আন্তর্জাতিক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদনকারীর নাম:
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রারম্ভিকা
ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন), যেটি সাধারণত “হরে কৃষ্ণ” নামে পরিচিত, একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় সংগঠন, যা ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি শ্রী কৃষ্ণের উপাসনায় নিবেদিত একটি হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন, যা তাদের অনুগামীদের জন্য একান্তভাবে শ্রী কৃষ্ণের মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে কাজ করে। তবে ইসকন-এর মূল লক্ষ্যের সীমানা কেবল ধর্মীয় উপদেশ দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে একেবারে মৌলবাদী ধারণা এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি আগ্রহ যা সময়ের সাথে সাথে বিপুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই প্রতিবেদনে আমরা ইসকন এর ইতিহাস, প্রতিষ্ঠার কারণ, উদ্দেশ্য এবং আধুনিক সমাজে তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।
ইসকনের জন্ম ও ইতিহাস
ইসকন বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আচার্য প্রভুপাদ, যিনি শ্রী কৃষ্ণের দর্শনকে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে ইসকন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণের প্রতি ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্য ছিল ইসকনের। তবে ইসকনের জন্মের সাথে সাথে এর কার্যক্রমও বেশ বিতর্কিত হয়ে ওঠে, বিশেষ করে তার সদস্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ধর্মীয় ধর্মান্তরিত করার প্রক্রিয়ার কারণে।
ইসকন প্রতিষ্ঠার পর দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলে বিস্তার লাভ করতে থাকে। এর সদস্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং ধর্মান্তরের কৌশল গুলো অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কের জন্ম দেয়। ইসকনের সদস্যদের মধ্যে যারা এক সময় ধর্ম পরিবর্তন করেন, তারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তন করে ইসকনের শ্রী কৃষ্ণের ধর্মে রূপান্তরিত হয়ে যান।
ইসকনের মূল লক্ষ্য
ইসকনের প্রধান লক্ষ্য ছিল শ্রী কৃষ্ণের মহিমা প্রচার করা এবং তার প্রেমে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। তবে এর সাথে সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু ধর্মের উপাসনা সিস্টেমের গঠনের মাধ্যমে এক নতুন সমাজ ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা। ইসকন সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে শ্রী কৃষ্ণই সৃষ্টিকর্তা, এবং তার চর্চা ও ভক্তি মাধ্যমে সমস্ত পৃথিবী শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
কিন্তু ইসকন এর কার্যক্রম কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটানোর জন্যও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মুসলিম, খ্রিস্টান এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা, যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি করেছিল।
ধর্মান্তরের কার্যক্রম ও বিতর্ক
ইসকন তাদের মূল বিশ্বাসের অংশ হিসেবে মানুষের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছে, যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তাদের কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় ধর্মান্তরিত কার্যক্রম পরিচালনা করতো, বিশেষ করে উপমহাদেশের দেশগুলোতে যেখানে হিন্দু ধর্মের চর্চা প্রচলিত। কিছু সময়, বিশেষ করে বাংলাদেশে, তারা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এবং স্থানীয় জনগণের উপর চাপ সৃষ্টি করতো, তাদের ধর্ম পরিবর্তনের জন্য। এসব কার্যক্রমে অনেক সময় জনগণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছিল।
ইসকনের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রভাব
ইসকনের কার্যক্রম শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, এটি রাজনৈতিক সম্পর্কও গড়ে তুলেছে বিভিন্ন দেশ এবং সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্মের সাথে। বিশেষ করে ইসকন ভারতের সাথেও সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং এই সম্পর্কের মধ্য দিয়ে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটায়। ইসকন মূলত ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ পরিচালনায় চলা একটি সংগঠন হিসেবে পরিচিত, যা তাদের কর্মকাণ্ডকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
এছাড়াও, ইসকন দ্বারা প্রচলিত উগ্র হিন্দু মৌলবাদী ধারণা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং এর প্রভাব বর্তমানে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ইসকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইসকন-কে একাধিক বার উগ্র হিন্দু মৌলবাদী এবং জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের ধর্মান্তরিত কার্যক্রম এবং উগ্র প্রচারের ফলে অনেক ক্ষেত্রে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশীয় শান্তি ও ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলে। ইসকন-এর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো তাদের সদস্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেয়া। ইসকনের কার্যক্রমে অনেকে বিশ্বাস করেন যে, এটি মূলত রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত একটি কার্যকরী প্ল্যাটফর্ম, যা অন্য ধর্মাবলম্বীদেরকে শোষণ করে তাদের নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করে।
ইসকন-এর বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে, ইসকন একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় গোষ্ঠী হলেও, এটি অনেক দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা এখনো তাদের ধর্মীয় প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং পৃথিবীর নানা প্রান্তে তার কার্যক্রম বিস্তার করছে। ইসকনের জনপ্রিয়তা কিছু দেশে বাড়লেও, তাদের কার্যক্রম অনেকের কাছে অত্যন্ত বিতর্কিত এবং এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও রয়েছে, বিশেষ করে তারা যেভাবে ধর্মান্তরের কাজ চালিয়েছে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, তা অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করেন।
উপসংহার
ইসকন একটি বৈশ্বিক ধর্মীয় সংগঠন হলেও, এর কার্যক্রম এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এর প্রতিষ্ঠা এবং তার পরবর্তী কার্যক্রমগুলি হিন্দু ধর্মের প্রচার এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের জন্য হলেও, তারা অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছে, যা অনেকেই গ্রহণ করেনি। এভাবে, ইসকন সমগ্র বিশ্বের মধ্যে একটি বিতর্কিত এবং উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
সূত্র
১. “ISKCON History and Controversies.” Encyclopedia Britannica
২. “International Society for Krishna Consciousness.” Wikipedia
৩. “Hindu Fundamentalism and ISKCON.” The Daily Star
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
খেলার দুনিয়া ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় (GOAT) লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে চলেছেন। বর্তমানে চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসর খেলতে নেমে একের পর এক অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিচ্ছেন তিনি। মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মেসির ব্যক্তিজীবন এবং তাঁর শরীরের বিভিন্ন ট্যাটু, বিশেষ করে ডানহাতের রহস্যময় ‘চোখ’ ভক্তদের মাঝে সবসময়ই এক বড় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

চলমান বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান গোল পরিসংখ্যান, নতুন ইতিহাস এবং তাঁর আবেগঘন ট্যাটুগুলোর আসল অর্থ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির বর্তমান অবস্থা ও রেকর্ডের খতিয়ান
চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক হিসেবে খেলছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। টুর্নামেন্টের শুরুতেই তিনি যে তাণ্ডব শুরু করেছেন, তা ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে:
- প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ গোল: আর্জেন্টিনার হয়ে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে টুর্নামেন্ট মাতিয়ে রেখেছেন মেসি।
- বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা: অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি। এর ফলে তিনি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে (১৬ গোল) টপকে পুরুষ ফুটবল ইতিহাসের বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
- ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপের বিশ্বরেকর্ড: বিশ্বের প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এবং সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার অনন্য রেকর্ডটি এখন মেসির দখলে।
- মাঠের কৌশল: ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসি মাঠে অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ না করে বুদ্ধিমত্তার সাথে খেলছেন। ফিফার অফিশিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হেঁটেছেন (গড়ে ৪.৩৭ কিমি) এবং সবচেয়ে কম দৌড়েছেন, যা তাঁর এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করছে।
জুনের পরিসংখ্যান: মেসির ক্যারিয়ারের মোট ৯১৬ গোল
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মেসির মোট অফিশিয়াল গোল সংখ্যা এখন ৯১৬টি। গোলগুলোর বিভাজন নিচে দেওয়া হলো:
- আর্জেন্টিনা জাতীয় দল: ১২২টি গোল (যার মধ্যে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপেই ৫টি)।
- বার্সেলোনা (স্পেন): ৬৭২টি গোল (ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে জেতা ৩৫টি ট্রফিসহ)।
- প্যারিস সেন্ট জার্মেই – PSG (ফ্রান্স): ৩২টি গোল।
- ইন্টার মায়ামি (যুক্তরাষ্ট্র): ৯০টি গোল।
মেসির ডানহাতে আঁকা চোখের ট্যাটু: কী এই রহস্যময় ছবির অর্থ?

মেসির ডানহাতের বাইসেপে (কনুইয়ের ঠিক ওপরে) আঁকা বড় চোখের ট্যাটুটি প্রায়শই ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়ে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় বা কোনো গোপন প্রতীক মনে করলেও এর পেছনের কারণটি অত্যন্ত রোমান্টিক।
আন্তোনেলার চোখ (Antonela’s Eye)

এই ট্যাটুটি মূলত মেসির শৈশবের প্রেমিকা এবং বর্তমান স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো (Antonela Roccuzzo)-র চোখের হুবহু আদলে তৈরি করা হয়েছে। মেসি যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁর স্ত্রীর ভালোবাসার দৃষ্টি যেন সবসময় তাঁর সাথে ছায়ার মতো থাকে—এই গভীর অনুভূতি থেকেই তিনি আন্তোনেলার চোখের নিখুঁত ট্যাটুটি নিজের ডানহাতে ধারণ করেছেন।
পরিবারপ্রেমী মেসি: শরীরের অন্যান্য আবেগঘন ট্যাটু

পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রমাণ দিতে মেসি শরীরের আরও কয়েকটি অংশে বিশেষ ট্যাটু করিয়েছেন:
- মায়ের ছবি (পিঠে): তাঁর জীবনে মা ‘সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি’-র অবদানকে স্মরণে রাখতে নিজের পিঠের বাম পাশে মায়ের মুখাবয়বের একটি চমৎকার ট্যাটু করিয়েছেন।

- ছেলে থিয়াগোর হাত (পায়ে): প্রথম সন্তান থিয়াগোর জন্মের পর নিজের বাম পায়ের কাফ মাসলে (পায়ের ডিম) থিয়াগোর দুটি ছোট্ট হাতের ছাপ এবং ছেলের নাম ‘Thiago’ খোদাই করিয়েছেন।
- যীশু খ্রিস্টের প্রতিকৃতি (ডান কাঁধে): তাঁর ডান কাঁধের ওপর যীশু খ্রিস্টের একটি ট্যাটু রয়েছে, যা তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
৮টি ব্যালন ডি’অর, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড—লিওনেল মেসি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যা ছোঁয়া যেকোনো ফুটবলারের জন্য অসম্ভব। মাঠের ভেতরে তিনি যেমন ইতিহাসের সেরা, মাঠের বাইরেও নিজের পরিবার ও স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিরিখে তিনি অনন্য।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতি মুহূর্তের লাইভ আপডেট, মেসির গোল সংখ্যা, পয়েন্ট টেবিল এবং খেলার দুনিয়ার যেকোনো ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
খেলার দুনিয়া ও ক্রীড়া ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। ৪৮টি দলের এই ঐতিহাসিক ও সর্ববৃহৎ টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে। এই মেগা আসরকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রযুক্তিগতভাবে নিখুঁত করতে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস (Adidas) বাজারে এনেছে অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা‘ (Trionda)।

একই সাথে ফুটবলারদের পরম আরাধ্য ও স্বপ্নের ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ তৈরিতে কী বিজ্ঞান ও উপাদান লুকিয়ে রয়েছে, তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda)-এর নিখুঁত ব্যবচ্ছেদ

ক) নামকরণ ও রঙের তাৎপর্য
স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রাই’ (অর্থ তিন) এবং ‘ওন্ডা’ (অর্থ ঢেউ) থেকে যৌথভাবে ‘ট্রাইওন্ডা’ নামটি নেওয়া হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের তিন স্বাগতিক দেশকে নির্দেশ করে।
- ডিজাইন ও প্রতীক: বলটির মূল ভিত্তি সাদা হলেও এতে লাল, নীল ও সবুজ রঙের নিখুঁত ছোঁয়া রয়েছে, যা তিন দেশের পতাকার প্রতিনিধিত্ব করে।
- সংস্কৃতির মেলবন্ধন: বলের গায়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত তারকা (Star)।
খ) বল তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও পরিবেশবান্ধব উপাদান
ট্রাইওন্ডা বলটি তৈরিতে শতভাগ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে:
- বাহ্যিক আবরণ (Shell): বলটির ওপরের অংশটি ১০০% পলিউরেথেন (PU) দিয়ে তৈরি। এর বিশেষ টেক্সচার্ড বা এমবসিং করা উপরিভাগ যেকোনো ভেজা বা আর্দ্র আবহাওয়াতেও ফুটবলার এবং গোলরক্ষকদের সর্বোচ্চ গ্রিপ বা বল কন্ট্রোল দেয়।
- ভেতরের স্তর (Bladder): বলের ভেতরের বাতাস ধরে রাখতে উচ্চমানের সিন্থেটিক রাবার (Butyl Rubber) ব্যবহার করা হয়েছে, যা বলের নিখুঁত গোলক আকৃতি ধরে রাখে।
- থার্মাল বন্ডিং: বলটি কোনো সুতো দিয়ে সেলাই করা নয়, বরং আধুনিক ৪-প্যানেল গঠনটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ও পানি-ভিত্তিক (Water-based) আঠা দিয়ে উচ্চ তাপে জোড়া দেওয়া হয়েছে। এমনকি এর রঙে কোনো রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহার করা হয়নি।
গ) কানেক্টেড বল টেকনোলজি (স্মার্ট চিপ)
এটি কেবল একটি সাধারণ বল নয়, এটি একটি আস্ত ‘স্মার্ট ডিভাইস’। বলের ঠিক মাঝখানে একটি ঝুলন্ত সাসপেনশন সিস্টেমে ৫০০ হার্টজ (500Hz) মোশন সেন্সর চিপ বসানো হয়েছে। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের মুভমেন্ট ও টাচ-ডেটা সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) সিস্টেমে পাঠায়, যার ফলে অফসাইড এবং গোললাইনের নিখুঁত সিদ্ধান্ত মুহূর্তের মধ্যে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
ঘ) বলের মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান
- অফিশিয়াল ম্যাচ বল: খেলোয়াড়রা মাঠে যে বলটি দিয়ে খেলছেন, তার খুচরা মূল্য প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা)।
- রেপ্লিকা সংস্করণ: সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের খেলার জন্য ৩০ থেকে ৫০ ডলারের (প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা) মধ্যে টেকডাউন সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে অ্যাডিডাসের অফিশিয়াল শোরুম এবং তাদের অনলাইন ওয়েবসাইটে।
২. ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির অন্দরমহল: এটি কি আসলেই নিরেট সোনার?

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত এই ট্রফিটি মূলত ১৮ ক্যারেট সোনা এবং আধা-মূল্যবান সবুজ রঙের রত্নপাথর ম্যালাকাইট (Malachite) দিয়ে তৈরি। ১৯৭১ সালে ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজানিগা এই ট্রফিটির অমর নকশা করেছিলেন, যেখানে দুজন মানুষ হাত উঁচিয়ে পুরো পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন।
ট্রফিটির গঠন ও ওজনের বিজ্ঞান:
- ১৮ ক্যারেট সোনা: ট্রফিটির মোট ওজনের একটি বড় অংশই হলো খাঁটি সোনা। এতে প্রায় ৪.৯৩ থেকে ৫ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে।
- ভেতরটা ফাঁপা (Hollow): অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে ট্রফিটি সম্পূর্ণ নিরেট সোনার কি না। আসল সত্য হলো—ট্রফিটি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁপা। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, এটি যদি সম্পূর্ণ সলিড বা নিরেট সোনা দিয়ে তৈরি হতো, তবে এর ওজন হতো প্রায় ৭০-৭৫ কেজি! যা একজন ফুটবলারের পক্ষে ম্যাচ জেতার পর হাত উঁচিয়ে ট্রফি উদ্যাপন করা অসম্ভব করে তুলত।
- ম্যালাকাইট রিং: ট্রফির নিচের বৃত্তাকার ভিত্তির (Base) সৌন্দর্য ও সুরক্ষা বাড়াতে সবুজ রঙের ম্যালাকাইট পাথরের দুটি আকর্ষণীয় স্তর বা রিং বসানো হয়েছে।
ট্রফির পরিমাপ (At a Glance):
- মোট ওজন: ৬.১৭৫ কেজি (১৩.৬১ পাউন্ড)।
- উচ্চতা: ৩৬.৮ সেন্টিমিটার (১৪.৫ ইঞ্চি)।
- ভিত্তির ব্যাস: ১৩ সেন্টিমিটার। এই নিচের অংশেই ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সব বিশ্বজয়ী দেশের নাম খোদাই করে লেখা থাকে।
- তৈরির স্থান: ইতালির মিলান শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘জিডিই বার্টোনি’ (GDE Bertoni) নামক একটি ঐতিহ্যবাহী পারিবারিক কারখানায় এই মহামূল্যবান ট্রফিটি অত্যন্ত নিখুঁত ঢালাই ও পলিশিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াই নয়, এটি আধুনিক বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি এবং শৈল্পিক সংস্কৃতির এক মহোৎসব। ট্রাইওন্ডা বলের ৫০০ হার্টজ চিপ এবং ইতালিয়ান নিখুঁত কারুকার্যের সোনার ট্রফি—এই সবকিছু মিলেই ফুটবলকে করে তুলেছে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় খেলা।
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর লাইভ আপডেট, খেলার সময়সূচী, প্রযুক্তির ইতিহাস এবং ক্রীড়া জগতের নিখুঁত বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ইতিহাস ও রাজনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞ প্যানেল: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant)
সর্বশেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও তাঁর পরিবারের ইতিহাস কেবল একটি বংশের বিবরণ নয়, বরং এটি ভারতীয় উপমহাদেশের শিক্ষা, সাহিত্য, আইন, এবং বিশেষ করে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একদিকে যেমন এই পরিবারের একটি অংশ পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোর সাথে জড়িয়ে পড়েছিল, অন্যদিকে এই পরিবারেরই আদর্শিক উত্তরাধিকার ও অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

১. পারিবারিক পটভূমি ও সম্ভ্রান্ত ঐতিহ্য
সোহরাওয়ার্দী পরিবার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ও প্রাচীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার হিসেবে পরিচিত, যাঁরা শিক্ষা ও আইন অঙ্গনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন:
- পিতা: স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন বিখ্যাত আইনজ্ঞ এবং কলকাতা হাইকোর্টের অত্যন্ত সম্মানিত বিচারপতি।
- মাতা: খুজাস্তা আখতার বানু ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক এবং উর্দু সাহিত্যিক।
২. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর গতিশীল রাজনৈতিক জীবন

আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে এই মহান নেতার রাজনৈতিক জীবনকে ৫টি প্রধান অধ্যায়ে ভাগ করা যায়:
❶ রাজনৈতিক সূচনা ও শ্রমিক আন্দোলন (১৯২০-এর দশক)
যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে ১৯২০ সালে দেশে ফিরে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। শুরুতে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের (সি. আর. দাস) ‘স্বরাজ পার্টি’-তে যোগ দেন এবং ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। কলকাতায় মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি প্রায় ৩৬টি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন গড়ে তুলে গণমানুষের নেতায় পরিণত হন।
❷ অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি ও মুখ্যমন্ত্রিত্ব (১৯৩৭-১৯৪৭)
তিনি বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলটিকে তৃণমূল পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে নিরঙ্কুশ জয় এনে দিয়ে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) হন। এ সময় তিনি শরৎচন্দ্র বসুর সাথে মিলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ভিত্তিতে একটি ‘স্বাধীন অবিভক্ত বাংলা’ রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক চেষ্টা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে সফল হয়নি।
❸ পাকিস্তান আমল ও আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা (১৯৪৭-১৯৫৬)
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের একনায়কতান্ত্রিক ও বাঙালি-বিরোধী নীতির প্রতিবাদে তিনি সোচ্চার হন। এর জেরে ১৯৪৯ সালে মওলানা ভাসানী, শামসুল হক এবং তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে মিলে পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ (পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ) গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালের ঐতিহাসিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে শেরে বাংলা ও ভাসানীর সাথে জোট বেঁধে মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।
❹ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সংবিধান প্রণয়ন (১৯৫৬-১৯৫৭)
১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পাকিস্তানের ৫ম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর অন্যতম প্রধান সাফল্য ছিল পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের প্রথম গণপ্রজাতন্ত্রী সংবিধান প্রণয়নে নেতৃত্ব দেওয়া, যার মাধ্যমে গভর্নর-জেনারেল পদের অবসান ঘটে। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই অংশের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন। তবে সামরিক জান্তা ও কায়েমী স্বার্থবাদীদের চাপে ১৯৫৭ সালের অক্টোবরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
❺ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও শেষ জীবন (১৯৫৮-১৯৬৩)
১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক আইন জারি করলে সোহরাওয়ার্দী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করেন। আইয়ুব সরকার তাঁর ওপর ‘এবডো’ (EBDO) আইন প্রয়োগ করে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করে এবং ১৯৬২ সালে তাঁকে কারাগারে পাঠায়। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি আইয়ুব বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (NDF) গঠন করেন। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের বৈরুতে একটি হোটেল কক্ষে এই মহান নেতা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৩. বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদে ঐতিহাসিক অবদান

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে বলা হয় “গণতন্ত্রের মানসপুত্র”। বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অধীনেই রাজনীতি ও গণমানুষের অধিকার আদায়ের দীক্ষা পেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে নিজের রাজনৈতিক গুরু ও মেন্টর মানতেন।
১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এক ভাষণে প্রথম স্বাধীন দেশটির নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখার যে প্রস্তাব করেন, তা মূলত সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও স্বপ্নেরই একটি সুদূরপ্রসারী রূপ ছিল। তাঁর হাত ধরেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের যে বীজ বপন হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পূর্ণ স্বাধীন বাংলাদেশে রূপ নেয়। যার কারণে তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ-এর নামকরণ করা হয়েছে।
৪. পরিবার ও বাংলাদেশ-پاکستان বিতর্ক: থেকে যাওয়ার আসল কারণ

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মূল পরিবার (তাঁর একমাত্র কন্যা ও বংশধরেরা) বাংলাদেশে না এসে পাকিস্তানে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার পেছনে ৪টি সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল:
- নাগরিকত্ব ও আবাসন: ১৯৪৯ সালে সোহরাওয়ার্দী নিজে স্থায়ীভাবে পাকিস্তানে চলে আসেন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে তাঁর পরিবার স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের করাচি এবং লাহোরকে কেন্দ্র করে তাদের স্থায়ী জীবন গড়ে তোলে।
- বৈবাহিক সূত্র: সোহরাওয়ার্দীর একমাত্র কন্যা বেগম আখতার সুলায়মান ব্রিটিশ আমলেই ভারতের বিখ্যাত আইনি ব্যক্তিত্ব স্যার शाह সুলায়মানের ছেলে শাহ আহমদ সুলায়মানকে বিয়ে করেন। দেশভাগের পর এই সুলায়মান পরিবার পশ্চিম পাকিস্তানে স্থায়ী হয়।
- ১৯৭১ সালের আদর্শিক ভিন্নতা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের সময় বেগম আখতার সুলায়মান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনকে সমর্থন করেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন তাঁর বাবা অখণ্ড পাকিস্তানের ঐক্যে বিশ্বাসী ছিলেন। এই রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে তিনি ইয়াহিয়া খানের সামরিক জান্তাকে সমর্থন দেন এবং আওয়ামী লীগের একাংশকে নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক মোর্চা গঠনের চেষ্টা করেন।
- পাকিস্তানের উচ্চপদ লাভ: বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বংশধরেরা পাকিস্তানেই থেকে যান। বেগম আখতার সুলায়মানের কন্যা এবং সোহরাওয়ার্দীর নাতনি শাহিদা জামিল পাকিস্তানের একজন বিখ্যাত আইনজীবী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রী (Federal Minister for Law) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যতিক্রম: রশিদ সোহরাওয়ার্দী (Robert Ashby)

সোহরাওয়ার্দীর দ্বিতীয় স্ত্রী (রাশিয়ান বংশোদ্ভূত ভেরা আলেকজান্দ্রোভনা)-র গর্ভজাত একমাত্র ছেলে রশিদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক আদর্শ গ্রহণ করেননি। তিনি যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হন এবং একজন মঞ্চ অভিনেতা হিসেবে জীবন কাটান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি পরিবারের বাকি সদস্যদের বিপক্ষে গিয়ে লন্ডনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো জনমত গঠন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে এসে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নেন। ২০১৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রক্তের উত্তরাধিকার বা পারিবারিক লিনিয়েজ বৈবাহিক ও রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানে স্থায়ী হলেও, তাঁর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রকৃত উত্তরাধিকার এদেশের মেহনতি মানুষ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ। রাজনৈতিক গুরু হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে তিনি যে স্বাধিকারের স্বপ্ন বপন করেছিলেন, তা আজ একটি স্বাধীন মানচিত্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত।
উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জীবনী এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের অফিশিয়াল পোর্টাল পালস বাংলাদেশ-এ।



