ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Political Analyst)
বিভাগ (Category): রাজনীতি, জাতীয়
প্রকাশের তারিখ: ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): উইকিপিডিয়া, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন, বিএসএস, বিবিসি বাংলা এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।
ঢাকা: ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রকাশ্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে শপথ নিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান—দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। এই শপথগ্রহণ কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল ছিল না; বরং এটি ছিল সতেরো বছরের নির্বাসিত জীবন, শতাধিক মামলা, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের রাষ্ট্রক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কের এক নাটকীয় পরিণতি। তারেক রহমানের এই উত্থানকে বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গভীরে।
শিকড়: মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়া পরিবারের রাষ্ট্রক্ষমতায় আগমন

শিকড়: মুক্তিযুদ্ধ ও জিয়া পরিবারের রাষ্ট্রক্ষমতায় আগমন অধ্যায়টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়া পরিবারের উত্থান, ভিত্তি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার ঐতিহাসিক পটভূমিকে নির্দেশ করে। এই শিকড় মূলত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রোথিত হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক যাত্রার মূল ধাপগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং স্বাধীনতার ঘোষণা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বর গণহত্যা শুরু করে, তখন সারা দেশ এক গভীর অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্বহীনতার মধ্যে নিমজ্জিত হয়। এই সংকটময় মুহূর্তে ২৬শে মার্চ এবং পরবর্তী ২৭শে মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। এই ঘোষণাটি যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক কর্মকর্তা, সাধারণ জনতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পূর্ব বাংলার সশস্ত্র প্রতিরোধের এক বৈধ নৈতিক ভিত্তি এনে দেয়। এটি ছিল রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের আত্মপ্রকাশের প্রথম ও প্রধান ঐতিহাসিক শিকড়।
২. সম্মুখসমর ও ‘জেড ফোর্স’ গঠন
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মেজর জিয়াউর রহমান প্রথমে ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১১ নম্বর সেক্টরের প্রধান হন। জুলাই মাসে তাঁর নামের প্রথম অক্ষর মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হয়। তাঁর ক্ষুরধার রণকৌশল ও বীরত্বপূর্ণ কমান্ডের অধীনে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে অসংখ্য সম্মুখসমরে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’-এ ভূষিত করে।
৩. নেপথ্যের শক্তি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া
মেজর জিয়া যখন সম্মুখসমরে ব্যস্ত, তখন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গৃহবন্দী ও অবরুদ্ধ হন। যুদ্ধ চলাকালে মেজর জিয়ার মনোবল ভাঙতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তাঁর ওপর তীব্র মানসিক চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু কোনো রকম আপস না করে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে পরিবারকে আগলে রাখা এবং তথ্য গোপন রাখার অনমনীয় মনোভাবের কারণে তাঁকে অবদমিত করা সম্ভব হয়নি। এই ত্যাগ ও মানসিক দৃঢ়তা জিয়া পরিবারের সামগ্রিক রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করে।
৪. ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন ও সিপাহি-জনতার বিপ্লব
১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে এক চরম অস্থিতিশীলতা ও একের পর এক পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। ৩রা নভেম্বর এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হয়। এর চার দিন পর, ৭ই নভেম্বর কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে এবং সাধারণ সিপাহি ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক ‘সিপাহি-জনতা বিপ্লব’ সংঘটিত হয়। এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।
৫. রাষ্ট্রক্ষমতায় আগমন এবং রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা
৭ই নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান প্রথমে উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালের নভেম্বরে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেন। অবশেষে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ঘটান এবং ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের প্রবর্তন করেন, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রক্ষমতায় জিয়া পরিবারের প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি স্থায়ী রূপ লাভ করে।
রাজনীতিতে উত্থান ও বিতর্কিত অধ্যায়

রাজনীতিতে উত্থান ও বিতর্কিত অধ্যায় অংশটি জিয়া পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্ম, বিশেষ করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে প্রভাবশালী, ঝোড়ো এবং সমালোচিত সময়কালকে নির্দেশ করে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে একদিকে যেমন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে রাজনীতিতে একচ্ছত্র প্রভাব তৈরি হয়, অন্যদিকে তেমনি দুর্নীতি, সমান্তরাল শাসনকেন্দ্র পরিচালনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর বিতর্কিত অধ্যায়েরও জন্ম হয়।
এই অধ্যায়ের মূল দিকগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।
১. সাংগঠনিক উত্থান ও তৃণমূল রাজনীতি বিকেন্দ্রীকরণ
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয়ের পর তারেক রহমান দলের ভেতরে নিজের অবস্থান প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে শুরু করেন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপর তিনি প্রথাগত ড্রয়িংরুম রাজনীতি ভেঙে দেশজুড়ে তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনের এক অভিনব কর্মসূচি শুরু করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ নেতাকর্মীদের সরাসরি ঢাকায় এসে শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে তিনি দলের ভেতর এক তরুণ ও অনুগত কর্মী বাহিনী গড়ে তোলেন, যা তাঁকে দলের অলিখিত প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করে।
২. ‘হাওয়া ভবন’ এবং সমান্তরাল শাসনকেন্দ্রের বিতর্ক
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি ছিল ঢাকার বনানীতে অবস্থিত তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয় ‘হাওয়া ভবন’। অভিযোগ ওঠে যে, তৎকালীন সরকারের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয় হলেও, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ, বড় বড় সরকারি টেন্ডার, আমলাদের পদায়ন এবং বদলির সিদ্ধান্তগুলো এই হাওয়া ভবন থেকেই নিয়ন্ত্রিত হতো। সমালোচক এবং তৎকালীন বিরোধী দলগুলোর মতে, এটি সরকারের ভেতরে এক সমান্তরাল ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজ করেছিল, যা প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড ভেঙে ফেলে।
৩. ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ
এই সময়কালে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিদ্যুৎ খাত, তার ও যোগাযোগ খাতসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে খাম্বা লিমিটেডের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর নামে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগটি সে সময় জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও সে সময় হাওয়া ভবন কেন্দ্রিক আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা তথ্য উঠে আসে, যা তাঁর ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৪. ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও রাষ্ট্রীয় মদদের অভিযোগ
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার ও বিতর্কিত অধ্যায়টি ঘটে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠে যে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের নেপথ্য আশ্রয়দাতা ছিলেন তারেক রহমান এবং হাওয়া ভবনেই এই হামলার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম সহিংসতা ও দুই দলের মধ্যকার স্থায়ী শত্রুতার দেয়াল তুলে দেয়।
৫. ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়
২০০১-২০০৬ মেয়াদে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার ফলে বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও সিভিল আমলাতন্ত্রে দলীয়করণের যে নতুন মাত্রা যোগ হয়, তার পেছনে তারেক রহমানের প্রভাব বলয়কে দায়ী করা হয়। যোগ্যতার চেয়ে চাটুকারিতা ও হাওয়া ভবনের প্রতি আনুগত্যই পদোন্নতির মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। ভিন্নমত দমন ও গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণে এই শাসনামলটি সাধারণ নাগরিক সমাজের কাছে একটি ভয়ের রাজত্ব হিসেবে সমালোচিত হয়, যা পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১/১১-এর জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল।
দীর্ঘ নির্বাসন: রাজনীতি পরিচালনার এক ভিন্ন অধ্যায়

তারেক রহমানের নির্বাসন: রাজনীতি পরিচালনার এক ভিন্ন অধ্যায় শিরোনামটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও দীর্ঘস্থায়ী কৌশলগত অধ্যায়কে নির্দেশ করে। ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পর, ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) পাড়ি জমান। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে বা স্বনির্বাসিত জীবনে থেকেও দূর নিয়ন্ত্রিত উপায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় দল পরিচালনা করে তিনি এক নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা তথা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই দীর্ঘ নির্বাসনের দিনগুলো এবং রাজনীতি পরিচালনার ভিন্নধর্মী কৌশলগুলোর মূল দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নির্বাসনের পটভূমি ও দলের নেতৃত্ব গ্রহণ
- লন্ডনে অবস্থান (২০০৮-২০২৫): ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও সাজা দেওয়া হয়, যা বিএনপি সবসময় “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করে এসেছে।
- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব (২০১৮): ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হওয়ার পর, তারেক রহমান লন্ডন থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।
২. ভার্চুয়াল যুগে দূর নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি (Remote Politics)
- প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার: সশরীরে উপস্থিত না থেকেও ভিডিও কনফারেন্স, জুম মিটিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
- দলীয় শৃঙ্খলা ও পুনর্গঠন: নির্বাসনে থাকা অবস্থাতেই তিনি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন, নতুন কমিটি গঠন এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের দিকনির্দেশনা প্রবাস থেকেই নিখুঁতভাবে পরিচালনা করেন।
৩. আন্তর্জাতিক জনমত ও কূটনৈতিক তৎপরতা
- কূটনৈতিক যোগাযোগ: লন্ডনে অবস্থানকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট মেম্বার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- নতুন রাজনৈতিক বার্তা: প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে তিনি বিএনপির ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করেন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতির বাইরে এসে “রাষ্ট্র সংস্কার” ও “জনগণের অধিকারের” ওপর জোর দেন।
৪. ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ও ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ
- স্বদেশ প্রত্যাবর্তন (ডিসেম্বর ২০২৫): ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২৫শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনি বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
- ২০২৬-এর নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রিত্ব: ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। দীর্ঘ নির্বাসন এবং বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
প্রত্যাবর্তন, দলীয় নেতৃত্ব ও ক্ষমতার পথে

তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন, দলীয় নেতৃত্বের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতা আরোহণের ঘটনাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস বা নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি কেবল দেশে ফিরে আসেননি, বরং অত্যন্ত সফলভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছেন এবং নিজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
তারেক রহমানের নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানোর এই যাত্রাপথকে মূলত নিচের ৪টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. নির্বাসন থেকে ভার্চুয়াল রাজনীতি ও দলীয় পুনর্গঠন
- ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব: ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যাওয়ার পর থেকে তিনি প্রবাসে ছিলেন। ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হলে তিনি দলের ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন।
- দূর নিয়ন্ত্রিত বা ভার্চুয়াল রাজনীতি (Remote Politics): আট হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেও তিনি প্রযুক্তির (জুম, ভিডিও কনফারেন্স) সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি যুক্ত হন। এই দীর্ঘ সময়ে দলের ভাঙন রোধ করা এবং দলীয় শৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখা তাঁর দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসে থেকেই তিনি আন্দোলনকে বেগবান করতে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন নিশ্চিত করতে তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন
২. রাজসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও দলের পূর্ণ নেতৃত্ব গ্রহণ
- ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫): ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর, ২০২৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তারেক রহমান তাঁর পরিবারসহ বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ঢাকার বিমানবন্দরসহ পুরো রাজধানীতে লাখ লাখ মানুষের ঢল তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে এক রাজসিক রূপ দেয়।
- চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ (৯ জানুয়ারি, ২০২৬): প্রবাসে থাকার সময় তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকলেও, মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৬ সালের ৯ই জানুয়ারি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলটির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে।
৩. ২০২৬ সালের নির্বাচন ও অভূতপূর্ব বিজয়
- নির্বাচনী প্রচারণা ও ‘৩১ দফা রূপরেখা’: দেশে ফেরার পরপরই তারেক রহমান নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেন। তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তাঁর দলের বিখ্যাত ‘৩১ দফা রূপরেখা’ এবং ‘We Have a Plan’ স্লোগানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম (Gen-Z) ও সাধারণ মানুষের কাছে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দেন।
- ভূমিধস বিজয়: ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ দুটি আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন (পরবর্তীতে তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন)। তাঁর জাদুকরী নেতৃত্বে বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে।
৪. প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ও ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ
- প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬): নির্বাচন জয়ের পর ২০২৬ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চলা দুই নারী নেত্রীর (খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা) পালাক্রমিক শাসনের অবসান ঘটে এবং এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়।
২০২৬ সালের নির্বাচন ও প্রধানমন্ত্রীর আসনে আরোহণ

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়, এবং পরের দিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। নির্বাচনের পূর্বে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণেও তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলের পাঁচ দিন পর, ১৭ ফেব্রুয়ারি, তিনি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান, এবং তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার আরও ৩০ জন সদস্যও শপথ নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে নয়, বরং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জনগণের সামনে উন্মুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়—যা প্রতীকীভাবে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা দেয় বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালে তারেক রহমানের সরকার

শপথ গ্রহণের পর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা—বাংলাদেশের ২৪তম মন্ত্রিসভা—দ্রুত দপ্তর বণ্টন সম্পন্ন করে কার্যক্রম শুরু করে, যেখানে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পান। ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে কোনো পুরুষ ব্যক্তি সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
বিশ্লেষণ: এক পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতিফলন
তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসন, ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, এবং ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ কেবলই কোনো আকস্মিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য “পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা” বা বংশানুক্রমিক নেতৃত্বের এক ধ্রুপদী প্রতিফলন।
স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের মূল রাজনৈতিক ধারাটি দুটি প্রধান পরিবারের সমান্তরাল উত্তরাধিকারের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়েছে। তারেক রহমানের বর্তমান অবস্থানকে তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার আলোকেই নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনের উত্তরাধিকার
- দলীয় ভিত্তি ও জাতীয়তাবাদ: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান। তাঁর রাজনীতিতে আগমন এবং ক্ষমতা আরোহণের মূল চালিকাশক্তি ছিল তাঁর বাবার তৈরি করা “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”-এর আদর্শ ও এর বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী।
- তৃণমূল সংযোগের অনুকরণ: শহীদ জিয়া যেভাবে গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে তৃণমূলের মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছিলেন, তারেক রহমানও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে (বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে) দেশব্যাপী “তৃণমূল সম্মেলন” এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাবার সেই রাজনীতির মডেল পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন।
২. খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের উত্তরাধিকার
- সংকটকালে দলের হাল ধরা: ঠিক যেভাবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর এক চরম সংকটময় মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে এসে দলের ভাঙন রোধ করেছিলেন, একইভাবে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর প্রবাসে থাকা অবস্থাতেই তারেক রহমান বিএনপির ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ হিসেবে দলের হাল ধরেন।
- প্রতীকী নেতৃত্ব ও আবেগীয় সংযোগ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে “জিয়া পরিবার” সমর্থকদের কাছে এক বিশাল আবেগের নাম। বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অসুস্থতা ও প্রয়াণের পর তারেক রহমানের মধ্যে সমর্থকেরা সেই একই আপসহীন ও অবিচল নেতৃত্বের ছায়া খুঁজে পেয়েছে, যা দলটিকে কঠিন পরিস্থিতিতেও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
৩. ধারাবাহিকতার সমান্তরালে আধুনিকায়ন (Evolution)
পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেও তারেক রহমানের রাজনীতি পরিচালনার কৌশল ছিল সম্পূর্ণ আধুনিক ও ভিন্নধর্মী:
- ভার্চুয়াল ও দূর নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি: প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর সুদূর লন্ডন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির (জুম, স্কাইপ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) সাহায্যে দল পরিচালনা করেছেন—যা পারিবারিক ধারাবাহিকতার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা।
- তরুণ প্রজন্মের সাথে সংযোগ: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি প্রথাগত প্রতিহিংসার রাজনীতির বাইরে এসে ‘রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা’ এবং নতুন ভিশনের কথা বলে নতুন প্রজন্মের (Gen-Z) আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন।
৪. দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির সাধারণ সমীকরণ
- নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা ও উত্তরাধিকার: নেহেরু-গান্ধী পরিবার (ভারত), ভুট্টো পরিবার (পাকিস্তান) কিংবা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের (বাংলাদেশ) মতোই তারেক রহমানের এই ক্ষমতায় আরোহণ প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের একতাবদ্ধ রাখার জন্য একটি সুপরিচিত “পারিবারিক মুখ বা প্রতীক” এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
উপসংহার:
তারেক রহমানের ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো মূলত শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ভাবমূর্তি এবং তারেক রহমানের নিজস্ব আধুনিক কৌশলগত দূরদর্শিতার এক ত্রিমাত্রিক সমন্বয়। এটি প্রমাণ করে যে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনীতির কৌশল বদলালেও, পারিবারিক লিগ্যাসি বা ধারাবাহিকতা এখনও বাংলাদেশের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মেরুদণ্ড।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: ইসলাম ও জীবন
তথ্যসূত্র: আল-কোরআনের তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির), সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত নবী-রাসূলদের জীবনী গ্রন্থ।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক ও তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ যুগে মানুষ বাহ্যিক ও বস্তুগত দিক থেকে অনেক উন্নত হলেও, মানসিক প্রশান্তি, নৈতিকতা ও জীবনবোধের দিক থেকে এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতি-ব্যবহার, পারস্পরিক দূরত্বের এই যুগে সঠিক জীবনদর্শনের অভাব স্পষ্ট। মানবজাতির হেদায়েত ও সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে যে নবী-রাসূলদের পাঠিয়েছেন, তাদের জীবন কেবল ইতিহাসের কিছু গল্প নয়; বরং তা কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য এক জীবন্ত ও কালজয়ী গাইডলাইন। এই বিশেষ সিরিজের ১ম পর্বে আমরা আলোচনা করব নবী-রাসূলদের অনন্য জীবন থেকে আজকের দিনে আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার মতো ৩টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
১. হযরত আইয়ুব (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: চরম বিপদেও মানসিক শক্তি ও ধৈর্য (Patience)
আজকের যুগে সামান্য আর্থিক ক্ষতি, চাকরি হারানো কিংবা পারিবারিক বা শারীরিক অসুস্থতায় মানুষ দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ে, এমনকি অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। এই মানসিক সংকটে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আদর্শ হলেন হযরত আইয়ুব (আ.)।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে দীর্ঘ বছর ধরে কঠিন রোগ, সন্তানদের মৃত্যু এবং সমস্ত ধন-সম্পদ হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এমন চরম সংকটেও তিনি আল্লাহর প্রতি বিন্দুমাত্র অভিযোগ করেননি, বরং চরম ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আধুনিক জীবনে বিষণ্ণতা (Depression) বা যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক থাকা এবং বিশ্বাস রাখা যে—কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে। বিপদে অধৈর্য না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখাই হলো সফলতার মূল চাবি।
২. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: নৈতিক স্খলন ও প্রলোভন থেকে নিজেকে রক্ষা করা (Self-Control)
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মাধ্যমের উন্মুক্ততার কারণে তরুণ প্রজন্মের সামনে পর্নোগ্রাফি, অবৈধ সম্পর্ক এবং নৈতিক স্খলনের নানামুখী প্রলোভন প্রতিনিয়ত আসছে। নিজের চরিত্র ও নৈতিকতা ধরে রাখা আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
হযরত ইউসুফ (আ.) ছিলেন অপরূপ সুন্দর এবং যুবক। মিশরের আজিজের স্ত্রী যখন ঘরের সমস্ত দরজা বন্ধ করে উনাকে পাপের দিকে আহ্বান করেছিল, তখন তিনি সমস্ত প্রলোভন ও ক্ষমতার দাপটকে তুচ্ছ করে বলেছিলেন, “আমি আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি।” পাপের চেয়ে তিনি কারাগারের বন্দিজীবনকে বেছে নিয়েছিলেন।

- আজকের দিনের শিক্ষা: চারপাশে যত বড় বা সহজ প্রলোভনই থাকুক না কেন, আল্লাহর ভয়কে অন্তরে জাগ্রত রেখে নিজের আত্মনিয়ন্ত্রণ (Self-Control) বজায় রাখা। ক্যারিয়ার বা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাময়িক আনন্দের চেয়ে চিরস্থায়ী নৈতিকতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া।
৩. হযরত নূহ (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা: সামাজিক সমালোচনা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা (Perseverance)
আজকের দিনে তরুণ বা উদ্যোক্তারা যখন নতুন বা ভালো কোনো কাজ করতে যায়, তখন সমাজের মানুষের সমালোচনা, ট্রল বা উপহাসের শিকার হয়ে অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেয়। মানুষের কথা বা সামাজিক চাপের মুখে নিজের সৎ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হযরত নূহ (আ.) যখন আল্লাহর নির্দেশে মরুভূমির বুকে বিশাল নৌকা তৈরি করছিলেন, তখন সমকালীন সমাজের মানুষ উনাকে দেখে চরম উপহাস করত, পাগল বলত। কিন্তু তিনি মানুষের কোনো উপহাস বা ট্রলের দিকে কান না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই নৌকাই বিশ্বাসীদের রক্ষা করেছিল।
- আজকের দিনের শিক্ষা: আপনি যদি নিশ্চিত হন যে আপনার কাজটি সৎ, সঠিক এবং মানবকল্যাণকর, তবে সমাজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার মানুষ কী বলল বা কী ট্রল করল—তাতে কান না দিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা। দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমই শেষ পর্যন্ত সত্যকে জয়ী করে।
নবী-রাসূলদের এই চমৎকার ঐতিহাসিক শিক্ষাগুলো কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে চর্চা করা উচিত। তবেই আমরা এই আধুনিক ও জটিল পৃথিবীতে একটি শান্তিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: জাতীয়
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গণপরিষদের কার্যবিবরণী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনা।
আজ ৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘বাংলাদেশ সংবিধান দিবস’। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটি উপেক্ষিত থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন তথা সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়েছিল। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র ১১ মাসের মাথায় কীভাবে একটি বিশ্বমানের ও যুগোপযোগী সংবিধান লাভ করেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। নিচে বাংলাদেশের সংবিধান রচনা ও গ্রহণের সেই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পটভূমি ও গণপরিষদ আদেশ জারি
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নিজস্ব আইনি কাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এর পরদিনই অর্থাৎ ১১ জানুয়ারি তিনি ‘অস্থায়ী সংবিধান আদেশ’ জারি করেন। এর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করা হয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এই গণপরিষদ গঠিত হয়, যার মূল দায়িত্ব ছিল দেশের জন্য একটি স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
২. খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন
গণপরিষদের দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। এই কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু। এছাড়া তৎকালীন বিরোধী দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
কমিটি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ শুরু করে। বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং দেশের আপামর জনসাধারণের মতামত সংগ্রহের জন্য তারা ব্যাপক উদ্যোগ নেন। সর্বস্তরের জনগণের কাছ থেকে মোট ৯৮টি লিখিত প্রস্তাব সংগ্রহ করা হয়েছিল। ভারত ও যুক্তরাজ্যের সংবিধানকে মূল ভিত্তি ধরে খসড়া তৈরির কাজ এগিয়ে চলে।
৩. খসড়া উত্থাপন ও বিতর্ক
দীর্ঘ কঠোর পরিশ্রমের পর ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ড. কামাল হোসেন খসড়া সংবিধান বিল আকারে উত্থাপন করেন। ১৯ অক্টোবর থেকে এর ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ ও ধারা নিয়ে গণপরিষদে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনা হয়। গণপরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। মোট ৪১টি অধিবেশনে দীর্ঘ আলোচনার পর সংবিধানের প্রতিটি বিষয়কে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।
৪. সংবিধান গ্রহণ ও কার্যকর
অবশেষে ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলাদেশের সংবিধান’ গৃহীত হয়। সংবিধান গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, “এই সংবিধান শহীদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।”
এর ঠিক দেড় মাস পর, অর্থাৎ বিজয়ের প্রথম বার্ষিকী—১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ থেকে এই সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপিটি ছিল হাতে লেখা, যা শিল্পী হাশেম খানের নকশায় এবং প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফার আবদুর রউফের হাতের লেখায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। এতে স্বাক্ষর করেছিলেন গণপরিষদের সদস্যবৃন্দ।
একটি দেশের সংবিধান কেবল কিছু আইনের সমষ্টি নয়, এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল স্তম্ভ ছিল চারটি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সময়ের আবর্তে এই সংবিধানে বহু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হলেও, ৪ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবসময়ই অনস্বীকার্য। তরুণ প্রজন্মের জন্য নিজেদের অধিকার ও রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বুঝতে সংবিধান রচনার এই ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: পালস বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশের তারিখ: ৪ নভেম্বর, ২০২৬
বিভাগ: অর্থনীতি
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank FX Reference), ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (EBL Currency Tracker), জাগোনিউজ২৪ মুদ্রা বাজার প্রতিবেদন এবং ওয়াইজ (Wise) রিয়েল-টাইম এক্সচেঞ্জ ডেটা।
বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রবাসী আয় (Remittance) পাঠানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডলার, ইউরো ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বর্তমান রেট জানা অত্যন্ত জরুরি। ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ অফিসিয়াল ডেটা এবং খোলা বাজারের লেনদেন হারের ওপর ভিত্তি করে আজকের বিস্তারিত রেট নিচে তুলে ধরা হলো।
১. একনজরে আজকের প্রধান প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক ইন্টারব্যাংক মার্কেট এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী আজকের প্রধান তিনটি মুদ্রার গড় ক্রয় (Buying Rate) ও বিক্রয় মূল্য (Selling Rate) নিচে দেওয়া হলো:
- মার্কিন ডলার (USD): বাংলাদেশ ব্যাংকের আজকের অফিসিয়াল এফএক্স রেফারেন্স রেট অনুযায়ী প্রতি ডলারের মূল্য ১২৪.৩৫ টাকা থেকে ১২৪.৫০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। ব্যাংকভেদে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এটি ১২৩.৩০ টাকা (ক্রয়) এবং ১২৪.৮০ টাকা (বিক্রয়) পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে।
- ইউরো (EUR): ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশি টাকায় আজ ১ ইউরোর গড় বাজার মূল্য বা মিড-মার্কেট রেট প্রায় ১৪০.১১ টাকা। দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এটি সর্বোচ্চ ১৪১.৭৪ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR): মালয়েশিয়া প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য আজ রিঙ্গিতের রেট বেশ স্থিতিশীল। ৪ নভেম্বর ২০২৬-এর লাইভ কারেন্সি চার্ট অনুযায়ী ১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত সমান ৩০.৬৩ টাকা (মিড-মার্কেট রেট)। বিভিন্ন রেমিট্যান্স হাউজ ও ব্যাংকে এটি ৩০.২৫ টাকা (ক্রয়) এবং ৩০.৬৬ টাকা (বিক্রয়) সীমার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।

২. বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলে মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (MYR) রেটের তুলনা
প্রবাসীদের সুবিধার্থে নিচে একটি তুলনামূলক তালিকা দেওয়া হলো। মালয়েশিয়া থেকে ১০০০ রিঙ্গিত বাংলাদেশে পাঠালে আজ কোন মাধ্যমে চার্জ ছাড়া আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা দেখে নিন:
- Wise (অনলাইন ট্রান্সফার): বিনিময় হার ৩০.৫৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৫৪০ টাকা।
- Agrani Remittance House: বিনিময় হার ৩০.৪৫ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৫০ টাকা।
- Al-Rajhi Bank: বিনিময় হার ৩০.৪৪ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৪৪Tokens বা টাকা।
- Western Union (ক্যাশ পিকআপ): বিনিময় হার ৩০.৩৯ টাকা। ১০০০ রিঙ্গিতে পাবেন ৩০,৩৯০ টাকা।
৩. আন্তর্জাতিক কার্ড পেমেন্ট ও ই-কমার্স রেট
আপনি যদি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড (যেমন- EBL, City Bank, বা অন্যান্য ডুয়াল কারেন্সি কার্ড) ব্যবহার করে ই-কমার্স পারচেজ কিংবা ফেসবুক/গুগল বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে চান, তবে আপনার জন্য রেট কিছুটা ভিন্ন হবে। আজ বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এনডোর্সমেন্ট রেট প্রতি ডলারের জন্য ১২৪.৯৫ টাকা থেকে ১২৫.২০ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে (ভ্যাট ও ব্যাংক প্রসেসিং ফি আলাদা প্রযোজ্য)।
- রেট পরিবর্তনশীল: কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেট বা মুদ্রার মান প্রতি সেকেন্ডে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই টাকা কিংবা রেমিট্যান্স পাঠানোর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আপনার নিকটস্থ ব্যাংক শাখা বা অনুমোদিত মানি চেঞ্জারের লাইভ স্ক্রিন থেকে রেটটি কনফার্ম করে নিন।
- হুন্ডি বা অবৈধ মাধ্যম বর্জন করুন: যেকোনো ধরনের অবৈধ হুন্ডি চ্যানেলে টাকা পাঠানো আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা সরকার অনুমোদিত মানি ট্রান্সফার অ্যাপের মাধ্যমে টাকা পাঠালে সরকার ঘোষিত ২.৫% নগদ প্রণোদনা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যুক্ত হবে এবং আপনার কষ্টার্জিত অর্থ শতভাগ নিরাপদ থাকবে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



