খাদ্য
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
কাঠ বাদাম (Almonds), কাজু বাদাম (Cashews) এবং কিশমিশ (Raisins) তিনটিই হলো ‘সুপারফুড’ বা অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার, যা সঠিক নিয়মে গ্রহণ করলে সর্বাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়।
১. কাঠ বাদাম (Almonds) খাওয়ার নিয়ম
কাঠ বাদাম ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের একটি চমৎকার উৎস।
কখন এবং কীভাবে খাবেন?
| বিষয় | নিয়ম | উপকারিতা |
| সঠিক পদ্ধতি | ভিজিয়ে খাওয়া (অবশ্যই)। রাতে ৮-১০টি কাঠ বাদাম পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খোসা ছাড়িয়ে খালি পেটে বা জলখাবারের সাথে খান। | বাদামের খোসায় ট্যানিন নামক একটি এনজাইম ইনহিবিটর থাকে, যা পুষ্টি শোষণে বাধা দেয়। ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদানটি নিষ্ক্রিয় হয় এবং হজম সহজ হয়। |
| সময় | সকালে খালি পেটে বা জলখাবারের সাথে। অথবা সন্ধ্যার নাস্তায়। | মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, হার্ট ভালো রাখা এবং দিনের শুরুতেই শক্তির জোগান দেওয়া। |
| পরিমাণ | দিনে ৬ থেকে ১০টি বাদাম (প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)। | অতিরিক্ত বাদাম খেলে ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে। |
| সতর্কতা | বাদামের খোসা ফেলে খাওয়া উচিত, বিশেষত যদি হজমের সমস্যা থাকে। |
২. কাজু বাদাম (Cashews) খাওয়ার নিয়ম
কাজু বাদাম হলো কপার, আয়রন, জিঙ্ক এবং মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের একটি ভালো উৎস। এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
কখন এবং কীভাবে খাবেন?
| বিষয় | নিয়ম | উপকারিতা |
| সঠিক পদ্ধতি | সরাসরি বা হালকা ভেজে খাওয়া। কাঠ বাদামের মতো কাজু বাদাম ভেজানোর প্রয়োজন হয় না, তবে এতে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড কমানোর জন্য ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে খাওয়া যেতে পারে। | এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বজায় থাকে। |
| সময় | দুপুরের খাবারের পর (স্ন্যাকস হিসেবে) বা সকালের নাস্তায়। ওয়ার্কআউটের আগে/পরে শক্তি যোগাতে খাওয়া যেতে পারে। | তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করা এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা রাখা। |
| পরিমাণ | দিনে ৪ থেকে ৬টি কাজু বাদাম। | কাজুতে ক্যালোরি এবং ফ্যাট তুলনামূলকভাবে বেশি, তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। |
| সতর্কতা | কাঁচা কাজু ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই সর্বদা প্রক্রিয়াজাত (Processsed) এবং হালকা ভাজা কাজু খান। |
৩. কিশমিশ (Raisins) খাওয়ার নিয়ম (বিস্তারিত পর্যালোচনা)
আপনার দেওয়া আর্টিকেল অনুযায়ী কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম নিচে সংক্ষেপে ও স্পষ্ট করে তুলে ধরা হলো:
কিশমিশ হলো প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং আয়রনের একটি চমৎকার উৎস।
সকালে খালি পেটে কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম
১. প্রস্তুতি:
* রাতে এক মুঠো (১৫-২০টি) কিশমিশ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
* পাত্রটি ঢেকে রাখুন।
* কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা আবশ্যক।
২. সকালে গ্রহণ:
* সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে প্রথমে ভেজানো কিশমিশগুলো খান।
* কিশমিশ খাওয়ার পর কিশমিশ ভেজানো পানিটুকু পান করুন। এই পানিতেই কিশমিশের বেশিরভাগ পুষ্টিগুণ মিশে থাকে।
৩. বিরতি:
* কিশমিশ ও পানি খাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট অন্য কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবেন না। এটি পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে।
কিশমিশ ভিজিয়ে খাওয়ার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
- সহজে পুষ্টি শোষণ: ভিজিয়ে রাখলে কিশমিশের পুষ্টিগুণ সহজে দ্রবীভূত হয় এবং শরীর দ্রুত শোষণ করতে পারে।
- হজম সহজ: শুকনো কিশমিশে থাকা ইনহিবিটরি এনজাইম ভেজানোর পর নিষ্ক্রিয় হয়, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
- ডিটক্সিফিকেশন: কিশমিশ ভেজানো পানি লিভারকে ডিটক্সিফাই (Detoxify) করতে এবং রক্ত শুদ্ধ করতে সহায়তা করে।
সতর্কতা:
- ডায়াবেটিস: কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের কিশমিশের পরিমাণ সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
- পরিমাণ: দৈনিক ১৫-২০টির বেশি কিশমিশ না খাওয়াই ভালো।
এই তিনটি খাবারই আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সঠিক নিয়মে রাখলে, তা আপনাকে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের অনেকেরই পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, সাদাটে হয়ে যাওয়া বা চামড়া উঠে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় মোজা-জুতা পরে থাকেন বা যাদের পা বেশি ঘামে, তারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Tinea Pedis বা Athlete’s Foot। সঠিক চিকিৎসা এবং সচেতনতার অভাবে এই সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
পায়ের ছত্রাক সংক্রমণের প্রধান লক্ষণসমূহ

- আঙুলের ফাঁকে লালচে ভাব বা সাদাটে ছাল ওঠা।
- প্রবল চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
- আক্রান্ত স্থানে ছোট ছোট ফোসকা পড়া বা রস বের হওয়া।
- পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ হওয়া।
কার্যকরী চিকিৎসা ও ঔষধের ব্যবহার

পায়ের এই ছত্রাক দমনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং স্টেরয়েডের সংমিশ্রণ সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
প্রস্তাবিত মলম: Econate Plus Cream (ইকোনেট প্লাস ক্রিম)
- ব্যবহার বিধি: আক্রান্ত স্থানটি সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর দিনে ৩ বার পাতলা করে ক্রিমটি লাগাতে হবে।
- সময়কাল: লক্ষণ কমে গেলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করতে টানা ৩ সপ্তাহ (২১ দিন) ব্যবহার করা জরুরি। মাঝপথে ছেড়ে দিলে ছত্রাক পুনরায় ফিরে আসতে পারে।
সুস্থ থাকার ৫টি বিশেষ সতর্কতা
শুধুমাত্র ঔষধ ব্যবহার করলেই এই সমস্যা দূর হয় না, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা আবশ্যক:
১. পা শুকনো রাখা: ওজু, গোসল বা পা ধোয়ার পর পাতলা তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে আঙুলের ফাঁকগুলো খুব ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। আর্দ্রতা ছত্রাকের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২. সুতির মোজা ব্যবহার: সবসময় পরিষ্কার ও সুতির মোজা ব্যবহার করুন। সিনথেটিক মোজা পরিহার করা ভালো। ৩. জুতার যত্ন: প্রতিদিন একই জুতা না পরে সম্ভব হলে একদিন পর পর বদলে পরুন। জুতা রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। ৪. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: অন্যের জুতা, মোজা বা তোয়ালে ব্যবহার করবেন না। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। ৫. খালি পায়ে হাঁটা: ঘরে থাকার সময় জুতা-মোজা খুলে রাখুন যাতে পায়ে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।
গুগল অ্যানালাইসিস ও তথ্যের উৎস (Sources):
আপনার পাঠকদের বিশ্বস্ততা অর্জনে নিচে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রগুলো যুক্ত করা হলো: ১. Mayo Clinic: Athlete’s Foot – Symptoms and Causes ২. Healthline: Tinea Pedis: Causes, Symptoms, and Diagnosis ৩. WebMD: How to Prevent and Treat Athlete’s Foot ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ হেলথ আর্কাইভ: ২০২৬-এর সাধারণ চর্মরোগ ও প্রতিকার বিষয়ক ডাটাবেস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনার উপসর্গেও এসেছে পরিবর্তন। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো শুধু শ্বাসযন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এমনকি করোনার ফলে ত্বকে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি। অ্যালার্জি বা চর্মরোগে আক্রান্তরা বিভিন্ন কারণে ত্বকের ফুসকুড়িসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন।
তবে অ্যালার্জি নাকি করোনার ফলে চর্মরোগ ফুটে উঠেছে তা বুঝবেন কীভাবে? উপসর্গহীন রোগীদের মধ্যেও চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
ত্বকে ফুসকুড়ি কোভিড-১৯ এর পুরোনো লক্ষণ নয়। ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ১১ হাজার ৫৪৪ জনের উপর করা করা হয় একটি সমীক্ষা।
সেখানে দেখা গেছে, কোভিড পজেটিভ রোগীদের 8.8 শতাংশই বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কোভিডের ক্ষেত্রে আপনার ত্বক দেখা দিতে পারে এমন ৫ ধরনের চর্মরোগ।
কোভিড ডিজিট
কোভিড ডিজিটকে কোভিড টো’ও বলা হয়। এর ফলে পায়ের আঙুলে লাল ও বেগুনি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেকটা ঘামাচির মতো হয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো দানার মতো বের হয়। এজন্য একে কোভিড ডিজিট বলা হয়।
চিলব্লেইনস নামে পরিচিত এই ত্বকের সমস্যা শীতকালে বেড়ে যায়। তবে কোভিডের ক্ষেত্রে, এটি যে কোনো ঋতুতে দেখা দিতে পারে। ফুসকুড়ির কারণে পায়ের আঙুলগুলো ফুলে যায়। তবে ব্যথা সৃষ্টি করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে খোসা ওঠে।
অ্যাকজিমা
অ্যাকজিমা হলো একটি প্রদাহজনক চর্মরোগ। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, ত্বকে পুরো স্তর পড়ে, চুলকানি, ফাটল এমনিকি রক্তক্ষরণও হতে পারে অ্যাকজিমায়। অ্যাকজিমার ফুসকুড়ির ফলে চুলকানির সৃষ্টি হয়।
যাদের অতীতে কখনো অ্যাকজিমা হয় তাদের ক্ষেত্রেও কোভিডের ফলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যাকজিমা দেখা দেওয়া বেশ কিছুদিন সমস্যাটি থাকতে পারে। সাধারণত ঘাড়, বুক বা হাতের কনুইতে অ্যাকজিমা হতে পারে।
আমবাত
হাইভ হলো এক ধরনের ফুসকুড়ি, যা হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা দেয়। এগুলো লালচে ও দানার মতো হয়ে থাকে। এর ফলে শরীরে চুলকানির সৃষ্টি হয়। আমবাত উরু, পিঠ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, ত্বকের এই অবস্থা কোভিড সংক্রমণের প্রথম দিকে দেখা যায়। যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যদি এ সময় ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা দেয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী বলে বিবেচিত হয়।
মুখের ফুসকুড়ি
মুখের ফুসকড়ি এনান্থেম নামেও পরিচিত। এটি কোভিডের আরেকটি লক্ষণ। ঠোঁটে এ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যার ফলে মুখে শুষ্ক ও খসখসে অনুভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটে কালশিটেও দেখা দিতে পারে। এমনকি এর ফলে মুখ ভেতর থেকে ফুলে যেতে পারে।
এ কারণে খেতে ও কথা বলতে অসুবিধা হয়। একটি স্প্যানিশ সমীক্ষা অনুসারে, কোভিডের অন্যান্য উপসর্গ শুরু হওয়ার দুদিন আগে থেকে ২৪ দিন পর পর্যন্ত মুখে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
পিটিরিয়াসিস রোজ
এটি হলো একটি বৃত্তাকার ধরনের ফুসকুড়ি। যা সাধারণত বুকে, পেটে বা পিঠে অনেকটার চাকার মতো দেখা দেয়। হেরাল্ড প্যাচ নামে পরিচিত বৃত্তাকার প্যাচ ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এ ধরণের প্যাচলো সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে শরীরে দেখা দেয়।
শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। প্যাচগুলো বিস্তৃত হয় তবে চুলকানির মাত্রা কম থাকে। পেটে, পিঠের উপরের অংশে, পা ও বাহুরে উপরিভাগে এমন ফুসকুড়ি ফুটে ওঠে। এটি করোনার লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪-৫ দিন পরে প্রদর্শিত হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য ডেস্ক (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কাঁচা পেঁপে আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সবজি। তবে এর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই বিস্তারিত জানি না। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং ‘প্যাপেইন’ নামক এক শক্তিশালী এনজাইম, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নিচে কাঁচা পেঁপের সেরা ১০টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো:
১. হজমশক্তির আমূল পরিবর্তন
কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন (Papain) এনজাইম প্রোটিন সহজে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি পাকস্থলীর গ্যাস দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ দূরীকরণ
যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাঁদের জন্য কাঁচা পেঁপে আশীর্বাদস্বরূপ। এর উচ্চ আঁশ বা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৩. শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করা
কাঁচা পেঁপে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।
৪. দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ
যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি। এতে ক্যালরি খুব কম কিন্তু ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে।
৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বন্ধু
কাঁচা পেঁপে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৬. অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান
কাঁচা পেঁপে জরায়ুর পেশি সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাবের সমস্যায় এটি ঘরোয়া সমাধান হিসেবে দারুণ কাজ করে।
৭. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
এটি রক্তনালীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
৮. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ব্রণের দাগ দূরীকরণ
কাঁচা পেঁপের রস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে সজীব করে তোলে। এটি ব্রণ, মেছতা বা যেকোনো কালচে দাগ দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
৯. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি
পেঁপেতে থাকা ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমায় এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
১০. চুলের স্বাস্থ্য ও খুশকি নিরাময়
ভিটামিন ও এনজাইমের উপস্থিতির কারণে কাঁচা পেঁপে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং খুশকি দূর করে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়া এটি প্রাকৃতিক ক্ষুধা বর্ধক হিসেবেও কাজ করে।
একনজরে কাঁচা পেঁপের পুষ্টিগুণ
| উপাদান | উপকারিতা |
| প্যাপেইন এনজাইম | প্রোটিন হজম ও মেদ কমানো। |
| ভিটামিন এ ও সি | চোখের জ্যোতি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। |
| ফাইবার (আঁশ) | কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট পরিষ্কার রাখা। |
| অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট | ক্যান্সারের ঝুঁকি ও বার্ধক্য রোধ। |
এসইও টিপস: বিডিএস ডিজিটাল বিশ্লেষণ
স্বাস্থ্য সচেতন পাঠকরা ইন্টারনেটে ‘কাঁচা পেঁপের উপকারিতা’, ‘পেঁপে দিয়ে হজম সমস্যার সমাধান’ বা ‘পেঁপে খাওয়ার নিয়ম’ লিখে প্রচুর সার্চ করেন। এই কন্টেন্টটি আপনার পোর্টালে প্রকাশ করলে তা খুব সহজেই গুগলের টপ র্যাঙ্কিংয়ে আসবে।
সতর্কতা: উপকারী হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই যেকোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: বিএসএমএমইউ (BSMMU) পুষ্টি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জার্নাল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



