সেলিব্রিটি

জন্মদিনে লহ প্রণাম': কণ্ঠ থেকে ক্যামেরা—পাহাড়ী সান্যাল, যিনি সায়গলের যুগেও ছিলেন স্বতন্ত্র
জন্মদিনে পাহাড়ী সান্যাল

নিউজ ডেস্ক

December 3, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


ভূমিকা: এক অনন্য নক্ষত্রের আগমন

বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগে যে ক’জন শিল্পী তাদের বহুমুখী প্রতিভা নিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন পাহাড়ী সান্যাল। আজ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, সেই প্রবাদপ্রতিম অভিনেতার জন্মদিন। প্লে-ব্যাক প্রযুক্তির অভাবনীয় যুগে, যখন অভিনেতাকেই ক্যামেরার সামনে সরাসরি গান গাইতে হতো, সেই কৃষ্ণচন্দ্র দে, কাননদেবী, সায়গল বা পঙ্কজ মল্লিকদের সমগোত্রীয় এক গায়ক-অভিনেতা হিসেবে তাঁর আগমন ঘটেছিল। যদিও প্রযুক্তিগত ত্রুটি (তাঁর মিহি কণ্ঠস্বর তৎকালীন শব্দ রেকর্ডিং পদ্ধতির অনুসারী ছিল না) তাঁকে সায়গলের জনপ্রিয়তার দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্ব, কণ্ঠস্বর ও দরাজ অভিনয় তাঁকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অপরিহার্য আসনে বসিয়েছে।

জন্ম, শৈশব ও মজলিশি মেজাজ

পাহাড়ী সান্যালের জন্মস্থান নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও, তাঁর খুড়তুতো ভাই ব্রতীন্দ্রনাথ সান্যালের তথ্য মতে, তাঁর জন্ম সিমলার কাছে কসৌলি শহরে। বাবা নৃপেন্দ্রনাথ সেখানে আর্মি ক্যাম্পে চাকরি করতেন। পাহাড়ে জন্ম বলেই তাঁর নাম হয়েছিল ‘পাহাড়ী’— যার আসল নাম ছিল নগেন্দ্রনাথ সান্যাল

আদি নিবাস নবদ্বীপের মেরতলা গ্রামে হলেও, সিপাই বিদ্রোহের পরে তাঁদের পরিবার অযোধ্যার রাজধানী লখনউ শহরে প্রবাসী হন। এই লখনউয়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ, বিশেষত নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের আমলের হিন্দুস্থানি সাংগীতিক পরিবেশ, মুজরো, মজলিশ ও বাঈজি আসর পাহাড়ীর সঙ্গীতবোধ ও মজলিশি মেজাজ গড়ে তুলেছিল।

  • গুরুদের সান্নিধ্য: উস্তাদ মহম্মদ হোসেন, ছোটে মুন্না খান, নাসির খান এবং এহমদ খানের কাছে তিনি সঙ্গীত তালিম নিয়েছিলেন।
  • আকর্ষণীয় ঘটনা: তাঁর রেওয়াজ শুনে মুগ্ধ হয়ে বিনা আমন্ত্রণে তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন স্বয়ং ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

তিনি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে সরকারি পলিটেকনিক কলেজ এবং একই সঙ্গে ‘স্যর উইলিয়াম মেরিস কলেজ অব হিন্দুস্থানি মিউজিক’-এ ভর্তি হন।

দুই মৃত্যুশোক ও পিতৃতুল্য অভিভাবকত্ব

মাত্র বারো বছর বয়সে পাহাড়ী সান্যাল তাঁর পিতাকে হারান, যিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজ ফৌজের হয়ে ‘মেসোপটেমিয়া ক্যাম্পেন’ যুদ্ধে গিয়ে বন্দি হন এবং সেখানেই মারা যান। এই সময়ে তাঁর জীবনে আসেন পিতৃতুল্য কবি অতুলপ্রসাদ সেন

  • অতুলপ্রসাদের প্রভাব: বারো বছর বয়স থেকে অতুলপ্রসাদের মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘ ষোলো বছর তিনি অতুলপ্রসাদ ও তাঁর স্ত্রী হেমকুসুমের অন্তরঙ্গ ছিলেন। অতুলপ্রসাদ যুবক পাহাড়ীর মনের অবস্থা বুঝে তাঁকে শিখিয়ে দিতেন তাঁর নতুন গান, ‘জল কহে চল/ মোর সাথে চল/তোর আঁখিজল হবে না বিফল’
  • প্রথম প্রেম ও বিবাহ: মেরিস কলেজে তাঁর পরিচয় হয় প্রথম প্রেমিকা ও স্ত্রী প্রতিভা সেনগুপ্তর সঙ্গে। ব্রাহ্ম হওয়ার কারণে সত্যেন্দ্রনাথের মতো গোঁড়া পরিবার প্রতিভা দেবীকে মেনে নেয়নি এবং পাহাড়ী সান্যালকে বংশচ্যূত হতে হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিয়ের কয়েক বছর পর সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় প্রতিভাদেবীর।

প্রতিভা ও অতুলপ্রসাদের (১৯৩৪ সালে মৃত্যু) মৃত্যুশোক পাহাড়ীর জীবনে এক প্রগাঢ় শূন্যতাবোধ এনেছিল, যা হয়তো অবচেতনে তাঁকে লখনউয়ের গানের মজলিশ ছেড়ে টালিগঞ্জের নিউ থিয়েটার্সের শ্যুটিং ফ্লোরে নিয়ে আসে। এই শূন্যতাবোধ নিয়েই তিনি পরে লিখেছিলেন, “একসময়ে গান-বাজনার লোক ছিলেন বলে ওঁর স্বভাবের মধ্যে, আচারে-ব্যবহারে মজলিশি ঢং এসে গিয়েছিল…”

নিউ থিয়েটার্স ও গায়ক-অভিনেতার নতুন জীবন (১৯৩০-এর দশক)

লখনউ ছেড়ে পাহাড়ী সান্যাল রামপুরের রাজার রাজসভায় বা দেওয়ারের মহারাজার সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার পর, ১৯৩৩-’৩৪ সালের দিকে নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেন।

  • প্রথম কাজ: শোনা যায়, তিনি প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন প্রমথেশ বড়ুয়া পরিচালিত ‘রূপলেখা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। তথ্য অনুযায়ী, তিনি এর হিন্দি ভার্সান ‘মহব্বত কি কাসুত’-এ অভিনয় করেন। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ইহুদি কি লড়কি’ (পরিচালক প্রেমাঙ্কুর আতর্থী)।
  • সহকর্মী: সহকর্মী হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন সায়গল, পঙ্কজ মল্লিক, প্রমথেশ বড়ুয়া, কাননদেবী, পৃথ্বীরাজ কপূর-এর মতো দিকপালদের।
  • জনপ্রিয়তা: অভিনয় নয়, প্রথম দিকের ছবিতে তিনি গান গাওয়ার বিষয়ে বেশি সচেতন ছিলেন। তবে, তিনের দশকেই তিনি জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ভালো উর্দু বলতে পারতেন বলে তিনি বাংলা ও হিন্দি উভয় ভার্সানের ছবিতেই (যেমন: ‘দেবদাস’, ‘ভাগ্যচক্র’) কাজ করতেন।

চারের দশকের গোড়ায় তিনি পৃথ্বীরাজ কপূরের সঙ্গে মুম্বই পাড়ি দেন এবং দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন অভিনেত্রী মীরা বসুকে

চরিত্রাভিনয়ের কিংবদন্তি (পঞ্চাশের দশক থেকে শেষ জীবন)

পাঁচের দশকে কলকাতায় ফিরে আসার পর থেকে পাহাড়ী সান্যাল প্রধানত চরিত্রাভিনয়ের দিকে সরে যান। এই পর্বে তিনি উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো পরবর্তী প্রজন্মের অভিনেতাদের সঙ্গে চুটিয়ে কাজ করেন।

  • অবিস্মরণীয় চরিত্রসমূহ:
    • ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে ভোলার নয় তাঁর অভিনয়।
    • সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবিতে আত্মভোলা পক্ষীবিশারদ জগদীশ চরিত্রটি চিরস্মরণীয়।
    • ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিতে গাওয়া অতুলপ্রসাদের গানখানি
    • উত্তম-সুচিত্রা জুটির বহু ছবিতে তিনি পিতা বা পিতৃতুল্য চরিত্রে অভিনয় করেন (যেমন: ‘ইন্দ্রাণী’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘শাপমোচন’)।
  • ব্যক্তিগত জীবন ও উদারতা: তিনি প্রচণ্ড আড্ডাবাজ, ফুর্তিবাজ এবং ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের পুত্র সন্দীপ রায় তাঁর এই মজলিশি মেজাজ ও দরাজ মনের কথা স্মরণ করেন। অভিনেত্রী অলকানন্দা রায় জানিয়েছেন, লখনউয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল গভীর— তিনি লখনউ থেকে জরদা পান আনাতেন এবং পানাসক্ত ছিলেন।
  • উত্তম কুমারের ঋণ: জীবনের শেষ দিকে আর্থিক কষ্টের কারণে তিনি নাটক (‘আসামী হাজির’) মঞ্চেও অভিনয় করতে বাধ্য হন। সাংবাদিক রবি বসুর লেখায় এই কষ্টকর সময়ের কথা উঠে এসেছে। উত্তমকুমার তাঁর এই ‘পাহাড়ীদা’কে কতটা শ্রদ্ধা করতেন, তা বোঝা যায়, যখন তিনি পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়কে অনুরোধ করে ‘নতুন জীবন’ ছবিতে পাহাড়ী সান্যালকে একটি রোল দেন। ফ্লপমাস্টার উত্তমকুমার যে সুপারস্টার হতে পারে, তা পাহাড়ী সান্যালই প্রথম বুঝেছিলেন, যা তিনি ‘বসু পরিবার’ ছবিতে নির্মল দে-কে বলেছিলেন।

মঞ্চে অভিনয় চলাকালীন বুকে ব্যথা অনুভব করার পর, ১৯৭৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সেরিব্রাল স্ট্রোকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উত্তমকুমারের ভাষায়, “পাহাড়ীদা ছিলেন রসিক বন্ধু আবার অনেকসময় আমার অভিভাবকও।”

আজ তাঁর জন্মদিনে, এই কিংবদন্তী শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধার্ঘ।


সূত্র, বিশ্লেষণ এবং মেটা ডেটা

সূত্র: ১. ব্রতীন্দ্রনাথ সান্যালের প্রদত্ত তথ্য ও সাক্ষাৎকার। ২. পাহাড়ী সান্যালের আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘মানুষ অতুলপ্রসাদ’। ৩. সন্দীপ রায়, নবনীতা দেবসেন, অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় ও অলকানন্দা রায়ের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ। ৪. রবি বসুর সাংবাদিক প্রতিবেদন। ৫. উত্তমকুমারের স্মৃতিতর্পণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

খালেদ মহিউদ্দিন

নিউজ ডেস্ক

May 12, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন | ১২ মে ২০২৬

ঢাকা: বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন টক শোর দুনিয়ায় গত দুই দশকে যে ক’জন ব্যক্তিত্ব নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে খালেদ মহিউদ্দিন অন্যতম। প্রখর মেধা, সাহসিকতা এবং সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করার বিশেষ শৈলী তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। বর্তমানে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।

১. জন্ম ও শিক্ষা জীবন

খালেদ মহিউদ্দিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ও সাফল্যের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে:

  • উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
  • বিদেশি ডিগ্রি: উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং ওয়েস্টমিনিস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম’ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।

২. পেশাদার জীবনের পথচলা ও উত্থান

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়:

  • সংবাদপত্র: তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে কাজ করেছেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
  • টেলিভিশন ও টক শো: পরবর্তীতে তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’-এ যোগ দেন। এখানে তাঁর সঞ্চালিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ তাঁকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক প্রশ্ন করছি…” আজও দর্শকদের কাছে তাঁর সিগনেচার স্টাইল হিসেবে পরিচিত।
  • আন্তর্জাতিক পর্যায়: বর্তমানে তিনি জার্মানির বন শহরে ডয়চে ভেলে (DW) বাংলায় কর্মরত। তাঁর সঞ্চালিত জনপ্রিয় ডিজিটাল শো ‘খালেদ মহিউদ্দিন জানতে চায়’ সমসাময়িক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠান।

৩. উল্লেখযোগ্য কাজ ও সাফল্য

খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ:

  • সাহসী সাংবাদিকতা: ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মুখের ওপর সরাসরি ও যৌক্তিক প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
  • সাফল্য ও লেখালেখি: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সুপরিচিত লেখক। তাঁর লেখা ‘নিয়ন্ত্রণরেখা’ এবং ‘মুখোমুখি’ বইগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য বেশ সমাদৃত।
  • মেন্টরশিপ: তিনি অসংখ্য তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে আধুনিক টক শো ফরম্যাট চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

৪. সমালোচনা ও বিতর্ক

যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মতো খালেদ মহিউদ্দিনকেও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে:

  • পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে তাঁর কড়া প্রশ্নের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি মাঝেমধ্যেই সমালোচিত হন।
  • সঞ্চালনার শৈলী: অনেক সমালোচক মনে করেন, তিনি অনেক সময় অতিথিকে পর্যাপ্ত কথা বলতে না দিয়ে নিজেই বেশি সময় নেন। তবে তাঁর ভক্তদের মতে, সত্য বের করে আনার জন্য এটি তাঁর একটি বিশেষ কৌশল।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রোলিং: কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে, যদিও তিনি সেগুলোকে তাঁর পেশাদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখেন।

৫. বর্তমান অবস্থান

খালেদ মহিউদ্দিন এখন কেবল একজন সাংবাদিক নন, বরং ডিজিটাল মিডিয়ার একজন অন্যতম ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতা মানেই হলো জনগণের পক্ষে ক্ষমতাবানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।


  • রেফারেন্স: ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা আর্কাইভ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

লতা মঙ্গেশকর

নিউজ ডেস্ক

May 11, 2026

শেয়ার করুন


সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ১১ মে ২০২৬

ঢাকা: সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কেবল ভারতের নন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা এ দেশের মানুষ আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১১ মে ২০২৬-এর এই বিশেষ দিনে আমরা ফিরে দেখব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিতে এই কিংবদন্তির অসামান্য অবদান।

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লতার কণ্ঠের লড়াই

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রক্তাক্ত, তখন লতা মঙ্গেশকর ভারতে বসে বিশ্ববাসীর বিবেক জাগাতে গান গেয়েছিলেন। তিনি সেই সময় ‘জয় বাংলাদেশ’ নামক হিন্দি ছবিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। ভারতের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ঠিক পরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালে লতা মঙ্গেশকর নিজেই টুইটারে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

২. বাংলাদেশের ছবিতে লতার একমাত্র গান: ‘ও দাদা ভাই’

লতা মঙ্গেশকর অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি গান গেয়েছেন যা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মমতাজ আলীর ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ ছবিতে প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ অভিনীত দৃশ্যে “ও দাদা ভাই, মূর্তি বানাও” গানটি গেয়েছিলেন তিনি। এই গানটি আজও সংগীত প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।

৩. কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা: সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশের সংগীতের নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন লতা মঙ্গেশকরকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। মুম্বাইয়ে লতার বাড়িতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। লতার প্রয়াণে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “সুর হারিয়ে গেল, পৃথিবীটা আজ নিস্তব্ধ।” শুধু শিল্পী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও লতাকে মনে রাখবে তাঁর সেই অসামান্য অবদানের জন্য।

গুগল অ্যানালাইসিস ও রিডার রিটেনশন টিপস:

গুগল সার্চ ট্রেন্ড (২০২৬) অনুযায়ী, লতা মঙ্গেশকরের “Rare photos of 1971 visit” এবং “Lata Mangeshkar’s only Bangladeshi song” এই টপিকগুলো প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসে। তাই এই আর্টিকেলটিতে ইউটিউব ভিডিওর এমবেড কোড যোগ করলে পাঠকরা আরও বেশি সময় আপনার সাইটে থাকবে।

তথ্যসূত্র (References):

  • লতা মঙ্গেশকর অফিশিয়াল টুইটার আর্কাইভ (২০১৯): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ ও ছবি।
  • বিএফডিসি (BFDC) আর্কাইভ: ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের সংগীত বিভাগ।
  • প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিশেষ শোকগাথা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাক্ষাৎকার।
  • ইউটিউব: ‘জয় বাংলাদেশ’ ও ‘র রক্তাক্ত বাংলা’র গানসমূহ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

থালাপ্যাথি বিজয়

নিউজ ডেস্ক

May 6, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চেন্নাই/ঢাকা: ভারতীয় বিনোদন জগতে ‘বিগ স্টার’ বিতর্কটি সাধারণত শাহরুখ খান, সালমান খান বা প্রভাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থালাপ্যাথি বিজয়কে (Vijay) এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাঁড়িয়ে এটি আর কেবল চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে বিজয়ের প্রভাব এখন একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য।

১. লয়াল ফ্যানবেস ও ‘বিজয় ফ্যাক্টর’

কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে যখন সালমান খানের মতো তারকারা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছিলেন, তখন বিজয় তার ‘মাস্টার’ (Master) সিনেমার জন্য বড় ওটিটি অফার প্রত্যাখ্যান করে থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।

  • বক্স অফিস আধিপত্য: বিজয়ের সিনেমা যেমন—Beast, Varisu কিংবা সাম্প্রতিক The GOAT সমালোচকদের দৃষ্টিতে গড়পড়তা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ৪০০ কোটিরও বেশি আয় করেছে।
  • অডিয়েন্স পুল: যেখানে বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে বিশাল মার্কেটিংয়ের ওপর, সেখানে বিজয়ের কেবল নামই তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের মার্কেট রিকভার করার জন্য যথেষ্ট।

২. রাজনীতির নতুন সূর্য: ভোটব্যাংকে রূপান্তর

বিজয় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘জনতার নেতা’র যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-কে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে।

  • ভোট শেয়ার: প্রাথমিক ফলাফল ও বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নতুন প্রজন্মের (Gen Z) ভোটারদের সিংহভাগেরই প্রথম পছন্দ ছিল বিজয়।
  • আঞ্চলিক প্রভাব: ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলোর ভিড়ে বিজয় ১০৬টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

৩. বিতর্ক ও টিকে থাকার লড়াই

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অসংখ্য ঝড় তাকে দমাতে পারেনি।

  • দুর্ঘটনা ও তদন্ত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে কারুর জেলায় তার রাজনৈতিক র‍্যালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ৪১ জন ভক্তের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় সিবিআই (CBI) জিজ্ঞাসাবাদ তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছিল।
  • ব্যক্তিগত সংকট: স্ত্রী সঙ্গীতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জনকে ছাপিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অটল ছিলেন।

৪. বিশ্লেষণ: শাহরুখ-প্রভাস বনাম বিজয়

বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ খান বা প্রভাসের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট হয়তো অনেক বড়, কিন্তু লোকাল লেভেলে বিজয়ের মতো ‘অডিয়েন্স পুল’ এবং রাজনৈতিক ভোটব্যাংক আর কারো নেই। উত্তর ভারতীয় কোনো তারকার ক্ষেত্রে এমন বিতর্ক ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হতে পারত, কিন্তু বিজয়ের লয়াল ফ্যানবেস তাকে প্রতিবারই সুরক্ষা দিয়েছে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল রেকর্ড ২. বক্স অফিস ইন্ডিয়া ও রয়টার্স বিনোদন ডেস্ক এনালাইসিস – ২০২৬ ৩. অ্যাক্সিওস (Axios) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পলিটিক্যাল ডেস্ক রিসার্চ ৪. তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ