সেলিব্রিটি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ভূমিকা: এক অনন্য নক্ষত্রের আগমন
বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে যে ক’জন শিল্পী তাদের বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন পাহাড়ী সান্যাল। আজ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, সেই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতার জন্মদিন। প্লে-ব্যাক প্রযুক্তির অভাবনীয় যুগে, যখন অভিনেতাকেই ক্যামেরার সামনে সরাসরি গান গাইতে হতো, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দে, কাননদেবী, সায়গল বা পঙ্কজ মল্লিকদের সমগোত্রীয় এক গায়ক-অভিনেতা হিসেবে তাঁর আগমন ঘটেছিল। যদিও প্রযুক্তিগত ত্রুটি (তাঁর মিহি কণ্ঠস্বর তৎকালীন শব্দ রেকর্ডিং পদ্ধতির অনুসারী ছিল না) তাঁকে সায়গলের জনপ্রিয়তার দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও দরাজ অভিনয় তাঁকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অপরিহার্য আসনে বসিয়েছে।
জন্ম, শৈশব ও মজলিশি মেজাজ
পাহাড়ী সান্যালের জন্মস্থান নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, তাঁর খুড়তুতো ভাই ব্রতীন্দ্রনাথ সান্যালের তথ্য মতে, তাঁর জন্ম সিমলার কাছে কসৌলি শহরে। বাবা নৃপেন্দ্রনাথ সেখানে আর্মি ক্যাম্পে চাকরি করতেন। পাহাড়ে জন্ম বলেই তাঁর নাম হয়েছিল ‘পাহাড়ী’— যার আসল নাম ছিল নগেন্দ্রনাথ সান্যাল।
আদি নিবাস নবদ্বীপের মেরতলা গ্রামে হলেও, সিপাই বিদ্রোহের পরে তাঁদের পরিবার অযোধ্যার রাজধানী লখনউ শহরে প্রবাসী হন। এই লখনউয়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ, বিশেষত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের আমলের হিন্দুস্থানি সাংগীতিক পরিবেশ, মুজরো, মজলিশ ও বাঈজি আসর পাহাড়ীর সঙ্গীতবোধ ও মজলিশি মেজাজ গড়ে তুলেছিল।
- গুরুদের সান্নিধ্য: উস্তাদ মহম্মদ হোসেন, ছোটে মুন্না খান, নাসির খান এবং এহমদ খানের কাছে তিনি সঙ্গীত তালিম নিয়েছিলেন।
- আকর্ষণীয় ঘটনা: তাঁর রেওয়াজ শুনে মুগ্ধ হয়ে বিনা আমন্ত্রণে তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন স্বয়ং ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সরকারি পলিটেকনিক কলেজ এবং একই সঙ্গে ‘স্যর উইলিয়াম মেরিস কলেজ অব হিন্দুস্থানি মিউজিক’-এ ভর্তি হন।
দুই মৃত্যুশোক ও পিতৃতুল্য অভিভাবকত্ব
মাত্র বারো বছর বয়সে পাহাড়ী সান্যাল তাঁর পিতাকে হারান, যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজ ফৌজের হয়ে ‘মেসোপটেমিয়া ক্যাম্পেন’ যুদ্ধে গিয়ে বন্দি হন এবং সেখানেই মারা যান। এই সময়ে তাঁর জীবনে আসেন পিতৃতুল্য কবি অতুলপ্রসাদ সেন।
- অতুলপ্রসাদের প্রভাব: বারো বছর বয়স থেকে অতুলপ্রসাদের মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ ষোলো বছর তিনি অতুলপ্রসাদ ও তাঁর স্ত্রী হেমকুসুমের অন্তরঙ্গ ছিলেন। অতুলপ্রসাদ যুবক পাহাড়ীর মনের অবস্থা বুঝে তাঁকে শিখিয়ে দিতেন তাঁর নতুন গান, ‘জল কহে চল/ মোর সাথে চল/তোর আঁখিজল হবে না বিফল’।
- প্রথম প্রেম ও বিবাহ: মেরিস কলেজে তাঁর পরিচয় হয় প্রথম প্রেমিকা ও স্ত্রী প্রতিভা সেনগুপ্তর সঙ্গে। ব্রাহ্ম হওয়ার কারণে সত্যেন্দ্রনাথের মতো গোঁড়া পরিবার প্রতিভা দেবীকে মেনে নেয়নি এবং পাহাড়ী সান্যালকে বংশচ্যূত হতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিয়ের কয়েক বছর পর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় প্রতিভাদেবীর।
প্রতিভা ও অতুলপ্রসাদের (১৯৩৪ সালে মৃত্যু) মৃত্যুশোক পাহাড়ীর জীবনে এক প্রগাঢ় শূন্যতাবোধ এনেছিল, যা হয়তো অবচেতনে তাঁকে লখনউয়ের গানের মজলিশ ছেড়ে টালিগঞ্জের নিউ থিয়েটার্সের শ্যুটিং ফ্লোরে নিয়ে আসে। এই শূন্যতাবোধ নিয়েই তিনি পরে লিখেছিলেন, “একসময়ে গান-বাজনার লোক ছিলেন বলে ওঁর স্বভাবের মধ্যে, আচারে-ব্যবহারে মজলিশি ঢং এসে গিয়েছিল…”
নিউ থিয়েটার্স ও গায়ক-অভিনেতার নতুন জীবন (১৯৩০-এর দশক)
লখনউ ছেড়ে পাহাড়ী সান্যাল রামপুরের রাজার রাজসভায় বা দেওয়ারের মহারাজার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার পর, ১৯৩৩-’৩৪ সালের দিকে নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেন।
- প্রথম কাজ: শোনা যায়, তিনি প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত ‘রূপলেখা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর হিন্দি ভার্সান ‘মহব্বত কি কাসুত’-এ অভিনয় করেন। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ইহুদি কি লড়কি’ (পরিচালক প্রেমাঙ্কুর আতর্থী)।
- সহকর্মী: সহকর্মী হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন সায়গল, পঙ্কজ মল্লিক, প্রমথেশ বড়ুয়া, কাননদেবী, পৃথ্বীরাজ কপূর-এর মতো দিকপালদের।
- জনপ্রিয়তা: অভিনয় নয়, প্রথম দিকের ছবিতে তিনি গান গাওয়ার বিষয়ে বেশি সচেতন ছিলেন। তবে, তিনের দশকেই তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ভালো উর্দু বলতে পারতেন বলে তিনি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভার্সানের ছবিতেই (যেমন: ‘দেবদাস’, ‘ভাগ্যচক্র’) কাজ করতেন।
চারের দশকের গোড়ায় তিনি পৃথ্বীরাজ কপূরের সঙ্গে মুম্বই পাড়ি দেন এবং দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন অভিনেত্রী মীরা বসুকে।
চরিত্রাভিনয়ের কিংবদন্তি (পঞ্চাশের দশক থেকে শেষ জীবন)
পাঁচের দশকে কলকাতায় ফিরে আসার পর থেকে পাহাড়ী সান্যাল প্রধানত চরিত্রাভিনয়ের দিকে সরে যান। এই পর্বে তিনি উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতাদের সঙ্গে চুটিয়ে কাজ করেন।
- অবিস্মরণীয় চরিত্রসমূহ:
- ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে ভোলার নয় তাঁর অভিনয়।
- সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবিতে আত্মভোলা পক্ষীবিশারদ জগদীশ চরিত্রটি চিরস্মরণীয়।
- ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিতে গাওয়া অতুলপ্রসাদের গানখানি।
- উত্তম-সুচিত্রা জুটির বহু ছবিতে তিনি পিতা বা পিতৃতুল্য চরিত্রে অভিনয় করেন (যেমন: ‘ইন্দ্রাণী’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘শাপমোচন’)।
- ব্যক্তিগত জীবন ও উদারতা: তিনি প্রচণ্ড আড্ডাবাজ, ফুর্তিবাজ এবং ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় তাঁর এই মজলিশি মেজাজ ও দরাজ মনের কথা স্মরণ করেন। অভিনেত্রী অলকানন্দা রায় জানিয়েছেন, লখনউয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল গভীর— তিনি লখনউ থেকে জরদা পান আনাতেন এবং পানাসক্ত ছিলেন।
- উত্তম কুমারের ঋণ: জীবনের শেষ দিকে আর্থিক কষ্টের কারণে তিনি নাটক (‘আসামী হাজির’) মঞ্চেও অভিনয় করতে বাধ্য হন। সাংবাদিক রবি বসুর লেখায় এই কষ্টকর সময়ের কথা উঠে এসেছে। উত্তমকুমার তাঁর এই ‘পাহাড়ীদা’কে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তা বোঝা যায়, যখন তিনি পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়কে অনুরোধ করে ‘নতুন জীবন’ ছবিতে পাহাড়ী সান্যালকে একটি রোল দেন। ফ্লপমাস্টার উত্তমকুমার যে সুপারস্টার হতে পারে, তা পাহাড়ী সান্যালই প্রথম বুঝেছিলেন, যা তিনি ‘বসু পরিবার’ ছবিতে নির্মল দে-কে বলেছিলেন।
মঞ্চে অভিনয় চলাকালীন বুকে ব্যথা অনুভব করার পর, ১৯৭৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সেরিব্রাল স্ট্রোকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উত্তমকুমারের ভাষায়, “পাহাড়ীদা ছিলেন রসিক বন্ধু আবার অনেকসময় আমার অভিভাবকও।”
আজ তাঁর জন্মদিনে, এই কিংবদন্তী শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ।
সূত্র, বিশ্লেষণ এবং মেটা ডেটা
সূত্র: ১. ব্রতীন্দ্রনাথ সান্যালের প্রদত্ত তথ্য ও সাক্ষাৎকার। ২. পাহাড়ী সান্যালের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘মানুষ অতুলপ্রসাদ’। ৩. সন্দীপ রায়, নবনীতা দেবসেন, অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় ও অলকানন্দা রায়ের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। ৪. রবি বসুর সাংবাদিক প্রতিবেদন। ৫. উত্তমকুমারের স্মৃতিতর্পণ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
বিভাগ (Category): বিনোদন / বলিউড
প্রকাশের তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তথ্যসূত্র (Sources): টাইমস অব ইন্ডিয়া, উইকিপিডিয়া, বলিউড সংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট
বলিউডে অভিনেত্রীদের সাফল্য যেমন রঙিন ও জমকালো, তেমনই তাঁদের ক্যারিয়ারে বিতর্কের ছায়াও কম নয়। নব্বইয়ের দশকের আন্ডারওয়ার্ল্ড কানেকশন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্য—বিভিন্ন যুগে একাধিক অভিনেত্রী তীব্র বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।

মন্দাকিনী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড বিতর্কের কালো ছায়া
নব্বইয়ের দশকে বলিউড এবং মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের মধ্যকার অন্ধকার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় এবং আলোচিত ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হলো ‘মন্দাকিনী-দাউদ ইব্রাহিম বিতর্ক’। ১৯৮৫ সালে রাজ কাপুরের কালজয়ী সিনেমা ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি‘ দিয়ে রাতারাতি আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি পাওয়া অভিনেত্রী মন্দাকিনীর ক্যারিয়ার এই একটি বিতর্কের কালো ছায়ায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
এই হাই-প্রোফাইল বিতর্কের মূল ঘটনাপ্রবাহ ও তার নির্মম পরিণতি নিচে আলোচনা করা হলো:
১. শারজার সেই একটি ছবি ও তোলপাড় (১৯৯৪-৯৫)
এই চর্চিত বিতর্কের মূল সূত্রপাত ঘটেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন। স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে বসা আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন ও ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের ঠিক পাশে বসা মন্দাকিনীর একটি ছবি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়।
- এই একটি ছবি রাতারাতি ভারতের গণমাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করে।
- চারিদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, দুবাইয়ের রাজকীয় বাংলোয় মন্দাকিনী ও দাউদ একসাথে থাকছেন এবং ডনের ক্ষমতার জোরেই তিনি বলিউডে কাজ পাচ্ছেন। এমনকি তাদের সন্তান হওয়ার গুজবও রটেছিল।
২. আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়ায় ক্যারিয়ারের পতন
ছবিটি ফাঁসের পর বলিউডের সমীকরণ মন্দাকিনীর জন্য পুরোপুরি বদলে যায়।
- প্রযোজক-পরিচালকদের অনাগ্রহ: আন্ডারওয়ার্ল্ড এবং পুলিশের ঝামেলার ভয়ে প্রথম সারির বড় প্রযোজক ও পরিচালকেরা মন্দাকিনীকে সিনেমায় কাস্ট করা বন্ধ করে দেন।
- সহ-অভিনেতাদের আতঙ্ক: গুঞ্জন ছিল যে, মন্দাকিনীকে সিনেমায় প্রধান চরিত্র না দেওয়ায় দাউদ ইব্রাহিম এক চলচ্চিত্র নির্মাতাকে হুমকি ও হত্যার ছক কষেছিলেন। এমন এক ভীতি তৈরি হয়েছিল যে, সহ-অভিনেতারাও (যেমন মিঠুন চক্রবর্তী) তাঁর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে ভয় পাচ্ছিলেন।
- ১৯৯৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোরদার‘ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ সিনেমা, যার পর তিনি রূপালী পর্দা থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যান।
৩. ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ ও চূড়ান্ত বিচ্ছেদ
১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণের মূল মাস্টারমাইন্ড বা সন্দেহভাজন হিসেবে দাউদ ইব্রাহিমের নাম আসার পর এই বিতর্ক আইনি ও জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে রূপ নেয়। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো (সিবিআই) আন্ডারওয়ার্ল্ডের আর্থিক লেনদেনের খোঁজে মন্দাকিনীকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধমূলক তথ্য বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সামাজিক ও পেশাগতভাবে তাঁর চারপাশের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
৪. মন্দাকিনীর আত্মপক্ষ সমর্থন ও নতুন জীবন
মন্দাকিনী সবসময়ই দাউদের সাথে কোনো রোমান্টিক বা অবৈধ সম্পর্কের কথা কঠোরভাবে অস্বীকার করে এসেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান:
“শুধুমাত্র সামাজিক অনুষ্ঠানেই দাউদের সাথে তাঁর দেখা হয়েছিল এবং সম্পর্কের দাবিগুলি ভিত্তিহীন। আমি চাই না মানুষ দাউদের সঙ্গে আমার নাম জড়াক।” —
বলিউডের এই কালো অধ্যায় এবং গ্ল্যামারের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালে মন্দাকিনী সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জীবন বেছে নেন। তিনি একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ও চিকিৎসক ড. কাগয়ুর রিনপোচে ঠাকুরকে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ে তিব্বতি ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্র ও যোগব্যায়াম শিক্ষার মাধ্যমে একটি শান্ত ও সাধারণ জীবন অতিবাহিত করছেন।
আধুনিক বলিউডে শীর্ষ সমালোচিত অভিনেত্রীদের তালিকা

আধুনিক বলিউডে (বিশেষ করে গত এক দশকের প্রেক্ষাপটে) তীব্র সমালোচনা, বিতর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ট্রোলের মুখোমুখি হওয়া শীর্ষ অভিনেত্রীদের তালিকা নিচে তাদের সমালোচিত হওয়ার মূল কারণসহ উল্লেখ করা হলো:
- কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut):
- মূল কারণ: তিনি আধুনিক বলিউডের সবচেয়ে বিতর্কিত অভিনেত্রী। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশকে “মুভি মাফিয়া” আখ্যা দেওয়া, করণ জোহরকে “স্বজনপোষণের পতাকাবাহী” বলা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানিমূলক মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন।
- আলিয়া ভাট (Alia Bhatt):
- মূল কারণ: তারকা সন্তান (মহেশ ভাটের মেয়ে) হওয়ার কারণে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি “নেপো কিড” বা স্বজনপোষণের (Nepotism) সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছেন। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর এই সমালোচনা তীব্র ক্ষোভে রূপ নেয়, যার ফলে তাঁর ‘সড়ক ২’ সিনেমার ট্রেলারটি ইউটিউবে অন্যতম সর্বোচ্চ ‘ডিজলাইক’ পাওয়া ভিডিওর রেকর্ড গড়ে।
- দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone):
- মূল কারণ: বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সংবেদনশীল বিষয়বস্তু ও পোশাক বিতর্কের কারণে তিনি বারবার বয়কট সংস্কৃতির মুখে পড়েছেন। ‘পদ্মাবত’ সিনেমায় ঐতিহাসিক চরিত্র ফুটিয়ে তোলা নিয়ে রাজপুত গোষ্ঠীর মৃত্যুর হুমকি এবং ‘পাঠান’ সিনেমার ‘বেশরম রং’ গানে গেরুয়া রঙের পোশাক পরা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষোভের মুখোমুখি হন তিনি।
- কারিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan):
- মূল কারণ: সাইফ আলী খানকে বিয়ে করার পর তাঁর দুই সন্তানের নাম (তৈমুর ও জাহাঙ্গীর) রাখা নিয়ে তীব্র সামাজিক ও ধর্মীয় ট্রোলিংয়ের শিকার হন। এছাড়া রামায়ণের ‘সীতা’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক দাবি করার গুঞ্জন ছড়ালে নেটিজেনরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করে।
- সানি লিওন (Sunny Leone):
- মূল কারণ: প্রাক্তন পর্ন তারকা হওয়ার অতীত পটভূমির কারণে বলিউডে মূলধারার অভিনয়ে আসার পর থেকেই তাঁকে রক্ষণশীল সমাজ ও দৃষ্টিভঙ্গিগত তীব্র কুসংস্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মিউজিক ভিডিওতে (যেমন ‘মধুবন’ গান) পারফর্ম করার সময় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার বয়কটের ডাক দেওয়া হয়।
- অনন্যা পাণ্ডে ও জাহ্নবী কাপুর (Ananya Panday & Janhvi Kapoor):
- মূল কারণ: এই নতুন প্রজন্মের অভিনেত্রীরা প্রধানত তাঁদের অভিনয় দক্ষতার ঘাটতি এবং “স্ট্রাগল” সংক্রান্ত অসংবেদনশীল মন্তব্য করার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার্বক্ষণিক ট্রোলিং ও স্বজনপোষণ বিতর্কের মুখোমুখি হন।
সমাপনী মূল্যায়ন
অতীত ও বর্তমানের বিতর্কের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অতীতে মন্দাকিনীর ঘটনা ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড ও ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা আজও আলোচনায় আসে। অন্যদিকে বর্তমান যুগে কঙ্গনা, আলিয়া বা দীপিকাদের মুখোমুখি হতে হয় সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং, স্বজনপোষণ বিতর্ক ও সামাজিক-রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: অপরাধ ও বিচার / চলচ্চিত্র অঙ্গন
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ০১:১৫ (বিএসটি)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ আদালত ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুর দীর্ঘ ৩০ বছর পর হত্যা মামলায় সবচেয়ে বড় অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ভোররাতে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মামলার ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন-কে গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

পরবর্তীতে তাঁকে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর বর্তমানে তাঁকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করছে সিআইডি।
১. মামলার চার্ট ও মূল আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ (পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হত্যা) ধারায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
[ সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের ভূমিকা ]
│
┌──────────────────────────────────┼──────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ মূল পরিকল্পনাকারী (Masterminds) ] [ পেশাদার আঘাতকারী চক্র ] [ আলামত লোপাট ও সহায়তা ]
• সামিরা হক (স্ত্রী) • আশরাফুল হক ডন (৪ নম্বর আসামি) • লতিফা হক লুসি (শাশুড়ি/মধ্যস্থ)
• আজিজ মোহাম্মদ ভাই (ব্যবসায়ী) • ডেভিড, জাভেদ ও ফারুক • রাবেয়া সুলতানা রুবি (বিউটি পার্লার)
• রেজভি আহমেদ ফরহাদ • আব্দুস ছাত্তার ও সাজু
প্রধান প্রধান চাঞ্চল্যকর অভিযোগসমূহ:

- ১২ লাখ টাকার কিলিং কন্ট্রাক্ট: রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ও অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই এবং সামিরা হক যৌথভাবে ডন ও তার সহযোগীদের ১২ লাখ টাকার চুক্তি দিয়েছিলেন।
- আক্রোশ ও হোটেল সোনারগাঁও-এর ঘটনা: সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের পাশাপাশি মৃত্যুর কিছুদিন আগে সোনারগাঁও হোটেলের এক পার্টিতে সামিরাকে আড়ালে নেওয়ার চেষ্টা করলে সালমান প্রকাশ্যে আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে চড় মারেন। এর জেরেই তীব্র আক্রোশ তৈরি হয়।
- ক্লোরোফর্ম ও বিষাক্ত ইনজেকশন: ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ তারিখে সালমান শাহর বাসায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে খুনিরা প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে তাঁকে অচেতন করে এবং পরবর্তীতে বিশেষ বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
- আত্মহত্যার নাটক ও ফ্যানের সাথে ঝুলানো: মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সিলিং ফ্যানে মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয় এবং সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও পরিবারকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
২. আসামিদের অপরাধভিত্তিক ভূমিকার তুলনামূলক তালিকা
| আসামি / পক্ষ | এজাহার অনুযায়ী ভূমিকা | বর্তমান আইনি অবস্থা |
| আশরাফুল হক ডন | শারীরিক শক্তি প্রয়োগ, হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও আলামত নষ্ট | গ্রেফতার (৯ আগস্ট ২০২৬), জামিন না মঞ্জুর ও সিআইডি হেফাজতে |
| সামিরা হক ও আজিজ ভাই | প্রধান পরিকল্পনাকারী, চুক্তি প্রদান ও অনৈতিক আক্রোশ | দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সিআইডির রেড অ্যালার্ট ও পলাতক |
| লতিফা হক লুসি | জামাতার প্রতি পারিবারিক আক্রোশ থেকে পেশাদার খুনিদের সাথে চুক্তি মধ্যস্থতা | পলাতক, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি |
| রাবেয়া সুলতানা রুবি | হত্যা সংঘটনে সহায়তা, ঘরের ভেতর থেকে আলামত দ্রুত সরিয়ে ফেলা | অভিযুক্ত আসামি (সাবেক লাইভ ভিডিওতে খুনের দাবি করেছিলেন) |
| রেজভি, ডেভিড ও ফারুক | জোরপূর্বক চেপে ধরা, বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ ও পাহারা দেওয়া | ১৬৪ ধারায় পূর্বে স্বীকারোক্তি ও আসামি |
৩. সিআইডি (CID)-র বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়রেখা
[ সিআইডির বর্তমান পদক্ষেপসমূহ ]
│
┌─────────────────────────────────┼─────────────────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ডনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ] [ সীমান্তে রেড অ্যালার্ট ] [ ৩০ আগস্টের ডেডলাইন ]
• জামিন নামঞ্জুরের পর ডনকে • সামিরা ও আজিজ ভাইসহ বাকি • আদালতের নির্দেশে আগামী ৩০ আগস্টের
মুখোমুখি করে তথ্য যাচাই। ১০ জনের দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা। মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট পেশ।
৪. লন্ডন থেকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর ক্ষোভ ও দাবি

অভিনেতা ডন গ্রেফতারের খবরে লন্ডন থেকে গভীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী:
- “প্রকৃতির নিয়মে ডন ধরা পড়েছে”: নীলা চৌধুরী বলেন, “সালমানকে আত্মহত্যা নয়, সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ডন আমার ছেলের মৃত্যুর পর তার নামে অপবাদ দিয়ে আমাকে অপমান করেছিল, আজ স্রষ্টার বিচারে সে ধরা পড়েছে।”
- সরকারের প্রতি আলটিমেটাম: ১৫ আগস্ট লন্ডনে ভক্তদের মানববন্ধনে যুক্ত হয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, ডন গ্রেফতার কেবল শুরু; সামিরা হক বা আজিজ মোহাম্মদ ভাই যেন কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন। তাঁরা পালালে তার পুরো দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।
- ৩০ আগস্ট নিরপেক্ষ চার্জশিটের দাবি: তিনি আকুতি জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে তিনি একমাত্র বিচারের আশায় বেঁচে আছেন। সিআইডি যেন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন পেশ করে।
শেষ কথা:
১৯৯৭ সালের সিআইডি রিপোর্ট, ২০১৪ সালের বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং ২০২০ সালের পিবিআই রিপোর্ট—তিনটি সংস্থাই পূর্বে যেটিকে ‘অপমৃত্যু’ বলে দাবি করেছিল, আদালত তা বাতিল করে মামলাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা মামলা’ (৩০২ ধারা) হিসেবে চালুর নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এসেছে। ৩০ আগস্ট সিআইডি আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই এখন পুরো দেশের নজর।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শাহরুখ খানকে বলিউডের “বাদশা” বা “কিং খান” বলা হয় তাঁর অসাধারণ অভিনয়জীবন, বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের ওপর তাঁর বিশাল অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে।

১. বিশ্বব্যাপী আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা
- গ্লোবাল আইকন: কেবল ভারত বা এশিয়ায় নয়; মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকাতেও তাঁর বিশাল ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
- আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: খ্যাতনামা মার্কিন মিডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস তাঁকে “বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুভি স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছিল।
২. বক্স অফিস রেকর্ড ও ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
- আইকনিক রোমান্টিক রাজত্ব: ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, কুছ কুছ হোতা হ্যায় এবং কাভি খুশি কাভি গাম-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে তিনি একক অধিপত্য বিস্তার করেন।
- ঐতিহাসিক ব্যাক-টু-ব্যাক হিটস: চার বছরের বিরতি কাটিয়ে ২০২৩ সালে তিনি পরপর দুটি ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি আয়ের ব্লকবাস্টার (পাঠান ও জওয়ান) উপহার দিয়ে নিজের বক্স অফিস শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করেন।
৩. চলচ্চিত্রের বাইরে অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য
- রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট: তিনি ভারতের অন্যতম শীর্ষ ও সফল ভিএফএক্স (VFX) স্টুডিও এবং প্রোডাকশন হাউসের মালিক।
- আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট লিগ আইপিএলের অন্যতম সফল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী।
৪. শূন্য থেকে শীর্ষের গল্প
বলিউডে কোনো পারিবারিক পরিচিতি বা ‘গডফাদার’ ছাড়া, দিল্লির এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে কেবল নিজের মেধা ও পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে পৌঁছানোর গল্পটি কোটি মানুষের কাছে এক পরম অনুপ্রেরণা।
২০২৬ সালের মেগা প্রজেক্ট: ‘কিং’ (King)
শাহরুখ খানের সবচেয়ে বড় ও বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘কিং’ (King) নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মূল তথ্যসমূহ:
- মুক্তির তারিখ: ২০২৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর (ক্রিসমাস উৎসব)।
- পরিচালনা ও প্রযোজনা: পরিচালনা করছেন বিখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর সিদ্ধার্থ আনন্দ। প্রযোজনায় রয়েছে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট ও মারফ্লিক্স পিকচার্স।
- কাস্টিং চমক: বড় পর্দায় এই প্রথম শাহরুখ খানের সাথে দেখা যাবে তাঁর মেয়ে সুহানা খান-কে। এছাড়া প্রধান খলনায়কের ভূমিকায় রয়েছেন অভিষেক বচ্চন এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন দীপিকা পাড়ুকোন।
- চরিত্র ও লুক: হলিউড ক্লাসিক ‘লিয়ন: দ্য প্রফেশনাল’-এর আদলে তৈরি এই অ্যাকশন-থ্রিলারে শাহরুখকে এক ঝানু আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন বা অ্যাসাসিনের চরিত্রে দেখা যাবে, যেখানে তাঁর লুকে থাকবে হালকা পাকা চুল-দাড়ির স্টাইলিশ সংমিশ্রণ।
বাজেট, মিউজিক ডিল ও সম্ভাব্য পারিশ্রমিক
১. বাজেট (₹৩৫০ কোটি – ₹৪৫০ কোটি)
- স্কেল ও ভিএফএক্স: আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউটর ও ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, ৬টি বিশাল অ্যাকশন সিকোয়েন্স ও হাই-এন্ড ভিএফএক্স-এর কারণে সিনেমাটির আনুমানিক বাজেট ₹৩৫০ কোটি থেকে ₹৪৫০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছেছে।
- পরিচালকের বক্তব্য: ৪৫০ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে কিছু মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ালে পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়িয়ে দেন; তবে এটি যে শাহরুখের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক মানের প্রজেক্ট তা নিশ্চিত।
২. রেকর্ড মিউজিক ডিল (₹৫০ কোটি)
- অডিও বা মিউজিক রাইটস বিক্রির জন্য জি মিউজিক (Zee Music)-এর সাথে রেকর্ড ₹৫০ কোটি টাকার চুক্তি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।
- সিনেমাটির গান কম্পোজ করছেন শচীন-জিগার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর (BGM)-এর দায়িত্বে আছেন রকস্টার মিউজিক ডিরেক্টর অনিরুদ্ধ রবিচন্দের।
৩. তারকাদের আনুমানিক পারিশ্রমিক (এক নজরে)
| তারকার নাম | চলচ্চিত্রে ভূমিকা | আনুমানিক পারিশ্রমিক (রুপি) |
| শাহরুখ খান | প্রধান লিড (ডন/মেন্টর) | ₹১৫০ কোটি – ₹২৫০ কোটি (প্রফিট শেয়ারিং) |
| দীপিকা পাড়ুকোন | বিশেষ চরিত্র | ₹১৫ কোটি – ₹২০ কোটি |
| অভিষেক বচ্চন | প্রধান খলনায়ক (Villain) | ₹১০ কোটি |
| অনিল কাপুর | গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র | ₹৮ কোটি |
| সুহানা খান | সমান্তরাল লিড/শিষ্য | ₹১ কোটি |
| অন্যান্য (জ্যাকি শ্রফ, আরশাদ ওয়ার্সি) | সহকারী চরিত্র | ₹২ কোটি – ₹৫ কোটি |
(দ্রষ্টব্য: পারিশ্রমিক সংক্রান্ত তথ্যগুলো ভারতীয় ট্রেড অ্যানালিস্টদের সূত্রে প্রাপ্ত, যা প্রযোজনা সংস্থা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজার সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়ে থাকে)।



