ইতিহাস

কর্নেল তাহেরের জন্মদিনে হারানো পা ও কামালপুর বিওপির যুদ্ধ: ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় গাথা
কর্নেল তাহের

নিউজ ডেস্ক

November 15, 2025

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যাঁদের অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম। ১৪ নভেম্বর ছিল তার জন্মদিন, তবে এ দিনটি তার জন্য হয়ে উঠেছিল এক অনন্য ঘটনা। ৫৪ বছর আগে আজকের দিনে, জামালপুরের কামালপুর বিওপিতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক লড়াইয়ে, কর্নেল তাহের তার বাঁ পা হারিয়েছিলেন। তবে, এর পরেও তিনি হাল ছাড়েননি, তার সঙ্গী মুক্তিযোদ্ধারা কামালপুর দখল করতে সক্ষম হন।

কামালপুর বিওপির গুরুত্ব

কামালপুর ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্তিশালী বর্ডার পোস্ট। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান ছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এ অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান রেখে, মুক্তিবাহিনীকে মেঘালয় বা বাংলাদেশে প্রবেশ থেকে আটকাতে চাইছিল। যেহেতু কামালপুর অতিক্রম করলে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ঢাকার দিকে অগ্রসর হওয়া সহজ হয়ে যেত, তাই এটি পাকিস্তানিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

১৪ নভেম্বরের যুদ্ধ: কর্নেল তাহেরের নেতৃত্ব

১৪ নভেম্বর, ১৯৭১ সালে মুক্তিবাহিনী কামালপুর দখল করতে এক বড় আক্রমণ চালায়। এতে, ভারতীয় বাহিনীর মারাঠা রেজিমেন্ট, গোর্খা রেজিমেন্ট এবং গার্ড রেজিমেন্টও অংশ নেয়। কর্নেল তাহের ছিলেন এ অভিযানের সেক্টর কমান্ডার। তিনি তার সহযোদ্ধাদের নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রথম লাইনের বাঙ্কার দখল করতে সফল হন। তবে, এতে এক দুঃখজনক ঘটনা ঘটে—কর্নেল তাহের শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হন এবং তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও মনোবল ভাঙেনি কর্নেল তাহেরের

তাহেরকে প্রথমে আহত অবস্থায় একটি কুঁড়েঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর, তার ভাই ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল একটি জিপ এনে তাহেরকে চিকিৎসার জন্য ভারতীয় বাহিনীর কাছে নিয়ে যান। যদিও কর্নেল তাহের আহত অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু তিনি তার সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “তোমরা কামালপুর মুক্ত করবে, আমি ফিরে এসে যেন দেখি কামালপুর মুক্ত হয়েছে।” এই বীরত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং মনোবল মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে এক নতুন জোশ তৈরি করে।

কামালপুরের দখল: কর্নেল তাহেরের প্রভাব

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কামালপুর বিওপির যুদ্ধ খুবই দীর্ঘস্থায়ী ছিল এবং এটি মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক রণাঙ্গন হিসেবে পরিচিত। ১৪ নভেম্বরের পর, ২৪ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী কামালপুর দখল করতে সফল হয়। তবে, সেই সময় কর্নেল তাহের যুদ্ধের ফল দেখতে পাননি, কারণ তিনি তখন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তার অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবে। তিনি শুধু একজন বীর সেনানী ছিলেন না, বরং তার নেতৃত্ব, সাহস, ও দৃঢ় মনোবল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সফল করতে সাহায্য করেছে। তাঁর জীবনযুদ্ধ আমাদের শেখায় যে, চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, তাকে জয় করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প।

তাহেরের সাহস ও সংগ্রাম: মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা

কর্নেল তাহেরের জীবনপ্রবাহ ছিল এক সংগ্রামের গল্প। তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন এবং একের পর এক যুদ্ধের মাধ্যমে তার নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটিয়েছিলেন। তিনি যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তা ছিল শুধুমাত্র শারীরিক সংগ্রাম নয়, বরং মানসিক এবং আত্মবিশ্বাসেরও এক লড়াই। তাঁর সাহস এবং অনমনীয় মনোভাব মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি যোদ্ধাকে প্রেরণা দিয়েছে।

উপসংহার

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তমের অবদান চিরকাল মনে রাখা হবে। তাঁর বীরত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আজকের দিনে তার জন্মদিনে, আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর সংগ্রামের প্রতি সম্মান নিবেদন করি।


সূত্র

  1. “Colonel Taher’s Courageous Leadership in Kamalpur” – The Daily Star. (thedailystar.net)
  2. “Kamalpur Battle and Colonel Taher’s Heroic Contributions” – Prothom Alo. (prothomalo.com)
  3. “The Legacy of Colonel Taher in Bangladesh Liberation War” – BBC News. (bbc.com)

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

মোজতবা খামেনি

নিউজ ডেস্ক

March 9, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সূত্র: জটাংক)

“তিনি এমন একজন হবেন, যাকে আমেরিকা ঘৃণা করবে।” — দুই দিন আগে ইরানের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার করা এই মন্তব্যটি আজ এক অমোঘ সত্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে মোজতবা খামেনিকে। পশ্চিমা বিশ্বের অস্বস্তি আর ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির তোয়াক্কা না করে ইরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইকে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

কেন মোজতবা খামেনিকে নিয়ে এত ভয়?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ইরান কেন এই পথেই হাঁটল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের চারটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর:

  1. বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC): যাদের সাথে মোজতবার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
  2. বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক: যা নেপথ্যে থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত।
  3. ধর্মীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: বিশেষ করে ‘কুম’-এর প্রভাবশালী আলেমদের সমর্থন।
  4. বাসিজ মিলিশিয়া: যারা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের অগ্রসেনানী।

ছায়া থেকে আলোর পথে: মোজতবার শক্তির উৎস

মোজতবা খামেনির শক্তি কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকৃত শক্তি ছড়িয়ে আছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ:

  • লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি এবং সিরিয়ার মিত্র শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভালো করেই জানে, মোজতবা খামেনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার চেয়ে পর্দার আড়াল থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ইরানের জনগণের মনস্তত্ত্ব ও চ্যালেঞ্জ

মোজতবা খামেনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা। ইরানের সমাজ বর্তমানে তিনটি ধারায় বিভক্ত:

  • বিপ্লবী সমর্থক: যারা এই নেতৃত্বকে আদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
  • বাস্তববাদী গোষ্ঠী: যাদের কাছে নেতার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
  • সংস্কারপন্থী: যারা এই উত্তরাধিকার কেন্দ্রিক নেতৃত্বকে সহজে মেনে নিতে নাও পারে।

আগামীর লড়াই: প্রক্সি বনাম সরাসরি যুদ্ধ

ইরানের ইতিহাস বলছে, তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ‘প্রক্সি কৌশল’ বেশি পছন্দ করে। অর্থাৎ আগুনের শিখা জ্বলবে চারদিকে, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থাকবে ছায়ার আড়ালে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের দুর্বলতা।

উপসংহার: বাস্তবতা হলো, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি হারাতে পারবে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রও সহজে ইরানকে ভাঙতে পারবে না। মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব কি ইরানকে আরও কঠোর পথে নিয়ে যাবে, নাকি তিনি নতুন কোনো কৌশল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার খেলাকেই বদলে দেবেন? এর উত্তর হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকায়িত।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৯৭২ সালের ব্যাংক একীভূতকরণ

নিউজ ডেস্ক

March 9, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র

আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:

  1. সোনালী ব্যাংক
  2. জনতা ব্যাংক
  3. অগ্রণী ব্যাংক
  4. রূপালী ব্যাংক
  5. পুবালী ব্যাংক
  6. উত্তরা ব্যাংক

ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব

ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২১০০ সালের পৃথিবী

নিউজ ডেস্ক

March 7, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

২১০০ সালের দিকে পৃথিবী যে একটি বিশাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই রূপান্তর কেবল ক্ষমতার হাতবদলের গল্প নয়, বরং এটি অস্তিত্বের লড়াই। নিচে আমার বিশ্লেষণাত্মক সংযোজনগুলো তুলে ধরছি:

৬. ‘পোস্ট-স্টেট’ বা উত্তর-রাষ্ট্রীয় যুগের আগমন

আপনি যেমন বলেছেন রাষ্ট্র একা নিয়ন্ত্রণ করবে না, আমি বলব, ২১০০ সাল নাগাদ ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ (Digital Sovereignty) রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানাকে চ্যালেঞ্জ করবে। যেখানে নাগরিকরা কোনো দেশের ভৌগোলিক অঞ্চলের চেয়ে কোনো মেটাভার্স বা গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে বেশি পরিচিতি অনুভব করবে। সেখানে আনুগত্যের জায়গাটি হবে ‘পাসপোর্ট’ থেকে ‘প্রাইভেট কি’ (Private Key)-তে স্থানান্তরিত।

৭. ‘রিসোর্স ন্যাশনালিজম’ ও মহাকাশ কূটনীতি

তেল বা পানির বাইরেও, ২১০০ সালের ভূ-রাজনীতির অন্যতম বড় অনুষঙ্গ হবে ‘মিনারেল রাইটস’ (Mineral Rights)। কেবল পৃথিবীর খনিজ নয়, বরং চন্দ্র বা গ্রহাণু থেকে আহরিত সম্পদের অধিকার নিয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হবে। মহাকাশ তখন আর কেবল গবেষণার ক্ষেত্র থাকবে না, তা হবে ভূ-রাজনীতির নতুন ফ্রন্টলাইন।

৮. জনসংখ্যাবিদ্যার পরিবর্তন: আফ্রিকার উত্থান

২১০০ সালের বিশ্ব মানচিত্রে জনসংখ্যাই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। ইউরোপ এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো যখন বুড়িয়ে যাবে, তখন আফ্রিকার দেশগুলোর ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড তাদের গ্লোবাল পাওয়ার হাউসে পরিণত করবে। আজকের চীন-ভারত-ইউএস ত্রিভুজ থেকে বিশ্ব সম্ভবত একটি বহু-মেরু (Multi-polar) ব্যবস্থায় চলে যাবে, যেখানে নাইজেরিয়া বা ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হয়ে উঠবে।

৯. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ‘অ্যালগরিদমিক ওয়ারফেয়ার’

আপনি প্রযুক্তিকে সাম্রাজ্য বলেছেন, কিন্তু আমি বলব, ‘অ্যালগরিদমিক ওয়ারফেয়ার’ হবে ২১০০ সালের রাজনীতির প্রধান অস্ত্র। বন্দুক বা পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী হবে কারো মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা—যাকে বলা হয় ‘কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার’। কে কাকে শাসন করছে, তা বোঝা কঠিন হবে, কারণ শাসনকর্তা হয়তো মানুষই নয়।

১০. মানুষের আদিম প্রবৃত্তি বনাম প্রযুক্তিগত উত্তরণ

আপনার শেষ পয়েন্টটিই সবচেয়ে ট্র্যাজিক এবং সত্য। মানুষ প্রযুক্তিতে ‘দেবতাতুল্য’ হয়েও প্রবৃত্তিগতভাবে ‘পশুসুলভ’ থেকে যাবে। প্রযুক্তি আমাদের হাতে অসীম ক্ষমতা দেবে, কিন্তু তা ব্যবহারের নৈতিকতা বা ‘উইজডম’ (Wisdom) যদি না বাড়ে, তবে ২১০০ সালের পৃথিবী হবে এমন এক প্রযুক্তিনির্ভর জঙ্গল, যেখানে ক্ষমতার লড়াইটা হবে অনেক বেশি নীরব কিন্তু অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক।


বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

২১০০ সালের পৃথিবীকে যদি একটি বাক্য দিয়ে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে তা হবে—“অসীম সক্ষমতার বিপরীতে অসীম অনিশ্চয়তা”। রাষ্ট্র, কোম্পানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন ক্ষমতা শেয়ার করবে, তখন সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজের পরিচয় রক্ষা করা। আপনার এই বিশ্লেষণটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা যতই প্রযুক্তিতে আধুনিক হই না কেন, আমাদের ‘মানবীয় ত্রুটি’গুলোই ইতিহাসের গতিপথ নির্ধারণ করবে।


তথ্যসূত্র: ভূ-রাজনৈতিক প্রবণতা বিশ্লেষণ (২০২৬), ভবিষ্যতবাদী গবেষণা পত্র এবং পালস বাংলাদেশ ডেটা-চালিত পলিসি স্টাডিজ।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও বিস্তারিত ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিষয়ক ইনসাইট রিপোর্ট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ