অর্থনীতি

Now Is the Time to Think About Your Small-Business Success

নিউজ ডেস্ক

June 1, 2025

শেয়ার করুন

Find people with high expectations and a low tolerance for excuses. They’ll have higher expectations for you than you have for yourself. Don’t flatter yourself that this has much to do with you – this is just who they are. Don’t look for “nice” in these relationships. Look for trust.
Be fearless in front of them with your ideas as many times as they’ll let you
Beauty Dust is very pretty to look at and it tastes like nothing, which is great. Here is what it’s supposed to do: This ancient empiric formula expands beauty through alchemizing elements legendary for their youth preserving, fortifying and tonifying qualities. Glowing supple skin, lustrous shiny hair and twinkling bright eyes are holistically bestowed from the inside out. I actually first read this as alkalizing meaning effecting pH level, and I was like, OK I guess I understand how that could positively effect your body, but alchemizing means turning elements to gold basically through magic. That lead me to research each ingredient because I know alchemy is not actually happening in my body when I eat this, since alchemy is not real. In addition to loving beauty and taking care of myself, I also love opening people minds to other paths of self-care, and good marketing and I can honestly say that I use and personally love this product but I’m not sure for which reason.
I think it made me think about it more and really consider why I was choosing to add this to my routine
It poses an interesting question for me on the wellness category – will people be willing to buy in, or does eating something change your “sniff” test on the believe-ability of the claims? The color is very long lasting and they have an interesting texture that’s like a powder and a cream but neither really. They’re made with pure pigments and oils and will never melt with the warmth of your skin because they don’t contain any waxes. You can literally use them for anything – obviously as eye shadow and liner, but the light shade is a great highlighter, and the red can be used for lip or blush with a little balm. There’s also a little pouch to store the rollerballs, and a card with different inspirations as to how to blend them on your skin – but it’s foolproof. You can’t make a mess if you mix them all up. Badger Beard Balm is perfect for the bearded gents in your life (is this everyone? beards are so trending). It is filled with good things such as vitamins A, D, E & F to keep his beard healthy, thicker and cleaner, as well as helping to relieve itchiness as it soothes the skin under the hair.
If you’re looking to get rid of this beard, maybe this is not the right angle for your gifting
Further, no one wants to cuddle with a dirty beard – who knows, maybe you already are and are dying for a nice way to help this problem of yours his. Beard Wash made by Beard Buddy. Started in 2011 in California, all Beard Buddy products are hand crafted by beards for beards. Both founders have large beards of their own to tame, and wanted to do this with organic products – kudos, and cuddles, to them.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

দেশের রাজনৈতিক রদবদল, স্বরাষ্ট্র ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রধান নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: রাজনীতি বিশেষ প্রতিবেদন

সম্পাদকীয় প্যানেল: রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগ

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | বিকেল ০৪:২৮ (বিএসটি)

বিশেষ প্রতিবেদন: ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড রক্ষা ও প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশের বর্তমান নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই হেভিওয়েট নেতা—সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এখন যথাক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তরের নীতিনির্ধারক।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের সংগ্রাম, আমলাতান্ত্রিক জ্ঞান এবং তৃণমূলের সংগঠনের দিক থেকে এ দুই নেতার ভূমিকা কেমন এবং রাজনৈতিক সমীকরণে কার গুরুত্ব কতখানি—তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হলো।

১. সালাহউদ্দিন আহমেদ: রাজনীতি, প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণের শীর্ষ মুখ

কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চল থেকে চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। সাবেক বিসিএস ক্যাডার হওয়ায় সরকারি আমলাতন্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাঁর অভিজ্ঞতা বিদ্যমান।

                       [ সালাহউদ্দিন আহমেদ: ক্যারিয়ার প্রোফাইল ]
                                         │
        ┌────────────────────────────────┼────────────────────────────────┐
        ▼                                ▼                                ▼
[ প্রশাসনিক সূচনা ]            [ রাজপথের সংগ্রাম ও নিখোঁজ ]         [ বর্তমান ভূমিকা ]
• বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার       • ২০১৫ সালে অজ্ঞাত স্থান থেকে     • বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
• প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস      দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দান   • সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
• সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী   • দীর্ঘ ৯ বছরের নির্বাসন ও ত্যাগ   • বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী

রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সাফল্য:

  • প্রশাসনিক প্রজ্ঞা: বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার থেকে রাজনীতিতে আসা এই নেতা যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আমলাতান্ত্রিক দক্ষতা প্রমাণ করেছেন।
  • দুঃসময়ের কাণ্ডারি: ২০১৫ সালের তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন অবরুদ্ধ বা আত্মগোপনে, তখন তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বিবৃতির মাধ্যমে আন্দোলন পরিচালনা করে সাধারণ নেতাকর্মীদের ধরে রেখেছিলেন।
  • বিশাল ত্যাগ: দীর্ঘ ৯ বছর ভারতের শিলংয়ে নির্বাসিত জীবন ও গুম হওয়ার ক্ষত কাটিয়ে স্বদেশে ফেরা তাঁকে নেতাকর্মীদের কাছে এক অনন্য ত্যাগের প্রতীকে পরিণত করেছে।

সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নীতি-নির্ধারক ও বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যেমন ত্যাগ ও সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো সমালোচনা ও বিতর্কও রয়েছে

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তাঁর প্রধান সীমাবদ্ধতা ও বিতর্কগুলো নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

প্রধান সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক দুর্বলতা

  • আঞ্চলিক ও পারিবারিক রাজনীতির একচেটিয়া প্রভাব: কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের একক রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দলের ভেতরেই এক ধরণের চাপা ক্ষোভ রয়েছে [১.৩.৪]। তিনি নিজে যখন দীর্ঘ ৯ বছর ভারতে নির্বাসিত ছিলেন, তখন তাঁর আসনে স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে দলের মনোনয়ন দেওয়া হয় । স্থানীয় পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার নীতি তাঁর অন্যতম বড় সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখা হয়।
  • সমঝোতা বা নমনীয়তার অভাব: সাবেক আমলা বা বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কারণে তাঁর কাজের মধ্যে এক ধরণের অনমনীয় ‘ব্যুরোক্রেটিক’ বা প্রশাসনিক মানসিকতা লক্ষ্য করা যায় । অন্য সমমনা রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে রাজনৈতিক দরকষাকষির ক্ষেত্রে তিনি অনেক সময় অতিরিক্ত কট্টর অবস্থান নেন, যা বহুদলীয় জোটে অস্বস্তি তৈরি করে।
  • দীর্ঘ নির্বাসনজনিত মাঠের সংযোগ বিচ্ছিন্নতা: ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ বছর দেশের বাইরে থাকায় সারা দেশের নতুন প্রজন্মের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর সরাসরি ও গভীর সংযোগে এক ধরণের শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় বিতর্কসমূহ

১. ‘এস আলম গ্রুপ’-এর গাড়ি ব্যবহার বিতর্ক (২০২৪)

স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামার পর তিনি বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী ‘এস আলম গ্রুপ’-এর একটি বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় যান । এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে আসার পর সারা দেশে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন যে অসাবধানতাবশত ও না জেনে তিনি গাড়িটিতে উঠেছিলেন

২. কট্টর রাজনৈতিক বক্তব্য ও জামায়াত-বিরোধিতা

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর কিছু কৌশল নিয়ে তাঁর দেওয়া কিছু কড়া ও প্রকাশ্য মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় । এছাড়া আওয়ামী লীগকে সরাসরি একটি ‘মাফিয়া গ্রুপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দলটিকে রাজনীতি থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করার জন্য তাঁর অনড় অবস্থান ও চাপ দেশের একটি অংশের বুদ্ধিজীবী ও সমালোচকদের মতে অতিরিক্ত উগ্র রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করছে। [

৩. ‘গুম’ ও ভারতে উদ্ধার হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা (২০১৫)

২০১৫ সালে উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৬২ দিন পর ভারতের শিলংয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানো অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় [ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার একে ‘স্বেচ্ছায় আত্মগোপন’ বলে প্রচার করার চেষ্টা করে, যদিও বিএনপি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে ‘রাষ্ট্রীয় গুম’ হিসেবে প্রমাণ করে তিনি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পৌঁছালেন—এই রহস্যের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা বা তদন্তের অভাব রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আজীবন সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে [


সারসংক্ষেপ: সালাহউদ্দিন আহমেদ একজন মেধাবী এবং বিশ্বস্ত নীতি-নির্ধারক হলেও তাঁর কট্টর রাজনৈতিক ভাষা এবং পরিবারকেন্দ্রিক আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের প্রধান বিতর্কিত দিক

২. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি: তৃণমূল ও ছাত্ররাজনীতির সংগঠক

নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর উপকূলীয় অঞ্চলে বিএনপির প্রধান ভিত্তি হিসেবে খ্যাত শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় যৌথ মহাসচিব। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগের তুখোর ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর মূল পরিচয় তৈরি হয়।

রাজনৈতিক প্রোফাইল ও সাফল্য:

  • ছাত্ররাজনীতির নেটওয়ার্ক: ১৯৯৬-১৯৯৮ মেয়াদের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ায় সারা দেশের ছাত্র ও যুব নেতাকর্মীদের মধ্যে তাঁর এক বিশাল নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
  • মাঠের যোদ্ধা: রাজপথের আন্দোলনে শতাধিক মামলার শিকার হওয়া এবং অন্তত ১১ বার কারাবরণকারী এ্যানি ১/১১ থেকে পরবর্তী রাজনৈতিক সংকটগুলোতে অনমনীয় অবস্থান ধরে রাখেন।
  • সংসদীয় অভিজ্ঞতা: লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃণমূলের জনগণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

সীমাবদ্ধতা ও বিতর্ক:

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার যেমন তৃণমূলের আন্দোলন ও যুবশক্তির সংযোগের কারণে সফল, তেমনই তাঁর কট্টর রাজনৈতিক অবস্থান, মাঠপর্যায়ের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা ও বড় বিতর্ক রয়েছে。

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তাঁর প্রধান সীমাবদ্ধতা ও বিতর্কগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রধান সীমাবদ্ধতা ও সাংগঠনিক দুর্বলতা

  • আঞ্চলিক কোন্দল ও গ্রুপ পলিটিক্স: লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি দলে নিজের একক বলয় তৈরি করতে গিয়ে অনেক পুরোনো, ত্যাগী ও সিনিয়র নেতাদের কোন্দলের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে বিএনপির রাজনীতি মূলত ‘এ্যানি গ্রুপ’ এবং তাঁর বিরোধী শিবিরের কোন্দলে প্রায়শই জর্জরিত থাকে।
  • মাঠপর্যায়ের উগ্রতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: মাঠের সংগঠক হিসেবে তাঁর কর্মীবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী ও আগ্রাসী। তবে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল কিংবা সমমনা জোটের (যেমন: জামায়াতে ইসলামী) কর্মীদের সাথে তাঁর অনুসারীদের যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, তা নিয়ন্ত্রণে তিনি অনেক সময় ব্যর্থতার পরিচয় দেন。
  • জাতীয় নীতিনির্ধারণে দূরদর্শিতার অভাব: এ্যানি মূলত একজন ‘মাঠের নেতা’ ও ‘বিক্ষোভ সংগঠক’। কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে লিয়াজোঁ বা দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় পলিসি তৈরির ক্ষেত্রে সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো শীর্ষ নেতাদের তুলনায় তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক দূরদর্শিতা কিছুটা কম বলে মনে করা হয়।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় বিতর্কসমূহ

১. জামায়াত কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ ও আধিপত্যের বিতর্ক (২০২৪-২০২৬)

বিগত ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সমীকরণের মাঝে বৃহত্তর নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে。 সমালোচকদের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে এবং পরে—উভয় সময়েই লক্ষ্মীপুরে জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে তিনি তাঁর নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীকে মৌন সম্মতি দিয়েছিলেন, যা অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক ঐক্যে ফাটল ধরায়।

২. উগ্র ও উস্কানিমূলক রাজনৈতিক ভাষা

বিভিন্ন জনসভা ও রাজনৈতিক আন্দোলনে তাঁর দেওয়া অনেক বক্তব্য তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজপথে ‘পিষে ফেলা’ বা ‘লাঠিপেটা’ করার মতো প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দেওয়ার কারণে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা তাঁর রাজনৈতিক ভাষার তীব্র সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, তাঁর এই আগ্রাসী বক্তব্য কর্মীদের আরও বেশি উগ্র হতে প্ররোচিত করে।

৩. ১/১১-এর সংস্কারপন্থী হওয়ার গুঞ্জন ও পরবর্তী ভোলবদল

২০০৭ সালের ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় বিএনপির অনেক নেতার মতো তাঁর বিরুদ্ধেও পরোক্ষভাবে ‘সংস্কারপন্থী’ (দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করা অংশ) হওয়ার মৃদু গুঞ্জন উঠেছিল। যদিও পরবর্তীতে তিনি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রদর্শন করে মূল ধারায় ফিরে আসেন। কিন্তু পুরোনো অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এখনো সুযোগ পেলেই তাঁর সেই সময়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।


সারসংক্ষেপ: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির আন্দোলনের জন্য একজন অপরিহার্য ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ হলেও, ক্ষমতার রাজনীতিতে তাঁর অতি-আগ্রাসী মনোভাব, স্থানীয় কোন্দল এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর উগ্র দলীয় মানসিকতা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত।

৩. দলীয় রাজনীতিতে সালাহউদ্দিন আহমেদ বনাম শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি: তুলনামূলক অবস্থান

দলের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা, সিনিয়রিটি এবং নীতিনির্ধারণের ক্ষমতার কথা বিবেচনা করলে সালাহউদ্দিন আহমেদ দলীয় গুরুত্বের দিক থেকে স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছেন। তবে তৃণমূল সংগঠিত করার ক্ষেত্রে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির ভূমিকাও অপরিসীম।

বিচ্যুতি / মানদণ্ডসালাহউদ্দিন আহমেদশহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
দলীয় পদমর্যাদাজাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য (সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম)কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব (দ্বিতীয় সারি)
রাজনৈতিক শক্তিগভীর নীতিনির্ধারণী মেধা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আমলাতান্ত্রিক অভিজ্ঞতারাজপথের যুবশক্তি, ছাত্রনেতাদের সাথে সংযোগ ও মাঠপর্যায়ের আন্দোলন
অভিজ্ঞতা৪ বারের এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিসিএস ক্যাডার৩ বারের এমপি ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ
প্রধান পরিচিতিরাজনৈতিক নীতিনির্ধারক ও ‘লিভিং লেজেন্ড’ ত্যাগের প্রতীকতৃণমূল গোছানোর সংগঠক ও অনমনীয় ছাত্রনেতা

৪. সংক্ষেপে মূল নির্যাস

বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে:

  1. সালাহউদ্দিন আহমেদ হলেন মূলত বিএনপির একজন ‘পলিসি মেকার’ (Policy Maker) বা নীতিনির্ধারক, যাঁর সিদ্ধান্ত দল ও সরকারের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক গতিপথ নির্ধারণ করে।
  2. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি হলেন দলের ‘গ্রাসরুট মোবিলাইজার’ (Grassroot Mobilizer) বা সংগঠক, যাঁর কাজ হলো দেশের তারুণ্য ও মাঠের কর্মীদের একতাবদ্ধ রেখে রাজপথ ও নিরাপত্তা খাত সচল রাখা।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ফারাক্কা বাঁধের ইতিহাস

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

বিভাগ: পরিবেশ ও প্রকৃতি

প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক ও পরিবেশ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দল

প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | বিকেল ০৪:১৬ (বিএসটি)

বিশেষ প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক নদীর বহমান স্রোত কোনো নির্দিষ্ট দেশের একক সম্পদ নয়—আন্তর্জাতিক নদী আইনে এটি স্বীকৃত নীতি। তবে দীর্ঘ ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতের একতরফা ফারাক্কা বাঁধের পরিচালনা বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য নদী মরুময়তা, খরা, লবণাক্ততা এবং আকস্মিক বন্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলমান ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ফারাক্কা বাঁধের সৃষ্টি, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

১. ফারাক্কা বাঁধ কী এবং কেন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল?

ফারাক্কা বাঁধ হলো গঙ্গা নদীর ওপর ভারত কর্তৃক নির্মিত ২,২৪০ মিটার (প্রায় ২.২৪ কিমি) দীর্ঘ একটি ব্যারেজ। এটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় অবস্থিত। ১৯৬১ সালে কাজ শুরু হয়ে ১৯৭৫ সালে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।

ভারতের ঘোষিত উদ্দেশ্য:

  • কলকাতা বন্দরের নাব্য রক্ষা: ভারতের প্রধান যুক্তি ছিল গঙ্গার শাখা নদী হুগলী-ভাগীরথীতে পলি জমে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা কমে যাচ্ছে। গঙ্গা নদী থেকে ফিডার ক্যানেলের (Feeder Canal) মাধ্যমে পানি সরিয়ে হুগলী নদীতে ফেলে পলি পরিষ্কার করা এবং সেখানে সমুদ্রগামী বড় জাহাজ ভেড়ানোর পথ সুগম করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।
  • নগরীর পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ: কলকাতা মহানগরীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ এবং উত্তর ও দক্ষিণ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে রেল ও সড়ক যোগাযোগ সহজ করা।

২. ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট বহুমুখী ক্ষতি

উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্রে যে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

                                  [ ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব ]
                                                  │
         ┌────────────────────────────────────────┼────────────────────────────────────────┐
         ▼                                        ▼                                        ▼
 [ নদী ও ভৌগোলিক খরা ]                      [ সুন্দরবন ও বাস্তুতন্ত্র ]                [ কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ]
• শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি হ্রাস ও মরুময়তা  • মিষ্টি পানি কমে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ   • ১০ লাখ হেক্টরের বেশি জমি লবণাক্ত
• বর্ষায় একযোগে গেট খুলে আকস্মিক বন্যা       • সুন্দরী গাছের 'শীর্ষ মরণ' রোগ বৃদ্ধি      • ইলিশ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের বিনাশ

ক) মরুময়তা ও বর্ষায় কৃত্রিম বন্যা

  • শুষ্ক মৌসুমে খরা: জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পদ্মার পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে পদ্মা এবং এর শাখা নদীগুলো (গড়াই, মধুমতি, মাথাভাঙা) শুকিয়ে বালুচরে পরিণত হয়।
  • বর্ষায় বন্যা ও নদীভাঙন: বর্ষাকালে উজানে পানি অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজ্য বাঁচাতে ফারাক্কার সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়া হয়, যা বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ নদীভাঙন তৈরি করে।

খ) সুন্দরবনের ওপর মারাত্মক আঘাত

  • লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি: গড়াই ও মধুমতি নদীর মাধ্যমে সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবেশ কমে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের লোনা পানি সুন্দরবনের গভীরে ঢুকে পড়ে।
  • সুন্দরী গাছের ‘শীর্ষ মরণ’ (Top Dying Disease): মাত্রাতিরিক্ত লোনা পানির কারণে বনের প্রধান প্রজাতি সুন্দরী গাছ ওপর থেকে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বনের প্রায় ২৮-৩০% সুন্দরী গাছ এই রোগে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
  • বন্যপ্রাণীর পানীয় জলের সংকট: মিষ্টি পানির জলাধার শুকিয়ে যাওয়ায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণসহ অন্যান্য প্রাণীর পানের পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

গ) কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি

  • আবাদি জমিতে লোনা পানি: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ লাখ হেক্টরের বেশি কৃষি জমি লোনা পানির আগ্রাসনে পড়ে অনুর্বর হয়ে পড়েছে।
  • ইলিশের পরিযায়ন পথ অবরুদ্ধ: ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীর গভীর ও মিষ্টি পানির উজান স্রোতে উঠে আসে। ফারাক্কার কারণে পানির গভীরতা কমে মোহনায় চর জাগায় ইলিশের এই ঐতিহ্যবাহী পরিযায়ন পথ ধ্বংস হয়ে গেছে।

৩. ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুতে ভারত কেন অনমনীয় ও আগ্রাসী অবস্থান নেয়?

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গঙ্গা পানি বণ্টন ও ফারাক্কা ইস্যুতে ভারতের অনমনীয় কৌশলের পেছনে প্রধান ৪টি ভূরাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ কারণ কাজ করে:

১. ‘আপার রিপারিয়ান’ বা উজানের দেশের সুবিধাজনক অবস্থান

ভৌগোলিক কারণে ভারত গঙ্গার উজান অঞ্চলে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক জলনীতিতে ভারত এই ‘উজান রাষ্ট্রের অবস্থান’-কে একটি কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যাতে ভাটির দেশ বাংলাদেশের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা যায়।

২. ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরোধিতা

ফারাক্কা ইস্যুটি শুধু দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, ভারতের নিজস্ব রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে যুক্ত:

  • বিহারের আপত্তি: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজানে (বিহারে) গঙ্গা নদীতে অস্বাভাবিক পলি জমছে এবং প্রতি বছর রেকর্ড বন্যা হচ্ছে। তাই বিহার চায় বাঁধটি হয় ভেঙে ফেলা হোক, না হয় পানির পুনর্মূল্যায়ন করা হোক।
  • পশ্চিমবঙ্গের অনমনীয়তা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেদের কৃষি ও কলকাতা বন্দরের দোহাই দিয়ে গঙ্গার প্রবাহের একটি ফোঁটাও বাংলাদেশকে দিতে সম্মত হতে চায় না।

৩. দ্বিপাক্ষিক বনাম অববাহিকাভিত্তিক (Basin-wide) আলোচনা

গঙ্গার পানির বড় অংশ আসে নেপালের নদীগুলো থেকে। আন্তর্জাতিক নদী বিশেষজ্ঞরা বহুপাক্ষিক বা অববাহিকাভিত্তিক (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল) চুক্তির পরামর্শ দিলেও ভারত বিষয়টি শুধুমাত্র ‘দ্বিপাক্ষিক’ আলোচনার মধ্যে আটকে রাখতে চায়, যাতে তারা দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে।

৪. ২০২৬ সালের চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ এড়ানোর চেষ্টা

১৯৯৬ সালের ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তিতে কোনো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ (শুষ্ক মৌসুমে নদীপ্রবাহ যাই থাক না কেন বাংলাদেশকে আইনগতভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি দেওয়ার গ্যারান্টি) ছিল না। ২০২৬ সালের নতুন চুক্তি নবায়নে বাংলাদেশ যাতে এই গ্যারান্টি ক্লজ জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে না পারে, সেজন্য ভারত কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার চেষ্টা করে।

৪. সংক্ষেপে: বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বিষয়চ্যালেঞ্জ / সমস্যাবাংলাদেশের সম্ভাব্য সমাধান
২০২৬ গঙ্গা চুক্তি নবায়ন১৯৯৬ সালের চুক্তিতে আইনি নিশ্চয়তা না থাকানতুন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ও রিয়েল-টাইম ডিজিটাল ডেটা শেয়ারিং যুক্ত করা।
একমুখী পানির নির্ভরতাউজান থেকে পানি না পেলে নদী শুকিয়ে যাওয়ানিজস্ব ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে বর্ষার উদ্বৃত্ত পানি সঞ্চয় রাখা।
আন্তর্জাতিক আইনি প্রয়োগদ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের ‘আন্তর্জাতিক নদী ব্যবহার কনভেনশন’ অনুযায়ী বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স:

  1. বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB): গঙ্গা পানিপ্রবাহ ও ফারাক্কা পয়েন্টের ঐতিহাসিক সমীক্ষা ফাইল
  2. আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন (UN 1997 Convention): আঞ্চলিক ও অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবহারের নীতিমালা
  3. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI): উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও কৃষি বিপর্যয় সম্পর্কিত রিপোর্ট
  4. পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (MOEFCC): সুন্দরবনের সুন্দরী গাছের টপ-ডাইং ও ইকোসিস্টেম ক্ষয়ক্ষতি সমীক্ষা

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

Google Gemini

নিউজ ডেস্ক

August 13, 2026

শেয়ার করুন

প্রতিবেদন প্রকাশের তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬ |

বিশেষ প্রযুক্তি প্রতিনিধি প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ওপেনএআই (OpenAI) এবং অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে বিশ্বব্যাপী এআই আধিপত্যের দৌড়ে টিকে থাকতে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট (Alphabet Inc.) তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘমেয়াদি তত্ত্বীয় গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে এআই মডেলের বাণিজ্যিকীকরণ, জেমিনির বিকাশ এবং দ্রুত প্রোডাক্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

একদিকে ডিপমাইন্ডের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও তিন দশকের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শীর্ষ চার বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ, অন্যদিকে গুগলের ফ্ল্যাগশিপ এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’ (Gemini)-এর ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের আগস্টে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিশ্বে এক বিশাল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

১. শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন: বৈজ্ঞানিক গবেষণা থেকে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্টে ক্ষমতা স্থানান্তর

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এক ঘোষণায় ডিপমাইন্ড এবং জেমিনি ডেভেলপমেন্টের নতুন নেতৃত্ব কাঠামো প্রকাশ করেন:

  • ডেমিস হাসাবিস (Demis Hassabis): নোবেলজয়ী এই খ্যাতনামা বিজ্ঞানী গুগল ডিপমাইন্ডের সিইও পদ এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে ডিপমাইন্ডের চেয়ারপারসন এবং অ্যালফাবেটের ‘চিফ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ফ্রন্টিয়ার এআই এবং এজিআই (AGI) স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করবেন।
  • কোরাই কাভুকচুওগ্লু (Koray Kavukcuoglu): ডিপমাইন্ডের সাবেক প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং বাণিজ্যিকীকরণে সফল কাভুকচুওগ্লুকে ডিপমাইন্ডের নতুন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (SVP) করা হয়েছে। জেমিনি মডেল ডেভেলপমেন্ট ও এআই অ্যাপের সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা এখন তাঁর হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
  • সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিনের উপস্থিতি: গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন সক্রিয়ভাবে ডেভেলপমেন্ট টিমের পাশে বসে সরাসরি নজরদারি বাড়িয়েছেন এবং জেমিনি মডেলের দ্রুত আপডেটে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

২. জেফ ডিনের গুগল ত্যাগ এবং নতুন স্টার্টআপ ‘ডিসকভারি লুপ’

গুগলের প্রায় ২৭ বছরের পুরনো মূল প্রযুক্তি কাঠামোর প্রধান স্থপতি ও চিফ সায়েন্টিস্ট জেফ ডিন (Jeff Dean)-এর আকস্মিক বিদায় পুরো টেক বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। ডিনের সাথে একযোগে গুগল ছেড়েছেন সিনিয়র ফেলো সঞ্জয় ঘেমাওয়াত, ভিপি ওরিওল ভিনিয়ালস এবং কোয়াক লে।

                    [ চার শীর্ষ বিজ্ঞানীদের গুগল ত্যাগ ] 
                                     │
                                     ▼
                [ নতুন স্টার্টআপ: 'Discovery Loop' (PBC) ]
                                     │
           ┌─────────────────────────┴─────────────────────────┐
           ▼                                                   ▼
[ উদ্দেশ্য: বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে এআই-এর প্রয়োগ ]     [ অ্যালফাবেট: প্রতিষ্ঠাতা বিনিয়োগকারী ও ক্লাউড পার্টনার ]

কেন এই বিদায়?

গুগল যখন চ্যাটবটের বাণিজ্যিকীকরণ এবং রাজস্ব বাড়ানোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করছিল, তখন এই বিজ্ঞানীরা এআই-এর মাধ্যমে মেডিসিন, সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার কাজে পূর্ণ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা করছিলেন। তারা সবাই মিলে গঠন করেছেন পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন ‘ডিসকভারি লুপ’ (Discovery Loop)

তবে এই বিচ্ছেদ কোনো দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। অ্যালফাবেট নিজেই এই নতুন স্টার্টআপের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এবং গুগল ক্লাউড কম্পিউটিং সাপোর্ট দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদন করেছে।

৩. বিশ্বরেকর্ড: জেমিনির ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) সক্রিয় ব্যবহারকারী

অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত রদবদলের মধ্যেই ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুন্দর পিচাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন যে, গুগল জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর (MAU) বিশ্বরেকর্ড অতিক্রম করেছে। এটি গুগলের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া এবং জিমেইল, ইউটিউব বা অ্যানড্রয়েডের পর ১৪তম বিলিয়ন-ইউজার প্রোডাক্ট।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের এক নজরে:

  • আইওএস (iOS) ব্যাকবোন: অ্যান্ড্রয়েড ইকোসিস্টেমের বাইরে কেবল অ্যাপল (iOS) ডিভাইসেই জেমিনির ব্যবহারকারী ১০ কোটির বেশি।
  • গুগল সার্চ ও এআই ওভারভিউ: গুগলের ‘AI Overviews’ ফিচারের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিশ্বের প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে জেমিনির এআই সুবিধা পাচ্ছেন।
  • বাণিজ্যিক সফলতা: বিশ্বের ২,৮০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে জেমিনি এন্টারপ্রাইজের ৮০ লাখের বেশি পেইড সিট বিক্রি হয়েছে।

৪. ব্যবহারকারীরা যেভাবে জেমিনি ব্যবহার করছেন

গুগল কিওয়ার্ড ব্লগে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ব্যবহারকারীদের অভ্যাসে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে:

  1. ভয়েস কমান্ডের প্রাধান্য: প্রায় ৬৩% ব্যবহারকারী এখন সরাসরি টাইপ না করে জেমিনি লাইভের মাধ্যমে কথা বলে কাজ সারছেন।
  2. ইমেজ জেনারেশন: জেমিনি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বে প্রতিদিন ১৫ কোটিরও বেশি ছবি তৈরি হচ্ছে।
  3. লাইভ ক্যামেরা সমাধান: প্রতি ৫টি ইন্টারঅ্যাকশনের ১টিতে ব্যবহারকারীরা সরাসরি মোবাইল ক্যামেরা বা স্ক্রিন শেয়ার করে বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান খুঁজছেন।

সংগৃহীত তথ্যসূত্র ও সাইটেশন তালিকা:

  • **** অ্যালফাবেট ইনকর্পোরেটেড অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ ও ডিপমাইন্ড লিডারশিপ স্টেটমেন্ট (প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬)
  • **** দ্য ভার্জ ও টেকক্রাঞ্চ রিপোর্ট: জেফ ডিন ও সিনিয়র ফেলোদের নতুন এআই ইনিশিয়েটিভ ‘ডিসকভারি লুপ’ (প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬)
  • **** গুগল কিওয়ার্ড ব্লগ ও সিইও সুন্দর পিচাইয়ের বিবৃতি: জেমিনি অ্যাপ ১ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর মাইলফলক (প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ