আন্তর্জাতিক

ইধার সো রাহা হ্যায় এক গাদ্দার: বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের অমর কাহিনি
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান

নিউজ ডেস্ক

September 8, 2025

শেয়ার করুন

ভূমিকা

পাকিস্তানের করাচির এক কবরের সামনে বহু বছর ধরে লেখা ছিল: “ইধার সো রাহা হ্যায় এক গাদ্দার”—এখানে ঘুমিয়ে আছে এক বিশ্বাসঘাতক। সেই কবরের মানুষটি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য বীর, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। পাকিস্তানের চোখে তিনি ছিলেন দেশদ্রোহী, কিন্তু বাঙালির কাছে তিনি আত্মত্যাগের উজ্জ্বল প্রতীক, যার নাম আজ বীরশ্রেষ্ঠদের তালিকায় অমর হয়ে আছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মতিউরের অবস্থান

১৯৭১ সালের মার্চ। পূর্ব পাকিস্তানে দমন-পীড়ন চলছিল ভয়াবহভাবে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা চালায় ভয়াল গণহত্যা। সেই সময় ছুটিতে নিজ গ্রাম নরসিংদীর রামনগরে অবস্থান করছিলেন মতিউর রহমান। পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ দেখে তিনি স্থির থাকতে পারেননি।

পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হয়েও ঝুঁকি নিয়ে ভৈরবে খুলে ফেললেন একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। মুক্তিকামী তরুণদের দিলেন সামরিক কৌশলের শিক্ষা। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা অস্ত্র দিয়ে গড়ে তুললেন প্রতিরোধ বাহিনী। তাঁর চোখে তখন শুধু একটি স্বপ্ন—মুক্ত হবে মাতৃভূমি।

১৯৭১ সালের ১৪ এপ্রিল পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ভৈরবে বোমাবর্ষণ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কণ্ঠে কাঁপন আর ক্রোধ মিশিয়ে বলেছিলেন:
“আমারই ছাত্ররা আজ আমার মাথায় বোমা ফেলছে। আমার বাংলাকে রক্তাক্ত করছে। আমি পাইলট। আমার চাই একটি যুদ্ধবিমান। পেলে দেখিয়ে দিতাম।”

“আমার ছাত্ররা আজ আমার মাথায় বোমা ফেলছে”

এই কথাই তাঁর অন্তর্গত প্রতিজ্ঞা হয়ে দাঁড়ায়—একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে সীমান্ত পার হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াবেন।

করাচিতে ফিরে সন্দেহভাজন

মে মাসে করাচি ফিরে গিয়ে দেখলেন বাঙালি অফিসারদের ওপর কড়া নজরদারি চলছে। তাঁকেও দেয়া হলো একপ্রকার ‘অবমূল্যায়নমূলক’ দায়িত্ব—ফ্লাইট সেফটি অফিসারের পদ। অথচ তিনি ছিলেন ফ্লাইট ইন্সট্রাকটর, শত শত পাইলটকে আকাশে ওড়াতে শিখিয়েছেন।

তখন তাঁর মনে চলছিল কেবল একটি চিন্তা—কোনোভাবে একটি বিমান দখল করা যায় কি না। তাঁর নজরে পড়ল এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম—রশিদ মিনহাজ। নতুন পাইলট হওয়ায় মিনহাজ একা আকাশে উড়ার অনুমতি পেত। সেখানেই সুযোগ দেখলেন মতিউর।

২০ আগস্ট ১৯৭১: সেই ঝুঁকিপূর্ণ দিন

সকালে রশিদ মিনহাজ তার শিডিউলড ফ্লাইটে বের হলেন টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে। সামনের সিটে মিনহাজ, পেছনের সিট খালি। মতিউর রহমান হঠাৎ ইশারায় বিমান থামালেন। বললেন, পাখায় সমস্যা। মিনহাজ ক্যানোপি খুলতেই তিনি ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করে তাকে অচেতন করেন, ঝাঁপিয়ে পড়েন পেছনের সিটে।

বিমান নিয়ে ছুটলেন ভারতের সীমান্তের দিকে। রাডার এড়াতে নিচ দিয়ে উড়ছিলেন। কিন্তু সচেতন হয়ে উঠলেন মিনহাজ। হাইজ্যাকের খবর কন্ট্রোল টাওয়ারে পৌঁছে যায়। পাকিস্তান তৎক্ষণাৎ যুদ্ধবিমান পাঠায়। সীমান্ত থেকে মাত্র দুই মিনিট দূরে, সিন্ধুর জিন্দা গ্রামে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি।

মতিউর রহমান শহীদ হন। কারণ তাঁর প্যারাশুট ছিল না। মিনহাজও নিহত হয়, তবে পাকিস্তান তাকে বানালো “জাতীয় বীর”—মরণোত্তর দিল নিশান-ই-হায়দার খেতাব।

পাকিস্তানে বিশ্বাসঘাতক, বাংলাদেশে বীরশ্রেষ্ঠ

ঘটনার পর করাচির উপকণ্ঠে মতিউরের মরদেহ দাফন করা হয়। কবরের সামনে লিপি খোদাই করা হয়: “ইধার সো রাহা হ্যায় এক গাদ্দার।” পাকিস্তান তাকে চিহ্নিত করল দেশদ্রোহী হিসেবে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মতিউর রহমানকে ঘোষণা করা হয় বীরশ্রেষ্ঠ—দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব। তাঁর নাম উঠে যায় সাতজন শ্রেষ্ঠ বীরের তালিকায়।

মরদেহ প্রত্যাবর্তন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান

৩৫ বছর পর, ২০০৬ সালে তাঁর মরদেহ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আনা হয়। ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে সমাহিত করা হয়। সেই দিন কেঁদেছিল পুরো বাংলাদেশ।

স্মৃতিচর্চার প্রশ্ন

আজ ২০ আগস্ট, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী। প্রশ্ন হলো—আমরা কি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তাঁকে স্মরণ করি?

আমরা বড় আকারে স্মরণ করি বঙ্গবন্ধু, শেখ রাসেল, শেখ হাসিনা কিংবা শহীদ জিয়া, বেগম জিয়াকে। জাতীয়ভাবে পালন করি তাঁদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ বা এম এ জি ওসমানী, তাজউদ্দীন আহমদ, মওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের স্মৃতি কি ততটা প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা পায়?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি শুধুই দুই পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি তা হাজারো বীরের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা এক বিশাল সাগর?

উপসংহার

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—দেশের প্রতি ভালবাসা কখনও কেবল কথায় সীমাবদ্ধ থাকে না, তা প্রমাণ করতে হয় কর্মে। তিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন, মুক্তির স্বপ্নে একজন মানুষ কীভাবে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিতে পারে।

তাঁর কবরের সামনে পাকিস্তান লিখেছিল “গাদ্দার”—কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে তাঁর নাম খোদাই করা হয়েছে অক্ষরে অক্ষরে:
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

বিএনপির সংকট

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন


মূল কন্টেন্ট (সরাসরি কপি-পেস্ট করার উপযোগী):

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। মানুষ এখন আর শুধু ‘বাপ-মায়ের পরিচয়’ দিয়ে নেতৃত্ব মেনে নিতে নারাজ। এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান কেন বড় সংকটের মুখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। চলুন নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করি তারেক রহমানের নেতৃত্বের কিছু প্রশ্নবিদ্ধ দিক।

১. শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূরত্ব

আধুনিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য নেতার যে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। উইকিপিডিয়া ও অন্যান্য তথ্যমতে, তিনি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন এমন কোনো দাপ্তরিক রেকর্ড নেই। অক্সফোর্ড বা ক্যামব্রিজের মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় গত ১৭ বছরে তাঁকে কোনো সেমিনার বা বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায় দেখা যায়নি, যা একজন বৈশ্বিক নেতার জন্য অপরিহার্য ছিল।

২. লন্ডনের ১৭ বছর: নীরবতা না ইমেজ সংকট?

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করলেও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর বলিষ্ঠ উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। প্রবাসী ছাত্র বা বুদ্ধিজীবীদের মাঝে তিনি নিজের কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক ইমেজ তৈরি করতে পারেননি। প্রশ্ন উঠেছে, একজন নেতা হয়েও কেন তিনি আন্তর্জাতিক জনমত তৈরিতে ব্যর্থ হলেন?

৩. জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা

লন্ডনের মতো ব্যয়বহুল শহরে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে কী ব্যবসা বা চাকরি করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে নেই। একজন পাবলিক লিডারের আয়ের উৎস স্বচ্ছ না থাকাটা রাজনৈতিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

৪. ৯০-এর আন্দোলন ও রাজনৈতিক অনুপস্থিতি

১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন বেগম খালেদা জিয়া রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়ছিলেন, তখন ২৫ বছরের টগবগে যুবক তারেক রহমান ছিলেন পর্দার আড়ালে। তাঁর জীবনে রাজপথের লড়াইয়ের চেয়ে ‘ক্ষমতায় বসে রাজনীতি’ করার ইতিহাসই বেশি স্পষ্ট, যা ২০০১ সালের ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক রাজনীতিতে প্রমাণিত হয়েছে।

৫. নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বনাম উত্তরাধিকার

জুলাই বিপ্লবের পর আজকের তরুণ সমাজ মেধা এবং কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব দেখতে চায়। ডাকসু বা জাকসু নির্বাচনের সাম্প্রতিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মানুষ এখন আর বংশপরম্পরার রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারেক রহমানের আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের ইমেজও তাঁর নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।


গুগল অ্যানালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র (Sources):

১. উইকিপিডিয়া ও বায়োগ্রাফি রেকর্ড: তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রারম্ভিক রাজনৈতিক জীবন। ২. আন্তর্জাতিক মিডিয়া আর্কাইভ (বিবিসি, আল-জাজিরা): গত ১৭ বছরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও বক্তব্যের রেকর্ড। ৩. নির্বাচন কমিশন ও হলফনামা রেকর্ড (২০০১, ২০০৮): তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতৃত্বের সম্পদ ও আয়ের বিবরণের তুলনা। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ সোশ্যাল অ্যানালিটিকস: জুলাই বিপ্লব পরবর্তী জেনারেশন জেড (Gen-Z) এর রাজনৈতিক পছন্দ ও নেতৃত্বের প্যারামিটার বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মেজর হাফিজ

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন একজন মানুষ কি খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যিনি একাধারে রণাঙ্গনের শ্রেষ্ঠ বীর, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি এবং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক? অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঠিক তেমনই এক জীবন্ত রূপকথা।

তারেক রহমানের এই একটি মনোনয়ন বাংলাদেশের রাজনীতির সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন মেজর হাফিজকে বলা হয় ‘অলরাউন্ডার অফ দ্য সেঞ্চুরি’? চলুন জেনে নিই তাঁর জীবনের ৫টি রোমাঞ্চকর তথ্য।

১. বঞ্চিত এক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’?

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, মেজর হাফিজ ছিলেন যশোর সেনানিবাসের সেই অকুতোভয় বাঙালি অফিসার, যিনি প্রথম বিদ্রোহের পতাকা উড়িয়েছিলেন। তাঁর রণকৌশল আর সাহসিকতা দেখে সহযোদ্ধারা তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে তিনি সর্বোচ্চ খেতাব পাননি, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ হয়েই আছেন।

২. পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি অধিনায়ক ও ‘দ্রুততম মানব’

আপনি কি জানেন, ফুটবল মাঠেও তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজা?

  • তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইতিহাসের একমাত্র বাঙালি।
  • ষাটের দশকে ট্র্যাকে তিনি ছিলেন দেশের ‘দ্রুততম মানব’ (Fastest Man)।
  • অ্যাথলেটিক্স, হকি আর ফুটবল—তিন জায়গাতেই তাঁর সমান শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যা বিশ্বের খুব কম মানুষেরই আছে।

৩. যখন তিনি ম্যারাডোনার ‘বিচারক’ হলেন!

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব। ১৯৯৪ সালে যখন ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা ডোপ কেলেঙ্কারিতে জড়ান, তখন ফিফা যে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছিল, তার অন্যতম সদস্য ছিলেন এই মেজর হাফিজ। ফিফাতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বী।

৪. ৭ বারের এমপি ও বর্তমান স্পিকার

রাজনীতির মাঠেও তিনি ক্লীন ইমেজের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে রাজনীতিতে এসে ভোলার লালমোহন-তজুমদ্দিন আসন থেকে টানা ৭ বার তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁকে স্পিকারের আসনে বসানো সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য এক বড় প্রাপ্তি।

৫. আগামী দিনের রাষ্ট্রপতি?

সামরিক ডিসিপ্লিন, ফুটবল মাঠের গতি আর রাজনীতির প্রজ্ঞা—এই তিনের সংমিশ্রণ মেজর হাফিজকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর নাম আসার সম্ভাবনা প্রবল।


গুগল এনালাইসিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্র (Sources):

  • বিএফএফ ও ফিফা আর্কাইভ: ম্যারাডোনা ডোপ টেস্ট ইনভেস্টিগেশন বোর্ড (১৯৯৪) মেম্বার লিস্ট।
  • মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়: বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্তদের অফিশিয়াল গেজেট।
  • সংসদ সচিবালয়: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনয়ন ও নির্বাচনী ইতিহাস।
  • বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিকস ২০২৬: বর্তমান সরকারের সংস্কার ও সংসদীয় নেতৃত্ব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

শেখ হাসিনার ‘বিজেপি

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজনীতির মাঠে ‘স্মৃতিশক্তি’ বড় বিচিত্র এক বিষয়। প্রয়োজন ফুরোলে বা সমীকরণ বদলে গেলে নেতারা কত দ্রুত অতীতকে মুছে ফেলে নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারেন, তার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার একদা করা বিজেপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার তুলনা। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি অতীতে এই দুই দলকেই একই রাজনৈতিক চরিত্রের বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। অথচ সময়ের বিবর্তনে সেই বিজেপি আজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক অনিবার্য শক্তিকেন্দ্র।

১. ‘স্মৃতিশক্তি যখন রাজনীতির দাস’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের বক্তব্য শুধু বর্তমানের জন্য হয় না, তা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে। জামায়াতে ইসলামীর সাথে বিজেপিকে একই পাল্লায় মাপার সেই মন্তব্যটি মূলত বাবরি মসজিদ ইস্যু এবং তৎকালীন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ছিল। কিন্তু বর্তমানে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের যে ‘ফ্যাভিকল’ বন্ধন, তাতে এই পুরনো মন্তব্য যেন এক অমীমাংসিত অস্বস্তি। নরেন্দ্র মোদীর ‘অজ্ঞতা’ আসলে কোনো বিস্মৃতি নয়, বরং এটি কূটনীতির এক বিশেষ কৌশল—যেখানে অস্বস্তিকর অতীতকে উপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

২. আদভানি কানেকশন: এক রহস্যময় অতীত

প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জামায়াত নেতাদের ভারত সফর এবং লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে তাদের সংযোগ একদা বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। এখন প্রশ্ন উঠছে, যে দলটি ভারতের তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করেছিল, সেই দলটিই কেন পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবল ভারতবিরোধী মেরুকরণের প্রধান শক্তি হয়ে উঠল? এই প্যারাডক্সটিই আজকের রাজনীতির সবচেয়ে বড় রহস্য।

৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ট্রল সংস্কৃতির প্রভাব

ডিজিটাল যুগে কিছুই হারিয়ে যায় না। নেটিজেনরা আজ পুরনো নিউজ ক্লিপিং খুঁড়ে বের করছেন, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। বিজেপির মতো শক্তিশালী দলের সাথে জামায়াতের তুলনাকে এখন ট্রলাররা ‘পলিটিক্যাল স্যাটায়ার’ হিসেবে দেখছেন। এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ এখন রাজনীতির এই ‘ইউ-টার্ন’গুলোকে বেশ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতেই পর্যবেক্ষণ করে।

৪. সুবিধাবাদ নাকি পরিস্থিতির দাবি?

রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নেই—এই প্রবাদের বাস্তব রূপ আমরা প্রতিনিয়ত দেখছি। শেখ হাসিনার সেই সময়কার ‘লিবারেল’ ইমেজ বনাম বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা—এই দুটি সত্তার সংঘাতই আসলে আমাদের বর্তমান কূটনীতির সারমর্ম। মোদীজির ‘বিস্মৃতি’ আসলে সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞারই অংশ, যেখানে বন্ধুত্বের খাতিরে অতীতকে ঝেড়ে ফেলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যপূরণই প্রধান কাজ।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

রাজনৈতিক স্মৃতির এই সংকট কেবল শেখ হাসিনা বা নরেন্দ্র মোদীর নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক চিরন্তন রূপ। ইতিহাস যখন রাজনীতির দাস হয়ে যায়, তখন সত্যের চেয়ে সুবিধার পাল্লাই ভারি থাকে। আজকের এই ট্রল বা বিতর্ক হয়তো কিছুদিন পর চাপা পড়ে যাবে, কিন্তু এটি আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গেল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বা মিত্র বাড়াতে নেতারা কত সহজে নিজের পুরনো অবস্থান বদলে ফেলতে পারেন। আর সাধারণ মানুষ? তারা কেবলই দর্শক, যারা এই ‘ইতিহাসের বিস্মৃতি’ দেখে মুচকি হাসে!


বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

দেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

সূত্র: ১. তৎকালীন বিভিন্ন সংবাদপত্রের আর্কাইভ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রতিবেদন। ২. দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার পালাবদল বিষয়ক বিশ্লেষণ।

১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ