মডেল
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিনোদন ডেস্ক: সোনু সুদ—আজকের দিনে এই নামটি কেবল একটি সফল অভিনেতার পরিচয় নয়, বরং এটি কোটি মানুষের ভরসার নাম। একজন প্রকৌশলী বাবা এবং একজন শিক্ষিকা মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার এক শৃঙ্খলিত পরিবেশে বড় হয়েছেন তিনি। মেধাবী ছাত্র হিসেবে সোনু কখনোই তাঁর পড়ালেখার সঙ্গে আপস করেননি, এমনকি যখন তাঁর দুচোখে ছিল রঙিন পর্দায় অভিনয়ের স্বপ্ন।
শিক্ষার মজবুত ভিত্তি
সোনু সুদ তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন মোগার সেক্রেড হার্ট স্কুল থেকে। এরপর তিনি নাগপুরের স্বনামধন্য যশবন্তরাও চ্যাভান কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ইলেকট্রনিক্সে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পরই তিনি জীবনের কঠিনতম সিদ্ধান্তটি নেন—অভিনয়কেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া। উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার না গড়ে তিনি পাড়ি জমান স্বপ্নের শহর মুম্বাইতে।
অভিষেক ও জনপ্রিয়তার সিঁড়ি
মুম্বাইতে এসে সোনুকে বেশ লড়াই করতে হয়েছে। ১৯৯৯ সালে ‘কাল্লাঝাগর’ নামক একটি তামিল চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে তাঁর পথচলা শুরু হয়। ২০০১ সালে তেলেগু ছবি ‘হ্যান্ডস আপ’-এ অভিনয় করে তিনি দক্ষিণ ভারতীয় দর্শকদের মন জয় করেন। তবে সোনুর মূল লক্ষ্য ছিল বলিউড। অনেক চেষ্টার পর ২০০২ সালে ‘শহীদ-ই-আজম’ ছবিতে কিংবদন্তি বিপ্লবী ভগত সিংয়ের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। এই ছবিটিই তাঁর জন্য বলিউডের সদর দরজা খুলে দেয়।
বৈচিত্র্যময় অভিনয় জীবন
২০০৪ সালে মণি রত্নমের ‘যুবা’ ছবিতে অভিষেক বচ্চনের ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের জাত চেনান। এরপর একে একে বলিউড ব্লকবাস্টার ছবির অংশ হয়ে ওঠেন সোনু। খলনায়ক হিসেবে ‘দাবাং’-এর ‘ছেদি সিং’ হোক বা ‘জোধা আকবর’-এর রাজপুত্র—সোনু প্রমাণ করেছেন তিনি যেকোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। দেশপ্রেমিক, প্রেমিক কিংবা দুর্ধর্ষ ভিলেন—সব চরিত্রেই তাঁর সাবলীল পদচারণা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
১৯০০ থেকে ২০২৬: মানবিকতার বিবর্তন
চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ১৯০০-এর শুরুর দিকে অভিনেতারা ছিলেন কেবল বিনোদনের উৎস। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালের বৈশ্বিক সংকট এবং পরবর্তী সময়ে সোনু সুদ যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা অভিনয়ের সংজ্ঞাকেই বদলে দিয়েছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মানুষ কেবল তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় নয়, বরং তাঁর বিশাল হৃদয়ের জন্যও তাঁকে ভালোবাসে। একজন উচ্চশিক্ষিত প্রকৌশলী যখন আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন, তখন তা নতুন প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র: আইএমডিবি (IMDb), বলিউড হাঙ্গামা এবং সোনু সুদ অফিসিয়াল হ্যান্ডেল।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬
চেন্নাই/ঢাকা: ভারতীয় বিনোদন জগতে ‘বিগ স্টার’ বিতর্কটি সাধারণত শাহরুখ খান, সালমান খান বা প্রভাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থালাপ্যাথি বিজয়কে (Vijay) এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাঁড়িয়ে এটি আর কেবল চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে বিজয়ের প্রভাব এখন একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য।
১. লয়াল ফ্যানবেস ও ‘বিজয় ফ্যাক্টর’

কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে যখন সালমান খানের মতো তারকারা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছিলেন, তখন বিজয় তার ‘মাস্টার’ (Master) সিনেমার জন্য বড় ওটিটি অফার প্রত্যাখ্যান করে থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।
- বক্স অফিস আধিপত্য: বিজয়ের সিনেমা যেমন—Beast, Varisu কিংবা সাম্প্রতিক The GOAT সমালোচকদের দৃষ্টিতে গড়পড়তা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ৪০০ কোটিরও বেশি আয় করেছে।
- অডিয়েন্স পুল: যেখানে বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে বিশাল মার্কেটিংয়ের ওপর, সেখানে বিজয়ের কেবল নামই তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের মার্কেট রিকভার করার জন্য যথেষ্ট।
২. রাজনীতির নতুন সূর্য: ভোটব্যাংকে রূপান্তর

বিজয় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘জনতার নেতা’র যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-কে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে।
- ভোট শেয়ার: প্রাথমিক ফলাফল ও বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নতুন প্রজন্মের (Gen Z) ভোটারদের সিংহভাগেরই প্রথম পছন্দ ছিল বিজয়।
- আঞ্চলিক প্রভাব: ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলোর ভিড়ে বিজয় ১০৬টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।
৩. বিতর্ক ও টিকে থাকার লড়াই
ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অসংখ্য ঝড় তাকে দমাতে পারেনি।
- দুর্ঘটনা ও তদন্ত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে কারুর জেলায় তার রাজনৈতিক র্যালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ৪১ জন ভক্তের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় সিবিআই (CBI) জিজ্ঞাসাবাদ তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছিল।
- ব্যক্তিগত সংকট: স্ত্রী সঙ্গীতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জনকে ছাপিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অটল ছিলেন।
৪. বিশ্লেষণ: শাহরুখ-প্রভাস বনাম বিজয়

বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ খান বা প্রভাসের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট হয়তো অনেক বড়, কিন্তু লোকাল লেভেলে বিজয়ের মতো ‘অডিয়েন্স পুল’ এবং রাজনৈতিক ভোটব্যাংক আর কারো নেই। উত্তর ভারতীয় কোনো তারকার ক্ষেত্রে এমন বিতর্ক ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হতে পারত, কিন্তু বিজয়ের লয়াল ফ্যানবেস তাকে প্রতিবারই সুরক্ষা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল রেকর্ড ২. বক্স অফিস ইন্ডিয়া ও রয়টার্স বিনোদন ডেস্ক এনালাইসিস – ২০২৬ ৩. অ্যাক্সিওস (Axios) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পলিটিক্যাল ডেস্ক রিসার্চ ৪. তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিনোদন ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬
বলিউডে সালমান খান কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। গত তিন দশকে বহু নবাগতকে তিনি যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি তাঁর বিরাগভাজন হয়ে অনেক জনপ্রিয় তারকাকেও ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত নির্বাসিত হতে হয়েছে। ‘ভাইজান’-এর সাথে পাঙ্গা নেওয়ার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার কিছু কালজয়ী উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. বিবেক ওবেরয়: একটি সংবাদ সম্মেলন ও একটি ক্যারিয়ারের ইতি

সালমান খানের সাথে শত্রুতার তালিকায় সবার উপরে থাকবে বিবেক ওবেরয়-এর নাম। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমে মজে বিবেক ২০০৩ সালে একটি বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলন করেন। যেখানে তিনি সালমানের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকেই বিবেকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে গ্রহণ লাগে। বারবার ক্ষমা চেয়েও আজ পর্যন্ত ভাইজানের ‘গুড বুক’-এ ফিরতে পারেননি তিনি।
২. অরিজিৎ সিং: এক মুহূর্তের রসিকতা ও দীর্ঘস্থায়ী দূরত্ব

পুরস্কার মঞ্চে সালমানের সঞ্চালনা নিয়ে রসিকতা করাটা অরিজিতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। “ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম” বলায় সালমান তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। পরবর্তীতে অরিজিৎ প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বড় পোস্ট দিলেও সালমান তাঁকে ‘সুলতান’ মুভি থেকে বাদ দেন। যদিও অরিজিৎ বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর গায়ক, কিন্তু ভাইজানের সিনেমায় তাঁর প্রবেশাধিকার আজও সীমিত।
৩. সঞ্জয় লীলা বানসালি ও হৃতিক রোশন: ‘গুজারিশ’ বিতর্ক

সঞ্জয় লীলা বানসালি সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিন্তু ‘গুজারিশ’ মুভি নিয়ে সালমানের বিতর্কিত মন্তব্য তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। ছবির অভিনেতা হৃতিক রোশনও এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সালমান বলেছিলেন— “ছবিটি দেখতে কোনো মাছিও যায়নি।” সেই থেকে বানসালি-সালমান জুটিকে আর পর্দায় দেখা যায়নি।
৪. হিমেশ রেশামিয়া: গুরুর অবাধ্য হওয়ার ফল

হিমেশকে বলিউডে ব্রেক দিয়েছিলেন সালমানই। কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাকালীন হিমেশ যখন সালমানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, তখন ভাইজান তাঁর ওপর থেকে হাত তুলে নেন। এরপর হিমেশকে আর বড় কোনো প্রজেক্টে দেখা যায়নি এবং ধীরে ধীরে তিনি গান থেকে দূরে সরে যান।
৫. ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান: ‘চালতে চালতে’র সেই কালো রাত

ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে বিচ্ছেদের পর সালমান মারমুখী হয়ে ওঠেন। ‘চালতে চালতে’ মুভির সেটে গিয়ে গোলমাল করায় শাহরুখ খানের সাথেও সালমানের তুমুল ঝগড়া হয়। এর ফলে ঐশ্বরিয়া সিনেমাটি হারান এবং শাহরুখ-সালমান সম্পর্ক দীর্ঘ ৫ বছরের জন্য ‘কোল্ড ওয়ার’-এ রূপ নেয়। যদিও এখন শাহরুখের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ফিরেছে, কিন্তু ঐশ্বরিয়া ও সালমান আজও একে অপরকে এড়িয়ে চলেন।
পরিশেষ
সালমান খান যেমন বড় মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত (বিয়িং হিউম্যান), তেমনি নিজের আত্মসম্মান বা ‘ইগো’র প্রশ্নে তিনি আপোষহীন। তাই তো বলিউডে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে— “ভাইজানকে খ্যাপানোর পরিণতি কখনও সুখকর হয় না।”
তথ্য সংকলনে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ভাইজানের এই ‘পাওয়ার গেম’ নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মত কী? আপনি কি মনে করেন বলিউডে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখাটা সঠিক?
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
সর্বশেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ঢালিউড ইতিহাসের ধূমকেতু, আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের ফ্যাশন আইকন এবং কোটি প্রাণের স্পন্দন চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ওরফে সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি যে উচ্চতা স্পর্শ করেছিলেন, তা গত তিন দশকে আর কেউ করতে পারেনি। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায় এবং ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেটগুলো তুলে ধরছি।
১. ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট: হত্যা মামলার বর্তমান অবস্থা

সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এই বিতর্ক ৩০ বছর হতে চললেও এখনো অমীমাংসিত। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী:
- তদন্তের নতুন মোড়: গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ১৪ মে ২০২৬ তারিখ ধার্য করেছেন।
- আসামিদের অবস্থা: মামলার বাদী (সালমান শাহর পরিবার) অভিযুক্ত ১১ জন আসামির (যার মধ্যে স্ত্রী সামিরা ও আজিজ মোহাম্মদ ভাই অন্যতম) স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন।
২. পর্দার পেছনের মানুষ: ইমন থেকে সালমান শাহ
সালমান শাহর চলচ্চিত্রে আসার গল্পটি বেশ নাটকীয়।

- শৈশব ও কৈশোর: ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্ম নেওয়া ইমনের রক্তে ছিল অভিনয়। তাঁর মাতামহ ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম অভিনেতা।
- প্রথম আলোচিত কাজ: ১৯৮৫ সালে হানিফ সংকেতের মিউজিক ভিডিও ‘নামটি ছিল তার অপূর্ব’-তে এক মাদকাসক্ত তরুণের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রথম নজর কাড়েন।
- নাম পরিবর্তন: ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ করার সময় পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান এবং স্ত্রী সামিরার সাথে পরামর্শ করে তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সালমান শাহ’।
৩. অসমাপ্ত চলচ্চিত্র ও উত্তরসূরিদের ওপর প্রভাব

১৯৯৬ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর সময় বেশ কিছু চলচ্চিত্রের কাজ অসম্পূর্ণ ছিল।
- যেভাবে শেষ হয়েছিল সিনেমাগুলো: সালমানের অকাল প্রয়াণের পর ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ সিনেমায় ডামি ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘শুধু তুমি’ ছবিতে অন্য এক অভিনেতাকে কাস্ট করা হয় এবং ‘প্রেম পিয়াসী’র গল্প আংশিক পরিবর্তন করে সিনেমাগুলো মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
- অনুপ্রেরণার উৎস: বর্তমান সময়ের সুপারস্টার শাকিব খান থেকে শুরু করে হালের সব অভিনেতাই সালমান শাহকে তাঁদের অনুপ্রেরণা হিসেবে মানেন। শাকিব খান একবার জানিয়েছিলেন, তাঁর দেখা প্রথম সিনেমাটি ছিল সালমান শাহ অভিনীত।
৪. কেন তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী? (ইউনিক ফ্যাক্টস)

- বক্স অফিস রেকর্ড: তাঁর অভিনীত ২৭টি চলচ্চিত্রের প্রায় প্রতিটিই ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছিল। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ এবং ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ঢালিউডের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমার তালিকায় আজও শীর্ষে।
- ফ্যাশন আইকন: আজকের যুগে যা ‘ট্রেন্ড’, সালমান শাহ তা নব্বই দশকেই শুরু করেছিলেন। কানে দুল, চুলে ব্যান্ডেনা, ব্যাক ব্রাশ হেয়ার স্টাইল এবং রঙিন সানগ্লাস দিয়ে তিনি একটি পুরো প্রজন্মকে বদলে দিয়েছিলেন।
- কণ্ঠশিল্পী সালমান: খুব কম মানুষই জানেন যে সালমান শাহ একজন চমৎকার গায়কও ছিলেন। ‘প্রেমযুদ্ধ’ এবং ‘ঋণ শোধ’ সিনেমায় তিনি প্লে-ব্যাক করেছিলেন।
৫. একনজরে পরিসংখ্যান (Quick Facts)
| তথ্য | বিস্তারিত |
| সর্বাধিক জুটি | শাবনূরের সাথে (১৪টি সিনেমা) |
| সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা | বুকের ভেতর আগুন (১৯৯৭ – মরণোত্তর) |
| মৃত্যুর পর আত্মহত্যা | প্রিয় নায়কের শোকে প্রায় ১২ জন তরুণী আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। |
| সর্বশেষ মামলার তারিখ | ১৪ মে ২০২৬ (তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন) |
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: সালমান শাহ কেবল একটি নাম নয়, তিনি ঢালিউডের একটি অধ্যায়। ৩০ বছর পরও যখন তাঁর সিনেমা টেলিভিশনে চলে, তখন মানুষ সব কাজ ফেলে টিভি সেটের সামনে বসে পড়ে। এই ভালোবাসাই প্রমাণ করে যে মহানায়করা মরেও অমর হয়ে থাকেন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।


