মডেল

জন্মজয়ন্তীতে স্মরণ: বহুভাষিক রসে–রঙ্গে নির্মিত লেখক–ব্যক্তিত্ব সৈয়দ মুজতবা আলী
সৈয়দ মুজতবা আলী

নিউজ ডেস্ক

September 20, 2025

শেয়ার করুন

ঢাকা | ফিচার–ডেস্ক — বাংলা সাহিত্যের অনন্য রম্য–ভ্রমণ–গদ্যকার সৈয়দ মুজতবা আলী—যাঁর ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠেছিল বিচিত্র ও মিশ্র উপাদানে—জন্মেছেন ব্রিটিশ ভারতের আসাম প্রদেশের সিলেটের করিমগঞ্জে; পৈতৃক ভিটা মৌলভীবাজার ও নিবাস হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উত্তরসূর গ্রামে। শান্তিনিকেতন থেকে কায়রো, পরে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়—তুলনাত্মক ধর্মতত্ত্বে পিএইচডি; চাকরির সুবাদে কাবুল ও বরোদায় বসবাস। প্রাচ্য–পাশ্চাত্যের শিক্ষা, ভ্রমণ ও অধ্যাপনার সমন্বয়ে তিনি আঠারো–উর্ধ্ব ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন—যা তাঁর গদ্যে বহুভাষিক রসের অনন্যতা দেয়।

সাহিত্য–পথচলা: পত্রিকা–ছদ্মনাম–কলাম

শান্তিনিকেতনে পড়ার সময়ে বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত পত্রিকায় লেখা শুরু। পরে ‘সত্যপীর’, ‘ওমর খৈয়াম’, ‘টেকচাঁদ’, ‘প্রিয়দর্শী’ প্রভৃতি ছদ্মনামে দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদীসহ নানা পত্রিকায় ধারাবাহিক ও কলাম লিখেছেন। ভ্রমণ–অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় তাঁর স্মরণীয় ভ্রমণলিপি; পাশাপাশি ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা—সবখানেই শব্দের খেলায় সূক্ষ্ম কৌতুক ও গভীর জীবনবোধের ছাপ।

শৈলী: হোরেসীয় ব্যঙ্গ, ‘পান’–এর জাদু, পরিমিতির সৌন্দর্য

ইউরোপীয় ব্যঙ্গসাহিত্যে জুভেনাল–ধারার তীক্ষ্ণ আক্রমণের চেয়ে তিনি ছিলেন হোরেসীয় রসবোধের অনুগামী—“হাসতে হাসতে সংশোধন”—এই নীতির প্রয়োগে। ইংরেজি pun–এর মতো শব্দখেলা ছিল তাঁর স্বাক্ষর। কোথায় কতটা বলা, কতটুকু থামা—এই পরিমিতিবোধকে তিনি শিল্পরূপ দিয়েছেন; তাঁর মতে, দা ভিঞ্চির মোনালিসা–কে যেমন অতিরিক্ত তুলির আঁচড় রহস্যহীন করে দিতে পারত, তেমনই রম্যরচনায় মাত্রাধিক কথন রস–চেতনা নষ্ট করে—তাই তালে–ঠিক রাখতে হয়।

রবীন্দ্র–ঐক্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও সিলেট–অভিমান

শান্তিনিকেতনে পড়ার অভিজ্ঞতায় তাঁর সর্বসত্তায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব স্পষ্ট; ব্যক্তিজীবন ও লেখালেখিতে অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদ ছিল তাঁর মজ্জাগত। তবু আঞ্চলিক পরিচয় নিয়ে ছিল টান—তিনি আজীবন সিলেট–সমর্পিত ছিলেন। নাতি অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর সিলেটি ভাষাচর্চাকে তুলনা করেন “ন্যাপথলিনে সুরক্ষিত তোরঙ্গে তোলা সিলেটি”—দৈনন্দিন নয়, কিন্তু অক্ষত ও নির্মেদ। মনজুরুল ইসলামের ভাষায়, মুজতবা আলীর অবিচল স্বদেশপ্রেম তাঁকে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের সঙ্গে তুলনাযোগ্য করে; বিশ্বপরিক্রমাতেও তিনি বড়াইহীন, সংযত—“বিশ্বকে মাপতেন হাত দিয়ে, নিজেকে ডুরি আঙুল দিয়ে।”

বিতর্কের আড়ালে উদারতা

তুলনাত্মক ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক বড় ভাই সৈয়দ মুর্তাজা আলীর আক্ষেপ—মুজতবা আলীর সাহিত্যে ধর্মীয় সংকীর্ণতা ছিল না; কিন্তু তাঁর এই উদারতার জন্য গোঁড়া স্বধর্মীরা তাঁকে কোনোদিন ক্ষমা করেননি। তবু লেখক–ব্যক্তিত্বের কেন্দ্রে ছিল মানুষ—মানুষের ব্যর্থতা–বিরোধ–বিস্ময়—সবকিছুকে রসবোধে আলোকিত করা তাঁর সহজাত প্রতিভা।

পাঠ–রুচি ও স্মৃতিশক্তি

কাব্য, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব, সংগীত—পড়ার আগ্রহ ছিল সর্বত্র। অসাধারণ স্মৃতিশক্তিতে সংস্কৃত, বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, ফার্সি—বিভিন্ন ভাষার স্তবক ও রূপক মুহূর্তেই টেনে আনতে পারতেন। নিজেকে কবি বলেননি; তবু তাঁর অননুকরণীয় গদ্য কবিতার রসে জারিত—এ কারণেই ১৯৫০–৬০ দশকে তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অপরিহার্য জনপ্রিয় নাম

উত্তরাধিকার: গল্পের মানুষ, আড্ডার জাদু

ভ্রমণলিপির বিস্তার, রম্যরচনার কুশলতা, গল্প বলার মায়াজাল—আড্ডা, ব্যক্তিগত আলাপ, বক্তৃতা, সাক্ষাৎকার—সবখানেই ছিল একই জাদুবিস্তার। বিচিত্র অর্জনের ভিড়েও বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘গল্পের মানুষ’ হিসেবেই অমর—রসে–রঙ্গে–প্রেমে পূর্ণ গদ্যের পাতায় পাতায় সেই মোহ আজও অক্ষুণ্ণ।

সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মজয়ন্তীতে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় কথাশিল্পীকে জানাই অতল শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ট্রাম্প-এপস্টিন গোল্ডেন মূর্তি

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হলো শিল্পকলা। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জেফরি এপস্টিনকে নিয়ে তৈরি গোল্ডেন মূর্তিটি বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল ও প্রথাগত মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। টাইটানিক সিনেমার সেই বিখ্যাত পোজকে পুঁজি করে তৈরি করা এই ‘কিং অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ মূর্তিটি কেবল একটি ভাস্কর্য নয়, বরং এটি আধুনিক রাজনৈতিক সমালোচনার এক অনন্য উদাহরণ।

১. ব্যাঙ্গাত্মক শিল্প ও জনমতের বহিঃপ্রকাশ

শিল্পের কাজই হলো সমাজের অসঙ্গতিকে ব্যঙ্গ বা রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরা। ট্রাম্প ও এপস্টিনের এই মূর্তিটি নির্মাণ করে এর নির্মাতারা কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

  • প্রতীকী অর্থ: ভুঁড়ির চাপের নিচে এপস্টিনের এই বাঁকা হয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি যেন ক্ষমতার ভার এবং বিতর্কিত সম্পর্কের এক দৃশ্যমান রূপক।
  • ভ্যানিটি ও ক্ষমতা: স্বর্ণালী রঙের ব্যবহার এখানে প্রাচুর্য ও আভিজাত্যের চেয়ে বরং ‘ভ্যানিটি’ বা দম্ভের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

২. বাক-স্বাধীনতা বনাম সেন্সরশিপ

আপনার পর্যবেক্ষণের সাথে একমত হওয়া যায় যে, সিভিক লিবার্টি বা নাগরিক স্বাধীনতা যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশের মেরুদণ্ড।

  • সহনশীলতার পরীক্ষা: রাষ্ট্রনায়ক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে এমন কড়া ট্রল বা শিল্পকর্ম তৈরি করার পর যদি প্রশাসন তা মুখ বুজে হজম করে, তবেই বোঝা যায় সেই দেশের বাক-স্বাধীনতা কতটা মজবুত।
  • আমাদের প্রেক্ষাপট: উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনীতিতে এখনো এমন শিল্পকর্ম বা ট্রল করার ক্ষেত্রে যে ভীতি কাজ করে, তা আমাদের সিভিক লিবার্টির সীমাবদ্ধতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সেন্সরশিপ-মুক্ত সমাজ না থাকলে একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ থমকে যায়।

৩. ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব

বর্তমান বিশ্বে মেম (Meme) বা ট্রল হলো জনপ্রিয় রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা। যখন কোনো নেতাকে বা কোনো ইস্যুকে নিয়ে এমন ‘নেক্সট লেভেল ফ্যান্টাসি’ তৈরি হয়, তখন সাধারণ জনগণ নিজের অজান্তেই রাজনীতির জটিল অংশগুলোকে বুঝতে পারে। আপনার প্রস্তাবিত ‘নেতানিয়াহু-ট্রাম্প টাট্টু ঘোড়া’র দৃশ্যটি বা এমন যেকোনো কাল্পনিক রূপক আসলে শাসকের ক্ষমতাকে ‘ডি-মিথোলাইজ’ বা ক্ষমতা থেকে দেবতুল্য ভাবমূর্তি সরিয়ে মানুষে রূপান্তর করতে সাহায্য করে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

মূর্তির সৌন্দর্য বা এর কুৎসিত দিক নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এটি যে একটি ‘পাওয়ারফুল স্টেটমেন্ট’, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিকেও যখন এমন বিদ্রূপের শিকার হতে হয়, তখন এটিই প্রমাণ করে যে—ক্ষমতা চূড়ান্ত নয়, বরং জনগণ ও শিল্পই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী। আমাদের সমাজে যদি একদিন এমন রাজনৈতিক পরিপক্কতা আসে, যেখানে শিল্পীকে তার শিল্পের জন্য নির্যাতনের শিকার হতে হবে না—সেটাই হবে প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিজয়।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্ব রাজনীতি ও সমাজকাঠামোর গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সূত্র: ১. ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের রাজনৈতিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন। ২. রাজনৈতিক বিদ্রূপ ও বাক-স্বাধীনতা বিষয়ক তুলনামূলক সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা।

লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 10, 2026

শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১০ মার্চ, ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সংকটের চিরস্থায়ী সমাধান এবং শিল্পায়নে এক নতুন গতির সঞ্চার হলো।

মঙ্গলবার সকালে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB) নিশ্চিত করেছে যে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সফলতার মাধ্যমে সারাদেশ এখন থেকে শতভাগ লোডশেডিংমুক্ত থাকবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ

লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ বাস্তবায়নে পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে। কয়লা বা গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী। রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই ইউনিটটি চালু হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশকে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রূপপুরের এই বিদ্যুৎ কেবল বাতি জ্বালাতেই কাজে লাগবে না, বরং এটি বড় বড় শিল্পকারখানা ও ইকোনমিক জোনে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হবেন।

তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রভাব

সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ কোনো কাল্পনিক লক্ষ্য নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত বাস্তবতা। গ্রামের প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে শহরের ফ্রিল্যান্সার—সবাই এখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছাড়াই তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। বিশেষ করে সেচ কাজে এবং ডিজিটাল আউটসোর্সিং খাতে এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটটিও বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের দাম কমারও একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই ঐতিহাসিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশ ২০২৬ আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেবল জীবনযাত্রার মান উন্নত করে না, এটি মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা সুনিশ্চিত করে। বিদ্যুৎ যখন প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়, তখন সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রূপপুর প্রকল্প আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার এক নতুন সূর্য।”

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বোয়েথিয়াস

নিউজ ডেস্ক

March 6, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) শিল্পবিপ্লব এবং পুঁজিবাদের হাত ধরে মানুষ যে সুখের সংজ্ঞায় অভ্যস্ত হয়েছে, তা মূলত ‘অর্জনের ওপর নির্ভরশীল’। ১৯০৫ সালের পরবর্তী সময় থেকে আমাদের সমাজ কাঠামো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে, আমরা ক্ষমতার লড়াই বা ব্যাংক ব্যালান্সের পেছনে ছুটতে ছুটতে নিজেদের সত্তাকেই হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু ৬ মার্চ ২০২৬-এর এই অশান্ত পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বোয়েথিয়াসের দিকে তাকাই, তখন দেখি তিনি বলছেন—“সুখ কোনো অর্জন নয়, এটি আত্মার স্থিরতা।”

এই দার্শনিক চিন্তার ৪টি গভীর ও তাত্ত্বিক দিক নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

১. বাইরের জগতের অস্থিরতা ও বোয়েথিয়াসের আয়না

বোয়েথিয়াস দেখিয়েছেন, আমরা যা কিছু বাইরের জিনিসের ওপর ভিত্তি করে সুখ খুঁজি (ক্ষমতা, খ্যাতি, অর্থ), তা মূলত ‘চাকার ঘূর্ণন’ বা ‘Fortune’s Wheel’-এর মতো।

  • বিশ্লেষণ: আজ যারা ক্ষমতার শীর্ষে, কাল তারা শূন্যে—এই চক্রটিই ভাগ্যের নিষ্ঠুর খেলা। বোয়েথিয়াস আমাদের বলছেন, এই চাকার ওপর ভরসা না করে চাকার কেন্দ্রের দিকে তাকাতে, যেখানে ঘূর্ণন নেই, আছে কেবল স্থিতি।

২. কেন আমরা নিজেদের দুঃখ নিজেরাই তৈরি করি?

আমরা যখন কোনো পার্থিব বস্তুকে ‘স্থায়ী’ ভেবে আঁকড়ে ধরি, তখনই দুঃখের জন্ম হয়।

  • তাত্ত্বিক প্রভাব: বোয়েথিয়াসের মতে, মানুষ তখন দুঃখ পায় না যখন সে কিছু হারায়; সে দুঃখ পায় যখন সে ভুল করে মনে করে যে সেটি চিরস্থায়ী ছিল। আমাদের দুঃখের কারণ আসলে আমাদের ‘অজ্ঞানতা’।

৩. কারাগারের নিঃসঙ্গতা বনাম ২০২৬-এর ডিজিটাল কোলাহল

কারাগারের অন্ধকার কক্ষে বোয়েথিয়াস যা পেয়েছিলেন, তা হলো ‘আত্মার শান্তি’।

  • তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল কোলাহলে আমরা তথ্যের পাহাড়ে থেকেও মানসিকভাবে নিঃস্ব। বোয়েথিয়াসের দর্শন আজকের দিনে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক, কারণ আজকের মানুষ যখনই কোনো সংঘাত বা ব্যর্থতায় পড়ে, তখনই সে ভেঙে পড়ে। তার কারণ, সে তার ভেতরের ভিত্তি (Inner Foundation) তৈরি করেনি।

৪. সুখের স্বরূপ: অর্জন নয়, ভিত্তি

সত্যিকারের সুখ হলো নিজের ভেতরে এমন এক জগত তৈরি করা, যেখানে বাইরের কোনো ঝড় পৌঁছাতে পারে না।

  • উপসংহার: বোয়েথিয়াস আমাদের শিখিয়েছেন, মৃত্যু কিংবা কারাগার—কোনো কিছুই একজন মানুষের অখণ্ডতাকে (Integrity) ভাঙতে পারে না, যদি সে তার ভেতরের শক্তিতে স্থির থাকে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ

১৯০০ সালের সেই প্রথাগত সুখের সংজ্ঞা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে বোয়েথিয়াস এক সাহসী বার্তা দিয়ে গেছেন। যখন চারদিকে যুদ্ধ, সংঘাত এবং অনিশ্চয়তা—তখন তাঁর “দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি” কেবল একটি বই নয়, এটি টিকে থাকার কৌশল। আমরা সবাই জীবনে কোনো না কোনো কারাগারে আছি—সেটা হোক মানসিক, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক। সেই কারাগার থেকে বের হওয়ার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই, কিন্তু আমরা সেটি খুঁজে পেতে বাইরের দিকে তাকাই। বোয়েথিয়াস আমাদের সেই দৃষ্টিকে ভেতরে ফেরানোর পথ দেখিয়েছেন।


তথ্যসূত্র: বোয়েথিয়াসের ‘দ্য কনসোলেশন অফ ফিলোসফি’ (The Consolation of Philosophy), ক্লাসিক্যাল দর্শন ও ২০২৬-এর সাইকোলজিক্যাল ফিলোসফি রিপোর্ট।

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও গভীর জীবনবোধ ও দার্শনিক বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ