ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ভূমিকা: জাতীয় শোক ও বিশ্বাসঘাতকতার কালো অধ্যায়
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্টের নৃশংসতার পর আরেকটি আঘাত আসে ৩ নভেম্বর ১৯৭৫। এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় মদদে হত্যা করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চারজন জাতীয় নেতাকে। এই কলঙ্কময় ঘটনাটি ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এই চার নেতার আত্মদান ছিল একাত্তরের আদর্শের প্রতি তাঁদের আপসহীন প্রতিশ্রুতির চূড়ান্ত প্রমাণ।
১. কারা ছিলেন এই চার জাতীয় নেতা?
যে চারজন নেতা বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে সফলভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন এবং যাঁদের হত্যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম: মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দীন আহমদ: মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: মুক্তিযুদ্ধকালীন অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী।
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান: মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী।
২. ট্র্যাজেডির পটভূমি ও রি-লিংক: ১৫ আগস্টের ধারাবাহিকতা
জেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।
- ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র: ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ক্ষমতা দখল করেন। মোস্তাক ও তার দোসরদের মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শকে চিরতরে মুছে ফেলা।
- কারাবন্দী: মোস্তাক সরকার ২২শে আগস্ট, ১৯৭৫ এই চার জাতীয় নেতাকে গ্রেফতার করে কোনো বিচার ছাড়াই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়। এই পদক্ষেপ ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারী প্রধান নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর প্রথম ধাপ।
পড়ুন প্রাসঙ্গিক বিশ্লেষণ: ১৫ আগস্টের ঘটনা ও তার রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন: [বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদল: ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত উত্থান, পতন ও গণ-আকাঙ্ক্ষা – বাংলাদেশ প্রতিদিন
৩. ৩ নভেম্বর: ইতিহাসের নির্মমতা কারাগারে
বন্দী অবস্থায় এমন হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে বিরল। এটি কেবল হত্যাকাণ্ড ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম লঙ্ঘন।
- পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড: মাত্র ২ মাস ১৯ দিন কারাবন্দী থাকার পর ৩ নভেম্বর গভীর রাতে ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে জড়িত ঘাতক সেনাসদস্যরা, খন্দকার মোস্তাক আহমেদের সম্মতি নিয়ে, কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো সুরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করে।
- নৃশংসতা: কারাগারের অভ্যন্তরে প্রকোষ্ঠে বন্দি নেতাদের প্রথমে গুলি করা হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁদেরকে বেয়নেট দিয়ে নির্মমভাবে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এই নৃশংসতা প্রমাণ করে, এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পূর্বপরিকল্পিত।
- ঘাতকদের প্রস্থান: হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই ঘাতক সেনাসদস্যরা দেশত্যাগ করে।
৪. আদর্শের পুনর্জন্ম ও রি-লিংক: জেল হত্যা দিবসের তাৎপর্য
জেল হত্যা দিবস কেবল শোক প্রকাশের দিন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার অঙ্গীকারের দিন।
- অবিচলতা ও ত্যাগ: এই চার নেতা প্রমাণ করে গেছেন যে, ক্ষমতার লোভ বা মৃত্যুভয় তাঁদেরকে আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারেনি। তাঁদের এই আত্মদান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের জন্য লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে আছে।
- বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: দীর্ঘদিন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা বারবার হোঁচট খেয়েছে। জেল হত্যা দিবসের মাধ্যমে জাতি বারবার বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়।
সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট: মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা অর্জনে এই চার নেতার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে দেখুন
৫. উপসংহার: অঙ্গীকারে অবিচল
৩ নভেম্বর জাতির জন্য এক বেদনাবিধুর স্মৃতি। এই দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে, চার জাতীয় নেতার আদর্শকে সামনে রেখে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সমাজ গঠনে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সূত্র:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধকালীন ও স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাস দলিল।
- বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও জাতীয় আর্কাইভস থেকে প্রকাশিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী।
- মানবাধিকার সংস্থা ও আইন-আদালতের নথি (জেল হত্যা মামলার রায়ের অংশ)।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: রাজনীতি ও জীবনদর্শন
ক্ষমতা অনেকটা বিষের মতো, যা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আজ যে মানুষটি হাজারো কর্মীর স্লোগানে মুখরিত থাকেন, কাল সেই মানুষটিই জেলখানার নির্জন সেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় চোখের জল ফেলেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক—এই নামটিকে নিয়ে আমি আগে কখনও লিখতে চাইনি, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম শিক্ষা হিসেবে সামনে দাঁড় করিয়েছে।
১. ক্ষমতার শীর্ষে পলক: যেখান থেকে ফেরা কঠিন
অল্প বয়সে এমপি, তারপর মন্ত্রী—তরুণ প্রজন্মের আইকন হওয়ার কথা ছিল তাঁর। গাড়ি, বাড়ি, অগাধ ক্ষমতা আর অগণিত কর্মীর ভিড়ে তিনি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে, সময়ের চাকা সব সময় একদিকে ঘোরে না। আজ সেই প্রতাপশালী মন্ত্রী জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। নেই মোবাইল, নেই প্রিয়জন, নেই দিন-রাতের সঠিক হিসাব। সঙ্গী কেবল একাকীত্ব আর ফেলে আসা দিনগুলোর অনুশোচনা।

২. ইতিহাস যখন একই বৃত্তে ঘোরে

পলকের এই করুণ দশা দেখে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কথা। এক সময় তাঁরও দাপট ছিল আকাশছোঁয়া। আজ তিনি কারামুক্ত হলেও দলের কোথাও নেই, নেই রাজনীতিতে কোনো অবস্থান। অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন চিকিৎসার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতার সেই জৌলুস আজ ম্লান, কেবল টিকে আছে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার এক বিষাদময় জীবন।

৩. রাজনীতি কি তবে স্কুইড গেম?

আমরা অনেকেই নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ দেখেছি। সেখানে হেরে যাওয়া মানে সরাসরি মৃত্যু। কিন্তু রাজনীতি নামক খেলাটি তার চাইতেও ভয়ংকর। এখানে সরাসরি মৃত্যু নেই, কিন্তু আছে ক্ষমতার বিচ্যুতি এবং সামাজিক পতন—যা একজন মানুষকে জ্যান্ত অবস্থায় তিলে তিলে মেরে ফেলে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: একটাই তো জীবন! ক্ষমতার মোহে পড়ে মানুষ যখন নিজের অপকর্মের ভার বইতে পারে না, তখন পরিবার থেকে শুরু করে ইতিহাস পর্যন্ত তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়। আজকের প্রভাবশালীরা কি এই শিক্ষাটা নিচ্ছেন?
উপসংহার: আগামী দিনের জন্য শিক্ষা
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু কর্মফল চিরস্থায়ী। জুনায়েদ পলক বা বাবর সাহেবরা আজ কেবল ব্যক্তি নন, তাঁরা এক একটি উদাহরণ। যারা আজ ক্ষমতায় আছেন কিংবা আগামীতে যারা মসনদে বসবেন, তাঁদের জন্য এই পতনের গল্পগুলো এক বড় সতর্কবার্তা। জনগণের সেবক হওয়ার বদলে যখন কেউ অধিপতি হতে চান, তখন ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম তিলে তিলে মুছে যাওয়াই একমাত্র পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।
আপনার মতামত: রাজনীতির এই ভয়াবহ উত্থান-পতন নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কী? সত্যিই কি ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়? কমেন্টে আমাদের জানান।
আরও পড়ুন:ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: ৯১টি বিল পাশ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টেবিলে বাংলাদেশ এখন এক কুশলী খেলোয়াড়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী দর্শন—‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—নীতিকে পুঁজি করে ২০২৬ সালের জটিল বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ রাষ্ট্র আসলে কে?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাংলাদেশ সেই মানুষটির মতো, যে গ্রুপের সবার সাথেই সুসম্পর্ক রাখে। কারণ সে জানে, জীবনে কে কখন কাজে লাগবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।
১. ভারত: নাড়ির টানে বাঁধা পুরোনো বন্ধু

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কটা সেই পুরোনো দিনের। ১৯৭১ সালের কঠিন সময়ে ভারতের অবদান এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। সীমান্ত ইস্যু বা পানি বণ্টন নিয়ে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হলেও, দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কটি সবসময়ই একটি ‘স্পেশাল’ মর্যাদা পায়। ২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঐতিহাসিক টান অটুট রয়েছে।

২. চীন: উন্নয়নের ‘ক্যাশ-রিচ’ পার্টনার

যখনই বড় কোনো অবকাঠামো, ব্রিজ বা টানেলের কথা আসে, তখনই বাংলাদেশের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চীনের মুখ। এই বন্ধুটি বেশ হেল্পফুল এবং বড় বড় প্রজেক্টে অর্থায়নে কার্পণ্য করে না। বাংলাদেশ জানে, দেশের উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই।
৩. জাপান: নিঃস্বার্থ ও নীরব কর্মবীর

জাপান হচ্ছে সেই বন্ধু, যে খুব বেশি কথা বলে না কিন্তু একদম কাজের মানুষ। মেট্রো রেল থেকে শুরু করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর—বাংলাদেশের রূপান্তরের পেছনে জাপানের অবদান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন। কোনো ভূ-রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে।
৪. যুক্তরাষ্ট্র: নিয়মের কড়াকড়ি ও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্র সেই বন্ধু, যে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেয় কিন্তু সাথে একগাদা ‘রুল বুক’ বা নিয়ম ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ওয়াশিংটন সবসময়ই একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (BDS Analysis):
২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশ যেভাবে সবার সাথে ব্যালেন্স করছে, তা অসাধারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি, চীন-জাপান থেকে বিনিয়োগ এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রপ্তানি সুবিধা—সবগুলোকেই বাংলাদেশ সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সোজা কথায়, বাংলাদেশ এখন ‘স্মার্ট ডিপ্লোম্যাসি’র এক সফল উদাহরণ।
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা (Sources):
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ): বৈদেশিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেস রিলিজ।
- ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স: দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদন (এপ্রিল ২০২৬)।
- মহাসাগরীয় ও কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি জিওপলিটিক্যাল ডাটা ব্যাংক।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
আজ ১২ মার্চ ২০২৬। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদের চলে যাওয়ার দিন। যিনি কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশাল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মশিউর রহমান যাদু মিয়া—যাঁর নাম শুনলে ভেসে ওঠে এক আপসহীন নেতার ছবি, যিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র ছিলেন সমান তেজস্বী।

১. ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে উত্থান
১৯২৪ সালে নীলফামারীর ডিমলায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ছাত্রজীবনেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ—সবখানেই যাদু মিয়ার উপস্থিতি ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানীর হাত ধরে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২. মজলুম জননেতার সুযোগ্য উত্তরসূরি
মওলানা ভাসানীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন যাদু মিয়া। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা থাকাকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা এবং ইয়াহিয়া খানকে ‘গাদ্দার’ বলার দুঃসাহস তাঁকে গণমানুষের নায়কে পরিণত করেছিল।
৩. ফারাক্কা লং মার্চ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি
১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল যাদু মিয়ার কাঁধে। ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি ন্যাপের হাল ধরেন। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হন।
৪. বিএনপি গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় ‘সিনিয়র মন্ত্রী’
যাদু মিয়া ছিলেন আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম স্থপতি। ন্যাপের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৫. এক ঐতিহাসিক প্রস্থান
১২ মার্চ ১৯৭৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর চিকিৎসায় ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনা হলেও নিয়তির অমোঘ লিখন পাল্টানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন সময়ে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যাদু মিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি কেবল দল গঠন করেননি, দিয়েছেন এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দর্শন। আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটেও তাঁর সেই ‘দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি’র ঐক্যের ডাক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন উত্তরের চরাঞ্চলের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ, যাঁর নামানুসারে আজও টিকে আছে ‘যাদুর চর’।
মশিউর রহমান যাদু মিয়া: এক নজরে (১৯২৪-১৯৭৯)
| পর্যায় | রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান |
| জন্ম | ৯ জুলাই ১৯২৪, ডিমলা, নীলফামারী। |
| আন্দোলন | তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন। |
| উপাধি | ‘যাদু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত। |
| সাফল্য | পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা (১৯৬২)। |
| অবদান | ফারাক্কা লং মার্চের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান (১৯৭৬)। |
| রাষ্ট্রীয় পদ | সিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়), জিয়াউর রহমান সরকার। |
| জীবনাবসান | ১২ মার্চ ১৯৭৯, ঢাকা। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।


