প্রযুক্তি

চোখের সমস্যায় বাড়ছে মাথাব্যথা: স্ক্রিন–নির্ভর জীবনধারায় নতুন উদ্বেগ
images (1)

নিউজ ডেস্ক

September 20, 2025

শেয়ার করুন

ঢাকা | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাজ, ভুল পাওয়ারের চশমা, শুষ্ক চোখ এবং গ্লকোমার মতো চক্ষুরোগ—এই সব কারণ মিলিয়ে দেশে মাথাব্যথাজনিত সমস্যায় রোগী বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ (আই স্ট্রেন) এবং দুর্বল দৃষ্টিশক্তি মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান ট্রিগার হয়ে উঠেছে—বিশেষ করে নগরাঞ্চলের ছাত্র–ছাত্রী ও অফিস–কর্মীদের মধ্যে।

রোটারি টেকনো নেত্রালয়ের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. পঙ্কজ রুপাউলিহা বলেন, “কাছে–দূরে ঝাপসা দেখা, অ্যাস্টিগম্যাটিজম বা পুরোনো–ভুল পাওয়ারের চশমা থাকলে চোখকে অতিরিক্ত ‘ফোকাসিং এফোর্ট’ দিতে হয়। এই চাপ সরাসরি কপাল, কনার পাশে ও চোখের চারপাশে মাথাব্যথা বাড়ায়। স্ক্রিন টাইম, ভুল ভঙ্গি ও শুষ্ক চোখ—এই তিনটি এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।”

কেন চোখের সমস্যায় মাথাব্যথা হয়

  • ফোকাসিং–এর অতিরিক্ত পরিশ্রম: কাছে/দূরে ঝাপসা দেখা বা সংখ্যা–অক্ষর পড়তে কষ্ট হলে চোখের সিলিয়ারি পেশি বেশি কাজ করে—ব্যথা কপাল ও কানের পাশে ছড়িয়ে পড়ে।
  • নার্ভ পাথওয়ে: চোখের জ্বালা বা প্রদাহের ব্যথা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুর মাধ্যমে মাথায় প্রতিফলিত হয়—ফলে চোখের সমস্যা থেকেও ‘হেডেক’ অনুভূত হতে পারে।
  • চোখের ভেতরের চাপ (IOP) বৃদ্ধি: গ্লকোমায় IOP বেড়ে অপটিক নার্ভে চাপ পড়ে; তীব্র চোখব্যথা–মাথাব্যথা, বমিভাব ও আলোয় রঙিন হালো দেখা—এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কোন ব্যথা কোন সমস্যার ইঙ্গিত—চারটি প্রধান প্যাটার্ন

  1. পড়া/স্ক্রিন–পরবর্তী চাপা মাথাব্যথা: অসংশোধিত রিফ্র্যাকটিভ এরর (ভুল পাওয়ার) বা ডিজিটাল আই স্ট্রেনের ইঙ্গিত।
  2. তীব্র চোখ–মাথাব্যথা + বমিভাব + রঙিন হালো: অ্যাকিউট অ্যাঙ্গেল–ক্লোজার গ্লকোমা—চোখ–কান–নাক–গলা (ENT) নয়, সরাসরি জরুরি চক্ষু–চিকিৎসা প্রয়োজন।
  3. চোখের পেছনে/কপালে গভীর ব্যথা + নাক বন্ধ/জ্বর: সাইনাসাইটিস; অনেকেই চোখের ব্যথা ভেবে ভুল করেন।
  4. এক পাশে ধকধকে ব্যথা, আলো–শব্দে অস্বস্তি: মাইগ্রেন; মাঝে মাঝে চোখে ঝিলমিল/জিগজ্যাগ ‘অরা’ দেখা যায়।

বহুল দেখা কারণগুলো

  • দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি: মায়োপিয়া/হাইপারোপিয়া/অ্যাস্টিগম্যাটিজম; পুরোনো বা ভুল পাওয়ারের চশমা।
  • ডিজিটাল আই স্ট্রেন (CVS): দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার/মোবাইল; কম পলক ফেলা; নীল আলোতে জ্বালা।
  • শুষ্ক চোখ: এসি–রুম, ধুলো–ধোঁয়া, স্ক্রিনে চাহনি জমে থাকা—চোখ খসখসে ও জ্বালা করে।
  • ইনফ্ল্যামেশন/সংক্রমণ: কনজাঙ্কটিভাইটিস, ইউভাইটিস, স্ক্লেরাইটিস—লালচে ভাব, আলোতে কষ্ট, ব্যথা।
  • ভুল এরগোনমিক্স: খুব উঁচু/নিচু মনিটর, গ্লেয়ার, কম আলো—সবাই মিলিয়ে পেশিতে টান বাড়ায়।

নিউজ ইউ ক্যান ইউজ’ — প্রতিরোধ ও তাত্ক্ষণিক করণীয়

  • ২০–২০–২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরে তাকান—পেশি শিথিল হয়।
  • মনিটর সেটআপ: চোখের সমতল, দূরত্ব ২০–৩০ ইঞ্চি; ফন্ট বড়; অ্যান্টি–গ্লেয়ার/ম্যাট স্ক্রিন।
  • লুব্রিকেশন ও পলক: সচেতনভাবে বেশি পলক ফেলুন; চিকিৎসকের পরামর্শে লুব্রিকেটিং ড্রপ।
  • আলো ও ভঙ্গি: সরাসরি চোখে আলো নয়; চেয়ারের উচ্চতা–কীবোর্ড–স্ক্রিন এক লাইনে।
  • ঘুম ও পানি: ৭–৮ ঘণ্টা টানা ঘুম; পর্যাপ্ত জল পান—ডিহাইড্রেশনে মাথাব্যথা বাড়ে।
  • পুষ্টি: ভিটামিন A, C, E ও ওমেগা–৩—গাজর, পালং, টমেটো, সামুদ্রিক মাছ।
  • চশমা আপডেট: ৬–১২ মাস অন্তর রিফ্র্যাকশন টেস্ট; পুরোনো–স্ক্র্যাচড লেন্স বদলান।

কখনই দেরি করবেন না (রেড–ফ্ল্যাগ সাইন)

  • হঠাৎ তীব্র চোখ–মাথাব্যথা, বমিভাব/বমি, রঙিন হালো দেখা।
  • হঠাৎ দৃষ্টি ঝাপসা/ডাবল; চোখে আঘাতের পর জ্বালা–ব্যথা।
  • চোখ টকটকে লাল, আলো সহ্য হয় না; দৃষ্টি কমছে।
  • মাথাব্যথার সঙ্গে উচ্চ জ্বর, মুখ–চোখ ফোলা, বা স্নায়বিক লক্ষণ (ঝিমুনি/বাক জড়ানো)।

এসব হলে অবিলম্বে নিকটস্থ চক্ষু–হাসপাতাল/ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করুন।

চিকিৎসা—কারণে কারণেই

  • রিফ্র্যাকশন ও আইওপি: সঠিক পাওয়ার নির্ধারণ ও চোখের চাপ (টোনোমেট্রি) মাপা—গ্লকোমা স্ক্রিনিং।
  • স্লিট–ল্যাম্প/ফান্ডাস পরীক্ষা: কর্নিয়া–লেন্স–রেটিনা–অপটিক নার্ভ মূল্যায়ন।
  • শুষ্ক চোখ ব্যবস্থাপনা: কৃত্রিম অশ্রু, পরিবেশ–পরিবর্তন, স্ক্রিন–বিরতি।
  • ইনফ্ল্যামেশন/ইনফেকশন: কারণভিত্তিক অ্যান্টিবায়োটিক/অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি ড্রপ।
  • মাইগ্রেন প্রটোকল: ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ, ঘুম–ডায়েট, প্রয়োজন হলে নিউরোলজি রেফার।
  • গ্লকোমা: আইওপি–লোয়ারিং ড্রপ/লেজার/সার্জারি—চিকিৎসকের পরামর্শমতো।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ—তিনটি সহজ মন্ত্র

  1. স্ক্রিন শৃঙ্খলা বজায় রাখুন: ‘ছোট স্ক্রিন, লম্বা সময়’—মোবাইলের বদলে বড় স্ক্রিন; লম্বা কনটেন্টে প্রিন্ট/ই–ইঙ্ক বিকল্প ভাবুন।
  2. চেক–আপকে রুটিন করুন: বছরে অন্তত ১ বার; স্ক্রিন–ওয়ার্কার/শিশুদের জন্য ৬–১২ মাসে একবার।
  3. সেলফ–মেডিকেশন নয়: বিশেষ করে স্টেরয়েড ড্রপ—চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়; গ্লকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রিপোর্টারের নোট

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি জনস্বাস্থ্য–সচেতনতার উদ্দেশ্যে; ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়। লক্ষণ তীব্র/দীর্ঘস্থায়ী হলে নিবন্ধিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান

নিউজ ডেস্ক

March 12, 2026

শেয়ার করুন

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান: যানজটমুক্ত ঢাকার নতুন লিগ্যাসি শুরু

বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | পালস বাংলাদেশ ১২ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান আজ বাংলাদেশের যাতায়াত ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরের সূচনা করল। রাজধানীর তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পেতে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম পাতাল রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল বা ট্রায়াল রান আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর এক অনন্য মাইলফলক।

ঢাকার পাতাল পথে নতুন দিগন্ত

আজকের এই আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান কেবল একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এমআরটি লাইন-১ (MRT Line-1) প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই পাতাল রেলটি মাটির প্রায় ৩০ মিটার গভীর দিয়ে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাত্র ২৪ মিনিটে যাত্রী পৌঁছে দেবে।

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • গতি ও সময়: ট্রায়াল রানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১০০ কিমি গতিতে চলেছে।
  • যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতে পারবেন।
  • পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: মাটির নিচে শব্দহীন এবং উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পন্ন আধুনিক এই কোচগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত।

কেন এই পাতাল রেল গেম-চেঞ্জার?

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঢাকার যানজট সমস্যাকে অন্তত ৪০% কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ভোগান্তি এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে। পালস বাংলাদেশ-এর গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ কমলাপুর স্টেশনে ট্রায়াল রানের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

“আমরা এমন এক সময়ের স্বপ্ন দেখতাম যখন মাটির নিচ দিয়ে জটমুক্তভাবে যাতায়াত করব। আজ সেই স্বপ্নের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হলো।” — কড়াইল থেকে আসা এক দর্শনার্থীর মন্তব্য।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই প্রকল্পের ফলে কেবল সময় বাঁচবে না, বরং জ্বালানি খরচ এবং যানজটজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, এই পাতাল রেল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ মিশন - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।

এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ইন্টারনেটের দাম ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

ইন্টারনেটের দাম ২০২৬: বাংলাদেশে মোবাইল ডাটার দাম কমলো ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকরণ ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কর্মসূচির আওতায় মোবাইল ইন্টারনেটের দাম এক লাফে ৫০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার থেকে দেশের সকল মোবাইল অপারেটরের জন্য এই নতুন রেট চার্ট কার্যকর হচ্ছে। বিটিআরসি (BTRC) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এখন থেকে গ্রাহকরা অর্ধেক খরচে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য তরুণ প্রজন্মের ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন শিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। সেই বাধা দূর করতেই ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানোর এই সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্যাকেজ ও মেয়াদের নতুন নিয়ম

নতুন এই নির্দেশনায় কেবল দামই কমানো হয়নি, বরং প্যাকেজের মেয়াদ নিয়েও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। এখন থেকে: ১. সকল মেয়াদী প্যাকেজের (৩ দিন, ৭ দিন, ৩০ দিন) দাম আগের তুলনায় সরাসরি অর্ধেক হবে। ২. ডাটা শেষ হওয়ার আগে পুনরায় প্যাক কিনলে অব্যবহৃত ডাটা পরবর্তী মেয়াদে যোগ (Carry forward) হবে। ৩. আনলিমিটেড ইন্টারনেটের গতি এবং দামও সাধারণ গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে আনা হয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও নামমাত্র মূল্যে উচ্চগতির ফোর-জি (4G) এবং ফাইভ-জি (5G) ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে।

ডিজিটাল ইকোনমিতে প্রভাব

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানোর ফলে ই-কমার্স, অনলাইন বিজনেস এবং আউটসোর্সিং খাতে বিপ্লব ঘটবে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা গ্রাম ও শহরের ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি বিশাল বড় প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই ঘোষণা নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “ইন্টারনেটের দাম ২০২৬ কমানো কেবল একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মানবাধিকার ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার একটি অংশ। সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট পাওয়া বর্তমান যুগে সামাজিক সমতার অন্যতম পূর্বশর্ত। এর ফলে তৃণমূলের মেধাবী তরুণরা বৈশ্বিক বাজারের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা দেশের শ্রমের মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ