অপরাধ
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
শেখ হাসিনার প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ শাসনকালে (বিশেষত ২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকাকালীন) তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সফলতার বিপরীতে, সমালোচকরা রাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুতর বিচ্যুতির অভিযোগ এনে থাকেন।
১. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পদ্ধতিগত পতন
সমালোচকদের প্রধান ও সবচেয়ে কঠোর সমালোচনাটি আসে গণতন্ত্রের গুণগত মান এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।
- নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রশ্ন: ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলোর বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। বিরোধী দলের দাবি, এসব নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, বিরোধী ভোটারদের ভোটদানে বাধা, এবং ভোটের আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে সমালোচকরা “নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রের” কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- সংসদের কার্যকারিতা হ্রাস: সংসদের কার্যত কোনো কার্যকরী বিরোধী দল না থাকায় এটি কেবল নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তগুলোর রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিল ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে অর্থপূর্ণ বিতর্ক বা জবাবদিহিতার সুযোগ কমে গেছে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব: সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে সরকারের অনুকূলে রায় নিশ্চিত করার জন্য বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২. দুর্নীতি ও আর্থিক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা
শেখ হাসিনার সরকারের আমলে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান প্রায়শই নিচের দিকে থাকে।
- মেগা-প্রকল্পে দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা: পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয় (Cost Overruns) এবং অস্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকরা দাবি করেন, এই প্রকল্পগুলো ক্ষমতাসীন দলের “লুটপাটের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
- ব্যাংকিং খাতে অরাজকতা: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দ্বারা সহজেই বিশাল ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ রয়েছে, যার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। আর্থিক খাতকে দুর্বল করে তোলার জন্য এই প্রবণতাকে দায়ী করা হয়।
- পুঁজি পাচার: বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে (যেমন গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বা জিএফআই) বারবার উঠে এসেছে। সমালোচকরা বলেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার প্রকারান্তরে অর্থ পাচারে নীরব সমর্থন জুগিয়েছে।
৩. মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন
সমালোচকরা মনে করেন, এই সরকার ভিন্নমত দমনে কঠোর হয়েছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গুরুতরভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
- বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম: র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (RAB) এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’) এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গুমের অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA): এটি সমালোচকদের কাছে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণের প্রধান হাতিয়ার ছিল। সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সামাজিক কর্মী, এবং সাধারণ ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরও এই আইনের মাধ্যমে হয়রানি, গ্রেফতার এবং কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- রাজনৈতিক দমন: বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যেকোনো কর্মসূচিকে সহিংসভাবে দমন করা, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার কাল্পনিক মামলা দায়ের করা এবং তাদের প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখার অভিযোগ রয়েছে।
৪. ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও পারিবারিকতন্ত্র
শেখ হাসিনাকে “জঘন্য” আখ্যা দেওয়ার পেছনে একটি বড় কারণ হলো, সমালোচকদের মতে, তার শাসনকালে একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সরকার এবং দল (আওয়ামী লীগ) উভয়ের নেতৃত্ব শেখ হাসিনার হাতে অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত। গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো দলীয় ফোরাম বা মন্ত্রিসভার পরিবর্তে মূলত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে।
- ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তার: সরকারি আমলাতন্ত্র, পুলিশ, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দলীয় আনুগত্য প্রাধান্য পাওয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করেন।
- পারিবারিক ও গোষ্ঠীতন্ত্র: সমালোচকদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন এবং ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে, যা রাজনৈতিক গোষ্ঠীতন্ত্রের জন্ম দিয়েছে।
উপসংহারে বলা যায়, শেখ হাসিনার কঠোর সমালোচকরা তার নেতৃত্বকে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভিন্নমত দমনের প্রতীক হিসেবে দেখেন। এই কারণগুলোর উপর ভিত্তি করেই বিরোধী পক্ষ তাকে “বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য নেত্রী” হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটেগরি: রাজনীতি ও জীবনদর্শন
ক্ষমতা অনেকটা বিষের মতো, যা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। আজ যে মানুষটি হাজারো কর্মীর স্লোগানে মুখরিত থাকেন, কাল সেই মানুষটিই জেলখানার নির্জন সেলে নিঃসঙ্গ অবস্থায় চোখের জল ফেলেন। জুনায়েদ আহমেদ পলক—এই নামটিকে নিয়ে আমি আগে কখনও লিখতে চাইনি, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট তাকে ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চরম শিক্ষা হিসেবে সামনে দাঁড় করিয়েছে।
১. ক্ষমতার শীর্ষে পলক: যেখান থেকে ফেরা কঠিন
অল্প বয়সে এমপি, তারপর মন্ত্রী—তরুণ প্রজন্মের আইকন হওয়ার কথা ছিল তাঁর। গাড়ি, বাড়ি, অগাধ ক্ষমতা আর অগণিত কর্মীর ভিড়ে তিনি হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন যে, সময়ের চাকা সব সময় একদিকে ঘোরে না। আজ সেই প্রতাপশালী মন্ত্রী জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। নেই মোবাইল, নেই প্রিয়জন, নেই দিন-রাতের সঠিক হিসাব। সঙ্গী কেবল একাকীত্ব আর ফেলে আসা দিনগুলোর অনুশোচনা।

২. ইতিহাস যখন একই বৃত্তে ঘোরে

পলকের এই করুণ দশা দেখে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের কথা। এক সময় তাঁরও দাপট ছিল আকাশছোঁয়া। আজ তিনি কারামুক্ত হলেও দলের কোথাও নেই, নেই রাজনীতিতে কোনো অবস্থান। অসুস্থ শরীর নিয়ে এখন চিকিৎসার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমতার সেই জৌলুস আজ ম্লান, কেবল টিকে আছে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার এক বিষাদময় জীবন।

৩. রাজনীতি কি তবে স্কুইড গেম?

আমরা অনেকেই নেটফ্লিক্সের বিখ্যাত সিরিজ ‘স্কুইড গেম’ দেখেছি। সেখানে হেরে যাওয়া মানে সরাসরি মৃত্যু। কিন্তু রাজনীতি নামক খেলাটি তার চাইতেও ভয়ংকর। এখানে সরাসরি মৃত্যু নেই, কিন্তু আছে ক্ষমতার বিচ্যুতি এবং সামাজিক পতন—যা একজন মানুষকে জ্যান্ত অবস্থায় তিলে তিলে মেরে ফেলে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: একটাই তো জীবন! ক্ষমতার মোহে পড়ে মানুষ যখন নিজের অপকর্মের ভার বইতে পারে না, তখন পরিবার থেকে শুরু করে ইতিহাস পর্যন্ত তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দেয়। আজকের প্রভাবশালীরা কি এই শিক্ষাটা নিচ্ছেন?
উপসংহার: আগামী দিনের জন্য শিক্ষা
ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু কর্মফল চিরস্থায়ী। জুনায়েদ পলক বা বাবর সাহেবরা আজ কেবল ব্যক্তি নন, তাঁরা এক একটি উদাহরণ। যারা আজ ক্ষমতায় আছেন কিংবা আগামীতে যারা মসনদে বসবেন, তাঁদের জন্য এই পতনের গল্পগুলো এক বড় সতর্কবার্তা। জনগণের সেবক হওয়ার বদলে যখন কেউ অধিপতি হতে চান, তখন ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম তিলে তিলে মুছে যাওয়াই একমাত্র পরিণতি হয়ে দাঁড়ায়।
আপনার মতামত: রাজনীতির এই ভয়াবহ উত্থান-পতন নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা কী? সত্যিই কি ক্ষমতা মানুষকে বদলে দেয়? কমেন্টে আমাদের জানান।
আরও পড়ুন:ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন: ৯১টি বিল পাশ এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টেবিলে বাংলাদেশ এখন এক কুশলী খেলোয়াড়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া সেই কালজয়ী দর্শন—‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—নীতিকে পুঁজি করে ২০২৬ সালের জটিল বিশ্ব রাজনীতিতেও বাংলাদেশ নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে ভালো বন্ধু’ রাষ্ট্র আসলে কে?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাংলাদেশ সেই মানুষটির মতো, যে গ্রুপের সবার সাথেই সুসম্পর্ক রাখে। কারণ সে জানে, জীবনে কে কখন কাজে লাগবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।
১. ভারত: নাড়ির টানে বাঁধা পুরোনো বন্ধু

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কটা সেই পুরোনো দিনের। ১৯৭১ সালের কঠিন সময়ে ভারতের অবদান এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে। সীমান্ত ইস্যু বা পানি বণ্টন নিয়ে মাঝেমধ্যে মনোমালিন্য হলেও, দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কটি সবসময়ই একটি ‘স্পেশাল’ মর্যাদা পায়। ২০২৬-এর নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঐতিহাসিক টান অটুট রয়েছে।

২. চীন: উন্নয়নের ‘ক্যাশ-রিচ’ পার্টনার

যখনই বড় কোনো অবকাঠামো, ব্রিজ বা টানেলের কথা আসে, তখনই বাংলাদেশের চোখের সামনে ভেসে ওঠে চীনের মুখ। এই বন্ধুটি বেশ হেল্পফুল এবং বড় বড় প্রজেক্টে অর্থায়নে কার্পণ্য করে না। বাংলাদেশ জানে, দেশের উন্নয়নের গতি সচল রাখতে বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক বন্ধুত্বের কোনো বিকল্প নেই।
৩. জাপান: নিঃস্বার্থ ও নীরব কর্মবীর

জাপান হচ্ছে সেই বন্ধু, যে খুব বেশি কথা বলে না কিন্তু একদম কাজের মানুষ। মেট্রো রেল থেকে শুরু করে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর—বাংলাদেশের রূপান্তরের পেছনে জাপানের অবদান অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বিতর্কহীন। কোনো ভূ-রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই জাপান সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে।
৪. যুক্তরাষ্ট্র: নিয়মের কড়াকড়ি ও বড় বাজার

যুক্তরাষ্ট্র সেই বন্ধু, যে সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দেয় কিন্তু সাথে একগাদা ‘রুল বুক’ বা নিয়ম ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ওয়াশিংটন সবসময়ই একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাকার সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (BDS Analysis):
২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নেই। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার মাঝে বাংলাদেশ যেভাবে সবার সাথে ব্যালেন্স করছে, তা অসাধারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি, চীন-জাপান থেকে বিনিয়োগ এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রপ্তানি সুবিধা—সবগুলোকেই বাংলাদেশ সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সোজা কথায়, বাংলাদেশ এখন ‘স্মার্ট ডিপ্লোম্যাসি’র এক সফল উদাহরণ।
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা (Sources):
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ): বৈদেশিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রেস রিলিজ।
- ডয়েচে ভেলে ও রয়টার্স: দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি বিষয়ক প্রতিবেদন (এপ্রিল ২০২৬)।
- মহাসাগরীয় ও কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র: ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বিডিএস ডিজিটাল এজেন্সি জিওপলিটিক্যাল ডাটা ব্যাংক।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
আজ ১২ মার্চ ২০২৬। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা রাজনীতিবিদের চলে যাওয়ার দিন। যিনি কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, ছিলেন এক বিশাল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। মশিউর রহমান যাদু মিয়া—যাঁর নাম শুনলে ভেসে ওঠে এক আপসহীন নেতার ছবি, যিনি রাজপথ থেকে সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র ছিলেন সমান তেজস্বী।

১. ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় মঞ্চে উত্থান
১৯২৪ সালে নীলফামারীর ডিমলায় জন্মগ্রহণ করা এই নেতা ছাত্রজীবনেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ—সবখানেই যাদু মিয়ার উপস্থিতি ছিল অনন্য। তিনি ছিলেন আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানীর হাত ধরে ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২. মজলুম জননেতার সুযোগ্য উত্তরসূরি
মওলানা ভাসানীর অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন যাদু মিয়া। ১৯৬২ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা থাকাকালীন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা এবং ইয়াহিয়া খানকে ‘গাদ্দার’ বলার দুঃসাহস তাঁকে গণমানুষের নায়কে পরিণত করেছিল।
৩. ফারাক্কা লং মার্চ ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভিত্তি
১৯৭৬ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চের মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব ছিল যাদু মিয়ার কাঁধে। ভাসানীর মৃত্যুর পর তিনি ন্যাপের হাল ধরেন। ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে তিনি দেশ গড়ার কাজে যুক্ত হন।
৪. বিএনপি গঠন ও প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায় ‘সিনিয়র মন্ত্রী’
যাদু মিয়া ছিলেন আধুনিক জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম স্থপতি। ন্যাপের কার্যক্রম স্থগিত করে প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনে তিনি মূল ভূমিকা পালন করেন। জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় সিনিয়র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৫. এক ঐতিহাসিক প্রস্থান
১২ মার্চ ১৯৭৯ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর চিকিৎসায় ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনা হলেও নিয়তির অমোঘ লিখন পাল্টানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুতে তৎকালীন সময়ে এক বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: যাদু মিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা যিনি কেবল দল গঠন করেননি, দিয়েছেন এক দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দর্শন। আজকের ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটেও তাঁর সেই ‘দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তি’র ঐক্যের ডাক সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি ছিলেন উত্তরের চরাঞ্চলের মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ, যাঁর নামানুসারে আজও টিকে আছে ‘যাদুর চর’।
মশিউর রহমান যাদু মিয়া: এক নজরে (১৯২৪-১৯৭৯)
| পর্যায় | রাজনৈতিক ভূমিকা ও অবদান |
| জন্ম | ৯ জুলাই ১৯২৪, ডিমলা, নীলফামারী। |
| আন্দোলন | তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, আইয়ুববিরোধী আন্দোলন। |
| উপাধি | ‘যাদু মিয়া’ নামে সমধিক পরিচিত। |
| সাফল্য | পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের বিরোধী দলের উপ-নেতা (১৯৬২)। |
| অবদান | ফারাক্কা লং মার্চের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান (১৯৭৬)। |
| রাষ্ট্রীয় পদ | সিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়), জিয়াউর রহমান সরকার। |
| জীবনাবসান | ১২ মার্চ ১৯৭৯, ঢাকা। |
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



