ইতিহাস
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের এক অমর নাম, ঋত্বিক ঘটক (জন্মঃ ৪ নভেম্বর, ১৯২৫ – মৃত্যুঃ ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৬), যিনি ‘বাংলা চলচ্চিত্র’কে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক নতুন পরিচিতি দিয়েছেন। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু জীবনের বাস্তবতা, স্বাধীনতা সংগ্রাম, এবং শোষিত জনগণের জীবনযাত্রা উঠে এসেছে।
ঋত্বিক ঘটকের জীবনকথা ও তার চলচ্চিত্র নির্মাণের ইতিহাস আমাদের কাছে আজও অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুরুটা নাটক দিয়ে
ঋত্বিক ঘটক ১৯৪৮ সালে প্রথম নাটক “কালো সায়র” লেখেন। এরপর তিনি অংশগ্রহণ করেন নবান্ন নাটকে। এই সময় তিনি ভারতীয় গণনাট্য সংঘ (আইপিটিএ)-তে যোগ দেন। তিনি নাটক লেখেন, পরিচালনা করেন এবং অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি বিখ্যাত নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেশ্ট ও নিকোলাই গোগোল-এর রচনাবলি বাংলায় অনুবাদ করেন।
চলচ্চিত্র জগতে ঋত্বিক ঘটক
ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্রের জগতে পা রাখেন নিমাই ঘোষ এর “ছিন্নমূল” (১৯৫১) সিনেমার মাধ্যমে, যেখানে তিনি অভিনয় করেন এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এর দু’বছর পর, তিনি “নাগরিক” (১৯৫২, মুক্তি ১৯৭৭) নামে তার একক পরিচালনায় প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
এই চলচ্চিত্র দুটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতানুগতিক ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং নতুন একটা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে।
ত্রয়ী চলচ্চিত্র: মেঘে ঢাকা তারা, কোমল গান্ধার, সুবর্ণরেখা
ঋত্বিক ঘটকের অন্যতম সেরা কাজ হলো তার ত্রয়ী চলচ্চিত্র—মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০), কোমল গান্ধার (১৯৬১), এবং সুবর্ণরেখা (১৯৬২)। এই তিনটি চলচ্চিত্রে কলকাতার তৎকালীন অবস্থা এবং উদ্বাস্তু জীবনের বাস্তবতা চিত্রিত হয়েছে। এই ত্রয়ী চলচ্চিত্রকে ত্রয়ী বা ট্রিলজি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বিশ্ব চলচ্চিত্র জগতে তাদের এক বিশেষ স্থান রয়েছে।
কৌশলগত কিছু ব্যর্থতা ও খারাপ সময়
ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রের সাফল্য ও সমালোচনা দুইই হয়েছে। যদিও কোমল গান্ধার এবং সুবর্ণরেখা ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল, কিন্তু তার পরেও তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে এক অমর নাম হয়ে আছেন। তার চলচ্চিত্র সমাজের দুর্ভাগ্য, সংগ্রাম, এবং মানুষের অস্তিত্বের সংকটকে ফুটিয়ে তুলেছে।
স্বল্প সময়ের জন্য পুণেতে শিক্ষকতা:
১৯৬৫ সালে ঋত্বিক ঘটক পুণেতে গিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এফটিআইআই)-এ ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন এবং পরে সেখানে ভাইস-প্রিন্সিপাল হন। তিনি শিক্ষার্থীদের সিনেমা নির্মাণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং এর মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন মাত্রা যুক্ত করেন।
“তিতাস একটি নদীর নাম” চলচ্চিত্র:
ঋত্বিক ঘটকের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র ছিল “তিতাস একটি নদীর নাম” (১৯৭3)। এটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ-এর বিখ্যাত উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র। ঋত্বিক এই চলচ্চিত্রে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের গ্রামের জীবনযাত্রা এবং তিতাস নদীর চরিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “তিতাস একটি নদীর নাম—এটি একটি সৎ লেখা, যেটির মাধ্যমে মানুষের গল্প বলা যেতে পারে।”
ঋত্বিক ঘটক ও সম্মাননা
ঋত্বিক ঘটক ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত হন এবং ১৯৭৫ সালে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তার চলচ্চিত্র “যুক্তি তক্কো আর গপ্পো” (১৯৭৪) শ্রেষ্ঠ কাহিনীর জন্য জাতীয় পুরস্কার পায়। ২০০৭ সালে, ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাকে শ্রেষ্ঠ বাংলাদেশী ছবি হিসেবে “তিতাস একটি নদীর নাম” নির্বাচিত করে।
চলচ্চিত্রসমূহের তালিকা:
ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো:
- নাগরিক (১৯৫২, মুক্তি ১৯৭৭)
- অযান্ত্রিক (১৯৫৮)
- মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০)
- কোমল গান্ধার (১৯৬১)
- সুবর্ণরেখা (১৯৬২)
- তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩)
- যুক্তি তক্কো আর গপ্পো (১৯৭৭)
ব্যক্তিগত জীবন
ঋত্বিক ঘটক জন্মগ্রহণ করেন পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) জিন্দাবাজার, ঢাকা জেলায়। তার পরিবারের শরণার্থী জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর চলচ্চিত্রগুলোর প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন, তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। ঋত্বিক ঘটক ছিলেন একজন স্বপ্নদর্শী, যার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার জটিলতা, সংগ্রাম, এবং সামাজিক অবস্থা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উপসংহার
ঋত্বিক ঘটক ছিলেন একজন অমর চলচ্চিত্র পরিচালক যিনি নিজের শিল্পীপ্রতিভা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তার চলচ্চিত্র আজও আমাদের মাঝে জীবন ও মানবতার চিরন্তন বার্তা পৌঁছে দেয়। তিনি যে সব চলচ্চিত্র সৃষ্টি করেছেন, তা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে নয়, বরং সমাজের বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
Sources:
- “Ritwik Ghatak – Wikipedia,” Wikipedia.
- “Filmography and Legacy of Ritwik Ghatak,” IMDb.
- “Ritwik Ghatak – The Satyajit Ray Film and Television Institute,” srfsi.edu.
- “The Cinema of Ritwik Ghatak,” The Criterion Collection.
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
সারাদেশে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১০ মার্চ, ২০২৬
দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিএন্ডটি মাঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ নিউজ এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে এটি একটি মাইলফলক।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা ও বিতরণ প্রক্রিয়া
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দুস্থ ও নারী প্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। উদ্বোধনী দিনে প্রায় ৩৭,০০০ নির্বাচিত পরিবারের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারীরা এখন থেকে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কয়েক কোটি পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে। যারা এখনও তালিকাভুক্ত হননি, তারা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ
উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়লেও আমাদের সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছে। এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ঘরে স্বস্তি পৌঁছে দিতে চাই। কেউ যেন খাবারের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিশেষ বিশ্লেষণ ও মন্তব্য:
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ জানান, “ফ্যামিলি কার্ডের এই কার্যক্রম কেবল একটি সরকারি সুবিধা নয়, বরং এটি সামাজিক সমতা বজায় রাখার একটি বড় পদক্ষেপ। বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও শ্রমের মর্যাদা রক্ষায় নিম্নবিত্ত মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই কার্ডের সঠিক বণ্টন তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বিশেষ বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সূত্র: জটাংক)
“তিনি এমন একজন হবেন, যাকে আমেরিকা ঘৃণা করবে।” — দুই দিন আগে ইরানের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার করা এই মন্তব্যটি আজ এক অমোঘ সত্য হিসেবে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্বকে চমকে দিয়ে ইরান তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে মোজতবা খামেনিকে। পশ্চিমা বিশ্বের অস্বস্তি আর ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির তোয়াক্কা না করে ইরানের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার লড়াইকে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
কেন মোজতবা খামেনিকে নিয়ে এত ভয়?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোজতবা খামেনিকে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিলেও ইরান কেন এই পথেই হাঁটল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ইরানের চারটি শক্তিশালী কাঠামোর ওপর:
- বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC): যাদের সাথে মোজতবার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
- বিশাল গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক: যা নেপথ্যে থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সিদ্ধহস্ত।
- ধর্মীয় নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান: বিশেষ করে ‘কুম’-এর প্রভাবশালী আলেমদের সমর্থন।
- বাসিজ মিলিশিয়া: যারা অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আদর্শিক লড়াইয়ের অগ্রসেনানী।
ছায়া থেকে আলোর পথে: মোজতবার শক্তির উৎস
মোজতবা খামেনির শক্তি কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর প্রকৃত শক্তি ছড়িয়ে আছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’-এ:
- লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি এবং সিরিয়ার মিত্র শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভালো করেই জানে, মোজতবা খামেনি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার চেয়ে পর্দার আড়াল থেকে এই বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ইরানের জনগণের মনস্তত্ত্ব ও চ্যালেঞ্জ
মোজতবা খামেনির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ গ্রহণযোগ্যতা। ইরানের সমাজ বর্তমানে তিনটি ধারায় বিভক্ত:
- বিপ্লবী সমর্থক: যারা এই নেতৃত্বকে আদর্শিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
- বাস্তববাদী গোষ্ঠী: যাদের কাছে নেতার চেয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- সংস্কারপন্থী: যারা এই উত্তরাধিকার কেন্দ্রিক নেতৃত্বকে সহজে মেনে নিতে নাও পারে।
আগামীর লড়াই: প্রক্সি বনাম সরাসরি যুদ্ধ
ইরানের ইতিহাস বলছে, তারা সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে ‘প্রক্সি কৌশল’ বেশি পছন্দ করে। অর্থাৎ আগুনের শিখা জ্বলবে চারদিকে, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থাকবে ছায়ার আড়ালে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত অবস্থান তাদের বড় শক্তি। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের দুর্বলতা।
উপসংহার: বাস্তবতা হলো, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি হারাতে পারবে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রও সহজে ইরানকে ভাঙতে পারবে না। মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব কি ইরানকে আরও কঠোর পথে নিয়ে যাবে, নাকি তিনি নতুন কোনো কৌশল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার খেলাকেই বদলে দেবেন? এর উত্তর হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকায়িত।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার করুন
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ১৯৭২ সালের ব্যাংক জাতীয়করণ ও একীভূতকরণ। সাধারণত আমরা জানি যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছিল, কিন্তু এর পেছনে তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও ব্যাংক লুটপাটের মতো ঘটনার গভীর প্রভাব ছিল বলে অনেক গবেষক মনে করেন।

একাত্তরের মার্চ: একটি অস্থির সময়
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মুখে পড়ে। বিশেষ করে পশ্চিম পাকিস্তানি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো তৎকালীন রাজনৈতিক কর্মী ও সুযোগসন্ধানীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
টপাট ও একীভূতকরণের যোগসূত্র
আপনার তথ্যমতে, পাকিস্তান আমলের বেশ কিছু ব্যাংক (যেগুলো সবুজ রঙে হাইলাইট করা ছিল) আওয়ামী লীগ কর্মীদের দ্বারা লুটপাটের শিকার হয়েছিল। এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট ও হিসাব-নিকাশে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, স্বাধীনতার পর সেগুলোকে এককভাবে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
১৯৭২ সালের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া: এই অস্থিতিশীলতা ও আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ (President’s Order No. 26) অনুযায়ী বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে জাতীয়করণ করে ৬টি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়:
- সোনালী ব্যাংক
- জনতা ব্যাংক
- অগ্রণী ব্যাংক
- রূপালী ব্যাংক
- পুবালী ব্যাংক
- উত্তরা ব্যাংক
ঐতিহাসিক তথ্যের গুরুত্ব
ইতিহাসের এই দিকটি সাধারণত মূলধারার পাঠ্যপুস্তকে কম আলোচিত হয়। ব্যাংকিং খাতের তৎকালীন নথিপত্র এবং সংবাদপত্রের আর্কাইভ বিশ্লেষণ করলে এই লুটপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া সম্ভব, যা বর্তমান প্রজন্মের গবেষকদের জন্য এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।



