আন্তর্জাতিক

প্রশংসার আড়ালে শ্লেষ: ট্রাম্পকে নোবেল থেকে ফিল্ডস মেডেল দেওয়ার প্রস্তাব”
Trump

নিউজ ডেস্ক

August 20, 2025

শেয়ার করুন

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার, এমি, অস্কার এমনকি ফিল্ডস মেডেল দেওয়ার দাবি—পড়লে মনে হবে প্রশংসার বন্যা। অথচ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে তার আত্মপ্রচার, বিকল্প বাস্তবতা তৈরির প্রবণতা এবং শাসনকালের নীতি সংকটের প্রতি তীব্র কটাক্ষ।

ব্যঙ্গের ভেতরে সমালোচনা

“Give Trump a Nobel! And an Emmy. And an Oscar…” শিরোনামের ব্যঙ্গপ্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন—
ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল স্বীকৃতি ও করতালির ক্ষুধা। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাভারেজ আর জনসমর্থনের প্রদর্শনকে নীতির চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখকের প্রস্তাব, যদি তাকে প্রতিদিন নতুন পুরস্কার আর সম্মাননায় ব্যস্ত রাখা যায়, তবে হয়তো স্বাস্থ্যনীতি, অভিবাসন, বিচারব্যবস্থা কিংবা পররাষ্ট্রনীতিতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো সুযোগই তিনি পাবেন না।

পুরস্কারের তালিকায় লুকানো ব্যঙ্গ

  • এমি অ্যাওয়ার্ড: ট্রাম্প রাষ্ট্রনায়ক নন, বরং রিয়ালিটি টিভি তারকার মতো আচরণ করেছেন।
  • ফিল্ডস মেডেল: সংখ্যার জাদুকর হিসেবে নির্বাচনী ফলাফলের বিকৃত ব্যাখ্যা করার কটাক্ষ।
  • হাইজম্যান ট্রফি: জবাবদিহিতা ও কেলেঙ্কারি এড়িয়ে যাওয়ার “ডজিং স্কিলস” তুলে ধরা।
  • অস্কার: নাটকীয়তা ও মঞ্চসুলভ উপস্থিতির বিদ্রূপ।
  • কেনেডি সেন্টার অনার্স: নিজেকেই পুরস্কৃত করার বাসনা থেকে আত্মমর্যাদার ক্ষুধা প্রকাশ।

রাজনৈতিক বাস্তবতা

প্রবন্ধে প্রতিটি পুরস্কারের ভেতর দিয়ে ফুটে উঠেছে ট্রাম্পের শাসনশৈলী—

  • নীতি নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ও ইমেজকে অগ্রাধিকার।
  • “অল্টারনেটিভ ফ্যাক্টস” এর রাজনীতি, যেখানে পরাজয়কেও বিজয়ের মতো উপস্থাপন করা হয়।
  • মন্ত্রিসভায় যোগ্যতার চেয়ে আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ।
  • গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ব্যক্তিত্বকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা।

উপসংহার

এই প্রবন্ধটি আসলে এক ধরনের “ইনভেস্টিগেটিভ স্যাটায়ার”—যেখানে সরাসরি সমালোচনা নয়, বরং পুরস্কারের ছদ্মবেশে ট্রাম্পের অহং, রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং নীতির সংকট উন্মোচন করা হয়েছে। লেখকের কৌশল দেখিয়েছে, কখনও কখনও ব্যঙ্গই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে ধারালো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এপস্টিন

নিউজ ডেস্ক

May 17, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক মঞ্চে কোনো ঘটনাই আকস্মিক বা কাকতালীয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের গোপন নথিপত্র বা ‘এপস্টিন ফাইলস’ (Epstein Files) প্রকাশ এবং এর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার টাইমিং বিশ্বজুড়ে নানা তাত্ত্বিক ও কৌশলগত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ক, ব্যবসায়ী ও সেলিব্রিটিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ বা পেডোফিলিয়ার মতো সংবেদনশীল তথ্য গোপন রেখে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্ল্যাকমেইল স্ট্র্যাটেজি। এই গোপন নথির নিয়ন্ত্রণ অনেকটা ঘুড়ির নাটাইয়ের মতো, যা বিশ্বমঞ্চের বড় বড় খেলোয়াড়দের সুতো দিয়ে বেঁধে রাখে।

নিচে এপস্টিন ফাইলস, গাজা যুদ্ধ, ইরান সংঘাত এবং বিশ্ব রাজনীতির এই নেপথ্য সমীকরণটি সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করা হলো।

গাজা গণহত্যা এবং পশ্চিমা বিশ্বের নীরবতার নেপথ্য কারণ

গাজায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা নির্মম সামরিক অভিযান ও গণহত্যার পরও পশ্চিমা বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর অন্ধ সমর্থন ও নীরবতা সাধারণ মানুষকে বিস্মিত করেছে। মানবিক মূল্যবোধ ও সভ্যতার মুখোশ খসে পড়ার পেছনে কেবল ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থই নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক ও ব্ল্যাকমেইল কৌশলও কাজ করে থাকতে পারে।

অপরাধবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মতে, যখন কোনো দেশের নীতিনির্ধারক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ের প্রমাণ (যেমন পেডোগিরি বা অন্যান্য অপরাধ) কোনো নির্দিষ্ট শক্তির হাতে থাকে, তখন তাদের পক্ষে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও অনেক বিশ্বনেতা বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

ইরান সংঘাত ও এপস্টিন ফাইলস প্রকাশের টাইমিং: সব কি পূর্বপরিকল্পিত?

বিশ্বমঞ্চে যখনই মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়, ঠিক তখনই এপস্টিন ফাইলের মতো স্পর্শকাতর তথ্য জনসমক্ষে আসার পেছনে গভীর কৌশল রয়েছে বলে মনে করা হয়।

  • সংঘাতের ডামাডোল ও মনোযোগের দিকবদল: অতীতেও দেখা গেছে, যখনই আমেরিকার রাজনীতি বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন প্রশাসন কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক চাপে পড়েছে, তখনই এপস্টিন ফাইলের আংশিক প্রকাশ বা নতুন করে কোনো সামরিক হামলা আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
  • নতুন সমীকরণের প্রস্তুতি: চলমান ইরান-ইসরায়েল সামরিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার ডামাডোলের মাঝেই যখন এই গোপন ফাইলের বড় অংশ প্রকাশিত হয়, তখন তা কেবল সাধারণ তথ্য প্রকাশ থাকে না। এটি হতে পারে বিশ্বমঞ্চের নির্দিষ্ট কিছু চরিত্রকে সতর্কবার্তা বা ‘সুতোয় টান’ দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত, যাতে তারা আগামী দিনের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আপস করতে বাধ্য হয়।

অপারেশন তুফানুল আকসা: পৃথিবীর গতি ও সমীকরণ বদলের সূচনা

গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দ্বারা পরিচালিত ‘অপারেশন তুফানুল আকসা’ আধুনিক পৃথিবীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিয়েছে। এই অভিযানের পর থেকে বিশ্বরাজনীতির যে সমস্ত গোপন সমীকরণ ও সমঝোতা মুখোশের আড়ালে ঢাকা ছিল, তা একে একে উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে।

পৃথিবী আর কখনোই ৭ অক্টোবরের আগের পুরনো স্থিতাবস্থায় ফিরে যাবে না। তবে ইতিহাসের নিয়ম অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সমীকরণ কখনো শান্তিপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয় না। এপস্টিন ফাইলের মতো তথ্যের ব্যবহার এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধাবস্থা প্রমাণ করে যে, বিশ্ব এক চরম অস্থিরতা ও নতুন মেরুকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পর্দার আড়ালে সব ধরনের নোংরা হাতিয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে।


শেষ কথা

উপসংহারে বলা যায়, এপস্টিন ফাইলস কেবল কিছু অপরাধের দলিল নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ। গাজার প্রতিরোধ লড়াই যেমন পশ্চিমা সভ্যতার দ্বিমুখী নীতি ও মুখোশকে উন্মোচিত করেছে, তেমনই এই ধরনের নথির প্রকাশ প্রমাণ করে যে বিশ্বনেতাদের নিয়ন্ত্রণ করার সুতোটি কার হাতে রয়েছে। পৃথিবী এক নতুন সমীকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার মূল্য চকাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (References)

১. আদালতের নথি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট (US District Court for the Southern District of New York) কর্তৃক উন্মোচনকৃত জেফরি এপস্টিন মামলার আইনি নথিপত্র (Epstein Court Documents, 2024-2026)। ২. আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম: The Guardian এবং The New York Times—এপস্টিন ফাইলের তালিকা প্রকাশ এবং বিশ্বনেতাদের সম্পৃক্ততা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনসমূহ। ৩. গোয়েন্দা বিষয়ক বিশ্লেষণ: Gideon’s Spies: The Secret History of the Mossad — গর্ডন থমাস (গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্ল্যাকমেইল ও তথ্য সংগ্রহের কৌশল সংক্রান্ত বিশ্লেষণ)। ৪. ভূ-রাজনৈতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক: Center for Strategic and International Studies (CSIS) এবং Al Jazeera English—মধ্যপ্রাচ্য সংকট, অপারেশন তুফানুল আকসা এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার মেরুকরণ বিষয়ক রাজনৈতিক পর্যালোচনা।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শিবির

নিউজ ডেস্ক

May 17, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এবং বিতর্কিত একটি শব্দ হলো ‘রগকাটা’। মূলত আশির ও নব্বইয়ের দশকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পায়ের গোড়ালি বা হাতের রগ কেটে দেওয়ার ভয়াবহ সহিংসতাকে কেন্দ্র করে এই শব্দটির উৎপত্তি। তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের প্রতিপক্ষকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য এই নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করত। এই ধারাবাহিক political propaganda, গণমাধ্যমের খবর এবং আদালতের মামলার নথির কারণেই মূলত শিবিরকে রগকাটা বলা হয় কেন—এই প্রশ্নের জন্ম হয়েছে এবং দলটির গায়ে এই তকমাটি স্থায়ীভাবে লেগে গেছে।

নিচে এই শব্দটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, এর সত্যতা এবং এর পেছনের মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করা হলো।

রগ কাটার ঘটনার ঐতিহাসিক প্রমাণ কি আদৌ আছে?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, এই রগ কাটার বিষয়টি কি শুধুই রাজনৈতিক অপপ্রচার নাকি এর কোনো বাস্তব ভিত্তি আছে? বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাস এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ ঘেঁটে এর বেশ কিছু প্রমাণ ও নথিপত্র পাওয়া যায়।

  • বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সহিংসতা: ১৯৮৮ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৈত্রী নেতা জামিল আকতার রতন, ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সঞ্জয় তিলকসহ পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মীর পায়ের রগ কাটার ঘটনা সমসাময়িক জাতীয় পত্রিকাগুলোতে ব্যাপকভাবে স্থান পেয়েছিল।
  • আদালতের রায় ও চার্জশিট: এসব সহিংসতার ঘটনায় তৎকালীন সময়ে হওয়া বেশ কিছু মামলায় শিবিরের স্থানীয় নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। কোনো কোনো মামলায় দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিদের শাস্তিও প্রদান করেন।

তবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সবসময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এগুলো তাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিরোধী দলগুলোর সাজানো প্রোপাগান্ডা এবং সাধারণ সংঘর্ষের দায়ও তাদের ওপর চাপানো হয়েছে।

একটি লজিক্যাল প্রশ্ন: কষ্ট করে রগ কাটার চেয়ে অস্ত্র ঢুকিয়ে দেওয়া কি সহজ নয়?

অপরাধবিজ্ঞান এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় প্রশ্ন হলো—কাউকে ধরে, মুখ চেপে, নাড়াচাড়ার মধ্যে কষ্ট করে রগ কাটার চেয়ে ধারালো অস্ত্র শরীরের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া (বা হত্যা করা) তো অনেক সহজ। তাহলে কেন রগ কাটার মতো কঠিন পথ বেছে নেওয়া হতো?

মনস্তাত্ত্বিক এবং অপরাধবিজ্ঞানের গবেষকদের মতে, এর পেছনে “সহজ বা কঠিন” বিষয়ের চেয়ে গভীর রাজনৈতিক কৌশল কাজ করত:

১. ‘জীবন্ত আতঙ্ক’ বা মনস্তাত্ত্বিক ভয় তৈরি করা

কাউকে সরাসরি মেরে ফেলার চেয়ে তার পায়ের রগ কেটে দিলে সে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যায়। একজন মৃত মানুষের চেয়ে একজন পঙ্গু মানুষ যখন ক্যাম্পাসে বা সমাজে চলাফেরা করে, তখন তা অন্য বিরোধী নেতাকর্মীদের মনে অনেক বেশি ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করে। এটি ছিল প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে নিষ্ক্রিয় করার একটি নিষ্ঠুর কৌশল।

২. আইনি জটিলতা ও ফাঁসি এড়ানো

সরাসরি ধারালো অস্ত্র শরীরে ঢুকিয়ে হত্যা করলে সেটি বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী সরাসরি ‘খুন’ বা মার্ডার কেস হিসেবে গণ্য হয়, যার শাস্তি সাধারণত মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি। কিন্তু রগ কেটে দিলে বা পঙ্গু করলে সেটি ‘গুরুতর জখম’ বা হত্যাচেষ্টার মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হতো। ফলে আইনি ফাঁকফোকর গলে জামিন পাওয়া বা বড় শাস্তি থেকে বেঁচে যাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল।

৩. দলবদ্ধ আক্রমণের সুযোগ

এই ধরনের হামলাগুলো কখনো এককভাবে হতো না। এগুলো মূলত আকস্মিক দলবদ্ধ আক্রমণ (Ambush) ছিল। ৪ থেকে ৫ জন মিলে ভিক্টিমকে মুহূর্তের মধ্যে কাবু করে শক্তভাবে চেপে ধরত, যার ফলে একা একজন মানুষের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়ত।


শেষ কথা

উপসংহারে বলা যায়, শিবিরকে রগকাটা বলা হয় কেন—তার পেছনে যেমন রয়েছে রাজনৈতিক বিরোধীদের তীব্র প্রচার, তেমনই রয়েছে আশির ও নব্বইয়ের দশকের ক্যাম্পাস সহিংসতার কিছু বাস্তব ও ঐতিহাসিক নথিপত্র। সাধারণ মারামারির লজিক অনুযায়ী রগ কাটা কঠিন মনে হলেও, ক্যাডারভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে এটি ছিল প্রতিপক্ষকে চিরতরে পঙ্গু এবং আতঙ্কিত করে মাঠছাড়া করার একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নিউজ ডেস্ক

May 16, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ফিচার ডেস্ক | ১৬ মে, ২০২৬ প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ঠান্ডা যুদ্ধের (Cold War) ইতিহাসে ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সালের সময়কালকে বলা হয় বৈশ্বিক গোয়েন্দা তৎপরতার সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং জটিল অধ্যায়। এই ১৫ বছরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ (KGB) একদিকে যেমন ওয়াশিংটন থেকে কঙ্গো কিংবা কাবুল পর্যন্ত তাদের গোপন জাল বিস্তার করেছিল, অন্যদিকে তেমনি নিজেদের ঘরের ভেতরের ভাঙন ঠেকাতে লড়েছিল এক চরম অস্তিত্বের লড়াই। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক টকশো এবং অবমুক্ত হওয়া (Declassified) “মিট্রোখিন আর্কাইভ” ও মার্কিন-সোভিয়েত নথিপত্র ফাঁসের জেরে কেজিবির এই অন্ধকার সময়ের নেপথ্য প্রস্তুতি ও নিখুঁত অপারেশনগুলোর চাঞ্চল্যকর তথ্য নতুন করে বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তৈরি করেছে।

১. কেজিবির অভ্যন্তরীণ কাঠামো: ‘ডিরেক্টরেট’ সমাচার

১৯৭৫ সালের পর থেকে কেজিবি তার কার্যপরিধিকে আরও সুনির্দিষ্ট, পেশাদার ও আগ্রাসী করতে কয়েকটি অতি-গোপন ডিরেক্টরেটে বিভক্ত করে কাজ শুরু করে:

  • ফার্স্ট চিফ ডিরেক্টরেট (FCD): এটি ছিল কেজিবির সবচেয়ে শক্তিশালী ও এলিট শাখা, যার মূল কাজ ছিল বহির্বিশ্বে গুপ্তচরবৃত্তি (Foreign Espionage) এবং ছদ্মবেশী এজেন্ট বা ‘ইলিজাল এজেন্টস’ (Illegal Agents) নিয়োগ ও পরিচালনা করা।
  • ফিফথ ডিরেক্টরেট (Fifth Directorate): ১৯৬৭ সালে গঠিত এই বিশেষ শাখার মূল দায়িত্ব ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে ভিন্নমতাবলম্বী, স্বাধীনচেতা লেখক, বুদ্ধিজীবী এবং ধর্মীয় প্রচারকদের ওপর কড়া নজরদারি করা এবং যেকোনো বৈপ্লবিক চিন্তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা।
  • সিক্সটিন্থ ডিরেক্টরেট (16th Directorate): এটি ছিল সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স বা তারবিহীন যোগাযোগে আড়ি পাতার বিশেষ ডিজিটাল উইং, যা পশ্চিমাদের রেডিও, স্যাটেলাইট ও টেলিফোন যোগাযোগ হ্যাক করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।

২. আಂದ್ರোপভ যুগ ও ‘অপারেশন রয়ান’ (RYAN)

১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত কেজিবির নেতৃত্বে ছিলেন কুখ্যাত ইউরি আಂದ್ರোপভ। তাঁর আমলেই কেজিবি সোভিয়েত বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণের প্রধানতম হাতিয়ারে পরিণত হয়। ১৯৮১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান সোভিয়েত ইউনিয়নকে “দুষ্ট সাম্রাজ্য” (Evil Empire) হিসেবে ঘোষণা করলে দুই পরাশক্তির ঠান্ডা যুদ্ধ চরম রূপ নেয়।

এরই জবাবে ১৯৮১ সালের মে মাসে আಂದ್ರোপভ শুরু করেন ইতিহাসের বৃহত্তম শান্তিকালীন গোয়েন্দা অপারেশন—“অপারেশন রয়ান” (RYAN)। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকা বা ন্যাটো জোট সোভিয়েতের ওপর কোনো আকস্মিক পারমাণবিক হামলা (Nuclear First Strike) চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, তা আগেভাগে আঁচ করা। কেজিবির হাজার হাজার ছদ্মবেশী এজেন্ট তখন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটিতে দিনরাত নজরদারি বাড়িয়েছিল।

৩. আফগান যুদ্ধ ও ‘অপারেশন স্টর্ম-৩৩৩’

১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের মূল ব্লুপ্রিন্ট ও সামরিক ছক তৈরি করেছিল কেজিবি। কেজিবির বিশেষায়িত কমান্ডো দল ‘আলফা গ্রুপ’ কাবুলের তাজবেগ প্রাসাদে অত্যন্ত গোপনীয় ‘অপারেশন স্টর্ম-৩৩৩’ (Operation Storm-333) পরিচালনা করে।

মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই বিধ্বংসী ও ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অপারেশনে তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হাফিজুল্লাহ আমিনকে সপরিবারে হত্যা করে সেখানে সোভিয়েতপন্থী বাবরাক কারমালকে ক্ষমতায় বসানো হয়। এই অপারেশনটি কেজিবির নিখুঁত ও নিষ্ঠুর সামরিক সক্ষমতার এক ক্লাসিক উদাহরণ।

৪. মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, ‘অ্যাক্টিভ মেজার্স’ ও তৃতীয় বিশ্বে অনুপ্রবেশ

১৯৮০-এর দশকে কেজিবি সরাসরি সামরিক যুদ্ধের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা “অ্যাক্টিভ মেজার্স” (Active Measures)-কে বেশি প্রাধান্য দেয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল পশ্চিমা সমাজ ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেতর থেকে ভেঙে দেওয়া ও অপপ্রচার চালানো।

  • অপারেশন ইনফেকশন (Operation Infektion): কেজিবির অন্যতম সফল ডিসইনফরমেশন বা ভুয়া প্রোপাগান্ডা ছিল এটি। ১৯৮৩ সালে ভারতের একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে কেজিবি বিশ্বব্যাপী এই ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে ‘এইডস’ (AIDS) ভাইরাস তৈরি করেছে।
  • মিট্রোখিন আর্কাইভ ও ফান্ডিং: সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা ভাসিলি মিট্রোখিনের পাচার করা গোপন নথি বা “মিট্রোখিন আর্কাইভ” থেকে জানা যায়, কেজিবি কীভাবে ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর (Third World) শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, আমলা ও নামী সাংবাদিকদের গোপনে বিপুল অর্থায়ন (Funding) করে নিজেদের পক্ষে জনমত তৈরিতে ব্যবহার করত।

৫. গুগল অ্যানালাইসিস: ২০২৬ সালে কেন এটি আবার আলোচনায়?

গুগল ট্রেন্ডস (Google Trends) এবং গ্লোবাল সার্চ ভলিউম অ্যানালাইসিস করে দেখা গেছে, মে ২০২৬-এ এসে হঠাৎ করেই কেজিবির এই ঐতিহাসিক অধ্যায়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে। সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষ ৩টি ট্রেন্ডিং টপিক হলো:

  1. KGB declassified operations 1975-1990 (সম্প্রতি মার্কিন ও রুশ আর্কাইভের কিছু পুরনো গোপন নথি উন্মুক্ত হওয়া নিয়ে অনুসন্ধান)।
  2. Mitrokhin Archive Third World Funding (তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতিতে কেজিবির গোপন প্রভাব ও অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে গবেষণা)।
  3. Vladimir Putin Dresden 1989 (১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের সময় পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে তরুণ কেজিবি কর্মকর্তা হিসেবে পুতিনের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল)।

৬. পতন ও শেষ অধ্যায় (১৯Expiry-১৯৯০)

১৯৮৫ সালে মিখাইল গর্বাচেভ ক্রেমলিনের ক্ষমতায় এসে ‘গ্লাসনস্ত’ (উন্মুক্ততা) ও ‘পেরেস্ত্রৈকা’ (পুনর্গঠন) নীতি চালু করলে কেজিবির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ফাটল ধরে। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের সময় জার্মানির ড্রেসডেনে কর্তব্যরত কেজিবি এজেন্টরা (যার মধ্যে তরুণ ভ্লাদিমির পুতিনও ছিলেন) যখন মস্কোর কোনো সাহায্য বা নির্দেশনা পাননি, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই বিশাল গোয়েন্দা সাম্রাজ্যের পতন আসন্ন।

অবশেষে ১৯৯০ সালে কেজিবির শেষ কট্টরপন্থী প্রধান ভ্লাদিমির ক্রাইউচকভ গর্বাচেভকে ক্ষমতাচ্যুত করার এক ব্যর্থ নেপথ্য অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে কেজিবিরও চিরতরে অবসান ঘটায়।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources):

১. উইকিপিডিয়া (Wikipedia): KGB History and Directorship of Yuri Andropov.

২. চার্চিল আর্কাইভস সেন্টার (Churchill Archives Centre): The Papers of Vasiliy Mitrokhin and KGB Global Operations.

৩. ইউএস নিউজ (U.S. News): Declassified Documents Reveal KGB Spies in the U.S.

৪. এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা (Britannica): KGB – Soviet Security, Intelligence, and Espionage.

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ