ইতিহাস

বিদ্যুৎ আবিষ্কারের ইতিহাস: কে কখন বিদ্যুতের প্রধান ধারণাগুলো উন্মোচন করেন?
বিদ্যুৎ

নিউজ ডেস্ক

December 8, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বিদ্যুৎ (Electricity) কোনো একক আবিষ্কার নয়; বরং এর ধারণা, সংজ্ঞা এবং আধুনিক ব্যবহার কয়েক শতকের গবেষণার ফল। ইল মাছের বৈদ্যুতিক শক সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল অনেক আগে থেকেই। তবে বিদ্যুৎকে বিজ্ঞানের কাঠামোর মধ্যে এনে এর ব্যবহারযোগ্য রূপ দিতে একাধিক বিজ্ঞানীর অবদান রয়েছে।

বিদ্যুৎ এবং বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও ধারণা প্রদানের ইতিহাস নিচে তুলে ধরা হলো:

বিজ্ঞানী/ক্ষেত্রআবিষ্কার/ধারণাসাল (আনুমানিক)
ইল মাছ (Eel)মানুষ সবার আগে ইল মাছের শক সম্পর্কে ধারণা রাখত (প্রাকৃতিক বিদ্যুৎ)।প্রাচীনকাল
উইলিয়াম গিলবার্টতিনি একমুখী বিদ্যুৎ (Static Electricity) আবিষ্কার করেন এবং ‘ইলেকট্রিকাস’ (Electricus) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন।১৫৭০
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনতিনি বজ্রপাত বা মেঘের বিদ্যুৎ নিয়ে পরীক্ষা চালান এবং বিদ্যুৎ সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা প্রদান করেন।১৭০০-এর দশক
জর্জ সাইমন ওহমকারেন্ট, ভোল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন (যা ওহমের সূত্র নামে পরিচিত)।১৮২৭
মাইকেল ফ্যারাডেতিনি তড়িৎ-চুম্বকীয় আবেশ (Electromagnetic Induction) আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে কারেন্ট, ভোল্টেজ এবং রেজিস্ট্যান্সের মধ্যে সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করা সহজ হয়।১৮৩০-এর দশক
টমাস আলভা এডিসনতিনি সর্বপ্রথম কার্যকর ও বাণিজ্যিকভাবে সফল বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করেন।১৮৭৯
নিকোলা টেসলাতিনি আধুনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ভিত্তি, অর্থাৎ এসি বিদ্যুৎ (Alternating Current) আবিষ্কার করেন।১৮৮০-এর দশক

সুতরাং, বিদ্যুৎকে শক্তি হিসেবে প্রাচীনকাল থেকেই জানা গেলেও, আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্ভব হয়েছে মাইকেল ফ্যারাডে, জর্জ সাইমন ওহম, টমাস আলভা এডিসন এবং বিশেষ করে নিকোলা টেসলার যুগান্তকারী কাজের মাধ্যমে।


সূত্র (Sources)

  • বিদ্যুতের ইতিহাস সংক্রান্ত বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

মুসলিম উম্মাহর সংকট

নিউজ ডেস্ক

April 16, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা এবং শান্তির ধর্ম। একজন মুসলিম হিসেবে আমরা আমাদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট এবং মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে অনেক ক্ষেত্রে আমাদের লজ্জিত ও ব্যর্থ মনে হয়। ইসলামের মূল শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে আমরা আজ যে সংকটের মুখোমুখি, তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো।

১. ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ

বর্তমানে ইসলামকে যার যার সুবিধামতো ব্যাখ্যা করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ‘একাধিক বিবাহ’ নিয়ে যেভাবে অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা অত্যন্ত বিব্রতকর। ইসলামে চার বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর পেছনে যে কঠিন শর্ত ও ইনসাফের (ন্যায়বিচার) বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে অমুসলিম বিশ্ব ও নওমুসলিমদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে যে, মুসলিম পুরুষ মানেই কেবল একাধিক বিয়ে।

২. আত্মপক্ষ সমর্থনের দায়ভার ও ‘ইসলামোফোবিয়া’

বিশ্বের কোথাও কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায়ভার ১.৬ বিলিয়ন মুসলিমের ওপর এসে পড়ে। অনলাইনে বা অফলাইনে একজন মুসলিমকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হয় যে সে ‘জঙ্গি’ নয়। হিজাব পরিধান করা যে একজন নারীর স্বাধীন ইচ্ছা হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকুও আমরা বিশ্বকে বোঝাতে ব্যর্থ হচ্ছি। নিজেদের সঠিক অবস্থান তুলে ধরতে না পারা আমাদের এক বড় ব্যর্থতা।

৩. অনৈক্য ও পরশ্রীকাতরতা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব আজ প্রকট। রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো বড় মানবিক সংকটে যখন কোনো শক্তিশালী মুসলিম দেশ নয়, বরং গাম্বিয়ার মতো একটি ছোট দেশ আন্তর্জাতিক আদালতে লড়াই করে, তখন আমাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমরা অন্যের ভুল খুঁজতে যতটা পটু, নিজেদের সংশোধনে ততটাই উদাসীন।

৪. ভূ-রাজনৈতিক স্ববিরোধিতা

মুসলিম বিশ্বের তথাকথিত ‘মোড়ল’ রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা অনেক সময় সাধারণ মুসলমানদের ব্যথিত করে। ইয়েমেনের মানবিক বিপর্যয়, ফিলিস্তিন ইস্যুতে রহস্যজনক নীরবতা কিংবা বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের ওপর চলা অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়া—আমাদের লজ্জিত করে। ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি বয়ে আনছে।

৫. দেশপ্রেম ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনীহা

‘দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ’—এই শিক্ষা ভুলে গিয়ে অনেক মুসলিম দেশ আজ অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এছাড়া সোনালী অতীতে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে মুসলিম মনীষীদের যে কালজয়ী অবদান ছিল, তা আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের আবিষ্কার ও অবদান সম্পর্কে নিজেরাই জানি না, ফলে পশ্চিমাদের চোখে আমরা আজ একটি ‘পিছিয়ে পড়া’ জাতিতে পরিণত হয়েছি।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামের সৌন্দর্য তখনই বিকশিত হবে যখন আমাদের কথায় ও কাজে মিল থাকবে। আমরা যদি অন্যের দোষ না খুঁজে নিজেদের চরিত্র ও জ্ঞান দিয়ে বিশ্ব জয় করতে পারি, তবেই আমাদের হৃত গৌরব ফিরে পাওয়া সম্ভব। কেবল ধর্মের গান গেয়ে নয়, বরং ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


এক নজরে বর্তমান মুসলিম বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জসমূহ:

চ্যালেঞ্জবর্তমান অবস্থা
সামাজিকইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা ও ব্যক্তিগত নৈতিকতার অভাব।
রাজনৈতিকমুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতি।
সাংস্কৃতিকমিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় ব্যর্থতা।
শিক্ষাগতআধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা।

তথ্যসূত্র (Source):

  • আল কুরআন ও সহীহ সুন্নাহ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ সংক্রান্ত বিধান।
  • আল জাজিরা ও রয়টার্স: ইয়েমেন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন।
  • বিডিনিউজ২৪: মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সরলা দেবী চৌধুরাণী

নিউজ ডেস্ক

April 16, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

বিভাগ: ইতিহাস ও নারী জাগরণ

উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে যখন বাঙালি নারীদের পরিচয় কেবল অন্তঃপুরের আড়ালে সীমাবদ্ধ ছিল, তখন এক নির্ভীক নারী নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তৈরি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র ইতিহাস। তিনি সরলা দেবী চৌধুরাণী—যিনি একাধারে সাহিত্যিক, সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ এবং ভারতের প্রথম দিককার নারী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব।

১. জন্ম ও জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির প্রভাব

সরলা দেবীর জন্ম ১৮৭২ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। তাঁর পিতা জানকীনাথ ঘোষাল ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং মাতা স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অগ্রজ প্রখ্যাত সাহিত্যিক। সম্পর্কে কবিগুরু ছিলেন সরলা দেবীর ছোট মামা। ঠাকুরবাড়ির মুক্ত সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক আবহে বড় হওয়া সরলা দেবীর জীবনে ‘রবি মামা’র প্রভাব ছিল অপরিসীম।

২. শিক্ষার আলোকবর্তিকা ও ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’

অদম্য মেধাবী সরলা দেবী ১৮৮৬ সালে এন্ট্রান্স পাস করে বেথুন কলেজে ভর্তি হন। ১৮৯০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বি.এ. পাস করেন। সেই সময় মেয়েদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় তিনি লাভ করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘পদ্মাবতী স্বর্ণপদক’। সে আমলের নারীদের জন্য এটি ছিল এক অভাবনীয় মাইলফলক।

৩. স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই ও ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’

তৎকালীন উচ্চবিত্ত সমাজের নারীরা জীবিকা অর্জনের কথা চিন্তা না করলেও সরলা দেবী ছিলেন ব্যতিক্রম। পরিবারের অমত সত্ত্বেও তিনি মহীশূরের মহারাণী গার্লস কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। স্বদেশী পণ্য প্রসারের লক্ষ্যে ১৯০৪ সালে তিনি বৌবাজারে স্থাপন করেন ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’। এটি কেবল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং স্বদেশী আন্দোলনের একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক স্তম্ভ ছিল।

৪. বন্দেমাতরমের সুরকার ও বিপ্লবী চেতনা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম স্তবকের সুর দিয়েছিলেন সরলা দেবী চৌধুরাণী। এটি তাঁর দেশপ্রেমের এক অনন্য স্বাক্ষর। এছাড়াও যুবকদের আত্মরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’ ও ‘বীরাষ্টমী ব্রত’ পালনের সূচনা করেন। তরবারি চালনা ও লাঠি খেলার প্রচলনের মাধ্যমে তিনি বাঙালি যুবকদের মধ্যে বীরত্ব জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন।

৫. ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল ও নারী আন্দোলন

১৯১০ সালে এলাহাবাদে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল’। অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এটিই ছিল ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় নারী সংগঠন। দিল্লি, কানপুর, ইলাহাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এর শাখা ছড়িয়ে ছিল, যার মাধ্যমে নারীদের হাতের কাজ ও শিক্ষা বিস্তারের কাজ চলত।

৬. মহাত্মা গান্ধী ও ব্যক্তিগত জীবন

১৯০৫ সালে তিনি বিপ্লবী ও সাংবাদিক রামভুজ দত্ত চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পাঞ্জাবে চলে যান। সেখানে তিনি তাঁর স্বামীর সাথে ‘হিন্দুস্তান’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর কাছে দীক্ষা নিয়ে আধ্যাত্মিক পথে চলে যান।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: সরলা দেবী কেবল ঠাকুরবাড়ির একজন নক্ষত্র ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন নারীবাদ ও স্বনির্ভরতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর আত্মজীবনী ‘জীবনের ঝরাপাতা’ আজও গবেষকদের কাছে সেই সময়ের ইতিহাসের আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।


এক নজরে সরলা দেবী চৌধুরাণী:

বিষয়তথ্য
জন্ম৯ সেপ্টেম্বর ১৮৭২।
প্রধান পরিচয়সাহিত্যিক, সুরকার ও সমাজ সংস্কারক।
সুরারোপিত গানবন্দেমাতরম (প্রথম স্তবক)।
সংগঠনলক্ষ্মী ভাণ্ডার, ভারত স্ত্রী মহামণ্ডল।
বিখ্যাত বইজীবনের ঝরাপাতা (আত্মজীবনী), নববর্ষের স্বপ্ন।
মৃত্যু১৮ আগস্ট ১৯৪৫।

তথ্যসূত্র (Source):

  • উইকিপিডিয়া: সরলা দেবী চৌধুরাণী – জীবনী।
  • বাংলাপিডিয়া: চৌধুরানী, সরলাদেবী – জাতীয় জ্ঞানকোষ।
  • অনুশীলন: সরলা দেবী ও ঠাকুরবাড়ির ইতিহাস।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

প্রথম ঘড়ি নির্মাতা

নিউজ ডেস্ক

April 15, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: বর্তমানের স্মার্টফোনের যুগে আমরা এক সেকেন্ডের হাজার ভাগের এক ভাগও নিখুঁতভাবে জানি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, যে মানুষটি প্রথম ঘড়ি বানিয়েছিলেন, তিনি কীভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে তখন ঠিক কটা বাজে? ১৯০০ সালের সেই সাধারণ যান্ত্রিক ঘড়ি থেকে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট টাইম-ট্র্যাকিং সিস্টেম—সময়ের হিসাবের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক এক নিখুঁত গাণিতিক ‘পাইপলাইন’।

১৯০০-২০২৬: সময়ের হিসাব ও সূর্যঘড়ির ঐতিহ্য

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে মানুষের কাছে ঘড়ি ছিল এক আভিজাত্যের প্রতীক। কিন্তু তারও আগে, আদিকাল থেকে মানুষ সময় নির্ণয় করত সূর্যের অবস্থান দেখে। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি যুগে সময়ের নিখুঁত হিসাবের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। আগে ছিল সরাসরি সৌরঘড়ি, যা সূর্যের ছায়ার ওপর ভিত্তি করে চলত। ২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুগে এসেও আমরা সেই আদিম ‘সিস্টেম’ বা সূর্যের নিয়মকেই অনুসরণ করছি।

প্রথম ঘড়ি নির্মাতা যেভাবে সময় জানতেন (গাণিতিক বিশ্লেষণ)

প্রথম ঘড়ি নির্মাতার জন্য সময় নির্ধারণ করা খুব একটা জটিল কাজ ছিল না, যদি তিনি গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে দক্ষ হতেন। এর মূল প্রক্রিয়াটি ছিল নিম্নরূপ:

  • মধ্যগগনের সূর্য: যখন সূর্য ঠিক মাঝ আকাশে থাকত, তখন তাকে দুপুর ১২টা ধরে দিনকে ২৪ ভাগে বিভক্ত করা হতো।
  • পৃথিবীর ঘূর্ণন ও ডিগ্রি: পৃথিবী বৃত্তাকার এবং এটি নিজ অক্ষে ঘুরছে। একবার ঘুরে আসা মানে ৩৬০ ডিগ্রি পথ অতিক্রম করা।
  • ঘণ্টার হিসাব: এই ৩৬০ ডিগ্রিকে ২৪ ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায় ১৫ ডিগ্রি। অর্থাৎ, প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবী প্রায় ১৫ ডিগ্রি পথ অতিক্রম করে।
  • ৩০ ডিগ্রির ম্যাজিক: আমরা সচরাচর যে ১২ ঘণ্টার ঘড়ি ব্যবহার করি, সেখানে প্রতি ঘণ্টার ব্যবধান হলো ৩০ ডিগ্রি (৩৬০/১২=৩০)।

এই ধ্রুবক গতি এবং মহাজাগতিক নিয়ম বিবেচনা করেই ঘড়ি বানানো হয়েছে। অর্থাৎ, ঘড়ি সময় তৈরি করেনি, বরং সময়ের যে প্রাকৃতিক ‘পাইপলাইন’ আগে থেকেই ছিল, ঘড়ি কেবল তাকে একটি ফ্রেমের মধ্যে নিয়ে এসেছে।

২০২৬-এর স্মার্ট টাইম ও কৌশলগত ইনসাইট

গুগল অ্যানালাইসিস এবং ২০২৬ সালের টেকনিক্যাল ট্রেন্ড অনুযায়ী, বর্তমানে অ্যাটমিক ঘড়ির মাধ্যমে সময়ের হিসাব রাখা হয় যা কয়েক কোটি বছরেও এক সেকেন্ড ভুল করে না। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ জীবনধারা আজ ২০২৬ সালের এই ন্যানো-সেকেন্ডের যুগে এসে দাঁড়িয়েছে। সফল মানুষের আসল ‘সিস্টেম’ হলো সময়ের এই পাইপলাইনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। গাধার মতো সময়ের পেছনে না ছুটে, সময়ের নিয়ম বুঝে কাজ করাই হলো ২০২৬ সালের প্রকৃত স্মার্টনেস।


উপসংহার: প্রথম ঘড়ি নির্মাতা কোনো জাদুকর ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ পর্যবেক্ষক। ১৯০০ সালের সেই প্রাচীন ধ্যান-ধারণা কাটিয়ে ২০২৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশে আমরা আজ সময়ের যে নিখুঁত রূপ দেখি, তার ভিত্তি সেই ৩৬০ ডিগ্রির ঘূর্ণন। সময়ের সঠিক ব্যবহারই পারে আমাদের জীবনকে একটি সফল পাইপলাইনে নিয়ে যেতে।

সূত্র: হিস্টোরি অফ হোরোলজি (Horology), জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত আর্কাইভ ২০২৬, রয়্যাল গ্রিনউইচ অবজারভেটরি রিপোর্ট, প্রথম আলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পাতা এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল সায়েন্স ইনসাইট।

৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ