টেক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রযুক্তি বিশ্বে একটি বিতর্ক কখনোই পুরনো হয় না—অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ভালো নাকি লিনাক্স? কেউ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আর গেমিং সুবিধার কারণে উইন্ডোজের পক্ষে সওয়াল করেন, আবার কেউ নিরাপত্তা আর স্বাধীনতার প্রশ্নে লিনাক্সকেই ধ্রুবতারা মানেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আকাশছোঁয়া আকাশপথ আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দাঁড়িয়ে আমরা আসলে কোনটিকে বেছে নেব?
পকেট খালি করে প্রায় ২৬ হাজার টাকার অপারেটিং সিস্টেম ও অফিস টুল কেনা, নাকি বিনামূল্যে লিনাক্স ব্যবহার করে বিশ্বমানের পারফরম্যান্স পাওয়া—সিদ্ধান্তটি এখন ব্যবহারকারীর।
এক নজরে দুই মেরুর লড়াই
উইন্ডোজ: ১৯০০-এর দশকের শেষার্ধে মাইক্রোসফট যখন উইন্ডোজ নিয়ে আসে, তখন এর গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI) বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত জনপ্রিয়তায় এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এই জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভাইরাস আর ম্যালওয়্যারের উপদ্রব। উইন্ডোজ ব্যবহার করা মানেই অ্যান্টি-ভাইরাস কেনা বাধ্যতামূলক, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য বাড়তি ব্যয়ের বোঝা।
লিনাক্স: অন্যদিকে, লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলো (যেমন- ডেবিয়ান, উবুন্টু, ফেডোরা) আক্ষরিক অর্থেই ‘মাগনা’। ডাউনলোড থেকে ইনস্টলেশন—সবই বিনামূল্যে। লিনাক্স ব্যবহারকারীর কাছে পেনড্রাইভের শর্টকাট ভাইরাস বা সিস্টেম হ্যাং হওয়ার দুশ্চিন্তা আজ যেন রূপকথা। যারা ডেবিয়ান বা গনু/লিনাক্স ব্যবহার করেন, তারা বছরের পর বছর রিস্টার্ট ছাড়াই ল্যাপটপ চালিয়ে যেতে পারেন অবলীলায়।
১৯০০ থেকে ২০২৬: কম্পিউটিং ও দর্শনের বিবর্তন
প্রযুক্তির এই লড়াইটি বুঝতে হলে আমাদের ইতিহাসের পাতায় চোখ ফেরাতে হবে:
- ১৯০০-১৯৫০ (আদিম যুগ): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কম্পিউটার ছিল কেবল তাত্ত্বিক ধারণা। ১৯৪৫ সালে প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার ‘এনিয়াক’ (ENIAC) তৈরি হয়। তখন কোনো অপারেটিং সিস্টেম ছিল না; বড় বড় মেশিনে প্লাগ বোর্ড দিয়ে কাজ করা হতো।
- ১৯৭০-১৯৯০ (ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জন্ম): ১৯৭১ সালে মাইক্রোপ্রসেসর আসার পর কম্পিউটিং সাধারণের নাগালে আসতে শুরু করে। আশির দশকে উইন্ডোজের উত্থান ঘটে। কিন্তু সেই সময় থেকেই ‘ক্লোজড সোর্স’ বা মালিকানাধীন সফটওয়্যারের নামে ব্যবহারকারীর ওপর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি শুরু হয়।
- ১৯৯১-২০০৫ (লিনাক্সের উত্থান): ১৯৯১ সালে লিনুস তোরভালদস যখন লিনাক্স কার্নেল রিলিজ করেন, তখন বিশ্ব এক নতুন ‘ওপেন সোর্স’ দর্শন পায়। স্বাধীনতা আর কমিউনিটি বেজড ডেভেলপমেন্টের সেই বিপ্লব ২০২৬ সালে এসে আজ সার্ভার আর সুপারকম্পিউটারের একচ্ছত্র মালিকে পরিণত হয়েছে।
- ২০২৪-২০২৬ (বর্তমান প্রেক্ষাপট): ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার পর মানুষ এখন পাইরেসি ছেড়ে বৈধ পথে সফটওয়্যার ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছে। কিন্তু উইন্ডোজ ও অফিস ৩৬৫-এর উচ্চমূল্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের মানুষের জন্য এখনো বড় বাধা। ফলে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে লিনাক্স আর ফ্রি সফটওয়্যারই হয়ে উঠছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের প্রধান ভরসা।
কেন লিনাক্স আপনাকে ‘রাজকীয়’ অনুভূতি দেয়?
একজন ব্যবহারকারী হিসেবে লিনাক্সের অভিজ্ঞতা অনেকটা এমন—আপনি একটি ঘরের মালিক, যেখানে আপনি যেভাবে খুশি আসবাবপত্র সাজাতে পারেন। কিন্তু উইন্ডোজ হলো সেই ভাড়া বাসার মতো যেখানে মালিকের (মাইক্রোসফট) কড়া নজরদারি থাকে এবং আপনি চাইলেও আসবাব সরাতে পারেন না। লিনাক্সে ভাইরাস নিয়ে কোনো ভাবনা নেই, ক্র্যাক সফটওয়্যার খোঁজার ঝামেলা নেই এবং দুর্বল হার্ডওয়্যারেও এটি চলে রাজার হালে।
উইন্ডোজ বনাম লিনাক্স: তুলনামূলক চিত্র
| বৈশিষ্ট্য | উইন্ডোজ ১০/১১ | লিনাক্স (ডেবিয়ান/উবুন্টু) |
| মূল্য | প্রায় ১৩,৫০০ টাকা (প্রো) | সম্পূর্ণ বিনামূল্যে |
| নিরাপত্তা | ভাইরাস আক্রমণ বেশি, অ্যান্টি-ভাইরাস লাগে। | অত্যন্ত সুরক্ষিত, অ্যান্টি-ভাইরাস নিষ্প্রয়োজন। |
| পারফরম্যান্স | পুরনো পিসিতে স্লো হতে পারে। | দুর্বল হার্ডওয়্যারেও দ্রুত গতিতে চলে। |
| ব্যক্তিগত স্বাধীনতা | মাইক্রোসফটের নজরদারি থাকে। | সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ও গোপনীয়তা। |
| ড্রাইভার | কিছু ক্ষেত্রে ইনস্টলেশন ঝামেলা হয়। | স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রাইভার নিয়ে নেয়। |
২০২৬ সালের প্রযুক্তি বিশ্ব এখন বহুমুখী। যারা গেমার বা নির্দিষ্ট কিছু অ্যাডোবি সফটওয়্যার ছাড়া চলতে পারেন না, তারা উইন্ডোজ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু যারা সৃজনশীল কাজ, প্রোগ্রামিং বা শান্তিতে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে চান, তাদের জন্য লিনাক্সের বিকল্প নেই।
সূত্র: ১. মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ অফিসিয়াল প্রাইসিং ডিরেক্টরি (২০২৫-২৬)।
২. দ্য লিনাক্স ফাউন্ডেশন ও ডেবিয়ান গনু/লিনাক্স আর্কাইভ (১৯৯১-২০২৬)।
৩. কম্পিউটিং ও ইনফরমেশন টেকনোলজির ঐতিহাসিক বিবর্তন—আন্তর্জাতিক এনালাইসিস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
বিষয়ঃ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
অনেকেই প্রশ্ন করেন—বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা কোনটি? এর উত্তরে অনেকেই অনেক লাভজনক সেক্টরের নাম বলেন। কিন্তু ব্যবসার মূল অংকটি কি আমরা আসলে বুঝি? চলুন আজ লাভের প্রকৃত সমীকরণ এবং ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে সম্মানজনক কিছু ব্যবসার সুলুকসন্ধান করি।

লাভ বনাম মুনাফার হার: একটি চোখ খুলে দেওয়া উদাহরণ
সাধারণত আমরা মনে করি বেশি টাকা বিক্রি মানেই বেশি লাভ। কিন্তু অংকটি ভিন্ন।
- একজন শিল্পপতি ৫ কোটি টাকা খরচ করে ৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকায় পণ্য বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ মাত্র ৫%।
- অন্যদিকে একজন চা-ওয়ালা ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন। তাঁর লাভ ২০%।
অর্থাৎ, শতাংশের হিসেবে শিল্পপতির চেয়ে চা-ওয়ালা ৪ গুণ বেশি লাভ করেছেন। কিন্তু আপনি কি চা-ওয়ালা হতে চান? নিশ্চয়ই না। কারণ মানুষ শুধু লাভ চায় না, মানুষ চায় সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা।
লাভের শীর্ষ ৩: যা আপনি করতে চাইবেন না!
অংকের হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো—ভিক্ষা, পতিতাবৃত্তি ও মাজার ব্যবসা। কেন? কারণ এখানে কোনো মূলধন নেই, কোনো উৎপাদন খরচ নেই। কিন্তু এগুলো কি সম্মানজনক? অবশ্যই না। তাই ব্যবসার লক্ষ্য হওয়া উচিত সততা ও সেবার মাধ্যমে সাফল্য অর্জন।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি সম্মানজনক ও সফল ব্যবসা
গুগল ট্রেন্ডস এবং বর্তমান বাজার বিশ্লেষণ করে আমরা এমন ১০টি ব্যবসার তালিকা তৈরি করেছি যা ২০২৬ সালে আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে:
১. আইটি এজেন্সি ও এআই সলিউশন: ফ্রিল্যান্সিং থেকে বেরিয়ে এসে এজেন্সি মডেলে কাজ করা এখন সবচেয়ে লাভজনক। ২. নিরাপদ ও অর্গানিক খাদ্য (Safe Food): মানুষ এখন বিষমুক্ত খাবারের জন্য যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। ৩. ই-কমার্স ও স্মার্ট ডেলিভারি: অনলাইন কেনাকাটা এখন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ৪. রিনিউয়েবল এনার্জি (সোলার প্যানেল): বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সোলার প্যানেল ব্যবসা এখন তুঙ্গে। ৫. এডু-টেক (Ed-Tech): অনলাইনে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও টিউটোরিং অত্যন্ত সম্মানজনক ক্ষেত্র। ৬. অ্যাডভান্স এগ্রিকালচার: বায়োফ্লক মৎস্য চাষ বা আধুনিক ডেইরি ফার্মিং। ৭. দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড: জামদানি বা খাদি পণ্য নিয়ে গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং। ৮. ট্যুরিজম ও ইকো-রিসোর্ট: অভ্যন্তরীণ পর্যটনে মানুষের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ৯. স্বাস্থ্যসেবা ও হোম কেয়ার: বয়স্কদের সেবা এবং বাড়িতে প্যাথলজি টেস্ট সুবিধা। ১০. ডিজিটাল মার্কেটিং ও এসইও (SEO): প্রতিটি ব্যবসার এখন অনলাইনে উপস্থিতি প্রয়োজন, তাই এই সেবার চাহিদা অপরিসীম।
সাফল্যের মূলমন্ত্র: সততা ও নিষ্ঠা
আল্লাহর নামে ব্যবসা শুরু করুন। কাস্টমারকে না ঠকিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, ব্যবসার সাফল্য রাতারাতি আসে না; ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর ভরসাই আপনাকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।
তথ্যসূত্র ও গুগল অ্যানালাইসিস (Sources):
১. গুগল ট্রেন্ডস (Bangladesh 2026): আইটি, ই-কমার্স এবং অর্গানিক ফুড ক্যাটাগরিতে সার্চ ভলিউম গত বছরের তুলনায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২. বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB): আইটি ও কৃষি খাতে সরকারি প্রণোদনা ও রপ্তানি আয়ের তথ্য। ৩. ই-ক্যাব (e-CAB) রিপোর্ট: বাংলাদেশে অনলাইন লেনদেন ও ডেলিভারি সার্ভিসের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ। ৪. বিডিএস বুলবুল আহমেদ পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক স্টাডিজ: ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ডাটাবেস।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘মাসে ৫০,০০০ টাকা আয়’—এটি আর কোনো স্বপ্ন নয়, বরং অনেকের কাছেই একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য। তবে রাতারাতি এই আয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, ধৈর্য এবং একটি নির্দিষ্ট দক্ষতায় (Skill) বিশেষত্ব অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশে যারা এই আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করছেন, তাদের কৌশলগুলো বিশ্লেষণ করে ৪টি কার্যকর ও প্রমাণিত উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ফ্রিল্যান্সিং: দক্ষতার সঠিক ব্যবহার
যেকোনো ডিজিটাল স্কিল আয়ত্ত করে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসগুলোতে (যেমন- Upwork, Fiverr) কাজ করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়।
- পেশা নির্বাচন: গ্রাফিক ডিজাইন, এসইও (SEO), কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং।
- সফলতার সূত্র: শুধু কাজ জানা যথেষ্ট নয়, ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা ৫০ হাজার টাকা আয়ের পথকে সুগম করে। একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার একাধিক ক্লায়েন্টের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে কাজ করে সহজেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন।
২. ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: প্যাসিভ আয়ের উৎস
আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন, তবে একটি নিস-বেজড (Niche-based) ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।
- আয়ের প্রক্রিয়া: গুগল অ্যাডসেন্স (Google AdSense), অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং স্পন্সরড কন্টেন্ট।
- কৌশল: প্রথমে ট্রাফিক বা ভিজিটর তৈরি করতে ৩-৬ মাস সময় বিনিয়োগ করতে হয়। একবার সাইটটি র্যাংক করলে নিয়মিত আর্টিকেল লেখার মাধ্যমে এখান থেকে একটি বড় অংকের প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করা সম্ভব।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েশন
ইউটিউব বা ফেসবুক মনিটাইজেশন এখন বাংলাদেশে আয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
- বিষয়বস্তু: শিক্ষা, টেক টিপস, ফুড রিভিউ, ভ্রমণ বা শিক্ষামূলক ভিডিও।
- আয়ের উৎস: মনিটাইজেশন থেকে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কোলাবরেশন এবং নিজস্ব পণ্যের প্রচারণা। ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
৪. ই-কমার্স ও ছোট অনলাইন ব্যবসা
ফেসবুক পেজ বা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রি বর্তমান তরুণ প্রজন্মের আয়ের বড় উৎস।
- সোর্সিং: সরাসরি পাইকারি বাজার বা চীন থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য (যেমন- গ্যাজেট, লাইফস্টাইল পণ্য) আমদানি করে স্থানীয় মার্কেটে বিক্রি।
- কৌশল: ফেসবুক বিজ্ঞাপন (FB Ads) ব্যবহার করে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানো এবং দ্রুত ডেলিভারি নিশ্চিত করা। এটি একটি বাস্তব ব্যবসা, যেখানে মুনাফার হার অনেক বেশি।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
৫০ হাজার টাকা আয়ের লক্ষ্যপূরণে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ‘শর্টকাট খোঁজা’। যারা দ্রুত ধনী হওয়ার পথ খোঁজেন, তারা সাধারণত ব্যর্থ হন। আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যে কোনো একটি স্কিলকে প্রফেশনাল পর্যায়ে নিতে ৩ থেকে ৬ মাস নিবিড় পড়াশোনা ও চর্চা প্রয়োজন। ডিজিটাল দুনিয়ায় কাজের অভাব নেই, অভাব আছে দক্ষ কর্মীর। আপনি যদি আজ থেকেই ধৈর্য ধরে কোনো একটি ডিজিটাল স্কিল শিখতে শুরু করেন, তবে অদূর ভবিষ্যতে শুধু ৫০ হাজার কেন, লাখ টাকা আয় করাও অসম্ভব নয়।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশের অর্থনৈতিক ও ডিজিটাল ব্যবসার সমসাময়িক বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. বর্তমান বাংলাদেশের অনলাইন কর্মসংস্থানের বাজারের চাহিদা ও প্রবণতা। ২. সফল ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ ডেটা বিশ্লেষণ।
বিষয়ঃ
প্রযুক্তি,তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও সুরক্ষা
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে যারা আজীবন নিরলস কাজ করে গেছেন, তাঁদের মধ্যে ব্রিটিশ জ্যোতিঃপদার্থবিদ মার্টিন রিস (Martin Rees) অন্যতম। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিজ্ঞান উপদেষ্টা এবং রয়েল অ্যাস্ট্রোনমার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই বিজ্ঞানী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মহাবিশ্বের উৎপত্তি, প্রাণ ও মানব সভ্যতার টিকে থাকা নিয়ে কিছু চমকপ্রদ মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, “আমরা শেষ পর্যন্ত আসলে নক্ষত্রের ধূলি।”
১. আমরা নক্ষত্রের ধূলি বা নাক্ষত্রিক বর্জ্য
মার্টিন রিসের মতে, মহাবিশ্বের সব মৌলিক পদার্থ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম থেকে নিউক্লিয়ার ফিউশনের মাধ্যমে নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হয়েছিল। এই অর্থে মানুষকে অনেক সময় ‘নাক্ষত্রিক নিউক্লিয়ার বর্জ্য’ বলা যেতে পারে। এই রোমান্টিক কিন্তু কঠোর বৈজ্ঞানিক সত্যটিই আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। কোটি কোটি বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া নক্ষত্রের অবশেষ থেকেই আজকের এই মানব সভ্যতা।
২. কোয়াসার ও মহাবিশ্বের আদিকাল
মার্টিন রিসের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র হলো ‘কোয়াসার’। তিনি জানান, গ্যালাক্সিগুলোর কেন্দ্রে থাকা বিশাল কৃষ্ণগহ্বর যখন গ্যাস শুষে নেয়, তখন যে তীব্র আলো তৈরি হয়—তাই কোয়াসার। এটি আমাদের মহাবিশ্বের শুরুর দিকের ঘটনাবলি বোঝার একটি চাবিকাঠি। বিগ ব্যাং তত্ত্বকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে কোয়াসারের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
৩. মাল্টিভার্স: আমরা কি একমাত্র মহাবিশ্ব?
মহাবিশ্বের এই অবিশ্বাস্য সূক্ষ্ম ভারসাম্য বা ‘ফাইন টিউনিং’ কীভাবে সম্ভব? রিসের মতে, এর উত্তর হতে পারে ‘মাল্টিভার্স’। অসংখ্য মহাবিশ্বের মধ্যে আমাদের এই মহাবিশ্বটি জীবন ধারণের উপযোগী, কারণ প্রাকৃতিক ধ্রুবকগুলো এখানে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা প্রাণের সৃষ্টিতে সহায়ক। এটি অনেকটা একটি বিশাল কাপড়ের দোকানে নিজের মাপের জ্যাকেট খুঁজে পাওয়ার মতো।
৪. মানবজাতির টিকে থাকার ঝুঁকি
মার্টিন রিস মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ শঙ্কার কথা শুনিয়েছেন। তাঁর মতে:
- প্রযুক্তিগত ঝুঁকি: জিনগত অণুজীব বা জৈব অস্ত্রের ব্যবহার মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
- বিপজ্জনক সম্ভাবনা: তিনি অনুমান করেছেন যে, একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের সভ্যতার টিকে থাকার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের চেয়ে বেশি নয়।
- রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ: ইন্টারনেটের মাধ্যমে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়া এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় মানব অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।
৫. বিজ্ঞান ও ধর্মের সহাবস্থান
ধর্মীয় বিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার মধ্যে কোনো সংঘর্ষ দেখছেন না মার্টিন রিস। তিনি চার্চের আচার-অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত পছন্দ করলেও নিজেকে একজন ‘অনুশীলনকারী খ্রিস্টান’ হিসেবে পরিচয় দেন, বিশ্বাসী নয়। তাঁর মতে, বিজ্ঞান ও ধর্ম মানুষের আলাদা আলাদা প্রয়োজনের জায়গা, যা শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করতে পারে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ-এর চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ:
মার্টিন রিসের এই সাক্ষাৎকারটি আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি—যা মহাবিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ দখল করে আছে—তা সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটনে বিজ্ঞান এখনো অনেকটা পথ বাকি। তবে রিসের সতর্কবাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে পৌঁছালেও আমাদের নৈতিকতা ও সম্মিলিত সচেতনতা ছাড়া এই মহাজাগতিক অস্তিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হওয়া কঠিন।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিজ্ঞান, মহাবিশ্বতত্ত্ব ও সমসাময়িক খবরের গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
সূত্র: ১. মার্টিন রিস এবং স্টিফান ক্লেইনের সাক্ষাৎকার, উই আর অল স্টারডাস্ট সংকলন। ২. বিগ ব্যাং তত্ত্ব ও মহাবিশ্বের বিবর্তন বিষয়ক সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র। ৩. নাসার কেপলার স্পেস প্রোব ও কোব (COBE) স্যাটেলাইটের তথ্য।



