ফটোগ্রাফি

নাইলন শাড়ি আর ফাউন্টেন পেন: আজও কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী উত্তম-সুচিত্রা জুটি?
উত্তম-সুচিত্রা

নিউজ ডেস্ক

January 30, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বিনোদন ডেস্ক: ‘নাইলন শাড়ি, ফাউন্টেন পেন উত্তম কুমারের পকেটে সুচিত্রা সেন’

অজ্ঞাত কবির এই দুই লাইনের অনুকবিতাটি আজও বাঙালির নস্টালজিয়াকে উসকে দেয়। ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল যুগে দাঁড়িয়ে, যেখানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আর সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা, সেখানেও ‘রোমান্টিক জুটি’ বললেই কেন অবধারিতভাবে এই দুটি নামই সবার আগে আসে? উত্তরটি সহজ—বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উত্তম কুমার এবং সুচিত্রা সেন ছিলেন ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’।

৫০ দশকের বিপ্লব ও রূপোলি পর্দার রসায়ন

বাংলার সিনেমার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের শুরু থেকে থিয়েটার নির্ভর অভিনয়ের যে চল ছিল, তাকে ভেঙে ১৯৫০-এর দশকে সিনেমার রোমান্টিসিজমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন এই জুটি। ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দিয়ে যে যাত্রার শুরু, তা ১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’ পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। দীর্ঘ এই তিন দশকে তারা একসাথে ৩৪টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সপ্তপদীর সেই চিরন্তন দৃশ্য

সিনেমা বিশেষজ্ঞ ও দর্শকদের স্মৃতিতে আজও অমলিন ‘সপ্তপদী’র সেই বিখ্যাত দৃশ্য। সুচিত্রার মুখে বারবার উড়ে আসা চুলগুলো উত্তম কুমারের সরিয়ে দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা এবং শেষে সুচিত্রার ঠোঁটের ফাঁকে চুলটি পুরে ফেলা—এমন নান্দনিক ও স্বাভাবিক দৃশ্য আজও বিরল। কৃষ্ণেন্দু আর রিনা ব্রাউনের সেই সংলাপ, ঘাসের ডগা দিয়ে উত্তমের ঠোঁটে সুচিত্রার আলতো ছোঁয়া—যৌবন ও প্রেমের এক অকল্পনীয় মুহূর্ত তৈরি করত পর্দা জুড়ে।

সেন্সর আর পর্দার আড়ালের বন্ধুত্ব

তৎকালীন দেশের সেন্সর বোর্ডের কঠোরতা এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই জুটিকে কখনও বড় পর্দায় চুম্বনরত অবস্থায় দেখা যায়নি। তবে তাদের রসায়ন ছিল এতটাই প্রগাঢ় যে, কোনো শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ছাড়াই তারা দর্শকদের মনে উত্তেজনার ঢেউ তুলতেন। শোনা যায়, ব্যক্তিগত জীবনেও তাদের বন্ধুত্ব ছিল কিংবদন্তি সমতুল্য। সুচিত্রা সেন কখনও কখনও কৌতুক করে উত্তমকে ফোন করে বলতেন, “তোকে চুমু খেতে ইচ্ছে করছে।” তবে সেই সম্পর্ক ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার। স্বয়ং উত্তম কুমার স্বীকার করেছিলেন, “সুচিত্রা পাশে না থাকলে আমি কখনোই উত্তম কুমার হতে পারতাম না।”

১৯০০ থেকে ২০২৬: একটি বিবর্তনীয় প্রেক্ষাপট

১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ ছিল, তখন থেকে আজ ২০২৬ সালের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত হাই-ডেফিনিশন সিনেমা পর্যন্ত—বাঙালি দর্শকদের রুচি অনেক বদলেছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতিতে যে স্বকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তারই চূড়ান্ত ফসল ছিল এই জুটি।

আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও যখন আমরা নতুন কোনো জুটির মাদকতা খুঁজি, তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হতে হয়। উত্তম কুমার প্রয়াত হয়েছেন ৩৮ বছরের বেশি সময় আগে, আর সুচিত্রা সেন ২০১৪ সালে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তাদের অমর সৃষ্টিগুলো আজও ইউটিউব এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।

উপসংহার

উত্তম-সুচিত্রা জুটি শুধু একটি সিনেমার জুটি নয়, এটি একটি যুগের প্রতীক। তারা জানতেন কীভাবে রোমান্টিক বাতাবরণ তৈরি করতে হয়। আজও বর্ষার দুপুরে বা নির্জন সন্ধ্যায় বাঙালির ঘরে যখন বেজে ওঠে ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’, তখন মনে হয় সময় যেন থমকে আছে সেই সাদা-কালো যুগেই।


সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ, উত্তম কুমারের সাক্ষাৎকার (১৯৭৮), চলচ্চিত্র বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন (যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন)।

বিশ্লেষণ: এই নিবন্ধটি মূলত উত্তম-সুচিত্রা জুটির চিরকালীন জনপ্রিয়তার মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো অনুসন্ধান করেছে। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাঝেও কেন এই জুটি এখনো শাশ্বত, তা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

থালাপ্যাথি বিজয়

নিউজ ডেস্ক

May 6, 2026

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

চেন্নাই/ঢাকা: ভারতীয় বিনোদন জগতে ‘বিগ স্টার’ বিতর্কটি সাধারণত শাহরুখ খান, সালমান খান বা প্রভাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট থালাপ্যাথি বিজয়কে (Vijay) এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দাঁড়িয়ে এটি আর কেবল চলচ্চিত্র বিষয়ক আলোচনা নয়, বরং ভারতের ক্ষমতার সমীকরণে বিজয়ের প্রভাব এখন একটি অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য।

১. লয়াল ফ্যানবেস ও ‘বিজয় ফ্যাক্টর’

কোভিড-১৯ মহামারীর সংকটকালে যখন সালমান খানের মতো তারকারা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে ঝুঁকছিলেন, তখন বিজয় তার ‘মাস্টার’ (Master) সিনেমার জন্য বড় ওটিটি অফার প্রত্যাখ্যান করে থিয়েটার এক্সপেরিয়েন্সকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন।

  • বক্স অফিস আধিপত্য: বিজয়ের সিনেমা যেমন—Beast, Varisu কিংবা সাম্প্রতিক The GOAT সমালোচকদের দৃষ্টিতে গড়পড়তা হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় ৪০০ কোটিরও বেশি আয় করেছে।
  • অডিয়েন্স পুল: যেখানে বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার সাফল্য নির্ভর করে বিশাল মার্কেটিংয়ের ওপর, সেখানে বিজয়ের কেবল নামই তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ ভারতের মার্কেট রিকভার করার জন্য যথেষ্ট।

২. রাজনীতির নতুন সূর্য: ভোটব্যাংকে রূপান্তর

বিজয় তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘জনতার নেতা’র যে ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন, তা ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার দল তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK)-কে বিপুল সাফল্য এনে দিয়েছে।

  • ভোট শেয়ার: প্রাথমিক ফলাফল ও বুথ ফেরত জরিপ অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর নতুন প্রজন্মের (Gen Z) ভোটারদের সিংহভাগেরই প্রথম পছন্দ ছিল বিজয়।
  • আঞ্চলিক প্রভাব: ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)-এর মতো পুরনো শক্তিগুলোর ভিড়ে বিজয় ১০৬টির বেশি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

৩. বিতর্ক ও টিকে থাকার লড়াই

ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে অসংখ্য ঝড় তাকে দমাতে পারেনি।

  • দুর্ঘটনা ও তদন্ত: ২০২৫ সালের শেষের দিকে কারুর জেলায় তার রাজনৈতিক র‍্যালিতে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ৪১ জন ভক্তের মৃত্যু এবং এ ঘটনায় সিবিআই (CBI) জিজ্ঞাসাবাদ তাকে কঠিন চাপের মুখে ফেলেছিল।
  • ব্যক্তিগত সংকট: স্ত্রী সঙ্গীতার সাথে বিবাহবিচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত জীবনের গুঞ্জনকে ছাপিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় অটল ছিলেন।

৪. বিশ্লেষণ: শাহরুখ-প্রভাস বনাম বিজয়

বিশ্লেষকদের মতে, শাহরুখ খান বা প্রভাসের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট হয়তো অনেক বড়, কিন্তু লোকাল লেভেলে বিজয়ের মতো ‘অডিয়েন্স পুল’ এবং রাজনৈতিক ভোটব্যাংক আর কারো নেই। উত্তর ভারতীয় কোনো তারকার ক্ষেত্রে এমন বিতর্ক ক্যারিয়ার ধ্বংসের কারণ হতে পারত, কিন্তু বিজয়ের লয়াল ফ্যানবেস তাকে প্রতিবারই সুরক্ষা দিয়েছে।


তথ্যসূত্র ও এনালাইসিস: ১. তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল রেকর্ড ২. বক্স অফিস ইন্ডিয়া ও রয়টার্স বিনোদন ডেস্ক এনালাইসিস – ২০২৬ ৩. অ্যাক্সিওস (Axios) ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পলিটিক্যাল ডেস্ক রিসার্চ ৪. তামিলগা ভেট্টি কাঝাগাম (TVK) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২০২৬ সালের সেরা লাভজনক ব্যবসা

নিউজ ডেস্ক

May 5, 2026

শেয়ার করুন

বিজনেজ ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে প্রযুক্তির জয়জয়কার, অন্যদিকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন নতুন করিডোর তৈরি হওয়ায় ব্যবসার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিনিয়োগের জন্য বর্তমানে কোন খাতগুলো সবচেয়ে লাভজনক, তা নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ডিজিটাল কন্টেন্ট পাবলিশিং ও এসইও (SEO)

ইন্টারনেট এখন মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ওয়েবসাইট ও ইউটিউবের মাধ্যমে কন্টেন্ট পাবলিশ করে প্যাসিভ ইনকাম করা সবচেয়ে লাভজনক। বিশেষ করে গুগলের নতুন এআই সার্চ অ্যালগরিদম অনুযায়ী মানসম্মত এসইও (Search Engine Optimization) সেবার চাহিদা আকাশচুম্বী। বড় বড় ব্র্যান্ড এখন তাদের অনলাইন উপস্থিতি বাড়াতে অভিজ্ঞ এসইও কনসালট্যান্টদের ওপর নির্ভর করছে।

২. পেট্রো-ইউয়ান ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিনিময়

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের পাশাপাশি পেট্রো-ইউয়ানের উত্থান এক নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে অনেক দেশ ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ান ব্যবহার শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন, ডিজিটাল কারেন্সি এক্সচেঞ্জ এবং এই মুদ্রাসমূহের ওপর ভিত্তি করে ফিনটেক সেবা প্রদান বর্তমানে অত্যন্ত লাভজনক একটি ক্ষেত্র।

৩. জ্বালানি ও লজিস্টিকস ব্যবসা

হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথ নিয়ে চলমান অস্থিরতা এবং বিকল্প শিপিং রুটের প্রয়োজনীয়তা লজিস্টিকস ব্যবসায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। নিজস্ব শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং এবং বিকল্প জ্বালানি (রিনিউয়েবল এনার্জি) সরবরাহ ব্যবসায় এখন বড় বিনিয়োগকারীরা ঝুকছেন।

৪. এআই-বেজড টেকনোলজি ও অটোমেশন

বর্তমানে যেকোনো ব্যবসার অপারেশনাল খরচ কমাতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। যারা এআই টুলস ডেভেলপমেন্ট, এআই চালিত চ্যাটবট বা ব্যবসায়িক অটোমেশন সেবা দিচ্ছে, তাদের প্রফিট মার্জিন গত এক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

৫. ই-কমার্স ও হাইপার-লোকাল ডেলিভারি

মানুষ এখন আরও দ্রুত পণ্য হাতে পেতে চায়। ফলে এলাকাভিত্তিক বা হাইপার-লোকাল ডেলিভারি সিস্টেমসহ ই-কমার্স ব্যবসা বর্তমানে সেরা অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রোসারি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ১০-২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার মডেলটি ব্যাপকভাবে সফল হচ্ছে।


প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।


বিনিয়োগ পরামর্শ: যেকোনো ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের আগে অবশ্যই স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি যাচাই করে নিন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক স্যাংশনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি।

ভাইজান

নিউজ ডেস্ক

May 4, 2026

শেয়ার করুন

বিনোদন ডেস্ক | ০৪ মে ২০২৬

বলিউডে সালমান খান কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি একটি আস্ত প্রতিষ্ঠান। গত তিন দশকে বহু নবাগতকে তিনি যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি তাঁর বিরাগভাজন হয়ে অনেক জনপ্রিয় তারকাকেও ইন্ডাস্ট্রি থেকে কার্যত নির্বাসিত হতে হয়েছে। ‘ভাইজান’-এর সাথে পাঙ্গা নেওয়ার পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার কিছু কালজয়ী উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. বিবেক ওবেরয়: একটি সংবাদ সম্মেলন ও একটি ক্যারিয়ারের ইতি

সালমান খানের সাথে শত্রুতার তালিকায় সবার উপরে থাকবে বিবেক ওবেরয়-এর নাম। ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রেমে মজে বিবেক ২০০৩ সালে একটি বিস্ফোরক সংবাদ সম্মেলন করেন। যেখানে তিনি সালমানের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকেই বিবেকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে গ্রহণ লাগে। বারবার ক্ষমা চেয়েও আজ পর্যন্ত ভাইজানের ‘গুড বুক’-এ ফিরতে পারেননি তিনি।

২. অরিজিৎ সিং: এক মুহূর্তের রসিকতা ও দীর্ঘস্থায়ী দূরত্ব

পুরস্কার মঞ্চে সালমানের সঞ্চালনা নিয়ে রসিকতা করাটা অরিজিতের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। “ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম” বলায় সালমান তাকে কালো তালিকাভুক্ত করেন। পরবর্তীতে অরিজিৎ প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বড় পোস্ট দিলেও সালমান তাঁকে ‘সুলতান’ মুভি থেকে বাদ দেন। যদিও অরিজিৎ বর্তমান বিশ্বের এক নম্বর গায়ক, কিন্তু ভাইজানের সিনেমায় তাঁর প্রবেশাধিকার আজও সীমিত।

৩. সঞ্জয় লীলা বানসালি ও হৃতিক রোশন: ‘গুজারিশ’ বিতর্ক

সঞ্জয় লীলা বানসালি সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কিন্তু ‘গুজারিশ’ মুভি নিয়ে সালমানের বিতর্কিত মন্তব্য তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরায়। ছবির অভিনেতা হৃতিক রোশনও এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। সালমান বলেছিলেন— “ছবিটি দেখতে কোনো মাছিও যায়নি।” সেই থেকে বানসালি-সালমান জুটিকে আর পর্দায় দেখা যায়নি।

৪. হিমেশ রেশামিয়া: গুরুর অবাধ্য হওয়ার ফল

হিমেশকে বলিউডে ব্রেক দিয়েছিলেন সালমানই। কিন্তু জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকাকালীন হিমেশ যখন সালমানের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন, তখন ভাইজান তাঁর ওপর থেকে হাত তুলে নেন। এরপর হিমেশকে আর বড় কোনো প্রজেক্টে দেখা যায়নি এবং ধীরে ধীরে তিনি গান থেকে দূরে সরে যান।

৫. ঐশ্বরিয়া রাই ও শাহরুখ খান: ‘চালতে চালতে’র সেই কালো রাত

ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে বিচ্ছেদের পর সালমান মারমুখী হয়ে ওঠেন। ‘চালতে চালতে’ মুভির সেটে গিয়ে গোলমাল করায় শাহরুখ খানের সাথেও সালমানের তুমুল ঝগড়া হয়। এর ফলে ঐশ্বরিয়া সিনেমাটি হারান এবং শাহরুখ-সালমান সম্পর্ক দীর্ঘ ৫ বছরের জন্য ‘কোল্ড ওয়ার’-এ রূপ নেয়। যদিও এখন শাহরুখের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক ফিরেছে, কিন্তু ঐশ্বরিয়া ও সালমান আজও একে অপরকে এড়িয়ে চলেন।

পরিশেষ

সালমান খান যেমন বড় মনের মানুষ হিসেবে পরিচিত (বিয়িং হিউম্যান), তেমনি নিজের আত্মসম্মান বা ‘ইগো’র প্রশ্নে তিনি আপোষহীন। তাই তো বলিউডে একটি অলিখিত নিয়ম রয়েছে— “ভাইজানকে খ্যাপানোর পরিণতি কখনও সুখকর হয় না।”


তথ্য সংকলনে: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ভাইজানের এই ‘পাওয়ার গেম’ নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত মত কী? আপনি কি মনে করেন বলিউডে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখাটা সঠিক?

২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ