জাতীয়

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে ২০২৫-এর স্মার্ট সচিবালয়: প্রশাসনিক বিবর্তনের ৭৫ বছর
বাংলাদেশের ৪৩টি মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক

December 29, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হলো বাংলাদেশ সচিবালয়। ১৯৫০-এর দশকের উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে এসেছে আমূল পরিবর্তন। বর্তমানে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০ থেকে ১৯৭১

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল ১৯৫০-এর দশকেই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজের ভাষায় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার স্বপ্ন দেখায়। পরবর্তীকালে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পেশ করা ৬-দফা কর্মসূচিতে বাংলার জন্য পৃথক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক স্বাতন্ত্র্যের দাবি তোলা হয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নতুন করে যাত্রা শুরু করে এদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ১৯৫০ সালে যেখানে আমাদের কোনো নিজস্ব মন্ত্রণালয় ছিল না, ২০২৫ সালে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩-এ।

প্রশাসনিক স্তরক্রম ও আধুনিক কাঠামো

সচিবালয়ের কার্য পরিচালনার জন্য ১৯৯৬ সালের কার্যবিধি (Rules of Business) একটি মাইলফলক। এই বিধি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় বা বিভাগ হলো জাতীয় পর্যায়ে গঠিত প্রশাসনিক ইউনিট। এর স্তরক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খল:

  • সচিব: মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।
  • উইং (Wing): অতিরিক্ত বা যুগ্মসচিবের অধীনে পরিচালিত বড় উপ-বিভাগ।
  • শাখা (Branch): উপসচিবের অধীনে পরিচালিত কার্যনির্বাহী ইউনিট।
  • উপশাখা (Section): সহকারী সচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিবের অধীনে পরিচালিত মৌলিক প্রশাসনিক ইউনিট।

বাংলাদেশের বর্তমান ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

২০২৫ সালের আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয়গুলোকে ৩৯টি মন্ত্রণালয়, ২টি কার্যালয় এবং ২টি বিশেষ বিভাগে বিন্যস্ত করা হয়েছে। তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:

১) রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ২) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ৩) সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ৪) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৫) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৬) গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৭) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৮) ভূমি মন্ত্রণালয় ৯) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১১) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১২) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৩) কৃষি মন্ত্রণালয় ১৪) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৫) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৬) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১৭) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১৮) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২০) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ২১) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২২) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ২৩) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২৪) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২৬) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ২৭) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ২৮) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৯) খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩০) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১) শিল্প মন্ত্রণালয় ৩২) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩৩) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৪) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩৫) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩৬) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩৭) রেলপথ মন্ত্রণালয় ৩৮) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ৩৯) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪০) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৪১) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৪২) তথ্য মন্ত্রণালয় ৪৩) অর্থ মন্ত্রণালয়।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা

বাংলাদেশের সংবিধান ও কার্যবিধি অনুযায়ী, কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কীভাবে গঠিত হবে বা কারা এর প্রধান থাকবেন, তার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করেন। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে বড় মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের সুবিধার্থে একাধিক বিভাগ ও পৃথক সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা ১৯৫০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে ছিল অকল্পনীয়।

বিশ্লেষণ ও আগামীর ভাবনা

বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যে প্রশাসনিক শোষণ ও বৈষম্য বাঙালিকে মুক্তির নেশায় মাতিয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ আজ এক সুসংগঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধিকারী। সচিবালয়ের নীতিনির্ধারণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আইন প্রণয়নের এই বিশাল কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয় এখন ই-নথি এবং ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হয়েছে।

সূত্র: ১. বাংলাদেশ গেজেট ও সচিবালয় নির্দেশিকা (১৯৯৬ ও ২০২৫ সংস্করণ)। ২. জাতীয় আর্কাইভ ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর (রাজনৈতিক ইতিহাস শাখা)। ৩. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ডাটাবেজ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

চব্বিশের জুলাই বিপ্লব

নিউজ ডেস্ক

July 11, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক নিবন্ধ | পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি সাধারণ ক্যালেন্ডারের পাতা মাত্র নয়, বরং এটি রাষ্ট্র ও সমাজের এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের রক্তক্ষয়ী ও গৌরবোজ্জ্বল সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় দমননীতি, সীমাহীন দুর্নীতি, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি এবং তীব্র সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ গণমানুষের মনের গভীরে জমাট বেঁধেছিল, তারই এক স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ ঘটেছিল এই জুলাইয়ে।

আজ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে দাঁড়িয়ে, সেই চব্বিশের জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিতে আমাদের পেছনে ফিরে তাকানো এবং একটি নির্মোহ মূল্যায়ন করা জরুরি। বিপ্লবের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং জবাবদিহিমূলক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা। তবে দুই বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, বিপ্লবের সেই আকাশচুম্বী প্রত্যাশা আর রূঢ় বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ফারাক বা ব্যবধান তৈরি হয়েছে। যে স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি তরুণেরা বুকের রক্ত দিয়ে লিখেছিল, তার কতটুকু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে আর কতটুকুই বা এখনও কাগুজে প্রতিশ্রুতির গোলকধাঁধায় বন্দি, তা তলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

১. প্রেক্ষাপট ও গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক মোড়

২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ:

  • শিক্ষাঙ্গনের অবক্ষয়: শিক্ষা খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র রাজনীতির নামে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, এবং জাতীয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তীব্র প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা তরুণ সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল।
  • সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট: সরকারি চাকরিতে মেধার অবমূল্যায়ন করে ঢালাও দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট এবং ভিন্নমতের ওপর রাষ্ট্রের চণ্ডনীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।

যখন এই ক্ষোভ রাজপথে আছড়ে পড়ল, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে গর্জে ওঠে। আন্দোলনটি শুধু বিভাগীয় শহরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়ে পড়েছিল প্রত্যন্ত উপজেলা পর্যন্ত।

২. আন্দোলনের অনন্য চরিত্র: দলমুক্ত নাগরিক জাগরণ

এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য ছিল এর সম্পূর্ণ দলমুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র। প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়া বা প্রভাব এখানে স্থান পায়নি। এটি হয়ে উঠেছিল সাধারণ শিক্ষার্থী ও আমজনতার নিজস্ব मंच।

জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে এই আন্দোলন এক অভূতপূর্ব সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের রূপ নেয়। তরুণেরা শুধু স্লোগান দেয়নি; রাজপথ জুড়ে পোস্টার, গান, দেয়ালচিত্র (গ্রাফিতি), কবিতা ও পথনাটকের মাধ্যমে স্বৈরাচারের ভিত্তিমূল কাঁপিয়ে দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের এই নৈতিক লড়াইয়ের পক্ষে দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়েছিলেন শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী এবং লেখক সমাজ।

যদিও এই বৃহৎ গণজোয়ারকে দমাতে তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্র নির্মম পুলিশি দমন নীতি ও নির্বিচারে গুলি বর্ষণের পথ বেছে নেয়, যার ফলে অজস্র ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ নাগরিক শাহাদাত বরণ করেন এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন; তবুও বুলেটের সামনে তরুণেরা বুক পেতে দিয়ে লড়াই থামায়নি। এই অদম্য সাহস জুলাই আন্দোলনকে ১৯৬৯ বা ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের চেয়েও এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

৩. জুলাইয়ের মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর ‘প্রত্যাশা বনাম বাস্তবতা’

যে মূল প্রতিপাদ্য ও স্বপ্নগুলোকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল, দুই বছর পেরিয়ে ২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতায় তার একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি

  • প্রত্যাশা: বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল কাঠামোগত সংস্কার করা হবে, যাতে কোনো দল আর স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে না পারে।
  • বাস্তবতা: অন্তর্বর্তী সরকার হয়ে বর্তমানে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর তেমন গুণগত পরিবর্তন হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো স্বৈরাচারী কাঠামো বহাল রেখেই কেবল ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে এবং সংস্কারের ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা এজেন্ডাগুলো অনেকটাই থমকে গেছে। কাগুজে সংস্কারের বড় বড় ঘোষণাগুলোর বেশিরভাগই এখনও নীতিমালার ভেতর সীমাবদ্ধ।

২. জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও অপরাধীদের শাস্তি

  • প্রত্যাশা: জুলাই-আগস্টের গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
  • বাস্তবতা: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রধান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় দিলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি এখনও ভারতে অবস্থান করছেন এবং সম্প্রতি আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দেওয়ায় পুরো বিচার প্রক্রিয়া এবং সরকারের কূটনৈতিক কার্যকারিতা বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

৩. আইনশৃঙ্খলা ও মব জাস্টিস বন্ধ করা

  • প্রত্যাশা: ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা মব ভায়োলেন্স চিরতরে বন্ধ হবে।
  • বাস্তবতা: মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক অঙ্গন ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণপিটুনি (মব জাস্টিস), দলীয় কোন্দল এবং সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা এখনও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

৪. বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক মুক্তি

  • প্রত্যাশা: মেধার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করা।
  • বাস্তবতা: বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণের কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও বাজারে সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস কমেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া দাম এবং নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রাধান্য পাওয়ার অভিযোগ আবারও উঠছে। মেধার কথা বলা হলেও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলমান।

৫. political সহনশীলতা ও বাকস্বাধীনতা

  • প্রত্যাশা: ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হওয়া।
  • বাস্তবতা: গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বা ভয়হীন কথা বলার পরিবেশ আগের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও রাজনৈতিক সহনশীলতা পুরোপুরি আসেনি। সংসদে ও সংসদের বাইরে দলগুলোর একে অপরের চরিত্র হনন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের পুরনো সংস্কৃতি এখনও দৃশ্যমান।

৪. এক নজরে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার তুলনামূলক ছক

ক্যাটাগরি২০২৪ জুলাইয়ের প্রত্যাশা২০২৬ সালের বর্তমান বাস্তবতা
রাষ্ট্রীয় কাঠামোআমূল কাঠামোগত সংস্কার ও স্বৈরাচারমুক্ত জবাবদিহিতাপুরনো কাঠামো বহাল, ক্ষমতার হাতবদল ও আংশিক সংস্কার
নিয়োগ ও অর্থনীতি১০০% মেধাভিত্তিক সমাজ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণবাজারে চড়া দাম, মেধার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যের অভিযোগ
আইনের শাসনমব জাস্টিস বন্ধ ও দ্রুত গণহত্যার বিচারগণপিটুনি ও বিচ্ছিন্ন হামলা চলমান, মূল আসামির প্রত্যর্পণ ঝুলে আছে
শিক্ষাঙ্গনলেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাসপ্রশাসনিক রদবদল হলেও কাঠামোগত রূপান্তর পুরোপুরি হয়নি

৫. দীর্ঘমেয়াদি ঐতিহাসিক তাৎপর্য

বাস্তবিক অর্জনের দিক থেকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য এখনও অধরা বা অনিশ্চিত থাকলেও, জুলাই আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক অর্জনকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই:

  • নতুন রাজনৈতিক সচেতনতা: এই আন্দোলন দেশের সমগ্র ছাত্র ও তরুণ সমাজকে নতুন করে রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে সচেতন করে তুলেছে, যা আগামী দিনে যেকোনো ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বড় দেয়াল হিসেবে কাজ করবে।
  • নাগরিক সমাজের শক্তি: একটি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ ব্যানারেও যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাঁপিয়ে দেওয়া যায় এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা যায়—নাগরিক সমাজের এই অভূতপূর্ব শক্তি দেশবাসী প্রথমবার প্রত্যক্ষ করেছে।

পরিশেষ: পথচলা এখনও চলমান

২০২৪ সালের চব্বিশের জুলাই আন্দোলন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন ও অবিনশ্বর অধ্যায়। এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে নতুন এক ভোরের প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছিল। তবে জুলাইয়ের যে মূল প্রতিশ্রুতি মানুষকে ঘরের খেয়ে রাজপথে নিয়ে এসেছিল, তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে এখনও অনেক দূর যেতে হবে।

জুলাইয়ের চেতনা কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ না রেখে যদি এর প্রকৃত বাস্তবায়ন না করা করা হয়, তবে জনগণের এই হতাশা ভবিষ্যতে নতুন কোনো সংকটের জন্ম দিতে পারে। এই আন্দোলনের ঐতিহাসিক বিজয় তখনই পরিপূর্ণতা পাবে, যখন রাষ্ট্র ও সমাজে শুধু ব্যক্তি বা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং প্রকৃত গণতন্ত্র, সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং ন্যায়ের শাসন প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা পাবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের লড়াই আজ দুই বছর পরেও রাজপথে এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের মনে চলমান।

বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি, ইতিহাস এবং সমাজ পরিবর্তনের এমন সব নির্মোহ, গভীর ও তথ্যবহুল বিশ্লেষণ নিয়মিত পড়তে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার নিজস্ব কোনো কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি বা প্রফেশনাল এসইও কনসালটেশনের জন্য ভিজিট করতে পারেন আমার নিজস্ব সাইট bdsbulbulahmed.com-এ।

গিনেস

নিউজ ডেস্ক

July 9, 2026

শেয়ার করুন

তথ্যপ্রযুক্তি, সমাজ ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুল্বুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আমাদের দেশের সূর্যসন্তানেরা। ব্যক্তিগত প্রতিভা থেকে শুরু করে দলগত দেশপ্রেম—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশিরা নিজেদের নাম খোদাই করেছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) পাতায়।

আমি বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant), আমার দীর্ঘ ৬ বছরের প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও ডেটা অ্যানালাইসিসের অভিজ্ঞতায় গিনেস বুকে বাংলাদেশের অফিশিয়াল রেকর্ডের পরিসংখ্যান, শীর্ষ রেকর্ডধারী ব্যক্তি এবং আপনি নিজে কীভাবে গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করবেন, তার একটি সম্পূর্ণ ‘রিলিজ-রেডি’ মেগা কন্টেন্ট নিয়ে হাজির হয়েছি।

পর্ব ১: এ পর্যন্ত কতজন বাংলাদেশী গিনেস রেকর্ড করেছেন?

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট দেশের মোট রেকর্ডধারীর একক বা অফিশিয়াল সংখ্যা সরাসরি প্রকাশ করে না। তবে বিভিন্ন সময়ে গিনেসের অফিশিয়াল ডেটাবেজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত একক প্রচেষ্টা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বা দলগত জাতীয় আয়োজন মিলিয়ে বাংলাদেশী ব্যক্তি ও উদ্যোগের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টিরও বেশি রেকর্ড গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে অনেকে একাধিকবার রেকর্ড করায় ব্যক্তির সংখ্যার চেয়ে বাংলাদেশে মোট রেকর্ডের সংখ্যাটিই বেশি গৌরবময়।

পর্ব ২: গিনেস বুকে বাংলাদেশের সেরা কিছু রেকর্ড ও রেকর্ডধারী

বাংলাদেশের ঝুলিতে থাকা কিছু ঐতিহাসিক দলগত এবং বিষ্ময়কর ব্যক্তিগত রেকর্ডের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:

১. দলগত ও জাতীয় গৌরবের বিশ্বরেকর্ডসমূহ

  • লাখো কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত (২০১৪): ২৬ মার্চ ২০১৪, স্বাধীনতা দিবসে ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২,৫৪,৬৮১ জন মানুষ একসাথে গেয়েছিলেন ‘আমার সোনার বাংলা’। এটি গিনেস বুকে বিশাল এক দলগত রেকর্ড হিসেবে স্থান পায়।
  • বিশ্বের বৃহত্তম মানব পতাকা (২০১৩): ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩, বিজয় দিবসে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭,১১৭ জন মানুষের অংশগ্রহণে তৈরি হয় বিশ্বের বৃহত্তম মানব জাতীয় পতাকা (Largest Human National Flag)।
  • লংগেস্ট সিঙ্গেল লাইন অব বাইসাইকেল মুভিং (২০১৭): ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, বিজয় দিবসে ‘বিডি সাইকেলিস্ট’ সংগঠনের উদ্যোগে ৩০০ ফিট রাস্তায় ১,১৮৬ জন সাইক্লিস্ট একক লাইনে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বসনিয়ার রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েন।
  • ৪৮ ঘণ্টার দীর্ঘতম সাইক্লিং রিলে (২০২১): ‘TeamBDC’-এর ৪ জন বাংলাদেশী সাইক্লিস্ট—দ্রাবির আলম, তানভীর আহমেদ, মোহাম্মদ আলাউদ্দীন এবং রকিবুল ইসলাম—৪৮ ঘণ্টায় ১,৬৭০.৩৩৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই টিম রেকর্ডটি অর্জন করেন।
  • রিকশার নগরী ঢাকা (২০১৫): গিনেস বুক ২০১৫ সালের প্রকাশনায় ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রিকশা চলাচলকারী শহর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যেখানে যাতায়াতের মোট ৪০ শতাংশই রিকশাকেন্দ্রিক।

২. ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বজয়ী কয়েকজন বাংলাদেশী

  • জোবেরা রহমান লিনু (প্রথম বাংলাদেশী): ২০০২ সালের ২৪ মে গিনেস বুক তাঁকে স্বীকৃতি দেয়। জাতীয় টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতায় ১৯৭৭ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে রেকর্ড ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে গিনেস বুকে নাম লেখান।
  • কনক কর্মকার (বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রেকর্ডধারী): কনক কর্মকার ভিন্ন ভিন্ন অনন্য ক্যাটাগরিতে এ পর্যন্ত ২৩ বার বিশ্বরেকর্ড করেছেন! তাঁর উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের মধ্যে রয়েছে—কপালে ২৫ মিনিট গিটার ব্যালেন্স করা, থুতনিতে গিটার ব্যালেন্স করা এবং কপালে ১,১৫০টি প্লাস্টিক গ্লাস রাখা।
  • আব্দুল হালিম (ফুটবলে হ্যাটট্রিক রেকর্ড): মাগুরা ও বগুড়ার এই কৃতি সন্তান মাথায় ফুটবল ব্যালেন্স করে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। মাথায় বল নিয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ দূরত্ব (১৫.২ কিলোমিটার) হাঁটা এবং মাথায় বল নিয়ে দ্রুততম সময়ে রোলার স্কেটিং জুতা পরে ১০০ মিটার অতিক্রম করার মতো হ্যাটট্রিক রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
  • মাহমুদুল হাসান ফয়সাল: মাগুরার এই তরুণ এক মিনিটে হাতে বাস্কেটবল এবং ফুটবল ঘোরানোসহ বল কন্ট্রোলিংয়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাধিক বিশ্বরেকর্ড করেছেন।
  • কয়েন টাওয়ারের রেকর্ড (নিপা ও আয়মান): বরিশালের নুসরাত জাহান নিপা এক মিনিটে সবচেয়ে বেশি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরির রেকর্ড করেছিলেন, যা পরবর্তীতে চট্টগ্রামের ১৬ বছর বয়সী কিশোর আয়মান মোহাম্মদ (১ মিনিটে ৭৫টি কয়েন স্তুপ করে) ভেঙে নিজের নামে করে নেন।

পর্ব ৩: আপনি কীভাবে গিনেস রেকর্ডের জন্য আবেদন করবেন? (ধাপ-বাই-ধাপ গাইড)

আপনার মধ্যে যদি এমন কোনো অনন্য প্রতিভা বা আইডিয়া থাকে যা বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিতে পারে, তবে আপনিও সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গিনেস বুকে আবেদন করতে পারেন। নিচে এর ৬টি মূল ধাপ দেওয়া হলো:

১. রেকর্ড ক্যাটাগরি নির্বাচন

  • বিদ্যমান রেকর্ড (Existing Record): গিনেসের ওয়েবসাইটে আগে থেকেই আছে এমন কোনো রেকর্ড ভাঙার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।
  • নতুন রেকর্ড (New Record): সম্পূর্ণ নতুন কোনো আইডিয়া নিয়ে আবেদন করতে পারেন। তবে আইডিয়াটি অবশ্যই পরিমাপযোগ্য (Measurable), প্রমাণযোগ্য (Verifiable) এবং বৈশ্বিক মানের হতে হবে।

২. অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট তৈরি

  • প্রথমে গিনেসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট guinnessworldrecords.com-এ যান।
  • সেখানে আপনার নাম ও ইমেইল দিয়ে একটি ফ্রি অ্যাকাউন্ট (Sign Up) তৈরি করুন।

৩. আবেদন জমা দেওয়া (Application Submission)

  • লগ-ইন করার পর “Apply for a record” বাটনে ক্লিক করুন।
  • নির্দিষ্ট ফর্মটি নিখুঁতভাবে পূরণ করুন।
  • আবেদনের খরচ: সাধারণ বা স্ট্যান্ডার্ড অ্যাপ্লিকেশনের জন্য গিনেস কর্তৃপক্ষ কোনো ফি নেয় না (এটি সম্পূর্ণ ফ্রি)। তবে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে গাইডলাইন পেতে সাধারণত ১২ সপ্তাহ (প্রায় ৩ মাস) সময় লাগে।
  • প্রায়োরিটি অ্যাপ্লিকেশন (Priority Application): আপনি যদি দ্রুত রেসপন্স চান, তবে নির্দিষ্ট ফি (৫০০ থেকে ৮০০ ইউএস ডলারের কাছাকাছি) দিয়ে প্রায়োরিটি আবেদন করতে পারেন, যেখানে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সাড়া পাওয়া যায়।

৪. অফিশিয়াল গাইডলাইন বা নিয়মাবলী সংগ্রহ

  • আপনার আবেদনটি গিনেস টিম গ্রহণ করলে তারা আপনাকে একটি বিস্তারিত ইমেইল ও গাইডলাইন (Rules & Guidelines) পাঠাবে। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকবে রেকর্ড করার সময় কী কী নিয়ম মানতে হবে এবং কী কী প্রমাণ জমা দিতে হবে।

৫. রেকর্ড প্রদর্শন ও প্রমাণ সংগ্রহ (Evidence Gathering)

গাইডলাইন পাওয়ার পর আপনাকে আপনার রেকর্ডটি করে দেখাতে হবে এবং নিচের প্রমাণগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ডিজিটাল ফরম্যাটে রেকর্ড করতে হবে:

  • ভিডিও ও ছবি: পুরো রেকর্ডের স্পষ্ট এবং কোনো প্রকার কাটছাঁট ছাড়া (Uncut) ভিডিও এবং হাই-কোয়ালিটি ছবি।
  • টাইমশীট বা লগবুক: রেকর্ড সম্পন্ন করার সঠিক সময়ের নিখুঁত হিসাব।
  • স্বাধীন সাক্ষী (Independent Witnesses): সমাজে সম্মানিত বা পেশাদার দুইজন ব্যক্তি (যেমন- সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, ডাক্তার বা শিক্ষক) যারা আপনার রেকর্ডের সময় উপস্থিত থেকে সত্যতা নিশ্চিত করে লিখিত স্টেটমেন্ট দেবেন।

৬. চূড়ান্ত অনুমোদন ও সার্টিফিকেট অর্জন

  • সংগৃহীত সব ভিডিও, ছবি এবং কাগজপত্রের ডিজিটাল কপি আপনার গিনেস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে আপলোড করুন।
  • গিনেস টিম এই প্রমাণগুলো যাচাই-বাছাই করতে আবার ১২ সপ্তাহ সময় নেবে। সবকিছু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সফল প্রমাণিত হলে তারা আপনাকে অফিশিয়াল বিজয়ী ঘোষণা করবে এবং ডাকযোগে একটি মর্যাদাপূর্ণ অফিশিয়াল গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সার্টিফিকেট পাঠাবে।

বাংলাদেশ ও বিশ্বমঞ্চের এমন সব রোমাঞ্চকর রেকর্ড, বিজ্ঞান ও সমসাময়িক তথ্যের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ। আপনার ব্যবসার জন্য প্রফেশনাল এসইও কনসালটেশন বা ডিজিটাল কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে bdsbulbulahmed.com সাইটে।

দেশের বাজেট ও ব্যাংকিং খাতের আসল সংকট

নিউজ ডেস্ক

July 1, 2026

শেয়ার করুন

পালস বাংলাদেশ

কন্টেন্ট লেখক ও প্রধান সম্পাদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)

সর্বশেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে চাটুকারিতা আর কাদা ছোড়াছুড়ির বাইরে গিয়ে যখন কোনো জননেতা বা অর্থনীতিবিদ দেশের অর্থনীতির বাস্তব ক্ষতগুলো নিয়ে কথা বলেন, তখন দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো জাগে। সম্প্রতি দেশের বাজেট, ব্যাংকিং খাতের নড়বড়ে অবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে যে চুলচেরা বিশ্লেষণগুলো সামনে এসেছে, তা চোখ খুলে দেওয়ার মতো।

রাজনীতিতে দল বড় হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে দেশের স্বার্থই যে সবচেয়ে বড়—আজ সেটাই প্রমাণিত। সংসদে যখন জনগণের আসল কষ্ট নিয়ে কথা হয়, যেখানে কোনো তেলবাজি বা চাটুকারিতা থাকে না, তখন বিরোধী দলও তালি না দিয়ে পারে না। আসুন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সেই মূল পয়েন্টগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, যা আজ প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কণ্ঠস্বর।

১. ধ্বংসের মুখে ব্যাংকিং খাত: খেলাপি সংস্কৃতির নতুন নিয়ম

অর্থনৈতিক খাতের মেরুদণ্ড হলো ব্যাংক। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকিং সূচক আজ যেখানে গিয়ে ঠেকেছে, তা চরম উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী:

  • বিশ্বের যেকোনো দেশে ব্যাংকিং খাতের নেতিবাচক সূচক ৬ পার হলেই অর্থনীতিবিদরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। অথচ আমাদের দেশে সেই সূচক আজ আকাশচুম্বী!
  • সুদের হারের বৈষম্য: সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মাত্র ৫% সুদে আমানত বা টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো সৎ ব্যবসায়ী যখন লোন বা ঋণ নিতে যাচ্ছেন, তাকে দিতে হচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত সুদ! এই বিশাল ফারাকের কারণে দেশের আসল ও সৎ ব্যবসায়ীরা কোনো ঋণ পাচ্ছেন না। ব্যাংকিং খাত দক্ষ হলে এই সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকতো।
  • ঋণখেলাপির অদ্ভুত নিয়ম: আগে নিয়ম ছিল, ৯০ দিন কোনো ঋণের কিস্তি বা সুদের টাকা না দিলে তাকে ঋণখেলাপি (Defaulter) বলা হতো। কিন্তু এখন অদ্ভুত নিয়মে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ বছর! অর্থাৎ, টানা এক বছর ব্যাংকের টাকা আটকে রাখলেও তাকে আর খেলাপি বলা হচ্ছে না। এই সংস্কৃতি ব্যাংকিং খাতকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দিচ্ছে।

২. ‘কোয়ালিটি অফ গ্রোথ’ এবং কাল্পনিক বাজেটের ফাঁদ

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘কোয়ালিটি অফ গ্রোথ’ (Quality of Growth) বলে একটা কথা আছে। আপনি যদি নতুন ফ্যাক্টরি বা উৎপাদনশীল খাতে টাকা লাগান, তবেই দেশের আসল প্রবৃদ্ধি বা গ্রোথ বাড়ে। কিন্তু তা না করে যদি শুধু শপিং মল আর বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বানানো হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে কোনো কাজে আসে না। এর ফলে উল্টো কেবল মুদ্রাস্ফীতি আর সুদের হারই বাড়ে।

রাজস্ব আদায়ের কাল্পনিক লক্ষ্যমাত্রা:

বিগত ১৫ বছরের ইতিহাস টানলে দেখা যায়, আমাদের দেশের রাজস্ব আদায়ের হার কোনোদিনই বাজেট লক্ষ্যমাত্রার ৮০-৮৪ শতাংশ ছুঁতে পারেনি, সর্বোচ্চ ছিল ৭০ শতাংশ। অথচ প্রতি বছর বাজেটে একটা আকাশকুসুম ও কাল্পনিক লক্ষ্যমাত্রা ধরে বাজেট তৈরি করা হয়! আর এই শেষ মুহূর্তের ঘাটতি মেটাতে সরকার তখন মরিয়া হয়ে ব্যাংক এবং বিদেশ থেকে ঋণ নেয়।

ঋণ নেওয়ার আত্মঘাতী নীতি: বৈদেশিক বাণিজ্যিক উৎস থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, কারণ এটি দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতির আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জিডিপির ৪০% ঋণ আর ২০% ডেট সার্ভিসিং নিয়ে দেশ যেভাবে চলছে, তাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ঋণ নেওয়া হবে চরম আত্মঘাতী। ঋণ নিতে হলে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর মতো দীর্ঘমেয়াদী সংস্থা থেকে নেওয়া উচিত, যেখানে সুদের হার মাত্র আধা বা এক পার্সেন্ট থাকে এবং শোধ করার জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়।

৩. দিনমজুরের আসল অর্থনীতি: বড় বাবুদের এসি রুমের বক্তৃতা

বড় বড় বাবুরা এসি রুমে বসে আয়ের সুষম বণ্টন নিয়ে কত বড় বড় বক্তৃতাই না দেন! কিন্তু বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা।

  • আসল রেশিও: একজন দিনমজুরের দৈনিক বেতন এবং বাজারের চালের দামের অনুপাতই হলো দেশের আসল অর্থনীতি। এই রেশিওটাই এখন ভেঙে পড়েছে।
  • টাকার সচলতা: আপনি যদি একজন কোটিপতির হাতে ১০,০০০ টাকা দেন, সে সেটা খরচ না করে ব্যাংকে রেখে দেবে। কিন্তু একজন গরিব মানুষকে যদি ১০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়া হয়, সে সাথে সাথে বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনবে। ফলে অর্থনীতি সচল হবে! অথচ প্রান্তিক মানুষের এই আর্থিক সহায়তার দিকেই নজর সবচেয়ে কম।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ: যোগ্য মানুষকে যোগ্য চেয়ারে দিন

বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচাতে হলে দলমত নির্বিশেষে একটাই মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—জ্ঞানী ও যোগ্য লোকদের সম্মান দিন এবং তাদের জ্ঞানের পরিধি অনুসারে সঠিক চেয়ারে বসার ব্যবস্থা করুন।

কয়লা মন্ত্রীকে যদি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষার অবস্থা কতটা নাজুক হবে তা আমরা সবাই জানি। তাই মুখ চিনে বা চাটুকারিতা দেখে মন্ত্রণালয় ভাগ না করে, কে রাগ করলো বা কে মনে কষ্ট পেলো—তা দেখার সময় এখন আর নেই। কারও মন রক্ষা করতে গেলে দেশ ও দশের বারোটা বেজে যাবে। দেশের এই অর্থনৈতিক সংকটে কেবল প্রকৃত বিশেষজ্ঞরা এবং তেলবাজিমুক্ত পাতি নেতামুক্ত নেতৃত্বই দেশকে সঠিক খাতে ফিরিয়ে আনতে পারে। জনগণের আশা, দেশের নেতৃত্ব এই চাটুকারদের দূরে রেখে দেশপ্রেমিক জ্ঞানীদের কাজে লাগাবেন।

দেশের অর্থনীতি, বাজেট বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির যেকোনো নিখুঁত ও ১০০% সত্যতা-যাচাইকৃত কন্টেন্ট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।

৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ