ইসলাম ও জীবন
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিভাগ: ধর্ম ও জীবন / বিজ্ঞান
পৃথিবীর প্রতিটি সৃষ্টিই মহান আল্লাহর এক একটি নিপুণ কারুকার্য। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আমি কোনো কিছুই উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করিনি।” আমাদের চারপাশে এমন অনেক প্রাণী আছে যা নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহলের শেষ নেই। তেমনই একটি প্রাণী হলো শুকর। ইসলাম ধর্মে শুকরের মাংস খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম করা হলেও, প্রাণী হিসেবে এর সৃষ্টির পেছনে রয়েছে গভীর রহস্য এবং বৈজ্ঞানিক প্রয়োজনীয়তা।


১. পরিবেশের ভারসাম্য ও ‘প্রাকৃতিক মেথর’

আল্লাহ তায়ালা শুকরকে সৃষ্টি করেছেন মূলত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য। প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানে (Ecosystem) শুকরকে বলা হয় ‘স্ক্যাভেঞ্জার’ বা পচনশীল দ্রব্য ভক্ষণকারী।
- পরিচ্ছন্নতা: এরা পরিবেশে পড়ে থাকা পচা আবর্জনা, বিষাক্ত পোকামাকড় এবং উচ্ছিষ্ট খেয়ে প্রকৃতিকে রোগমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখে।
- বীজ বপন: বন্য শুকররা মাটি খুঁড়ে খাবার খোঁজার সময় বনের মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে বনায়নে ভূমিকা রাখে।
২. ইসলাম ও ইহুদি ধর্মে শুকর হারামের নেপথ্য কারণ

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, আল্লাহ যদি সৃষ্টিই করবেন তবে এটি খাওয়া হারাম করলেন কেন? এর পেছনে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কিছু প্রেক্ষাপট রয়েছে:
- ঐশী বিধান ও পরীক্ষা: ইসলামে শুকরকে ‘রিজসুন’ (Rijsun) বা অপবিত্র বলা হয়েছে (সূরা আন-আম: ১৪৫)। এটি মূলত মুমিনদের জন্য এক প্রকার পরীক্ষা—আল্লাহর নির্দেশ মান্য করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
- ইহুদি ধর্মের প্রভাব ও মিল: ইহুদি ধর্মে (তৌরাত অনুযায়ী) কোনো পশু ভক্ষণযোগ্য হওয়ার জন্য দুটি শর্ত লাগে—তাকে জাবর কাটতে হবে এবং পায়ের খুর সম্পূর্ণ বিভক্ত হতে হবে। শুকর জাবর কাটে না বলে ইহুদিদের জন্য এটি নিষিদ্ধ ছিল। যেহেতু ইসলাম পূর্ববর্তী কিতাবধারী নবীদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তাই এই স্বাস্থ্যকর ও আধ্যাত্মিক নিষেধাজ্ঞা ইসলামেও বজায় রাখা হয়েছে।
৩. শুকরের বিবর্তন ও অদ্ভুত শারীরিক বৈশিষ্ট্য

শুকর অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং সংবেদনশীল প্রাণী। এদের কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্য সত্যিই বিস্ময়কর:
- ঘাম গ্রন্থির অভাব: শুকরের শরীরে কোনো ঘাম নিঃসরণকারী গ্রন্থি নেই। তাই শরীর ঠান্ডা রাখতে এরা কাদা বা নোংরা মাটিতে গড়াগড়ি করে। এটি তাদের নোংরা হওয়ার স্বভাব নয়, বরং বেঁচে থাকার জৈবিক প্রক্রিয়া।
- নাকের বিবর্তন: আদি বন্য শুকর থেকে গৃহপালিত শুকরের নাকের গঠন বর্তমানে বেশ চ্যাপ্টা। মাটি খুঁড়ে খাবার খোঁজার অভ্যাস থেকেই বিবর্তনের ধারায় এরা বর্তমানের এই শক্তিশালী ও অদ্ভুত নাক পেয়েছে।
৪. মানুষের প্রতি ঘৃণা নয়, বরং বিধান পালন
ইসলাম ধর্মে শুকরকে অশুভ বা অভিশপ্ত প্রাণী বলা হয়নি। এটি কেবল একটি ভক্ষণ-নিষিদ্ধ প্রাণী।
- মানবিকতা: কোনো মুসলিমের জন্য শুকরকে বিনা কারণে ঘৃণা করা বা এর ওপর নিষ্ঠুরতা চালানো অনুমোদিত নয়।
- চিকিৎসা বিজ্ঞান: বর্তমান সময়ে শুকরের হার্ট ভালভ মানুষের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে, যা প্রমাণ করে স্রষ্টার প্রতিটি সৃষ্টিরই কোনো না কোনো কল্যাণকর দিক রয়েছে।
এক নজরে শুকর সংক্রান্ত কিছু তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| বুদ্ধিমত্তা | কুকুরের চেয়েও বেশি বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে পরিচিত। |
| খাদ্যাভ্যাস | সর্বভুক (Omnivore); যা পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। |
| ধমীয় মর্যাদা | খাওয়া হারাম, কিন্তু অহেতুক হত্যা বা ঘৃণা করা নিষিদ্ধ। |
| চিকিৎসা বিজ্ঞান | অঙ্গ প্রতিস্থাপন ও ইনসুলিন তৈরিতে গবেষণার মূল কেন্দ্র। |
উপসংহার
শুকর সৃষ্টি করার মূল উদ্দেশ্য অন্য প্রাণীদের মতোই—পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। এর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পেছনে মহান আল্লাহর হয়তো এমন কোনো রহস্য রয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞান আজও পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারেনি। তবে একজন বিশ্বাসী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো প্রাণীকুলের প্রতি দয়ালু হওয়া এবং স্রষ্টার দেওয়া বিধান মেনে চলা।
তথ্যসূত্র:
১. আল-কোরআন (সূরা আল-বাকারা, সূরা আন-আম)।
২. বাইবেল/তৌরাত (লেভীটিকাস ১১:৭)।
৩. ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক – শুকরের বিবর্তন ও বাস্তুসংস্থান রিপোর্ট।
৪. সংগ্রামের নোটবুক ও ঐতিহাসিক দলিলসমূহ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিভাগ: বিশেষ নিবন্ধ / আর্ট ও কালচার / বিশ্ব চিন্তা ও দর্শন
প্রকাশের সময়: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:৫০ (বিএসটি)
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ বিশ্লেষণাত্বক নিবন্ধ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় সমাজব্যবস্থায় ‘মূর্তি’ এবং ‘ভাস্কর্য’—এই দুটি শব্দ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে এটিকে প্রযুক্তিগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা করার প্রয়াস, অন্যদিকে শিল্পকলা ও নন্দনতত্ত্বের দিক থেকে উভয়কে একই সুতোয় বাঁধার প্রবণতা দেখা যায়।

কিন্তু প্রযুক্তিগত বিজ্ঞান, চারুকলার ইতিহাস এবং সামাজিক ব্যবহারের দিক থেকে এই দুটির আসল সম্পর্ক এবং পার্থক্য কী? একটি বস্তুনিষ্ঠ ও একাডেমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. প্রযুক্তিগত ও উপাদানভিত্তিক সংজ্ঞা: শিল্প বনাম উদ্দেশ্য

কারিগরি বা প্রযুক্তিগত দিক থেকে যেকোনো ত্রিমাত্রিক (3D) বস্তুকে, যা খোদাই করে (Carving), ছাঁচে ঢেলে (Casting) বা সংযোগের (Assembly) মাধ্যমে রূপ দেওয়া হয়, তাকে চারুকলার ভাষায় ‘ভাস্কর্য’ (Sculpture) বলা হয়।
তবে এদের মূল বিভাজনটি তৈরি হয় ‘ব্যবহারগত উদ্দেশ্য’ এবং ‘অনুকৃতি’ (Representation)-র ওপর ভিত্তি করে:
[ ত্রিমাত্রিক রূপ (3D Form) ]
│
┌────────────────────────┴────────────────────────┐
▼ ▼
[ ভাস্কর্য (Sculpture) ] [ মূর্তি (Statue / Idol) ]
• উদ্দেশ্য: নান্দনিক, স্মারক, বিমূর্ত ভাব প্রকাশ। • উদ্দেশ্য: নির্দিষ্ট অবয়বের আরাধনা, স্মৃতি বা পূজা।
• বৈচিত্র্য: বিমূর্ত (Abstract) বা জ্যামিতিক হতে পারে। • বৈচিত্র্য: সর্বদা নির্দিষ্ট কোনো সজীব প্রাণী/দেবী।
• মাধ্যম: ব্রোঞ্জ, লোহা, স্ক্র্যাপ, পাথর, গ্লাস। • মাধ্যম: নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় অনুপাত, কষ্টিপাথর, ধাতু।
- ভাস্কর্য (Sculpture): এটি একটি বিস্তৃত পরিভাষা। ভাস্কর্য কোনো জীবন্ত সত্তার অবয়ব হতে পারে, আবার সম্পূর্ণ বিমূর্ত (Abstract) বা জ্যামিতিক নকশাও হতে পারে। এর প্রাথমিক লক্ষ্য সৌন্দর্যবর্ধন, ধারণাগত চিন্তা প্রকাশ বা ঐতিহাসিক স্মৃতি ধরে রাখা।
- মূর্তি (Statue/Idol): মূর্তি হলো ভাস্কর্যেরই একটি নির্দিষ্ট রূপ, যা সর্বদা কোনো সজীব বস্তু, মানুষ বা কাল্পনিক দেব-দেবীর অবয়বে তৈরি হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য সাধারণত ধর্মীয় আচার, পূজা-অর্চনা (Iconography) বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিসত্তাকে স্মরণ করা।
প্রযুক্তিগত সারসংক্ষেপ: কারিগরি বিচারে “সব মূর্তোই ভাস্কর্য, কিন্তু সব ভাস্কর্য মূর্তি নয়।”
২. শিল্পকলার বৈশ্বিক বিবর্তন ও রূপান্তর

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, আদিম যুগ থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত সময়ের সাথে সাথে মূর্তি ও ভাস্কর্যের প্রয়োগে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে।
- প্রাগৈতিহাসিক যুগ: মানুষের তৈরি প্রথম ত্রিমাত্রিক রূপগুলো ছিল প্রাকৃতিক শক্তিকে বশ করা বা উর্বরতার প্রতীক (যেমন: অস্ট্রিয়ার ‘ভেনাস অব উইলেনডর্ফ’)। এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক মূর্তিশিল্পের আদি রূপ বলা যায়।
- ধ্রুপদী যুগ (গ্রিক ও রোমান): এই যুগে শিল্পকলা কেবল দেব-দেবীর পূজার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসে। মানবদেহের নিখুঁত শারীরস্থান (Anatomy) ও গতিশীলতা ব্যবহার করে অলিম্পিক বিজয়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের ভাস্কর্য তৈরি শুরু হয়।
- আধুনিক ও সমকালীন যুগ: বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভাস্কর্য কোনো সজীব আকৃতি বা মূর্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। স্টিল, ডিজিটাল আর্ট, প্লাস্টিক ও স্ক্র্যাপ মেটালের সমন্বয়ে তৈরি বিমূর্ত ভাস্কর্য এখন আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ।
৩. ভারতীয় উপমহাদেশের মূর্তিশিল্প ও এর গভীর সংকেত (Iconography)

দক্ষিণ এশিয়ার মূর্তিশিল্পের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষ করে তিনটি প্রধান রীতিনীতিতে কারিগরি দক্ষতা ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে:
ক. গান্ধার শিল্প (গ্রেকো-রোমান ও বৌদ্ধ ধারা)
কুষাণ যুগে বিকশিত এই শিল্পে প্রথম মানবীয় অবয়বে বুদ্ধের রূপদান করা হয়।
- প্রতীকী উপাদান: মাথায় থাকা উষ্ণীষ পরম জ্ঞান, দুই ভ্রুর মাঝে থাকা ঊর্ণা দিব্যদৃষ্টি এবং প্রসারিত কানের লতি রাজকীয় অলংকার ত্যাগের চিহ্ন বহন করে।
খ. পাল শিল্প (কষ্টিপাথর ও প্রাচীন বাংলা)
৮ম থেকে ১২ শতকে প্রাচীন বাংলায় কষ্টিপাথর (Black Basalt) ও অষ্টধাতুর মূর্তিশিল্প চরম উৎকর্ষ লাভ করে।
- অবলোকিতেশ্বর ও বিষ্ণু: বুদ্ধের হাতে থাকা পদ্ম সংসারের মোহ থেকে মুক্তির প্রতীক। অপরদিকে বিষ্ণুর হাতে থাকা সুদর্শন চক্র মহাজাগতিক কালচক্র এবং গদা মানুষের অহংকার চূর্ণ করার প্রতীক।
গ. চোল ব্রোঞ্জ শিল্প (লস্ট-ওয়াক্স প্রযুক্তি)
দক্ষিণ ভারতে ‘লস্ট-ওয়াক্স কাস্টিং’ (Lost-Wax Technique) বা মোম গলিয়ে ছাঁচ তৈরির প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত নটরাজ (শিব) মূর্তি তৈরি হয়।
- নটরাজের রূপক: ডান হাতের ডমরু দ্বারা সৃষ্টির সূচনা, বাম হাতের অগ্নি দ্বারা রূপান্তর ও ধ্বংস, এবং পায়ের নিচে থাকা অসুরের রূপ (অপস্মার) দ্বারা মানুষের অজ্ঞতা দমনের বার্তা প্রকাশ পায়।
৪. দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা: ইসলামি আইন শাস্ত্র ও সেক্যুলার নান্দনিকতা

মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে সামাজিক মতভেদের প্রধান কারণ হলো দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পার্থক্য:
| দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্র | বিশ্লেষণ ও অবস্থান |
| ইসলামি তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি (Aniconism) | ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকহের মতে, উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘মূর্তি’ এবং কেবল প্রদর্শনী বা স্মারক হিসেবে নির্মিত যেকোনো সজীব বস্তুর (মানুষ বা প্রাণী) ‘ভাস্কর্য’—উভয়ের ক্ষেত্রে সজীব রূপ সৃষ্টির বিষয়টিকে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। ফলে ধর্মীয় নীতি অনুসারে যেকোনো সজীব বস্তুর অবয়ব তৈরি করা থেকে বিরত থাকার বিধান দেওয়া হয়। |
| সেক্যুলার ও চারুকলা দৃষ্টিভঙ্গি | এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাস্কর্যকে কেবল সংস্কৃতি, নান্দনিক সৌন্দর্য, ইতিহাস ও নাগরিক স্থাপত্যের রূপক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে উদ্দেশ্যকে মুখ্য ধরে ধর্মীয় অনুভূতির উপাসনার সাথে অনুষঙ্গহীন শিল্পকর্মকে আলাদা হিসেবে দেখা হয়। |
সামাজিক বার্তা ও উপসংহার
মূর্তি ও ভাস্কর্য—উভয়েই মানব সভ্যতার বিবর্তনের সাথে যুক্ত প্রাচীন মাধ্যম। প্রযুক্তিগতভাবে এদের নির্মাণকৌশল এক হলেও, উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের জায়গা থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় এসব ঐতিহাসিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোকে গভীরভাবে বোঝা এবং পারস্পরিক সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তার পরিচয় দেয়।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রচ্ছদ নিবন্ধ ও ডেসপ্যাচ
- প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬ | রাত ১১:১৫ (বিএসটি)
- গবেষণা ও পরিকল্পনা: গবেষণা ও সত্যতা যাচাই বিভাগ (Fact-check & Research Desk)
- সম্পাদনায়: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
- বিভাগ: ইতিহাস ও বিশ্ব সংস্কৃতি / বিশেষ বিশ্লেষণাত্মক ফাইল
নরবলি কী? এর ইতিহাস কেমন?
বিশ্বের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় যেসব বিষয় মনুষ্যত্বকে কলঙ্কিত করেছে, ‘নরবলি’ সেগুলোর মাঝে নিঃসন্দেহে শীর্ষস্থানীয়। সেই খ্রিস্টপূর্ব সময়কাল থেকে শুরু করে এই একবিংশ শতকেও পাওয়া গেছে নরবলির বিভিন্ন নমুনা। তেমনই কিছু ইতিহাস নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের এ লেখাটি।
১. কার্থেজ
প্রাচীন বিশ্বে অন্যতম সমৃদ্ধিশালী এবং একইসাথে ক্ষমতার অধিকারী ছিলো কার্থেজের অধিবাসীরা। কিন্তু এরপরও তাদের মাঝে এমন কিছু অদ্ভুত রীতিনীতি প্রচলিত ছিলো যা তৎকালীন অনেকের কাছেই বেশ বর্বর হিসেবে ঠেকতো। এর মাঝে অন্যতম ছিলো শিশুবলি দেয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তেই তারা সেসব করতো। আরেকদিক দিয়ে ঘৃণ্য এ কাজটি তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। কার্থেজের ধনী লোকেরা তাদের সম্পত্তির সুরক্ষার জন্য নিজেদের সন্তানদেরকে দেবতার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতো।
Source: Dennis Jarvis/Flickr
অনেকেই অনুমান করে থাকেন ৮০০ থেকে ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত (এ সময় রোমানরা কার্থেজ দখল করে নেয়) কার্থেজের আনুমানিক ২০,০০০ শিশুকে হত্যা করা হয়েছিলো ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে বলি দিতে গিয়ে। তবে এ মতের বিরোধীতাও করে থাকেন অনেক ঐতিহাসিক। তাদের মতে সেই শিশুদের অনেকে প্রাকৃতিক কারণেই মারা গিয়েছিলো।
২. ইসরায়েল
বিশেষজ্ঞদের মতে, নরবলি প্রচলিত ছিলো প্রাচীন ইসরায়েলেও। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের শিশুদেরকে পুড়িয়ে এ বলিদানের কাজটি সারতো। আর যে দেবতার উদ্দেশ্যে এমনটি করা হতো, তার নাম ছিলো মলোখ। তবে তাদের সবাই যে এমনটা করতো সেটা না। এক গুপ্ত সংঘের সদস্য, যারা মলোখকে তাদের দেবতা হিসেবে মানতো, তারাই এমনটা করে থাকতো।
Source: TopTenz
তবে এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে থাকেন অনেক ইতিহাসবিদই। তাই আজও এর সত্যতা রহস্যাবৃতই রয়ে গেছে।
৩. এট্রুস্কান সভ্যতা
প্রাচীন ইতালির বেশ সম্পদশালী ও ক্ষমতাবান এক সভ্যতার নাম এট্রুস্কান। টুস্কানি, পশ্চিম আম্ব্রিয়া ও উত্তর লাজিওতে ছিলো তাদের বসবাস। মূলত কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমেই জীবিকা উপার্জন করতো তারা। কার্থেজ ও গ্রীসের সাথে তাদের বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক বজায় ছিলো। পাশাপাশি বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যও তাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতো।
Source: TopTenz
এমন একটি সভ্যতার মাঝেও যে নরবলির মতো বিষয়টি প্রচলিত থাকবে, তা অনেক ইতিহাসবিদই মানতে চান নি। তবে ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের একদল প্রত্নতত্ত্ববিদের গবেষণায় সেটারও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো। টার্কুইনিয়াতে তারা এমন কিছু বলি দেয়া মানুষের কবরের সন্ধান পেয়েছিলেন। এদের মাঝে ছিলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা যারা অসুস্থ, নিম্ন সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন কিংবা ভিনদেশী ছিলো।
৪. চীন
নরবলির বিষয়টি প্রাচীন চীনে বেশ সাধারণ একটি ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। এর সবচেয়ে বেশি বিস্তৃতি ঘটেছিলো শ্যাং রাজবংশের শাসনামলে। তখন অবশ্য এত বৃহৎ পরিসরে সংঘটিত নরবলির দুটো উদ্দেশ্য ছিলো- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে খতম করা এবং স্রষ্টার মনোরঞ্জন করা।
Source: Chinese Cultural Relics
চীনের সেই নরবলিগুলো হতো তিন রকমের। মাটিতে গর্ত করে উৎসর্গ করা হতো যুবকদের। তাদের সবারই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করা থাকতো, সাথে থাকতো না নিজেদের ব্যবহার্য কোনো জিনিসও। বিভিন্ন স্থাপনায় বলি দেয়া হতো শিশুদের। তাদের মৃত্যুটা কার্যকর করা হতো বেশ মর্মান্তিক উপায়ে। কিছুটা আলাদা জায়গায় বলি দেয়া হতো কিশোরী ও তরুণীদের। অবশ্য প্রথম দু’শ্রেণীর মতো তাদের মৃতদেহের করুণ অবস্থা হতো না। দুর্ভাগা সেই কিশোরী ও তরুণীদের মৃতদেহের সৎকার ঠিকমতোই করা হতো।
৫. হাওয়াই
এককালে হাওয়াইয়ের অধিবাসীরা মনে করতো নরবলি দেয়ার মাধ্যমে তারা যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার দেবতা ‘কু’-এর আশীর্বাদ লাভ করতে পারবে, প্রতিপক্ষকে হারাতে পারবে নানা যুদ্ধে। এ আশায় তাদের মন্দিরগুলোতে চলতো নরবলি, যেটিকে তারা বলতো ‘হেইয়াউ’। সাধারণত বিভিন্ন প্রতিপক্ষ গোত্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি, যারা যুদ্ধে বন্দী হয়েছিলেন, তাদেরকেই বলি দেয়ার জন্য বেছে নেয়া হতো।
Sourcce: TopTenz
এজন্য সেই দুর্ভাগাকে কোনো কাঠের ফ্রেমে প্রথমে উল্টো করে ঝোলানো হতো। তারপর তাকে এমনভাবে পেটানো হতো যে তাতেই বেচারার প্রাণপাখি উড়াল দিতো। অতঃপর লোকটির নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা হতো। বলি কিন্তু ততক্ষণে মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে। এবার সেই মৃতদেহ হয় রান্না করা হতো কিংবা কাঁচা খাওয়া হতো। খাদকদের মাঝে থাকতেন পুরোহিত ও গোত্রপতিরা।
৬. মেসোপটেমিয়া
বর্তমান ইরাকের অধিকাংশ, কুয়েত, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চল, তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং তুর্কি-সিরীয় ও ইরান-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো এককালে মেসোপটেমিয়ার অংশ ছিলো। এখানকার অধিবাসীদের মাঝেও নরবলির প্রথা প্রচলিত ছিলো। রাজসভার সভাসদবর্গ, যোদ্ধা ও চাকরদেরকে তাদের মালিকের সাথে কবর দেয়া হতো যেন পরকালেও তারা তাদের মালিকের সেবা-যত্ন করতে পারে। যোদ্ধাদের সাথে তাদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দেয়া হতো, অপরদিকে চাকরদের মাথায় শোভা পেতো পাগড়ি।
অনেকদিন ধরেই ঐতিহাসিকেরা মনে করতেন এই লোকগুলোকে মারতে বিষ ব্যবহার করা হতো। কিন্তু পরবর্তীতে এ ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। দুর্ভাগা সেই মানুষগুলোকে মারতে তাদের মাথায় বর্শা ঢুকিয়ে দেয়া হতো!
৭. অ্যাজটেক
নরবলির পেছনে অ্যাজটেকদের দর্শন ছিলো বেশ অদ্ভুত। তারা মনে করতো তাদের দেয়া এই নরবলিই সূর্যকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করবে! বলির শিকার হওয়া মানুষের রক্তকে তারা বেশ পবিত্র মনে করতো। তাদের বিশ্বাস ছিলো এই রক্ত তাদের সৌরদেবতা হুইতজিলোপোখ্তলির রাগ প্রশমন ও পুষ্টির জন্য অতীব প্রয়োজনীয়।
Source: More Than A Magazine | Sia Magazin
অ্যাজটেকদের নরবলি দেয়ার প্রথাটা ছিলো বেশ ভয়াবহ। এতে স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি যুদ্ধবন্দীদেরও ব্যবহার করা হতো। কখনো কখনো বলি দিতে চাওয়া মানুষটিকে প্রথমে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো মন্দিরে। সেখানে অবস্থানরত পুরোহিত লোকটির গলা থেকে শুরু করে একেবারে পেট পর্যন্ত চিরে ফেলতেন! এরপর লোকটির হৃদপিণ্ড উৎসর্গ করা হতো দেবতার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে দেহের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা হতো।
৮. মিশর
Source: The Ancient Egypt Site
এককালে প্রাচীন মিশরেও প্রচলিত ছিলো নরবলির এ প্রথা। সেখানে একজন দাস বা ফারাওয়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গীকে তার সাথে কবর দেয়া হতো যেন মৃত্যু পরবর্তী জীবনেও তিনি তার মনিবের সেবা করে যেতে পারেন। ইজিপ্টোলজিস্ট জর্জ রেইজনার জানিয়েছেন, রাজা জার ও আহার কবরগুলো তাদের ভৃত্যদের দিয়ে পরিপূর্ণ ছিলো। সেই ভৃত্যদের সাথে দেয়া হয়েছিলো বিভিন্ন দরকারি জিনিসপত্র যাতে পরকালে মনিবের সেবা করতে কোনোরুপ অসুবিধা না হয়!
৯. ইনকা
ইনকা সভ্যতার লোকেরা স্রষ্টার সন্তুষ্টির নিমিত্তে নরবলি দিতো। এজন্য তারা সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করতো শিশুদের। প্রায়ই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদি নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতো ইনকা সাম্রাজ্য। তারা মনে করতো কেবলমাত্র নরবলির মাধ্যমেই এসব দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তাই স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে প্রাণ হারাতে হতো ইনকা শিশুদের।
ইনকা শিশুদের মমি; Source: Scientific Reports Gómez Carballa et al
আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, তাদের সমাজে এমন অনেক শিশুও ছিলো যাদের বড় করার উদ্দেশ্যই ছিলো কেবল বলি দেয়া! এসব শিশুদের বলির ব্যাপারকে ইনকারা ‘সবচেয়ে পবিত্র বলি’ হিসেবে মনে করতো। তারা বিশ্বাস করতো মৃত্যুর পর এ শিশুরা অনেক সুন্দর এক জীবনের অধিকারী হবে। অবশ্য মৃত্যুর আগে তাদের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করা হতো। তাদেরকে দেয়া হতো পছন্দসই খাবার, এমনকি মিলতো সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্যও।
১০. ফিজি
যদিও আজকের লেখায় উল্লেখ করা প্রতিটি বর্ণনাই বেশ কষ্টদায়ক, তবে ফিজির ঘটনাটি আরো বেশিই কষ্টদায়ক। সেখানে এককালে নিয়ম ছিলো স্বামী মারা গেলে তার স্ত্রীকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে হবে। সেখানকার নানা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী বেশ গুরুত্বের সাথেই এ নিয়মটি অনুসরণ করতো। তারা বিশ্বাস করতো স্ত্রীর কর্তব্য হলো ইহকালের পাশাপাশি পরকালেও স্বামীকে সঙ্গ দেয়া। এজন্য স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে তার সকল স্ত্রীকেই বলির শিকার হতে হতো।
বিধবা এ সকল নারীকে বলা হতো ‘থোথো’, যার অর্থ ‘স্বামীর কবরের গালিচা’! আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো নারীদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করার দায়িত্বটি পালন করতো তাদের আপন ভাইয়েরা। সেটা না করতে পারলে অন্তত নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী তাকে অবশ্যই হওয়া লাগতো।
১১. ডাহোমে
Source: Wikimedia Commons
পশ্চিম আফ্রিকার পুরনো এক রাজ্যের নাম ছিলো ডাহোমে। সেখানে বার্ষিক এক উৎসবের নাম ছিলো জোয়েতানু। জোয়েতানুতে নানা ধরনের আয়োজনের পাশাপাশি অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলো নরবলি। এজন্য বেছে নেয়া হতো দাস-দাসী ও বিভিন্ন যুদ্ধবন্দীদের। জীবিত ও মৃত রাজাদের সম্মানার্থে সংঘটিত এ নরবলি কার্যকর করা হতো মূলত শিরশ্ছেদের মাধ্যমে। এটা এতই বহুল প্রচলিত এক চর্চা ছিলো যে, শুধুমাত্র এক রাজার শাসনামলেই আনুমানিক ৭,০০০ লোক এ জোয়েতানুর নরবলিতে মারা যায় বলে জানা গেছে।
১২. মায়া
Source: More Than A Magazine | Sia Magazin
প্রাচীনকালে মায়া সভ্যতার লোকেরাও এ প্রথা অনুসরণকারীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলো। বিশেষ কোনো উপলক্ষে তারা এমনটা করতো। নরবলিগুলো মাঝে মাঝে দেয়া হতো মন্দিরে। দুর্ভাগারা অধিকাংশ থাকতো বিভিন্ন যুদ্ধবন্দী। চিচেন ইৎজাতে নরবলি দেয়ার সময় বৃষ্টির দেবতা চাকের সম্মানার্থে বন্দীদের গায়ে নীল রঙ মাখা হতো। এরপর তাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়া হতো কোনো কুয়ায়।
১৩. সতীদাহ
সতীদাহ প্রথার অস্তিত্ব ছিলো আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশেই। এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন নারী বিধবা হবার পর স্বামীর সাথে সহমরণে চিতায় যাবার বিষয়টিকেই বলা হয় সতীদাহ। নারী কখনো যেতেন স্বেচ্ছায়, কখনো বা জোরপূর্বক তাকে পাঠানো হতো। বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে অমানবিক এ প্রথার অবসান ঘটে।
Source: Hindu Human Rights Worldwide
তবে এখনো এর অস্তিত্ব একেবারে মিলিয়ে যায় নি। ২০০৬ সালে বিবিসির এক খবরে জানা যায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশের তুসলিপার গ্রামের চল্লিশ বছর বয়স্কা এক নারী স্বামীর মৃত্যুর পর সতীদাহ প্রথার মাধ্যমে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। তবে কেউ তাকে বাধ্য করে নি। তিনি নিজেই সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
৪. সম্পাদকীয় মতামত: অন্ধবিশ্বাস বনাম আধুনিক মানবিক চেতনা
সম্পাদকীয় মন্তব্য:
নরবলির ইতিহাস কেবল অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু নৃশংসতার বিবরণ নয়; এটি মূলত মানবীয় চেতনার বিবর্তনের দলিল। প্রাচীন কার্থেজের আগুনে শিশুবলি থেকে শুরু করে অ্যাজটেকদের ছাতি চিরে হৃদপিণ্ড উপড়ে ফেলা কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশের সতীদাহ প্রথা—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও আইনের শাসন ছাড়া অন্ধবিশ্বাস কীভাবে মানুষকে পশুর চেয়েও হিংস্র করে তুলতে পারে।
আধুনিক যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কুসংস্কারের বশে যে বিচ্ছিন্ন বলিদানের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে সচেতনতার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আধুনিক সভ্যতার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত মানুষের জীবনের পবিত্রতা রক্ষা ও অন্ধত্বের শিকল ভাঙা।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স (Sources & Citation):
- National Geographic & British Museum Archaeological Records on Human Sacrifice.
- Gómez Carballa et al., Scientific Reports (Inca Ice Mummies DNA Analysis).
- Journal of Chinese Cultural Relics & Shang Dynasty Historical Archives.
- George Reisner, Early Dynastic Egypt Burial Research (Harvard University).
- BBC News Reports & Historical Archives on Sati Abolition and Thuggee Cult Elimination.
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
ধর্মীয় অনুষ্ঠান
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিশেষ প্রতিবেদন — সনাতন ধর্মে ‘ॐ’ (ওঁ বা ওম) কেবল একটি পবিত্র প্রতীক বা মন্ত্র নয়; এটি মহাবিশ্বের আদি স্পন্দন বা পরম ধ্বনি। যেকোনো বৈদিক মন্ত্র, নিত্য পূজা কিংবা শুভ কাজের সূচনায় এই আদি ধ্বনির উচ্চারণ অপরিহার্য। তবে কেবল ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই নয়, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান ও নিউরোসায়েন্সের (Neuroscience) গবেষণাতেও এই ধ্বনির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। নিচে ওঁ শব্দের গূঢ় তাৎপর্য, সঠিক উচ্চারণ পদ্ধতি, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং অনিদ্রা দূর করার কার্যকরী স্লিপ থেরাপি গাইড তুলে ধরা হলো।
১. ‘ॐ’ শব্দের অর্থ ও মহাজাগতিক তাৎপর্য

‘ॐ’ শব্দটি মূলত তিনটি মৌলিক ধ্বনির সমাহারে গঠিত: অ (A), উ (U), এবং ম (M)। এই তিনটি অক্ষর দার্শনিক ও মহাজাগতিক উভয় দৃষ্টি থেকেই গভীর অর্থ বহন করে:
- সৃষ্টিচক্র ও পরম ঈশ্বর:
- অ (A): সৃষ্টির সূচনা বা ব্রহ্মার প্রতীক (জাগ্রত অবস্থা / Conscious State)।
- উ (U): সৃষ্টির স্থিতি বা বিষ্ণুর প্রতীক (স্বপ্নাবস্থা / Dreaming State)।
- ম (M): সৃষ্টির লয় বা শিবের প্রতীক (সুষুপ্তি বা গভীর নিদ্রার অবস্থা / Deep Sleep State)।
- চতুর্থ অবস্থা (তুৰীয় বা Turiya): ‘অ-উ-ম’ উচ্চারণের শেষভাগে যে নীরবতা (Silence) তৈরি হয়, তা হলো তুৰীয় বা মোক্ষ অবস্থা—যেখানে জীবাত্মা পরমাত্মার সাথে মিলিত হয়।
- আদি অনুনাদ: পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে পুরো মহাবিশ্ব এক অখণ্ড কম্পনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ‘ওম’ হলো সেই আদি স্পন্দন, যা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ শক্তিকে মহাজাগতিক তরঙ্গের সাথে যুক্ত করে।
২. ‘ॐ’ শব্দ কীভাবে সঠিক নিয়মে উচ্চারণ করতে হয়?
ওঁ উচ্চারণ কেবল মুখে শব্দ করা নয়; এটি উদর, বক্ষ ও মস্তিষ্কের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়া।
উচ্চারণের সঠিক ধাপসমূহ (অনুপাত ২:২:১)
[ গভীর শ্বাস গ্রহণ ] ──► [ 'অ' (পেটে কম্পন) ] ──► [ 'উ' (বুকে কম্পন) ] ──► [ 'ম' (মস্তিষ্কে গুঞ্জন) ] ──► [ নীরবতা / তুৰীয় ]
- প্রস্তুতি ও আসন: মেরুদণ্ড সোজা রেখে কোনো শান্ত স্থানে পদ্মাসন, সুখাসন বা আরামদায়ক আসনে বসুন। চোখ বন্ধ করে শরীর শিথিল করুন।
- দীর্ঘ শ্বাস: নাক দিয়ে ফুসফুস ভরে একটি গভীর ও দীর্ঘ শ্বাস নিন।
- ‘অ’ (A) ধ্বনি: মুখ পুরো হা করে শরীরের গভীর থেকে অর্থাৎ নাভিমূল (উদরে) বল প্রয়োগ করে ‘আ’ বা ‘অ’ ধ্বনি শুরু করুন। এতে তলপেটে কম্পন সৃষ্টি হবে।
- ‘উ’ (U) ধ্বনি: এরপর মুখ আংশিক বন্ধ করে ঠোঁট গোল করে ‘উ’ ধ্বনি নির্গত করুন। এতে কম্পনটি বক্ষস্থল ও কণ্ঠনালীতে স্থানান্তরিত হবে।
- ‘ম’ (M) ধ্বনি: সর্বশেষে ঠোঁট দুটি পুরোপুরি বন্ধ করে নাক দিয়ে ‘ম্ঁঁ…’ করে ভ্রমরের মতো অনুনাসিক গুঞ্জন তৈরি করুন। এই সময় কম্পনটি মাথার খুলি ও মস্তিষ্কে অনুভূত হবে।
- নীরবতা পর্যবেক্ষণ: জপ শেষ হওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড সম্পূর্ণ নীরব থাকুন এবং দেহের ভেতরের অনুনাদ ও প্রশান্তি অনুভব করুন।
৩. ‘ॐ’ উচ্চারণের আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (Scientific Insights)

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনি উচ্চারণের সময় উৎপন্ন কম্পন মানুষের স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের তরঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে:
[ 'ম্ঁঁ...' অনুনাসিক গুঞ্জন ও কম্পন ]
│
┌───────────────────────┼───────────────────────┐
▼ ▼ ▼
[ ভেগাস নার্ভ উদ্দীপনা ] [ লিম্বিক সিস্টেম শান্ত ] [ আলফা ও থিটা তরঙ্গ ]
│ │ │
▼ ▼ ▼
(হার্ট রেট ও স্ট্রেস হ্রাস) (ভয় ও উদ্বেগ লাঘব) (গভীর প্রশান্তি ও মনোযোগ)
১. ভেগাস নার্ভের উদ্দীপনা (Vagus Nerve Stimulation)
‘ম্ঁঁ…’ গুঞ্জনের সময় কণ্ঠনালী, ল্যারিঙ্কস এবং মাথার খুলিতে তীব্র কম্পন তৈরি হয়, যা সরাসরি শরীরের সবচেয়ে দীর্ঘ স্নায়ু ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে। এর ফলে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা রক্তচাপ ও স্ট্রেস হরমোন (Cortisol) কমিয়ে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক করে।
২. লিম্বিক সিস্টেমের শান্ত অবস্থা (Limbic System Deactivation)
ভারতের National Institute of Mental Health and Neurosciences (NIMHANS)-এর fMRI গবেষণায় দেখা গেছে, ওম উচ্চারণের সময় মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমের (বিশেষ করে অ্যামিগডালা) সক্রিয়তা কমে যায়। অ্যামিগডালা ভয়, রাগ ও নেতিবাচক অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে; ফলে এটি শান্ত হলে মানুষ মানসিক চাপমুক্ত হয়।
৩. ব্রেইন ওয়েভ কোহেরেন্স (Brainwave Coherence)
নিয়মিত ১০-১৫ মিনিট ওম জপ করলে মস্তিষ্কে Alpha (গভীর শিথিলতা) এবং Theta (সৃজনশীলতা ও ধ্যানস্থ অবস্থা) তরঙ্গের মাত্রা আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়, যা ক্লান্তি ও বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী Beta তরঙ্গকে কমিয়ে আনে।
৪. সাইমেটিক্স ও নাইট্রিক অক্সাইড বৃদ্ধি
পদার্থবিজ্ঞানের ‘Cymatics’ তত্ত্ব অনুযায়ী, ওম ধ্বনি ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সির কাছাকাছি তরঙ্গ তৈরি করে। ৭০০% পানি দ্বারা গঠিত মানবদেহের কোষে এই তরঙ্গ সুশৃঙ্খল প্যাটার্ন তৈরি করে। এছাড়া নাক বন্ধ করে দীর্ঘ গুঞ্জনের ফলে সাইনাসে প্রাকৃতিকভাবে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) উৎপন্ন হয়, যা অনাক্রম্যতা ও রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
৪. অনিদ্রা (Insomnia) দূর করতে ‘ওম স্লিপ থেরাপি’
ঘুমের সমস্যা বা দুশ্চিন্তাজনিত অনিদ্রা কাটাতে Sound Healing Therapy-র অংশ হিসেবে নিচে বর্ণিত ‘OM Sleep Therapy’ অত্যন্ত কার্যকরী।
স্লিপ থেরাপির ধাপভিত্তিক নিয়মাবলী
| সময় ও ধাপ | করণীয় পদ্ধতি | বৈজ্ঞানিক ও থেরাপিউটিক প্রতিক্রিয়া |
| ১. পরিবেশ প্রস্তুত | ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানায় পিঠ সোজা করে বসুন বা সরাসরি শুয়ে পড়ুন। | শরীরকে ঘুমানোর উপযুক্ত সংকেত দেয়। |
| ২. ছন্দময় শ্বাস (4-6 Ratio) | ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন এবং ৬ সেকেন্ড ধরে ধীর গতিতে ছাড়ুন (৫ বার)। | হার্ট রেট কমায় এবং মস্তিষ্ককে নিরাপদ অনুভব করায়। |
| ৩. গুঞ্জন প্রাধান্য (১:১:২) | সংক্ষিপ্ত ‘আ-ও’ বলে দীর্ঘ সময় ধরে ঠোঁট বন্ধ রেখে ‘ম্ঁঁঁ…’ অনুনাসিক ধ্বনি দিন। | ভেগাস নার্ভ ম্যাসাজ হয় এবং মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) নিঃসৃত হয়। |
| ৪. জপ সংখ্যা | শোবার আগে অন্তত ১১ থেকে ২১ বার এই পদ্ধতি রিপিট করুন। | ব্রেইন ওয়েভ আলফা ও থিটা লেভেলে নেমে আসে। |
| ৫. নিস্তব্ধতা | জপ শেষে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থেকে ভেতরের নিস্তব্ধতা অনুভব করুন। | অতিচিন্তা (Overthinking) বন্ধ করে দ্রুত ঘুমে আচ্ছন্ন করে। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিদ্ধান্ত
‘ॐ’ কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস নয়; এটি ধ্বনিবিজ্ঞান, শারীরবিদ্যা এবং মানসিক ভারসাম্যের এক অপূর্ব বৈজ্ঞানিক সমন্বয়। দৈনন্দিন ক্লান্তি কাটাতে কিংবা মনের গভীর প্রশান্তি অর্জনে প্রতিদিন কিছু সময় সঠিক নিয়মে ওম উচ্চারণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
১. বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা গবেষণা (Medical & Neuroscience Sources)
- fMRI ও লিম্বিক সিস্টেম নিষ্ক্রিয়তা:
- গবেষণা: “Neurohemodynamic correlates of ‘OM’ chanting: A functional magnetic resonance imaging study” (NIMHANS, India).
- প্রকাশনা: International Journal of Yoga (IJOY) / PubMed.
- ফলাফল: fMRI স্ক্যানে দেখা গেছে ‘ওম’ জপ করার সময় মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা (Amygdala) সহ লিম্বিক সিস্টেমের রক্তপ্রবাহ কমে যায়, যা স্ট্রেস ও ডিপ্রেশন কমাতে থেরাপিউটিক ভূমিকা রাখে।
- ভেগাস নার্ভ স্টিমুলেশন ও হার্ট রেট:
- গবেষণা: “Effects of OM chanting on autonomic nervous system and brain wave activity”.
- প্রকাশনা: Indian Journal of Physiology and Pharmacology.
- ফলাফল: গুঞ্জনের সময় (Chanting) উৎপন্ন কম্পন ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve)-কে উদ্দীপিত করে এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় করে কর্টিসল (Cortisol) হরমোন কমায়।
- নাইট্রিক অক্সাইড (Nitric Oxide) বৃদ্ধি:
- গবেষণা: “Nasal Nitric Oxide is Increased by Humming” (Karolinska Institute, Sweden).
- প্রকাশনা: American Journal of Respiratory and Critical Care Medicine.
- ফলাফল: মুখ বন্ধ করে গুঞ্জন বা অনুনাসিক শব্দ (Humming/‘ম’ ধ্বনি) করলে সাইনাসে সাধারণ শ্বাসের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি হয়, যা রক্তচাপ কমায় ও রক্তনালী শিথিল করে।
২. সনাতন আধ্যাত্মিক ও বৈদিক শাস্ত্রীয় সূত্র (Vedic & Philosophical Sources)
- মাণ্ডূক্য উপনিষদ (Mandukya Upanishad):
- উপনিষদের মূল বক্তব্য অনুযায়ী—“ওমিত্যেতদক্ষরমীদং সর্বম্”। অর্থাৎ, ‘ওম’ হলো সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রতীক। এতে ‘অ’, ‘উ’, ‘ম’ এবং চতুর্থ মাত্রা ‘তুৰীয়’ (নীরবতা)-র বিস্তৃত ব্যাখ্যা রয়েছে।
- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (Shrimad Bhagavad Gita):
- অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৩: “ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্মামনুস্মরন্…” (পরম ব্রহ্মের একাক্ষর প্রতীক হলো ‘ওম’)।
- পাতঞ্জল যোগসূত্র (Patanjali Yoga Sutras):
- সূত্র ১.২৭: “তস্য বাচকঃ প্রণবঃ” (ঈশ্বর বা পরমেশ্বরের বাচক বা প্রকাশক ধ্বনি হলো প্রণব বা ‘ওম’)।
৩. পদার্থবিজ্ঞান ও সাইমেটিক্স (Physics & Cymatics)
- সাইমেটিক্স (Cymatics Study – Ernst Chladni & Hans Jenny):
- শব্দ তরঙ্গ যখন তরল বা বালুর ওপর আপতিত হয়, তখন তা জ্যামিতিক প্যাটার্ন তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওম ধ্বনির ৪৩২ হার্টজ (432 Hz) ফ্রিকোয়েন্সি প্রাকৃতিক সুরেলা অনুনাদ (Harmonic Resonance) সৃষ্টি করে।
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



