টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: সাধারণত যেসব পুরুষ তাঁদের প্যান্টের পকেটে মোবাইল ফোন রাখেন, তাঁদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এক্সেটর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
আজ (১০ জুন, ২০২৫) জিনিউজের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যেখানে বিজ্ঞানীরা মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং শুক্রাণুর গুণগত মানের মধ্যে একটি স্পষ্ট সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন।
গবেষণায় যা পাওয়া গেল
এক্সেটর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োসায়েন্সের গবেষক ফিয়োনা ম্যাথিউসের নেতৃত্বে একদল গবেষক এই বিষয়ে বিগত ১০টি গবেষণার রিভিউ করেছেন এবং এই সংক্রান্ত এক হাজার ৪৯২টি নমুনা পর্যবেক্ষণ করেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে প্রজননতন্ত্রে ক্ষতির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে তারা এই উদ্যোগ নেন।
গবেষণা সংক্রান্ত নিবন্ধটি ‘এনভায়রনমেন্টাল ইন্টারন্যাশনাল’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক ম্যাথিউস স্বীকার করেছেন, তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে যে মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (Radio-Frequency Electromagnetic Radiation) শুক্রাণুর গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শুক্রাণুর ঘনত্বে ক্ষতিকর প্রভাব
এই বিষয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন গবেষকরা। ভারতের মুম্বাইভিত্তিক প্রসূতি ও ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক গবেষক নন্দিতা পালসহেটকার এর আগে বলেছিলেন, মুঠোফোন থেকে হাই ফ্রিকোয়েন্সির ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন নির্গত হয়।
তিনি জানান, এ ধরনের ক্ষতিকর তরঙ্গ পুরুষের প্রজননতন্ত্রের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে এবং শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে এর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। মোবাইল ফোনের তরঙ্গে শুক্রাণুর ক্ষতি বিষয়ক সাম্প্রতিক এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরাও একই ধরনের তথ্য পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
গবেষক ম্যাথিউস বলেন, “সারা বিশ্বে প্রচুর মোবাইল ফোন ব্যবহূত হচ্ছে। পরিবেশে এর উন্মুক্ত ব্যবহারে সম্ভাব্য ভূমিকাগুলো আরও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।”
ঝুঁকি এড়াতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকি কমাতে প্যান্টের পকেটে বা সরাসরি দেহের কাছাকাছি মোবাইল ফোন রাখা এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় হেডসেট বা স্পিকার ব্যবহার করা এবং ফোনটি শরীর থেকে দূরে রাখা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সূত্র (Sources)
- এক্সেটর বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্য এর গবেষণা (প্রকাশিত: এনভায়রনমেন্টাল ইন্টারন্যাশনাল সাময়িকী)।
- জিনিউজ এর প্রতিবেদন (১০ জুন)।
- মুম্বাইভিত্তিক প্রসূতি ও ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক গবেষক নন্দিতা পালসহেটকারের বক্তব্য।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনার উপসর্গেও এসেছে পরিবর্তন। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো শুধু শ্বাসযন্ত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক্ষেত্রে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এমনকি করোনার ফলে ত্বকে দেখা দিতে পারে বিভিন্ন ধরনের ফুসকুড়ি। অ্যালার্জি বা চর্মরোগে আক্রান্তরা বিভিন্ন কারণে ত্বকের ফুসকুড়িসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগে থাকেন।
তবে অ্যালার্জি নাকি করোনার ফলে চর্মরোগ ফুটে উঠেছে তা বুঝবেন কীভাবে? উপসর্গহীন রোগীদের মধ্যেও চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।
ত্বকে ফুসকুড়ি কোভিড-১৯ এর পুরোনো লক্ষণ নয়। ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় ১১ হাজার ৫৪৪ জনের উপর করা করা হয় একটি সমীক্ষা।
সেখানে দেখা গেছে, কোভিড পজেটিভ রোগীদের 8.8 শতাংশই বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। কোভিডের ক্ষেত্রে আপনার ত্বক দেখা দিতে পারে এমন ৫ ধরনের চর্মরোগ।
কোভিড ডিজিট
কোভিড ডিজিটকে কোভিড টো’ও বলা হয়। এর ফলে পায়ের আঙুলে লাল ও বেগুনি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অনেকটা ঘামাচির মতো হয়ে একসঙ্গে অনেকগুলো দানার মতো বের হয়। এজন্য একে কোভিড ডিজিট বলা হয়।
চিলব্লেইনস নামে পরিচিত এই ত্বকের সমস্যা শীতকালে বেড়ে যায়। তবে কোভিডের ক্ষেত্রে, এটি যে কোনো ঋতুতে দেখা দিতে পারে। ফুসকুড়ির কারণে পায়ের আঙুলগুলো ফুলে যায়। তবে ব্যথা সৃষ্টি করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসকুড়িগুলো শুকিয়ে খোসা ওঠে।
অ্যাকজিমা
অ্যাকজিমা হলো একটি প্রদাহজনক চর্মরোগ। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, ত্বকে পুরো স্তর পড়ে, চুলকানি, ফাটল এমনিকি রক্তক্ষরণও হতে পারে অ্যাকজিমায়। অ্যাকজিমার ফুসকুড়ির ফলে চুলকানির সৃষ্টি হয়।
যাদের অতীতে কখনো অ্যাকজিমা হয় তাদের ক্ষেত্রেও কোভিডের ফলে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। অ্যাকজিমা দেখা দেওয়া বেশ কিছুদিন সমস্যাটি থাকতে পারে। সাধারণত ঘাড়, বুক বা হাতের কনুইতে অ্যাকজিমা হতে পারে।
আমবাত
হাইভ হলো এক ধরনের ফুসকুড়ি, যা হঠাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেখা দেয়। এগুলো লালচে ও দানার মতো হয়ে থাকে। এর ফলে শরীরে চুলকানির সৃষ্টি হয়। আমবাত উরু, পিঠ, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে দেখা দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, ত্বকের এই অবস্থা কোভিড সংক্রমণের প্রথম দিকে দেখা যায়। যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। যদি এ সময় ৬ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা দেয়, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী বলে বিবেচিত হয়।
মুখের ফুসকুড়ি
মুখের ফুসকড়ি এনান্থেম নামেও পরিচিত। এটি কোভিডের আরেকটি লক্ষণ। ঠোঁটে এ ধরনের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। যার ফলে মুখে শুষ্ক ও খসখসে অনুভূত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ঠোঁটে কালশিটেও দেখা দিতে পারে। এমনকি এর ফলে মুখ ভেতর থেকে ফুলে যেতে পারে।
এ কারণে খেতে ও কথা বলতে অসুবিধা হয়। একটি স্প্যানিশ সমীক্ষা অনুসারে, কোভিডের অন্যান্য উপসর্গ শুরু হওয়ার দুদিন আগে থেকে ২৪ দিন পর পর্যন্ত মুখে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
পিটিরিয়াসিস রোজ
এটি হলো একটি বৃত্তাকার ধরনের ফুসকুড়ি। যা সাধারণত বুকে, পেটে বা পিঠে অনেকটার চাকার মতো দেখা দেয়। হেরাল্ড প্যাচ নামে পরিচিত বৃত্তাকার প্যাচ ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এ ধরণের প্যাচলো সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের কারণে শরীরে দেখা দেয়।
শিশু-কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। প্যাচগুলো বিস্তৃত হয় তবে চুলকানির মাত্রা কম থাকে। পেটে, পিঠের উপরের অংশে, পা ও বাহুরে উপরিভাগে এমন ফুসকুড়ি ফুটে ওঠে। এটি করোনার লক্ষণ শুরু হওয়ার ৪-৫ দিন পরে প্রদর্শিত হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
স্বাস্থ্য ডেস্ক (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কাঁচা পেঁপে আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সবজি। তবে এর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই বিস্তারিত জানি না। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং ‘প্যাপেইন’ নামক এক শক্তিশালী এনজাইম, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নিচে কাঁচা পেঁপের সেরা ১০টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো:
১. হজমশক্তির আমূল পরিবর্তন
কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন (Papain) এনজাইম প্রোটিন সহজে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি পাকস্থলীর গ্যাস দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
২. কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ দূরীকরণ
যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাঁদের জন্য কাঁচা পেঁপে আশীর্বাদস্বরূপ। এর উচ্চ আঁশ বা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
৩. শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করা
কাঁচা পেঁপে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।
৪. দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ
যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি। এতে ক্যালরি খুব কম কিন্তু ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে।
৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বন্ধু
কাঁচা পেঁপে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৬. অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান
কাঁচা পেঁপে জরায়ুর পেশি সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাবের সমস্যায় এটি ঘরোয়া সমাধান হিসেবে দারুণ কাজ করে।
৭. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
এটি রক্তনালীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
৮. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ব্রণের দাগ দূরীকরণ
কাঁচা পেঁপের রস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে সজীব করে তোলে। এটি ব্রণ, মেছতা বা যেকোনো কালচে দাগ দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।
৯. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি
পেঁপেতে থাকা ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমায় এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
১০. চুলের স্বাস্থ্য ও খুশকি নিরাময়
ভিটামিন ও এনজাইমের উপস্থিতির কারণে কাঁচা পেঁপে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং খুশকি দূর করে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়া এটি প্রাকৃতিক ক্ষুধা বর্ধক হিসেবেও কাজ করে।
একনজরে কাঁচা পেঁপের পুষ্টিগুণ
| উপাদান | উপকারিতা |
| প্যাপেইন এনজাইম | প্রোটিন হজম ও মেদ কমানো। |
| ভিটামিন এ ও সি | চোখের জ্যোতি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। |
| ফাইবার (আঁশ) | কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট পরিষ্কার রাখা। |
| অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট | ক্যান্সারের ঝুঁকি ও বার্ধক্য রোধ। |
এসইও টিপস: বিডিএস ডিজিটাল বিশ্লেষণ
স্বাস্থ্য সচেতন পাঠকরা ইন্টারনেটে ‘কাঁচা পেঁপের উপকারিতা’, ‘পেঁপে দিয়ে হজম সমস্যার সমাধান’ বা ‘পেঁপে খাওয়ার নিয়ম’ লিখে প্রচুর সার্চ করেন। এই কন্টেন্টটি আপনার পোর্টালে প্রকাশ করলে তা খুব সহজেই গুগলের টপ র্যাঙ্কিংয়ে আসবে।
সতর্কতা: উপকারী হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই যেকোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: বিএসএমএমইউ (BSMMU) পুষ্টি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জার্নাল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আপনি কি জানেন, আপনার পূর্বপুরুষকে যখন কোনো বাঘ তাড়া করতো, তার শরীরে যে প্রতিক্রিয়া হতো, আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় বসের বকা বা ডেডলাইনের চাপে আপনার শরীরে ঠিক একই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? পার্থক্য শুধু একটাই—আপনার পূর্বপুরুষ দৌড়ে সেই স্ট্রেস রিলিজ করতে পারতেন, আর আপনি চেয়ারে বসে সেই ‘ক্রনিক স্ট্রেস’ শরীরে জমিয়ে রাখছেন।
১. স্ট্রেসের জৈবিক মানচিত্র: ইনসুলিন থেকে হরমোনাল বিপর্যয়
যখন আমরা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেসে থাকি, আমাদের শরীর একটি ‘অলটাইম হিডেন ইমার্জেন্সি’তে চলে যায়। এর ফলে যা ঘটে:
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক ওঠানামা করে, ফলে দ্রুত ফ্যাট জমতে শুরু করে।
- হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ডোপামিন কমে যায় এবং প্রোল্যাক্টিন বাড়ে। এর ফলে পুরুষদের মধ্যে মেয়েলি আচরণ এবং নারীদের মধ্যে অনুর্বরতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
- থাইরয়েড ও হাড়ের ক্ষয়: এক্টিভ থাইরয়েড হরমোন (T3) রিভার্স টি-থ্রিতে রূপান্তরিত হয়, যা মেদ বাড়ায়। পাশাপাশি প্যারাথাইরয়েড হরমোন হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়।
২. কেন আমরা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ি?
স্ট্রেসের সময় আমাদের শরীর ১০টি বিশেষ নিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বি-ভিটামিন ইত্যাদি) অতিরিক্ত ব্যবহার করে ফেলে। এই ঘাটতি পূরণ করতে ব্রেইন আমাদের অবচেতনে কফি, চিনি, নিকোটিন বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে ধাবিত করে। এটি মূলত শরীরের একটি ‘সারভাইভালের’ চেষ্টা, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
৩. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ২০২৬ সালের আধুনিক প্রেসক্রিপশন
আপনার শরীর ও মনকে পুনরায় সচল করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট (নিউট্রিয়েন্ট সাপোর্ট):
- ভিটামিন সি: দিনে ৫-৬ বার ৫০০ এমজি করে সেবন করুন।
- বি-ভিটামিন: বি-কমপ্লেক্স ক্যাপসুল (যেমন: লাইফ এক্সটেনশান বা নাউ ব্রান্ড) দিনে ২-৩ বার নিন।
- ম্যাগনেসিয়াম ও বি-৫: স্ট্রেস অ্যাডাপটেশনের জন্য এগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
- প্রোবায়োটিক: মাসে অন্তত ৩-৪ দিন প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান, কারণ স্ট্রেস আমাদের ‘গাট ব্যাকটেরিয়া’ ধ্বংস করে বিষণ্নতা বাড়ায়।
লাইফস্টাইল পরিবর্তন (ফ্রি থেরাপি):
- রোদ ও আকাশ: সকালের সোনালী রোদ এবং নীল আকাশ দেখা আপনার সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখে।
- কোল্ড ওয়াটার থেরাপি: শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মাইন্ডফুলনেস বাড়াতে এটি চমৎকার।
- ওয়েট ট্রেইনিং: পেশীর শক্তি বাড়লে স্ট্রেস হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়ে।
৪. সিজদাহ: প্রাচীনতম ও চূড়ান্ত স্ট্রেস রিলিজ পদ্ধতি
ধর্মীয় ডগমাটিক চিন্তা সরিয়ে রেখে যদি বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা হয়, তবে সিজদাহ হলো নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণের এক পরীক্ষিত উপায়। আপনি যখন পূর্ণ মনোযোগের সাথে সিজদাহ করেন, তখন আপনার ‘সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ শান্ত হয় এবং ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ সক্রিয় হয়। এটি ব্রেইনকে মেসেজ দেয় যে, “কেউ একজন আছেন যিনি আমাকে রক্ষা করবেন।” এই মানসিক প্রশান্তি শরীরের হরমোনাল র্যাম্পেজ থামাতে ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে।
একনজরে স্ট্রেস ফাইট গাইড
| করনীয় | বর্জনীয় |
| প্রচুর শাকসবজি ও ক্যামোমাইল টি। | সাদা চিনি ও প্রসেসড ফুড। |
| দুধ, মধু ও কালোজিরার কম্বিনেশন। | তামাক, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন। |
| নিয়মিত মেডিটেশন ও গভীর সিজদাহ। | নেতিবাচক চিন্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ওভারলোড। |
উপসংহার: স্ট্রেস মুক্ত থাকা মানে সমস্যাহীন জীবন নয়, বরং সমস্যার মুখে নিজের মানসিক শক্তি বাড়ানো। ২০২৬ সালের এই উচ্চ গতির জীবনে টিকে থাকতে হলে আপনার শরীরকে সঠিক জ্বালানি (নিউট্রিশন) দিন এবং মনকে সিজদাহর মাধ্যমে প্রশান্ত রাখুন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



