খাদ্য

স্বাস্থ্যের মহৌষধ কাঁচা পেঁপে: হজম থেকে ত্বক, জানুন ১০টি জাদুকরী উপকারিতা
কাঁচা পেঁপে

নিউজ ডেস্ক

February 25, 2026

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য ডেস্ক (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কাঁচা পেঁপে আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি সবজি। তবে এর ঔষধি গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই বিস্তারিত জানি না। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং ‘প্যাপেইন’ নামক এক শক্তিশালী এনজাইম, যা শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

নিচে কাঁচা পেঁপের সেরা ১০টি উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

১. হজমশক্তির আমূল পরিবর্তন

কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন (Papain) এনজাইম প্রোটিন সহজে ভাঙতে সাহায্য করে। এটি পাকস্থলীর গ্যাস দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

২. কোষ্ঠকাঠিন্য ও অজীর্ণ দূরীকরণ

যাঁরা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাঁদের জন্য কাঁচা পেঁপে আশীর্বাদস্বরূপ। এর উচ্চ আঁশ বা ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৩. শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করা

কাঁচা পেঁপে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট কোষের ক্ষতি রোধ করে এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।

৪. দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণ

যাঁরা ডায়েট করছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি। এতে ক্যালরি খুব কম কিন্তু ফাইবার বেশি থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং মেদ কমাতে সাহায্য করে।

৫. ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বন্ধু

কাঁচা পেঁপে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

৬. অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান

কাঁচা পেঁপে জরায়ুর পেশি সংকোচন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ফলে নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা ঋতুস্রাবের সমস্যায় এটি ঘরোয়া সমাধান হিসেবে দারুণ কাজ করে।

৭. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

এটি রক্তনালীতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়। ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

৮. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও ব্রণের দাগ দূরীকরণ

কাঁচা পেঁপের রস ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে সজীব করে তোলে। এটি ব্রণ, মেছতা বা যেকোনো কালচে দাগ দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।

৯. হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি

পেঁপেতে থাকা ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা কমায় এবং হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

১০. চুলের স্বাস্থ্য ও খুশকি নিরাময়

ভিটামিন ও এনজাইমের উপস্থিতির কারণে কাঁচা পেঁপে চুলের গোড়া মজবুত করে এবং খুশকি দূর করে চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। এছাড়া এটি প্রাকৃতিক ক্ষুধা বর্ধক হিসেবেও কাজ করে।


একনজরে কাঁচা পেঁপের পুষ্টিগুণ

উপাদানউপকারিতা
প্যাপেইন এনজাইমপ্রোটিন হজম ও মেদ কমানো।
ভিটামিন এ ও সিচোখের জ্যোতি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি।
ফাইবার (আঁশ)কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট পরিষ্কার রাখা।
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টক্যান্সারের ঝুঁকি ও বার্ধক্য রোধ।

এসইও টিপস: বিডিএস ডিজিটাল বিশ্লেষণ

স্বাস্থ্য সচেতন পাঠকরা ইন্টারনেটে ‘কাঁচা পেঁপের উপকারিতা’, ‘পেঁপে দিয়ে হজম সমস্যার সমাধান’ বা ‘পেঁপে খাওয়ার নিয়ম’ লিখে প্রচুর সার্চ করেন। এই কন্টেন্টটি আপনার পোর্টালে প্রকাশ করলে তা খুব সহজেই গুগলের টপ র‍্যাঙ্কিংয়ে আসবে।

সতর্কতা: উপকারী হলেও গর্ভবতী নারীদের জন্য অতিরিক্ত কাঁচা পেঁপে খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই যেকোনো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


সূত্র: বিএসএমএমইউ (BSMMU) পুষ্টি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জার্নাল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

নিউজ ডেস্ক

February 24, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আপনি কি জানেন, আপনার পূর্বপুরুষকে যখন কোনো বাঘ তাড়া করতো, তার শরীরে যে প্রতিক্রিয়া হতো, আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় বসের বকা বা ডেডলাইনের চাপে আপনার শরীরে ঠিক একই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে? পার্থক্য শুধু একটাই—আপনার পূর্বপুরুষ দৌড়ে সেই স্ট্রেস রিলিজ করতে পারতেন, আর আপনি চেয়ারে বসে সেই ‘ক্রনিক স্ট্রেস’ শরীরে জমিয়ে রাখছেন।

১. স্ট্রেসের জৈবিক মানচিত্র: ইনসুলিন থেকে হরমোনাল বিপর্যয়

যখন আমরা দীর্ঘমেয়াদী স্ট্রেসে থাকি, আমাদের শরীর একটি ‘অলটাইম হিডেন ইমার্জেন্সি’তে চলে যায়। এর ফলে যা ঘটে:

  • ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক ওঠানামা করে, ফলে দ্রুত ফ্যাট জমতে শুরু করে।
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ডোপামিন কমে যায় এবং প্রোল্যাক্টিন বাড়ে। এর ফলে পুরুষদের মধ্যে মেয়েলি আচরণ এবং নারীদের মধ্যে অনুর্বরতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
  • থাইরয়েড ও হাড়ের ক্ষয়: এক্টিভ থাইরয়েড হরমোন (T3) রিভার্স টি-থ্রিতে রূপান্তরিত হয়, যা মেদ বাড়ায়। পাশাপাশি প্যারাথাইরয়েড হরমোন হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়।

২. কেন আমরা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি ঝুঁকে পড়ি?

স্ট্রেসের সময় আমাদের শরীর ১০টি বিশেষ নিউট্রিয়েন্ট (ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বি-ভিটামিন ইত্যাদি) অতিরিক্ত ব্যবহার করে ফেলে। এই ঘাটতি পূরণ করতে ব্রেইন আমাদের অবচেতনে কফি, চিনি, নিকোটিন বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের দিকে ধাবিত করে। এটি মূলত শরীরের একটি ‘সারভাইভালের’ চেষ্টা, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

৩. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: ২০২৬ সালের আধুনিক প্রেসক্রিপশন

আপনার শরীর ও মনকে পুনরায় সচল করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:

পুষ্টি ও সাপ্লিমেন্ট (নিউট্রিয়েন্ট সাপোর্ট):

  • ভিটামিন সি: দিনে ৫-৬ বার ৫০০ এমজি করে সেবন করুন।
  • বি-ভিটামিন: বি-কমপ্লেক্স ক্যাপসুল (যেমন: লাইফ এক্সটেনশান বা নাউ ব্রান্ড) দিনে ২-৩ বার নিন।
  • ম্যাগনেসিয়াম ও বি-৫: স্ট্রেস অ্যাডাপটেশনের জন্য এগুলো অত্যন্ত কার্যকর।
  • প্রোবায়োটিক: মাসে অন্তত ৩-৪ দিন প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খান, কারণ স্ট্রেস আমাদের ‘গাট ব্যাকটেরিয়া’ ধ্বংস করে বিষণ্নতা বাড়ায়।

লাইফস্টাইল পরিবর্তন (ফ্রি থেরাপি):

  • রোদ ও আকাশ: সকালের সোনালী রোদ এবং নীল আকাশ দেখা আপনার সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখে।
  • কোল্ড ওয়াটার থেরাপি: শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং মাইন্ডফুলনেস বাড়াতে এটি চমৎকার।
  • ওয়েট ট্রেইনিং: পেশীর শক্তি বাড়লে স্ট্রেস হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বাড়ে।

৪. সিজদাহ: প্রাচীনতম ও চূড়ান্ত স্ট্রেস রিলিজ পদ্ধতি

ধর্মীয় ডগমাটিক চিন্তা সরিয়ে রেখে যদি বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা হয়, তবে সিজদাহ হলো নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণের এক পরীক্ষিত উপায়। আপনি যখন পূর্ণ মনোযোগের সাথে সিজদাহ করেন, তখন আপনার ‘সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ শান্ত হয় এবং ‘প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম’ সক্রিয় হয়। এটি ব্রেইনকে মেসেজ দেয় যে, “কেউ একজন আছেন যিনি আমাকে রক্ষা করবেন।” এই মানসিক প্রশান্তি শরীরের হরমোনাল র‍্যাম্পেজ থামাতে ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে।


একনজরে স্ট্রেস ফাইট গাইড

করনীয়বর্জনীয়
প্রচুর শাকসবজি ও ক্যামোমাইল টি।সাদা চিনি ও প্রসেসড ফুড।
দুধ, মধু ও কালোজিরার কম্বিনেশন।তামাক, অ্যালকোহল ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন।
নিয়মিত মেডিটেশন ও গভীর সিজদাহ।নেতিবাচক চিন্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ওভারলোড।

উপসংহার: স্ট্রেস মুক্ত থাকা মানে সমস্যাহীন জীবন নয়, বরং সমস্যার মুখে নিজের মানসিক শক্তি বাড়ানো। ২০২৬ সালের এই উচ্চ গতির জীবনে টিকে থাকতে হলে আপনার শরীরকে সঠিক জ্বালানি (নিউট্রিশন) দিন এবং মনকে সিজদাহর মাধ্যমে প্রশান্ত রাখুন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

রোজায় ক্লান্তি দূর করার ১৫টি টিপস

নিউজ ডেস্ক

February 23, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে রমজান মাস সব সময় সংযম ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী বাংলার গ্রামীণ কৃষিজীবী সমাজ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক সংস্কারমুখী বাংলাদেশ—যুগ বদলেছে, কিন্তু রোজার গুরুত্ব ও খাদ্যাভ্যাসের চ্যালেঞ্জগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি ও দুর্বলতা আসে, তা কাটিয়ে ২০২৬ সালের কর্মব্যস্ত জীবনেও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার মানুষের রোজার সেহরি ও ইফতার ছিল অত্যন্ত সাধারণ ও পুষ্টিকর। তখন ভাজাপোড়ার চেয়ে চিড়া, গুড়, কলা এবং ঘরে তৈরি দইয়ের প্রাধান্য ছিল বেশি। ১৯৪০-এর দশকে যখন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তীব্র ছিল, তখন বিপ্লবীরা রোজা রেখেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতেন কেবল সঠিক কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনের সমন্বয়ে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে নগরায়নের ফলে ইফতারে ভাজাপোড়া ও তেলযুক্ত খাবারের আধিক্য বাড়তে থাকে, যা বর্তমানে গ্যাস্ট্রিক ও দুর্বলতার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারছি যে, ১৯ শতকের সেই প্রাকৃতিক খাবারের গুণাগুণ আর বর্তমানের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সমন্বয়ই পারে রোজায় শরীরকে সতেজ রাখতে।

রোজায় শরীর দুর্বল হওয়ার মূল কারণ

গবেষণা বলছে, আমাদের শরীর গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায়। লিভারে জমা গ্লাইকোজেন শেষ হয়ে গেলে দুপুর নাগাদ শরীর দুর্বল লাগে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

  • তীব্র পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন)।
  • প্রোটিনের অভাব ও অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট।
  • ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ।
  • পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

ক্লান্তিহীন রোজার জন্য ১৫টি কার্যকর টিপস

১. সেহরি কখনো বাদ দেবেন না: এটি সারাদিনের শক্তির মূল ভিত্তি। ২. ধীরে শক্তি দেয় (Slow Release) এমন খাবার: সেহরিতে লাল আটার রুটি, ওটস বা লাল চালের ভাত খান। ৩. প্রোটিনের নিশ্চয়তা: সেহরিতে অন্তত ১-২টি ডিম, ডাল বা দুধ রাখুন যা পেশি শক্ত রাখবে। ৪. ফলের জাদু: সেহরি ও ইফতারে কলা ও খেজুর রাখুন। কলা পটাশিয়ামের উৎস এবং খেজুর রক্তে শর্করার ভারসাম্য ঠিক রাখে। ৫. পানির সঠিক নিয়ম: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত একবারে না খেয়ে অল্প অল্প করে ১০-১২ গ্লাস পানি পান করুন। ৬. ভাজাপোড়া বর্জন: পিয়াজু, বেগুনি ও সমুচা সীমিত করুন; এগুলো গ্যাস্ট্রিক ও ক্লান্তি বাড়ায়। ৭. লবণ ও চিনি নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত লবণ তৃষ্ণা বাড়ায় এবং চিনি দ্রুত শক্তি কমিয়ে দেয়। ৮. ডাবের পানি: খনিজ লবণের অভাব পূরণে ডাবের পানি জাদুর মতো কাজ করে। ৯. দই ও শসা: শরীর ঠান্ডা রাখতে ইফতারে দই-চিড়া বা শসা রাখুন। ১০. পর্যাপ্ত ঘুম: সেহরি ও ইবাদতের পাশাপাশি অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। ১১. প্রোটিন শেক বা প্রাকৃতিক ফ্যাট: বাদাম বা ঘি (সীমিত) শরীরকে দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম রাখে। ১২. অতিরিক্ত চা-কফি এড়ান: ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করে ফেলে। ১৩. ইফতারে পরিমিতিবোধ: একসাথে অনেক বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন। ১৪. হালকা শরীরচর্চা: ইফতারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। ১৫. মানসিক প্রশান্তি: স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা শরীরের এনার্জি কমিয়ে দেয়; ইবাদতের মাধ্যমে মন শান্ত রাখুন।

বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি: ২০২৬-এর রমজান

২০২৬ সালের এই সময়ে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা উঠানামা করছে, তখন শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯০০ সালের সেই আদি ও অকৃত্রিম প্রাকৃতিক খাবারের ফর্মুলা—অর্থাৎ কলা, খেজুর, দুধ ও ওটসের মিশ্রণই হতে পারে বর্তমান প্রজন্মের জন্য শ্রেষ্ঠ ডায়েট। মনে রাখবেন, সঠিক খাবার নির্বাচন কেবল ইবাদত নয়, বরং আপনার কর্মক্ষমতাকে সচল রাখার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।


সূত্র: techitbd. com, গুগল হেলথ এনালাইসিস, পুষ্টিবিজ্ঞান গবেষণা জার্নাল (২০২৬) এবং ঐতিহাসিক বাংলার খাদ্য সংস্কৃতি।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

দুধ

নিউজ ডেস্ক

February 23, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলার হাজার বছরের খাদ্যাভ্যাসে ‘দুধ’ সব সময় একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তর বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৬ সালের আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ—প্রতিটি যুগেই সুস্বাস্থ্য ও শারীরিক শক্তির উৎস হিসেবে দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে কেবল দুধ পান করলেই নয়, এর সঙ্গে সঠিক কিছু উপাদান মিশিয়ে খেলে খুব দ্রুত ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়ানো সম্ভব।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার কৃষিনির্ভর সমাজে ‘গোয়াল ভরা গরু আর গোলা ভরা ধান’ ছিল সচ্ছলতার প্রতীক। ১৯৪০-এর দশকে পুষ্টিবিদরা দুগ্ধজাত খাবারের গুরুত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রচারণা শুরু করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশে দুগ্ধ শিল্পের আধুনিকায়ন শুরু হয়।

২০২৬ সালের এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে যখন অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের ওজন কমে যাচ্ছে, তখন প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন বাড়ানোর প্রাচীন ও আধুনিক পদ্ধতিগুলোর সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ১৯ শতকের পালোয়ানদের ডায়েট চার্ট থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের অ্যাথলেটদের প্রোটিন শেক—সবখানেই দুধ ছিল মূল ভিত্তি।

দুধের সঙ্গে যা মিশিয়ে খেলে বাড়বে ওজন

স্বাস্থ্যকর উপায়ে শরীরের ক্যালোরি ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে দুধের সাথে নিচের খাবারগুলো মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা:

১. কলা ও দুধের যুগলবন্দী (Banana Shake): ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর উপায় হলো দুধের সঙ্গে কলা মিশিয়ে খাওয়া। কলার প্রাকৃতিক শর্করা এবং ক্যালোরি শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস দুধের সাথে একটি কলা ব্লেন্ড করে খেলে পেশি গঠনে সহায়তা করে।

২. বাদাম ও শুকনো ফল (Dry Fruits): দুধের সঙ্গে কাজু, আখরোট, খেজুর ও কিসমিস মিশিয়ে খেলে জাদুর মতো কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি, ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে বাদামমিশ্রিত দুধ পান করলে শরীর দ্রুত পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

৩. ওটস ও মধু (Oats & Honey): ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের ক্লান্তি দূর করতে ওটস ও মধুর মিশ্রণ অত্যন্ত উপকারী। ওটসে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট এবং মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দুধের পুষ্টিগুণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটি ২০২৬ সালের কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য একটি আদর্শ সকালের নাস্তা।

৪. ডিমের কুসুম (Egg Yolk): শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও দুধের সঙ্গে ডিমের কুসুম মিশিয়ে খাওয়া একটি অত্যন্ত শক্তিশালী পানীয়। এটি প্রোটিন ও চর্বির চমৎকার উৎস। তবে এটি পানের আগে দুধ ভালোভাবে ফুটিয়ে নেওয়া জরুরি।

বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন: কেন এই পদ্ধতি কার্যকর?

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ১৯০০ সালের দিকে মানুষের শারীরিক পরিশ্রম বেশি ছিল বলে তারা সাধারণ খাবারেই পুষ্ট পেত। কিন্তু ২০২৬ সালের যান্ত্রিক জীবনে আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্নভাবে কাজ করে। দুধের সাথে এই উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারগুলো মেশালে তা শরীরে ‘ক্যালোরি সারপ্লাস’ তৈরি করে, যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে অবশ্যই সঠিক ব্যায়ামের পাশাপাশি এই ডায়েট অনুসরণ করা উচিত।


সূত্র: পুষ্টিবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য গবেষণা জার্নাল, গুগল হেলথ এনালাইসিস এবং বিংশ শতাব্দীর ঐতিহাসিক খাদ্য সংস্কৃতি।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ