রাজনীতি
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী সম্পর্ক আবারও আলোচনায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেমন সাপুড়িয়ার মৃত্যু হয় সাপের কামড়ে, বিএনপির রাজনৈতিক মৃত্যুও হতে পারে জামায়াতের হাত ধরে।
বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের বাস্তবতা
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাপের কারণে ২০০৬ সালের পর থেকে এ সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে। যুদ্ধাপরাধের বিচার, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল, এবং ২০১৩ সালের সহিংস আন্দোলনের পর জামায়াতকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হয়। তবুও বিএনপি গোপনে জামায়াতকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামায়াতের কৌশল
বর্তমানে জামায়াত ইসলামী তাদের সরাসরি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছে না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদেরকে দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও এখন জামায়াত চাইছে জনগণ বিএনপিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবুক। এতে জামায়াত জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনী ঝুঁকি
আগামী নির্বাচনে জামায়াত বা ইসলামী জোট ক্ষমতায় এলে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে। অভিজ্ঞতার অভাবে তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ শাসন স্থিতিশীল রাখতে ব্যর্থ হতে পারে। এতে জনগণের প্রত্যাশা ভেঙে যেতে পারে, যা ইসলামী দলগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে।
বিএনপির সংকট
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থেকে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ এখনো জনমনে বিদ্যমান। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে, জনগণের হতাশা দ্রুত বাড়বে এবং তারা বিকল্প শক্তি খুঁজতে বাধ্য হবে। সেই বিকল্প হতে পারে ইসলামী দলগুলো।
ইসলামী দলগুলোর উত্থান
বর্তমানে জামায়াত ইসলামী ছাড়াও এনসিপি, এবি পার্টি এবং ছোট ইসলামী দলগুলো নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট তৈরির চেষ্টা করছে। এই জোট যদি আগামী নির্বাচনে মাত্র ৫০ আসনও পায়, তবে তা বিএনপির জন্য বড় হুমকি হবে। বিশেষ করে জামায়াত যদি সংসদে ৩০+ আসন নিশ্চিত করতে পারে এবং নিজেদের দুর্নীতি মুক্ত ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে, তবে তারা আগামী ৫ বছরে রাজনৈতিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারবে।
হেফাজতের সঙ্গে দূরত্ব
জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়তে পারে। এতে দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তি বিভক্ত হবে, যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নেতিবাচক। অন্যদিকে বিরোধী দলে থাকলে জামায়াত ও হেফাজতের সমন্বয় সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বিএনপিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ভারত সবসময়ই চেয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোটকে দুর্বল রাখতে। অন্যদিকে পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ইসলামী দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল। যুক্তরাষ্ট্রও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জামায়াতের প্রতি কড়া অবস্থানে নেই, বরং মানবাধিকার ও গণতন্ত্র ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে। ফলে আগামী নির্বাচনে আন্তর্জাতিক সমীকরণ বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিএনপি-জামায়াত সম্পর্ক এবং ইসলামী দলগুলোর উত্থান বাংলাদেশ রাজনীতির ভবিষ্যৎকে নতুন মোড়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনেই হয়তো দেখা যাবে, কারা টিকে থাকবে আর কারা ছিটকে পড়বে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
পুরান ঢাকার নবাব পরিবারের ইতিহাস মানেই শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণে নারীদের এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। আর এই মহীয়সী নারীদের তালিকায় অন্যতম একটি নাম হলো নবাবজাদি পরিবানু। ঢাকার বিখ্যাত ‘পরিবাক’ এলাকাটির নামকরণ এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

নবাবজাদি পরিবানু ১৮৮৪ সালের ১ জুলাই পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা: ঢাকার বিখ্যাত নবাব খাজা আহসান উল্লাহ।
- মাতা: কামরুন্নেসা বেগম।
তিনি কোনো প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যালয়ে না গেলেও, तत्कालीन পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী গৃহশিক্ষক ও গৃহপরিচারিকার নিকট থেকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আরবি, ফারসি এবং ইংরেজি ভাষায় শিক্ষাগ্রহণ করেন।
২. দৃঢ় মনোবল ও জমিদারির কাজকর্ম

পরিবানু কেবল গৃহকোণে আবদ্ধ বিদুষী নারীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ় মনোবলের অধিকারী।
- ঘোড়সওয়ারি: তৎকালীন সময়ে একজন মুসলিম সম্ভ্রান্ত নারী হয়েও তিনি চমৎকারভাবে ঘোড়ায় চড়া শিখেছিলেন।
- উত্তরাধিকারী হওয়ার পরিকল্পনা: তাঁর মেধা ও যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে পিতা নবাব আহসান উল্লাহ তাঁকে জমিদারির নানাবিধ কাজকর্ম শেখান। এমনকি এক পর্যায়ে পরিবানুকে তাঁর জমিদারির মূল উত্তরাধিকারী করার পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নবাব বাহাদুরের আকস্মিক মৃত্যুর কারণে সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবে রূপ নিতে পারেনি।
৩. ‘পরিবাক’ নামকরণের নেপথ্য ইতিহাস

১৯০০ সালে নবাব পরিবারের খাজা ভোলা মিয়ার পুত্র খাজা বদরুদ্দিনের সাথে পরিবানুর বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং বিয়ের পর তিনি ঢাকার দিলখুশায় বসবাস শুরু করেন। তাঁর হাত ধরেই জন্ম নেয় আজকের ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা ‘পরিবাক’।
- شاہবাগ বাগানবাড়ির নিয়ন্ত্রণ: ১৯১৯ সালে পরিবানু ৬০ বিঘা জমিসহ ঢাকার শাহবাগ বাগানবাড়ির দক্ষিণাংশ তৎকালীন নবাব হাবিবুল্লাহর কাছ থেকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
- নারীদের জন্য উন্মুক্ত উদ্যান: বাগানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর, তিনি ঢাকার সম্ভ্রান্ত মহিলাদের বিনোদন ও বেড়ানোর জন্য প্রতি শনিবার সেটি উন্মুক্ত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করেন।
- পরিবাক নামের উৎপত্তি: পরিবানুর নাম এবং তাঁর এই সুন্দর বাগানবাড়ির ঐতিহ্য থেকেই পরবর্তীকালে পুরো এলাকাটি জনমুখে ‘পরিবাক’ নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
৪. নারী শিক্ষায় অবদান: কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল
ঢাকায় নারী শিক্ষার প্রসারে নবাবজাদি পরিবানুর অবদান চিরস্মরণীয়। ১৯২৪ সালে ঢাকার নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ‘কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই স্কুলটির প্রতিষ্ঠা এবং এর সার্বিক উন্নয়নে নবাবজাদি পরিবানু এবং তাঁর অপর বোনেরা মিলে তৎকালীন সময়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন, যা নারী শিক্ষার ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক।
৫. এক নজরে নবাবজাদি পরিবানুর জীবন ও কর্ম ম্যাট্রিক্স
ঢাকার নবাব পরিবারের অন্যতম বিদুষী ও দূরদর্শী নারী নবাবজাদি পরিবানু-র জীবন ও সমাজসেবামূলক কাজের বিবরণ নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো :
| পরিমাপক (Criteria) | নবাবজাদি পরিবানুর জীবন ও কর্মের বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম ও বংশ পরিচয় | ১ জুলাই ১৮৮৪ সালে পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিলে জন্ম । পিতা: নবাব খাজা আহসান উল্লাহ এবং মাতা: কামরুন্নেসা বেগম |
| ব্যতিক্রমী শিক্ষা ও দক্ষতা | গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফারসি ও ইংরেজি শেখেন । অনন্য দক্ষতার কারণে ঘোড়সওয়ারী এবং জমিদারির কাজও শিখেছিলেন |
| বিবাহ ও পারিবারিক জীবন | ১৯০০ সালে নবাব পরিবারের খাজা ভোলা মিয়ার পুত্র খাজা বদরুদ্দিনের সাথে বিয়ে হয় । তিনি দিলকুশায় বসবাস করতেন |
| ‘পরিববাগ’ এলাকার রূপকার | ১৯১৯ সালে শাহবাগ বাগানবাড়ির ৬০ বিঘা জমি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন । সম্ভ্রান্ত নারীদের বিনোদনের জন্য প্রতি শনিবার বাগানটি উন্মুক্ত রাখতেন, যা থেকে এলাকাটি পরবর্তীতে পরিপাগ নামে পরিচিত হয় |
| শিক্ষা বিস্তারে অবদান | ১৯২৪ সালে ঢাকার টিকাটুলিতে নারীদের শিক্ষার জন্য নিজের মায়ের নামে কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন । এই স্কুলের উন্নয়নে তিনি ও তাঁর বোনেরা মিলে তৎকালীন সময়ে লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেন |
| মৃত্যু | ১৯৫৮ সালে এই বিদুষী নারী মৃত্যুবরণ করেন |
ম্যাট্রিক্সের মূল সারসংক্ষেপ
নবাবজাদি পরিবানু ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং সেকালের একজন প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব । তাঁর প্রতিষ্ঠিত কামরুন্নেসা গার্লস হাই স্কুলটি ১৯৪৭ সালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয় এবং এটি আজও পুরান ঢাকার অন্যতম বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নারী শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে
৬. জীবনাবসান ও শ্রদ্ধাঞ্জলি
এই মহীয়সী ও বিদুষী নারী ১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর তাঁকে ঢাকার বেগমবাজারের নবাব পরিবারের পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। ঢাকার ইতিহাস ও নারীর ক্ষমতায়নের এই নীরব রূপকারের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ
একজন ইতিহাস ও কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবে আমি মনে করি, ঢাকার স্থানীয় ইতিহাস (Local History) নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের জন্য নবাবজাদি পরিবানুর মতো চরিত্রগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকার নামকরণের পেছনে যে কত রোমাঞ্চকর এবং গৌরবময় ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তার এক অনন্য প্রমাণ হলো ‘পরিবাক’। ১৯২৪ সালে তাঁর ও তাঁর বোনেদের দেওয়া লক্ষাধিক টাকার অনুদানই আজকের কামরুন্নেসা গার্লস স্কুলের ভিত্তি, যা তৎকালীন মুসলিম সমাজে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করেছিল। এই ধরণের ঐতিহাসিক কন্টেন্টগুলো ইন্টারনেটে সঠিক তথ্যসহ ডিজিটাল আর্কাইভ হিসেবে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed
ইতিহাস ও কন্টেন্ট অ্যানালিস্ট
আমার কাজের পোর্টফোলিও ও ডিজিটাল গ্রোথ স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: bdsbulbulahmed.com
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি তরুণের এক অনন্য অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব ড. এ.পি.জে আব্দুল কালাম। সদা কর্ম ও জ্ঞান সাধনায় নিবেদিত এই মানুষটি শুধু একজন সফল বিজ্ঞানীই ছিলেন না, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বাবলম্বী করার পেছনে তাঁর অবদান ছিল অতুলনীয়। সফল ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা হিসেবে তাঁর নামের আগে আজীবন যুক্ত হয়েছিল ‘মিসাইল আবদুল কালাম’।
১. কেন তাঁকে ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ বলা হয়?

বিজ্ঞানী ড. এ পি জে আব্দুল কালাম-কে (A. P. J. Abdul Kalam) মূলত স্বদেশী প্রযুক্তিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) ও মহাকাশযানবাহী রকেট (Launch Vehicle) উন্নয়নের কাজে তাঁর অসামান্য ও যুগান্তকারী অবদানের জন্য পরম শ্রদ্ধার সাথে ‘মিসাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ (Missile Man of India) বলা হয়।
তাকে এই বিশেষ নামে ডাকার মূল কারণগুলো হলো:
- স্বদেশী মিসাইল প্রোগ্রাম: তিনি ভারতকে সামরিক ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর করতে সম্পূর্ণ নিজস্ব বা দেশীয় প্রযুক্তির মূল রূপকার ছিলেন।
- IGMDP এর সফল নেতৃত্ব: ১৯৮০-র দশকে ভারতের ‘ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর চিফ এক্সিকিউটিভ হিসেবে তিনি পুরো প্রজেক্ট পরিচালনা করেন।
- পাঁচটি শক্তিশালী মিসাইল তৈরি: তাঁর প্রত্যক্ষ বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বে ভারত একযোগে পাঁচটি বিখ্যাত ও শক্তিশালী মিসাইল তৈরি করতে সক্ষম হয়।
- পোখরান-২ পারমাণবিক পরীক্ষা: ১৯৯৮ সালে ভারতের সফল পোখরান-২ পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা ভারতকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
২. কালামের তৈরি উল্লেখযোগ্য মিসাইলসমূহ: সংক্ষেপে ‘PATNA’

ড. এ পি জে আব্দুল কালামের নেতৃত্বে ভারতের ‘ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (IGMDP)-এর আওতায় যে পাঁচটি প্রধান মিসাইল তৈরি করা হয়, সেগুলোকে সংক্ষেপে ‘PATNA’ বলা হয়। নিচে এই উল্লেখযোগ্য মিসাইলসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
- পৃথিবী (Prithvi): এটি ছিল সারফেস-টু-সারফেস (ভূমি থেকে ভূমি) ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম কৌশলগত মিসাইল, যা স্বল্প দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
- অগ্নি (Agni): এটি মাঝারি থেকে দূরপাল্লার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM)। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই মিসাইলটি তৈরির মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক সামরিক শক্তিতে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করে।
- ত্রিশূল (Trishul): এটি স্বল্প দূরত্বের এবং খুব দ্রুত গতিসম্পন্ন সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশ) মিসাইল, যা মূলত শত্রুপক্ষের উড়ন্ত বিমান বা নিচু দিয়ে যাওয়া মিসাইল ধ্বংস করতে তৈরি।
- আকাশ (Akash): এটি মাঝারি দূরত্বের সারফেস-টু-এয়ার (ভূমি থেকে আকাশ) মিসাইল। এটি একসাথে একাধিক আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু (যেমন ফাইটার জেট বা ড্রোন) ট্র্যাক করে ধ্বংস করতে পারে।
- নাগ (Nag): এটি একটি আধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (ATGM)। এটি ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ (Fire-and-Forget) প্রযুক্তির মিসাইল, যা শত্রুপক্ষের শক্তিশালী ট্যাঙ্ক নিমেষেই ধ্বংস করে দেয়।

৩. এক নজরে এ.পি.জে আব্দুল কালামের মিসাইল ক্যারিয়ার ম্যাট্রিক্স
| মিসাইলের নাম | ধরন (Type) | রেঞ্জ/পাল্লা (Range) | মূল বৈশিষ্ট্য (Key Feature) |
|---|---|---|---|
| पृथ्वी (Prithvi) | ভূমি থেকে ভূমি (Surface-to-Surface) | ১৫০ – ৩সাড়ে ৩০০ কি.মি. | ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রযুক্তির ব্যালেস্টিক মিসাইল। |
| अग्नि (Agni) | দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক (ICBM) | ৭০০ – ৮,০০০+ কি.মি. | পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম প্রধান রণকৌশলগত হাতিয়ার। |
| त्रिशूल (Trishul) | ভূমি থেকে আকাশ (Surface-to-Air) | ৯ কি.মি. | স্বল্প দূরত্বের এবং খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়াপূর্ণ ডিফেন্স মিসাইল। |
| आकाश (Akash) | ভূমি থেকে আকাশ (Surface-to-Air) | ২৫ – ৩০ কি.মি. | একসাথে একাধিক উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। |
| नाग (Nag) | ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী (Anti-Tank) | ৪ – ৫ কি.মি. | ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তির আধুনিক ট্যাঙ্ক কিলার। |
ম্যাট্রিক্সের মূল সারসংক্ষেপ
ড. কালামের নেতৃত্বে তৈরি এই পাঁচটি মিসাইল (যা সংক্ষেপে PATNA নামে পরিচিত) ভারতকে আকাশ, ভূমি এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষায় সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তুলেছে। এটিই মূলত তাঁর ‘মিসাইল ম্যান’ হয়ে ওঠার মূল ভিত্তি।
৪. নেপথ্যের ইতিহাস: ড. কালামের ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর রোমাঞ্চকর গল্প
ড. কালামের মিসাইল প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণামূলক গল্পটি ছিল ১৯৭৯ সালের এসএলভি-৩ (SLV-3) রকেট উৎক্ষেপণের ব্যর্থতা এবং তার ঠিক এক বছর পর ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক সফলতা।
১৯৭৯ সালের বিপর্যয়: কোটি টাকার রকেট যখন বঙ্গোপসাগরে
ড. কালাম তখন ভারতের প্রথম স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল (SLV-3) প্রজেক্টের ডিরেক্টর। রকেট ওড়ানোর ঠিক ৪ মিনিট আগে কম্পিউটার স্ক্রিনে একটি ত্রুটি (Leak) ধরা পড়ে। কিন্তু ব্যাকআপ সিস্টেমের ওপর ভরসা করে কালাম মিশন এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলাফলস্বরূপ, রকেটটি আকাশে ওড়ার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে আছড়ে পড়ে। পুরো প্রজেক্ট এবং কালামের বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম এক নিমেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
লিডারশিপের অনন্য উদাহরণ: প্রফেসর সতীশ ধাওয়ান
রকেট ক্র্যাশ করার পর পুরো বিশ্ব এবং মিডিয়া তীব্র সমালোচনা শুরু করে। ড. কালাম যখন ভয়ে ও লজ্জায় কাঁপছিলেন, ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তে ইসরো (ISRO)-এর তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর সতীশ ধাওয়ান কালামকে সরিয়ে নিজে মাইকের সামনে দাঁড়ান। তিনি মিডিয়াকে বলেন:
“আমরা আজ ব্যর্থ হয়েছি। কিন্তু আমি আমার টিমের ওপর বিশ্বাস রাখি। আগামী বছর আমরা অবশ্যই সফল হবো।”
ড. কালাম তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটি এখান থেকেই পান— একজন প্রকৃত লিডার সাফল্যের কৃতিত্ব টিমকে দেয়, আর ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নেয়।
১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক জয়

ড. কালাম এবং তাঁর টিম দমে যাননি। তারা দিন-রাত এক করে রকেটের সেই ত্রুটি দূর করতে কাজ শুরু করেন। ঠিক এক বছর পর, ১৮ জুলাই ১৯৮০ সালে, ড. কালামের নেতৃত্বে ‘SLV-3’ সফলভাবে আকাশে ওড়ে এবং ‘রোহিণী’ স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করে। এবার প্রফেসর সতীশ ধাওয়ান নিজে মাইকের সামনে না গিয়ে ড. কালামকে ডেকে বলেন, “এবার তুমি গিয়ে মিডয়ার সাথে কথা বলো। এটা তোমার এবং তোমার টিমের অর্জন।”
এই সফলতার পরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ড. কালামকে ভারতের গোপন মিসাইল প্রজেক্টের (IGMDP) প্রধান দায়িত্ব দেন এবং কালামের হাত ধরেই তৈরি হয় পৃথিবী ও অগ্নির মতো শক্তিশালী মিসাইল।
৫. আত্মজীবনী ‘উইংস অব ফায়ার’ (Wings of Fire)

ড. কালামের অনুপ্রেরণামূলক জীবন এবং তাঁর ‘মিসাইল ম্যান’ হয়ে ওঠার বিস্তারিত দলিল রয়েছে তাঁর বিখ্যাত আত্মজীবনী ‘উইংস অব ফায়ার’-এ। এটি কেবল একটি বই নয়, বরং একজন সাধারণ রামেশ্বরামের নৌকার মাঝির ছেলের ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং শীর্ষ বিজ্ঞানী হওয়ার এক জাদুকরী দলিল। ড. কালাম এই বইয়ে তরুণদের উদ্দেশ্যে দেখিয়েছেন কীভাবে ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে স্বপ্নকে সত্যি করতে হয়। তাঁর বিখ্যাত উক্তিটি আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়:
“স্বপ্ন তা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন হলো সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।”
🖋️ আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ
একজন কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ও টেকনিক্যাল এসইও কনসালটেন্ট হিসেবে আমি মনে করি, এ.পি.জে আব্দুল কালামের জীবন থেকে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রতি একাগ্রতা। তিনি মৃত্যুর বহু বছর আগে তরুণদের এক সমাবেশে বলেছিলেন— ‘আমার মৃত্যুতে ছুটি ঘোষণা করো না, আমায় যদি ভালোবাসো, মন দিয়ে কাজ করো সেদিন।’ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ করার পরও তিনি সাধারণ মানুষের মতো বিভিন্ন বিদ্যাপীঠে ঘুরে ঘুরে নতুন প্রজন্মকে প্রাকটিক্যাল জ্ঞান ও দক্ষতায় দীক্ষিত করেছেন। এই কারণেই তিনি শুধু ‘মিসাইল ম্যান’ নন, বরং কোটি কোটি তরুণের হৃদয়ে স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
অনুমোদিত লেখক: BDS Bulbul Ahmed
সিনিয়র এসইও কনসালটেন্ট ও কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ডিজিটাল গ্রোথ, টেকনিক্যাল এসইও এবং কন্টেন্ট অপ্টিমাইজেশন স্ট্র্যাটেজি দেখতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
১৯৫৮ সালের একটি সাধারণ সাদামাটা দিন। কোলে এক ছোট্ট শিশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক মা। তখন কে জানত, এই অতি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুটাই একদিন বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শাসক হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি কাঁপাবে?

হ্যাঁ, এই শিশুটিই হলেন বর্তমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
জন্ম ও শৈশবের দিনগুলো

১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের লেনিনগ্রাদে (বর্তমান সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক দরিদ্র শ্রমিক পরিবারে জন্ম নেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার মা মারিয়া ইভানোভনা পুতিনা (অনেকের কাছে ল্যুডমিলা নামে পরিচিত) এবং বাবা ভ্লাদিমির স্পিরিডোভিচ পুতিন—উভয়ই ছিলেন সাধারণ কারখানার কর্মী। লেনিনগ্রাদের একটি সাধারণ ‘কমিউনাল অ্যাপার্টমেন্টে’ (যৌথ আবাসন) চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কাটে পুতিনের শৈশব। অভাবের সেই দিনগুলোতে টিকে থাকার লড়াইটাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তোলে।
আইন পড়াশোনা ও গোয়েন্দা সংস্থায় প্রবেশ

শৈশব থেকেই পুতিনের লক্ষ্য ছিল দৃঢ়। তিনি লেনিনগ্রাদ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৫ সালে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনা শেষ করেই তিনি যোগ দেন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত ও শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেজিবি’ (KGB)-তে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব জার্মানিতে কেজিবির একজন দক্ষ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘনিয়ে এলে তিনি লিয়েট্যানেন্ট কর্নেল পদমর্যাদা নিয়ে কেজিবি ছাড়েন।
রাজনীতিতে প্রবেশ ও ক্রেমলিনের পথে যাত্রা

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পুতিন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের তৎকালীন মেয়র অ্যানাতোলি সোবচাকের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। নিজের সততা ও দক্ষতার কারণে দ্রুতই তিনি সবার নজর কাড়েন। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজধানী মস্কোতে চলে আসেন এবং প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের প্রশাসনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালের আগস্টে ইয়েলৎসিন তাকে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন।
ক্রেমলিনের শীর্ষ ক্ষমতা দখল
১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন আচমকা পদত্যাগ করলে পুতিন রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ২০০০ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম শীর্ষ চালিকাশক্তি

ক্ষমতায় আসার পর পুতিন অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং ভেঙে পড়া রাশিয়াকে শক্ত হাতে পুনর্গঠন করেন। চচনিয়া যুদ্ধ জয়, অলিগার্কদের (প্রভাবশালী ব্যবসায়ী) নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে তিনি বিশ্বমঞ্চে দেশটির হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে আনেন। প্রায় আড়াই দশক ধরে কখনো প্রেসিডেন্ট, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাশিয়ার ক্ষমতা নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে পুতিনের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ পুরো পৃথিবীর অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
লেনিনগ্রাদের সেই অভাবী ঘরের ছোট্ট শিশুটি আজ শুধু রাশিয়ার ভাগ্যবিধাতাই নন, বরং আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



