মডেল
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মূল প্রতিবেদন
বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্রের ইতিহাসে হুমায়ুন ফরিদী এক অনন্য নাম। অসাধারণ অভিনয়, শক্তিশালী কণ্ঠ ও চোখের দৃষ্টিতে চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতার জন্য তিনি আজও দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। তবে আলো ঝলমলে ক্যারিয়ারের আড়ালেই ছিল তার ব্যক্তিজীবনের দুঃখ-বেদনা ও জটিলতা।
শুরুর জীবন ও শিক্ষাজীবন
- জন্ম: ২৯ মে ১৯৫২, নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়।
- শৈশব কেটেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। মাধ্যমিক পড়াশোনা করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজে, পরে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানিক কেমিস্ট্রিতে।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পড়াশোনা ফেলে যোগ দেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় যোদ্ধা।
- যুদ্ধ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার ও পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত হন। এখান থেকেই শুরু হয় তার অভিনয় যাত্রা।
নাট্যজগতে উত্থান
- ১৯৭০ এর দশকে আর্য নাট্য সংঘ ও পরে ঢাকা থিয়েটার-এ অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- মঞ্চে তার জনপ্রিয় নাটক ছিল “শকুন্তলা”, “মুনতাসীর ফ্যান্টাসি”, “কিত্তনখোলা” ইত্যাদি।
- ছোটপর্দায় হুমায়ুন ফরিদীর উত্থান ঘটে ১৯৮০–৯০ এর দশকে।
- উল্লেখযোগ্য নাটক: “ভাঙনের শিখর”, “শঙ্খনীল কারাগার”, “সংশপ্তক”, “এইসব দিনরাত্রী”।
- সংশপ্তক-এ ‘কানকাটা রমজান’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পান।
চলচ্চিত্রে সাফল্য
- বড় পর্দায় হুমায়ুন ফরিদী সমানতালে কাজ করেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
- শঙ্খনীল কারাগার (১৯৯২)
- ভণ্ড
- একাত্তরের যীশু
- চাঁদনী রাত
- জয়যাত্রা
- মৃত্তিকা মায়া
- তার অভিনীত চরিত্রগুলোতে মিশে থাকত শক্তি, বেদনা ও বাস্তবতা।
ব্যক্তিজীবনের উত্থান-পতন
- ১৯৮০ সালে প্রেমিকা নাজমুন আরা বেগম মিনুকে বিয়ে করেন। এ সংসারে জন্ম নেন কন্যা শারাফাত ইসলাম দেবযানী।
- কিন্তু ১৯৮৪ সালে তিনি বিচ্ছেদ দিয়ে অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফাকে বিয়ে করেন।
- সুবর্ণার সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ বছরের সংসার টিকলেও অবশেষে ভেঙে যায় ২০০৮ সালে। সুবর্ণা বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক সৌদ আহমেদকে।
- ফরিদী জীবনের শেষভাগে ভীষণ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
- ১৯৯৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শঙ্খনীল কারাগার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য।
- মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ে অবদানের জন্য তিনি আরও অসংখ্য স্বীকৃতি লাভ করেন।
- মৃত্যুর পর ২০১৮ সালে একুশে পদক-এ ভূষিত করা হয় তাকে।
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার বাসায় নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ুন ফরিদী। তার মৃত্যু বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
তবে তার রেখে যাওয়া অসংখ্য নাটক, চলচ্চিত্র ও মঞ্চনাটক আজও প্রমাণ করে—
“একজন শিল্পী মারা যান না, তিনি বেঁচে থাকেন দর্শকের হৃদয়ে।”
সূত্র
১. বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি আর্কাইভ (২০১২)
২. দৈনিক প্রথম আলো, “হুমায়ুন ফরিদীর মৃত্যুবার্ষিকী”, ২০১৩–২০২২
৩. বিবিসি বাংলা, “হুমায়ুন ফরিদী: নাটক-চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি”, ২০১৮
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
আমাদের সমাজে যুগ যুগ ধরে একটা গৎবাঁধা ধারণা প্রচলিত আছে— “আগে পড়ালেখা শেষ করো, ভালো সার্টিফিকেট নাও, তারপর ভালো চাকরি পাবে।” কিন্তু বর্তমান যুগের বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। চলুন সাবিলা নূর এবং সাকিব আল হাসানের মতো সফল ব্যক্তিত্বদের ক্যারিয়ার বিশ্লেষণ করে বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক:
সাবিলা নূর (Sabila Nur): সাবিলা নূর তাঁর অভিনয় প্রতিভাকে আঁকড়ে না ধরে কেবল গতানুগতিক পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হয়তো সাধারণ দশজনের মতো একটি চাকরি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। তবে তিনি তাঁর প্যাশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং পাশাপাশি পড়াশোনাতেও নিজেকে অনন্য প্রমাণ করেছেন।

সাবিলা নূরের শিক্ষাজীবন ও অন্যান্য অর্জন:
অনন্য ফলাফল: আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
গৌরবোজ্জ্বল সিজিপিএ: তিনি সিজিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে অবিশ্বাস্য ৩.৯৭ পয়েন্ট অর্জন করেছেন।
স্বীকৃতি: পড়াশোনায় অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে ‘ড. আনোয়ারুল আবেদিন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে।
সামঞ্জস্য রক্ষা: তিনি শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করে পড়াশোনা ও অভিনয়—দুটোতেই অসাধারণ ভারসাম্য বজায় রেখেছেন।
তাঁর এই জীবন থেকে এটি স্পষ্ট যে, পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ভালো লাগা বা প্যাশনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে জীবনের চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলা সম্ভব।
সাবিলা নূরের ক্যারিয়ারের এই অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা এবং তাঁর অভিনয়ের দক্ষতার পেছনের গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে:
সাকিব আল হাসান (Sakib Al-Hasan): সাকিব আল হাসান যদি ক্রিকেটের চেয়ে শুধু গতানুগতিক পড়াশোনাকে প্রাধান্য দিতেন, তবে বাংলাদেশ আজ একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে পেত না। ক্রিকেটের প্রতি তাঁর একাগ্রতাই তাঁকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

সাকিব আল হাসানের শিক্ষাজীবন ও সাফল্যের কিছু মূল দিক:
দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তীব্র ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পড়াশোনা পুরোপুরি ছেড়ে দেননি এবং দীর্ঘ ১৪ বছর পর বিবিএ (BBA) সম্পন্ন করেন।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (AIUB): এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তিনি তাঁর গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন।
সমাবর্তনে অংশ গ্রহণ: ২০২৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম সমাবর্তনে তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন।
ক্যারিয়ার ও স্কিলের ভারসাম্য: খেলার মাঠে শতভাগ মনোযোগ ধরে রেখেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সদিচ্ছা থাকলে দুই ক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।
সাকিবের এই যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শিক্ষা—নিজের মূল প্রতিভা বা স্কিলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েও কীভাবে প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য পূরণ করা যায়।
এই দুটি উদাহরণ প্রমাণ করে যে, টাকা বা ক্যারিয়ার গড়ার একমাত্র মাধ্যম হিসেবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বেছে নেওয়া বর্তমান যুগে একটি ভুল ইনভেস্টমেন্ট (Bad Investment)। কারণ, বর্তমান গ্লোবাল মার্কেট চলে স্কিল বা দক্ষতার ওপর, কোনো কাগজের সার্টিফিকেটের ওপর নয়।
পড়ালেখা কি তবে প্রয়োজন নেই?
পড়াশোনা অবশ্যই প্রয়োজন এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। সাবিলা নূর বা সাকিব আল হাসানের উদাহরণ এটি প্রমাণ করে না যে পড়ালেখা অপ্রয়োজনীয়, বরং এটি দেখায় যে পড়াশোনা ও মেধার সঠিক সমন্বয় কীভাবে মানুষকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যায়।

পড়াশোনা কেন প্রয়োজন এবং এটি কীভাবে আমাদের সাহায্য করে, তা নিচে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনার বিকাশ
- পড়াশোনা মানুষের জ্ঞান ও দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে শেখায়।
- যেকোনো পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা তৈরি করে।
২. সংকটে ব্যাকআপ বা বিকল্প পথ
- মানুষের ক্যারিয়ারে যেকোনো সময় চোট, দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় আসতে পারে।
- এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা একটি শক্তিশালী বিকল্প বা ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।
- সাকিব বা সাবিলা উভয়েই কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এই দূরদর্শিতা থেকেই।
৩. সামাজিক মর্যাদা ও নেটওয়ার্কিং
- উচ্চশিক্ষা সমাজে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
- বিশ্ববিদ্যালয় জীবন একজন মানুষকে বিভিন্ন গুণী মানুষের সাথে পরিচিত হতে এবং বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সাহায্য করে।
৪. মেধা ও প্রতিভাকে শাণিত করা
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার রূপ দিতে সাহায্য করে।
- যেমন, সাবিলা নূরের ইংরেজি সাহিত্যের পড়াশোনা তাঁর চরিত্রের গভীরতা বুঝতে এবং অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনতে সাহায্য করেছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, পড়ালেখা হলো একটি শক্তিশালী ভিত্তি। শুধু পড়ালেখা করে জবের পেছনে না ছুটে, শিক্ষার আলো বুকে নিয়ে নিজের ভেতরের বিশেষ প্রতিভা বা স্কিলকে (যেমন: খেলাধুলা, অভিনয়, ফ্রিল্যান্সিং বা ব্যবসা) জাগিয়ে তোলাই হলো আসল সফলতা।
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের করণীয়: পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার
বর্তমান যুগে শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা বা স্কিল অর্জন করা। শুধু সনাতন সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করে এখনকার প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে টিকে থাকা কঠিন।

পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যারিয়ার গঠনে বর্তমান যুগে একজন শিক্ষার্থীর করণীয় পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. ডিমান্ডিং টেকনিক্যাল স্কিল বা দক্ষতা অর্জন
- যেকোনো একটি বিষয় বেছে নেওয়া: নিজের আগ্রহ অনুযায়ী গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স বা কন্টেন্ট রাইটিং শিখুন।
- অনলাইন রিসোর্সের ব্যবহার: ইউটিউব, কোর্সেরা, উডেমি বা বিভিন্ন দেশীয় প্ল্যাটফর্ম থেকে ফ্রি বা পেইড কোর্স করে নিজেকে দক্ষ করুন।
- এআই (AI) টুলের ব্যবহার: চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নির মতো আধুনিক এআই টুলগুলো কীভাবে নিজের কাজে ব্যবহার করতে হয় তা শিখুন। []
২. একাডেমিক পড়াশোনায় ভারসাম্য বজায় রাখা
- সিজিপিএ ঠিক রাখা: পড়াশোনা একদম ছেড়ে দেওয়া যাবে না; অন্তত একটি স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ (যেমন ৩.০০+) বজায় রাখুন।
- সময় ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের রুটিনে পড়াশোনা এবং স্কিল চর্চার জন্য নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে নিন।
৩. প্রফেশনাল নেটওয়ার্কিং ও যোগাযোগ দক্ষতা
- লিঙ্কডইন (LinkedIn) প্রোফাইল: ছাত্রাবস্থাতেই একটি প্রফেশনাল লিঙ্কডইন প্রোফাইল খুলুন এবং নিজের কাজের স্যাম্পল সেখানে শেয়ার করুন।
- যোগাযোগের ভাষা: বাংলা লেখার পাশাপাশি ইংরেজিতে কথা বলা এবং লেখার দক্ষতা (Communication Skill) দারুণভাবে বাড়াতে হবে।
৪. ফ্রিল্যান্সিং বা পার্ট-টাইম জব
- মার্কেটপ্লেসে কাজ: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আপওয়ার্ক (Upwork) বা ফাইভারের (Fiverr) মতো প্ল্যাটফর্মে ছোটখাটো কাজ বা ইন্টার্নশিপ করার চেষ্টা করুন।
- বাস্তব অভিজ্ঞতা: এটি পড়াশোনা শেষ করার আগেই আপনাকে কর্পোরেট বা কাজের দুনিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেবে।
৫. মেন্টর এবং কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব: বিতর্ক ক্লাব, বিজনেস ক্লাব বা আইটি ক্লাবের সাথে যুক্ত হোন। এটি লিডারশিপ স্কিল বাড়ায়।
- মেন্টর খোঁজা: নিজের সেক্টরের অভিজ্ঞ বড় ভাই বা বিশেষজ্ঞদের অনুসরণ করুন এবং তাঁদের থেকে পরামর্শ নিন।
পড়াশোনা আপনাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দেবে, আর আপনার বাড়তি স্কিল বা দক্ষতা আপনাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে।
এক নজরে সার্টিফিকেট বনাম প্রাকটিক্যাল স্কিল ম্যাট্রিক্স

সার্টিফিকেট এবং প্রাকটিক্যাল স্কিল (ব্যবহারিক দক্ষতা)—দুটোরই ক্যারিয়ারে নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। নিচে একটি তুলনামূলক ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে এক নজরে এদের পার্থক্য ও গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
| পরিমাপক (Criteria) | প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট (Degree/Certificate) | প্রাকটিক্যাল স্কিল (Practical Skill) |
|---|---|---|
| মূল সংজ্ঞা | প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও পরীক্ষা পাসের প্রমাণপত্র। | বাস্তবে কোনো কাজ নিখুঁতভাবে করার যোগ্যতা। |
| ভূমিকা | চাকরির ইন্টারভিউয়ের দরজা খোলার চাবিকাঠি। | চাকরিতে টিকে থাকা এবং প্রমোশন পাওয়ার মূল হাতিয়ার। |
| অর্জনের মাধ্যম | স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় (দীর্ঘমেয়াদি)। | কোর্স, ইন্টার্নশিপ, ফ্রিল্যান্সিং ও বাস্তব কাজ (স্বল্পমেয়াদি)। |
| মূল্যায়ন পদ্ধতি | সিজিপিএ (CGPA), গ্রেড এবং পরীক্ষার নম্বর। | পোর্টফোলিও, কাজের স্যাম্পল এবং লাইভ ডেমো। |
| স্থায়িত্ব | একবার অর্জন করলে আজীবন অপরিবর্তিত থাকে। | প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে প্রতিনিয়ত আপডেট করতে হয়। |
| কর্পোরেট ভ্যালু | এন্ট্রি-লেভেল বা ফ্রেশার হিসেবে চাকরিতে ঢোকার সুযোগ বাড়ায়। | দ্রুত ক্যারিয়ার গ্রোথ এবং উচ্চ বেতনের নিশ্চয়তা দেয়। |
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত (The Verdict)
- সার্টিফিকেট হলো আপনার যোগ্যতার প্রাথমিক পরিচয়পত্র, যা আপনাকে লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।
- প্রাকটিক্যাল স্কিল হলো আপনার আসল শক্তি, যা আপনাকে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী করে।
বর্তমান যুগের সেরা ফর্মুলা হলো: সার্টিফিকেটের শক্ত ভিত্তি + প্রাকটিক্যাল স্কিলের ধারালো অস্ত্র।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ: ডিজিটাল মার্কেটিং এবং এসইও (SEO) ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ২৫০টিরও বেশি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোতে আমি একটা বিষয় খুব স্পষ্ট দেখেছি— অনেক মাস্টার্স পাস করা তরুণ ২০-৩০ হাজার টাকার একটা চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন, আবার ১৮-২০ বছরের একজন কলেজ পড়ুয়া তরুণ শুধুমাত্র ভালো এসইও বা আইটি স্কিল থাকার কারণে ঘরে বসেই প্রতি মাসে সম্মানজনক অংকের টাকা আয় করছেন। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। পড়াশোনা অবশ্যই করবেন নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য, কিন্তু ক্যারিয়ার বা অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ছাত্রজীবন থেকেই নিজের কোনো একটি দক্ষতাকে (Skill) প্রফেশনাল লেভেলে নিয়ে যেতে হবে।
অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed
সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট ও টিম লিডার
ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ প্রতিবেদন | ১২ মে ২০২৬
ঢাকা: বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন টক শোর দুনিয়ায় গত দুই দশকে যে ক’জন ব্যক্তিত্ব নিজেদের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে খালেদ মহিউদ্দিন অন্যতম। প্রখর মেধা, সাহসিকতা এবং সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করার বিশেষ শৈলী তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। বর্তমানে জার্মানিভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি বৈশ্বিক ও দেশীয় রাজনীতিতে এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।

১. জন্ম ও শিক্ষা জীবন

খালেদ মহিউদ্দিনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি ও সাফল্যের শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে:
- উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
- বিদেশি ডিগ্রি: উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং ওয়েস্টমিনিস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নালিজম’ বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন।
২. পেশাদার জীবনের পথচলা ও উত্থান

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতা জীবনের শুরু হয়:
- সংবাদপত্র: তিনি দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’-তে কাজ করেছেন। সেখানে তাঁর রাজনৈতিক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
- টেলিভিশন ও টক শো: পরবর্তীতে তিনি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’-এ যোগ দেন। এখানে তাঁর সঞ্চালিত টক শো ‘আজকের বাংলাদেশ’ তাঁকে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক প্রশ্ন করছি…” আজও দর্শকদের কাছে তাঁর সিগনেচার স্টাইল হিসেবে পরিচিত।
- আন্তর্জাতিক পর্যায়: বর্তমানে তিনি জার্মানির বন শহরে ডয়চে ভেলে (DW) বাংলায় কর্মরত। তাঁর সঞ্চালিত জনপ্রিয় ডিজিটাল শো ‘খালেদ মহিউদ্দিন জানতে চায়’ সমসাময়িক রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত অনুষ্ঠান।
৩. উল্লেখযোগ্য কাজ ও সাফল্য

খালেদ মহিউদ্দিনের সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো নিরপেক্ষতা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ:
- সাহসী সাংবাদিকতা: ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের মুখের ওপর সরাসরি ও যৌক্তিক প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
- সাফল্য ও লেখালেখি: সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন সুপরিচিত লেখক। তাঁর লেখা ‘নিয়ন্ত্রণরেখা’ এবং ‘মুখোমুখি’ বইগুলো রাজনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য বেশ সমাদৃত।
- মেন্টরশিপ: তিনি অসংখ্য তরুণ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং বাংলাদেশে আধুনিক টক শো ফরম্যাট চালুর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
৪. সমালোচনা ও বিতর্ক
যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মতো খালেদ মহিউদ্দিনকেও বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে:
- পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। বিশেষ করে তাঁর কড়া প্রশ্নের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সমর্থকদের কাছে তিনি মাঝেমধ্যেই সমালোচিত হন।
- সঞ্চালনার শৈলী: অনেক সমালোচক মনে করেন, তিনি অনেক সময় অতিথিকে পর্যাপ্ত কথা বলতে না দিয়ে নিজেই বেশি সময় নেন। তবে তাঁর ভক্তদের মতে, সত্য বের করে আনার জন্য এটি তাঁর একটি বিশেষ কৌশল।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রোলিং: কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কারণে তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে, যদিও তিনি সেগুলোকে তাঁর পেশাদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখেন।
৫. বর্তমান অবস্থান

খালেদ মহিউদ্দিন এখন কেবল একজন সাংবাদিক নন, বরং ডিজিটাল মিডিয়ার একজন অন্যতম ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি মনে করেন, সাংবাদিকতা মানেই হলো জনগণের পক্ষে ক্ষমতাবানদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।
- রেফারেন্স: ডয়চে ভেলে (DW) বাংলা আর্কাইভ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক | ১১ মে ২০২৬
ঢাকা: সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর কেবল ভারতের নন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও এক অনন্য স্থান দখল করে আছেন। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা এ দেশের মানুষ আজও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করে। ১১ মে ২০২৬-এর এই বিশেষ দিনে আমরা ফিরে দেখব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতিতে এই কিংবদন্তির অসামান্য অবদান।

১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে লতার কণ্ঠের লড়াই

১৯৭১ সালে যখন বাংলাদেশ রক্তাক্ত, তখন লতা মঙ্গেশকর ভারতে বসে বিশ্ববাসীর বিবেক জাগাতে গান গেয়েছিলেন। তিনি সেই সময় ‘জয় বাংলাদেশ’ নামক হিন্দি ছবিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন, যেখানে অভিনয় করেছিলেন বাংলার তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী। ভারতের বিভিন্ন শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য বিশাল অংকের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার ঠিক পরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ২০১৯ সালে লতা মঙ্গেশকর নিজেই টুইটারে তাঁর সেই ঐতিহাসিক সফরের ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।
২. বাংলাদেশের ছবিতে লতার একমাত্র গান: ‘ও দাদা ভাই’

লতা মঙ্গেশকর অসংখ্য বাংলা ও হিন্দি গান গেয়েছেন যা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো, তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য মাত্র একটি গান গেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মমতাজ আলীর ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ ছবিতে প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ অভিনীত দৃশ্যে “ও দাদা ভাই, মূর্তি বানাও” গানটি গেয়েছিলেন তিনি। এই গানটি আজও সংগীত প্রেমীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।
৩. কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা: সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লার স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশের সংগীতের নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন লতা মঙ্গেশকরকে নিজের আদর্শ মনে করতেন। মুম্বাইয়ে লতার বাড়িতেও তাঁর যাতায়াত ছিল। লতার প্রয়াণে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবিনা ইয়াসমিন বলেছিলেন, “সুর হারিয়ে গেল, পৃথিবীটা আজ নিস্তব্ধ।” শুধু শিল্পী সমাজ নয়, সাধারণ মানুষও লতাকে মনে রাখবে তাঁর সেই অসামান্য অবদানের জন্য।
গুগল অ্যানালাইসিস ও রিডার রিটেনশন টিপস:
গুগল সার্চ ট্রেন্ড (২০২৬) অনুযায়ী, লতা মঙ্গেশকরের “Rare photos of 1971 visit” এবং “Lata Mangeshkar’s only Bangladeshi song” এই টপিকগুলো প্রচুর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আসে। তাই এই আর্টিকেলটিতে ইউটিউব ভিডিওর এমবেড কোড যোগ করলে পাঠকরা আরও বেশি সময় আপনার সাইটে থাকবে।
তথ্যসূত্র (References):
- লতা মঙ্গেশকর অফিশিয়াল টুইটার আর্কাইভ (২০১৯): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ ও ছবি।
- বিএফডিসি (BFDC) আর্কাইভ: ‘র রক্তাক্ত বাংলা’ (১৯৭২) চলচ্চিত্রের সংগীত বিভাগ।
- প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আর্কাইভ: লতা মঙ্গেশকরের প্রয়াণে বাংলাদেশের বিশেষ শোকগাথা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সাক্ষাৎকার।
- ইউটিউব: ‘জয় বাংলাদেশ’ ও ‘র রক্তাক্ত বাংলা’র গানসমূহ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



