অর্থনীতি

কূটনৈতিক চালের জয়: ব্রিকস (BRICS) জোটে কেন স্থান পেল না পাকিস্তান? জানুন নেপথ্যের ভূরাজনীতি
BRICS

নিউজ ডেস্ক

June 16, 2026

শেয়ার করুন

ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

সিনিয়র এসইও ও কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভূরাজনীতিতে সমীকরণ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। সম্প্রতি ব্রিকস (BRICS) জোটে নতুন সদস্য ও অংশীদার রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন আলোড়ন তৈরি হয়েছে। গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগদানের জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও, নতুন অংশীদার দেশগুলোর তালিকায় ব্রিকস (BRICS) এবং পাকিস্তান: ভূরাজনৈতিক জটিলতা, আইএমএফ নির্ভরতা ও ফিনটেক সম্ভাবনার নিরেট বিশ্লেষণ

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত জোটগুলোর একটি হলো ব্রিকস (BRICS)। বৈশ্বিক জিডিপির এক বড় অংশের অংশীদার এই জোটে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিগত বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম পাকিস্তান। ২০২৩ সালে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করলেও, জোটে দেশটির অন্তর্ভুক্তি এখনও সম্ভব হয়নি।

অনেকেই এই বিষয়টিকে কেবল ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বৈরিতার চোখে দেখলেও, এর গভীরে রয়েছে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক মানদণ্ড, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) শর্ত এবং ব্রিকসের নিজস্ব দর্শনের নানাবিধ সমীকরণ। আজকের ব্লগে আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করব কেন পাকিস্তান ব্রিকসের পূর্ণ সদস্যপদ পায়নি এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB)-এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কতটুকু।

১. ব্রিকস জোটে পাকিস্তানের সদস্যপদ না পাওয়ার প্রধান কারণসমূহ

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসে পাকিস্তানের স্থান না পাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ কাজ করেছে— কৌশলগত বাধা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আদর্শগত দ্বন্দ।

ক. ঐকমত্যের নিয়ম (Consensus-based Rule) ও ভারতের অবস্থান

ব্রিকসের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জোটে নতুন কোনো সদস্য বা অংশীদার রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত ঐকমত্য বা সম্মতির প্রয়োজন হয়। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ভারত জোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিতে দৃঢ় আপত্তি বজায় রেখেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সীমান্ত বৈরিতার কারণে নতুন সদস্যদের তালিকায় পাকিস্তানের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া একটি বড় কৌশলগত বাধার সম্মুখীন হয়েছে।

খ. ভঙ্গুর অর্থনৈতিক সূচক

ব্রিকস মূলত বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল এবং শক্তিশালী উদীয়মান অর্থনীতির (যেমন: চীন, ভারত, ব্রাজিল) একটি প্ল্যাটফর্ম। জোটে অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব অত্যন্ত জরুরি। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটের কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি বেশ ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.৬% থেকে ৪.২%-এর আশেপাশে ওঠানামা করছে, যা ব্রিকসের ‘উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি’ ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গ. আইএমএফ (IMF) নির্ভরতা ও ব্রিকসের আদর্শিক দ্বন্দ্ব

ব্রিকস জোটের অন্যতম প্রধান দূরদর্শিতা বা লক্ষ্য হলো পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার (যেমন: মার্কিন ডলারের আধিপত্য, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক) বিকল্প গড়ে তোলা এবং নিজস্ব আঞ্চলিক মুদ্রায় বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো (De-dollarization)।

কিন্তু পাকিস্তান বর্তমানে তার দেউলিয়াত্ব এড়াতে এবং রিজার্ভের বাফার বাড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আইএমএফ-এর ইএফএফ (EFF) বেলআউট কর্মসূচির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আইএমএফের এই কঠোর কাঠামোগত শর্তসমূহ ব্রিকসের বিকল্প অর্থনৈতিক দর্শনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

                     ┌──────────────────────────────────┐
                     │   সদস্যপদ না পাওয়ার প্রধান ৩ কারণ  │
                     └────────────────┬─────────────────┘
                                      │
         ┌────────────────────────────┼────────────────────────────┐
         ▼                            ▼                            ▼
┌──────────────────┐         ┌──────────────────┐         ┌──────────────────┐
│   ভারতের আপত্তি   │         │ ভঙ্গুর অর্থনীতি  │         │   IMF নির্ভরতা   │
│  ঐকমত্যের নিয়মে  │         │  জিডিপি প্রবৃদ্ধি │         │ ব্রিকসের বিকল্প   │
│   ভেটো ক্ষমতা    │         │  ৩.৬% - ৪.২%     │         │ দর্শনের সাংঘর্ষিক│
└──────────────────┘         └──────────────────┘         └──────────────────┘

২. ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তান যদিও চীন ও রাশিয়ার মতো প্রভাবশালী সদস্যদের কাছ থেকে কূটনৈতিক সহানুভূতি পেয়ে থাকে, তবে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এই বিষয়ে সাধারণত নিরপেক্ষ বা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ফলে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া পাকিস্তানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক লড়াই।

তবে পূর্ণ সদস্যপদ না পেলেও পাকিস্তানের সামনে দুটি বড় সম্ভাবনা রয়েছে:

  1. অংশীদার রাষ্ট্র (Partner Country) মর্যাদা: পূর্ণ সদস্য না হয়েও পাকিস্তান ব্রিকসের ‘পার্টনার কান্ট্রি’ হিসেবে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতে পারে, যা তাদের জোটের বাণিজ্য আলোচনা ও আঞ্চলিক সংযোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে।
  2. চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC): সিপেক-এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার সাথে বাড়তে থাকা জ্বালানি ও সামরিক সম্পর্কের কারণে বেইজিং ও মস্কো ভবিষ্যতে পাকিস্তানের পক্ষে অর্থনৈতিক লবিং অব্যাহত রাখতে পারে।

৩. নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB): পাকিস্তানের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সেতু

রাজনীতি বা কূটনীতিতে পাকিস্তানের পথ কিছুটা কঠিন হলেও, দেশটির সাম্প্রতিক ডিজিটাল ও ফিনটেক (FinTech) সংস্কারগুলো ব্রিকস-এর নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (NDB)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে এনডিবি-এর সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে এবং প্রায় ৫৮২ মিলিয়ন ডলারের ক্যাপিটাল শেয়ার ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

                ┌──────────────────────────────────────┐
                │   NDB-এর সাথে পাকিস্তানের সংযোগ সেতু   │
                └──────────────────┬───────────────────┘
                                   │
         ┌─────────────────────────┼─────────────────────────┐
         ▼                         ▼                         ▼
┌───────────────────┐     ┌───────────────────┐     ┌───────────────────┐
│ ডিজিটাল অবকাঠামো │     │  আর্থিক অন্তর্ভুক্তি │     │ স্থানীয় মুদ্রায়   │
│   (Raast System)  │     │   (Digital Banks) │     │      লেনদেন       │
└───────────────────┘     └───────────────────┘     └───────────────────┘
  • ডিজিটাল অবকাঠামো ও সংযোগ: এনডিবি টেকসই উন্নয়নের জন্য আইসিটি (ICT) অবকাঠামো তৈরিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়। পাকিস্তানের নিজস্ব ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম ‘রাস্ত’ (Raast) এবং নতুন ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম দেশটির পাবলিক ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করেছে, যা এনডিবি-এর তহবিলের শর্ত পূরণ করে।
  • আর্থিক অন্তর্ভুক্তি (Financial Inclusion): স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান (SBP) ফিনটেক ও ৫টি নতুন ডিজিটাল রিটেইল ব্যাংকিং লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার এই উদ্যোগ এনডিবি-এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতির সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
  • স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন: পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত সুইফট (SWIFT) বা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এনডিবি স্থানীয় মুদ্রায় বন্ড ইস্যু করে থাকে। পাকিস্তানও তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে চীনের সাথে নিজস্ব মুদ্রায় (RMB/PKR) বাণিজ্যের উদ্যোগ নিয়েছে, যা এনডিবি-এর দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সংক্ষেপে বলা যায়, পাকিস্তান বর্তমানে মূলত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং আইএমএফ-এর শর্ত পূরণের লক্ষ্যে সংস্কার চালাচ্ছে (Survival Mode), যা ব্রিকসের সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার মতো স্বনির্ভর ও প্রভাবশালী স্তরে (Growth Mode) পৌঁছাতে এখনও যথেষ্ট নয়। তবে, রাজনৈতিক সদস্যপদ পেতে বাধার সম্মুখীন হলেও, দেশটির ডিজিটাল ফিনটেক সংস্কারগুলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (NDB) টেকনিক্যাল বা অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করতে পারে।

  • মেটা টাইটেল (Meta Title):
  • মেটা ডেসক্রিপশন (Meta Description): পাকিস্তান কেন ব্রিকস (BRICS) জোটের সদস্য হতে পারল না? জানুন ভারতের অবস্থান, আইএমএফ (IMF) নির্ভরতা এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (NDB) পাকিস্তানের ফিনটেক সম্ভাবনার নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।
  • ফোকাস কি-ওয়ার্ডস (Keywords): BRICS and Pakistan, ব্রিকস জোট, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, NDB Pakistan, ভারত-পাকিস্তান ভূরাজনীতি, IMF bailout Pakistan.

নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক বিষয়ক রিসোর্স (Sources)

১. ব্রিকস ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান রিপোর্ট (Global Financial Institutions Research): ব্রিকস জোটে নতুন অংশীদার অন্তর্ভুক্তি নীতি এবং আইএমএফের বর্ধিত তহবিল সুবিধা (EFF) সংক্রান্ত নীতিমালা।

২. স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান ও এনডিবি আর্কাইভস (SBP & NDB Digital Economy Papers): পাকিস্তানের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ‘রাস্ত’ (Raast) এবং নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ক্যাপিটাল শেয়ার সংক্রান্ত অফিসিয়াল ডেটা।

বিশ্বরাজনীতি, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

June 17, 2026

শেয়ার করুন

জাতীয় ও অর্থনীতি ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Analyst)

সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬

লাল-সবুজের বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও বৈশ্বিক পরিসংখ্যান ও অর্জনের দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রেই বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তিকে পেছনে ফেলেছে। আমাদের এই চেনা দেশের ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন কিছু আন্তর্জাতিক রেকর্ড এবং ঐতিহাসিক গৌরব, যা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না।

আজকের বিশেষ ফিচারে আমরা আলোচনা করব বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন ১৬টি অজানা এবং বিস্ময়কর তথ্য, যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা থেকে সংগৃহীত।

১. কৃষি, উৎপাদন ও ভূপ্রকৃতির বৈশ্বিক রেকর্ড

বাংলাদেশ মূলত একটি উর্বর কৃষিপ্রধান দেশ। বিশ্বমঞ্চে আমাদের কৃষিজাত পণ্যের অবস্থান বেশ ঈর্ষণীয়:

  • বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ মিলে গঠিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা’ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম উর্বর ব-দ্বীপ। এটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং এর ওপর ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ নির্ভরশীল।
  • ইলিশ ও মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষ: অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় এবং এককভাবে ইলিশ উৎপাদনে প্রথম (চাঁদপুরকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়)। দেশে মোট ৭৪৭ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।
  • সবজি ও ধান উৎপাদনে সাফল্য: বাংলাদেশ সবজি উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় এবং ধান উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।
  • আম ও আলু উৎপাদন: আম এবং আলু উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম। বছরে ১ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি আলু উৎপাদিত হয় আমাদের দেশে।
  • ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট: ছাগল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। বাংলাদেশের নিজস্ব ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট’ বিশ্বের অন্যতম সেরা ও উৎপাদনশীল জাত হিসেবে স্বীকৃত।

২. অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সূচক

আমাদের অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর পেছনে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ পরিসংখ্যান:

  • ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রোফিনান্সের জন্মস্থান: নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত ধরে বাংলাদেশেই প্রথম ক্ষুদ্রঋণের ধারণা জন্ম নেয়। বর্তমানে বলিভিয়া, মঙ্গোলিয়া, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো দেশে এই মডেল অত্যন্ত জনপ্রিয়।
  • জিডিপিতে তৈরি পোশাকের আধিপত্য: দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। তবে আশ্চর্যজনকভাবে জিডিপিতে কৃষির অবদান যেখানে ১৩ শতাংশ, সেখানে তৈরি পোশাক (RMG) খাতের অবদান প্রায় ২৮ শতাংশ।
  • দীর্ঘমেয়াদী নারী শাসন: বিশ্বে দীর্ঘমেয়াদী নারী শাসনে বাংলাদেশ প্রথম স্থানে রয়েছে। বিগত প্রায় তিন দশক ধরে দেশটির শাসনভার পর্যায়ক্রমে নারী প্রধানদের হাতে রয়েছে।
  • কক্সবাজারের অনন্য বৈশিষ্ট্য: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার বাংলাদেশে অবস্থিত হলেও, এটি তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতার কারণে পশ্চিমা সৈকতগুলোর মতো উন্মুক্ত বিকিনি সংস্কৃতির বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে পরিচালিত।

৩. এক নজরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ও বৈশ্বিক অবস্থান

সূচক বা খাতবৈশ্বিক অবস্থান (Rank)বিশেষ পরিসংখ্যান ও ডাটা
জনঘনত্ব (ঢাকা শহর)১মপ্রতি বর্গ কিমিতে ঢাকায় প্রায় ৪৭,০০০ মানুষ বাস করে।
সেনাসদস্য সংখ্যা১৩তম১ লক্ষ ৬০ হাজার নিয়মিত এবং সমপরিমাণ রিজার্ভ সেনা।
সবজি উৎপাদন৩য়বছরে প্রায় ১ কোটি ৭২ লক্ষ মেট্রিক টন।
স্বাক্ষর মানুষের সংখ্যা১৭তমবর্তমান স্বাক্ষরতার হার প্রায় ৭৪%।

৪. সামরিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সামরিক ও কূটনৈতিক অবদান অত্যন্ত গৌরবময়:

  • জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী: বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে সর্বোচ্চ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমানে ৩য় শীর্ষে অবস্থান করছে।
  • মানবসম্পদ ও সামরিক সক্ষমতা: বাংলাদেশে যুদ্ধ করতে বা দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম এমন যুবক-যুবতীর সংখ্যা প্রায় ৫ কোটি।

৫. জাপানের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের নেপথ্যে এক বাঙালি বিচারপতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি যখন জাপানের ওপর যুদ্ধাপরাধের (War Crimes) অভিযোগে বিশাল অর্থনৈতিক জরিমানা ও শাস্তির বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক আদালতে টোকিও ট্রায়ালের অন্যতম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া বাঙালি রাধা বিনোদ পাল

তিনি সাহসিকতার সাথে জাপানের পক্ষে ঐতিহাসিক ‘ভিন্নমত পোষণকারী রায়’ (Dissenting Judgment) দেন, যা জাপানকে এক চরম অবমাননা ও ক্ষতিপূরণের বোঝা থেকে মুক্ত করে। তাঁর এই সুবিচারের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ জাপান চিরকাল বাংলাদেশকে নিঃশর্ত সহযোগিতা করার প্রতিজ্ঞা করেছে এবং জাপানে তাঁর একটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভও রয়েছে।

৬. আমাদের কিছু আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ

সব অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু নেতিবাচক বা উন্নয়নশীল চ্যালেঞ্জও রয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা জরুরি:

  • ঢাকার তীব্র যানজট: বিদেশি কূটনীতিক ও পর্যটকদের কাছে ঢাকা শহর তার তীব্র যানজটের জন্য চিরস্মরণীয়। বর্তমানে রাজধানীতে যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৫ কিলোমিটার (যা ১২ বছর আগেও ছিল ২১ কিমি)। যানজটের কারণে বছরে দেশের প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
  • পুষ্টিহীনতা: মাছ ও সবজি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও সঠিক খাদ্যবণ্টন ও সচেতনতার অভাবে এদেশের প্রায় ৩৬% শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি আমিষের অভাবে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।
  • নারী নির্যাতন ও জীবনযাত্রার মান: ‘কোথায় জন্মগ্রহণ করতে চান’ এমন এক আন্তর্জাতিক জরিপে ৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৭তম। এছাড়া এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ৫০ শতাংশই জীবনে কখনো না কখনো পারিবারিক বা সঙ্গীর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

পালস বাংলাদেশ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ বৈচিত্র্য এবং সম্ভাবনায় ভরপুর একটি দেশ। কিছু সামাজিক ও পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে ক্রমান্বয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।

নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources & References)

১. আন্তর্জাতিক মৎস্য ও পুষ্টি বিষয়ক জার্নাল: In Bangladesh, more fish, but persistent malnutrition Report.

২. জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ডাটাবেজ: List of countries by number of UN peacekeepers – Wikipedia Archives 2025/2026.

৩. বাংলাদেশ কৃষি ও সড়ক গবেষণা ব্যুরো: Vegetable output growth reports & ঢাকার যানজট জনিত বার্ষিক ক্ষয়ক্ষতি সমীক্ষা।

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের এমন সব রোমাঞ্চকর তথ্য, ইতিহাস এবং খবরের আপডেট সবার আগে নিরপেক্ষভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের পালস বাংলাদেশ পোর্টালে।

গ্রাম বার্লে

নিউজ ডেস্ক

June 17, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ভৌগোলিক ও লাইফস্টাইল ডেস্ক | পালস বাংলাদেশ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior SEO Consultant & Analyst)

সর্বশেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬

ভৌগোলিক সীমানা বা আন্তর্জাতিক বর্ডারের কথা মাথায় আসলেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কাঁটাতারের বেড়া, সশস্ত্র প্রহরী কিংবা কঠোর তল্লাশি চৌকি। কিন্তু পৃথিবীতে এমন একটি অদ্ভুত গ্রাম বা টুইন-টাউন (Twin Town) রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমান্ত কোনো নদী বা পাহাড় দিয়ে আলাদা করা হয়নি; বরং তা চলে গেছে মানুষের ঘর, রেস্তোরাঁ, দোকান, এমনকি রান্নাঘরের মাঝখান দিয়ে!

হ্যাঁ, আমরা কথা বলছি ইউরোপের বুকে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল ও আকর্ষণীয় আন্তর্জাতিক সীমান্তের গ্রাম ‘বার্লে’ (Baarle)-র কথা। এটি একই সাথে নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়াম— এই দুটি দেশের মধ্যে অবস্থিত।

১. এক গ্রামে দুই দেশ: বার্লে-নাসাউ এবং বার্লে-হেয়ারটগ

ভৌগোলিক মানচিত্রের এক জটিল ধাঁধাঁর নাম বার্লে। এটি মূলত একই স্থানে অবস্থিত দুটি ভিন্ন পৌরসভা বা ইউনিয়ন:

  1. বার্লে-নাসাউ (Baarle-Nassau): এটি গ্রামটির ডাচ বা নেদারল্যান্ডস অংশ।
  2. বার্লে-হেয়ারটগ (Baarle-Hertog): এটি গ্রামটির বেলজিয়ান অংশ।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বেলজিয়ান অংশটি (Baarle-Hertog) বেলজিয়ামের মূল ভূখণ্ডে নয়, বরং নেদারল্যান্ডসের সীমান্ত থেকে কয়েক কিলোমিটার ভেতরে (Enclave) অবস্থিত। নেদারল্যান্ডসের পেটের ভেতর বেলজিয়ামের ২২টি ছোট ছোট ছিটমহল রয়েছে। আবার এই বেলজিয়ান ছিটমহলগুলোর ভেতরে নেদারল্যান্ডসের আরও ৭টি উপ-ছিটমহল (Counter-enclaves) রয়েছে!

২. একই বাড়ির মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত: নাগরিকত্ব ঠিক হয় কীভাবে?

বার্লে গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফুটপাথে সাদা রঙের ক্রস মার্ক (‘+’ এবং ‘B’ / ‘NL’) চিহ্ন দিয়ে দুই দেশের সীমানা চিহ্নিত করা আছে। এখানে জীবনযাত্রা এতটাই আন্তঃসংযুক্ত যে, আপনি হাঁটতে হাঁটতে মাত্র ৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ বারের বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হতে পারবেন।

          ┌────────────────────────────────────────────────────────┐
          │         বার্লে গ্রামের একটি বাড়ির অভ্যন্তরীণ রূপ        │
          └───────────────────────────┬────────────────────────────┘
                                      │
             ┌────────────────────────┴────────────────────────┐
             ▼                                                 ▼
┌───────────────────────────┐                     ┌───────────────────────────┐
│     ডাইনিং রুম ও শোবার ঘর  │                     │    রান্নাঘর ও ওয়াশরুম     │
│   🇧🇪 বেলজিয়াম (Hertog)   │    ────── ── ────── │   🇳🇱 নেদারল্যান্ডস (Nassau)│
│    ট্যাক্স ও নিয়ম বেলজিয়ামের │    আন্তর্জাতিক বর্ডার │    ট্যাক্স ও নিয়ম ডাচ সরকারের  │
└───────────────────────────┘                     └───────────────────────────┘

ফ্রন্ট ডোর রুল (Front Door Rule):

এখানকার বহু বাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দুই দেশের বর্ডারের ওপর স্লাইস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে— ঐ বাড়ির বাসিন্দারা কোন দেশের নাগরিক এবং কোন সরকারকে ট্যাক্স দেবেন?

আইনি সমাধান: আইন অনুযায়ী, বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার বা ফ্রন্ট ডোর (Front Door) যে দেশের সীমানার মধ্যে পড়বে, সেই পরিবারকে সেই দেশের নাগরিক ধরা হবে এবং তারা সেই দেশের নিয়মেই ট্যাক্স দেবেন। এই কারণে অনেক বাড়িওয়ালা ট্যাক্স বাঁচাতে নিজেদের প্রধান দরজা কয়েক মিটার ডানে বা বামে সরিয়ে নেন!

৩. এক নজরে বার্লে গ্রামের শাসন ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক তথ্য

যদিও এটি একটি একক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে কাজ করে, তবে দুই দেশের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদাভাবে পরিচালিত হয়:

বৈশিষ্ট্যবার্লে-নাসাউ (নেদারল্যান্ডস 🇳🇱)বার্লে-হেয়ারটগ (বেলজিয়াম 🇧🇪)
প্রশাসনিক ব্যবস্থানিজস্ব মেয়র এবং ডাচ কাউন্সিলনিজস্ব মেয়র এবং বেলজিয়ান কাউন্সিল
আইন ও পুলিশডাচ পুলিশ ও ডাচ আইন ব্যবস্থাবেলজিয়ান পুলিশ ও ফ্লেমিশ আইন
মুদ্রา ও ভাষাইউরো (€), ডাচ ভাষাইউরো (€), ডাচ ভাষা
কর ও নিয়মনীতিডাচ ট্যাক্স (খাবারের দাম সাধারণত কম)বেলজিয়ান ট্যাক্স (জ্বালানি ও সিগারেট সস্তা)

৪. ইউরোপের ‘বার্লে’ বনাম এশিয়ার ‘ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল’ সমীকরণ

ইউরোপের এই বার্লে গ্রামের সীমানা জটিলতা দেখার পর আমাদের অনেকেরই মনে পড়ে যেতে পারে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ছিটমহল (Enclaves) বা ‘মহাল’-এর কথা। ২০১৫ সালের ল্যান্ড বাউন্ডারি অ্যাগ্রিমেন্ট (LBA)-এর আগে ভারত ও বাংলাদেশের সীমানাতেও ঠিক এমন কিছু জটিল এবং অদ্ভুত গ্রাম বা ছিটমহল ছিল।

তবে ইউরোপের বার্লে এবং ভারত-বাংলাদেশের ছিটমহলের মধ্যে বাস্তব ও মানবিক ক্ষেত্রে কিছু বিশাল পার্থক্য রয়েছে:

ক. মুক্ত চলাচল বনাম অবরুদ্ধ জীবন

  • ইউরোপের বার্লে: নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম দুই দেশই ‘শেনজেনভুক্ত’ হওয়ায় এখানে কোনো কাঁটাতার বা পাসপোর্ট চেকিং নেই। মানুষ ফ্রিলি এক ঘর থেকে অন্য ঘরে বা রাস্তায় যাতায়াত করতে পারে।
  • সাবেক ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল: ২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল (যেমন— কুড়িগ্রাম বা লালমনিরহাটের অংশ) এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশী ছিটমহলের (যেমন— দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বা সাবেক ছিটমহলসমূহ) বাসিন্দারা এক প্রকার অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতেন। এক দেশের ভূখণ্ড পার হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য তাঁদের কঠোর বিজিবি-বিএসএফ পাহারা ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো।

খ. ‘দাশিয়ারছড়া’ এবং তিনবিঘা করিডোরের বাস্তবতা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া বা লালমনিরহাটের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিল পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত ছিটমহল অঞ্চল। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার বাসিন্দাদের বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে আসার জন্য ভারতের ভেতরের ‘তিনবিঘা করিডোর’ ব্যবহার করতে হয়। ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ১৬২টি ছিটমহল বিলুপ্ত হওয়ায় এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়েছে, যা বার্লে গ্রামে কখনোই ছিল না কারণ ডাচ ও বেলজিয়ানদের নাগরিক অধিকার দুই দেশেই সমানভাবে সুরক্ষিত ছিল।

গ. অপলকাডাঙ্গা: বর্ডারের ওপর এক অদ্ভুত গ্রাম

আজও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু জায়গায় এমন গ্রাম রয়েছে, যার একপাশে বাংলাদেশের মানুষের জমি আর কয়েক গজ দূরেই ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। যেমন— কুড়িগ্রামের রৌমারীর অপলকাডাঙ্গা বা আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে থাকা কিছু গ্রাম, যেখানে চাষাবাদের জমি এক দেশে হলেও বাড়ি অন্য দেশে। তবে ইউরোপের বার্লের মতো এখানে ঘরের ভেতরে আন্তর্জাতিক বর্ডার এঁকে স্বাধীনভাবে বসবাস করার সুযোগ নেই; এখানে কড়া সীমান্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলতে হয়।

৫. আইনি ভিন্নতা এবং অদ্ভুত সব বাস্তব অভিজ্ঞতা

বার্লে গ্রামে দুই দেশের আইন কার্যকর থাকায় এখানে বেশ কিছু মজার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়:

  • মদের বয়সসীমা: নেদারল্যান্ডসে বৈধভাবে মদ পানের বয়স ১৮ বছর, কিন্তু মাত্র এক কদম দূরে বেলজিয়ান সাইডে তা ১৬ বছর। ফলে তরুণরা বর্ডারের দাগ পার হয়ে বেলজিয়ান ক্যাফেতে গিয়ে বসে!
  • ব্যবসার সুবিধা: স্থানীয় বাসিন্দারা দুই দেশের বাজারের এই সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগান। তারা বেলজিয়ামের অংশ থেকে সস্তায় পেট্রোল বা সিগারেট কেনেন, আবার মুদি সদাই করতে চলে যান ডাচ অংশে।
  • লকডাউন ও করোনা কালীন স্মৃতি: ২০২০-২১ সালের প্যানডেমিকের সময় যখন দুই দেশের লকডাউন পলিসি আলাদা ছিল, তখন বর্ডারের ওপর থাকা রেস্তোরাঁগুলোর ডাচ সাইডের টেবিল বন্ধ থাকলেও বেলজিয়ান সাইডের টেবিলে কাস্টমাররা বসে খাবার খেতে পেরেছেন!

মানবিক মেলবন্ধনের প্রতীক

ভৌগোলিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্লে গ্রামটি হলো বর্তমান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) এবং বিশ্ব মানবতার সবচেয়ে সুন্দর একটি মিনি সংস্করণ। অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তি বিশ্বকে দেখিয়েছে কীভাবে দুটি প্রতিবেশী দেশ শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে জটিল সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারে। মানচিত্রের জটিল রেখা বা কাঁটাতার যে মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সংস্কৃতি, ব্যবসা এবং শুভবুদ্ধির মিলনকে চিরকাল আটকে রাখতে পারে না, এই সীমান্তগুলো তার জীবন্ত প্রমাণ।

নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (References & Sources)

১. উইকিপিডিয়া জিওগ্রাফি ডাটাবেজ: Baarle-Nassau Official RecordsIndia–Bangladesh Enclaves History

২. ভিジット ব্রাব্যান্ট অফিশিয়াল ট্যুরিজম গাইড ২০২৬: Enclavedorp Baarle-Hertog-Nassau Tourism Paper

৩. বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলবিএ রেকর্ডস: Land Boundary Agreement (LBA) 2015 Outcomes

বিশ্বের এবং বাংলাদেশের এমন সব রোমাঞ্চকর ভৌগোলিক তথ্য, অদ্ভুত সীমান্ত এবং আন্তর্জাতিক খবরের আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের পালস বাংলাদেশ পোর্টালে।

Mossad

নিউজ ডেস্ক

June 16, 2026

শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও গোয়েন্দা বিষয়ক বিশেষ ফিচার | পালস বাংলাদেশ

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা ও ভূরাজনীতির মঞ্চে যে কয়েকটি নাম শুনলে যুগপৎ আতঙ্ক ও বিস্ময় তৈরি হয়, তার শীর্ষে রয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad)। দাপ্তরিকভাবে এর নাম “ইনস্টিটিউট ফর ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশনস”। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে গঠিত এই সংস্থাটি কোনো সংসদ বা জবাবদিহিতার অধীনে নয়, বরং সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং নিরেট গোপনীয়তায় মোড়ানো এই সংস্থার মূল দর্শন হলো— যেকোনো মূল্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং দেশের বাইরের শত্রুদের প্রতিরোধ করা। মোসাদের লক্ষ্য, ইতিহাসের সবচেয়ে তোলপাড় করা অপারেশন, বৈশ্বিক সমীকরণ এবং তাদের এজেন্ট নিয়োগের রোমহর্ষক কৌশল নিয়ে একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. মোসাদের মূল লক্ষ্য ও দাপ্তরিক উদ্দেশ্যসমূহ

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষায় মোসাদ প্রধানত ৬টি কৌশলগত ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে:

  • কৌশলগত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোসহ বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল-বিরোধী যেকোনো গোপন পরিকল্পনা, সামরিক প্রস্তুতি বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো।
  • গোপন ও বিশেষ অভিযান (Covert Operations): শত্রু দেশের পারমাণবিক বা সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, সাইবার আক্রমণ এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের নিখোঁজ বা প্রতিহত করা।
  • কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন: বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলি নাগরিক ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুর ওপর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের হামলা রুখে দেওয়া।
  • অপ্রচলিত অস্ত্র ও পারমাণবিক বিস্তার রোধ: মধ্যপ্রাচ্যে শত্রু দেশগুলোর হাতে গণবিধ্বংসী অস্ত্র পৌঁছানো রোধ করা। এর বড় উদাহরণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতে শীর্ষ সামরিক বিজ্ঞানীদের টার্গেট করা।
  • গোপন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন: যেসব মুসলিম বা আরব দেশের সাথে ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তাদের সাথে পর্দার আড়ালে অনানুষ্ঠানিক গোয়েন্দা ও কৌশলগত যোগাযোগ রক্ষা করা।
  • ইহুদিদের সুরক্ষায় আলিয়াহ (Aliyah) অভিযান: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিপদে থাকা ইহুদিদের উদ্ধার করে ইসরায়েলে নিয়ে আসা (যেমন অতীতে ইথিওপিয়া বা ইয়েমেন থেকে পরিচালিত গোপন মিশনসমূহ)।

২. ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত অপারেশনসমূহ

মোসাদ তাদের লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, সার্বভৌমত্ব ভঙ্গ এবং টার্গেটেড কিলিংয়ের (Targeted Killings) আশ্রয় নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে যেমন প্রশংসিত, ঠিক তেমনি চরম বিতর্কিত।

                  ┌────────────────────────────────────────┐
                  │       মোসাদের ৪টি কাঁপানো অপারেশন        │
                  └───────────────────┬────────────────────┘
                                      │
             ┌────────────────────────┼────────────────────────┐
             ▼                        ▼                        ▼
┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐┌────────────────────────┐
│   অপারেশন আইখম্যান     ││    অপারেশন এন্টেবে     ││   অপারেশন রথ অব গড    │
│ ১৯৬০: আর্জেন্টিনা থেকে  ││ ১৯৭৬: উগান্ডা থেকে ১০২ ││ ১৯৭২ মিউনিখ অলিম্পিক   │
│ নাৎসি কর্মকর্তাকে অপহরণ││ জিম্মিকে নাটকীয় উদ্ধার ││ হত্যার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশোধ│
└────────────────────────┘└────────────────────────┘└────────────────────────┘
                                      │
                                      ▼
                          ┌────────────────────────┐
                          │    অপারেশন ব্রাদার্স     │
                          │ ১৯৮০: সুদানে ফেক রিসোর্ট │
                          │ খুলে ইহুদিদের পাচার    │
                          └────────────────────────┘
  • অপারেশন আইখম্যান (১৯৬০ – আর্জেন্টিনা): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাখ লাখ ইহুদি হত্যার কারিগর নাৎসি কর্মকর্তা আডলফ আইখম্যান আর্জেন্টিনায় আত্মগোপন করেছিলেন। মোসাদ আর্জেন্টিনার অনুমতি না নিয়েই দেশটির মাটিতে অনুপ্রবেশ করে আইখম্যানকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে। পরে তাকে মাদক খাইয়ে অচেতন অবস্থায় ইসরায়েলি বিমানে তেল আবিবে নিয়ে আসা হয় এবং বিচার শেষে ফাঁসি দেওয়া হয়। এটি মোসাদের ইতিহাসে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
  • অপারেশন এন্টেবে (১৯৭৬ – উগান্ডা): ফিলিস্তিনি ও জার্মান গেরিলারা একটি ফরাসি বিমান হাইজ্যাক করে উগান্ডার এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে জিম্মি করে। মোসাদ ছদ্মবেশে উগান্ডায় ঢুকে বিমানবন্দরের নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং ইসরায়েলি কমান্ডোরা রাতে আকস্মিক অপারেশন চালিয়ে ১০২ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করে।
  • অপারেশন রথ অব গড (Wrath of God – ১৯৭২): মিউনিখ অলিম্পিকে ফিলিস্তিনি ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’ গোষ্ঠীর হাতে ১১ জন ইসরায়েলি অ্যাথলেট নিহত হন। এর প্রতিশোধ নিতে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের নির্দেশে মোসাদ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে খুঁজে গুপ্তহত্যা (Assassination) করে। তবে ১৯৭৩ সালে নরওয়ের লিলিহামারে ভুল তথ্যের কারণে একজন নিরীহ মরক্কোন ওয়েটারকে হত্যা করায় এই মিশনটি চরম আন্তর্জাতিক বিতর্কের মুখে পড়ে।

৩. বৈশ্বিক গোয়েন্দা সমীকরণ: সিআইএ (CIA) এবং র (RAW)

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে মোসাদ এককভাবে চললেও বিশ্বের প্রধান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তাদের গভীর কৌশলগত দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক রয়েছে।

🇺🇸 মোসাদ ও আমেরিকার সিআইএ (CIA):

এটি বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে গভীর গোয়েন্দা জোট। সিআইএ মোসাদকে উন্নত প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ডাটা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়; আর সিআইএ মধ্যপ্রাচ্যে হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স (HUMINT)-এর জন্য মোসাদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যেমন— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ব্যাহত করতে ২০১০ সালে ‘স্টাক্সনেট’ (Stuxnet) সাইবার ভাইরাস আক্রমণ মোসাদ ও সিআইএ যৌথভাবে পরিচালনা করেছিল। তবে এত বন্ধুত্বের পরেও ১৯৮৫ সালে জোনাথন পোলার্ড নামের এক আমেরিকান অ্যানালিস্ট মোসাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অতি গোপনীয় ফাইল বিক্রি করার অপরাধে ধরা পড়লে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরেছিল।

মোসাদ ও ভারতের র (RAW):

১৯৬৮ সালে ভারতের ‘র’ (Research and Analysis Wing) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের সামরিক গতিবিধি এবং কাউন্টার-টেররিজমের ওপর গোপনে তথ্য আদান-প্রদান শুরু হয়। ১৯৯২ সালে ভারত-ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এই সহযোগিতা প্রকাশ্য রূপ নেয়। কারগিল যুদ্ধের সময় ভারত যখন হাই-অল্টিটিউড স্যাটেলাইট ইমেজের সংকটে ভুগছিল, তখন মোসাদ ভারতকে লেজার-গাইডেড ড্রোন ও নিখুঁত ইমেজারি সরবরাহ করেছিল। মুম্বাই হামলার (২৬/১১) পর থেকে ইসলামিক চরমপন্থা ও সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদ দমনে ‘র’ এবং মোসাদ নিয়মিত রিয়েল-টাইম তথ্য শেয়ার করে।

৪. মোসাদের গোপন এজেন্ট নিয়োগ ও ‘মিদ্রাশ’ প্রশিক্ষণ

মোসাদের মূল শক্তির উৎস হলো তাদের নিখুঁত কর্মী নির্বাচন ও অমানুষিক কঠোর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

ক) নিয়োগ প্রক্রিয়া (Recruitment):

  • অভ্যন্তরীণ পুল: মোসাদ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (IDF) বিশেষ কমান্ডো ইউনিট এবং এলিট সাইবার উইং (যেমন: Unit 8200) থেকে তরুণ-তরুণীদের বাছাই করে। তবে বর্তমানে তারা নিজস্ব ওয়েবসাইটেও কোডেড চাকরির বিজ্ঞাপন দেয়।
  • মনস্তাত্ত্বিক স্ক্রিনিং: চাপের মুখে নিখুঁত মিথ্যা বলার ক্ষমতা, চরম একাকীত্ব সহ্য করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যাচাই করতে কয়েক মাস ধরে মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
  • কাটসা (Katsa) ও সায়ানিম (Sayanim): মোসাদের মূল ফিল্ড এজেন্টদের বলা হয় ‘কাটসা’। তবে মোসাদের একটি বড় শক্তি হলো ‘সায়ানিম’। সায়ানিম হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ ইহুদি নাগরিক (যেমন— ডাক্তার, হোটেল মালিক বা গাড়ি ব্যবসায়ী), যারা মোসাদের দাপ্তরিক কর্মী নন, কিন্তু মোসাদ কোনো দেশে অপারেশনে গেলে তারা ঘরোয়া বা লজিস্টিক সাহায্য প্রদান করে।

খ) প্রশিক্ষণ পদ্ধতি (Training):

মনোনীত প্রার্থীদের মোসাদের নিজস্ব গোপন একাডেমি ‘মিদ্রাশ’ (Midrash)’-এ পাঠানো হয়, যেখানে ২ বছরের কঠোর কোর্স করতে হয়:

  1. কভার স্টোরি (Legend): একজন এজেন্টকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ভুয়ো পরিচয় দেওয়া হয়। তাকে সেই চরিত্রের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এমনভাবে আয়ত্ত করতে হয় যেন ঘুমের ঘোরেও সে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ না করে।
  2. অনুপ্রবেশ ও কাউন্টার-নজরদারি: শত্রু দেশে কীভাবে গোপনে ঢুকতে হবে এবং কীভাবে ডেড-ড্রপ (গোপনে তথ্য আদান-প্রদান) করতে হবে তা শেখানো হয়।
  3. চূড়ান্ত পরীক্ষা: প্রশিক্ষণের শেষ ধাপে এজেন্টদের সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো আন্তর্জাতিক শহরে কোনো টাকা বা আসল পরিচয়পত্র ছাড়া ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের টার্গেট দেওয়া হয় সেখানকার কোনো সরকারি ভবনের গোপন নথি চুরি করা বা সুরক্ষিত কারো ছবি তুলে আনা, যা তাদের চূড়ান্ত যোগ্যতা প্রমাণ করে।

নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা রিসোর্স (Sources)

১. আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা ইনস্টিটিউট (Global Intelligence & Strategic Archives): মোসাদের ঐতিহাসিক ডিক্লাসিফাইড অপারেশন (যেমন: অপারেশন আইখম্যান ও এন্টেবে) এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি সংক্রান্ত অফিসিয়াল নথিপত্র।

২. ফরেন পলিসি ও সাইবার সিকিউরিটি জার্নাল (Foreign Policy – Stuxnet Analysis): সিআইএ-মোসাদ যৌথ সাইবার অপারেশন এবং গ্লোবাল কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন ট্র্যাকিং ডাটা।

বিশ্বের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলীর নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ পড়তে নিয়মিত ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ