ইসলাম ও জীবন

সৌদি আরবে কেন আলাদা মাদ্রাসা নেই? বাংলাদেশ ও সৌদির শিক্ষাব্যবস্থার নেপথ্য কারণ
বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার ও বাস্তবতা

নিউজ ডেস্ক

April 30, 2026

শেয়ার করুন

ডেস্ক রিপোর্ট | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামের কেন্দ্রভূমি সৌদি আরবে বাংলাদেশের মতো ‘ঘন ঘন’ মাদ্রাসা দেখা যায় না কেন—এই প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই উঁকি দেয়। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত এবং সামাজিক পার্থক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। নিচে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটি পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরা হলো:

১. সৌদি আরবের সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা

সৌদি আরবে প্রচলিত অর্থে আলাদা মাদ্রাসার আধিক্য না থাকার প্রধান কারণ হলো দেশটির সরকারি সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা

  • একীভূত কারিকুলাম: সৌদি আরবের সাধারণ সরকারি স্কুলগুলোতেই আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত কুরআন, হাদিস এবং আরবি ভাষা সেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক। ফলে আলাদাভাবে মাদ্রাসায় যাওয়ার প্রয়োজন সেখানে অনুভূত হয় না।
  • রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ: দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষার দায়িত্ব নিজেই পালন করে।
  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: সেখানকার মসজিদ এবং ইসলামিক সেন্টারগুলো নিয়মিত ক্লাস ও সেমিনারের আয়োজন করে, যা প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসার বিকল্প হিসেবে কাজ করে। তবে উচ্চতর গবেষণার জন্য মদিনা বা মক্কার মতো শহরগুলোতে বিশেষায়িত ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউট বিদ্যমান।

২. বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার ও বাস্তবতা

বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপকতা মূলত ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে লক্ষ্য করা যায়। এর পেছনে কাজ করে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রভাবক:

  • আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা: বাংলাদেশের অনেক দরিদ্র পরিবারের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা একটি সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প। অধিকাংশ মাদ্রাসায় এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, যা একটি ‘সোশ্যাল সেফটি নেট’ হিসেবে কাজ করে।
  • ধর্মীয় আবেগ ও নৈতিকতা: দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ রয়েছে। অনেক পরিবার বিশ্বাস করে, মাদ্রাসা শিক্ষা সন্তানদের নৈতিক চরিত্র গঠনে বেশি সহায়ক।
  • বেসরকারি উদ্যোগ: বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলো মূলত সাধারণ মানুষের দান এবং বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়। কওমি ও আলিয়া—উভয় ধারার মাধ্যমে এখানে ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্য সংরক্ষিত হচ্ছে।
  • সরকারের স্বীকৃতি: বর্তমান সরকার মাদ্রাসা শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এর সনদের মান উন্নয়ন ও মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন আধুনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উপসংহার

সহজ কথায়, সৌদি আরব তার ধর্মীয় শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় মূলধারার সাধারণ শিক্ষার ভেতরে ঢুকিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী সমান্তরাল ধারা হিসেবে বিকশিত হয়েছে। সৌদিতে মাদ্রাসা নেই—এটি ভুল ধারণা; বরং সেখানকার প্রতিটি সরকারি স্কুলই একাধারে আধুনিক স্কুল এবং মানসম্পন্ন মাদ্রাসা।


তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক

বিস্তারিত তথ্যের জন্য: bdsbulbulahmed.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

অর্থ

নিউজ ডেস্ক

August 26, 2026

শেয়ার করুন

তথ্য ও প্রকাশনা সংক্রান্ত বক্স (Editorial Meta Box)

  • প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): ক্যারিয়ার ও জীবনধারা / আত্মউন্নয়ন
  • প্রকাশের তারিখ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) এবং মনোবিজ্ঞান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সাময়িকী।

জীবন ও ক্যারিয়ারে প্রকৃত স্থায়িত্ব আনার জন্য অর্থনৈতিক প্রাচুর্য, মানসিক সন্তুষ্টি এবং সময়ের সঙ্গে মানানসই জীবনদক্ষতার সঠিক সমন্বয় অপরিহার্য। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় সফলতাকে কেবল ব্যাংকের ব্যালেন্স দিয়ে পরিমাপ করা হলেও, বিশ্বব্যাপী গবেষক ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে প্রকৃত সাফল্য হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, দৈহিক সুস্থতা এবং আত্মিক প্রশান্তির এক সুষম রূপরেখা।

অর্থ কি সফলতার একমাত্র মাপকাঠি? (মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি)

অর্থ মানুষকে জীবনধারণের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেয়, তবে এটি সফলতার একমাত্র চূড়ান্ত পরিণতি নয়। মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক আব্রাহাম মাসলোর ‘চাহিদা সোপান তত্ত্ব’ (Maslow’s Hierarchy of Needs) অনুযায়ী মানুষের প্রাথমিক চাহিদা মেটানোর পর প্রধান প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় আত্মমর্যাদা ও আত্মোপলব্ধি।

  • অর্থের ভূমিকা: আর্থিক সচ্ছলতা মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সহজ করে এবং জীবনযাত্রার সংকট হ্রাস করে।
  • যেখানে অর্থ অকার্যকর: পরম মানসিক শান্তি, গভীর সুসম্পর্ক, ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব এবং শারীরিক সুস্থতা কখনোই কেবল অর্থ দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।
  • জাপানি ‘ইকিগাই’ (Ikigai) দর্শন: জাপানি এই জীবনদর্শন অনুযায়ী, কাজের মূল সার্থকতা আসে ৪টি বিষয়ের মিলবন্ধনে—আপনি যা ভালোবাসেন, যাতে আপনি দক্ষ, যার বাজারমূল্য রয়েছে এবং যা বিশ্ব বা সমাজের কল্যাণে আসে।

ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সাফল্য অর্জনের বৈজ্ঞানিক কৌশল

সাফল্য লাভ কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস ও শৃঙ্খলাবদ্ধতার ফল।

  1. ‘১ শতাংশ উন্নয়ন’ নীতি (Atomic Habits): প্রতিদিন নিজেকে যেকোনো বিষয়ে মাত্র ১% উন্নত করলে, চক্রবৃদ্ধি হারে (Compound Effect) বছর শেষে আপনি ৩৭ গুণ বেশি দক্ষ হয়ে উঠবেন।
  2. পমোডোরো টেকনিক (Pomodoro Technique): কাজের মনোযোগ অক্ষুণ্ন রাখতে ২৫ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ সহকারে কাজ করুন এবং ৫ মিনিটের বিরতি নিন।
  3. টি-শেপড স্কিল (T-Shaped Skills): সাধারণ অনেক বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা রাখার পাশাপাশি যেকোনো একটি নির্দিষ্ট কারিগরি বা প্রফেশনাল বিষয়ে গভীর বিশেষজ্ঞতা (Mastery) অর্জন করুন।
  4. আর্থিক সাক্ষরতা (Financial Literacy): আয়ের একটি অংশ নিয়মিত সঞ্চয় করা, অপ্রয়োজনীয় আবেগপ্রসূত খরচ কমানো এবং সম্পদ বৃদ্ধির জন্য সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ শেখা জরুরি।

বাংলাদেশে যুব বেকারত্ব: বর্তমান চিত্র, কারণ ও সমাধান

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও কর্মসংস্থানের বাজারে দক্ষতার ঘাটতি এক বড় বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার অভাব এর মূল কারণ।

আলোচনার বিষয়বর্তমান পরিস্থিতি ও মূল সমস্যাকার্যকরী উত্তরণের সমাধান
শিক্ষা ও চাকুরির অমিলপ্রচলিত ডিগ্রি থাকলেও করপোরেট চাহিদানুযায়ী ডেটা অ্যানালিটিক্স, আইটি, ডিজিটাল মার্কেটিং বা টেকনিক্যাল জ্ঞানের অভাব।পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক অনলাইন কোর্স ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্কিল তৈরি করা।
মাইন্ডসেটের সীমাবদ্ধতাকেবল সরকারি চাকুরির (BCS/Bank) প্রস্তুতির পেছনে জীবনের মূল্যবান ৪-৫ বছর অতিবাহিত করা।বিসিএস বা চাকুরির প্রস্তুতির সাথে সাথে বিকল্প আয়ের পথ বা ফ্রিল্যান্স স্কিল সচল রাখা।
স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা বাধাপর্যাপ্ত জামানতহীন ব্যাংক ঋণ না পাওয়া এবং আধুনিক বিজনেস মেন্টরশিপের অভাব।ছোট পরিসরে নিজস্ব দক্ষতা বিক্রি দিয়ে শুরু করা (Bootstrapping) এবং সরকারি ক্ষুদ্র ঋণ তহবিলের সদ্ব্যবহার।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও জীবনদর্শন

সাফল্যের মূল পথ কোনো অলৌকিক ম্যাজিক নয়, বরং এটি আপনার দৈনিক অভ্যাসের রূপরেখা। লক্ষ্য স্থির করুন, সময়ের অপচয় রোধে অহেতুক সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং কমান এবং নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক যত্নে মনোযোগ দিন। অর্থ জীবনকে গতিময় করবে, কিন্তু আপনার মানসিক শান্তি ও অর্জনই আপনাকে প্রকৃত সফল মানব হিসেবে গড়ে তুলবে।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

প্রাচীন সরকারি স্কুল

নিউজ ডেস্ক

August 26, 2026

শেয়ার করুন

  • প্রতিবেদক / লেখক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (Senior Content & SEO Consultant)
  • বিভাগ (Category): শিক্ষা ও ইতিহাস / বাংলাদেশ
  • প্রকাশের তারিখ: ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • তথ্যসূত্র (Sources): জাতীয় তথ্য বাতায়ন, জেলা রেকর্ড ও ঐতিহাসিক শিক্ষাসংক্রান্ত নথি

উপমহাদেশে আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা ও বিজ্ঞান চর্চার মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ব্রিটিশ শাসনামলে। তৎকালীন জেলাভিত্তিক শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঐতিহাসিক ‘জিলা স্কুল’ ও ‘কলেজিয়েট স্কুল’ সমূহ।

শতবর্ষের প্রাচীর টপকে আজও ঐতিহ্য ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা জ্বালিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রাচীন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন সরকারি স্কুল: রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল (১৮২৮)

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অবস্থিত সর্বপ্রাচীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হলো রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল

  • প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দ।
  • প্রারম্ভিক ইতিহাস: এটি প্রথমে ‘বোয়ালিয়া ইংলিশ স্কুল’ (Boalia English School) নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৮৩৬ সালে লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকের আমলে সরকার এটি অধিগ্রহণ করে সরকারি রূপ দেয়।
  • নামকরণ: ১৮৭৩ সালে এই স্কুলের সাথে কলেজ শাখা যুক্ত করা হলে এর নতুন নামকরণ হয় ‘রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল’। এখান থেকেই পরবর্তীতে বিখ্যাত ‘রাজশাহী কলেজ’-এর উৎপত্তি ঘটে।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ৭টি প্রাচীন জিলা স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

প্রতিষ্ঠানের নামপ্রতিষ্ঠার বছরঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিশেষত্ব
বরিশাল জিলা স্কুল১৮২৯বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জিলা স্কুল। মি. এন. ডব্লিউ গ্যারেটের উদ্যোগে ‘বরিশাল ইংলিশ স্কুল’ নামে শুরু হয়। ১৮৫৩ সালে এটি সরকারি জিলা স্কুলের মর্যাদা পায়।
রংপুর জিলা স্কুল১৮৩২লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক কর্তৃক “জমিদারদের স্কুল” হিসেবে ভিত্তিস্থাপন। পরবর্তীতে কোচবিহারের রাজার অর্থায়নে স্থায়ী ভবন তৈরি হয়।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল১৮৩৫ঢাকা অঞ্চলের প্রথম সরকারি হাই স্কুল। ‘ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি’ নামে বুড়িগঙ্গার তীরে নীলকুঠির বাংলোতে এর ক্লাস শুরু হয়েছিল।
কুমিল্লা জিলা স্কুল১৮৩৭ইংরেজ শিক্ষক এইচ জি লেজিস্টার এটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেই প্রথম প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।
যশোর জিলা স্কুল১৮৩৮৩ ফেব্রুয়ারি ‘যশোর মডেল স্কুল’ নামে যাত্রা শুরু। বিখ্যাত বহুভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।
নোয়াখালী জিলা স্কুল১৮৫০নদীভাঙনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার ইতিহাস। মেঘনার ভাঙনে বহুবার স্থানান্তরিত হয়ে ১৯৫৩ সালে বর্তমান মাইজদীতে স্থায়ী রূপ পায়।
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল১৮৫৩১৮৪৬ সালে ‘হার্ডিঞ্জ স্কুল’ নামে শুরু হয়। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর পিতা ভগবানচন্দ্র বসু এর প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন।

কেন জিলা স্কুলগুলো শিক্ষার ইতিহাসে অনন্য?

  • শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি: তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়ে আধুনিক মেধা তৈরিতে এসব প্রতিষ্ঠান মূল ভূমিকা রেখেছিল।
  • ঐতিহাসিক অবদান: এই বিদ্যালয়গুলোর আঙিনা থেকে উঠে এসেছেন বহু কালজয়ী বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ও গবেষক, যাঁরা ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

পুরো পৃথিবী শাসনকারী দুই মুসলিম বাদশা

নিউজ ডেস্ক

August 25, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: বিশেষ গাইড / ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | ইসলামিক রিসার্চ ও এসইও এডিটর

ইসলামিক ইতিহাস, তাফসির ও বিভিন্ন বর্ণনা অনুসারে—পৃথিবীর ইতিহাসে শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাত্র চারজন শাসক সমগ্র বিশ্বের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য ও শাসন ক্ষমতা লাভ করতে পেরেছিলেন। বিখ্যাত মুফাসসির আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) তাঁর ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ গ্রন্থে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, এই চারজন বিশ্বশাসকের মধ্যে দুইজন ছিলেন মুমিন (মুসলিম) এবং দুইজন ছিলেন কাফির

যে দুই বিশ্বখ্যাত মুমিন ও মুসলিম বাদশা পুরো পৃথিবী শাসন করেছিলেন, তাঁরা হলেন—

১. হজরত সুলাইমান (আ.)

২. বাদশাহ জুলকারনাইন

(অন্যদিকে কাফির দুই শাসক ছিলেন নমরুদ এবং বাবেল বা ব্যবিলনের রাজা বখতে নেছার/নেবুচাদনেজার)।

নিচে এই দুই মহান মুমিন সম্রাটের শাসনব্যবস্থা ও পবিত্র কুরআনের রেফারেন্সসহ ইন-ডেপথ রূপরেখা তুলে ধরা হলো।

১. সমগ্র বিশ্ব শাসনকারী চার সম্রাটের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

                                [ বিশ্ব শাসনকারী চার সম্রাট ]
                                             │
        ┌────────────────────────────────────┴────────────────────────────────────┐
        ▼                                                                         ▼
 [ ১. মুমিন/মুসলিম শাসক ]                                                 [ ২. কাফির/অমুসলিম শাসক ]
  • হজরত সুলাইমান (আ.)                                                     • নমরুদ (ইব্রাহিম আ.-এর সাময়িক প্রতিপক্ষ)
  • বাদশাহ জুলকারনাইন                                                      • বখতে নেছার (নেবুচাদনেজার)

২. কুরআনের আলোকে দুই মুসলিম বাদশার শাসন ও ক্ষমতা

বাদশার নামশাসনামলের বিশেষ ক্ষমতাকুরআনের প্রধান রেফারেন্স
হজরত সুলাইমান (আ.)মানুষ, জিন, বাতাস এবং পশুপাখির ওপর অলৌকিক কর্তৃত্ব ও একচ্ছত্র শাসনসূরা আন-নামল (আয়াত ১৬, ১৮) & সূরা সাবা (আয়াত ১২)
বাদশাহ জুলকারনাইনপ্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্য পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার, ন্যায়বিচার ও ইয়াজুজ-মাজুজ প্রতিরোধে তামা-লোহার প্রাচীর নির্মাণসূরা আল-কাহফ (আয়াত ৮৩-৯৮)

৩. দুই মহান মুমিন শাসকের শাসন ব্যবস্থার বিস্তারিত বিবরণ

                           [ দুই মুমিন শাসকের ক্ষমতার উৎস ]
                                             │
       ┌─────────────────────────┬───────────┴───────────┬─────────────────────────┐
       ▼                         ▼                       ▼                         ▼
 [ পশুপাখির ভাষা ]         [ বাতাসের গতি ]         [ জিনের ওপর নিয়ন্ত্রণ ]     [ বৈশ্বিক ন্যায়বিচার ]
  • সুলাইমান (আ.) কে          • এক মাসের পথ এক         • জ্বিন প্রজাতি তাঁর         • জুলকারনাইনের প্রাচ্য ও
    পাখির ভাষা শেখানো হয়।       দিনে অতিক্রম করতেন।       হুকুম মেনে কাজ করত।        প্রতীচ্যে ন্যায় শাসন।

১. হজরত সুলাইমান (আ.)

আল্লাহ তাআলা তাঁকে কেবল মানুষের ওপরই নয়, বরং সমগ্র জগত—যেমন জিন জাতি, বাতাস এবং সমস্ত পশুপাখির ওপর অলৌকিক ক্ষমতা দান করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:

“সুলাইমান ছিল দাঊদের উত্তরাধিকারী এবং সে বলেছিল, ‘হে লোক সকল! আমাকে পাখির বুলি শেখানো হয়েছে এবং আমাকে সর্বপ্রকার বস্তু প্রদান করা হয়েছে। এ অবশ্যই সুস্পষ্ট অনুগ্রহ।'”(সূরা আন-নামল: ১৬)

২. বাদশাহ জুলকারনাইন

জুলকারনাইন ছিলেন একজন একত্ববাদী, ন্যায়পরায়ণ এবং অত্যন্ত শক্তিশালী মহান বাদশা। আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত শাসন করার উপায়-উপকরণ ও ক্ষমতা দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বভ্রমণকালে উৎপীড়িত জাতিকে রক্ষার জন্য ইয়াজুজ ও মাজুজের হামলা থেকে বাঁচতে লোহা ও গলিত তামার তৈরি এক সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেন।

“আমি তাকে পৃথিবীতে আধিপত্য দান করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায়-উপকরণ দিয়েছিলাম।”(সূরা আল-কাহফ: ৮৪)

৪. শেষ বিচারে ইসলামিক শিক্ষা

১. ক্ষমতার আসল মালিক আল্লাহ: এই দুই মহীয়ান শাসকের ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার মালিক হলেও তাঁরা কখনো অহংকারী হননি, বরং আল্লাহর শোকরগুযারি করেছেন।

২. ন্যায়বিচারের আদর্শ: রাষ্ট্র পরিচালনায় জুলকারনাইন ও সুলাইমান (আ.)-এর ন্যায়পরায়ণতা বিশ্বের সর্বকালের শাসকদের জন্য এক অনুপম দৃষ্টান্ত।

প্রতিবেদন পর্যালোচনার শেষ কথা: পৃথিবীর ইতিহাসে অনেক প্রভাবশালী শাসক আসলেও সমগ্র বিশ্বকে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসনকারী প্রধান দুই মুসলিম ব্যক্তিত্ব হলেন হজরত সুলাইমান (আ.) ও বাদশাহ জুলকারনাইন।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ