ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে একটি অমূল্য রত্ন। এর শিক্ষা, সংস্কৃতি, এবং ঐতিহ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জীবনে এক বিশেষ স্থান তৈরি করেছে। তবে, সময়ের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রও বদলে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দুর্লভ ছবি আমাদের সেই অতীতের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যা এখনো আমাদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে।
১. লাল বাস সাদা কালো অবস্থায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল বাস একসময়ের একটি চিহ্ন ছিল, যা আজও আমাদের অনেকের স্মৃতিতে রয়েছে। বিশেষ করে, সাদা-কালো ছবি মাধ্যমে এই লাল বাসের চিত্র আজও উজ্জ্বল। একটি সময় ছিল যখন এই লাল বাস ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে, সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য এখন আর নেই, কিন্তু সেই লাল বাসের স্মৃতি আজও হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদলবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। শেখ হাসিনার কলা ভবনের সামনে এই উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও শিক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত ছিল। একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেন।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলের অনেক স্মৃতি, তবে অনেক শিক্ষার্থী আফসোস করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তারা এই পুলে গোসল করতে পারলেন না। এটি শুধুমাত্র একটি সুইমিং পুল নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মুক্ত সময় কাটানোর জায়গা ছিল। সুইমিং পুলের পাশে ছাত্রদের আড্ডা, পড়াশোনা, এবং এমনকি ছোট ছোট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও আয়োজিত হতো।
৪. মধুর ক্যান্টিন








মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম একটি কেন্দ্র, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু খাওয়া-দাওয়া করেন না, বরং তাদের মতামত বিনিময়, রাজনৈতিক আলোচনা, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাক্ষী হয়। এখানকার প্রতিটি আড্ডা আজও ছাত্রদের জীবনের এক অমুল্য স্মৃতি হয়ে রয়েছে। মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে গেঁথে আছে।
৫. টিএসসি (TSC)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র) ছিল শিক্ষার্থীদের সংগঠনের কেন্দ্রস্থল। এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র, যেখানে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এখানকার শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন আড্ডা এখনো অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
৬. সূর্যসেন হল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছিল ছাত্রদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এক অনন্য স্থান। এখানে ছাত্ররা তাদের সময় কাটাতেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সভা অনুষ্ঠিত হতো। সূর্যসেন হলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আজও অনুভব করা যায়।
৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিএসসি সুইমিং পুলের পাশে
এটি ছিল এক বিশেষ মুহূর্ত, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সময় কাটানোর জন্য সুইমিং পুলের পাশে একত্রিত হতো। এই ছবিটি আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। টিএসসি সুইমিং পুলের পাশে শিক্ষার্থীদের মিলন এখনো অনেকের কাছে স্মরণীয়।
উপসংহার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং অতীতের স্মৃতিগুলি আজও আমাদের হৃদয়ে রয়েছে। আমরা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি নিয়ে কথা বলি, তাহলে এই স্থানগুলোর নাম আসে যেখানে ছাত্রদের স্মৃতি এবং সাংস্কৃতিক জীবনের নানা মুহূর্ত এখনো জীবিত। এরই মধ্যে, লাল বাস থেকে টিএসসি, সূর্যসেন হল এবং মধুর ক্যান্টিন—প্রত্যেকটি জায়গা আজও আমাদের জীবনের অমূল্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সুত্র
- “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য,” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট
- “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন,” জাতীয় কবিতা পরিষদ
- “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি,” বাংলাদেশের ইতিহাস
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্কের সমীকরণটি আধুনিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়। ১৯৫০-এর দশকে যে ইরান ছিল ইসরায়েলের কৌশলগত মিত্র, আজ সেই ইরান ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈরিতার মূল কারণ কি কেবল ধর্মীয় আদর্শ, নাকি এর পেছনে রয়েছে টিকে থাকার গভীর রাজনৈতিক প্রকৌশল?
১. ঐতিহাসিক বাঁকবদল: মিত্র থেকে শত্রু
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইরান ছিল ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র। তৎকালীন শাহের শাসনামলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর জন্য তারা গোপন সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখত। এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল থেকে গোপনে অস্ত্র কেনার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। তবে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সম্পর্কের খোলনলচে বদলে যায়। তেহরানে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসকে প্যালেস্টাইনের দূতাবাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দেয় তাদের নতুন রাজনৈতিক এজেন্ডা।
২. দ্বন্দ্বে আদর্শ বনাম বাস্তব রাজনীতি

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনো সাধারণ সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন এই চরম শত্রুতা?
- পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ইসরায়েলের মূল ভয় হলো ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা। নেতানিয়াহুর ভাষায় ইরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা নিয়মিত ইরানি বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে।
- অস্তিত্বের সংকট: ইরান ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ এবং আমেরিকাকে ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই বয়ানটি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ‘অ্যান্টি-জায়নিস্ট’ আবেগ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
৩. ছায়াযুদ্ধ (Proxy War): টিকে থাকার কৌশল
সরাসরি যুদ্ধের সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা—দুইয়ের অভাবেই ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।
- ইরানের প্রক্সি: লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করা ইরানের কৌশল।
- ইসরায়েলের মোসাদ: মোসাদের নিখুঁত গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জেনারেল ও বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
৪. মৌলবাদ ও ক্ষমতার টিকে থাকা
রাজনীতিবিদদের জন্য ‘কাল্পনিক শত্রু’ তৈরি করা একটি চিরাচরিত কৌশল। যেমনটা বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী দলগুলো করে থাকে, ইরানও তেমনি ইসরায়েল বিরোধিতাকে পুঁজি করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপকে আড়াল করছে। অন্যদিকে, উগ্রপন্থী ইহুদিদের জন্য ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ বা নিরাপত্তার ইস্যুটি তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব কেবল দুটি রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়, এটি ক্ষমতার টিকে থাকার লড়াই। ইরান জানে সরাসরি যুদ্ধ করলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও মার্কিন সমর্থিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে পারবে না। একইভাবে ইসরায়েলও জানে, ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ই যেন উভয় রাষ্ট্রের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’। যতদিন পর্যন্ত এই শত্রুতা তাদের নিজ নিজ দেশে জনমত গঠন ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, ততদিন সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে এই উত্তেজনাকর শীতল যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক রেকর্ডসমূহ। ২. আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও প্রক্সি যুদ্ধের কৌশল বিষয়ক গবেষণাপত্র। ৩. ইরান-কনট্রা চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
ঐতিহ্যবাহী স্থান ও স্থাপনা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রেলওয়ে স্টেশন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এগুলো কোনো দেশের ইতিহাস, প্রকৌশলগত দক্ষতা এবং স্থাপত্যশৈলীর জীবন্ত দলিল। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনটি বিখ্যাত স্টেশন—ঢাকা কমলাপুর, মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (CSMT) এবং করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন—নিজ নিজ দেশের স্থাপত্য ঐতিহ্যের অনন্য উদাহরণ। আজ আমরা এই তিনটি স্টেশনের নির্মাণশৈলী ও নান্দনিকতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করব।
১. ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন (বাংলাদেশ): আধুনিকতাবাদের অনন্য নিদর্শন
১৯৬৮ সালে নির্মিত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনটি বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যের প্রতীক। ড্যানিশ স্থপতি বব বুই (Bob Bouwman)-এর নকশায় তৈরি এই স্টেশনটি মূলত ‘আধুনিকতাবাদী’ (Modernist) স্থাপত্যধারার অনুসারী।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর ছাদের ওপর বিশাল বিশাল ‘শেল’ (Shell) আকৃতির কাঠামোটি প্রকৌশলবিদ্যার এক বিস্ময়। এটি কোনো প্রথাগত স্থাপত্য নয়, বরং জ্যামিতিক সরলতা এবং কাঠামোগত শক্তির মেলবন্ধন।
- মূল্যায়ন: যারা আধুনিকতা ও জ্যামিতিক নান্দনিকতা পছন্দ করেন, তাদের কাছে কমলাপুর স্টেশনটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
২. ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস (ভারত): গথিক স্থাপত্যের রাজকীয় প্রাসাদ
মুম্বাইয়ের এই স্টেশনটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। এটি ১৮৮৮ সালে নির্মিত হয়েছিল, যা মূলত ‘ভিক্টোরিয়ান গথিক রিভাইভাল’ (Victorian Gothic Revival) এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় স্থাপত্যের সংমিশ্রণ।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর পাথরের কারুকার্য, সুউচ্চ গম্বুজ এবং সূক্ষ্ম ভাস্কর্য একে একটি রাজকীয় প্রাসাদের রূপ দিয়েছে। এটি কেবল একটি স্টেশন নয়, বরং একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম।
- মূল্যায়ন: যারা ইতিহাসের আভিজাত্য এবং বিস্তারিত কারুকার্য পছন্দ করেন, তাদের কাছে এটিই উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য।
৩. করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন (পাকিস্তান): ঔপনিবেশিক আভিজাত্যের স্মারক
করাচি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার নিদর্শন। এই স্টেশনটি তার মার্জিত কাঠামো এবং ভারসাম্যপূর্ণ নকশার জন্য পরিচিত।
- স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য: এর বিশাল তোরণ, আভিজাত্যপূর্ণ দেয়াল এবং ঔপনিবেশিক ধারার কাঠামোগত বিন্যাস একে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ রূপ দিয়েছে। স্টেশনটি খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও এর মধ্যে রয়েছে এক ধরণের রাজকীয় আভিজাত্য।
- মূল্যায়ন: যারা ব্রিটিশ আমলের পরিপাটি এবং ঐতিহাসিক গাম্ভীর্য পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই স্টেশনটি নান্দনিক।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও উপসংহার: কোনটি সেরা?
স্থাপত্যশৈলীর বিচারে তিনটি স্টেশনই নিজ নিজ জায়গায় শ্রেষ্ঠ:
- কারুকার্যের সূক্ষ্মতায়: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এর রাজকীয় সৌন্দর্য বিশ্বমানের।
- প্রকৌশলগত বিস্ময়ে: ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ‘শেল রুফ’ বা ছাদের কাঠামোটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অনন্য, যা আধুনিক স্থাপত্যের সাহস প্রকাশ করে।
- মার্জিত ঐতিহ্যে: করাচি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিফলন।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্যের সূক্ষ্মতার বিচারে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস বিশ্বমানের এবং অপরাজেয়। কিন্তু নির্মাণশৈলীর ভিন্নতা এবং সাহসিকতার বিচারে কমলাপুর স্টেশন আমাদের গর্বের জায়গা। আর ঐতিহাসিক গাম্ভীর্যের বিচারে করাচি ক্যান্টনমেন্ট অনন্য।
তথ্যসূত্র:
- ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ রেকর্ড (CSMT, Mumbai)।
- বাংলাদেশ স্থাপত্য অধিদপ্তর ও রেলওয়ে আর্কাইভ।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক স্থাপত্য বিষয়ক ঐতিহাসিক গবেষণা নিবন্ধ।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
স্থাপত্য, ইতিহাস ও দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে এমন আরও বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র
আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পুবালী ব্যাংক
- উত্তরা ব্যাংক
ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব
ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



