টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স

কেন আপনি এত দুর্বল? স্ট্রেস এবং হরমোনাল র‍্যাম্পেজ থেকে বাঁচার বৈজ্ঞানিক গাইডলাইন
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

নিউজ ডেস্ক

February 24, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আপনি কি জানেন, আপনার পূর্বপুরুষকে যখন কোনো বাঘ তাড়া করতো, তার শরীরে যে প্রতিক্রিয়া হতো, আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় বসের বকা বা ডেডলাইনের চাপে আপনার শরীরে ঠিক একই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? পার্থক্য শুধু একটাই—আপনার পূর্বপুরুষ দৌড়ে সেই স্ট্রেস রিলিজ করতে পারতেন, আর আপনি চেয়ারে বসে সেই ‘ক্রনিক স্ট্রেস’ শরীরে জমিয়ে রাখছেন।

১. স্ট্রেসের জৈবিক মানচিত্র: ইনসুলিন থেকে হরমোনাল বিপর্যয়

যখন আমরা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেসে থাকি, আমাদের শরীর একটি ‘অলটাইম হিডেন ইমার্জেন্সি’তে চলে যায়। এর ফলে যা ঘটে:

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক ওঠানামা করে, ফলে দ্রুত ফ্যাট জমতে শুরু করে।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ডোপামিন কমে যায় এবং প্রোল্যাক্টিন বাড়ে। এর ফলে পুরুষদের মধ্যে মেয়েলি আচরণ এবং নারীদের মধ্যে অনুর্বরতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • থাইরয়েড ও হাড়ের ক্ষয়: এক্টিভ থাইরয়েড হরমোন (T3) রিভার্স টি-থ্রিতে রূপান্তরিত হয়, যা মেদ বাড়ায়। পাশাপাশি প্যারাথাইরয়েড হরমোন হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়।

২. কেন আমরা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ি?

স্ট্রেসের সময় আমাদের শরীর ১০টি বিশেষ নিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বি-ভিটামিন ইত্যাদি) অতিরিক্ত ব্যবহার করে ফেলে। এই ঘাটতি পূরণ করতে ব্রেইন আমাদের অবচেতনে কফি, চিনি, নিকোটিন বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে ধাবিত করে। এটি মূলত শরীরের একটি ‘সারভাইভালের’ চেষ্টা, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

৩. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ২০২৬ সালের আধুনিক প্রেসক্রিপশন

আপনার শরীর ও মনকে পুনরায় সচল করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:

পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট (নিউট্রিয়েন্ট সাপোর্ট):

  • ভিটামিন সি: দিনে ৫-৬ বার ৫০০ এমজি করে সেবন করুন।
  • বি-ভিটামিন: বি-কমপ্লেক্স ক্যাপসুল (যেমন: লাইফ এক্সটেনশান বা নাউ ব্রান্ড) দিনে ২-৩ বার নিন।
  • ম্যাগনেসিয়াম ও বি-৫: স্ট্রেস অ্যাডাপটেশনের জন্য এগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
  • প্রোবায়োটিক: মাসে অন্তত ৩-৪ দিন প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান, কারণ স্ট্রেস আমাদের ‘গাট ব্যাকটেরিয়া’ ধ্বংস করে বিষণ্নতা বাড়ায়।

লাইফস্টাইল পরিবর্তন (ফ্রি থেরাপি):

  • রোদ ও আকাশ: সকালের সোনালী রোদ এবং নীল আকাশ দেখা আপনার সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখে।
  • কোল্ড ওয়াটার থেরাপি: শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মাইন্ডফুলনেস বাড়াতে এটি চমৎকার।
  • ওয়েট ট্রেইনিং: পেশীর শক্তি বাড়লে স্ট্রেস হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়ে।

৪. সিজদাহ: প্রাচীনতম ও চূড়ান্ত স্ট্রেস রিলিজ পদ্ধতি

ধর্মীয় ডগমাটিক চিন্তা সরিয়ে রেখে যদি বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা হয়, তবে সিজদাহ হলো নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণের এক পরীক্ষিত উপায়। আপনি যখন পূর্ণ মনোযোগের সাথে সিজদাহ করেন, তখন আপনার ‘সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ শান্ত হয় এবং ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ সক্রিয় হয়। এটি ব্রেইনকে মেসেজ দেয় যে, “কেউ একজন আছেন যিনি আমাকে রক্ষা করবেন।” এই মানসিক প্রশান্তি শরীরের হরমোনাল র‍্যাম্পেজ থামাতে ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে।


একনজরে স্ট্রেস ফাইট গাইড

করনীয়বর্জনীয়
প্রচুর শাকসবজি ও ক্যামোমাইল টি।সাদা চিনি ও প্রসেসড ফুড।
দুধ, মধু ও কালোজিরার কম্বিনেশন।তামাক, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন।
নিয়মিত মেডিটেশন ও গভীর সিজদাহ।নেতিবাচক চিন্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ওভারলোড।

উপসংহার: স্ট্রেস মুক্ত থাকা মানে সমস্যাহীন জীবন নয়, বরং সমস্যার মুখে নিজের মানসিক শক্তি বাড়ানো। ২০২৬ সালের এই উচ্চ গতির জীবনে টিকে থাকতে হলে আপনার শরীরকে সঠিক জ্বালানি (নিউট্রিশন) দিন এবং মনকে সিজদাহর মাধ্যমে প্রশান্ত রাখুন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

১০টি লাভজনক ও সম্মানজনক ব্যবসা

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন


অনেকেই প্রশ্ন করেন—বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা কোনটি? এর উত্তরে অনেকেই অনেক লাভজনক সেক্টরের নাম বলেন। কিন্তু ব্যবসার মূল অংকটি কি আমরা আসলে বুঝি? চলুন আজ লাভের প্রকৃত সমীকরণ এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে সম্মানজনক কিছু ব্যবসার সুলুকসন্ধান করি।

লাভ বনাম মুনাফার হার: একটি চোখ খুলে দেওয়া উদাহরণ

সাধারণত আমরা মনে করি বেশি টাকা বিক্রি মানেই বেশি লাভ। কিন্তু অংকটি ভিন্ন।

  • একজন শিল্পপতি ৫ কোটি টাকা খরচ করে ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় পণ্য বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ মাত্র ৫%।
  • অন্যদিকে একজন চা-ওয়ালা ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ ২০%।

অর্থাৎ, শতাংশের হিসেবে শিল্পপতির চেয়ে চা-ওয়ালা ৪ গুণ বেশি লাভ করেছেন। কিন্তু আপনি কি চা-ওয়ালা হতে চান? নিশ্চয়ই না। কারণ মানুষ শুধু লাভ চায় না, মানুষ চায় সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা

লাভের শীর্ষ ৩: যা আপনি করতে চাইবেন না!

অংকের হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো—ভিক্ষা, পতিতাবৃত্তি ও মাজার ব্যবসা। কেন? কারণ এখানে কোনো মূলধন নেই, কোনো উৎপাদন খরচ নেই। কিন্তু এগুলো কি সম্মানজনক? অবশ্যই না। তাই ব্যবসার লক্ষ্য হওয়া উচিত সততা ও সেবার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন।

২০২৬ সালে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা

গুগল ট্রেন্ডস এবং বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে আমরা এমন ১০টি ব্যবসার তালিকা তৈরি করেছি যা ২০২৬ সালে আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে:

১. আইটি এজেন্সি ও এআই সলিউশন: ফ্রিল্যান্সিং থেকে বেরিয়ে এসে এজেন্সি মডেলে কাজ করা এখন সবচেয়ে লাভজনক। ২. নিরাপদ ও অর্গানিক খাদ্য (Safe Food): মানুষ এখন বিষমুক্ত খাবারের জন্য যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। ৩. ই-কমার্স ও স্মার্ট ডেলিভারি: অনলাইন কেনাকাটা এখন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ৪. রিনিউয়েবল এনার্জি (সোলার প্যানেল): বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার প্যানেল ব্যবসা এখন তুঙ্গে। ৫. এডু-টেক (Ed-Tech): অনলাইনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও টিউটোরিং অত্যন্ত সম্মানজনক ক্ষেত্র। ৬. অ্যাডভান্স এগ্রিকালচার: বায়োফ্লক মৎস্য চাষ বা আধুনিক ডেইরি ফার্মিং। ৭. দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড: জামদানি বা খাদি পণ্য নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং। ৮. ট্যুরিজম ও ইকো-রিসোর্ট: অভ্যন্তরীণ পর্যটনে মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ৯. স্বাস্থ্যসেবা ও হোম কেয়ার: বয়স্কদের সেবা এবং বাড়িতে প্যাথলজি টেস্ট সুবিধা। ১০. ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও (SEO): প্রতিটি ব্যবসার এখন অনলাইনে উপস্থিতি প্রয়োজন, তাই এই সেবার চাহিদা অপরিসীম।

সাফল্যের মূলমন্ত্র: সততা ও নিষ্ঠা

আল্লাহর নামে ব্যবসা শুরু করুন। কাস্টমারকে না ঠকিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ব্যবসার সাফল্য রাতারাতি আসে না; ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসাই আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।


তথ্যসূত্র ও গুগল অ্যানালাইসিস (Sources):

১. গুগল ট্রেন্ডস (Bangladesh 2026): আইটি, ই-কমার্স এবং অর্গানিক ফুড ক্যাটাগরিতে সার্চ ভলিউম গত বছরের তুলনায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২. বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB): আইটি ও কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ের তথ্য। ৩. ই-ক্যাব (e-CAB) রিপোর্ট: বাংলাদেশে অনলাইন লেনদেন ও ডেলিভারি সার্ভিসের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক স্টাডিজ: ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ডাটাবেস।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

পায়ের আঙুল ফাঁকে ছত্রাক

নিউজ ডেস্ক

March 9, 2026

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের অনেকেরই পায়ের আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, সাদাটে হয়ে যাওয়া বা চামড়া উঠে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় মোজা-জুতা পরে থাকেন বা যাদের পা বেশি ঘামে, তারা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Tinea Pedis বা Athlete’s Foot। সঠিক চিকিৎসা এবং সচেতনতার অভাবে এই সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

পায়ের ছত্রাক সংক্রমণের প্রধান লক্ষণসমূহ

  • আঙুলের ফাঁকে লালচে ভাব বা সাদাটে ছাল ওঠা।
  • প্রবল চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভব করা।
  • আক্রান্ত স্থানে ছোট ছোট ফোসকা পড়া বা রস বের হওয়া।
  • পায়ের চামড়া ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ হওয়া।

কার্যকরী চিকিৎসা ও ঔষধের ব্যবহার

পায়ের এই ছত্রাক দমনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং স্টেরয়েডের সংমিশ্রণ সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

প্রস্তাবিত মলম: Econate Plus Cream (ইকোনেট প্লাস ক্রিম)

  • ব্যবহার বিধি: আক্রান্ত স্থানটি সাবান দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর দিনে ৩ বার পাতলা করে ক্রিমটি লাগাতে হবে।
  • সময়কাল: লক্ষণ কমে গেলেও সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করতে টানা ৩ সপ্তাহ (২১ দিন) ব্যবহার করা জরুরি। মাঝপথে ছেড়ে দিলে ছত্রাক পুনরায় ফিরে আসতে পারে।

সুস্থ থাকার ৫টি বিশেষ সতর্কতা

শুধুমাত্র ঔষধ ব্যবহার করলেই এই সমস্যা দূর হয় না, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা আবশ্যক:

১. পা শুকনো রাখা: ওজু, গোসল বা পা ধোয়ার পর পাতলা তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে আঙুলের ফাঁকগুলো খুব ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। আর্দ্রতা ছত্রাকের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ২. সুতির মোজা ব্যবহার: সবসময় পরিষ্কার ও সুতির মোজা ব্যবহার করুন। সিনথেটিক মোজা পরিহার করা ভালো। ৩. জুতার যত্ন: প্রতিদিন একই জুতা না পরে সম্ভব হলে একদিন পর পর বদলে পরুন। জুতা রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। ৪. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: অন্যের জুতা, মোজা বা তোয়ালে ব্যবহার করবেন না। এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ। ৫. খালি পায়ে হাঁটা: ঘরে থাকার সময় জুতা-মোজা খুলে রাখুন যাতে পায়ে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।


গুগল অ্যানালাইসিস ও তথ্যের উৎস (Sources):

আপনার পাঠকদের বিশ্বস্ততা অর্জনে নিচে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রগুলো যুক্ত করা হলো: ১. Mayo Clinic: Athlete’s Foot – Symptoms and Causes ২. Healthline: Tinea Pedis: Causes, Symptoms, and Diagnosis ৩. WebMD: How to Prevent and Treat Athlete’s Foot ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ হেলথ আর্কাইভ: ২০২৬-এর সাধারণ চর্মরোগ ও প্রতিকার বিষয়ক ডাটাবেস।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

কোভিড

নিউজ ডেস্ক

March 3, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনার উপসর্গেও এসেছে পরিবর্তন। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো শুধু শ্বাসযন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এমনকি করোনার ফলে ত্বকে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি। অ্যালার্জি বা চর্মরোগে আক্রান্তরা বিভিন্ন কারণে ত্বকের ফুসকুড়িসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন।

তবে অ্যালার্জি নাকি করোনার ফলে চর্মরোগ ফুটে উঠেছে তা বুঝবেন কীভাবে? উপসর্গহীন রোগীদের মধ্যেও চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

ত্বকে ফুসকুড়ি কোভিড-১৯ এর পুরোনো লক্ষণ নয়। ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ১১ হাজার ৫৪৪ জনের উপর করা করা হয় একটি সমীক্ষা।

সেখানে দেখা গেছে, কোভিড পজেটিভ রোগীদের 8.8 শতাংশই বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কোভিডের ক্ষেত্রে আপনার ত্বক দেখা দিতে পারে এমন ৫ ধরনের চর্মরোগ।

কোভিড ডিজিট

কোভিড ডিজিটকে কোভিড টো’ও বলা হয়। এর ফলে পায়ের আঙুলে লাল ও বেগুনি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেকটা ঘামাচির মতো হয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো দানার মতো বের হয়। এজন্য একে কোভিড ডিজিট বলা হয়।

চিলব্লেইনস নামে পরিচিত এই ত্বকের সমস্যা শীতকালে বেড়ে যায়। তবে কোভিডের ক্ষেত্রে, এটি যে কোনো ঋতুতে দেখা দিতে পারে। ফুসকুড়ির কারণে পায়ের আঙুলগুলো ফুলে যায়। তবে ব্যথা সৃষ্টি করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে খোসা ওঠে।

অ্যাকজিমা

অ্যাকজিমা হলো একটি প্রদাহজনক চর্মরোগ। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, ত্বকে পুরো স্তর পড়ে, চুলকানি, ফাটল এমনিকি রক্তক্ষরণও হতে পারে অ্যাকজিমায়। অ্যাকজিমার ফুসকুড়ির ফলে চুলকানির সৃষ্টি হয়।

যাদের অতীতে কখনো অ্যাকজিমা হয় তাদের ক্ষেত্রেও কোভিডের ফলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যাকজিমা দেখা দেওয়া বেশ কিছুদিন সমস্যাটি থাকতে পারে। সাধারণত ঘাড়, বুক বা হাতের কনুইতে অ্যাকজিমা হতে পারে।

আমবাত

হাইভ হলো এক ধরনের ফুসকুড়ি, যা হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা দেয়। এগুলো লালচে ও দানার মতো হয়ে থাকে। এর ফলে শরীরে চুলকানির সৃষ্টি হয়। আমবাত উরু, পিঠ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিতে পারে।

গবেষকদের মতে, ত্বকের এই অবস্থা কোভিড সংক্রমণের প্রথম দিকে দেখা যায়। যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যদি এ সময় ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা দেয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী বলে বিবেচিত হয়।

মুখের ফুসকুড়ি

মুখের ফুসকড়ি এনান্থেম নামেও পরিচিত। এটি কোভিডের আরেকটি লক্ষণ। ঠোঁটে এ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যার ফলে মুখে শুষ্ক ও খসখসে অনুভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটে কালশিটেও দেখা দিতে পারে। এমনকি এর ফলে মুখ ভেতর থেকে ফুলে যেতে পারে।

এ কারণে খেতে ও কথা বলতে অসুবিধা হয়। একটি স্প্যানিশ সমীক্ষা অনুসারে, কোভিডের অন্যান্য উপসর্গ শুরু হওয়ার দুদিন আগে থেকে ২৪ দিন পর পর্যন্ত মুখে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।

পিটিরিয়াসিস রোজ

এটি হলো একটি বৃত্তাকার ধরনের ফুসকুড়ি। যা সাধারণত বুকে, পেটে বা পিঠে অনেকটার চাকার মতো দেখা দেয়। হেরাল্ড প্যাচ নামে পরিচিত বৃত্তাকার প্যাচ ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এ ধরণের প্যাচলো সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে শরীরে দেখা দেয়।

শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। প্যাচগুলো বিস্তৃত হয় তবে চুলকানির মাত্রা কম থাকে। পেটে, পিঠের উপরের অংশে, পা ও বাহুরে উপরিভাগে এমন ফুসকুড়ি ফুটে ওঠে। এটি করোনার লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪-৫ দিন পরে প্রদর্শিত হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ