গল্প

মামদু শেখের সেই রসগোল্লা এবং ২০২৬-এর বাংলাদেশ: শোষিত মানুষের কান্নার রাজনৈতিক আখ্যান
বাংলাদেশের রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক

January 31, 2026

শেয়ার করুন

বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নয়, এ ইতিহাস সাধারণ মানুষের বঞ্চনা আর অধিকার আদায়ের। প্রখ্যাত কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এবং মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সহচর মামদু শেখের সেই করুণ কাহিনী আজ ২০২৬ সালের দাঁড়িয়েও আমাদের সমাজব্যবস্থার গভীর ক্ষতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

মামদু শেখের না পাওয়া: একটি দীর্ঘশ্বাসের ইতিহাস

সৈয়দ ইরফানুল বারীর লেখনীতে উঠে আসা মামদু শেখ ছিলেন মওলানা ভাসানীর প্রথম জীবনের মুরিদ। মানিকগঞ্জ থেকে শুরু করে আসামের ধুবরী, আর দেশভাগের পর দিনাজপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম—জীবনভর তিনি লড়াই করেছেন মহারাজ ও মহাজনদের বিরুদ্ধে। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন মওলানা ভাসানী তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী খাইতে চাস?”, মামদু শেখ ক্ষীণ স্বরে বলেছিলেন— “রসগোল্লা”।

কত ধান মাড়াই করা, কত আঁখ ভাঙা এই মানুষটি সারাজীবন অন্যের মুখে খাবার তুলে দিলেও নিজের জন্য একটি রসগোল্লা জোটাতে পারেননি। মওলানা ভাসানী সঠিকই বলেছিলেন, “মামদু শেখ যে জীবন দেখেছে, তাতে রসগোল্লাও একটি পরম পাওয়া।” এই যে সাধারণ মানুষের বঞ্চনা, এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বারবার।

১৯০০ থেকে ২০২৪: শোষণের রূপান্তর

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ সাল) আজ পর্যন্ত এই ভূখণ্ডের কৃষক ও সাধারণ মানুষ বারবার শোষিত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের জমিদার প্রথা, পাকিস্তান আমলের মহাজনী শাসন, আর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন—সবই মামদু শেখদের বঞ্চিত করেছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল মূলত এই বঞ্চনা থেকে মুক্তির সংগ্রাম।

১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক উত্থান-পতন ঘটেছে। ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তন, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং সবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব। এই প্রতিটি আন্দোলনের মূলে ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়, তার উদ্দেশ্য ছিল মামদু শেখের মতো বঞ্চিতদের মুখে হাসি ফোটানো।

২০২৫-২০২৬: সংস্কার ও বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনা

২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। আর আজ ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশ যখন একটি নতুন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন রাজনীতিবিদদের মুখে আবারও সেই প্রান্তিক মানুষের কথা শোনা যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তারা যা বলছেন:

  • অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ: ২০২৫ সালের এক বিশেষ সংলাপে বক্তারা বলেছেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি করতে চাই যেখানে মামদু শেখের মতো কৃষকদের আর রসগোল্লার জন্য মৃত্যুশয্যায় আক্ষেপ করতে হবে না। সম্পদের সুষম বণ্টনই আমাদের লক্ষ্য।”
  • বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ: ২০২৬ সালের শুরুতেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহারে কৃষকদের অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। বড় দলগুলোর নেতারা বলছেন, “বিগত দেড় দশকের লুটপাটের রাজনীতি শেষ করে আমরা জনগণের সেবক হতে চাই।”
  • বিশ্লেষকদের অভিমত: প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময়ে শোষণের ধরন পাল্টালেও সাধারণ মানুষের ভাগ্য পুরোপুরি বদলায়নি। মওলানা ভাসানীর সেই আপোষহীন রাজনীতি আজ বড় বেশি প্রয়োজন।

উপসংহার

মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, “তোমরা উপন্যাস নাটক পড়িয়া মানুষকে ভালোবাসো। ইহা তোমাদের একটি ফ্যাশন।” কিন্তু প্রকৃত রাজনীতি ফ্যাশন নয়, বরং মানুষের ক্ষুধার জ্বালা মেটানো। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে আমরা কি পারব মামদু শেখদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সততার ওপর।


সূত্র: ‘আমার ভালোবাসা মওলানা ভাসানী’ (সৈয়দ ইরফানুল বারী), যুগান্তর আর্কাইভ, গুগল নিউজ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সংগৃহীত তথ্য।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এনসিপি-জামায়াত

নিউজ ডেস্ক

May 10, 2026

শেয়ার করুন

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক মাস অতিবাহিত হলেও রাজনৈতিক মহলে এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে গঠিত এই দলটি কি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারবে, নাকি জামায়াতে ইসলামীর ছায়াতলেই তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে? ৩০ এপ্রিলের এই বিশেষ বিশ্লেষণে আমরা খতিয়ে দেখব এনসিপির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ।

১. জোটের বাধ্যবাধকতা বনাম স্বাতন্ত্র্য রক্ষা

এনসিপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এক বছরের মাথায় সারা দেশে সাংগঠনিক সক্ষমতা তৈরি করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকতে হচ্ছে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সম্প্রতি এক টক-শোতে (চ্যানেল আই-এর ‘তৃতীয় মাত্রা’) মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বড় শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বাধীন এনসিপির ১০০ প্রার্থীর তালিকা দেখে নিন এখানে

২. ‘প্রক্সি উইং’ বিতর্ক ও দলের ভেতর ভাঙন

এনসিপিকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দলটিকে জামায়াতের ‘প্রক্সি উইং’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই জোট কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বের কারণে ইতোমধ্যেই ১৭ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন, যা দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা।

৩. সংসদে এনসিপির কৌশলী অবস্থান

জামায়াতের সঙ্গে জোটে থাকলেও এনসিপি নিজেদের একটি আলাদা সত্তা প্রমাণের চেষ্টা করছে। গত ৯ এপ্রিল সংসদে যখন মুক্তিযুদ্ধের বিতর্কিত দলগুলোর বিরুদ্ধে বিল উত্থাপন করা হয়, তখন জামায়াত আপত্তি জানালেও এনসিপি তাতে নিরব সমর্থন দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাদের একটি কৌশলী অবস্থান—একদিকে জোট টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের আস্থা রক্ষা করা।

বিশেষ বিশ্লেষণ: ড. ইউনূস সরকারের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তির গোপন রহস্য ও প্রোপাগান্ডা

৪. সামনে বড় পরীক্ষা: স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আগামী মে মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন এনসিপির জন্য এসিড টেস্ট। দলটি এবার জোটবদ্ধভাবেই মাঠে নামছে। তাদের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার করা। যদি তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে পারে, তবেই তারা বিএনপির মতো বড় শক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

কেন এই বিশ্লেষণটি গুরুত্বপূর্ণ? (Google Analysis Perspective)

গুগল সার্চ ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের তরুণ ভোটাররা ‘এনসিপি প্রার্থী তালিকা’ এবং ‘বিএনপি বনাম এনসিপি’র অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান করছেন। এছাড়া ড. ইউনূস সরকারের সংস্কার কার্যক্রম ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আমাদের এই প্রতিবেদনটি সেই সব তথ্যের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস।


তথ্যসূত্র (References):

  • প্রথম আলো (৩০ এপ্রিল ২০২৬): “জামায়াতের সঙ্গে থেকে এনসিপি কি এগোতে পারবে?” – বিশেষ রাজনৈতিক ফিচার।
  • চ্যানেল আই: “তৃতীয় মাত্রা” – এনসিপি ও জামায়াত জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা।
  • এনসিপি অফিশিয়াল প্রেস রিলিজ: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিবৃতি।
  • সংসদ টেলিভিশন: ৯ এপ্রিল ২০২৬-এর সংসদীয় অধিবেশনের রেকর্ড।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

মোদি শুভেন্দুর শপথে ভিন্ন মাত্রা

নিউজ ডেস্ক

May 10, 2026

শেয়ার করুন

রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক বিরল মানবিক ও জাতীয়তাবাদী দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯০ বছর বয়সী প্রবীণ বিজেপি কর্মী মাখনলাল সরকারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘গুজরাটি প্রধানমন্ত্রী বাঙালি প্রবীণ কর্মীর আশীর্বাদ নিচ্ছেন’—এই শিরোনামে ছবিটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

জাতীয়তাবাদের এক উজ্জ্বল উদাহরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তটি কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বিনয় নয়, বরং ভারতের অখণ্ড জাতীয়তাবাদের এক শক্তিশালী বার্তা। গুজরাটের সন্তান নরেন্দ্র মোদি বাংলার এক প্রবীণ কর্মীর কাছ থেকে আশীর্বাদ নিয়ে প্রমাণ করলেন যে, আদর্শের লড়াইয়ে ভৌগোলিক সীমানা কোনো বাধা নয়। এটি বিজেপির দীর্ঘদিনের স্লোগান ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন।

তৃণমূল থেকে জাতীয় স্তরে উৎসাহ

ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিজেপির সাধারণ কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার হয়েছে। দলের অনেক তরুণ কর্মী সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বাংলার এক প্রবীণ জাতীয়তাবাদী যখন তাঁর উত্তরসূরি ও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করেন, তখন তা কেবল একটি দলের নয়, বরং সমগ্র দেশের গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।” এই ছবি বিজেপির সাংগঠনিক ভিতকে পশ্চিমবঙ্গে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুভেন্দুর শপথে ভিন্ন মাত্রা

শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনের এই ঐতিহাসিক ক্ষণে মাখনলাল সরকারের মতো প্রবীণদের সম্মান জানানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সুশীল সমাজও। প্রবীণ এই কর্মী কয়েক দশক ধরে প্রতিকূল পরিবেশে দলের পতাকা ধরে রেখেছিলেন, আজ তাঁর সেই ত্যাগ সার্থক হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।

বিশেষ সংবাদ: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথের পরই কেন ভাইরাল হলো শুভেন্দুর পুরোনো ‘ঘুষ’ ভিডিও? জানুন নেপথ্য তথ্য।

তথ্যসূত্র (References):

  • এএনআই (ANI) ও পিটিআই (PTI): শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সরাসরি সংবাদ ও হাই-রেজোলিউশন আলোকচিত্র।
  • কলকাতা নিউজ ১৮ (News18): “বাংলার মাটিতে মোদির বিনয়”—বিশেষ আলোচনা ও জনমত জরিপ।
  • বিজেপি বেঙ্গল অফিশিয়াল পেজ: প্রবীণ কর্মী মাখনলাল সরকারের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগ্রাম নিয়ে প্রকাশিত পোস্ট।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

ড. ইউনূস মার্কিন চুক্তি কি দেশ বিক্রি

নিউজ ডেস্ক

May 10, 2026

শেয়ার করুন

ঢাকা: ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ওপর। সম্প্রতি ড. ইউনূস সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় শিবির থেকেই ‘দেশ বিক্রির’ অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক তথ্য-উপাত্ত এবং ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা কী বলছে?

ট্যারিফ যুদ্ধ ও বাংলাদেশের কৌশলী অবস্থান

২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭% ট্যারিফ আরোপ করলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের মেরুদণ্ড (যা জিডিপির প্রায় ১০%) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের সরকার এক চুক্তির মাধ্যমে এই শুল্ক কমিয়ে ১৯%-এ নামিয়ে আনে।

  • মিথ্যা প্রোপাগান্ডা: সমালোচকেরা বলছেন মাত্র ১% শুল্ক কমানো হয়েছে। অথচ বাস্তব চিত্র হলো, ৩৭% থেকে ধাপে ধাপে ১৮% কমানো হয়েছে।
  • জিরো ট্যারিফ সুবিধা: চুক্তির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো—যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে পোশাক বানানো হয়, তবে সেই পোশাক আমদানিতে আমেরিকা কোনো ট্যারিফ নেবে না। এই ‘জিরো ট্যারিফ’ সুবিধা ভারতীয় টেক্সটাইল খাতের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড়: আতঙ্ক নাকি প্রতীকী?

সমালোচকদের মূল অস্ত্র হলো ৬,৭১০টি মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের শুল্ক ছাড়। কিন্তু তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে এই তালিকার মাত্র ২,০১৬টি পণ্য আমদানি হয়েছিল যার মূল্য ছিল মাত্র ৬.৫ কোটি ডলার। বিনিময়ে বাংলাদেশ তার বিলিয়ন ডলারের পোশাক খাতকে রক্ষা করেছে। এটি মূলত একটি ‘প্রতীকী’ ছাড় ছিল যা বড় ত্যাগের বিনিময়ে বড় অর্জনের পথ প্রশস্ত করেছে।

বোয়িং বনাম এয়ারবাস বিতর্ক

১৪টি বোয়িং বিমান কেনা নিয়ে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো: ১. বাংলাদেশ বিমানের বর্তমান বহর মূলত বোয়িং-নির্ভর। নতুন করে এয়ারবাস অন্তর্ভুক্ত করলে রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণে ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেত। ২. এমনকি বিগত সরকারও ২০২৩ সালে এয়ারবাস কেনাকে ‘আর্থিকভাবে লাভজনক নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। সুতরাং, বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তটি ছিল কারিগরি ও অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক।

ভারতের সাথে তুলনা ও বাজার বৈচিত্র্যকরণ

একই সময়ে ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করতে বাধ্য হয়েছে এবং ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রাশিয়ার তেল নিয়ে ভারতের কৌশলগত অবস্থানও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে হয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের এই চুক্তি অনেক বেশি কৌশলী। তুলা আমদানিতে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আমেরিকার দিকে ঝুঁকে পড়া মূলত বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইনকে ডাইভার্সিফাই করার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

রাজনৈতিক স্বার্থের চশমা

আওয়ামী লীগ এই চুক্তিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখে ড. ইউনূসকে কোণঠাসা করতে চায়। অন্যদিকে, বিএনপি ড. ইউনূসের ইমেজ ক্ষুণ্ন করে নিজেদের রাজনৈতিক পথ সুগম করতে চায়। এই দুই বিপরীতমুখী দলের অভিন্ন লক্ষ্য এখন ড. ইউনূসের অর্থনৈতিক সংস্কারকে বিতর্কিত করা।

উপসংহার

চুক্তিটি শতভাগ ত্রুটিমুক্ত না হলেও, এটি ছিল এক চরম সংকটকালীন ‘সারভাইভাল স্ট্র্যাটেজি’। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে বাঁচিয়ে রাখা এবং একক বাজার বা দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য এটি ছিল ড. ইউনূস সরকারের একটি সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

প্রতিবেদক:  বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: পালসবাংলাদেশ ওয়েবসাইটে।

২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ