স্বাস্থ্য

কাঁচা পেঁয়াজ খাচ্ছেন তো? জেনে নিন এর ৫টি আশ্চর্য উপকারিতা!
পেঁয়াজ

নিউজ ডেস্ক

August 7, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: স্বাস্থ্য গবেষণা সাময়িকী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন

গরম ভাতের পাশে একটু কাঁচা পেঁয়াজ—গ্রামীণ হোক বা শহুরে, আমাদের খাদ্যতালিকার চিরচেনা একটি উপাদান। কিন্তু এই পেঁয়াজ শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যেও রাখে দারুণ অবদান। সম্প্রতি পুষ্টিবিদরা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস আমাদের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী উপকার বয়ে আনতে পারে।

চলুন জেনে নিই, কেন নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া উচিত:


১. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

পেঁয়াজে রয়েছে সালফার যৌগ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সহায়ক। এতে রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়ে ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্ল্যাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর, এবং পেঁয়াজ সেই তালিকার অন্যতম শীর্ষে।


২. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

পেঁয়াজে রয়েছে পটাশিয়াম, যা রক্তনালীকে প্রসারিত করে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। বিশেষ করে হাই ব্লাড প্রেসারে ভোগা রোগীদের জন্য কাঁচা পেঁয়াজ একটি প্রাকৃতিক সহায়ক খাবার।


৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন সি এবং কোয়ারসেটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা শরীরকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।


৪. ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর

পেঁয়াজে বিদ্যমান কোয়ারসেটিন এবং সালফার যৌগ ফ্রি র‍্যাডিকেল প্রতিরোধে কাজ করে, যা কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে কোলন, ব্রেস্ট এবং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস পায়।


৫. হজম শক্তি বাড়ায়

পেঁয়াজে রয়েছে প্রাকৃতিক ফাইবার ও প্রিবায়োটিক, যা অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়। এটি খাবার হজমে সহায়তা করে এবং পেটের গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখে।


পুষ্টিবিদের পরামর্শ: প্রতিদিন অন্তত ৩০-৫০ গ্রাম কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া যেতে পারে—তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অম্বলের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ার পদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ফাঁসি

নিউজ ডেস্ক

May 7, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: বিচারিক দণ্ড কার্যকর বা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ফাঁসিতে মৃত্যুর বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অত্যন্ত জটিল এবং মুহূর্তের মধ্যে শরীরের একাধিক জৈবিক সিস্টেম অকেজো হয়ে যাওয়ার একটি সমন্বিত ফলাফল। সাধারণত সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, ফাঁসির দড়িতে ঝোলার পর ঠিক কোন শারীরিক পরিস্থিতির কারণে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে? ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কাজ করে মূলত ছয়টি প্রধান ঘাতক প্রক্রিয়া।

১. সারভাইকাল ভার্টিব্রা ও সুষুম্না শীর্ষক (মেডুলা) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

মানবদেহের গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা বা সারভাইকাল ভার্টিব্রা-র ওপর যখন হঠাৎ তীব্র চাপ পড়ে, তখন দ্বিতীয় কশেরুকাটির (Axis) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হ্যাংম্যানস ফ্রাকচার’। এর ফলে মস্তিষ্কের ঠিক নিচে থাকা মেডুলা অবলংগাটা বা সুষুম্না শীর্ষকের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এই অংশটি শরীরের হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো মৌলিক কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে, যা মুহূর্তেই অকেজো হয়ে যায়।

২. মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়া

আমাদের ঘাড়ের দুই পাশে থাকা ক্যারোটিড ধমনি মস্তিষ্কে তাজা রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। ফাঁসিতে ঝোলার ফলে এই ধমনিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। মাত্র ২ থেকে ৫ কেজি চাপের ফলেই এই ধমনি দিয়ে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হতে পারে। ফলে সেকেন্ডের মধ্যে শুরু হয় সেরেব্রাল হাইপোক্সিয়া (মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব), যা ব্রেন টিস্যুগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়।

৩. শ্বাসনালী বা এয়ারওয়ে অবরুদ্ধ হওয়া

ফাঁসি দেওয়ার সময় মাথার বিশেষ অবস্থানের কারণে বাতাস চলাচলের পথ বা ট্রাকিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুস অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে না এবং শরীরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিষক্রিয়া শুরু হয়, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অ্যাসফিক্সিয়া (Asphyxia)

৪. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও নার্ভাস সিস্টেমের ধাক্কা

ঘাড়ের কাছে ক্যারোটিড সাইনাস নামক একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থাকে। এটি সরাসরি হৃদপিণ্ড নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ু বা ভেগাস নার্ভের (Vagus Nerve) সাথে যুক্ত। ফাঁসিতে ঝোলার সময় এই সাইনাসে প্রচণ্ড চাপ পড়লে হৃদপিণ্ড হঠাৎ করে পাম্প করা বন্ধ করে দেয়, যাকে বলা হয় রিফ্লেক্স কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট

৫. কার্বন ডাই-অক্সাইড ও টিস্যু মৃত্যু

জুগুলার শিরা যা মস্তিষ্ক থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিয়ে ফিরে আসে, সেটিও দড়ির চাপে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে দূষিত রক্ত জমে যায় এবং টিস্যুগুলো মারা যেতে শুরু করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে মানুষের সচেতনতা লোপ পায় এবং মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞের অভিমত

প্রতিরক্ষা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক ফাঁসির ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চতা (Drop) থেকে নিচে ফেলা হয় যাতে ঘাড়ের হাড় (Cervical Fracture) দ্রুত ভেঙে যায় এবং মৃত্যু যন্ত্রণাহীন হয়। এর বিপরীতে ড্রপ ছাড়া ফাঁসির ক্ষেত্রে মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে কারণ সেখানে শ্বাসরোধ হয়ে মরতে বেশি সময় লাগে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি টেক্সটবুক এনালাইসিস ২. ক্লিনিক্যাল প্যাথলজি ও কার্ডিওলজি রিসার্চ ২০২৬ ৩. আন্তর্জাতিক ফরেনসিক সায়েন্স জার্নাল ও ল্যাব রিপোর্ট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নিউজ ডেস্ক

April 5, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)

ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: একাত্তরের ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠা বাংলাদেশ সম্পর্কে হেনরি কিসিঞ্জার যখন ১৯৭৪ সালে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ (Bottomless Basket) মন্তব্য করেছিলেন, তিনি তখন এই ভূখণ্ডের মানুষের টিকে থাকার অদম্য জেদকে চিনতে পারেননি। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে যখন আমরা আমাদের কৃতিত্ব খুঁজি, তখন অট্টালিকা বা জিডিপির চেয়েও বড় হয়ে ধরা দেয় আমাদের ‘সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট’ বা প্রতিকূলতায় টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা।

১. ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বনাম কিসিঞ্জারের আমেরিকার পোশাক জোগানদাতা

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যখন চরম খাদ্য সংকট ও অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত, তখন পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের সক্ষমতা নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু সেই ‘উন্নাসিক’ দেশগুলোই আজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার।

  • ঐতিহাসিক তুলনা: এটি অনেকটা ১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মতো। বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছিলেন, “কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না,” আজ কোটি কোটি শ্রমিকের সুঁই-সুতার কারুকাজ বিশ্বকে সেই বার্তাই দিচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়, সেখানে বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

২. খানা-খন্দ ভরা পথে ‘শর্টকাট’হীন যাত্রা

আমাদের উন্নয়ন কোনো ‘সুগার ড্যাডি’ বা দাতা সংস্থার দয়ায় হয়নি। আমরা এক পা এগিয়েছি তো দুই পা পিছিয়েছি, আবার উঠে দাঁড়িয়েছি।

  • ব্যক্তিত্বের তুলনা: এই সংগ্রামী পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সেই সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আপসহীন লড়াইকে। ভাসানী যেমন প্রান্তিক মানুষের শক্তিতে বিশ্বাস করতেন, আমাদের অর্থনীতিও আজ কৃষকের ঘাম আর প্রবাসী শ্রমিকের রেমিট্যান্সে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ধীরগতিতে আগাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের নিজেদের রক্তের ও ঘামের।

৩. নারী শ্রমিকের নীরব বিপ্লব ও সামাজিক বিবর্তন

গত তিন দশকে বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টর যে নারী জাগরণ ঘটিয়েছে, তা দক্ষিণ এশিয়ায় বিরল।

  • সামাজিক প্রেক্ষাপট: কয়েক প্রজন্ম আগে যেখানে নারী ছিল চার দেয়ালের বন্দি, আজ তারা কেবল পরিবারের ভরণপোষণ করছে না, বরং একটি শিক্ষিত প্রজন্মের জন্ম দিচ্ছে। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই স্বনির্ভর বাংলাদেশ ও গ্রাম সরকার গঠনের দর্শনের একটি আধুনিক প্রতিফলন বলা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল। মায়েরা যা করতে পারেননি, কন্যারা আজ তা করে দেখাচ্ছেন—এটাই আমাদের আসল ‘সোশ্যাল সলিডারিটি’।

৪. পোলিও নির্মূল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জয়

এক সময় মানুষ কলেরায় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতঙ্গের মতো মরত। আজ সেই চিত্র পাল্টেছে।

  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ: আমেরিকার মতো উন্নত দেশ যখন বড় কোনো ঝড়ে এক মাস ধরে বিলাপ করে, বাংলাদেশ তখন এক সপ্তাহের মধ্যে দুর্যোগ সামলে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরে। পোলিও নির্মূলের সাফল্য আমাদের সেই সক্ষমতার প্রমাণ, যা উন্নত বিশ্বের অনেক দেশকেও ঈর্ষান্বিত করে।

৫. মৌলবাদ বনাম অসাম্প্রদায়িকতার দীর্ঘ লড়াই

আপনি ঠিকই বলেছেন, আমরা এখনো পুরোপুরি অসাম্প্রদায়িক বা অতিথিপরায়ণ হতে পারিনি। প্রতিটি অর্জনের আড়ালে নতুন নতুন সমস্যা, যেমন—মৌলবাদ ও অসহিষ্ণুতা দাঁড়িয়ে আছে।

  • ঐতিহাসিক যোগসূত্র: এটি অনেকটা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মতো। আমরা যখনই কোনো সংকটের সমাধান করি, তখনই একটি নতুন প্রতিপক্ষ সামনে দাঁড়ায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, এ দেশের মানুষ শেষ পর্যন্ত অন্ধকারকে জয় করেছে।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বের খুব বেশি কিছু নেই—এই স্বীকারোক্তিটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা যখন আবেগ ছেড়ে বাস্তবতাকে মেনে নিই, তখনই উন্নতির প্রকৃত পথ খোলে। আমাদের গর্ব আমাদের ‘জেদ’। আমরা শান্তিপ্রিয় বা অসাম্প্রদায়িক হওয়ার চেষ্টায় আছি, আমরা নিখুঁত নই—কিন্তু আমরা লড়াকু। এই লড়াইটাই আমাদের অস্তিত্বের পরিচয়।


আমাদের গর্ব ও সংগ্রামের তুলনামূলক চিত্র

অর্জনের ক্ষেত্রঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটবর্তমান বাস্তবতা (২০২৬)
অর্থনীতিতলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ (১৯৭৪)বিশ্বের ২য় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক।
নারীর অবস্থানঅশিক্ষা ও পর্দাপ্রথা (১৯৭০-এর দশক)শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারী প্রজন্মের উত্থান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মৃত্যু (১৯৭০)বিশ্বখ্যাত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা।
জনস্বাস্থ্যরোগ-শোকে গণমৃত্যুপোলিও নির্মূল ও গড় আয়ু বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক চেতনাঅধিকার আদায়ের লড়াই (১৯৫২, ১৯৭১)জুলাই বিপ্লব ও রাষ্ট্র সংস্কারের সংকল্প।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

চিয়া সিড

নিউজ ডেস্ক

March 22, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৬: বর্তমান যুগে সবাই যখন ওজন কমানোর দৌড়ে ব্যস্ত, তখন একদল মানুষ সুস্থভাবে ওজন বাড়ানোর জন্য সঠিক ‘ডায়েট পাইপলাইন’ খুঁজে পাচ্ছেন না। কেবল জাঙ্ক ফুড খেয়ে ওজন বাড়ানো মানে শরীরে চর্বি জমানো, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। কিন্তু ২০২৬ সালের আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, সঠিক প্রোটিন, হেলদি ফ্যাট এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের সমন্বয়ই হলো পেশিবহুল ও সুস্থ শরীর গঠনের আসল চাবিকাঠি।

আজ আমরা আলোচনা করব মুগ ডাল ও চিয়া সিডের বিশেষ চিলা নিয়ে, যা ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

১৯০০-২০২৬: বাঙালির প্রোটিন উৎস ও খাদ্যাভ্যাসের বিবর্তন

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে বাঙালির প্রধান প্রোটিন উৎস ছিল মাছ এবং ডাল। তখন মানুষ কায়িক পরিশ্রম বেশি করত বলে সাধারণ ডাল-ভাত থেকেই প্রয়োজনীয় শক্তি পেত। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি কালখণ্ডে মুগ ডাল ছিল আভিজাত্য ও পুষ্টির প্রতীক। তবে ২০২৬ সালের এই স্মার্ট যুগে আমরা কেবল ডালেই সীমাবদ্ধ নই, এর সাথে যুক্ত হয়েছে চিয়া সিড (Chia Seed) এবং ওটস-এর মতো গ্লোবাল সুপারফুড। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ ‘চিলা’ বা ‘চাপটি’ আজ ২০২৬ সালে এসে একটি হাই-ক্যালোরি নিউট্রিশনাল মিলে রূপান্তরিত হয়েছে।

কেন এই চিলা ওজন বাড়াতে সেরা? (কৌশলগত বিশ্লেষণ)

গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের হেলথ ডাটা অনুযায়ী, মাসল মাস (Muscle Mass) বাড়াতে হলে শরীরে প্রতিদিনের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি (Calorie Surplus) সরবরাহ করতে হয়।

  • প্রোটিন পাওয়ারহাউজ: মুগ ডাল ও ডিমের সমন্বয় পেশি গঠনে সরাসরি কাজ করে।
  • হেলদি ফ্যাট: চিয়া সিড এবং পিনাট বাটার শরীরে ভালো ফ্যাট যোগ করে, যা হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং ওজন বাড়ায়।
  • হজম ও শক্তি: দই হজমশক্তি বাড়ায় এবং ওটস দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তি যোগায়।

রেসিপি ও প্রস্তুত প্রণালী (এক নজরে)

উপকরণ: ১ কাপ ভেজানো মুগ ডাল, ১ টেবিল চামচ চিয়া সিড, ওটস গুঁড়ো, দই, ডিম, পেঁয়াজ-লঙ্কা, আদা বাটা এবং প্রধান ক্যালোরি বুস্টার হিসেবে পিনাট বাটার বা ঘি

পদ্ধতি: ব্লেন্ড করা মুগ ডালের সাথে সব উপকরণ মিশিয়ে একটি ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। প্যানে ঘি বা তেল দিয়ে সোনালি করে ভেজে নিন। পিনাট বাটারের সংযুক্তি এই চিলার ক্যালোরিকে সাধারণ খাবারের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

২০২৬-এর ফিটনেস টিপস ও গুগল ইনসাইট

২০২৬ সালের গ্লোবাল ফিটনেস ট্রেন্ড অনুযায়ী, শুধু খাবার খেলেই হয় না, এর সাথে পুষ্টিকর পানীয়ের সমন্বয় প্রয়োজন। আপনি যদি এই চিলার সাথে এক গ্লাস কলা-দুধের শেক যোগ করেন, তবে আপনার বডি ইনডেক্স দ্রুত উন্নত হবে। ১৯০০ সালের সেই গাধার মতো পরিশ্রম করে শরীর শুকিয়ে ফেলার দিন শেষ, এখন সঠিক ‘ডায়েট সিস্টেম’ বা পাইপলাইনের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফিগার পাওয়া সম্ভব।


উপসংহার: ওজন বাড়ানো মানে কেবল চর্বি বাড়ানো নয়, বরং শরীরকে শক্তিশালী করা। মুগ ডাল ও চিয়া সিডের এই চিলা সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি আপনার শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে। নিয়মিত এই স্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি গড়ে তুললে আপনিও পেতে পারেন ২০২৬ সালের মানদণ্ডে একটি ফিট ও শক্তিশালী শরীর।

সূত্র: বিএমআই (BMI) গাইডলাইন ২০২৬, আইসিডিডিআর,বি পুষ্টি গবেষণা, হেলথলাইন নিউট্রিশন ডাটা, প্রথম আলো লাইফস্টাইল এবং ২০২৬ সালের গুগল হেলথ ইনসাইট।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ