ইতিহাস

বিশ্বে সর্বপ্রথম মোবাইল ফোন: প্রযুক্তির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার
বিশ্বে প্রথম মোবাইল ফোন

নিউজ ডেস্ক

November 17, 2025

শেয়ার করুন

মোবাইল ফোনের প্রথম উদ্ভাবন: ১৯৭৩ সালের বিপ্লব

মোবাইল ফোন, যা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তার ইতিহাস শুরু হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। পৃথিবীর প্রথম মোবাইল ফোনটি মোটোরোলা কোম্পানির তৈরি ছিল এবং এর নাম ছিল Motorola DynaTAC 8000X। এটি ছিল একটি বিপ্লবী প্রযুক্তি, যা ফোন যোগাযোগের পদ্ধতিকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়।

প্রথম মোবাইল ফোনের বৈশিষ্ট্য:

  • ওজন: প্রায় ১.১ কেজি
    • প্রথম মোবাইল ফোনটি ছিল অত্যন্ত ভারী, যেটি হাতে ধরে রাখা ছিল বেশ কষ্টকর। এখনকার স্মার্টফোনের তুলনায় এটি ছিল অনেক বেশি ভারী।
  • ব্যাটারি:
    • ব্যাটারিটি দেখতে ছিল ইটের মতো, এবং এটি ১০ ঘণ্টা ধরে চার্জ হতে পারতো, অথচ ফুল চার্জ হয়ে গেলে ৩০ মিনিট ব্যবহার করা যেতো।
    • এই ব্যাটারি প্রযুক্তি ছিল অনেক পিছিয়ে, কারণ আজকের দিনে মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
  • কলিং সুবিধা:
    • এই মোবাইল ফোনটি শুধু কল করতে সক্ষম ছিল, আর তাও ৩০ মিনিটের জন্য। তখনকার ফোনগুলো ছিল শুধুমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত, অথচ আজকের ফোনগুলো অনেক বেশি ফিচার সমৃদ্ধ।

মোবাইল ফোনের উদ্ভাবক:

মার্টিন কুপার, মোটোরোলা কোম্পানির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান, প্রথম মোবাইল ফোনে কল করার ইতিহাস সৃষ্টি করেন ১৯৭৩ সালে। তিনি মোটোরোলা DynaTAC 8000X এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একজনকে মোবাইল ফোনে কল করেন, যা ছিল সেই সময়ের জন্য একটি বৈপ্লবিক ঘটনা। এই ফোনটি সেসময়ে ব্যবসায়িক এবং উচ্চমানের মানুষের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ছিল।

মোবাইল ফোনের প্রথম সংস্করণ ও এর ব্যবহার:

  • সামাজিক প্রভাব:
    প্রথম মোবাইল ফোনটি শুধুমাত্র ব্যবসায়ী এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের জন্য ছিল। এটি এমন একটি প্রযুক্তি ছিল যা শুধু ফোন কলের জন্য ব্যবহৃত হত। তখনকার সময়ে, একে নিয়ে বিশেষ তেমন কোনো কৌতূহল ছিল না, কারণ এটি ছিল শুধুমাত্র এক ধরণের বিলাসিতা।
  • ব্যবহার:
    এক্ষেত্রে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা যেমন টেক্সট করতে পারি, ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারি, ভিডিও কলিং করতে পারি, সেসময় এসব কিছুই সম্ভব ছিল না। তবে, এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, যা ভবিষ্যতের মোবাইল ফোনের নির্মাণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

মোবাইল ফোনের পরবর্তী উন্নতি:

১৯৭৩ সালের এই মোটোরোলা DynaTAC 8000X আবিষ্কারের পর থেকে মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি দ্রুত উন্নতি করতে থাকে। পরবর্তীতে সেলুলার নেটওয়ার্কের উন্নতি, ডিজিটাল সিস্টেমের আগমন, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ এবং স্মার্টফোনের উদ্ভাবন এসব কিছু মোবাইল ফোনের কার্যকারিতা এবং প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আজকের স্মার্টফোনগুলি আগের সেই মোবাইল ফোনের থেকে অনেক বেশি লাইটওয়েট, কমপ্যাক্ট, ফাস্ট এবং ফিচার-সমৃদ্ধ। বর্তমানে আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেবল কলিং নয়, বরং ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ফটোগ্রাফি, গেমিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের মতো নানা সুবিধা উপভোগ করি।

বিশ্বের মোবাইল ফোন প্রযুক্তির অগ্রগতি:

বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি, যা ১৯৭৩ সালে ১.১ কেজি ওজনসহ মোবাইল ফোন ছিল, সেই প্রথম পদক্ষেপের পর মোবাইল ফোনের উত্থান রীতিমতো একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব হিসেবে পরিণত হয়েছে। ১৯৮০ সালের দিকে মোবাইল ফোনের ব্যবহার সাধারণ মানুষদের কাছে সহজলভ্য হতে শুরু করে এবং তা সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।

আজকের দিনে, অ্যাপল, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, শাওমি এর মতো বড় মোবাইল ফোন নির্মাতারা স্মার্টফোনের বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে এবং তারা আরও শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির ফোন তৈরি করছে, যা আরও বেশি দক্ষ, ফাস্ট এবং শক্তিশালী।

উপসংহার:

মোবাইল ফোনের ইতিহাস একটি দীর্ঘ পথচলা। ১৯৭৩ সালে মোটোরোলা DynaTAC 8000X দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ স্মার্টফোনের যুগে পরিণত হয়েছে। প্রথম মোবাইল ফোনটি শুধুমাত্র কলিং সুবিধা প্রদান করলেও, আজকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা ইন্টারনেট, ভিডিও কলিং, গেমিং, ফটোগ্রাফি, সোশ্যাল মিডিয়া সহ অনেক সুবিধা পেয়ে থাকি। এই অগ্রগতি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং বিজ্ঞানী, গবেষক এবং নির্মাতাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ।

সূত্র:

  1. Motorola DynaTAC 8000X History
  2. History of Mobile Phones – BBC
  3. The History of Mobile Phones – Wired

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

চীনা ভাষায় প্রোগ্রামিং

নিউজ ডেস্ক

May 30, 2026

শেয়ার করুন

চীনা প্রোগ্রামারদের কাজের ধরন এবং আন্তর্জাতিক কোডিং স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার এবং যৌক্তিক প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়শই এই প্রশ্নটি জাগে যে, চীন যেখানে দৈনন্দিন সব কাজে নিজেদের ভাষা ব্যবহারে এতটা কঠোর, সেখানে কোডিংয়ের ক্ষেত্রে তারা কী করে?

আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং গ্লোবাল টেকনোলজি স্ট্যান্ডার্ড মেনে এই বিষয়টি খুব সহজ ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো, যা আপনি সরাসরি কপি-পেস্ট করে আপনার ব্লগ বা পোর্টালে প্রকাশ করতে পারবেন।

১. মূল প্রোগ্রামিং ভাষা কেন ইংরেজিতেই হয়?

বিশ্বের অধিকাংশ জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা (যেমন- Python, Java, JavaScript, C++, PHP) মূলত ইংরেজি ভাষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এর সিনট্যাক্স বা কমান্ডগুলো (যেমন: if, else, while, return, function) ইংরেজিতেই লেখা হয়। চীনারাও এর ব্যতিক্রম নন। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড: ইংরেজি হলো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি এবং প্রোগ্রামিং সম্প্রদায়ের সর্বজনীন ভাষা।
  • টুলস ও লাইব্রেরি: বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত প্রায় সব আধুনিক কোডিং টুলস, ফ্রেমওয়ার্ক এবং লাইব্রেরি ইংরেজিতে তৈরি ও ডেভেলপ করা হয়। তাই এগুলো ব্যবহার করতে হলে ইংরেজি বোঝার কোনো বিকল্প নেই।

২. চীনারা কোডিংয়ে কখন এবং কীভাবে চীনা ভাষা (Mandarin) ব্যবহার করে?

যদিও মূল কোডের লজিক বা সিনট্যাক্স ইংরেজিতে লিখতে হয়, তবুও চীনা প্রোগ্রামাররা তাদের নিজস্ব ভাষা কোডিংয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন:

  • কোড কমেন্ট (Code Comments): কোডের ভেতরের কোনো জটিল লজিক অন্যকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যে ‘কমেন্ট’ বা মন্তব্য লিখতে হয়, তা চীনারা সাধারণত চীনা ভাষাতেই লিখে থাকেন।
  • ডকুমেন্টেশন (Documentation): কোনো সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশনের গাইডলাইন এবং ডকুমেন্টেশন তৈরির ক্ষেত্রে তারা নিজেদের মাতৃভাষা ব্যবহার করেন।
  • ভেরিয়েবল ও ফাংশনের নাম (Variables & Functions): বিশেষ করে যে প্রজেক্টগুলো শুধুমাত্র চীনের স্থানীয় বাজারের (Chinese Local Market) জন্য তৈরি করা হয়, সেগুলোতে অনেক সময় ভেরিয়েবলের নাম বা ডাটাবেজের ফিল্ডের নাম চীনা ক্যারেক্টার দিয়ে লেখা হয়।
  • প্রযুক্তিগত নিজস্ব শব্দভাণ্ডার (Technical Vocabulary): চীনা প্রোগ্রামিং কমিউনিটি নিজস্ব অনেক টেকনিক্যাল টার্ম তৈরি করেছে। যেমন— ইংরেজিতে যাকে “Parameter” বলা হয়, চীনারা তাদের কোডের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে সেটিকে “参量” (ক্যান লিয়াং) হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

৩. এক নজরে ইংরেজি বনাম চীনা ভাষার ব্যবহার ম্যাট্রিক্স

ইংরেজি ও চীনা (ম্যান্ডারিন) ভাষার ব্যবহার ও কাঠামোগত তুলনামূলক ম্যাট্রিক্স নিচে দেওয়া হলো। বৈশ্বিক যোগাযোগ, অর্থনীতি, এবং প্রযুক্তিতে এই দুই ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

বৈশিষ্ট্য ইংরেজি (English)চীনা ভাষা (Chinese – Mandarin)
ভাষা পরিবারইন্দো-ইউরোপীয়সিনো-তিব্বতি
লিপির ধরনরোমান (২৬টি বর্ণমালা)লগোগ্রাফিক (হাজার হাজার চিত্রভিত্তিক ক্যারেক্টার)
ব্যবহারকারী (মোট)প্রায় ১.৫ বিলিয়নের বেশি (বিশ্বের প্রধান লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা)প্রায় ১.১ বিলিয়ন (বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাতৃভাষী জনগোষ্ঠী)
ভৌগোলিক বিস্তারবিশ্বব্যাপী: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপ-এশিয়ার অধিকাংশ দেশে অফিসিয়াল বা দ্বিতীয় ভাষা।পূর্ব এশিয়া প্রধানত: চীন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর এবং বিশ্বজুড়ে থাকা চাইনিজ ডায়াসপোরা।
অর্থনীতি ও বাণিজ্যআন্তর্জাতিক ব্যবসা, ফাইন্যান্স, এবং বহুজাতিক কোম্পানির প্রধান ভাষা।চীনের বিশাল অর্থনৈতিক বাজারের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অপরিহার্য।
কূটনীতি ও বিজ্ঞানজাতিসংঘের প্রধান ভাষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও মেডিসিনের অবিসংবাদিত ভাষা।আঞ্চলিক রাজনীতি, এশীয় কূটনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) গবেষণায় অত্যন্ত প্রভাবশালী।
ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়াইন্টারনেটের সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষা (প্রায় ৫৪% ওয়েবসাইট ইংরেজিতে)।চীনা ভাষার নিজস্ব ইন্টারনেট ইকোসিস্টেম (WeChat, Weibo, Baidu) অত্যন্ত শক্তিশালী।
ব্যাকরণ ও জটিলতাব্যাকরণ তুলনামূলক সহজ, তবে অনিয়মিত নিয়ম (Exceptions) ও উচ্চারণ বিভ্রান্তিকর।ব্যাকরণে কোনো কাল বা লিঙ্গ (Tense/Gender) নেই, তবে ‘টোন’ (Tone) ও ক্যারেক্টার শেখা বেশ কঠিন।
শেখার সময়কাল (ইংরেজিভাষীদের জন্য)দ্রুত শেখা যায় (প্রায় ৬০০ ঘণ্টা)।অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ (প্রায় ২২০০+ ঘণ্টা)।

সারসংক্ষেপ:
যোগাযোগ ও বিশ্বায়নের জন্য ইংরেজি বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর ও সহজ মাধ্যম। অন্যদিকে, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতি ও বিশাল জনসংখ্যার সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্য চীনা ভাষা এক অনন্য কৌশলগত সুবিধা প্রদান করে।

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: গ্লোবাল আইটি এবং এসইও পারসপেক্টিভ থেকে দেখলে বোঝা যায় যে, চাইনিজ ডেভেলপারদের জন্য ইংরেজি জানাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রিল্যান্সিং করেন বা ওপেন-সোর্স প্রজেক্টে (যেমন GitHub-এ) অবদান রাখেন, তারা সম্পূর্ণ ইংরেজিই ব্যবহার করেন। তবে চীনের নিজস্ব ইকোসিস্টেম (যেমন- Baidu, Alibaba, Tencent) এতটাই বিশাল যে, তাদের দেশের ভেতরে কাজ করার সময় তারা ইংরেজি সিনট্যাক্সের সাথে নিজস্ব ভাষার চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারেন।

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও কনসালটেন্সি এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ

শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

May 30, 2026

শেয়ার করুন

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এই যুগে সুপার কম্পিউটারের শীর্ষস্থান খুব বেশিদিন এক দেশের বা এক মেশিনের দখলে থাকে না। অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির তৈরি ‘সামিট’ (Summit) কিংবা পরবর্তী সময়ে ‘ফ্রন্টিয়ার’ (Frontier) বিশ্বের দ্রুততম কম্পিউটার হিসেবে রাজত্ব করলেও, ২০২৬ সালের বর্তমান অফিশিয়াল গ্লোবাল র‍্যাংকিং (TOP500 List) অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে এখন নতুন শীর্ষ শাসকের আগমন ঘটেছে.

বর্তমানে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে পৃথিবীর বুকে চালু থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির সুপার কম্পিউটারের বিস্তারিত এবং হালনাগাদ তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর সুপার কম্পিউটার: এল ক্যাপিটান (El Capitan)

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার হিসেবে অফিশিয়ালি শীর্ষস্থান দখল করে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘El Capitan’. ক্যালিফোর্নিয়ার ‘লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি’ (LLNL)-তে এটি স্থাপন করা হয়েছে.

  • অবিশ্বাস্য গতি (Processing Power): এল ক্যাপিটান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘এক্সাস্কেল’ (Exascale) সুপার কম্পিউটার, যার লিনপ্যাক (HPL) স্কোর রেকর্ড ১.৮০৯ এক্সাফ্লপ্স (1.809 ExaFLOPS). এর মানে হলো এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ লক্ষ ট্রিলিয়ন (১৮০ কোটির বেশি বিলিয়ন) গণনা বা হিসাব সম্পন্ন করতে সক্ষম!
  • প্রযুক্তি ও হার্ডওয়্যার: এই দানবীয় কম্পিউটারটি তৈরি করেছে হিউলেট প্যাকার্ড এন্টারপ্রাইজ (HPE). এতে ব্যবহার করা হয়েছে এএমডি (AMD) কোম্পানির ৪র্থ প্রজন্মের ২৪ কোরের এপিক (EPYC) প্রসেসর এবং এএমডি ইন্সটিংক্ট MI300A (AMD Instinct MI300A) অ্যাক্সিলারেটর চিপ। এতে মোট কোরের সংখ্যা ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি!
  • ব্যবহারের ক্ষেত্র: আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পারমাণবিক মজুদের সিমুলেশন ব্যবস্থাপনা, জটিল বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং অ্যাডভান্সড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) মডেল ট্রেনিংয়ের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে.

২. সামিট (Summit) এখন কোথায়?

আপনার তথ্যে থাকা আইবিএম (IBM) ও এনভিডিয়া (NVIDIA)-র যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি Summit সুপার কম্পিউটারটি ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্বের এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছিল। এটি প্রতি সেকেন্ডে ২ লাখ ট্রিলিয়ন (বা ২০০ পেটাফ্লপ্স) হিসাব করতে পারে। তবে ২০২৬ সালের বর্তমান প্রযুক্তি বাজারে নতুন নতুন হাইপার-আর্কিটেকচারের আগমনের ফলে এটি শীর্ষ ১০-এর একদম শেষ প্রান্তের দিকে নেমে গেছে.

৩. এক নজরে ২০২৬ সালের শীর্ষ ৫ সুপার কম্পিউটার ম্যাট্রিক্স

গ্লোবাল সুপারকম্পিউটিং ইন্ডেক্সের (TOP500) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৫টি কম্পিউটারের তুলনামূলক চিত্র:

২০২৬ সালের বর্তমান আন্তর্জাতিক TOP500 র্যাংকিং অনুসারে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি সুপার কম্পিউটারের ম্যাট্রিক্স (তুলনামূলক ছক) নিচে দেওয়া হলো:

শীর্ষ ৫ সুপার কম্পিউটার ম্যাট্রিক্স (২০২৬)

র্যাংক সুপার কম্পিউটারের নামপ্রস্তুতকারক ও প্রসেসরগতি (Rmax Performance)অবস্থান ও দেশমূল ব্যবহার
El CapitanHPE, AMD 4th Gen EPYC & Instinct MI300A১.৭৪২ এক্সাফ্লপস (Exaflops)লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রপরমাণু নিরাপত্তা ও জাতীয় প্রতিরক্ষা
FrontierHPE, AMD Optimized 3rd Gen EPYC১.৩৫৩ এক্সাফ্লপসওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রবৈজ্ঞানিক গবেষণা ও এআই সিমুলেশন
AuroraIntel, Intel Xeon Max & Data Center GPU১.MDE এক্সাফ্লপস (১,MDE পেটাফ্লপস)আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, যুক্তরাষ্ট্রজলবায়ু পরিবর্তন ও ক্যানসার গবেষণা
EagleMicrosoft, Intel Xeon & NVIDIA H100৫৬১.২ পেটাফ্লপস (PFlops)ক্লাউড আর্কিটেকচার (Microsoft Azure), যুক্তরাষ্ট্রএআই মডেল ট্রেনিং ও কমার্শিয়াল ক্লাউড
HPC6HPE, AMD EPYC & NVIDIA H100৪৭৬.১ পেটাফ্লপসএনি (Eni S.p.A.), ইতালিএনার্জি ট্রানজিশন ও শিল্প গবেষণা

গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত হাইলাইটস:

শীর্ষ প্রসেসর: বর্তমান তালিকার শীর্ষ কম্পিউটারগুলোতে AMD এবং NVIDIA চিপসেটের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে.
এক্সাস্কেল কম্পিউটিং: শীর্ষ ৩টি সুপার কম্পিউটারই বর্তমানে এক্সাস্কেল (Exascale) সীমানা পার করেছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ১ কুইন্টিলিয়নেরও (১-এর পর ১৮টি শূন্য) বেশি গণনা করতে পারে.

আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ (BDS Bulbul Ahmed): একজন ডিজিটাল টেকনোলজি ও এসইও অ্যানালিস্ট হিসেবে আমি মনে করি, সুপার কম্পিউটিংয়ের এই বৈশ্বিক রেসটি এখন আর কেবল তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বা ল্যাবরেটরির গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), গুগলের জেমিনি (Gemini) কিংবা মেটার মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) এবং জটিল ডিপ লার্নিং অ্যালগরিদম ট্রেন করার জন্য এই হর্সপাওয়ারের প্রয়োজন প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তালিকায় মাইক্রোসফটের ক্লাউড-বেইজড সুপার কম্পিউটার ‘Eagle’ বা জার্মানির ‘JUPITER’ এর মতো মেশিনের উত্থান এটিই প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি এখন পুরোপুরি এআই-ইকোসিস্টেমের দিকে ধাবিত হচ্ছে.

অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed

ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও কনসালটেন্সি এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন:

পালসবাংলাদেশ

ভ্লাদিমির পুতিন

নিউজ ডেস্ক

May 30, 2026

শেয়ার করুন

১৯৫৮ সালের একটি সাধারণ সাদামাটা দিন। কোলে এক ছোট্ট শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা। তখন কে জানত, এই অতি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুটাই একদিন বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শাসক হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি কাঁপাবে?

হ্যাঁ, এই শিশুটিই হলেন বর্তমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জন্ম ও শৈশবের দিনগুলো


১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক দরিদ্র শ্রমিক পরিবারে জন্ম নেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার মা মারিয়া ইভানোভনা পুতিনা (অনেকের কাছে ল্যুডমিলা নামে পরিচিত) এবং বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিডোভিচ পুতিন—উভয়ই ছিলেন সাধারণ কারখানার কর্মী। লেনিনগ্রাদের একটি সাধারণ ‘কমিউনাল অ্যাপার্টমেন্টে’ (যৌথ আবাসন) চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কাটে পুতিনের শৈশব। অভাবের সেই দিনগুলোতে টিকে থাকার লড়াইটাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তোলে।

আইন পড়াশোনা ও গোয়েন্দা সংস্থায় প্রবেশ


শৈশব থেকেই পুতিনের লক্ষ্য ছিল দৃঢ়। তিনি লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনা শেষ করেই তিনি যোগ দেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ (KGB)-তে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব জার্মানিতে কেজিবির একজন দক্ষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘনিয়ে এলে তিনি লিয়েট্যানেন্ট কর্নেল পদমর্যাদা নিয়ে কেজিবি ছাড়েন।

রাজনীতিতে প্রবেশ ও ক্রেমলিনের পথে যাত্রা


১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পুতিন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের তৎকালীন মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের সততা ও দক্ষতার কারণে দ্রুতই তিনি সবার নজর কাড়েন। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন এবং প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালের আগস্টে ইয়েলৎসিন তাকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।

ক্রেমলিনের শীর্ষ ক্ষমতা দখল
১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন আচমকা পদত্যাগ করলে পুতিন রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ২০০০ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ চালিকাশক্তি


ক্ষমতায় আসার পর পুতিন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং ভেঙে পড়া রাশিয়াকে শক্ত হাতে পুনর্গঠন করেন। চচনিয়া যুদ্ধ জয়, অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী) নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশটির হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনেন। প্রায় আড়াই দশক ধরে কখনো প্রেসিডেন্ট, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাশিয়ার ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে পুতিনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

লেনিনগ্রাদের সেই অভাবী ঘরের ছোট্ট শিশুটি আজ শুধু রাশিয়ার ভাগ্যবিধাতাই নন, বরং আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ