচি এবং ফ্রান্স ও জার্মানির সাম্প্রতিকতম আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর অফিশিয়াল স্কোয়াড (যেমন—উসমান দেম্বেলে, আন্টোনিও রুডিগার, উইলিয়াম সালিবা, জামাল মুসিয়ালাদের নিয়মিত ক্লাবস্তর ও জাতীয় দলের পরিসংখ্যান)।

৪. খেলোয়াড়দের দাতব্য চিকিৎসা ও সমাজসেবা সংক্রান্ত সূত্র:

  • পুরস্কার ও প্রতিবেদন: ‘France Football – Socrates Award (The Humanitarian Footballer Concept)’ – সাদিও মানের বামবালি গ্রামে হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণ এবং প্রথম ‘সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার অফিশিয়াল ঘোষণা।
  • মিডিয়া কভারেজ: ‘BBC Sport’, ‘The Guardian’, এবং ‘Al Jazeera English’ – বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন, যেখানে মেসুত ওজিলের উইঘুর মুসলিমদের সমর্থন ও ব্রাজিলে শিশুদের অপারেশন, মোহাম্মদ সালাহর নাগরিগ গ্রামে আল-আজহার ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং হাকিম জিয়াশের ২০২২ বিশ্বকাপের পুরো বোনাস মরক্কোর ক্যানসার রোগীদের দান করার খবর বিশ্বজুড়ে প্রকাশিত হয়েছিল।

ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিশ্ব ফুটবল, তারকা খেলোয়াড়দের প্রোফাইল এবং সমসামयिक বিশ্বের যেকোনো নিখুঁত ও ১০০% সত্যতা-যাচাইকৃত কন্টেন্ট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও সংক্রান্ত যেকোনো কনসালটেশনের জন্য সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ।

২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ