অনলাইনে আয়

বাংলাদেশ থেকে কিভাবে কোনো সমস্যা ছাড়াই ইন্টারনেট কিংবা অনলাইনে আয় করা যায়?
অনলাইনে আয়

নিউজ ডেস্ক

October 28, 2025

শেয়ার করুন

বর্তমানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আয় করা একটি সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনলাইন আয়ের সুযোগ বেড়ে গেছে, বিশেষত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ও সহজলভ্যতার কারণে। অনলাইনে আয় করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট কৌশল ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, যাতে আপনি আপনার দক্ষতা ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ক্লায়েন্টদের থেকে আয়ের সুযোগ পেতে পারেন। এখানে আলোচনা করা হবে কিভাবে আপনি বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেট কিংবা অনলাইনে আয় করতে পারেন।

অনলাইনে আয়ের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলো

  1. ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing):
    ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় উপায় অনলাইনে আয় করার জন্য। এই মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে পারেন, যেমন:
    • লেখালেখি ও কনটেন্ট রাইটিং (Blog Writing, Copywriting, SEO Writing)
    • গ্রাফিক ডিজাইন (Logo Design, Web Design, Illustration)
    • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট (Website Development, Mobile App Development, CMS-based websites)
    • ভিডিও এডিটিং এবং অ্যানিমেশন (Video Editing, Animation, YouTube content creation)
    • ডিজিটাল মার্কেটিং (SEO, SEM, Social Media Marketing, Content Marketing)
    কিভাবে শুরু করবেন:
    • আপনার দক্ষতার ভিত্তিতে একটি পরিষ্কার পোর্টফোলিও তৈরি করুন।
    • জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে সাইন আপ করুন: Upwork, Fiverr, ইত্যাদি।
    • প্রথম ক্লায়েন্টের জন্য কম পেমেন্টে কাজ শুরু করুন এবং পরবর্তীতে আপনার দাম বৃদ্ধি করুন।
  2. ব্লগিং (Blogging):
    ব্লগিং হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের অন্যতম একটি উৎস। আপনি নিজের পছন্দের বিষয়ের উপর ব্লগ লিখে, প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করতে পারেন। ব্লগে অ্যাডসেন্স বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। কিভাবে শুরু করবেন:
    • একটি ব্লগ তৈরি করুন (যেমন: WordPress, Blogger)।
    • নিয়মিত পোস্ট করুন এবং SEO (Search Engine Optimization) ব্যবহার করে ব্লগকে Google Search এ র‌্যাংক করুন।
    • Google AdSense, Media.net ইত্যাদি অ্যাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্লগ মনিটাইজ করুন।
  3. ই-কমার্স (E-commerce):
    আপনি নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারেন অথবা অন্যান্য ব্যবসার পণ্য বিক্রি করতে পারেন। এটি এখন বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুতবর্ধমান আয়ের উৎস। বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যেমন Daraz, AjkerDeal, Bikroy ব্যবহার করে আপনার পণ্য বিক্রি শুরু করতে পারেন। কিভাবে শুরু করবেন:
    • নিজের প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন এবং একটি স্টোর তৈরি করুন।
    • আপনার পণ্য বিক্রির জন্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করুন।
    • আকর্ষণীয় প্রোডাক্ট ছবি, বর্ণনা ও মূল্য নির্ধারণ করুন।
  4. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing):
    অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যেখানে আপনি অন্যদের পণ্য বা সেবা প্রচার করেন এবং আপনার রেফারেল লিঙ্কে পণ্য বিক্রি হলে কমিশন পান। আপনি বিভিন্ন অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম যেমন Amazon Affiliate, ClickBank ইত্যাদির মাধ্যমে আয় করতে পারেন। কিভাবে শুরু করবেন:
    • অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে সাইন আপ করুন (যেমন: Amazon Affiliate, ClickBank)।
    • আপনার ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করুন।
    • আপনার প্রমোশনের মাধ্যমে বিক্রি অর্জন করে কমিশন উপার্জন করুন।
  5. অনলাইন টিউটরিং (Online Tutoring):
    যদি আপনার কোনো বিষয় বা স্কিলের উপর গভীর জ্ঞান থাকে, তবে আপনি অনলাইন টিউটর হিসেবে কাজ করতে পারেন। বিভিন্ন টিউটরিং প্ল্যাটফর্মে যেমন Chegg, Preply ইত্যাদি থেকে আপনি শিক্ষার্থীদের টিউটরিং সেবা প্রদান করতে পারেন। কিভাবে শুরু করবেন:
    • আপনি যে বিষয়টিতে দক্ষ তা নির্বাচন করুন (যেমন: ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানের কোনো সাবজেক্ট)।
    • একটি টিউটরিং প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করুন এবং ক্লাস দিতে শুরু করুন।
  6. ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েশন (Video Content Creation):
    ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে YouTube বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আয় করা সম্ভব। YouTube এর মাধ্যমে পৃষ্ঠপোষকতা, অ্যাডসেন্স, স্পন্সরশিপ ইত্যাদি থেকে আয় করা যায়। এর সাথে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ভিডিও কনটেন্ট শেয়ার করা যায়। কিভাবে শুরু করবেন:
    • একটি YouTube চ্যানেল তৈরি করুন এবং নিয়মিত ভিডিও আপলোড করুন।
    • ভিডিওর মধ্যে অ্যাডসেন্স যুক্ত করুন এবং ভিডিওগুলি শেয়ার করুন।
    • আপনি যেকোনো বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন, যেমন টিউটোরিয়াল, ভ্লগ, রিভিউ ইত্যাদি।
  7. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social Media Marketing):
    সোশ্যাল মিডিয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কেটিং টুল। আপনি বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করতে পারেন এবং তাদের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য সাহায্য করতে পারেন। কিভাবে শুরু করবেন:
    • সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (Facebook, Instagram, LinkedIn, Twitter) সম্পর্কে জানুন এবং ব্যবসাগুলির জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি করুন।
    • ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের ব্র্যান্ডের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি করুন।

বৈধ পেমেন্ট গেটওয়ে:

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এবং অনলাইন আয়ের ক্ষেত্রে এক প্রধান সমস্যা হলো পেমেন্ট গ্রহণ। তবে বর্তমানে কিছু পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা যায়:

  • Payoneer: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের জন্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম।
  • Skrill: আন্তর্জাতিক ট্রান্সফার এবং পেমেন্ট সিস্টেম।
  • PayPal: বর্তমানে বাংলাদেশে পূর্ণরূপে কার্যকর নয়, তবে কিছু বিকল্প ব্যবস্থা আছে যেমন Xoom এর মাধ্যমে পেমেন্ট আনা যায়।
  • Bank Transfer: সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেমেন্ট ট্রান্সফারও করা যেতে পারে।

অনলাইনে আয় করার সঠিক কৌশল:

  1. পোর্টফোলিও তৈরি করুন: আপনার কাজের নমুনা বা দক্ষতা তুলে ধরুন, এটি আপনার সাফল্যের প্রথম পদক্ষেপ।
  2. বাজার গবেষণা করুন: কাজ শুরু করার আগে বাজার ও ক্লায়েন্টের চাহিদা বুঝে নিন।
  3. নেটওয়ার্কিং করুন: বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এবং অন্যান্য ফ্রিল্যান্সারদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করুন।
  4. সতর্ক থাকুন: পেমেন্ট পদ্ধতি ও কাজের শর্তগুলো নিয়ে সতর্ক থাকুন, যাতে কোন সমস্যা না হয়।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

কম দামে সেরা মোবাইল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

April 13, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটেগরি: টেকনোলজি ও গ্যাজেট গাইড

সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬

স্মার্টফোন কেনার সময় আমরা অনেকেই চকচকে বিজ্ঞাপন আর নামী ব্র্যান্ডের মোহনায় পড়ে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নষ্ট করি। অধিকাংশ মানুষ নিজের প্রয়োজন ভুলে এমন সব ফিচারের পেছনে টাকা ঢালেন যা বাস্তবে তাদের কোনো কাজেই আসে না। কিন্তু একটু বুদ্ধি খাটালে এবং বেসিক বিষয়গুলোতে লক্ষ্য রাখলে অনেক কম দামেও একটি দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী ফোন পাওয়া সম্ভব।

১. RAM-এর মায়াজাল: ৩জিবি নাকি ৮জিবি?

বর্তমান বাজারে ৬জিবি বা ৮জিবি র‍্যাম ছাড়া যেন চলেই না—এমন একটি ধারণা প্রচার করা হয়। কিন্তু আপনি যদি আপনার ফোনের অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো আনইনস্টল করে দেন এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো রাখেন, তবে ৩জিবি বা ৪জিবি র‍্যামেই চমৎকার পারফরম্যান্স পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, বেশি অ্যাপ্লিকেশন মানেই ফোনের ওপর বাড়তি চাপ।

২. ক্যামেরা বনাম প্রয়োজনীয়তা

স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে আমরা ডিএসএলআর-এর স্বাদ খুঁজি। কিন্তু বাস্তব সত্য হলো, ফোনে তোলা অধিকাংশ ছবি আমরা দ্বিতীয়বার দেখার প্রয়োজন বোধ করি না। তাই অহেতুক মেগাপিক্সেলের পেছনে না ছুটে ফোনের কার্যকারিতার দিকে নজর দিন। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে ফোনে ব্যক্তিগত ফটো রাখা এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি সব সময়ই থাকে।

৩. প্রসেসর ও গেমিং আতঙ্ক

ইউটিউবের রিভিউ দেখে প্রসেসরের জটিল হিসেবে সাধারণ মানুষের মাথা ঘামানোর খুব একটা প্রয়োজন নেই। কারণ সাধারণ কাজ চালানোর জন্য বর্তমানের প্রায় সব প্রসেসরই সক্ষম। আপনি যদি মোবাইলে উচ্চমানের গেম না খেলেন (যা চোখ ও মাথার জন্য ক্ষতিকর), তবে দামী প্রসেসরের কোনো প্রয়োজন নেই। উচ্চমানের প্রসেসরই মূলত মোবাইলের দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়।

৪. কেন বিজ্ঞাপন নয়, স্পেসিফিকেশন জরুরি?

অনেকেই স্যামসাং, ভিভো বা অপ্পোর মতো দামী ব্র্যান্ডের পেছনে ছোটেন। কিন্তু আসুস (ASUS) বা আইটেল (itel)-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো অনেক সময় কম দামে শক্তিশালী ফোন দেয় যা বছরের পর বছর টিকে থাকে। সঠিক টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন বুঝতে পারলে আপনি ১২-১৩ হাজার টাকার ফোনেই ৫-৬ বছর অনায়াস কাটাতে পারবেন।


মাদের রিকমেন্ডেশন: বাজেট কিংস (Budget King)

আপনি যদি বর্তমানে ১০,০০০ টাকার আশেপাশে একটি সেরা ৫জি (5G) ফোন খুঁজছেন, তবে নিচের মডেলটি বিবেচনা করতে পারেন:

  • মডেল: itel P55 5G
  • দাম: ১০০০০/- টাকার আশেপাশে (অ্যামাজন/ফ্লিপকার্ট ভেদে পরিবর্তনশীল)
  • কেন কিনবেন?
    • প্রসেসর: Dimensity 6080 (৫জি সাপোর্টসহ)।
    • মেমোরি: ১২জিবি* র‍্যাম (ভার্চুয়ালসহ) ও ১২৮জিবি রম।
    • ক্যামেরা: ৫০ মেগাপিক্সেল এআই ডুয়াল রিয়ার ক্যামেরা।
    • ব্যাটারি: ৫০০০mAh।
    • ওয়ারেন্টি: ২ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।

বিডিএস টিপস (সংশোধনী ও সতর্কতা): > ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ৩জিবি র‍্যামের দুটি ফোন কেনা একটি ৬জিবি ফোনের বিকল্প হতে পারে না, কারণ আধুনিক অ্যাপগুলো সঠিকভাবে চলার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ র‍্যাম একসাথেই প্রয়োজন। তবে আপনার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে রাখার পরামর্শটি ফোন ফাস্ট রাখার জন্য সেরা টেকনিক।


সূত্র ও তথ্যসূত্র (Sources & References):

১. গুগল শপিং ও অ্যামাজন ইন্ডিয়া ট্রেন্ডস ২০২৬: বাজেট স্মার্টফোন ক্যাটেগরিতে সর্বাধিক বিক্রিত ফোনের তালিকা। ২. TechRadar & CNET: স্মার্টফোন পারফরম্যান্স ও র‍্যাম ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত টেকনিক্যাল গাইড। ৩. ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা: দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ASUS M2 Pro ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

নেগেটিভ মানুষ

নিউজ ডেস্ক

April 12, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

জানেন কি, নেগেটিভ মানুষ আপনাকে কখনো সরাসরি ধ্বংস করবে না? তারা অনেকটা ‘উইপোকার’ মতো; বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার ভেতরকার আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন আর সাহসকে খেয়ে ফেলে। আজ আমরা আলোচনা করব কেন আপনার চারপাশ পরিষ্কার রাখা আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য জরুরি।

১. নেতিবাচক কথার মারণাস্ত্র

যখন কেউ আপনাকে বলে— “তুই পারবি না” বা “এটা তোর জন্য না”, তখন প্রথমবার হয়তো আপনি পাত্তা দেন না। কিন্তু বার বার একই কথা শুনতে শুনতে আপনার অবচেতন মনে নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি হয়। এই সন্দেহটাই আপনার সাফল্যের পথে সবচাইতে বড় বাধা।

২. এনার্জি ভ্যাম্পায়ার

কিছু মানুষ আছে যারা আপনার পজিটিভ এনার্জি শুষে নেয়। আপনি হয়তো খুব উৎসাহ নিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া শেয়ার করলেন, আর তারা নিমিষেই একগুচ্ছ ‘কিন্তু’ আর ‘যদি’ দিয়ে আপনার উৎসাহটা নষ্ট করে দিল। এর ফলে:

  • আপনার কাজের উদ্যম বা এনার্জি কমে যায়।
  • বড় স্বপ্ন দেখার সাহস হারিয়ে ফেলেন।
  • চেষ্টা করার আগেই পরাজয় মেনে নেন।

৩. আপনি কি তাদের মতোই হয়ে যাচ্ছেন?

মনোবিজ্ঞানে একটি কথা আছে— “You are the average of the five people you spend the most time with.” অর্থাৎ, আপনি যাদের সাথে সবচাইতে বেশি সময় কাটান, আপনি ঠিক তাদের মতোই হয়ে ওঠেন। নেগেটিভ মানুষের ভিড়ে থাকলে একসময় আপনি নিজেও অজান্তে নেতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করবেন।


কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন? (Protect Your Mindset)

নেগেটিভ মানুষের লক্ষণআপনার করণীয়
সব কাজে খুঁত ধরাতাদের থেকে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা গোপন রাখুন।
অতীতের ব্যর্থতা মনে করানোনিজের বর্তমান অর্জনগুলো ডায়েরিতে লিখুন।
রিস্ক নিতে বাধা দেওয়াযারা সফল হয়েছে তাদের জীবনী পড়ুন।
পরচর্চা ও অভিযোগ করাআড্ডা থেকে কৌশলে নিজেকে সরিয়ে নিন।

উপসংহার: নিজের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে

সবাইকে সাথে নিয়ে চলা উদারতার লক্ষণ হতে পারে, কিন্তু নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে নয়। মনে রাখবেন, আপনার চারপাশ যেমন, আপনার ভবিষ্যৎ ঠিক তেমনই হবে। তাই আজই আপনার সার্কেলটি চেক করুন। যাদের কথা আপনাকে ছোট করে রাখে, তাদের থেকে ভদ্রভাবে দূরত্ব বজায় রাখুন।

আপনার Mindset আপনার সবচাইতে বড় সম্পদ। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার নিজের।

আপনার মন্তব্য: আপনার আশেপাশে এমন কেউ কি আছে যে সারাক্ষণ আপনার মনোবল ভেঙে দেয়? আপনি কিভাবে তাদের হ্যান্ডেল করেন? কমেন্টে আমাদের জানান।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

কিবোর্ড

নিউজ ডেস্ক

April 10, 2026

শেয়ার করুন

লিখেছেন: BDS Bulbul Ahmed

আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬

আমরা প্রতিদিন টাইপ করি, চ্যাট করি কিংবা অফিসের কাজ করি—সবকিছুতেই কিবোর্ডের ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কিবোর্ডের অক্ষরগুলো কেন সহজ A-B-C-D ক্রমে না থেকে Q-W-E-R-T-Y এভাবে এলোমেলোভাবে সাজানো থাকে? এর পেছনে কি কেবলই কোনো ঐতিহাসিক ভুল, নাকি সুক্ষ্ম কোনো বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে?

আজকের এই বিশেষ ফিচারে আমরা কিবোর্ডের এই ‘এলোমেলো’ রহস্যের ব্যবচ্ছেদ করব।

১. বর্ণানুক্রমিক কিবোর্ড এবং প্রাথমিক বিপর্যয়

শুনলে অবাক হবেন, শুরুর দিকে কিবোর্ড কিন্তু বর্ণানুক্রমেই (A, B, C, D…) সাজানো ছিল। ১৮৬৮ সালে যখন প্রথম টাইপরাইটার আবিষ্কৃত হয়, তখন এর লেআউট ছিল একদম সাধারণ। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সময় দেখা দিল এক বিশাল সমস্যা।

টাইপরাইটার ছিল একটি মেকানিক্যাল ডিভাইস। মানুষ যখন বর্ণানুক্রমে থাকা অক্ষরগুলোতে খুব দ্রুত টাইপ করার চেষ্টা করত, তখন টাইপরাইটারের মেকানিক্যাল ‘হাত’ বা টাইপ-বারগুলো একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে জ্যাম হয়ে যেত। এই জ্যাম ছাড়ানো ছিল অত্যন্ত বিরক্তিকর।

২. ক্রিস্টোফার শোলস এবং QWERTY-র উদ্ভাবন

এই যান্ত্রিক জ্যামিং সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে আসেন টাইপরাইটারের জনক ক্রিস্টোফার লাথাম শোলস। তিনি একটি কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি ইংরেজি ভাষায় সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় এমন অক্ষরগুলোকে কিবোর্ডের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেন।

  • উদ্দেশ্য: যাতে টাইপ করার গতি কিছুটা কমে যায় এবং মেকানিক্যাল জ্যাম না ঘটে।
  • ফলাফল: জন্ম নিল আজকের এই QWERTY লেআউট। কিবোর্ডের উপরের সারির প্রথম ৬টি অক্ষর মিলিয়েই এর নাম রাখা হয়েছে।

৩. আরগনোমিক্স (Ergonomics) এবং আঙুলের আরাম

অনেকেই মনে করেন অক্ষরগুলো এলোমেলো হওয়ায় টাইপ করতে অসুবিধা হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিবোর্ডের এই সজ্জাটি আমাদের আঙুলের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক বা আরগনোমিক।

ইংরেজি শব্দগুলো লেখার সময় আমরা সাধারণত ভাওয়েল (Vowel) এবং কনসোনেন্ট (Consonant)-এর যে কম্বিনেশন ব্যবহার করি, তা এই কিবোর্ডে খুব সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা আছে। এতে কোনো এক হাতের আঙুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ টাইপ করলেও আঙুল ব্যথা হয় না।

৪. মেকানিক্যাল জ্যাম নেই, তবুও কেন পরিবর্তন হচ্ছে না?

বর্তমানে আমরা ডিজিটাল কিবোর্ড বা টাচস্ক্রিন ব্যবহার করি, যেখানে জ্যাম হওয়ার কোনো ভয় নেই। তবুও কেন আমরা সেই ১৮৭৩ সালের পুরোনো লেআউট ব্যবহার করছি?

এর উত্তর হলো “Muscle Memory”। বিগত ১০০ বছরে পুরো পৃথিবী এই QWERTY লেআউটে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ডিভোর‍্যাক (Dvorak) বা কোলম্যাক (Colemak)-এর মতো আরও অনেক ফাস্ট লেআউট এলেও তারা জনপ্রিয় হতে পারেনি। কারণ মানুষ নতুন করে টাইপিং শিখতে চায় না।

৫. মজার একটি তথ্য: “TYPEWRITER” শব্দটি!

আপনি কি জানেন? “TYPEWRITER” শব্দটি লিখতে যে অক্ষরগুলো প্রয়োজন, তার সবগুলোই কিবোর্ডের সবচেয়ে উপরের সারিতে (Top Row) রাখা হয়েছে। এটি করা হয়েছিল যাতে সেলসম্যানরা ক্রেতাদের ডেমো দেওয়ার সময় খুব দ্রুত শব্দটি লিখে মুগ্ধ করতে পারেন!


শেষ কথা

কিবোর্ডের অক্ষরগুলো এলোমেলো মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে যান্ত্রিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রযুক্তির বিবর্তন ঘটলেও এই লেআউটটি সম্ভবত আরও অনেক বছর আমাদের সাথে থেকে যাবে।

আপনার মন্তব্য জানান: আপনি কি মনে করেন বর্ণানুক্রমে (ABCDE) কিবোর্ড থাকলে আপনার টাইপিং স্পিড আরও বেশি হতো? নিচে কমেন্ট করে আপনার মতামত দিন।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ