ইতিহাস

ইতিহাসের দর্পণে জিয়াউর রহমান: কেন তিনি আজও বাংলাদেশের রাজনীতির ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ ধ্রুবতারা?
জিয়াউর রহমান

নিউজ ডেস্ক

January 5, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশে অনেক নক্ষত্রের উদয়-অস্ত ঘটেছে, কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক ব্যক্তিত্ব, যার জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এ ভূখণ্ডের দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। একাত্তরের রণাঙ্গনে ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহের ডাক দেওয়া থেকে শুরু করে ধ্বংসপ্রায় এক জাতিকে আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা দেওয়া পর্যন্ত তার প্রতিটি পদক্ষেপ আজও জনমনে অম্লান।

একাত্তর ও পঁচাত্তরের ত্রাতা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা যখন দিকভ্রান্ত জাতির কানে পৌঁছায়, তখন থেকেই জিয়াউর রহমান মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী চরম বিশৃঙ্খলা এবং ৩ নভেম্বরের ক্যু-পাল্টা ক্যু-র পর বন্দি জিয়াউর রহমানকে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান মুক্ত করে আনলে বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ বদলে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুলের মতে, আওয়ামী লীগ কেন জিয়ার এত সমালোচনা করে? কারণ তারা জানে, তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আজও কেবল একজনই—আর তিনি হলেন জিয়া।

বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র: এক ঐতিহাসিক উত্তরণ ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন ‘বাকশাল’ গঠন করে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল, তখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন। এর ফলেই আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পায়। ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনায় যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাঙালি লালন করেছিল, জিয়া সেই আকাঙ্ক্ষাকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।

রেমিট্যান্স ও আধুনিক অর্থনীতির জনক আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড যে রেমিট্যান্স ও গার্মেন্টস শিল্প, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুর আমলে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পশ্চিমা দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন করে তিনি শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছিলেন। কল-কারখানার বিরাষ্ট্রীয়করণ করে ব্যক্তি মালিকানাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি অর্থনীতির চাকা সচল করেন।

সার্বভৌমত্ব ও ফারাক্কা লং মার্চ দেশকে নতজানু করার ষড়যন্ত্র রুখতে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মরুভূমি করার ভারতীয় চেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি জাতিসংঘে সরব হয়েছিলেন এবং অভ্যন্তরীণভাবে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ‘বাঙালি’ জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন করে তিনি পাহাড়-সমতলের সব মানুষকে এক সুতায় গেঁথেছিলেন।

২০২৬-এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জিয়ার প্রাসঙ্গিকতা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জিয়ার জনপ্রিয়তা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ পরবর্তী শোকার্ত পরিবেশে জিয়াউর রহমানের আদর্শই যেন বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান যখন ‘জাতীয় ঐক্য’ ও ‘রাষ্ট্র সংস্কারের’ কথা বলছেন, তা আসলে শহীদ জিয়ার শুরু করা অসমাপ্ত কাজেরই ধারাবাহিকতা।

বিশ্লেষণ: অপপ্রচার বনাম ভালোবাসা শহীদ জিয়ার সততা নিয়ে তার ঘোর বিরোধীও কখনও প্রশ্ন তুলতে পারেনি। ইদানীং তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্বীকার বা ‘পাক চর’ হিসেবে প্রমাণের যে অপচেষ্টা চলছে, তা নিছকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত দীর্ঘ ১২৬ বছরের ইতিহাসে যারা স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের কাছে জিয়াউর রহমান এক ‘নিষ্কলুষ দেশপ্রেমিক’ হিসেবেই অমর হয়ে থাকবেন।

উপসংহার: মানুষ তাকে ‘কমল’ বলে ডাকত। আর এই ‘হৃদয় কমল’ জিয়াউর রহমান আজও বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে অতি প্রিয়। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন ১৯০০ সালের বিপ্লবীদের চেতনা এবং ১৯৭৫-এর আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।


সূত্র: ১. ড. আসিফ নজরুলের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ ও সাক্ষাৎকার। ২. বাংলাদেশ জাতীয় আর্কাইভ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্য দলিল (১৯৭১-১৯৮১)। ৩. উইকিপিডিয়া ও বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল লাইব্রেরি (২০২৫-২৬ কভারেজ)।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান

নিউজ ডেস্ক

March 12, 2026

শেয়ার করুন

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান: যানজটমুক্ত ঢাকার নতুন লিগ্যাসি শুরু

বিশেষ বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ | পালস বাংলাদেশ ১২ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান আজ বাংলাদেশের যাতায়াত ইতিহাসে এক নতুন স্বর্ণাক্ষরের সূচনা করল। রাজধানীর তীব্র যানজট থেকে মুক্তি পেতে বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত দেশের প্রথম পাতাল রেলের পরীক্ষামূলক চলাচল বা ট্রায়াল রান আজ সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশের আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামোর এক অনন্য মাইলফলক।

ঢাকার পাতাল পথে নতুন দিগন্ত

আজকের এই আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান কেবল একটি যান্ত্রিক পরীক্ষা নয়, বরং এটি ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এমআরটি লাইন-১ (MRT Line-1) প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত এই পাতাল রেলটি মাটির প্রায় ৩০ মিটার গভীর দিয়ে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মাত্র ২৪ মিনিটে যাত্রী পৌঁছে দেবে।

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • গতি ও সময়: ট্রায়াল রানে ট্রেনটি সর্বোচ্চ ১০০ কিমি গতিতে চলেছে।
  • যাত্রী ধারণক্ষমতা: প্রতিদিন প্রায় ৮ লক্ষ যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতে পারবেন।
  • পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: মাটির নিচে শব্দহীন এবং উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পন্ন আধুনিক এই কোচগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত।

কেন এই পাতাল রেল গেম-চেঞ্জার?

আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঢাকার যানজট সমস্যাকে অন্তত ৪০% কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ভোগান্তি এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নেবে। পালস বাংলাদেশ-এর গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ কমলাপুর স্টেশনে ট্রায়াল রানের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

“আমরা এমন এক সময়ের স্বপ্ন দেখতাম যখন মাটির নিচ দিয়ে জটমুক্তভাবে যাতায়াত করব। আজ সেই স্বপ্নের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল ট্রায়াল রান সফল হলো।” — কড়াইল থেকে আসা এক দর্শনার্থীর মন্তব্য।

অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ

এই প্রকল্পের ফলে কেবল সময় বাঁচবে না, বরং জ্বালানি খরচ এবং যানজটজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানিয়েছেন, এই পাতাল রেল বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দেবে।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ মিশন - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬: নাসা ও স্পেসএক্সের যৌথ অভিযানে ইতিহাস গড়লো আর্টেমিস-৩ মিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ মার্চ, ২০২৬

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। দীর্ঘ ৫০ বছর পর চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সফলভাবে অবতরণ করেছে নাসার আর্টেমিস-৩ মহাকাশযান। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। আজ বুধবার সকালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং এলন মাস্কের স্পেসএক্স (SpaceX) যৌথভাবে এই সফল ল্যান্ডিং নিশ্চিত করেছে।

এই অভিযানে প্রথমবার একজন নারী এবং একজন কৃষ্ণাঙ্গ মহাকাশচারী চাঁদের মাটিতে পা রেখেছেন, যা বৈশ্বিক সমতা ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য উদাহরণ।

আর্টেমিস-৩ মিশনের লক্ষ্য ও প্রযুক্তি

চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী বেস ক্যাম্প বা আস্তানা তৈরি করা। আর্টেমিস-৩ মিশনের মহাকাশচারীরা চাঁদের দক্ষিণ মেরুর এমন এক অঞ্চলে অবতরণ করেছেন যেখানে বরফ আকারে পানির অস্তিত্ব পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেসএক্সের তৈরি ‘স্টারশিপ’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নাসা জানিয়েছে, চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, জ্বালানি এবং পানি উৎপাদনের প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো এই মিশন থেকেই শুরু হবে। এটি কেবল বিজ্ঞানের জয় নয়, বরং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের পা রাখার প্রথম ধাপ।

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

মহাকাশে এই আধিপত্য স্থাপনের লড়াইয়ে নাসা ছাড়াও চীন ও রাশিয়া তাদের নিজস্ব লুনার স্টেশন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ অভিযানে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের এই সমন্বয় মহাকাশ গবেষণার খরচ কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক এই সাফল্যের ফলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং মহাকাশ পর্যটন শিল্পে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “চাঁদে মানুষের বসতি ২০২৬ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নয়, এটি মানবজাতির অসীম সাহসের প্রতীক। পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশে বসতি গড়া মানবাধিকারের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, মহাকাশের এই সম্পদ যেন আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে সকল দেশের জন্য সমানভাবে ব্যবহৃত হয়। সামাজিক সমতা এবং শ্রমের মর্যাদা যেন পৃথিবীর বাইরেও প্রতিষ্ঠিত থাকে, এটাই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ।”

সামাজিক সমতা, মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ বাংলাদেশ - পালস বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

March 11, 2026

শেয়ার করুন

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬: ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনে ডিজেল সরবরাহ শুরু, কাটবে সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১১ মার্চ, ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ নিশ্চিত করতে এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার থেকে ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল আমদানি ও সরবরাহ শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১.৮ লাখ টন ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ডিপোগুলোতে পৌঁছাবে। এতে পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়ও সাশ্রয় হবে।

জ্বালানি সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা

জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ পরিকল্পনার অধীনে সরকার অভ্যন্তরীণ মজুদ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি থেকে আসা এই ডিজেল উচ্চমানের এবং পরিবেশবান্ধব।

বর্তমানে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে সমস্যার কারণে আন্তর্জাতিক রুটে তেলবাহী ট্যাংকার আসতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থলপথে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আসা বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজেল ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের সুফল সরাসরি পাবেন দেশের কৃষক ও পরিবহন মালিকরা। নৌপথ বা রেলপথে তেল পরিবহনে যে সিস্টেম লস এবং অতিরিক্ত খরচ হতো, পাইপলাইনে তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিজেলের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারে আরও সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করবে।

বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য

বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই জ্বালানি নীতি নিয়ে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “জ্বালানি নিরাপত্তা ২০২৬ অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ কেবল অর্থনীতির চাকা সচল রাখে না, এটি নাগরিকের মানবাধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করে। সামাজিক সমতা বজায় রাখতে হলে জ্বালানির ন্যায্য মূল্য এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঝুঁকি হ্রাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ