ইতিহাস

যখন টিভি দেখতে লাইসেন্স লাগত: এক ভুলে যাওয়া স্মৃতি
বাংলাদেশে টিভি

নিউজ ডেস্ক

August 27, 2025

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


লাইসেন্স ছাড়া টেলিভিশন রাখা বেআইনি!

আজকের দিনে টিভি চালু করা যতটা সহজ, কয়েক দশক আগেও বিষয়টি এতটা সাধারণ ছিল না। একসময় বাংলাদেশে টেলিভিশন দেখার জন্য সরকারিভাবে লাইসেন্স নিতে হতো। লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করলে বা বৈধ কাগজপত্র না থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট এসে টিভি জব্দ করে নিয়ে যেত।

কঠোর মনিটরিং ও অভিযান

৭০–৮০ দশক থেকে শুরু করে ৯০ এর দশক পর্যন্ত নিয়মিতভাবে লাইসেন্স চেক করা হতো।

  • স্থানীয় প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা হঠাৎ করেই বাড়িতে হানা দিতেন।
  • বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে টিভি সরাসরি ট্রাকভরে নিয়ে যাওয়া হতো।
  • অনেক পরিবার আতঙ্কে টিভি লুকিয়ে রাখতেন—আলমারির আড়ালে, বিছানার নিচে কিংবা কাপড় দিয়ে ঢেকে।

২০০০ দশকের শুরু পর্যন্ত স্মৃতি

অনেকেরই মনে আছে, ২০০২–২০০৪ সালের দিকেও খবর পাওয়া যেত—“আজ ম্যাজিস্ট্রেট আসতে পারে।”
তখন অনেকেই টিভি বন্ধ করে রাখতেন কিংবা পর্দা টেনে লুকিয়ে রাখতেন, যেন শব্দ বা আলো বাইরে না যায়।

কেন লাইসেন্স প্রয়োজন ছিল?

টিভি লাইসেন্স মূলত রাজস্ব আদায়ের একটি মাধ্যম ছিল। সরকারি প্রচারণা ও টেলিভিশন সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবেই এ নিয়ম চালু হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি চ্যানেলের প্রসার ও ডিজিটালাইজেশনের যুগে এই আইন কার্যত অচল হয়ে যায়।

আজকের প্রেক্ষাপট

আজ আর টেলিভিশনের জন্য আলাদা লাইসেন্সের দরকার হয় না। কিন্তু যারা সেই সময়ের ভীতিকর অভিজ্ঞতা মনে রেখেছেন, তাঁদের কাছে এটি এক অদ্ভুত স্মৃতি।

বিশ্লেষণ

টিভি লাইসেন্স ব্যবস্থা দেখায়—কিভাবে রাষ্ট্র প্রযুক্তি ও বিনোদন মাধ্যমকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করত। বর্তমানে এই ধরনের শারীরিক লাইসেন্স নেই বটে, তবে ডিজিটাল যুগে নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ যেমন—ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স, সাবস্ক্রিপশন ফি, কপিরাইট মনিটরিং—এসবই অনেকটা সেই পুরনো লাইসেন্স প্রথার আধুনিক সংস্করণ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

বিষয়ঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

১০টি লাভজনক ও সম্মানজনক ব্যবসা

নিউজ ডেস্ক

March 15, 2026

শেয়ার করুন


অনেকেই প্রশ্ন করেন—বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা কোনটি? এর উত্তরে অনেকেই অনেক লাভজনক সেক্টরের নাম বলেন। কিন্তু ব্যবসার মূল অংকটি কি আমরা আসলে বুঝি? চলুন আজ লাভের প্রকৃত সমীকরণ এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে সম্মানজনক কিছু ব্যবসার সুলুকসন্ধান করি।

লাভ বনাম মুনাফার হার: একটি চোখ খুলে দেওয়া উদাহরণ

সাধারণত আমরা মনে করি বেশি টাকা বিক্রি মানেই বেশি লাভ। কিন্তু অংকটি ভিন্ন।

  • একজন শিল্পপতি ৫ কোটি টাকা খরচ করে ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় পণ্য বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ মাত্র ৫%।
  • অন্যদিকে একজন চা-ওয়ালা ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ ২০%।

অর্থাৎ, শতাংশের হিসেবে শিল্পপতির চেয়ে চা-ওয়ালা ৪ গুণ বেশি লাভ করেছেন। কিন্তু আপনি কি চা-ওয়ালা হতে চান? নিশ্চয়ই না। কারণ মানুষ শুধু লাভ চায় না, মানুষ চায় সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা

লাভের শীর্ষ ৩: যা আপনি করতে চাইবেন না!

অংকের হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো—ভিক্ষা, পতিতাবৃত্তি ও মাজার ব্যবসা। কেন? কারণ এখানে কোনো মূলধন নেই, কোনো উৎপাদন খরচ নেই। কিন্তু এগুলো কি সম্মানজনক? অবশ্যই না। তাই ব্যবসার লক্ষ্য হওয়া উচিত সততা ও সেবার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন।

২০২৬ সালে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা

গুগল ট্রেন্ডস এবং বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে আমরা এমন ১০টি ব্যবসার তালিকা তৈরি করেছি যা ২০২৬ সালে আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে:

১. আইটি এজেন্সি ও এআই সলিউশন: ফ্রিল্যান্সিং থেকে বেরিয়ে এসে এজেন্সি মডেলে কাজ করা এখন সবচেয়ে লাভজনক। ২. নিরাপদ ও অর্গানিক খাদ্য (Safe Food): মানুষ এখন বিষমুক্ত খাবারের জন্য যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। ৩. ই-কমার্স ও স্মার্ট ডেলিভারি: অনলাইন কেনাকাটা এখন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ৪. রিনিউয়েবল এনার্জি (সোলার প্যানেল): বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার প্যানেল ব্যবসা এখন তুঙ্গে। ৫. এডু-টেক (Ed-Tech): অনলাইনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও টিউটোরিং অত্যন্ত সম্মানজনক ক্ষেত্র। ৬. অ্যাডভান্স এগ্রিকালচার: বায়োফ্লক মৎস্য চাষ বা আধুনিক ডেইরি ফার্মিং। ৭. দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড: জামদানি বা খাদি পণ্য নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং। ৮. ট্যুরিজম ও ইকো-রিসোর্ট: অভ্যন্তরীণ পর্যটনে মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ৯. স্বাস্থ্যসেবা ও হোম কেয়ার: বয়স্কদের সেবা এবং বাড়িতে প্যাথলজি টেস্ট সুবিধা। ১০. ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও (SEO): প্রতিটি ব্যবসার এখন অনলাইনে উপস্থিতি প্রয়োজন, তাই এই সেবার চাহিদা অপরিসীম।

সাফল্যের মূলমন্ত্র: সততা ও নিষ্ঠা

আল্লাহর নামে ব্যবসা শুরু করুন। কাস্টমারকে না ঠকিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ব্যবসার সাফল্য রাতারাতি আসে না; ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসাই আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।


তথ্যসূত্র ও গুগল অ্যানালাইসিস (Sources):

১. গুগল ট্রেন্ডস (Bangladesh 2026): আইটি, ই-কমার্স এবং অর্গানিক ফুড ক্যাটাগরিতে সার্চ ভলিউম গত বছরের তুলনায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২. বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB): আইটি ও কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ের তথ্য। ৩. ই-ক্যাব (e-CAB) রিপোর্ট: বাংলাদেশে অনলাইন লেনদেন ও ডেলিভারি সার্ভিসের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক স্টাডিজ: ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ডাটাবেস।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ইরান-ইসরায়েল

নিউজ ডেস্ক

March 13, 2026

শেয়ার করুন

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ইরান ও ইসরায়েলের সম্পর্কের সমীকরণটি আধুনিক ভূ-রাজনীতির অন্যতম জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়। ১৯৫০-এর দশকে যে ইরান ছিল ইসরায়েলের কৌশলগত মিত্র, আজ সেই ইরান ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুই শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই বৈরিতার মূল কারণ কি কেবল ধর্মীয় আদর্শ, নাকি এর পেছনে রয়েছে টিকে থাকার গভীর রাজনৈতিক প্রকৌশল?

১. ঐতিহাসিক বাঁকবদল: মিত্র থেকে শত্রু

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইরান ছিল ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র। তৎকালীন শাহের শাসনামলে ইরান ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং সোভিয়েত প্রভাব ঠেকানোর জন্য তারা গোপন সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখত। এমনকি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও ইসরায়েল থেকে গোপনে অস্ত্র কেনার ইতিহাস রয়েছে ইরানের। তবে আয়াতুল্লাহ খোমেনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর এই সম্পর্কের খোলনলচে বদলে যায়। তেহরানে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসকে প্যালেস্টাইনের দূতাবাসে রূপান্তর করার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দেয় তাদের নতুন রাজনৈতিক এজেন্ডা।

২. দ্বন্দ্বে আদর্শ বনাম বাস্তব রাজনীতি

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে কোনো সাধারণ সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন এই চরম শত্রুতা?

  • পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা: ইসরায়েলের মূল ভয় হলো ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা। নেতানিয়াহুর ভাষায় ইরানকে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তারা নিয়মিত ইরানি বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট করছে।
  • অস্তিত্বের সংকট: ইরান ইসরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ এবং আমেরিকাকে ‘গ্রেট শয়তান’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে। এই বয়ানটি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে অভ্যন্তরীণভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মের মাঝে ‘অ্যান্টি-জায়নিস্ট’ আবেগ জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৩. ছায়াযুদ্ধ (Proxy War): টিকে থাকার কৌশল

সরাসরি যুদ্ধের সামর্থ্য বা আকাঙ্ক্ষা—দুইয়ের অভাবেই ইরান ও ইসরায়েল সরাসরি সংঘর্ষে না গিয়ে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরানের প্রক্সি: লেবাননের হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার শিয়া মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতিদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি করা ইরানের কৌশল।
  • ইসরায়েলের মোসাদ: মোসাদের নিখুঁত গোয়েন্দা সক্ষমতা ইরানের পরমাণু কর্মসূচীকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জেনারেল ও বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

৪. মৌলবাদ ও ক্ষমতার টিকে থাকা

রাজনীতিবিদদের জন্য ‘কাল্পনিক শত্রু’ তৈরি করা একটি চিরাচরিত কৌশল। যেমনটা বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদী দলগুলো করে থাকে, ইরানও তেমনি ইসরায়েল বিরোধিতাকে পুঁজি করে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপকে আড়াল করছে। অন্যদিকে, উগ্রপন্থী ইহুদিদের জন্য ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ বা নিরাপত্তার ইস্যুটি তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:

ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব কেবল দুটি রাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়, এটি ক্ষমতার টিকে থাকার লড়াই। ইরান জানে সরাসরি যুদ্ধ করলে তারা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের উন্নত প্রযুক্তি ও মার্কিন সমর্থিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে টিকতে পারবে না। একইভাবে ইসরায়েলও জানে, ইরানকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ফলে এই ‘ছায়াযুদ্ধ’ই যেন উভয় রাষ্ট্রের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’। যতদিন পর্যন্ত এই শত্রুতা তাদের নিজ নিজ দেশে জনমত গঠন ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাহায্য করবে, ততদিন সরাসরি যুদ্ধের পরিবর্তে এই উত্তেজনাকর শীতল যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।


বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিশ্ব রাজনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।


সূত্র: ১. ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক রেকর্ডসমূহ। ২. আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও প্রক্সি যুদ্ধের কৌশল বিষয়ক গবেষণাপত্র। ৩. ইরান-কনট্রা চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

১৯৭২ সালের ব্যাংক একীভূতকরণ

নিউজ ডেস্ক

March 9, 2026

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র

আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:

  1. সোনালী ব্যাংক
  2. জনতা ব্যাংক
  3. অগ্রণী ব্যাংক
  4. রূপালী ব্যাংক
  5. পুবালী ব্যাংক
  6. উত্তরা ব্যাংক

ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব

ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ